১৪ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোয়াস-এ (SOAS) "ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস বাংলাদেশ: জাস্টিস ইন পারস্পেকটিভ" শীর্ষক একটি আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটিত নৃশংসতা ও অপরাধের বিচারের দাবিতে সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।অনুষ্ঠানে মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তিবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চলমান বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। দু'টি পর্বে অনুষ্ঠানটি বিভক্ত ছিলো। প্রথম পর্বে ছিলো বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিচিতি, এর ইতিহাস ও বর্তমান নিয়ে উপস্থাপনা এবং দ্বিতীয় পর্বে ছিলো দর্শক-শ্রোতাদের প্রশ্নোত্তর, যেখানে চলমান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে সংশয় দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। [...]

১৪ ডিসেম্বর ২০১২ তারিখে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের সোয়াস-এ (SOAS) "ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস বাংলাদেশ: জাস্টিস ইন পারস্পেকটিভ" শীর্ষক একটি আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ঘটিত নৃশংসতা ও অপরাধের বিচারের দাবিতে সক্রিয় বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস স্ট্র্যাটেজি ফোরাম (আইসিএসএফ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে মূলত মানবতাবিরোধী অপরাধ, শান্তিবিরোধী অপরাধ, যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের চলমান বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। দু'টি পর্বে অনুষ্ঠানটি বিভক্ত ছিলো। প্রথম পর্বে ছিলো বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিচিতি, এর ইতিহাস ও বর্তমান নিয়ে উপস্থাপনা এবং দ্বিতীয় পর্বে ছিলো দর্শক-শ্রোতাদের প্রশ্নোত্তর, যেখানে চলমান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্নের সদুত্তর দিয়ে সংশয় দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে তিনজন বিচারক নিয়ে ২০১০ সালে 'আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন ১৯৭৩' এর সংশোধিত সংস্করণের অধীনে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয় এবং পরবর্তীকালে বিচার প্রক্রিয়াকে বেগবান করার জন্যে দ্বিতীয় আরেকটি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়। আলোচনা অনুষ্ঠানটি লন্ডন সময় সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় শুরু হয়। স্থানীয় মিডিয়ার পাশাপশি বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আগ্রহীদের বিপুল সমাগম ঘটে এ অনুষ্ঠানে। রানা ইয়াসমিনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই আয়োজকরা অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্য ও প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। এরপর একটি প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে সংঘটিত বর্বরতা ও অপরাধের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস তুলে ধরা হয়। ড. নওরীন তামান্না "১৯৭১: অপরাধী, আক্রান্ত, উদ্দেশ্য ও অপরাধ" শীর্ষক এক সংক্ষিপ্ত বক্তৃতায় চলমান বিচার প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন। নোরা শরিফ "বিচারের জন্য চার দশকের আন্দোলন" শিরোনামে এক বক্তৃতায় ১৯৭১ সালে সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্য আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন। আইনজীবী সৈকত আচার্যি বিচার প্রক্রিয়ার কাঠামো ও প্রকৃতি তুলে ধরার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যপরিধি, বিচারে প্রযুক্ত আইন ও জুরিসপ্রুডেন্স বর্ণনা করেন। আরিফুর রহমান বিচার প্রক্রিয়ায় জড়িত বিভিন্ন পক্ষের ভূমিকা, রাজনীতির ওপর বিচারের প্রভাব এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থ নিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। প্রাণবন্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে দর্শক-শ্রোতাবৃন্দের সঙ্গে রায়হান রশিদ এবং নোরা শরিফ এর স্বতস্ফূর্ত আলোচনায় অনেক তথ্য ও আলোচনার অবতারণা হয়, যার মাধ্যমে চলমান বিচার প্রক্রিয়ার নানা দিক স্পষ্টতর হয়। আইসিএসএফ এর পক্ষ থেকে একটা অফিশিয়াল স্টেটমেন্ট পড়ে শোনানো হয়, পূর্ণ তদন্ত দাবী করা হয় বাংলাদেশ সরকারের কাছে, সে তদন্তে বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্যের…

এই ঘটনায় দুটি অপরাধ সাধিত হয়েছে, সেটি হচ্ছে দু'জন মানুষের কথোপকথন হ্যাক করা এবং সেই হ্যাক করা তথ্য প্রকাশ করা। এই দুটি অপরাধেরই আশু বিচার কামনা করছি। আমরা এই হ্যাকারদের পরিচয় জানতে চাই, শাস্তি চাই, আর এই হ্যাকড ম্যাটেরিয়াল যারা আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রকাশ করলো, তাদের শাস্তি চাই।

