এখন ইউনূসকাহনের সূত্র ধরে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলি বাংলাদেশে তাদের আকাঙ্ক্ষিত কথিত রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে, আমরা উপনীত হয়েছি কথিত রাজনৈতিক বিকল্প-অনুসন্ধান পর্বের দ্বিতীয় অধ্যায়ে।[...]

এখন ইউনূসকাহনের সূত্র ধরে বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বহুজাতিক কর্পোরেশনগুলি বাংলাদেশে তাদের আকাঙ্ক্ষিত কথিত রাজনৈতিক বিকল্প গড়ে তোলার আরেকটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছে, আমরা উপনীত হয়েছি কথিত রাজনৈতিক বিকল্প-অনুসন্ধান পর্বের দ্বিতীয় অধ্যায়ে। এই কথিত রাজনৈতিক বিকল্প-অনুসন্ধান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে সংগঠিত হয়েছিল ১১ জানুয়ারি বা ওয়ান-ইলেভেন। তখন ড. মুহাম্মদ ইউনূস তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হতে রাজি হননি। সামরিক বাহিনীর তৎকালীন প্রধান মইন উ আহমদের বইয়ে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী (আরও অনেক সূত্রও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে), ইউনূস তখন বলেছিলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে তার যে পরিকল্পনা রয়েছে তা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সীমিত শাসনামলে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়, তাই তিনি দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। ড. ইউনূসই প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ফখরুদ্দীনের নাম প্রস্তাব করেন। এর পরের ঘটনাও সবার কমবেশি জানা আছে-সামরিক বাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতাপূর্ণ তত্ত্বাবধায়ক শাসনামলে ইউনূস চেষ্টা করেন রাজনৈতিক দল গড়ে তোলার। আমাদের সুশীল কাণ্ডারিরা বার বার কমপক্ষে দু বছর সময় চাইতে থাকেন ‘লাইনচ্যুত ট্রেনকে লাইনে টেনে তুলতে’। কিন্তু খুব দ্রুতই ড. ইউনূস বুঝতে পারেন, এই যাত্রায় কাজ হবে না। তিনি তাই সব কিছু ভবিষ্যতের হাতে ছেড়ে দিয়ে সাময়িক বিরতি দেন। তার বিবৃতিতে তিনি অবশ্য জানিয়েছেন, যারা তাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তারা তা রক্ষা না করায় তিনি এ উদ্যোগে ক্ষান্তি দিচ্ছেন। কিন্তু ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে, প্রস্তুতির জন্যে তিনি ও সুশীলগণ আরও খানিকটা সময় চাইছিলেন। আধুনিক মহাজন ইউনূসকে নির্যাতিত ইউনূস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে জনগণের সহানুভূতি আদায় করার সুযোগ খুঁজছিলেন তারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং আওয়ামী লীগ সরকার তাঁকে সে সুযোগ করে দিয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন, সহানুভূতির পাত্র হয়ে উঠেছেন।
এবং এতে কোনও সন্দেহ নেই ড. ইউনূসকে বাংলাদেশের প্রাণভোমরা হিসেবে প্রমাণ করার জন্যে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সুশীল সমাজ যা-যা করা সম্ভব তার সবই করবে।
কিন্তু ড. ইউনূস সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে এখন এত গুরুত্বপূর্ণ কেন? হয়তো এটি সঠিক প্রশ্ন নয়, কেননা আসলে ড. ইউনূস নন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হলো বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান। এই ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানকে যুক্তরাষ্ট্র ও সাম্রাজ্যবাদী শক্তি এখন ব্যবহার করতে পারে দুটি উপায়ে : হয় দেশটিতে ইসলামী জঙ্গিবাদকে চাঙ্গা করে তুলে অস্থিতিশীলতা ছড়িয়ে দিয়ে; নয়তো নতুন একটি বিকল্প রাজনৈতিক চরিত্র ও দল দাঁড় করিয়ে। এই দুটি পথই খুব কঠিন সাম্রাজ্যবাদীদের জন্যে। কেননা জঙ্গিবাদ যুক্তরাষ্ট্রকেও ছোবল মারতে পারে, অন্যদিকে বাংলাদেশে ধর্মজ রাজনীতিবিরোধী স্রোতও অনেক শক্তিশালী। তা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী দক্ষিণ এশিয় মিত্র ভারতও এ পন্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী নয়। আবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিভিন্ন রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের জালে জনগণের একটি বড় অংশকে এমনভাবে জড়িয়ে রেখেছে যে, রাজনৈতিক একটি বিকল্প রাজনৈতিক চরিত্র ও দল দাঁড় করানোর কাজটি মূলত বিপ্লবাত্মক কাজ। তারপরও বহুদিন আগে থেকেই সাম্রাজ্যবাদীরা বাংলাদেশে তাদের একজন প্রতীকী ব্যক্তিত্ব খুঁজে বেড়াচ্ছিল। শেখ মুজিবুর রহমান তাদের সেই প্রতীক ছিলেন না, বামপন্থীদের কারও সেরকম প্রতীক হয়ে ওঠার তো প্রশ্নই ওঠে না-শেষ পর্যন্ত তারা তাদের প্রতীকী ব্যক্তিত্ব হিসেবে খুঁজে পেয়েছে ড. ইউনূসকে। অন্তত খানিকটা কথা ঠিকই বলেছেন অর্থনীতিবিদ ড. বিনায়ক সেন-‘এই মুহূর্তে পাশ্চাত্যকে মুহাম্মদ ইউনূসের যতটা প্রয়োজন, তারচেয়ে পাশ্চাত্যের বেশি প্রয়োজন ইউনূসকে।’ বাংলাদেশের সুশীলআবিষ্ট মধ্যবিত্ত শ্রেণী মুখিয়ে উঠেছে তাঁকে শাসক হিসেবে পেতে। আওয়ামী লীগ সরকারের ব্যবহার এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নর্তন-কুর্দনে ঢোলের বারি হয়ে দেখা দিয়েছে, তারা সুশীল দৈনিকগুলিকে কেন্দ্র করে নিজেদের নর্তন-কুর্দন দেখিয়ে চলেছে দেশবাসীকে।

