তা হলে বাংলাদেশে এখন ‘দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ’ শুরু হতে যাচ্ছে? চলছে ‘গণহত্যা’? আর দেখা দিয়েছে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ইসলামের’ দ্বন্দ্ব, যার পরিণতিতে একটি বড় ধরণের সংঘাত আসন্ন?...

তা হলে বাংলাদেশে এখন ‘দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ’ শুরু হতে যাচ্ছে? চলছে ‘গণহত্যা’? আর দেখা দিয়েছে ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ইসলামের’ দ্বন্দ্ব, যার পরিণতিতে একটি বড় ধরণের সংঘাত আসন্ন?

এরকমই বলছেন ফরহাদ মজহার। যিনি, তার শিষ্যদের মতানুসারে, একটি ভাবান্দোলনের জন্ম দিয়েছেন। তার এই শিষ্যরা কয়েক বছর হলো বেশ পুলকিত এই ভাবান্দোলন নিয়ে। তবে খোঁজখবর যারা রাখেন, তারা জানেন, ফরহাদের এই শিষ্যরা পুরানো শিষ্য নয়। বার বার ঘরানা বদল করেছেন ফরহাদ মজহার, সে অনুযায়ী তার শিষ্যকুলও পাল্টে গেছে।

একদা সক্রিয়ভাবে সিরাজ শিকদারের সর্বহারা পার্টি করতেন কবি হুমায়ন কবির-ফরহাদ মজহার ছিলেন তার বন্ধু ও সহযোদ্ধা। তখনও ফরহাদ বোধকরি শিষ্য সংগ্রহের কাজে পর্যাপ্ত পারদর্শী হয়ে ওঠেননি। সর্বহারা পার্টি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল এবং দলটির হয়ে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন শুধু হুমায়ুন কবির নন, তার ভাই সেলিম কবির এবং বোন আলতামাস বেগমও। তবে ফরহাদ মজহার তখন কোথায় ছিলেন, যুদ্ধ করেছেন কি না, সেটি আমি বলতে পারব না। ১৯৭৩ সালে সর্বহারা পার্টি ‘অভ্যন্তরীন বিতর্কের’ জের ধরে হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করে। শোনা যায়, হত্যা করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছিল; কিন্তু সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্তদের কাছে পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের খবর পৌঁছার আগেই তারা তাদের দায়িত্ব সম্পন্ন করে ফেলেছিলেন। আহমদ ছফার ডায়েরিতে এরকম ইঙ্গিত রয়েছে, কবিরের হত্যার পেছনে ফরহাদ মজহারের ভূমিকা ছিল। হুমায়ুন কবির হত্যার পরপরই ফরহাদ মজহার উচ্চশিক্ষার্থে যুক্তরাষ্ট্র চলে যান। তবে কারও কারও বক্তব্য, ফরহাদের যুক্তরাষ্ট্র যাওয়ার পরিকল্পনা পূর্ব নির্ধারিত এবং এর সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের কোনও যোগ নেই। ওই সময় যারা সর্বহারা পার্টি করতেন, তারা হয়তো ফরহাদ মজহারের জীবনের ওই পর্ব সম্পর্কে আমাদের বাড়তি কিছু জানাতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন চলার সময় ফরহাদ মজহারের নতুন সব শিষ্য জুটতে থাকে। আমার স্মৃতিশক্তি বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে, তবে যতদূর মনে পড়ে, মজদুর পার্টির সঙ্গে ফরহাদ জড়িত ছিলেন, ১৫ দলের ২/১টা সভায়ও তাকে দেখা গেছে মজদুর পার্টির হয়ে কাজ করতে। পরে সেখান থেকে বিদায় নিয়ে তিনি আরও কয়েক জনের সঙ্গে মিলে ‘ফোরাম’ নামের একটি কাঠামো গড়ে তোলেন। পরে এখান থেকে ফোরাম নামের একটি মুখপত্রও বের হয়। ফরহাদ মজহার তখন ফোরামের সভায় ও প্রকাশনায় নিয়মিত বিপ্লব, সংগঠন, মার্কসবাদ ইত্যাদি সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ বাণী দিতেন। এই সময় তার যেসব সহযোগী ছিলেন, তার মধ্যে প্রকৃষ্ট একজন হলেন বর্তমানে নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবির- তিনি এক সময় ছাত্র ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন (তবে পরে ছাত্র ফোরামের একটি অংশ নূরুল কবিরদের নেতৃত্বে ছাত্র মৈত্রীর সঙ্গে যুক্ত হয়-এরকমই মনে পড়ছে)। এই পর্যায়ে তার আরও এক শিষ্য জোটে, তিনি সলিমুল্লাহ খান। আজকের সলিমুল্লাহ খানও একদা বিপ্লবের স্বপ্নে বিভোর হয়ে ‘প্রাক্সিস জার্নাল’ নামে একটি পত্রিকা বের করতেন, ঘন ঘন সিরাজগঞ্জের ‘ব্যক্তিগত পাঠাগার’সহ বিভিন্ন স্থানে পাঠচক্র নিতে যেতেন। শোনা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানসূত্রে ফরহাদ ও সলিমুল্লাহর মধ্যে গড়ে ওঠে নিবিড় এক বন্ধুত্ব-যা এই কয়েক মাস আগেও অটুট ছিল। এখন কোন অদৃশ্য কারণে তাদের মধ্যে ফাটল ধরেছে, না কি তারা নিজেরাই পরিকল্পিতভাবে একে অপর থেকে দূরে আছেন, তা কেবল তারাই জানেন।

নব্বইয়ের দশকে এরশাদের পতনের পর ফরহাদ মজহার নতুন করে শিষ্য জুটানোর কাজে নামেন তার ভাবান্দোলনের মাধ্যমে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এই শিষ্যদের অনেকেই ফরহাদ মজহারের অতীতের রাজনৈতিক সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত নন। ফরহাদ মজহারের এই পেটমোছা বা সর্বশেষ পর্যায়ের শিষ্যরা, বলাই বাহুল্য, তার পূর্ববর্তী শিষ্যদের তুলনায় ভয়াবহ নিকৃষ্ট মেধার। ফলে ফরহাদকে প্রতিনিয়ত চাপে থাকতে হয়-কেননা তাকেই সব প্রতিত্তর দিতে হয়, এমনকি কেউ তার সমালোচনা করলে তার হয়ে সেটির জবাব দেয়ার মতো কাউকেও হাতের কাছে খুঁজে পান না তিনি। কয়েকজন ভালো কবি-সাহিত্যিক তল্পিবাহক আছে বটে তার, কিন্তু তারা রাজনৈতিক তর্কে সিদ্ধহস্ত নয়। সব কিছু তারা গুবলেট করে ফেলে।