বিচারকের আলাপ যদি আড়ি পেতে শোনে কেউ, সে যে সাক্ষীদের গোপন রাখা পরিচয়ও হ্যাক করে কাজে লাগায়নি, তারই বা নিশ্চয়তা কী? এ ব্যাপারে প্রশ্ন তুললে সম্ভবত বিব্রত হবে সরকারের সেই অংশটিই, যাদের দায়িত্ব ছিলো গোপনীয় তথ্যকে গোপনীয় রাখা। আজ বিচারকের আলাপ হ্যাক হচ্ছে, কাল যে খোদ প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ফোন আলাপ হ্যাক হবে না, আমরা কীভাবে নিশ্চিত হবো? আর সেই হ্যাকিঙের বিচার চেয়ে মিডিয়াতে যদি কোনো প্রশ্ন না ওঠে, তাহলে কি এই সঙ্কেতই দেয়া হয় না, যে হ্যাকিংকে আমরা মেনে নিচ্ছি? এই প্রশ্নগুলো ওঠার আগেই তাই অনলাইনে এই হ্যাকারদের প্রোপাগাণ্ডা অংশ অভিযোগের আঙুল তুলছে আইন বিশেষজ্ঞ ড. জিয়াউদ্দিনের দিকেই। তাদের সাথে যোগ দিয়েছে কিছু কাঠবলদ ও পিতৃপায়ুজাত গর্ভস্রাব। তারা বলতে চায়, ড. জিয়াউদ্দিনই এই অডিও ধারণ করে ছড়িয়ে দিয়েছেন। ড. জিয়াউদ্দিন নিজেকে বিপন্ন করে এই বিচার প্রক্রিয়াকে কোন দুঃখে স্যাবোটাজ করতে যাবেন? আর নিরীহ আইনজ্ঞ জিয়াউদ্দিনকে যূপকাষ্ঠে চড়ালে কি বিচারককে গোপনীয়তা প্রদানে ব্যর্থ সরকারের বিশেষ কর্তাদের সদুত্তর দেয়ার খাটনি কমে যায়? জামাতের প্রোপাগাণ্ডু মূর্খের দল নিজেদের অজান্তেই নিজেদের দাবির বিরুদ্ধে প্রমাণ তুলে দিয়েছে ইউটিউবে। যারা ইউটিউবে কথোপকথন শুনেছেন, তারা পরিষ্কার খেয়াল করেছেন একটি ব্যাপার। এই অডিওতে ড. জিয়াউদ্দিনের কথা এসেছে কাটা কাটা, যেখানে বিচারকের কথা এসেছে পরিষ্কার। বাংলাদেশে ইন্টারনেটের কচ্ছপগতির কারণে স্কাইপি বা গুগলটকে অপর প্রান্ত থেকে ভয়েস ডেটা আসে ভেঙে ভেঙে, যে কারণে কথা যান্ত্রিক শোনায়। বিচারকের কম্পিউটারে আড়ি পাতার কাজটি সম্পন্ন হয়েছে বলেই সেখানে মন্থর নেটসংযোগের কারণে ড. জিয়াউদ্দিনের কথা এসেছে ভেঙে, আর সরাসরি মাইকে ধারণকৃত বিচারকের কথা স্পষ্ট শোনা গেছে। যদি ড. জিয়াউদ্দিনের প্রান্ত থেকে এই কথোপকথন রেকর্ড করা হতো, তার নিজের কথা কখনোই ভেঙে যেতো না। যার আগ্রহ আছে, তিনি ইন্টারনেটে জামাতের প্রোপাগাণ্ডুদের ছড়িয়ে দেয়া অডিও থেকে শুনে যাচাই করে দেখতে পারেন। এই ঘটনায় দুটি অপরাধ সাধিত হয়েছে, সেটি হচ্ছে দু'জন মানুষের কথোপকথন হ্যাক করা এবং সেই হ্যাক করা তথ্য প্রকাশ করা। এই দুটি অপরাধেরই আশু বিচার কামনা করছি। আমরা এই হ্যাকারদের পরিচয় জানতে চাই, শাস্তি চাই, আর এই হ্যাকড ম্যাটেরিয়াল যারা আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে প্রকাশ করলো, তাদের শাস্তি চাই। হ্যাকিং ঘটেছে কোন প্রান্তে? বিস্তারিত…