অতএব এই ইউনূসকাহনকে গুরুত্বহীন ভাবার কোনও কারণ নেই। পৃথিবীতে এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে যখন বাঘ ও ছাগলকে একঘাটে পানি খেতে দেখা যায়, যখন সাপ ও বেজিকে একই গুহায় চোখ বুজে ঘুম দিতে দেখা যায়, যখন মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও খালেদা জিয়া-ফরহাদ মজহার-শফিক রেহমানদের একই বিষয়ে একই ভঙ্গিতে উদ্বিগ্ন হতে দেখা যায়। এখন, পৃথিবীতে সেরকম একটি ঘটনা ঘটছে-খালেদা জিয়া, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, ফরহাদ মজহার আর শফিক রেহমানরা সমভঙ্গিতে, সমপরিমাণে উদ্বিগ্ন – কেননা নোবেল পুরস্কার বিজয়ী ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।|
খালেদা জিয়া এখন বলছেন, এ সরকার সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান দিতে জানে না। তার সরকার ক্ষমতায় এসে তাদের উপযুক্ত সম্মান দেবে। তাকে আমরা বলতে শুনছি, ড. ইউনূস অবৈধ হলে এই সরকারও অবৈধ। বলা হচ্ছে, বিচার বিভাগ এই সরকারের হাতের মোয়া।
আর ড. ইউনূসকে নিয়ে খোদ সরকারের দেউলিয়াত্বও কম নয়। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তাঁর দুই হাতে তেল মেখে নাকে পিয়াজ দিয়ে কাঁদতে বসেছেন, নোবেল পুরস্কার তো শেখ হাসিনা আর সন্তু লারমার পাওয়ার কথা ছিল! সরকারের যেখানে উচিত ড. ইউনূসের বিভিন্ন দুর্নীতি-অনিয়মগুলি উন্মোচন করা, সেখানে তারা এই ধরণের বালসুলভ কথাবার্তার মধ্যে দিয়ে প্রতি পদে পদে প্রমাণ করছেন, বিশ্বের বিভিন্ন ভার্সিটি থেকে ডক্টরেট ডিগ্রি পেতে পেতে শেখ হাসিনা এখন নোবেল পাওয়ার জন্যে হন্যে হয়ে উঠেছেন।
অথচ এই নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্তর্নিহিত রাজনীতি কে না বোঝে? ড. ইউনূসের আইনজীবী রোকনউদ্দিন কয়েকদিন আগে বলেছেন, নোবেল পুরস্কার কি গাধারা পায়? এর উত্তর অবশ্য রোকনউদ্দিনেরও জানা আছে-গাধারা পাবে কেন? এই পুরস্কার পান সর্বোৎকৃষ্ঠ ঘৃণ্য ব্যক্তিরা। কে না বোঝে, কেন এই পুরস্কার পান হেনরি কিসিঞ্জার, কেন পান আইজাক রবিন আর শিমেন পেরেজ, কেনই বা পান কোনও কিছুই না করে বারাক ওবামা! ড. ইউনূস তো সে পুরস্কার পেতেই পারেন।
‘মুই কি হনু রে’ বলে একটি কথা প্রচলিত আছে বাংলাদেশেই, আরও একটি কথা আছে-‘ছাগলের তিন নাম্বার বাচ্চা’। এই দেশে এখন একজন ‘মুই কি হনু রে’ দেখা দিয়েছেন, তিনি ড. ইউনূস, যার নোবলেপ্রাপ্তির দিনটিকে বাংলাদশের স্বাধীনতাপ্রাপ্তির সঙ্গে তুলনা করার ধৃষ্টতা দেখতে হচ্ছে আমাদের নির্বাক চোখে; আরও দেখা দিয়েছে কিছু ‘ছাগলরে তিন নম্বর বাচ্চা’ যারা দুগ্ধ না পেলেও দুগ্ধের সুগন্ধে ও দুগ্ধের প্রত্যাশায় উদ্বাহু নৃত্য জুড়তে পারেন। তাই আমাদের শুনতে হচ্ছে, ড. ইউনূসই নাকি সারা পৃথিবীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং!
মুহম্মদ জাফর ইকবাল এ ব্যাপারে আরেক কাঠি সরেস; তিনি তাঁর ইউনূসসঙ্গীতের শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘যাঁরা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, গ্রামীণ ব্যাংক, বাংলাদেশ সরকার এবং দেশের আইনকানুন নিয়ে নির্মোহ, বস্তুনিষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ আলোচনা পড়তে চান, তাদের এ লেখাটি পড়ার প্রয়োজন নেই।’ এরকম একজন মানুষের কাছ থেকে ছাত্রছাত্রীরা একটা শিক্ষাই পেতে পারে, তা হলো কোনও কারণ ছাড়াই কারও প্রতি মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ার শিক্ষা। লেখাটি তাই তার সংবিধি সতর্কীকরণের পরও মনযোগ দিয়ে পড়ে দেখেছি। তাতে দেখা গেল, ইউনূসের প্রতি তাঁর এত মোহের কারণ, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে বিদেশের মাটিতে কী নিষ্ঠুরভাবে তাচ্ছিল্য এবং অসম্মানের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়… মুহাম্মদ ইউনূস একা সেটিকে কত বড় একটি মর্যাদার আসনে নিয়ে গেছেন।’ লিখেছেন তিনি, ‘সত্তর ও আশির দশকে বাংলাদেশ পৃথিবীর সামনে পরিচিত হতো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে। এই সরকার বিশ্বাস করুক আর নাই করুক এই দশকে পৃথিবীতে বাংলাদেশ পরিচিত হয় প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে দিয়ে।’
এই বাক্যগুলি সত্যিই হতবাক হওয়ার মতো। মুহম্মদ জাফর ইকবাল হয়তো জানেন না, এখনও বাংলাদেশকে বিদেশের মাটিতে নিষ্ঠুরভাবে তাচ্ছিল্যই করা হয়। কেননা বিদেশীরা জানে, এ দেশের জনগণ না চাইলেও রাজনীতিকদের একটি অংশ দেশকে জঙ্গি বানানোর জন্যে সদা তৎপর; বিদেশীরা জানে, এ দেশে এমন এক শ্রেণির বিশাল গার্মেন্টস ব্যবসায়ী রয়েছে, যারা বিদেশে কাপড় ব্যবসা করে কোটি কোটি টাকার মুনাফা অর্জন করলেও নারী শ্রমিকদের ন্যুনতম মজুরি দিতে নারাজ, ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগলে পুড়ে মরা ছাড়া কোনও পথ খোলা নেই এই নারী শ্রমিকদের; এই বিদেশীরা এটাও ভালো করে জানে, ১০০ টাকার ঋণ নিলে একজন নারীকে ৪৫ টাকা সুদ দিতে হয় গ্রামীণ ব্যাংককে এবং সেই ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ন্যুনতম সহানুভূতিও নেই কোনও বিদেশীর। ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালরা তো কেবল গুটিকয় একাডেমিক ও স্বার্থবাদী বিদেশীর সঙ্গে মেশেন-পাঠক ও অ্যাকটিভিস্ট বিদেশীদের সঙ্গে মিশলে এই ভ্রান্ত ধারণা তার মনে হয়তো জন্ম নিতো না। বাংলাদেশের মানুষদের নানা কিসিমের বিদেশীরা তাচ্ছিল্যের পাশাপাশি তবুও শ্রদ্ধা করে, কারণ, এত কিছুর পরও এ দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখতে জানে, তাই দারিদ্র দূর করার জন্যে বিমানের চাকায় করে বিদেশে যাওয়ার ঝুঁকি নেয় এবং মৃত্যুবরণ করে, বিদেশে অবৈধভাবে বসবাস করেও প্রতি মাসে দেশের স্বজনের কাছে টাকা পাঠায়। ঠিকই লিখেছেন জাফর ইকবাল, বাংলাদেশকে একসময় বিদেশীরা শেখ মুজিবের নামে চিনতো আর এখন চেনে ইউনূসের নামে; তবে তফাৎ হলো, তখন বাংলাদেশের নাম শুনলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাঁতের পাটি শক্ত হয়ে উঠতো (মুজিব হত্যার পর সেই দাতেঁর পাটি নরম হতে শুরু করে), আর এখন বাংলাদেশের নাম শুনলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কিছু শক্ত হয়ে ওঠে। শেখ মুজিবের নামে পরিচিত বাংলাদেশ বিদেশীদের কাছে ছিল মুক্তিকামী অদম্য স্বপ্নচারী মানুষদের আবাসভূমি; আর ইউনূসের নামে পরিচিত বাংলাদেশ বিদেশীদের কাছে এমন একটি দেশ যে-দেশটির অধিবাসীরা অচিরেই নিজেদের গ্রামে বসে চা খেতে খেতে ড. ইউনূসদের তত্ত্বাবধানে ওয়ালমার্টের পাহারাদারি করবে, যে দেশের প্রবালদ্বীপ ও সমুদ্রবন্দরটিকে অচিরেই সাম্রাজ্যবাদীদের ইচ্ছে অনুযায়ী সাজানো হবে, যে দেশের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদকে সামাজিক ব্যবসায়ের মাধ্যমে আহরণ করা হবে। বিদেশীরা তো আর আমাদের দেশের কথিত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নয়-তারা ভালো করেই জানে, নোবেল শান্তি পুরস্কার কেন দেয়া হয়, কাদের দেয়া হয়। তারা তাই এটুকুও বোঝে, বাংলাদেশে এখন এমন একজন ব্যক্তিত্ব পাওয়া গেছে, যাকে দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সাম্রাজ্যবাদের ঘানি টানানো যাবে। বাংলাদেশকে এখন সাম্রাজ্যবাদী শক্তি নিরাপদ মনে করে, সপক্ষের মনে করে, তাদের কর্মের উপযোগী মনে করে-শেখ মুজিব যে-কাজটি করতে পারেননি, ইউনূস সেটি করেছেন, একাই করেছেন এবং মর্যাদাজনকই বটে! মর্যাদা বলতে মুহম্মদ জাফর ইকবাল আসলে কী বোঝেন, তা আমরা এখন একটু-একটু বুঝতে পারছি। আর তাঁকে তো দরিদ্র নারীদের মতো প্রতি সপ্তাহে ঋণ শোধ করতে হয় না। একদা বাঘের গলায় কাটা ফুটিয়াছিল, মুর্খ বক সেই কাটা তুলিয়াছিল, সে যে বাঁচিয়া আছে, ইহাই তো বড় পুরস্কার। বাংলাদেশের গ্রামের স্বামী-শ্বশুর-দেবরের কিল-গুড়ি-লাথি খাওয়া মহিলাদের যে গ্রামীণ ব্যাংক ঋণ দেয়, এটিই তো বড় ঘটনা-১০০ টাকায় ৪৫ টাকা সুদ দিতে হয়, এটি কোনও ব্যাপার না কি? তিনি কখনোই বুঝতে পারবেন না, একশ টাকায় ৪৫ টাকা সুদ দিতে মাসের কয়দিন যায়। তিনি তাই খুবই ক্ষুব্ধ ইউনূসকে শেখ হাসিনা গরীবের রক্তচোষা বলায়। অথচ আশি-নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বাংলাদেশে অনেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম পর্যবক্ষেণ করে যে-মূল্যায়ন করে আসছনে, তার সারমর্ম হলো ড. ইউনূস একজন আধুনিক সুদখোর মহাজন। দুঃখ লাগে, বদরুদ্দীন উমররা প্রাপ্য মর্যাদা পেলেন না। কতবার বদরুদ্দীন উমর এই কথা বললেন, কেউ গায়েই মাখল না-অথচ হাসিনা একবার না দুইবার বলতেই ‘হা রে রে রে’ করে তেড়ে এলো মুহম্মদ জাফর ইকবাল থেকে শুরু করে ফরহাদ মজহার।