বলা ভালো, ফরহাদ মজহার তার এই পেটমোছা শিষ্যবাহিনী গঠনের পূর্বে নিজে কিছুদিন শেখ হাসিনার তল্পিবাহক হওয়ার জন্যে যারপরনাই চেষ্টা করেছেন। এরই মধ্যে একটি বাংলা পত্রিকার একজন সাংবাদিক ফরহাদ মজহারের একনিষ্ঠ শিষ্য হন এবং পত্রিকাটির সম্পাদকও অচিরেই তার গুণমুগ্ধ বনে যান। ফরহাদ মজহারের উত্থানের পেছনে এই বাংলা দৈনিকটির এবং তার সম্পাদক ও সাংবাদিকদের ভূমিকা বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহলের সবাই জানেন। কিন্তু একপর্যায়ে ওই বাংলা দৈনিকটিও ফরহাদ মজহারের ব্যাপারে ভীত হয়ে পড়ে এবং তার সংস্পর্শ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। অনন্যোপায় ফরহাদ তার মুখোশ খুলে ফেলতে বাধ্য হন, ফলে তার শেষ ঠিকানা হয়ে ওঠে মৌলবাদী ঘরানার দৈনিক সংবাদপত্রগুলো। রাজনৈতিক সমীকরণে ইদানিংকালে আবার সে তালিকায় নতুন ২/১টি সংবাদপত্র যুক্ত হয়েছে-যেমন দৈনিক যুগান্তর কিংবা দৈনিক ইত্তেফাক। ফলে ফরহাদের পালে নতুন করিয়া হাওয়া লাগিয়াছে।

এইভাবে ফরহাদ মজহার বার বার তার নতুন পরিচয় তৈরি করেছেন। তবে শেখ হাসিনার কাছ থেকে কল্কে পেতে তিনি যে প্রচেষ্টা চালিয়েছিলেন, তা আমাদের সার্বিক কথপোকথনের স্বার্থে একটু মনে করে নেয়া প্রয়োজন। ফরহাদের সামপ্রতিকতম রোগ বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের ওই পর্বের কথাবার্তাগুলো সাহায্য করবে। এই পর্বটি বোঝার জন্যে ফরহাদ মজহারের ‘রাজকুমারী হাসিনা’ বইটিই যথেষ্ট হবে বলে আশা রাখি। এই বইটি তিনি উৎসর্গ করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমানকে। এ বইয়ে তিনি ‘দ্বিতীয় খণ্ড সাঁটলিপি প্রকাশের ছুতোয় কিছু বাড়তি কথা’ শীর্ষক ভূমিকায় লিখেছেন,

‘‘রাজকুমারী হাসিনা : রাজনীতির প্রতীকী ও ঐতিহাসিক বিরোধ’’ খণ্ডটি প্রকাশের পরিকল্পনার সময়েই মনে হয়েছিল একটু ধীরেসুস্থে বের করব। এর কারণ হোল, আমার আশা ছিল একটু সময় নিলে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের ভাল কিছু দিক আমাদের চোখে পড়বে এবং এই ভূমিকাপত্রে সে কথা খুশি মনে লিখা যাবে। আমি যে এই রকম আশা করেছিলাম সে কথা খোলাসা করেই বললাম। জানি, আমার ‘সমাজতন্ত্রী’ বা মার্কসবাদী-লেনিনবাদী বন্ধুরা আমার চামড়া আর আস- রাখবেন না। আওয়ামী লীগের ওপর আশা! এটা কি হয়!! (রাজকুমারী হাসিনা, পৃষ্ঠা ক)

এরপর তিনি আরও কয়েকটি দীর্ঘ প্যারা লিখে মন্তব্য করেছেন যে,

‘…আমি আওয়ামী লীগের ওপর কিছু ভরসা করেছি। এটা অস্বীকার করব না।’ (রাজকুমারী হাসিনা, পৃষ্ঠা ঙ)

কেন? ফরহাদ মজহার আওয়ামী লীগের ওপর ভরসা করেছিলেন কেন? আমরা তার কিছু বয়ান অনুসরণ করে তা বোঝার চেষ্টা চালাবো। তিনি লিখেছেন,

আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার কথা অন্তত মুখে বলে। ইতিহাসের সাধারণ গতিমুখ এই দিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের স্বার্থটাও এখানে। সামপ্রদায়িক ভেদবুদ্ধি গরিব মেহনতি জনগণের জন্য ক্ষতিকর। এটা কে না জানে। ধর্ম নিরপেক্ষতা মানে কি তা নিয়ে অনেক কথা বলা যেতে পারে। সে প্রসঙ্গ থাকুক। কারণ রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করতে হবে এই ন্যূনতম রাজনীতিটুকু আওয়ামী লীগ গ্রহণ করে। এতেই আমাদের চলবে। কিন’ এই ক্ষেত্রেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অনেকের অভিযোগ আছে। … এই অভিযোগ সত্ত্বেও আমার ধারণা, আওয়ামী লীগের সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ধর্ম নিরপেক্ষতা একটা রাজনৈতিক আদর্শ আকারে গৃহীত। আমি ব্যক্তিগত ভাবে আওয়ামী লীগের অনেককেই চিনি এবং জানি যাঁদের অন-ত এই প্রশ্নে দোনামনা দেখি নি। বিশেষত তাঁরা এটাও জানেন যে এটাই আওয়ামী লীগের শক্তির জায়গা। অন্য কোন লক্ষ্য আওয়ামী লীগ যদি ত্যাগও করে তবু রাজনৈতিক ভাবে আওয়ামী লীগ নিজের ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারবে ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্যে লড়ে। আমার এই বিশ্বাসের আরো একটি কারণ হচ্ছে আওয়ামী লীগ একটি অভিজ্ঞ রাজনৈতিক দল। সামরিক বাহিনীর সমর্থনে বা ওপর থেকে ক্ষমতার আঙুল নাচিয়ে এই দলটির জন্ম হয় নি। (রাজকুমারী হাসিনা, পৃষ্ঠা ঙ)

লিখেছেন,

আমি মনে করেছি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ধর্ম নিরপেক্ষতার রাজনীতিটুকু যদি আমরা পাই তাহলেই যথেষ্ট। (রাজকুমারী হাসিনা, পৃষ্ঠা চ)

তারপর তিনি ‘শ্রেণিগতভাবে আওয়ামী লীগ ধর্মনিরপেক্ষতার দৃঢ় কোন মিত্র’ না হওয়া সত্ত্বেও তার ভরসার তিন-তিনটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন।