...এ যুদ্ধেও আমাদের বিজয় অবশ্যম্ভাবী- যেমন ছিল একাত্তরে। ১৪ ডিসেম্বরে বুদ্ধিজীবী আনোয়ার পাশা লিখেছিলেন তার উপন্যাস ‘রাইফেল রোটি আওরাত’-এর শেষ বাক্য, ‘মাভৈঃ, ভয় নেই, রাত কেটে যাবে।’ তারপরই তাকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল আলবদর বাহিনী- তিনি আর ফিরে আসেননি, কিন্তু রাত পেরিয়ে ভোর এসেছিল, পরাজিত হয়েছিল পাকবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় সহায়তাকারীরা। এ যুদ্ধেও আমাদের অনেক-অনেকবার বিব্রত হতে হবে এ রকম অপপ্রচারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাত কাটবেই, ন্যায়বিচার পাওয়ার হাসিকান্নায় উদ্বেলিত মানুষদের প্রশান্তিময় নতুন ভোর আসবেই...

১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১। তখনও যুদ্ধ শেষ হয়নি -- আনুষ্ঠানিকভাবে পরাজয় স্বীকার করেনি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান সৈয়দ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এদিন সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, দ্রুত মুক্তিযুদ্ধকালীন আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটনকারী যুদ্ধাপরাধীদের চিহ্নিত করার জন্য গণহত্যা তদন্ত কমিশন গঠন করা হবে। হাইকোর্টে কর্মরত অথবা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অথবা সমপর্যায়ের একজন ব্যক্তি এ কমিশনের নেতৃত্ব দেবেন। মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে আরো জানানো হলো, পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের দালালদের অপরাধের কারণে যাঁদের ক্ষতি হয়েছে, কমিশন তাঁদের লিখিত ও মৌখিক সাক্ষাৎকার নিয়ে একটি রিপোর্ট পেশ করবে। তখনো আমাদের নীতিনির্ধারক মুক্তিযোদ্ধারা জানতেন না, তাঁরা মূলত আরো একটি যুদ্ধ শুরু করতে চলেছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের যুদ্ধ -- ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার যুদ্ধ। ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭১। যুদ্ধের অবসান ঘটেছে, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পরাজয় মেনে নিয়ে আমাদের হাঁটুর নিচে অবনত হয়ে অস্ত্রসমর্পণ করেছে। স্বাধীন দেশের আকাশে-বাতাসে গুমরে মরছে স্বজনহারানো ক্ষুব্ধ মানুষের কান্না। সারা বাংলাদেশ তখন কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের সেই কবিতার পরিপ্রেক্ষিত : ‘আদিম হিংস্র মানবিকতার যদি আমি কেউ হই/ স্বজনহারানো শ্মশানে তোদের চিতা আমি তুলবই।’ বিক্ষুব্ধ স্বজনহারানো ও ক্ষতিগ্রস্ত এই মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে এদিন এক বিবৃতিতে গণহত্যা তদন্তের জন্য আন্তর্জাতিক কমিশন গঠনের দাবি জানালেন ২৪ জন শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ বিশিষ্ট ব্যক্তি। তাঁরা হলেন বেগম সুফিয়া কামাল, সৈয়দ আলী আহসান, জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, শামসুর রাহমান, হাসান হাফিজুর রহমান, সৈয়দ নূরুদ্দীন, কে. জি. মুস্তাফা, বদরুদ্দীন উমর, কবীর চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক, নজমুল করিম, দরফিকুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সমর দাস, এবিএম মূসা, কামাল লোহানী, ফয়েজ আহ্‌মদ, জাহেদুর রহিম, সৈয়দ আতিকুল্লাহ, নূরজাহান বেগম, লায়লা সামাদ, আবদুল গণি হাজারী, গোলাম রসুল, আলী আশরাফ, মনিরুজ্জামান, সৈয়দ আসাদুজ্জামান, এম এ খতিব। ১৬ জানুয়ারি ১৯৭২। অন্তর্ঘাত চালানোর গোপন জিঘাংসা নিয়ে ততদিনে গা-ঢাকা দিয়েছে পাকবাহিনীর সমর্থক বাহিনীগুলোর সদস্যরা -- যারা রাজনৈতিকভাবে মূলত জামায়াতে ইসলামী ও মুসলিম লীগের নেতাকর্মী। মুক্তিযুদ্ধের অবিসংবাদিত নেতা, রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের উপস্থিতিতে এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রেসনোটের মাধ্যমে ঘোষণা করা হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ সংঘটনকারী এসব অপরাধীকে অচিরেই বিচারের আওতায় আনা হবে। প্রেসনোটে বলা হলো, ‘দালাল বা এ ধরনের অপরাধীদের দেখা পেলে তাদের ওপর সতর্ক দৃষ্টি রেখে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অসামরিক পুলিশকে নির্দেশ…

নষ্টবীজের দল যতই আড়ি পাতুক, যতই হুমকি দিক, আস্ফালন করুন - কোনো লাভ নেই। [..]