বলাই বাহুল্য, নতুন এক রাজনৈতিক মেরুকরণের আভাসই দেখা যাচ্ছে এই ইউনূসকাহনের মধ্যে দিয়ে। যে-কীর্তির লেজ ধরে ড. ইউনূস প্রতীক হয়ে উঠেছেন সেই মাইক্রোক্রেডিট-এর ব্যবসা বাংলাদেশে আরও অনেকেই করেন, ইউনূসের আগে থেকেই করেন, যেমন ব্র্যাকের ফজলে হাসান আবেদও করেন, কিন্তু ফজলে হাসান আবেদ ড. ইউনূসের চেয়েও গভীর জলের মাছ, তিনি তাই মাইক্রোক্রেডিট নিয়ে ইউনূসের মতো লাফালাফি করেননি (হয়তো তিনিই অদূর ভবিষ্যতে হবেন ব্যর্থ ইউনূসের সফল উত্তরাধিকার); কিন্তু ইউনূস করেছেন। ইউনূসের মধ্যে যে-দানব বসবাস করে, সেই দানব পল্লবিত হয়েছে গ্রামীণ শব্দযুক্ত আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের ভিত্তির মধ্যে দিয়ে। ইউনূস এমন ব্যবস্থা করেছেন, যার ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের একটিরও নাকি প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নেই গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে! এরকম একজন মানুষ ধরাছোঁয়ার বাইরে। কেননা তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার পক্ষে দাঁড়িয়ে আছে! আমাদের বলা হচ্ছে, মার্কনি যুক্তরাষ্ট্র চায় না ইউনূসকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হোক। বার বার মনে করিয়ে দেয়া হচ্ছে, তিনি নারীদের ক্ষমতায়ন করেছেন। কিন্তু আমাদের বলতেই দেয়া হচ্ছে না যে, নারী নেতৃত্বকে হারাম বলার পরও যেমন এ দেশের মৌলবাদীরা খালেদা জিয়ার বৃহৎ ছাতার নিচে দাঁড়িয়ে আছে, ঠিক তেমনি নারীর ক্ষমতায়নের মতো সমিতি করার কথা বলার পরেও ড. ইউনূসরা মূলত অদৃশ্য শক্তির নতুন আজ্ঞাবহ-তাদের কাছে যুদ্ধাপরাধ কোনও ইস্যু নয়, মৌলবাদ কোনও ইস্যু নয়, ক্রসফায়ারে মৃত্যু কোনও ইস্যু নয়। তারা চান কর্পোরটেদের সঙ্গে মিলে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে জিদান দই, জুতা আর বিশুদ্ধ পানির ব্যবসা করতে (ধন্যবাদ আর্সেনিক সমস্যাকে), হাইব্রডি ধানের মোড়ক উন্মোচন করতে, তারা চান রফিকদের স্বপ্ন চুরি করে পরবিশেবান্ধব অটোভ্যান প্রচলনের কৃতিত্ব ও ব্যবসা গ্রামীণ ফান্ডের মতো প্রতিষ্ঠানের বগলের নিচে রাখতে।
তারপরও মুহম্মদ জাফর ইকবালদের এই মুহাম্মদ ইউনূস এখন ঐশ্বরিক ধর্মের সেই দোয়া ইউনূস, যা পড়তে পড়তে এগিয়ে গেলে বাংলাদেশকে ভয় পেতে হবে না, কোনও বিপদে পড়তে হবে না, হাঙর-কুমীরের খপ্পরে পড়তে হবে না। গ্রামীণ ব্যাংক যে ৪৫ শতাংশ হারে সুদ নিচ্ছে, জোবরা গ্রামের সুফিয়া যে ঋণের ঘোরে মারা গেছে, মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও সুশীলগণের তা চোখে পড়ছে না, এমনকি সরকারও এগুলি আমলে নিচ্ছে না। আর একে অপরের সমালোচনা করলেও করলেও কৃপা পাওয়ার আশায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে কি আওয়ামী লীগ, কি বিএনপি। দীপুমনিদের সংবাদ সম্মেলন করে বলতে হচ্ছে, ‘এ ঘটনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কে কোনও প্রভাব পড়বে না।’ অন্যদিকে, ড. ইউনূস বাঙালকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছেন, দেখাচ্ছেন হিলারী ক্লিনটনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কত সুমধুর (রাণী সোফিয়ার সঙ্গেও তাঁর সম্পর্ক নাকি সুমধুর, কিন্তু সেই রাণী সোফিয়া এবার অনেক তদবিরের পরও গ্রামীণ সফরে বাংলাদেশে আসতে রাজি হননি, ড. ইউনূসের দলীয় দৈনিকগুলি কিন্তু এ নিয়ে কোনও রিপোর্ট করেনি), ইউনূসের প্রেস উইং সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এই প্রচারের পেছনে-ড. ইউনূস রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। বলা হচ্ছে, এই কারণে না কি হিলারী তার সফর বাতিল করেছেন, ওবামারও দেখা মিলবে না। অথচ এসব সফর বা সাক্ষাত সবই ছিল প্রাথমিক পর্বে, তা কখনোই চূড়ান্ত হয়নি, এসব ঘটনার অনেক আগে থেকেই ওই সফর ও সাক্ষাৎ ছিল অনিশ্চিত। এইসব কথা প্রচার করে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে ইউনূসদলীয় দৈনিকসমূহ। ড. ইউনূস তার ব্যক্তিসম্পর্ককে ব্যবহার করছেন রাষ্ট্র ও সরকারের সঙ্গে তার দ্বন্দ্বের সমাধান খুঁজে পেতে। তাঁর এই ব্যক্তিসম্পর্কের মাশুল বাংলাদেশকে কীভাবে দিতে হবে তা নিয়ে এদের কারও মাথাব্যথা নেই!
আর যে খালেদা জিয়া কিছুদিন আগেও ওয়ান-ইলেভেনের কুশীলবদের সন্ধান করেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সেই কুশীলবদের আঁতাত খুঁজে পেয়েছেন, তিনি এখন ঘটনাক্রমে এমন এক অবস্থানে যে মনে হচ্ছে এইসব সুশীল কুশীলবদের সঙ্গে তার রাজনৈতিক সখ্য আবারও জমে উঠেছে।
এই সুযোগে বামপন্থীরাও মুখ খুলছেন-শেখ হাসিনার সরকারকে একহাত দেখে নেয়ার এ সুযোগ তারা হাতছাড়া করতে নারাজ। আমরা যতদূর জানতাম, বামপন্থীরা বুর্জোয়াদের বিভিন্ন দ্বন্দ্বগুলিকে কাজে লাগায় তাদের মুখোশ উন্মোচনের কাজে। সে-হিসেবে, বুর্জোয়াদের বিভিন্ন অংশের মধ্যেকার এই দ্বন্দ্বপর্বটি ড. ইউনূস ও তাঁর ক্ষুদ্র ঋণ, সামাজিক ব্যবসা ইত্যাদি সব কিছুর মুখোশ উন্মোচনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। কিন্তু তারা তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেছেন চর্বিত চর্বনে, আওয়ামী লীগ সরকার কেন এরকম একটি কাজ করতে গেল, সেটি বিশ্লেষণ করে ‘এসবে আমাদের কান দেয়ার কোনও দরকার নেই, কেননা আওয়ামী লীগ সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই এ কাজ করছে’-এরকম একটি উপসংহার টানাই তাদের মূল লক্ষ্য।

অনেক আগে আমরা এক সাহাবুদ্দিনের সন্ধান পেয়েছিলাম, সেই সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আমরা এত আহ্লাদিত হয়েছিলাম শুধুমাত্র তাঁর চাকরি ফিরিয়ে দেয়ার জন্যেই দেশের সংবিধান পরিবর্তন করে বসেছিলাম। কেউই তাকে বলতে রাজি হইনি, দেশের এমন এক ক্রান্তিকালে আপনাকে দেশের এ দেশের জনগণ এমন একটি পদে আসীন হওয়ার গৌরব দিচ্ছে, এরপরও কেন আপনি নিজের চাকরিজীবনকে সমাপ্ত করাকেই জীবনের মুখ্য ব্রত মনে করছেন? এখন আমরা এক ইউনূসের সন্ধান পেয়েছি, তাঁকে নিয়ে আমরা এতই আহ্লাদিত যে হিলারী ক্লিনটনদের চড়থাপ্পর খেয়ে হলেও তাঁর নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্তিকে মহিমান্বিত করতে চাই, তাকেঁ গ্রামীণ ব্যাংকের মহাপরিচালক বানিয়ে রাখতে চাই, যে-সব দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে তার সবই ঢেকে রাখতে চাই।

অথচ এই আমরাই নাকি চাই, বিদেশে এ দেশের মাথা উঁচু হোক!