আবেগদীপ্ত কণ্ঠে এক পর্যায়ে ফরহাদ মজহার লিখেছেন,

‘‘আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষতার রাজনীতির ওপর ভরসা করে আমি ভুল করেছি কি না সেটা আমি এখন আর নিজে বিচার করবো না। সেই বিচারের ভার আমি আওয়ামী লীগকে যারা অপছন্দ করে বা যারা আওয়ামী লীগের দুষমন তাদের মুখেও শুনতে চাই না। কারণ তাঁরা সত্যি কথা বলবেন না। আমি শুনতে চাই আওয়ামী লীগের কর্মীদের কাছে। আওয়ামী লীগের কর্মী-যাঁরা ছেঁড়া কাপড় পরে, না খেয়ে, কোন রাজনৈতিক ফায়দা লুটবার চেষ্টা না করে, পারমিট পাওয়ার আশা না করে, আবছা হলেও একটা আদর্শের জন্য এই দলটি করেন। আসলেই আমি কি ভুল করেছি? আসলেই কি আওয়ামী লীগের ওপর ভরসা করে নিজে একটা মহা স্টুপিড বনেছি? আওয়ামী লীগের কাছ থেকে আমি সমাজতন্ত্র চাই না, এমনকি গণতন্ত্রও চাই না- কারণ এর একটিও আওয়ামী লীগ দিতে পারবে না। দিতে পারত বলে আমি কখনো বিশ্বাসও করি নি। শুধু চাই রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করা হোক। এটা আওয়ামী লীগ পারবে বলে ভরসা করেছি।’’

আহ্‌, কী অমৃত বচন! আওয়ামী লীগকে এত বড় সার্টিফিকেট দিয়েছিলেন ফরহাদ মজহার! এত ভরসা করেছিলেন! তা হলে কী এমন ঘটনা ঘটল যে তাকে এখন দেখা যায় হিযবুত তাহরীরের বৈঠকে? বিএনপির বৈঠকে? কেন তিনি কথা বলেন জামায়াতিদের হয়ে? ওদের পক্ষেই কি তা হলে সম্ভব রাষ্ট্র থেকে ধর্ম আলাদা করা? ধর্ম নিরপেক্ষতার রাজনীতিটুকু দেয়া? ফরহাদ বলেছিলেন, ইতিহাসের সাধারণ গতিমুখ ধর্ম নিরপেক্ষতার দিকে — সেই গতিমুখ কি তবে বদলে গেছে?

ফরহাদ মজহার জ্ঞানপাপী মানুষ। জানি, এসব প্রশ্নের উত্তর তার তৈরি করা আছে এবং তা তিনি এত বিশ্বস-তার সঙ্গে, যুক্তির সঙ্গে বলে যাবেন যে, অনেকের কাছেই তা সত্যি বলে মনেও হবে।

দুই

ফরহাদ মজহার যে আস্তাকুঁড়েতে নিক্ষিপ্ত হয়েছেন, সে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্যে ওপরের ওই উদ্ধৃতিগুলির পরিপ্রেক্ষিতে তার বর্তমান অবস্থানের বয়ানটুকুই যথেষ্ট। আমার জানা নেই, গত দুই দশক ধরে তিনি যে শিষ্যকুল গড়ে তুলেছেন, তাদের এসব জানা আছে কি না। তবে তারা যেভাবে বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে ফরহাদপূজা করেন, তা থেকে অনুমান করি, তারা এসব আদৌ জানেন না বা জানার প্রয়োজনও বোধ করেন না। তারা এই কয়েক পর্বের ফরহাদকে, এবং আরও অনুসন্ধিৎসু হলে সর্বহারা ও ফোরামপর্বের ফরহাদকে সমেত সকল পর্বের ফরহাদকে মিলিয়ে দেখতে পারেন। শ্রদ্ধাভক্তি তাতে একদম উবে যাবে। এবং আমরা তাতে দেখব, একজন রাজনৈতিক কর্মী বা নেতা ধীরে ধীরে বিবর্তিত হয়ে পরিণত হয়েছেন একটি পারিবারিক কোম্পানির মালিকে! মানুষের চিন্তা অবশ্যই পরিবর্তনশীল-কিন্তু যে মানুষ তার পরিবর্তনের মধ্যে দিয়ে কেবলই পেছায় তাকে নিয়ে আলোচনা চলে না।

তারপরও, নেহাৎ বাধ্য হয়েই ফরহাদ মজহার সম্প্রতি যেসব নিবন্ধ লিখেছেন, সেগুলি আমরা নেড়েচেড়ে দেখব-কেননা তার এসব নিবন্ধ অনেককে বিভ্রান্ত করেছে এবং করে চলেছে। তা ছাড়া যত পশ্চাৎপদই হোক না কেন, এগুলিই এখন বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দলিল-যে দলিলগুলি রচনা করা হচ্ছে শাহবাগের আন্দোলনকে নসাৎ করতে।

মুক্তিযুদ্ধের চার দশক পেরিয়ে গেছে, এই চার দশকে ফরহাদ কয়বার ‘গণহত্যা’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন? কতবার শব্দটি লিখেছেন? আমাদের একদমই স্মরণে আসে না! আর এখন তিনি বার বার ‘গণহত্যা’র কথা বলছেন। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যেসব মানুষ নিহত হয়েছেন, তাদের জন্যে আমরা সকলেই ব্যথিত। এরকম প্রতিটি হত্যার বয়ান পড়তে গেলেই আমরা দেখতে পাই, জামায়াতের নৃশংসতা কত প্রচণ্ড রূপ পেয়েছে। মজহার রায়ে বিক্ষুব্ধ জামাতিদের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, কিন’ রায়ে বিক্ষুব্ধ গণজাগরণ মঞ্চের তরুণদের পক্ষে দাঁড়ান নি। রায়ে বিক্ষুব্ধ গণজাগরণ মঞ্চের তরুণরা জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে রূঢ় শ্লোগান দিচ্ছে বটে, কিন্তু নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ ভাবেই দিচ্ছে। অন্যদিকে রায়ে বিক্ষুব্ধ জামাত-বিএনপি কী করেছে? সাধারণ মানুষ ও পুলিশের ওপর হামলা করেছে, রেললাইন উপড়ে ফেলেছে, বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন জ্বালিয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র অচল করে দিয়েছে। মজহারের সংজ্ঞা অনুযায়ী যদি এসব ম্যাসাকারই হয়ে থাকে, তা হলে তার জন্যে জামায়াত-শিবিরকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হয়। কারণ যে প্রাণগুলি আমরা হারিয়েছি তার মধ্যে নিরীহ মানুষ, আওয়ামী লীগার এবং পুলিশের সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি, বিভিন্ন ধরণের ক্ষয়ক্ষতির শিকারও তারা এবং এদের ওপর পূর্বপরিকল্পনামাফিক আক্রমণ পরিচালনা করেছিল জামায়াত-শিবিরের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরাই। লাশ ফেলার মধ্যে দিয়ে জামায়াত-শিবির একইসঙ্গে চেয়েছে ভয়ের সংস্কৃতি সৃষ্টি করতে ও সহানুভূতি আদায় করতে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, তাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী চেয়েছে, সবাই ভাবুক, সারা দেশেই এরকম সন্ত্রাস করেছে কিংবা করার ক্ষমতা রাখে জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু সশস্ত্র সন্ত্রাসের প্যাটার্নটি যদি কেউ ভালো করে খেয়াল করেন, তা হলেই দেখা যাবে, জামায়াতে ইসলামী সেসব জায়গাতেই খানিকটা সন্ত্রাসের জন্ম দিতে পেরেছে যেসব স্থানগুলি সীমান্তবর্তী ও চোরাচালান রুট হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকার চোরাচালান ও মাদকব্যবসাও তারা নিয়ন্ত্রণ করে। সন্ত্রাস সংঘটনের জন্যে জামায়াত-শিবির কুসংস্কারকে ব্যবহার করেছে, অপপ্রচার চালিয়েছে। মোটেল তৈরি হলে ‘বেলাহাজ কারবার’ হবে, চাঁদের মধ্যে সাঈদীকে দেখা যাচ্ছে, নাস্তিকরা ব্লগে যা-তা লিখছে-সন্ত্রাস করার জন্যে এসব তাদের প্রচারণার বিষয়।