দেশটা কি মগের মুল্লুক হয়ে গেল? ১৯৭১ এর চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীরা আজকে বিচারপতিদের বাসায় আড়িপাতা যন্ত্র বসায়, ইমেইল একাউন্ট হ্যাক করে তথ্য চুরি করে, তারপর সেটা আবার দম্ভ ভরে প্রচার করে! তার মানে বাকি বিচারপতিদের প্রত্যেকের, প্রসিকিউটর প্রত্যেকের, তদন্ত অফিসারদের প্রত্যেকের আর রেজিস্ট্রারের সাথেও যে এই নষ্টবীজের দল একই কাজ করেনি তার গ্যারান্টি কি? এখন স্পষ্ট হচ্ছে - কেন সেফ-হাউসের নিরাপত্তা বেষ্টনীতে যে সাক্ষীদের এনে রাখা হয়েছিল তারা কেন একের পর এক হঠাত ভয়ে সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানালো! কেন কিছু কিছু সাক্ষী হঠাত আসামী পক্ষের হয়ে যুধিষ্ঠিরী সাফাই গাইতে এতো উতলা হয়ে পড়লো! কেন একজন সাক্ষী হঠাত লাপাত্তা হয়ে গিয়েছিল! এভাবেই ট্রাইবুনালের গোপনীয় সব তথ্য সংগ্রহ করে সেটা ব্যবহার করা হয়েছে মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কাজে, লোভ দেখানোর কাজে, কিনে নেয়ার কাজে! জাতি হিসেবে এখনই এসব প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করুন, এদের প্রতিহত করুন। দিনের পর দিন আমরা এদের সহ্য করেছি, আর আমাদের এই সব সুশীল সহনশীলতা আর তত্ত্বালোচনার সুযোগ নিয়ে নষ্টবীজের দল বিস্তৃত থেকে বিস্তৃততর হয়েছে। ১৯৭১ এ যেভাবে বাঙালী একদিন যার যা আছে তা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, আজকের এই সময়ও কিন্তু তার থেকে আলাদা কিছু না। প্রশ্ন হল - আমরা সেটা অনুধাবন করছি তো? পৃথিবীর প্রত্যেকটি কোণায় যতজন বিবেকবান বাঙ্গালী আছি - আমরা এই বিচার প্রক্রিয়ার পাশে ছিলাম, পাশে থাকবো, আমাদের সবটুকু সাধ্য দিয়ে, কিংবা প্রয়োজনে তার বাইরে গিয়ে হলেও এই প্রক্রিয়াকে সহযোগিতা করবো, সফল করবো। কোনো ধরণের হুমকি, ব্ল্যাকমেইল বা বেআইনী আড়িপাতা দিয়ে আমাদের লক্ষ কোটি মানুষের বিচারের আর্তিকে থামাতে পারবে এমন শক্তি নেই। আমি, আমরা, এবং আমরা সকল সহযোদ্ধারা বিশ্বব্যাপী প্রতিরোধ গড়ে তুলছি। নিজের যা আছে তার সবটুকু নিয়ে আমরা আছি, আমরা থাকবো, নষ্টবীজমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। এই ষড়যন্ত্রের জড় উপড়ে না ফেলে, এর শেষ না দেখে আমরা কেউ বাড়ি ফিরছি না। নষ্টবীজের দল যতই আড়ি পাতুক, যতই হুমকি দিক, আস্ফালন করুন - কোনো লাভ নেই। [রায়হান রশিদ] লিন্ক এখানে ও এখানে।

বুঝলাম যে আইনি প্রক্রিয়া শুধু যথাযথভাবে এগুচ্ছে এমন নয়, একেবারে ‘আন্তর্জাতিক মান’ বলে যে বিষয়টি নিয়ে একপক্ষ হইচই করছেন, সেরকম গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগুচ্ছে। আমারদেশ পত্রিকার খবর অনুযায়ী কথোপকথনে অংশ নেয়া ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন হলেন ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল ল’ইয়ার এবং ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডিজ ইন বেলজিয়াম’-এর ল’ইয়ার এবং ‘সেন্টার ফর বাংলাদেশ জেনোসাইড স্টাডিজ ইন বেলজিয়াম’-এর পরিচালক। তিনি ব্রাসেলস ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটিতে খণ্ডকালীন শিক্ষকতাও করেন। এখানে দেখা যাচ্ছে যে ড.জিয়াউদ্দিন কোনো দলের নেতা কিংবা কর্মী নন, একেবারে আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী যার মূল এক্সপার্টিজ ও আগ্রহের জায়গা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধ। তিনি যদি আদৌ এরকম কথোপকথনে অংশ নিয়ে থাকেন, তাহলে সেটি ট্রাইবুনালকে আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা এবং সঠিক মান অর্জনে সহায়তা করার উদ্দেশ্য থেকেই করেছেন- এজন্য তিনি সাধুবাদ প্রাপ্য। [...]