অবিশ্রুত

সেইসব দিন স্মরণে,- যখন কলামিস্টরা ছদ্মনামে লিখতেন; এমন নয় যে তাদের সাহসের অভাব ছিল, তারপরও তারা নামটিকে অনুক্ত রাখতেন। হতে পারে তাৎক্ষণিক ঝড়-ঝাপটার হাত থেকে বাঁচতেই তারা এরকম করতেন। আবার এ-ও হতে পারে, সাহসকেও বিনয়-ভুষণে সজ্জিত করেছিলেন তারা। আমারও খুব ইচ্ছে দেখার, নামহীন গোত্রহীন হলে মানুষ তাকে কী চোখে দেখে... কাঙালের কথা বাসী হলে কাঙালকে কি মানুষ আদৌ মনে করে!

৫৯ comments

  1. মাসুদ করিম - ১১ মার্চ ২০১১ (১২:১৮ পূর্বাহ্ণ)

    ইউনূস প্রসঙ্গে যখন ক্ষুদ্রঋণ আসে বুঝতে চেষ্টা করি, যখন গ্রামীণ ব্যাংক আসে বুঝতে চেষ্টা করি, যখন দুর্নীতি আসে বুঝতে চেষ্টা করি, যখন রাজনীতি আসে বুঝতে চেষ্টা করি, যখন নোবেল তাও আবার শান্তিতে আসে তাও বুঝতে চেষ্টা করি, এমনকি যেসামাজিক ব্যবসাকে আমার কাঠালের আমসত্ত মনে হয় তাও বুঝতে চেষ্টা করি — কিন্তু ইউনূস প্রসঙ্গে যখন পাসপোর্টের কথা আসে তখন আর আমি কিছু বুঝতে পারি না — আরে আমার পাসপোর্টটা কি ইউনূসের দেশের পাসপোর্ট? না আমার পাসপোর্ট ও ইউনূসের পাসপোর্ট একই দেশের পাসপোর্ট? এই অত্যন্ত স্বাভাবিক প্রশ্ন যাদের মনে আসে না তাদেরকে আমি আমার সহনাগরিক ভাবতে লজ্জিত বোধ করি।

    • সাগুফতা শারমীন তানিয়া - ১১ মার্চ ২০১১ (৪:৩৩ অপরাহ্ণ)

      চমৎকার লেখা। মাসুদ করিমের সাথে সহমত।

  2. Shawkat Khan - ১১ মার্চ ২০১১ (৭:৩১ পূর্বাহ্ণ)

    I think this write-up is ill motivated, most likely written by a paid propagandist to create confusion. This unfortunate situation around Dr. Yunus has been solely created by Hasina & goon. If this help bring her government down in any way and help create a new political power led by world renowned and respected personalities, instead of being ruled by the totally unsophisticated, uneducated, mentally unstable, and vicious ladies, would not that be a blessing for the nation? I think most everybody supporting the current government’s handling of the issue is either missing the point or has some expected /direct personal benefit of some sort. I too have some unanswered questions about Dr. Yunus’ various operations. But the current fiasco is extremely detrimental to the nation. Could not he be used try to bring positive changes for the nation and in international stage, instead of making it a personal vendetta to strip him down. I am sorry, I do not have any respect for these political gang …Hasina or Khaleda. They are the problem of the country. …and not, Dr. Yunus or the west (conspiracy theory).

    • মাসুদ করিম - ১১ মার্চ ২০১১ (১:০১ অপরাহ্ণ)

      paid propagandist

      পোস্ট লেখক সম্বন্ধে আপনার এই ধারণা ভাল লাগল। আপনি যেরকম আমাদের দেশে ‘স্যাটেলাইট গভর্নেন্স’

      If this help bring her government down in any way and help create a new political power led by world renowned and respected personalities, instead of being ruled by the totally unsophisticated, uneducated, mentally unstable, and vicious ladies, would not that be a blessing for the nation?

      আশা করছেন তাতে পোস্ট লেখককে প্রোপাগ্যান্ডিস্ট এবং তদুপরি পেইড তো আপনি ভাববেনই। এরকম না ভাবলেই বরং আশ্চর্য হতাম ও খারাপ লাগত।

    • মোহাম্মদ মুনিম - ১২ মার্চ ২০১১ (৪:৪৬ পূর্বাহ্ণ)

      @Shawkat Khan
      এই পোস্টের লেখক paid propagandist কিনা জানি না, তবে লেখাটিতে যা বলার তা গুছিয়েই বলা হয়েছে, আমি তো confusing কিছু দেখলাম না। অনুন্নত বিশ্বে কোন ধরণের সরকার বসলে west এর সুবিধা হবে, সে আলোচনা west এর রেডিও টিভিতে খোলাখুলি ভাবেই হয়। এতে কোন conspiracy theory নেই। ৫০ আর ৬০ এর দশকে ব্রিটেন আর আমেরিকা দেশে দেশে ক্যু ঘটিয়েছে, এসব তো একেবারে official history. ‘টেরোরিস্ট’ গাদ্দাফির অস্ত্রাগারে কোন কোন দেশের অস্ত্র আছে আর গাদ্দাফীর ২০০৩ সালের ‘তওবার’ পরপরই টনি ব্লেয়ারের লিবিয়াতে ছুটে যাওয়ার দৃশ্য এখন তো BBCতে প্রতিদিনই দেখানো হচ্ছে। মিশরে মোবারকের পতনের পরপরই ক্যামেরন সাহেবের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মিশর সফরও যে আরব বিশ্বে গণতন্ত্রের উত্থান উদযাপনের জন্য নয়, সেটা খানিকটা বুদ্ধি খাটালেই বোঝা যায়।
      বাংলাদেশ থেকে হাসিনা খালেদা বিদায় নিয়ে খলিফা উমরের মত কোন সুশাসক আসবেন, যানজট, দুর্নীতি, ছাত্র রাজনীতি থাকবে না, সকলেই বিশুদ্ধ পানি পান করে কল সেন্টারে কাজ করবে, সফটওয়ার বানিয়ে আমেরিকায় রপ্তানি করবে, স্বল্প শিক্ষিতরা ভিডিওতে ওয়ালমার্ট পাহারা দিবে, এই জাতীয় দিবাস্বপ্ন আপনি দেখতেই পারেন, তবে সেই দিবাস্বপ্ন কখনোই সত্য হবে না। আমাদের সর্বশেষ খলিফা মইন ইউ আহমেদ আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছিলেন, শ্রদ্ধেয় ‘স্যার’ মোহাম্মদ জাফর ইকবাল ৭১ এর পর এমন সুবর্ণ সুযোগ বাংলাদেশে আসেনি, এ জাতীয় আশাবাদও ব্যক্ত করেছিলেন। দেখা গেল খলিফা চালের দাম বেড়ে গেলে কি করতে হবে বুঝে উঠতে পারছেন না, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রের গালে সিপাহীর চড় বসানোর মত ‘তুচ্ছ’ ঘটনাও সামলাতে পারছেন না। সুশীল সমাজও ম্যাক্রো আর মাইক্রো ইকোনোমির অংবং বুঝলেও চালের দাম বাড়লে হাসিনা খালেদা কোন যাদু দিয়ে পরিস্থিতি সামলান তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারেননি। খলিফা পাবলিককে ভাতের পরিবর্তে আলু খাওয়া শেখালেন (ভাত না জুটলে মিষ্টি আলু দিয়ে পেট ভরানোর বিদ্যা পাবলিকের বহু আগে থেকেই জানা আছে)। খলিফা মইনের বুদ্ধি পূর্ববর্তী খলিফাদের চেয়ে খানিকটা বেশী হওয়াতে হাসিনা খালেদার হাতে দেশ ফেরত দিয়ে সসম্মানে সরে পড়েন।
      অক্সফোর্ড আর হার্ভাডের ডিগ্রীধারী বাঘা বাঘা সিভিল আর মিলিটারি এলিট দিয়ে মিশরও গত ত্রিশ বছর ধরে শাসিত হয়েছে, চওড়া রাস্তা হয়েছে, সাবওয়ে হয়েছে, মার্কিন ধাঁচের বিশ্ববিদ্যালয় হয়েছে, সবকিছুই তাসের ঘরের মত দুদিনেই ভেঙ্গে পড়েছে। আশেপাশের তাসের ঘরগুলোও ভাঙবে ভাঙবে করছে। সেসব দেশে হাসিনা খালেদা থাকলে এটা হতো না, সাবওয়ে হয়তো থাকতো না, দুর্নীতি থাকতো, নোংরা রাস্তাঘাট থাকতো, ফালু আর মহিউদ্দিনের মাস্তানদের নিয়ে লোকের অভিযোগ থাকতো, কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব হীনতা থাকতো না। রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া কোন দেশ টিকে থাকে না, টিকে থাকে দেশ নামের জেলখানা। সেই জেলখানা থেকে জাওয়াহিরি আর মোহাম্মদ আতা ছাড়া আর কিছুই উৎপাদন হয় না।