কিন্তু এসব নিয়ে ফরহাদ মজহারের কোনও অভিযোগ নেই। তার অভিযোগ শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে। লিখেছেন তিনি,

ফাঁসির রায় ছাড়া শাহবাগ ঘরে ফিরবে না। আদালতের ওপর এ অন্যায় চাপ অব্যাহত রাখা হয়েছে। …পুলিশ পরিবেষ্টিত হয়ে রাজপথে ক্ষমতা জারি রেখে ও রায়ের ফলাফল নির্ধারণের ক্ষেত্রে শাহবাগ আদালতের দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ হয়ে আদালতের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে। এ অবস্থান মূলত আদালত অবমাননা নয়, রীতিমতো বিচারব্যবস্থা ভেঙে ফেলার শামিল হয়ে উঠেছে।

তাই? আপনার কাছে এ ভারি অন্যায় চাপ মনে হয়, ফরহাদ মজহার? র‍্যাপ যখন যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পর্কিত বিশেষ মিশন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন, তখন আপনার কাছে তা ট্রাইব্যুনালের ওপর অন্যায় চাপ মনে হয় নি? বিচারপ্রক্রিয়াকে প্রভাবান্বিত করার জন্যে জামাতচক্র যখন কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশি লবিস্ট নিয়োগ করেছিল, তখন আপনার কাছে তা ট্রাইব্যুনালের ওপর অন্যায় চাপ সৃষ্টি করার শামিল বলে মনে হয় নি? টবি ক্যাডম্যানরা যখন আবোলতাবোল কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করে, আন্তর্জাতিক মহলকে নানাভাবে নছিয়ত করতে থাকে, তখন তা আপনার কাছে অন্যায় চাপ বলে মনে হয় না? জামাত-শিবিরচক্র যখন বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবিতে, অভিযোগ থেকে নিষ্কৃতির দাবিতে মাসের পর মাস রাজপথ গরম করে রেখেছিল, তখন আপনার কাছে তা ট্রাইব্যুনালের ওপর অন্যায় চাপ মনে হয় নি? কয়েক মাস ধরে পুলিশের ওপর একের পর এক হামলা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির, তখন আপনার অন্যায় চাপ চোখে পড়েনি? সাঈদীর মামলার রায় ঘোষণার আগেই ট্রাইব্যুনাল বাতিলের দাবিতে রায় ঘোষণার দিন যখন জামায়াতে ইসলামী হরতাল ডেকেছিল, তখন কোথায় ছিল আপনার এই অন্যায় চাপ?

আর এখন? শাহবাগের কয়েকটি শ্লোগান কানে ঢুকতেই আপনার মনে হচ্ছে অন্যায় চাপ? হাততালি আপনার নিশ্চয়ই প্রাপ্য ফরহাদ মজহার!

আপনার কথা খানিকটা হলেও কল্কে পেয়েছে বৈকি। আপনার নিবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে এখন যুদ্ধাপরাধবিচার বিরোধীরা, অন্ধ আওয়ামী লীগ বিরোধীরা নানা জাতের কথা বলছে। ড. আবুল বারাকাত কোনও এক টিভি চ্যানেলে এরকম বলেছিলেন, যুদ্ধাপরাধের বিচার না হলে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হবে। শুনে আমাদের এক পরিচিতজন হেসেই কুটি কুটি। তার প্রশ্ন, বিচারের সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্পর্ক কোথায়? তারপরই তিনি উত্তেজিত ভঙ্গীতে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সমালোচনা করতে লাগলেন, বললেন, পূর্বসূরিদের প্রতিহিংসার দায় তরুণরা কেন বয়ে বেড়াবে, কেন তারাও প্রতিহিংসার রাজনীতি করবে? এইসব করলে দেশের অগ্রগতি আসবে কোথা থেকে?

ফাঁকিটা দেখুন, একবার ওই ভদ্রলোক বলছেন, বিচারের সঙ্গে অর্থনৈতিক অগ্রগতির সম্পর্ক নেই। আবার পরক্ষণেই বলছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি (অর্থাৎ বিচারপ্রক্রিয়া) অব্যাহত রাখলে দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়। অপপ্রচারগুলো এভাবেই চলছে-বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধের লক্ষ্যে সাধারণ মানুষজনকে বলা হচ্ছে, ৪০ বছর পরেও এসব করে বেড়ালে দেশের অগ্রগতি-উন্নয়ন নিয়ে চিন্তা করবেন কখন? আবার যে-ই বলা হচ্ছে, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির স্বার্থেই তো এ বিচারপ্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে হবে, তখন বলা হচ্ছে, এসবই প্রতিহিংসার রাজনীতি; তখন বলা হচ্ছে এর সঙ্গে উন্নয়ন অগ্রগতির সম্পর্ক নেই।

আমরা বিনয়ের সঙ্গে বলি, এদের মধ্যে সম্পর্ক অবশ্যই আছে। একটি রাষ্ট্র যদি নৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে চায় তা হলে অবশ্যই যে গণহত্যার সমুদ্র পেরিয়ে সে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, সেই গণহত্যার বিচার তাকে করতে হবে। এই গণহত্যার শিকার হয়েছে কারা? হয়েছে মূলত সাধারণ মানুষ, সাধারণ কৃষক-শ্রমিক, সাধারণ নারী। তাদের হত্যাকাণ্ড ও ধর্ষণযজ্ঞের বিচার যদি আমরা না করি, যারা তাদের ঘর ও সম্পত্তি পুড়িয়েছে, ধ্বংস করেছে তাদের বিচার যদি আমরা না করি, তা হলে শুধু তারা নয়, তাদের পরবর্তী প্রজন্মও বেঁচে থাকবে অবনত মস্তকে। এই অবনত মানুষেরা কী করে সেই রাষ্ট্রকে, সেই দেশকে, সেই সমাজকে সম্মান করবে, মেনে চলবে যে রাষ্ট্র-দেশ-সমাজ তাকে ন্যায়বিচার দিতে পারেনি? কী আসে যায় ওই সাধারণ মানুষ-কৃষক-শ্রমিক সেই রাষ্ট্র-দেশ-সমাজের অর্থনৈতিক উন্নয়নে, গণতান্ত্রিক অগ্রগমনে যে তাকে ন্যায়বিচার দেয়ার মধ্যে দিয়ে এই প্রত্যাশা তার মনে জাগিয়ে তুলতে পারে নি যে, ভবিষ্যতে রাষ্ট্র তাকে নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষমতা রাখে? এ শুধু কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত রাজনৈতিক পরিবারের বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ৩০ লাখ শহীদ মানুষ ও চার লাখ ধর্ষিত নারীর স্বজন।