বিদেশের ইকোনমিস্ট আর দেশের আমারদেশ পত্রিকা সম্প্রতি একটি কথোপকথনের খবর জানিয়েছে আমাদের। আমারদেশ পত্রিকার প্রকাশিত খবর থেকে জানতে পারলাম যে পত্রিকা কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী এই কথোপকথনগুলো সংগঠিত হয়েছে ট্রাইবুনালের বিচারপতি নিজামুল হক (নাসিম) এবং আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আইন বিশেষজ্ঞ ড. আহমদ জিয়াউদ্দিনের মাঝে। তো, এমনিতে আমারদেশ পত্রিকাটি নিয়ে আমার কোনো মাথাব্যথা নেই, পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতিটি পরিষ্কারভাবেই বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রতি সমর্থনসূচক, একথা সচেতন পাঠক মাত্রই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। সুতরাং এই পত্রিকায় প্রকাশিত খবর দেখলেই অনেকে পূর্ব ধারণার বশবর্তী হয়ে ধরেই নেন যে এটি যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধের ষড়যন্ত্রেরই একটি অংশ। কিন্তু এই খবরটির বেলায় এমনটি ধরে নেয়া সমীচীন হবে না। কথোপকথনটি প্রকাশিত হওয়ার পরে আমি ইন্টারনেট জগতে বেশ কয়েকটি ছোটবড় প্রতিক্রিয়া পড়লাম। অধিকাংশ জনই জোর দিয়েছেন এরকম কথোপকথন সংগ্রহ এবং প্রকাশের ব্যাপারে আইনি ও নৈতিক ব্যাপারগুলোর উপর। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টায় তাদের লোকজন যে বিশাল কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন গোটা বিশ্বজুড়ে, তাতে করে তারা বিচারপতির অফিস-গাড়ি-বেডরুম-বাথরুমে যে আড়ি পাতা যন্ত্র স্থাপন করে রাখতে পারে, এটা বাস্তবতা। তারা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীদের ব্যাপারে একেবারে নিখুঁত গবেষণা করছে এটাও ধরে নেয়া যেতে পারে। তাদের বিভিন্ন প্রভাব, হুমকি ধামকি কিংবা প্রলোভনে সাক্ষীদেরকে প্রভাবিত করার চেষ্টার জন্য তারা যতদূর সম্ভব ভেতরের তথ্য জানতে চেষ্টা করবে এবং যেহেতু তারা একটি অনৈতিক অশুভ শক্তির প্রতিনিধিত্ব করছে সুতরাং সেটি করতে গিয়ে তারা রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী সুখময়কে গুম করবে কিংবা প্রয়োজনমতো আবার তাদের উকিলদের গাড়ি থেকে নামিয়ে গুমের নাটক করবে -এসব বিষয়ে অবাক হওয়ার কিছু নেই। এসব সাক্ষীদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্যই যদি তারা কম্পিউটার হ্যাক করা থেকে শুরু করে ট্রাইবুনালের গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের বিছানার নিচে আড়ি পেতে বসে থাকে, তাহলে চমকে ওঠার কিছু নেই। আইনিভাবে কীভাবে ট্রাইবুনাল সংশ্লিষ্টরা প্রটেকশন পেতে পারেন, সেটি নিশ্চয়ই অন্যরা বিবেচনা করবেন, আমি আজকের আলোচনায় সেদিকে যাব না। আমি বরং আমারদেশ পত্রিকায় প্রকাশিত কথোপকথন থেকে যেসব বিষয় বুঝলাম, সেগুলো নিয়ে এখানে আলোচনা করি। ১. প্রথমেই বুঝলাম যে আইনি প্রক্রিয়া শুধু যথাযথভাবে এগুচ্ছে এমন নয়, একেবারে ‘আন্তর্জাতিক মান’ বলে যে বিষয়টি নিয়ে একপক্ষ হইচই করছেন, সেরকম গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এগুচ্ছে। আমারদেশ পত্রিকার খবর অনুযায়ী কথোপকথনে অংশ নেয়া ড. আহমদ জিয়াউদ্দিন হলেন ইন্টারন্যাশনাল…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.