    • অবিশ্রুত - ১২ মার্চ ২০১১ (৫:৪৪ পূর্বাহ্ণ)

      মন্তব্যের শুরুতেই যেখানে paid propagandist-এর সন্ধান পেয়েছেন, সেখানে বোঝাই যাচ্ছে, আপনি যা-তা মানুষ না। টাকা খেয়ে লিখেছে-এ কথাটি বলা খুবই সহজ, হয়তো অনেকে লিখেও থাকেন, কিন্তু সেরকমভাবে কাকে দিয়ে লেখানো হবে, কোথায় লেখানো হবে, সেসবেরও হিশেবনিকেশ থাকে-কিন্তু আপনি উদার মানুষ, সেরকম হিশেবনিকেশ করতে রাজি নন। আপনি চুনোপুটিরও হিশেব রাখেন-আপনাকে আমার লম্বা সালাম জানাই।
      বাংলাদেশে, জাতীয় সংসদে দেয়া তথ্যমন্ত্রীর হিসেব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রচারসংখ্যা প্রথম আলোর, তারপর যুগান্তরের। এগুলির কোনওটিতেই গত কয়েক সপ্তাহে ড. ইউনূসের বিপক্ষে কোনও লেখা আমার চোখে পড়েনি। এমনকি অন্যান্য পত্রিকাগুলির মধ্যেও একমাত্র আমাদের সময় ছাড়া অন্য কোনও পত্রিকায় ইউনূসের বিরুদ্ধে তেমন কোনও কোনও লেখা দেখিনি।
      আপনার কথার মানে দাঁড়াচ্ছে,বড় বড় প্রচারসর্বস্ব প্রচারমাধ্যমগুলিতে নিঃস্বার্থভাবে বাংলাদেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নিজ উদ্যোগে লিখে যাচ্ছেন। আর মুক্তাঙ্গনের মতো একটি ব্লগে, যে-ব্লগে মানুষজন নাকি টোকা দিয়েও দেখে না, সেই ব্লগে কোথাকার কোন অবিশ্রুতকে টাকাপয়সা দেয়া হচ্ছে ড. ইউনূসকে নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত পোস্ট লিখবার জন্যে! টাকাপয়সা যারা ছড়াচ্ছে তাদের জন্যে সত্যিই আপনি করুণা করতে পারেন।
      একটি হিসেবই মেলাতে পারছি না-এরকম একটি প্রচারহীন ব্লগে আপনার পা পড়লো কেন!
      শুনেছি, ইউনূসের প্রেস উইং এখন সবখানেই চোখ রাখছে; আপনি তাদের দলে সেটা বলব না, কেননা আপনি নিজেই লিখেছেন, আপনারও এমন কিছু প্রশ্ন আছে ইউনূসকে নিয়ে, যার উত্তর এখনও পাননি। আপনার প্রতি অনুরোধ রইলো, আপনি বরং দয়া করে সেই প্রশ্নগুলি এখানে উত্থাপন করুন। আমি এবং অন্যান্যরাও দেখি, প্রশ্নগুলো কোন ধরণের, সেগুলির উত্তর মেলার সম্ভাবনা আদৌ আছে কি না।
      আরেকটি কথা না লিখে পারছি না, বিশ্বখ্যাত আর শ্রদ্ধাভাজন মানুষ হলেই যে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবেন, এরকম ধারণায় অন্তত আমার আস্থা নেই। তাই যদি হতো, তা হলে ভারতীয়রা অমর্ত্য সেনকে প্রধানমন্ত্রী বানাতো, মারিও ভার্গাস য়োসা নির্বাচনে হারতেন না, পাবলো নেরুদাকে চিলির নির্বাচনে দাঁড়াতে হতো, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী হতেন ডেভিড বেকহ্যাম এবং পৃথিবীতে অনেক ডাক্তার, শিক্ষকই নির্বিবাদে নিজের পেশায় স্থির থাকতে পারতেন না। পৃথিবীর সফল রাষ্ট্রনায়কদের মধ্যে কয়জন নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, বলতে পারেন? যারা পেয়েছেন, তারা রাষ্ট্রনায়ক হওয়ার পরে পেয়েছেন, আগে পাননি (তার মানে এই নয় যে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরে কেউ সফল রাষ্ট্রনায়ক হতে পারবেন না। কিন্তু হওয়ার মতো উপাদান আছে কি না, তা জনগণ অবশ্যই নেড়েচেড়ে দেখে নেবে)।
      হাসিনা-খালেদা নিয়ে মানুষের তিক্ততা বোঝা খুবই সহজ, তাদের আমরা কয়েক দশক ধরে দেখছি। কিন্তু তারা রাজনীতি বোঝেন না, এরকম মনে করাও মহাবোকামী। তাই যদি হতো, তা হলে পেছনে পশ্চিমা বাহিনী আর সামরিক বাহিনী থেকে শুরু করে সুশীল বাহিনী থাকার পরও ওয়ান-ইলেভেনের কারিগরদের ছেড়ে দে মা কেঁদে বাঁচি বলে বিদায় নিতে হতো না।
      যাই হোক, আপনার সৎ-উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ। আপনি সর্বত্র বিরাজ করুন, যেখানে ড. ইউনূসকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে সেখানেই নিঃস্বার্থভাবে ঝাপিয়ে পড়ুন, কামনা করি। আপনারাই তো আমাদের ইউনূসযুগের দিশা, ইউনূসযুগের কাণ্ডারী। বড় ভরসা পাই আপনাদের বাণী শুনলে।

      • অবিশ্রুত - ১২ মার্চ ২০১১ (৬:০৫ পূর্বাহ্ণ)

        এই মুহূর্তে নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের নাম মনে আসছে, তিনি চার্চিল। তবে তিনি শান্তিতে নন, পুরস্কার পেয়েছিলেন সাহিত্যে আর রাজনীতিক হিসেবে খ্যাতিমান হয়েছিলেন নোবেল পাওয়ার অনেক আগেই।

        ইউনূস-প্রসঙ্গে খানিক আগে আনু মুহাম্মদের একটি লেখা পড়লাম। তার কয়েকটি লাইন প্রাসঙ্গিক মনে হওয়ায় এখানে তুলে দিচ্ছি :

        সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে যদি ব্যক্তিগত সংঘাত কিংবা দখল প্রকল্পই থাকে তাহলে মুহম্মদ ইউনুসের পক্ষে তাঁর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার খুব সহজ হবে।

        এবং ইউনূসপন্থীরা ঠিক এ পথেই এগুচ্ছেন-তারা নানাভাবে ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে দেখাচ্ছেন, সরকারের সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে শেখ হাসিনার নোবেল না-পাওয়ার অতৃপ্তি!