ন্যায়বিচার না পাওয়ার এই বঞ্চনা, এই বেদনা, এই অপমান ফরহাদ মজহারদের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়। বুঝতে পারলে সাম্প্রতিক সময়ের বর্ণনায় ‘গণহত্যা’ শব্দটি তিনি ব্যবহার করতে পারতেন না। যাদের জন্যে তিনি আজ ‘গণহত্যা’ শব্দটি ব্যবহার করছেন সেই জামায়াতে ইসলামী একাত্তরেরও অনেক আগে কাদিয়ানীদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত করেছিল-ফরহাদের কি তা মনে আছে? ফরহাদ কি মওদুদীর সেই হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলেন? বলেন না। বলবেন কোথা থেকে? আমাদের মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই তো তার কোনও পরিষ্কার ধারণা আছে বলে মনে হয় না। কী অবলীলায় ফরহাদ লিখতে পারেন,

যে হত্যাকাণ্ড চলছে তার সঙ্গে পাকিস্তান আমলেরও তুলনা করা চলে না। পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৫ বছরে ২৫ মার্চ পর্যন- এত মানুষ হত্যা করেনি, যত মানুষ শেখ হাসিনার সরকার শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে খুন করেছে।

পাকিস্তান সেনাবাহিনী বা পাকিস্তান সরকার ২৫ মার্চ ১৯৭১ পর্যন্ত এত খুন করেনি? ফরহাদ মজহার জেনেশুনে বলছেন তো? কত মানুষ হত্যা করা হয়েছিল নাচোলের তেভাগা আন্দোলন দমাতে? টংক-হাজং বিদ্রোহ দমনে? ভাষা আন্দোলনে? ছয় দফার আন্দোলনে? গণঅভ্যুত্থানে? জানেন আপনি? আর ফেব্রুয়ারি মাসে কি শুধু শেখ হাসিনার সরকারের পুলিশই গুলি চালিয়েছে? জামাত-শিবির চালায়নি? তারা হত্যা করে নি? বাংলাদেশের পুলিশ নানা কারণেই সমালোচিত, অতীতে বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশের দমননীতির মুখে আমরা গণতন্ত্রকামী মানুষকে ক্ষুব্ধও হতে দেখেছি, দেখেছি পুলিশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে। কিন’ কখনও কি দেখেছেন পরিকল্পনামাফিক পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও তাদের খুন করতে। এটি কেবল জামায়াতে ইসলামীর পক্ষেই সম্ভব। এবং বাস্তবতা হলো, খালেদা জিয়া ও ফরহাদ মজহাররা এখন সেই জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে দাঁড়িয়েছেন।

তিন

ফরহাদ মজহারের মতে, পাহাড়ীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধটি এ দেশের প্রথম গৃহযুদ্ধ। আর দ্বিতীয় গৃহযুদ্ধ শুরু হচ্ছে এখন, যা তার ভাষায়,

এখন দেখা যাচ্ছে, ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দল এবং তাদের সমর্থক ও অনুসারীরা ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে একটি পক্ষ হিসেবে দাঁড়াচ্ছে। শুধু আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিপক্ষ নয়, সেক্যুলার বা ইসলামবিদ্বেষী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরাও তাদের প্রতিপক্ষ। আরেকটি বড় ধরনের সংঘাত আসন্ন। (আরেকটি বড় ধরণের সংঘাত আসন্ন, যুগান্তর, ১৩ মার্চ)

ভাষা লক্ষ করুন। যে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে ফরহাদ মজহার এই কয়েক বছর আগেও জীবনের লক্ষ্য মনে করেছেন এবং তার জন্যে আওয়ামী লীগের ওপর ভরসা করেছেন, সেই ফরহাদ বলছেন ‘ইসলামবিদ্বেষী ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী’! তিনি এখন শাহবাগের আন্দোলনকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালাচ্ছেন ইসলামের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংগ্রাম হিসেবে। কেন? শাহবাগের সমবেত তারুণ্য তো কেবল ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছে। তারা ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও রাজনীতি বন্ধের দাবি করেছে। এসবের মধ্যে ফরহাদ বাঙালি জাতীয়তাবাদ দেখলেন কোথা থেকে? হ্যাঁ, শাহবাগে ‘তুমি কে আমি কে/ বাঙালি বাঙালি’ শ্লোগান দেয়া হয় বটে, কিন’ এ শ্লোগানও তো দেয়া হয় যে, ‘তুমি কে আমি কে? আদিবাসী বাঙালি’। এটি কীভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে বাঙালি জাতীয়তাবাদের সংগ্রাম হয়? ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির পরিণতি’ নিবন্ধে তিনি আবার শাহবাগের তরুণদের প্রতি আহ্বান রেখেছেন যে,

আপনি নাস্তিক হলেও কোনো অসুবিধা নেই — কিন্তু যখনই আপনি সংস্কৃতিকে এবং ভাষাকে, বিশেষ সামাজিক পরিচয়ের ‘রাজনীতিকীকরণ’ ঘটান, ‘রাজনীতিকীকরণ’ করেন, তখন অন্যেরা আপনার বিরুদ্ধে নিজ নিজ পতাকা নিয়ে দাঁড়াবে।

ফরহাদ যে সব কিছু এলোমেলো করে ফেলেছেন, তার আরেকটি প্রমাণ ওপরের উদ্ধৃতিটি। কেননা এই কাজটি তো করেছে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবির, এই কাজটি করেছে বিভিন্ন ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন — তারা তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের রাজনীতিকীকরণ করতে চাইছে। শাহবাগের তরুণরা অত্যন- ন্যায়সঙ্গতভাবেই, ফরহাদের ভাষায় বলতে গেলে ‘নিজ নিজ পতাকা নিয়ে’ এর প্রতিবাদ করে ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি জানাচ্ছে। অথচ ফরহাদ মজহার জল ঘোলা করছেন, বার বার বিষয়টিকে জাতীয়তাবাদের দিকে নিয়ে যেতে চাইছেন এবং চাইছেন জাতীয়তাবাদ নিয়ে ক্যাওয়াজ বাধিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে।

ফরহাদ লিখেছেন,

‘‘বাঙালি যেভাবে পাকিস-ানিকে দেখে, পাহাড় ও সমতলের ক্ষুদ্র জাতিসত্তার চোখে আমরাও সেই একই ‘পাকিস্তানি’- যারা গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধে অপরাধী। এই ইতিহাস আমরা চাপা দিয়ে রাখি। কিন্তু মিথ্যা দিয়ে সত্য ঢাকা যায় না।’’

এই ইতিহাস কে রচনা করেছে ফরহাদ, কেইবা ধামাচাপা দিয়ে রেখেছে? মুজিবের শাসনামলে এ জাতীয়তাবাদসংক্রান্ত এ বিতর্কের সূত্রপাত ঘটে বটে, কিন্তু নৃশংস ‘পাকিস্তানি’ হয়ে ওঠার কাজটি কখন হলো? জিয়াউর রহমানের শাসনামলে না? ঝেড়ে কাশুন ফরহাদ। আপনার নতুন রাজনৈতিক নেতা জিয়াউর রহমান তাদের রক্ষার নামে পাকিস্তানি ঢঙে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আমাদের মাথার ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং সেই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পোশাক পরে নির্বিচারে ম্যাসাকার চালিয়েছেন পাহাড়িদের ওপরে। এই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদীদের আছড় থেকে দেশটি কিঞ্চিৎ বেরিয়ে আসতে পেরেছিল বলেই না সম্ভব হয়েছিল পাহাড়িদের সঙ্গে শান্তি চুক্তি করা। অতএব বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম গৃহযুদ্ধ বলে যদি কিছু থাকে, তা হলে সেটি শুরু করেছেন জিয়াউর রহমান। শেখ হাসিনাকে বড়জোর আমরা এই বলে দায়ী করতে পারি, তিনি যেভাবেই হোক না কেন, সেই গৃহযুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটিয়েছিলেন। তা হলে সত্যকে আসলে কে ধামাচাপা দিতে চাইছে, ফরহাদ?

ফরহাদের মতে,

ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণার যে সংস্কৃতি গত ৪০ বছর চর্চা করা হয়েছে তার মূল্য দিতে হবে অনেক।

কী চরম মিথ্যাচার! ইসলামের বিরুদ্ধে ঘৃণার সংস্কৃতিচর্চা হলো কবে? কোথায় হলো? আমরা তো বরং দেখেছি ইসলামকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় নিপীড়নকে বৈধ করার জন্যেও ইসলামকে কাজে লাগানো হয়েছে। ইসলাম গেল-গেল বলে ফরহাদদের প্রভু ও মিত্ররা ১৯৭৫ সালে এ দেশে সামরিক শাসন এনেছে, রাষ্ট্রধর্ম করেছে এবং রাজনৈতিকভাবে এইসব বিষয়কে এমনভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যে এখন ফরহাদ মজহারের ধর্মনিরপেক্ষ আওয়ামী লীগকেও এসব নিয়ে হিসেব করে কথা বলতে হয়। তিনি দাবি করেছেন,

যারা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছেন, তারা গৃহযুদ্ধ বাঁধিয়ে দিয়েছেন ইসলামের সঙ্গে বাঙালি জাতীয়তাবাদের। খেয়াল করতে হবে ‘বাঙালি’ বা ‘মুসলমান’ এই দুইয়ের মধ্যে কোন্‌ পরিচয় প্রধান সেটা এখানে আমাদের তর্কের বিষয় নয়। রাজনৈতিকতা ও রাষ্ট্রের বিচার করার ক্ষেত্রে এই তর্ক অপ্রাসঙ্গিক। তর্কের বিষয় হচ্ছে, যে পরিচয় সামাজিক পরিসরে থাকার কথা এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিকভাবে ভাঙাগড়ার ভেতর দিয়ে থিতু হওয়ার বিষয়, তাকে রাজনীতি ও রাষ্ট্রের স্তরে টেনে আনা হয়েছে। এর কুফল কতটা ভয়ানক হতে পারে তা গত কত কয়েক সপ্তাহজুড়ে দেশব্যাপী ঘটে যাওয়া সংঘাত ও সংঘর্ষের অভিজ্ঞতা থেকে সহজেই বোঝা যায়।

আবার দেখুন, ফরহাদ কত অস্বচ্ছ! শাহবাগের তরুণেরা ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করার দাবি তুলেছে। কেননা, ফরহাদ যদি মনেই করে থাকেন যে, যে পরিচয় ‘সামাজিক পরিসরে থাকার কথা’ তাকে ‘রাজনীতি ও রাষ্ট্রের স্তরে টেনে আনা’ ঠিক নয়, তা হলে তারও তো ধর্মভিত্তিক রাজনীতি ও রাজনৈতিক দল তথা জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন ধর্মভিত্তিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ করার দাবি তোলার কথা। অথচ তিনি সেটি না করে এটিকে ‘ইসলাম’ ও ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদের’ দ্বন্দ্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছেন! আবার অন্য এক জায়গায় তিনি লিখেছেন,

নিঃসন্দেহে নবী করিমের ইজ্জত ও ইসলামের মর্যাদা রক্ষা এ লড়াইয়ের প্রধান বিষয়, কিন্তু এটা নয় যে বাঙালি জাতীয়তাবাদের মতোই আমরা ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছি।

এসব কথার অর্থ কী? ফরহাদ কি চান ধর্মকে রাজনীতি ও রাষ্ট্র থেকে দূরে রাখতে? তাই যদি হয়, তা হলে হিযবুত তাহরির, জামায়াতে ইসলামী কিংবা ছাত্র শিবির তার নয়নের মণি কেন? এইসব সংগঠনগুলো তো প্রকাশ্যে ইসলাম ধর্মকে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নেমেছে! সেটা জেনেও কেন ফরহাদ ‘নবী করিমের ইজ্জত ও ইসলামের মর্যাদা রক্ষার’ অজুহাতে সন্ত্রাসকে উৎসাহিত করছেন? ফরহাদ লিখেছেন, শেখ হাসিনা হবেন এ দেশের ‘কারজাই সরকার’। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে তা ভবিষ্যৎই বলে দেবে। তবে ফরহাদ যে এ দেশে কারজাই সরকারই দেখতে চান, তা তার জাতীয়তাবাদচর্চার এই ধরণ থেকেই সুস্পষ্ট। তার এই জাতীয়তাবাদ চর্চায় খালেদা জিয়াও এত উল্লসিত যে, তার মুখ দিয়ে আমরা বেরুতে শুনি, শাহবাগে নাকি বিধর্মী ও নাস্তিকরা আন্দোলন করছে! এতদিন খালেদারা নাস্তিকদের ভূত দাঁড় করিয়ে অপপ্রচার চালিয়েছেন, এখন সে তালিকায় যুক্ত করেছেন ‘বিধর্মী’দেরও। ফলে সংখ্যালঘু নির্যাতনও আকস্মিকভাবে বেড়ে গেছে। কিন্তু তাতে কি? ফরহাদের উদ্বেগের বিষয়, ইসলাম। আর সবই ঐচ্ছিক। যদিও ভাব দেখিয়ে তিনিও লেখেন,