        • মাসুদ করিম - ১২ মার্চ ২০১১ (৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ)

          আরেক জনের নাম মনে পড়ল আমার জার্মানির চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ডট, ১৯৭১ সালে তিনি পেয়েছিলেন শান্তিতে নোবেল। জার্মানির পূর্বের দেশ গুলোর সাথে বিশেষত পূর্ব জার্মানি ও পোল্যান্ডের সাথে তিনি তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির সম্পর্কোন্নয়নের জন্য তার গৃহীত Neue Ostopolitik বা নতুন পূবরাজনীতির জন্য এই শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন। ব্রান্ডট জার্মানির বিশাল রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব তাকে জানার খুবই প্রাথমিক কাজটি করা যেতে পারে ইউকিপিডিয়ায় Willy Brandt পাতাটি পড়ে।

      • অবিশ্রুত - ১২ মার্চ ২০১১ (৬:১৪ পূর্বাহ্ণ)

        আনু মুহাম্মদের লেখায় এক পাঠকের প্রতিক্রিয়া থেকে জানা গেল, ড.ইউনূসের দধিপার্টনার বৃত্তান্ত। পাঠক সৈয়দ আলী এ প্রসঙ্গে কয়েকটি লিংকও দিয়েছেন।

        শুধু বাংলাদেশে নয়, বরং বিশ্বব্যাপী ড.ইউনূসের পার্টনার এই দৈ কোম্পানী আল্লাহ চাহেতো কমপক্ষে ১.২ কোটি ডলার জরিমানা দিয়ে সেরেছে। কথায় বলে, A man is known by the company he keeps, সহজ বাংলায়, রতনে রতন চেনে, শুয়োরে চিনে কচু। জরিমানার সংবাদের স্বপক্ষে আমি কয়েকটি লিঙ্ক দিচ্ছি…
        ১। http://www.opuixmedia.com/0910/danone-to-pay-fine-for-exaggerating-benefits-of-activia-and-actimel.html ২। http://www.just-food.com/news/danone-subsidiary-found-guilty-of-misleading-consumers_id73698.aspx
        ৩। http://www.foodanddrinkinsight.com/file/81511/danone-settles-false-advertising-lawsuit-agrees-to-reimburse-consumers.html

        বাংলাদেশের মানুষের সেই সাধ্যি কি আছে যে, দধি খেয়ে খারাপ লাগলে মামলা করবে, জরিমানা আদায় করবে? তা-ও এই ইউনূস-দধি, যা দেশের মানুষের জন্যে ভারী স্বাস্থ্যকর, সুলভ ও উপাদেয়, যা ফরহাদ মজহার থেকে শুরু করে মুহম্মদ জাফর ইকবালেরও ভালো লাগে? বাংলাদেশের মতো এমন দেশ আর কোথায় পাওয়া যাবে, যেখানে জরিমানা না দিয়ে নির্বিবাদে কর্পোরেট দধি ব্যবসা করা যাবে?

    • রায়হান রশিদ - ১৩ মার্চ ২০১১ (১২:৩৭ অপরাহ্ণ)

      @ প্রীতিভাজনেষু শওকত খান (Shawkat Khan) #২,

      I think this write-up is ill motivated, most likely written by a paid propagandist to create confusion.

      নাম দেখে আপনাকে বঙ্গসন্তান বলেই ধরে নিচ্ছি। সুতরাং, ভবিষ্যতে বাংলায় মন্তব্য লিখতে আশা করি আপনার আপত্তি হবে না তেমন একটা। এই পোস্টের বিষয়বস্তু বা আপনার মন্তব্য নিয়ে আশা করি আরো আলোচনার পরিসর তৈরী হবে, তবে এই সব অপরিণত শব্দ প্রয়োগ (যেমন: “paid propagandist”) থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করবো আপনাকে। আলোচনা করতে চাইলে আলোচনা করুন, যুক্তি থাকলে সেটা প্রয়োগ করুন, কিন্তু এসব ভিত্তিহীন ছেঁড়াছিঁড়ি থেকে আমাদের মতো পাঠককে রেহাই দিলে সত্যিই কৃতার্থ হই। ‘পেইড প্রপাগান্ডিস্ট’ বিষয়টি যখন উত্থাপনই করলেন তখন প্রসঙ্গত আরেকটি পোস্টের কথা এসেই পড়ছে। কতটুকু সত্যাসত্য জানি না, তবে সম্প্রতি ই-বাংলাদেশ এ প্রকাশিত “Friends of Grameen” is just a paid lobbying group! শিরোনামের পোস্টে দেখতে পাচ্ছি দাবী করা হয়েছে (স্ক্রিনশটসহ অবশ্য):

      The group of people who have formed ‘Friends of Grameen’ is part of the PR activities of Burson-Marsteller Paris a Paris based PR company.

      কিছুই বুঝতে পারছি না। ‘পেইড প্রোপাগান্ডা’-র বিষয়টি আপনি যেহেতু তুললেন, আশা করি আমাদেরও একটু বুঝিয়ে বলতে পারবেন।

  3. ইমতিয়ার - ১২ মার্চ ২০১১ (৬:৩৬ অপরাহ্ণ)

    গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে এত কাণ্ড শুরু হওয়ার অনেক আগে ফরাসি টেলিভিশন ফ্রান্স টুয়েন্টিফোর ডট কম-এর সংবাদে প্রচারিত হয়েছিল একটি প্রামাণ্যচিত্র দ্য ক্র্যাশিং বার্ডেন অব মাইক্রোক্রেডিট, যেটি নিয়ে আমাদের সময়-এ ১২ মার্চ প্রকাশিত হয়েছে একটি সংবাদপ্রতিবেদন।
    এই সংবাদপ্রতিবেদন-এ উঠে এসেছে একটি বিষয় : কারও কাছে জবাবদিহিতা করতে মোটেই রাজি নয় গ্রামীণ ব্যাংকের কেউ। নূরজাহান বেগম নিরাপত্তাকর্মী ডেকে বের করে দিয়েছিলেন রিপোর্টারকে।
    ফরাসি টেলিভিশনে প্রচারিত এ সংক্রান্ত সংবাদপ্রতিবেদনটি দেখা যাবে এখান থেকে

    • আরমান রশিদ - ১৪ মার্চ ২০১১ (১২:৩১ পূর্বাহ্ণ)

      লিঙ্কটির জন্য ধন্যবাদ। এরকম আরো কিছু ডকুমেন্টারি দেখার সুযোগ হয়েছে। তবে এই ডকুমেন্টারির একটা বিষয় লক্ষ্য করেছেন? গ্রামবাসির সাক্ষাতকার গুলিতে ব্যাকগ্রাউন্ডে বলা বাংলার সাথে ইংরেজি অনুবাদ ঠিক মেলে না। একটু খেয়াল করে শুনে জানাবেন কি মনে হয়।

  4. আরমান রশিদ - ১৪ মার্চ ২০১১ (১২:০৫ পূর্বাহ্ণ)

    @অবিশ্রুত
    অনেক দিন ধরেই মুক্তাঙ্গনে আপনার লেখা পড়ি। এক রকম ভক্তই বলতে পারেন। আমার মত নিতান্ত সাধারণ মনুষ যারা, কারো ভক্তে পরিনত হতে তাদের বেশি বেগ পেতে হয় না। তাই বলতে সঙ্কোচ নেই যে একই সাথে আমি ড জাফর ইকবাল আর ড ইউনুস এরো ভক্ত। আপনার কাছ থেকে এ প্রসঙ্গে একটা বিশ্লেষন ধর্মী লিখা আশা করেছিলাম, সে অর্থে এই লিখাটা কিছুটা হতাশ করলো। নিচে এই হতাশার কয়েকটি কারণ তুলে ধরলাম।

    মানি যে নোবেল শান্তি পুরস্কার এর পেছনে সাম্রায্যবাদীদের গোপণ অভিপ্রায় থাকতেই পারে। তবে আপনার লেখায় এ প্রসঙ্গে যে সুরটা প্রাধান্য পেল তা হল এই পুরস্কার পাবার অর্থই হল এর পেছনে সাম্রায্যবাদীদের কোন উদ্দেস্য আছে তাই পুরস্কৃত ব্যাক্তিটিকে এবং তার অবদানকে ছোট করার একটা প্রবনতাও মনে হয় টের পেলাম। আমার ভুল হলে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। তবে খটকা টা লাগলো একারণে যে আপনি হেনরি কিসিঞ্জার এর কথা উল্লেখ করলেন কিন্তু নেলসন মেন্ডেলা বা মার্টিন লুথার কিং এর কথা এড়িয়ে গেলেন। পেরেজ-রবিন এর কথা উল্লেখ করলেও তাদের সাথে যে যুক্ত ভাবে ইয়াসির আরাফাতকেও সে বছর পুরস্কার টা দেয়া হয়েছিল শান্তি চুক্তি সই করার জন্য সে কথা উল্লেখ করলেন না। তবে কি এই লিঙ্কে যাদের নাম উল্লেখিত আছে সবাই সাম্রায্যবাদের চর? সামগ্রিক মানবতার পেছনে তাদের কারোই কোন অবদান নেই? যে এটর্নি জেনারেলকে এত কটাক্ষ করলেন আপনার নিজের লেখার সুরটাও কিছুটা তার মতই হয়ে গেল যে।