সমাজে নাস্তিক আছে, থাকবে। সামাজিক কোন ঝগড়া নেই। আপনার ছেলেও নাস্তিক হতে পারে। আপনি তাকে বোঝান, ঘরের মধ্যে বোঝান। নাস্তিকতাও একটি আদর্শ হতে পারে। অসুবিধা নেই।

কী উদারনৈতিক কথা! কিন’ আমরা এসব বললে লিখলে বা বললে এতদিনে লঙ্কাকাণ্ড হয়ে যেত, কিন্তু ফরহাদ মজহার ১০/১২ দিন আগে লিখেও বহাল তবিয়তে আছেন। একদিকে তিনি সামাজিকভাবে নাস্তিক থাকার অপরিহার্যতা দেখাচ্ছেন, অন্যদিকে ‘ইজ্জত ও মর্যাদা রক্ষার’ ডাক দিচ্ছেন। তা হলে কারজাই সরকার প্রতিষ্ঠার কাজে আসলে কে নেমেছে বলে মনে হয়? ফরহাদ-খালেদাদের ওই ইজ্জত ও মর্যাদা রক্ষার ডাকে সাড়া দিয়ে দেশে মন্দির ভাঙা হচ্ছে, সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে, আর ফরহাদ তাদের বলছেন, ‘সাম্প্রদায়িকতাকে কোনোভাবে আমরা যেন প্রশ্রয় না দেই।’ মানে পাগলকে বলা হচ্ছে, নৌকা দুলাস না। অতএব পাগল নৌকা দুলাচ্ছে — মন্দির, প্যাগোডা সব ভাঙা হচ্ছে। সব বলাটা অবশ্য ভুল হবে, কেননা এ দেশের মৌলবাদীরা কেবল প্যাগোডা আর মন্দিরই ভাঙতে পারে, গীর্জা ভাঙার মুরোদ তাদের এখনও হয়নি। হয়তো হবেও না-কেননা তারা জানেন, গীর্জা ভাঙলে অথবা খ্রিস্টধর্মাবলম্বীরা বিপন্ন হলে আন-র্জাতিকভাবেই তাদের খবর হয়ে যাবে।

ফরহাদ মজহারকে নিয়ে এত কথা বলার কোনও অর্থ হয় না। কিন্তু বলতে হচ্ছে, কেননা তিনি ‘ইসলাম ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের’ দ্বন্দ্বের অজুহাতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে বাগড়া বসাতে এসেছেন, জামাত-শিবিরকে রক্ষা করতে এগিয়ে এসেছেন। তিনি হয়ে উঠেছেন জামায়াত-শিবিরের মুখপাত্র। রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করার যে সংগ্রাম, তাতে তিনি বাগড়া বসাচ্ছেন। চার্চ থেকে রাজনীতিকে আলাদা করে নতুন এক ইউরোপ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করে এশিয়াতেও সম্ভব নতুন এক এশিয়ার জন্ম দেয়া। যে ক্ষেত্রে বাংলাদেশই হতে পারে পথিকৃৎ, শাহবাগের তরুণরা সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছেন। ফরহাদদের বকরবকর করতে দিন, তাদের কাছ থেকে আমাদের আর কিছুই পাওয়ার নেই। আমাদের কাজ হলো ওই তরুণদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া, আমাদের উচিত সহানুভূতি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গোলাম-খালেদা-ফরহাদ নয় — বরং ওই তরুণেরাই।

অবিশ্রুত

সেইসব দিন স্মরণে,- যখন কলামিস্টরা ছদ্মনামে লিখতেন; এমন নয় যে তাদের সাহসের অভাব ছিল, তারপরও তারা নামটিকে অনুক্ত রাখতেন। হতে পারে তাৎক্ষণিক ঝড়-ঝাপটার হাত থেকে বাঁচতেই তারা এরকম করতেন। আবার এ-ও হতে পারে, সাহসকেও বিনয়-ভুষণে সজ্জিত করেছিলেন তারা। আমারও খুব ইচ্ছে দেখার, নামহীন গোত্রহীন হলে মানুষ তাকে কী চোখে দেখে... কাঙালের কথা বাসী হলে কাঙালকে কি মানুষ আদৌ মনে করে!

18
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
আমিনুল বারী শুভ্র
অতিথি
আমিনুল বারী শুভ্র

ফরহাদ মজহার কে তাত্তিকভাবে মোকাবেলা করা জরুরী বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে !! না হয় অসংখ্য ফ্রাঙ্কেস্তাইন তৈরি হচ্ছে এবং হবে !!
এটি তাই জরুরী একটা লেখা !! লেখক কে অসংখ্য ধন্যবাদ !!

imam.gazzali
অতিথি
imam.gazzali

‘ফরহাদদের বকরবকর করতে দিন, তাদের কাছ থেকে আমাদের আর কিছুই পাওয়ার নেই। আমাদের কাজ হলো ওই তরুণদের কাছ থেকে শিক্ষা নেয়া, আমাদের উচিত সহানুভূতি নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো’

ফরহাদ আর বিভ্রান্তি ছড়ানোর সুযোগ পাবে না। তার ভন্ডামীর সাদা লুঙ্গী খুলে গেছে। তার উপযোগিতা কেবলিই ’আমার দেশ’ ও ’সংগ্রাম’ এর কাছে।

মাসুদ করিম
সদস্য

ধর্মতত্ত্ব ছাড়া এক পাও এগোবেন না — বাংলাদেশে এরকম বুদ্ধিজীবি বেশুমার, এরকম অনেকের মধ্যে একজন হলেন ফরহাদ মজহার, আমাদের মধ্যবিত্ত জ্ঞানবলয়ে যতদিন ধর্মতত্ত্ব সবচেয়ে বড় বিষয় হয়ে থাকবে ততদিন এদেরও প্রাদুর্ভাব থাকবে, এবং এই প্রাদুর্ভাবের মধ্যে সাম্রাজ্যবাদবিরোধী ইসলামবাদীরা জঙ্গিত্বের তত্ত্বকার ও পৃষ্টপোষক হয়ে উঠবেন — তারা আবেগী ‘তালেবান’ পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক বন্ধনপুষ্ট ‘আল কায়েদা’ বা ‘হিযবুত তাহরীর’ হয়ে উঠবেন।

zafarwazed
অতিথি
zafarwazed

ফরহাদকে১৯৭৭ ক্যাম্পাসে আনেন আহমদছফা/ফমজহারেরর গান শুণী/বাকিউতিহাাস/

মাসুদ রানা
অতিথি
মাসুদ রানা

পাগল ফরহাদ মজহার কয়
লুনগি পর বাংআলি আন্দার অwআর নয়।।।।।

রাবেয়া বসরী
অতিথি
রাবেয়া বসরী

অতিশয় চমৎকার, যতবার আমি ফরহাদ মজহার লেখা পড়েছি বা সাক্ষাৎকার দেখেছি, সব সময় আমার মনে হয়েছে, উণি জানেন না কি বলছেন অথবা নিজেও ঠিক মত বোঝেন না কি বলতে চান। নিজে একজন অতিব কনফিউজ মানুষ এবং অন্যদের ঠিক তেমন ভাবেই কনফিউজ করবার চেষ্টা করেন। চমৎকার এই লেখাটির জন্য ধন্যবাদ।

প্রদীপ
অতিথি
প্রদীপ

আমি মনে করি ফরহাদ মজহার এমন কোন হাই প্রোফাইল লেখক বা চিন্তাবিদ নন। বাস্তবিক সত্য হল ওর ক্যারিয়ার টা কে ও নিজে বরবাদ করে ফেলেছে । শেষ তক কোথায় আশ্রয় নিয়েছে,তা দেখে কি বুঝা যায় না ,কোথায় ওর চির নিদ্রা হবে ?

আরসালান
অতিথি
আরসালান

ধন্যবাদ লুঙ্গিপরা দানবটার উপর পাঁচ ব্যটারীর লাইট মারার জন্য। “বাম পচলে হয় কড়া ডান” ফরহাদ মজহার এই পুরনো ও প্রচলিত প্রবাদ সম কথাটিকে সত্যি প্রমানিত করলেন আবার ও। তবে এই লেখায় মজহার সাহেবের চরিত্রের “ধান্ধা-বাজ” বৈশিষ্ঠের যে খোজ পাওয়া গেল সেই ব্যপারটা বেশ গুরুত্বপুর্্‌ কারন, এমনিতে তিনি যা বলেন বা লিখেন তার প্রায় সব ই দুর্গন্ধযুক্ত মিথ্যা কথা যা কেবল বিভ্রান্তি ছড়ানোর কাজ ছাড়া অন্য কোন কাজের না, কিন্তু কেন তিনি এমন করছেন সেই ব্যপারটা ধরতে পারা এবং প্রকাশ করতে পারলে তার মুখোশ খুলে পড়বে নিশ্চিত । লেখক অবিশ্রুত কে ধন্যবাদ এই ব্যপারটা সামনে নিয়ে আসার জন্য। আরো একটা ব্যপার,… বাকিটুকু পড়ুন »

আব্দুল ওয়ারেশ
অতিথি
আব্দুল ওয়ারেশ

লেখক কে ধন্যবাদ। এক নিঃশ্বাসে পড়ে শেষ করলাম। সময়োপযোগী বিশ্লেষণধর্মী লেখা।

“বাম পচলে হয় কড়া ডান”

কাজী নিয়াজ
অতিথি
কাজী নিয়াজ

ভালো লিখেছেন। ফরহাদের ভণ্ডামী পরিষ্কার। শুধু একটা কথা বলতে চাই, কোনো অদৃশ্য কারণে বা কোনো গোপন আঁতাত করে সলিমুল্লাহ খান ফরহাদ মযহার থেকে দূরে সরে যাননি, ববং ফরহাদের যে বর্তমান কার্যকলাপ ও রাজনৈতিক অবস্থান তার সাথে দ্বিমত পোষণ করেন বিধায় ড সলিমুল্লাহ তার সাথে সম্পর্ক ছেদ করেছেন। শুধু তা-ই নয়, ফরহাদের নষ্ট তত্ত্ব-কে তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা করে চলেছেন শাহবাগ আন্দোলনের প্রথম থেকে, আন্দোলনের পক্ষে লিখে। বিভিন্ন দৈনিকে তো লিখছেনই, তাছাড়া সর্বজন নামক একটি দৈনিক বুলেটিনে লিখে চলেছেন নিরন্তর, যা শুধু মাত্র শাহবাগ আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই প্রকাশিত হচ্ছে। সকলের সুবিধার্থে পত্রিকাটির লিঙ্ক এখানে। ধন্যবাদ।

কুহক
অতিথি
কুহক

আপনার এই লেখাটি অনুপ্রাণন ত্রৈমাসিক সাহিত্য পত্রিকার মে’ সংখ্যায় প্রকাশ করতে চাই। আপনার অনুমোদনের অপেক্ষায় রইলাম।

দয়াল সাগর
অতিথি
দয়াল সাগর

আমার যত দূর মনে পড়ে ”১৯৭৩ সালে সর্বহারা পার্টি …হুমায়ুন কবিরকে হত্যা করে।”নি বরং ঘটনাটা ১৯৭২ সালের ৩রা জুনের অল্প পরে।

মামুন
অতিথি
মামুন

তিনি ’৭২-’৭৫ ব্যবহৃত হয়েছিলেন যুবক কর্মী হিসাবে, না বুঝেই। এখন বুঝে শুনে তাদের দ্বারাই আবার ব্যবহৃত হচ্ছেন ‘নেতা’ হিসাবে। তখন ছিলেন জঙ্গী বাম, এখন জঙ্গী ডান/ইসলাম। জঙ্গী-সে ডান/বাম/ইসলাম যাই হোক না কেন, রশুনের গোড়া একই-পশ্চীম। জঙ্গীর লক্ষ্য একটাই-নিজের দেশকে ধ্বংস করা। আমরা যতই ডাউন হব, পশ্চীমের ততই লাভ- দাদন ব্যবসায়, শিল্প পণ্যের বাজার, সস্তা শ্রম ইত্যাদি।

মাসুদ করিম
সদস্য

mnasser_jagodsis
অতিথি

বদ ফরহাদের উপর আমার লেখাটি পড়ুনঃ
http://www.amarblog.com/mnasserjagodis/posts/162875

monir hossain
অতিথি
monir hossain

ফরহাদ মজহার তার কাজ-কর্মে,বা নিজের বা তার চ্যালা চামুন্ডাদের প্রচারনায় যত না পরিচিত পেয়েছে, তার চেয়ে অনেক বেশী পরিচিতি পেয়েছে তার বিপক্ষ গ্রুপ তাকে নিয়ে লেখার মাধ্যমে । এর প্রকৃত উদাহরন হল এই নিবদ্ধ । এই নিবদ্ধ লিখতে গিয়ে যে সময়-শ্রম-মেধা খরচ হয়েছে য়ামার মনে হয় ফরহাদ মজহার এর উপযুক্ত নয় । আমার মনে হয় ওর পক্ষের লোকেরা বিরুদ্ধ পক্ষ হয়ে লিখে প্রাচার পাবার আসায়। ধন্যবাদ

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.