    এবার আসি মাইক্রো ক্রেডিট প্রসঙ্গে। আজ কাল বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এর পক্ষে বিপক্ষে নানা লিখা পড়ছি। তবে বাংলাদেশে যে ২ কোটি লোক এই ঋণের আওতায় এসেছে তাদের কয়জন এ থেকে উপকৃত হয়েছে আর কয়জন দেউলিয়া হয়েছে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন তথ্য নির্ভর গবেষণাপত্র পেলাম না। আপনার কাছে থাকলে দয়া করে জানাবেন। সূদের হার নিয়েও দেখি মহা বিতর্ক চলছে চারিদিকে। কেউ বলে ১৫ তো কেউ বলে ৪৫, সামান্য যেটুকু অংক বুঝি তাতে চক্রবৃদ্ধি হারেও ১৫ কিভাবে ৪৫ শে ঠেকে সে হিসেবটা ঠিক বোধগম্য নয়। একটু বুঝিয়ে বললে আশা করি ব্যাপারটা পরিস্কার হবে।

    আপনি উল্লেখ করেছেন সুফিয়া বেগমের নিদারুন পরিনতির কথা তবে তথ্য সূত্রের উল্লেখ করেননি। নরওয়েজিয়ান টেলিভিশনে ‘কট ইন মাইক্রো-ক্রেডিট’ নামে যে ডকুমেন্টারি প্রচারিত হয়েছে হয়তো তা থেকেই ব্যাপারটা জেনেছেন। এ প্রসঙ্গে আরেকটি লিংক পেলাম যেখানে ঘটনাটি পুরোপুরি বানোয়াট বলে দাবী করা হয়েছে। তবে এই ডকুমেন্টারিতেও কিছুটা খটকা লাগলো এ কারণে যে ড ইউনুস কেন সুফিয়া বেগমের ছদ্দনাম ব্যাবহার করলেন সে বিষয়ে কোন ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। মুক্তাঙ্গনের চট্টগ্রাম পাঠক-লেখকদের কাছে এ ব্যাপারে আরো অনুসন্ধানের অনুরোধ রইলো।

    আপনি ড ইউনুসের দূর্ণিতির উল্লেখ করেছেন। এ প্রসঙ্গে গ্রামীন এর ব্যাখ্যা পড়েছি, তবে সে ব্যাখ্যা যে মিথ্যা সেরকম কোন তথ্যনির্ভর লিখা পাইনি। সেরকম কোন মামলাও এখন পর্যন্ত কোন আদালতে উঠেনি। বরং দেখেছি কোথাকার কোন মহামান্য নেতা তার নামে মানহানির মামলা করেছেন কারন তিনি বলেছেন বাংলাদেশের রাজনীতিকরা টাকার জন্য রাজনিতি করেন। যে কথার জন্য তাকে দেশের আনাচে কানাচে ছুটতে হয়েছে জামিনের আশায়, তা শুধু তার কথা নয় বরং দেশের অগনীত মানুষের পর্যবেক্ষন। তাই বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় যে এর চেয়ে গুরুতর অপরাধ থাকা সত্যেও বর্তমাণ সরকার তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যদি বলেন পশ্চিমা বিশ্বের চাপে সেরকম পদক্ষেপ নেয়া যাচ্ছেনা তবে সাম্প্রতিক ঘটনার মুল্যায়নে সে যুক্তিও ঠিক টেকে না। রিট মামলা দু’টি খারিজ হবার যুক্তি কি সে প্রসঙ্গে একটি আইনি ব্যাখ্যা পেলেও হয়তো অনেক কিছু পরিস্কার হত।

    আপনি অভিযোগ করলেন ড ইউনুসের কাছে যুদ্ধাপরাধ, মৌলবাদ বা ক্রস ফায়ার কোন ইশু নয় তবে এ প্রসঙ্গে কোন তথ্যসূত্র বা তার কোন বক্তব্যের লিঙ্ক পেলে ভাল হত। তিনি নিজেকে সকল রোগের মহৌষধ হিসেবে কোথাও দাবী করেছেন বলেও আমার জানা নেই। বরং তিনি দাবী করেন সারাজীবন দেশের দারিদ্র দুরিকরণে কাজ করেছেন। দারিদ্র বা নারীর ক্ষমতায়নই বা এত তুচ্ছ বিষয় হয় কি করে?

    নোবেল বিজয়ের পর তার আশ-পাশে যত বুদ্ধিজিবি দেখেছি আজ তারা একশ হাত দূরে থাকুন নীতি পালন করছেন পাছে নেত্রীর কুনজরে পড়েন। আবার সেই একই কারনে অনেকে বেরিয়েছেন ইউনুস শিকারে। এক মন্তব্যে পড়লাম ড জাফর ইকবাল কিভাবে ওয়ান ইলেভেন এর হোতাদের তোষামদ করেছেন সে কাহিনী কিন্তু তিনি ভুলে গেলেন এই জাফর ইকবালই একমাত্র ব্যাক্তি যে কি না সেই সময় দেশের ভিতরে থেকেও জোর গলায় মিলিটারি নৃসংসতার প্রতিবাদ করেছিলেন। দেশের মানুষকে জানিয়েছিলেন চলেশ রিছিলের কথা। এখন তাকেও এক কাতারে খালেদা আর মৌলবাদিদের সাথে গোনা হচ্ছে কারণ তিনি তার বিবেচনায় শ্রদ্ধাভাজন এক ব্যাক্তির পাশে এসে দাড়িয়েছেন। আমরা কাল যাদের মাথায় তুলে নেচেছি আজ দুঃসময়ে তাদেরকেই ঢিল ছুড়তে এক বিন্দু কুন্ঠাবোধ করি না। হয়তো এটা শুধু খেলার মাঠের চিত্র নয় বরং আমাদের জাতীয় চরিত্র।

    সম্প্রতি দেশে কয়েক বছর কাটিয়ে আসার সুযোগ হয়েছিল। সে সময়ে দেশের আনাচে কানাচে ড ইউনুসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার দেখেছি মৌলবাদীদের। ভয় হয় এই ইউনুস / গ্রামীন নিধনে মৌলবাদিদের হাতই হয়তো আরো শক্তিশালী করা হবে।

    • অবিশ্রুত - ১৫ মার্চ ২০১১ (১২:৪০ পূর্বাহ্ণ)

      আরমান রশিদ
      আমার লেখাটি আপনাকে আশাহত করায় এবং আপনার মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাতে দেরি হওয়ায় আন্তরিকভাবে দুঃখিত। মনে হচ্ছে, আমার প্রতিক্রিয়াতেও আপনি আশাহত হবেন। কেননা যেসব বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলছি তা ঠিক পদার্থ বিজ্ঞান অথবা রসায়ন বিজ্ঞানের মতো বিষয় নয় যে একেবারে কাটায় কাটায় হিসেব করে প্রমাণ করা যাবে।

      প্রথমেই বলে নেয়া ভালো, যে ইউনূসকে নিয়ে দু’চার কথা বলেছি, তিনি ব্যক্তি ইউনূস নন, তিনি একটি ব্যবস্থা ও মতের ধারক ও ফসল। খুব সংক্ষেপে বলতে গেলে, তিনি মনে করেন দারিদ্র বিমোচন সম্ভবপর হতে পারে ক্ষুদ্র ঋণ এবং সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে। আমরা হয়তো ক্ষুদ্র ঋণ ও সামাজিক ব্যবসা নিয়েই কথা বলতে পারতাম, সেটাই শোভনীয় হতো, কিন্তু ড. ইউনূসের কথা বার বার আসছে; কেননা, মাইক্রোক্রেডিটের সর্বোচ্চ বিকাশ ঘটেছে তারই হাত দিয়ে। তিনি একটি প্রতীক হয়ে উঠেছেন। এবং এ-ও সত্য, নোবেলপ্রাপ্তির আগে থেকেই তিনি আলোচিত ব্যক্তি/ব্যক্তিত্ব এবং নোবেল না পেলেও তাকে নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হতো।

      আমার কথায় যদি নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত সবাইকে প্রশ্নবিদ্ধ করার সুর প্রাধান্য পেয়ে থাকে, সে জন্যে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে আপনি আমার চেয়ে ভালো করে জানেন, নোবেল শান্তি পুরস্কারের রাজনীতিকরণের বিষয়টি গত কয়েক দশক ধরেই সারা বিশ্বে আলোচিত। যাদের নিয়ে সত্যিই কোনও প্রশ্ন নেই, তাদের উল্লেখ আমি প্রয়োজন মনে করিনি এ কারণে যে, সাম্প্রতিক বিশ্বরাজনীতির আলোকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের অপব্যবহারের প্রসঙ্গ আনাই এ ক্ষেত্রে মুখ্য বিবেচ্য বিষয় ছিল। পেরেজ-রবিনের সঙ্গে ইয়াসির আরাফাত শান্তি পুরস্কার পান ঠিকই, কিন্তু তার ফলে আরাফাতের গৌরব বৃদ্ধি পায় না কি অবনমিত হয়, সে সিদ্ধান্ত ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে; হেনরি কিসিঞ্জার এ পুরস্কার পাওয়ার ফলে তিনি মার্টিন লুথার কিং কিংবা নেলসন মেন্ডেলার পর্যায়ে পৌঁছেছেন কি না, সে ধারণাও ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। যে-সব মানুষগুলি পৃথিবীর মানব বিপর্যয়ের জন্যে সবচেয়ে বেশি-বেশি দায়ী, তারা তাদের বৈধতা এখন আদায় করছে নোবেল শান্তি পুরস্কার আদায়ের মাধ্যমে-আমার কাছে তাই মনে হয়েছে (এর অর্থ এই নয় যে, এর বাইরের আর কেউ ফাঁকফোকড় গলে বেরিয়ে আসছেন না)।

      সুফিয়া বেগমের নিদারুণ পরিণতির কথা আমি একাধিক স্থানে পড়েছি। আপনি নিশ্চয়ই জানেন, বাংলা সংবাদপত্রগুলির আর্কাইভ খুব উন্নত নয়। অনেক সময় পুরানো সংবাদ, লেখা ও প্রতিবেদন আর্কাইভে আর খুজেঁ পাওয়া যায় না, অনুসন্ধান দিলেও সন্ধান মেলে না। তবে সুফিয়া বেগমকে নিয়ে প্রতিবেদনটি ২০০৯ সালের মে মাসের কোনও এক সময় সাপ্তাহিক ২০০০-এ প্রকাশিত হয়েছিল, শিরোনাম ছিল ‘সুফিয়ার কবর চাঁদার টাকায়, ইউনূসের হাতে নোবেল’ এই জাতীয়।
      একইভাবে, বিভিন্ন মানবাধিকার (ক্রসফায়ার)কিংবা যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতেও ড.ইউনূসের উদ্ধৃতির কোনও লিংক আমি এই মুহূর্তে দিতে পারছি না। প্রসঙ্গত বলি, এ প্রসঙ্গে আমার বাক্যগুলির মূল সুর এরকম : এগুলি তার কাছে জরুরি ইস্যু বলে মনে হয় না। তার কারণ তিনি এসব প্রসঙ্গ এলেই এড়িয়ে চলেন, বিরক্ত হন, অথবা এমন মন্তব্য করেন যা হাস্যকর বলে মনে হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে সংবাদপত্রে পড়েছি, সাংবাদিকরা যখন যুদ্ধাপরাধ ইস্যুতে তার মন্তব্য চেয়েছিলেন তখন তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এ নিয়ে প্রাসঙ্গিক লিংকটিও খুজেঁ পাচ্ছি না। তবে আমার স্মৃতি যে এসব ব্যাপারে বিশ্বাসঘাতকতা করছে না, সেরকম বোধহয় দাবি করা যায়। কেননা আনু মুহাম্মদের লেখায় দেখতে পাচ্ছি, তিনি লিখেছেন :

      সামরিক বাহিনী সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় সদ্য নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী মুহম্মদ ইউনূস রাজনীতিতে নামার জন্য খোলা চিঠি দিয়ে জনগণের মতামত চেয়েছিলেন। দেশে তখন জরুরী অবস্থা ছিল। অনেক কথা বলা তখন নিষেধ। কিন্তু ইউনূস সাহেব মতপ্রকাশের এই বাধা দূর করবার জন্য জরুরী অবস্থা তুলে দেবার পক্ষে কোন বক্তব্য দেননি। রাজনীতি নিয়ে বলেন কিন্তু যুদ্ধাপরাধী বিরোধী আন্দোলনে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন, বলেন এগুলো অতীতের বিষয়। সামরিক শাসন বিরোধী কোন বক্তব্য তাঁর থেকে কেউ শোনেনি। বিনাবিচারে অবিরাম হত্যাকান্ডে তাঁকে কখনো বিচলিত দেখা যায়নি।

      এসব প্রসঙ্গে সুনির্দিষ্ট খবর বা কোনও প্রতিবেদনের লিংক পেলে অবশ্যই তা পরবর্তী কোনও এক সময় এখানে যুক্ত করা হবে।

      যতদূর জানি, গ্রামীণ, সেই সূত্রে ইউনূস সম্পর্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল অডিট রিপোর্টই এখন পর্যন্ত অপ্রকাশিত এবং অন্ধকারে। তাই সাধারণভাবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কে সংবাদপত্রে যে-সব খবর প্রকাশিত হচ্ছে, তাতে যে-সব দুর্নীতি-অনিয়মের কথা বলা হচ্ছে, অন্য কাউকে তা স্পর্শ করেছে কি না জানি না, তবে আমাকে স্পর্শ করেছে। এরকম অভিযোগ অনেককে আহত করতে পারে, তারা বলতেই পারেন, দুর্নীতির সম্পদ কোথায় রাখা হয়েছে দেখান। আমাদের সামনে দুর্নীতি-অনিয়ম গোপনের এত উদাহরণ আছে যে, এরকম চ্যালেঞ্জে আমরা অসহায় হয়ে পড়ি। ড. ইউনূসের জীবনযাপনের প্যাটার্ন, পোশাকআশাকের ভিত্তিতে যদি আমরা দুর্নীতি-অনিয়ম খুঁজতে যাই, তা হলে তা হাস্যকরই হবে। তিনি যে কাঠামো গড়ে তুলেছেন সেই কাঠামোর মধ্যে নিহিত দুর্নীতি-অনিয়মই প্রতীকার্থে তাঁর দুর্নীতি-অনিয়ম। এবং এসব দুর্নীতি-অনিয়মকে চিহ্নিত করা খুব সোজা নয়। কিন্তু অন্তর্নিহিত দ্বন্দ্ব একটি মারাত্মক জিনিস, তা প্যান্ডোরার বাক্স খুলে দেয়। ইউনূসকে নিয়ে সরকারপক্ষ ও সুশীলপক্ষের মধ্যে যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছে তা এই বাক্স প্রায় খুলে ফেলেছে। বাক্সের মধ্যে থেকে শক্তি দই বেরিয়ে এসেছে (এ নিয়ে মামলাও হয়েছে), সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলির অনিয়ম নিয়ে কথা উঠেছে, পুরানো মন্ত্রী নাসিম এখন বলে বেড়াচ্ছেন কোনও টেন্ডার ছাড়াই গ্রামীণ ফোন কাজ পেয়েছিল এবং এসবই সব কিছুর শুরু বলা চলে।

      সুদের হার কিভাবে ৪৫ শতাংশ হয়, সে ব্যাপারে আপাতত আপনাকে কোনও বিস্তারিত ও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা আমিও দিতে পারছি না। বিষয়টি উদ্ধার করে অচিরেই এখানে জানানোর আশা রাখি।

      আমি দুঃখিত, আপনার দুজন প্রিয় মানুষের প্রসঙ্গ এ লেখায় এমনভাবে এসেছে, যা আপনাকে আহত করেছে বলে। কিন্তু আমি নিরুপায়। আপনি ঠিকই বলেছেন, চলেশ রিছিলকে নিয়ে মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখাটি অনন্য। তাঁর লেখা কয়েকটি লাইন দিয়েই আপাতত ক্ষান্তি দিতে চাই :একজন বিখ্যাত মানুষ দিয়ে কী হয়- কিছুই হয় না। কিন্তু, একশজন খাঁটি মানুষ একটি দেশ বদলে দিতে পারে।

    • মোহাম্মদ মুনিম - ১৫ মার্চ ২০১১ (২:১৪ পূর্বাহ্ণ)

      মোহাম্মদ জাফর ইকবাল চলেশ রিছিল ছাড়াও দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর অত্যাচার বিষয়ে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী লেখা লিখেছিলেন (‘মূর্তি ভাঙ্গার খবর শুনে বুঝতে পারলাম দুর্গাপূজা এসে গেছে’) সাম্প্রতিক সময়ে দিগন্ত টিভিতে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকৃতি জানানোর ভিডিওটিও বেশ আলোড়ন তুলেছে। শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে মৌলবাদ বিষয়ে তাঁর সাহসী ভূমিকাও অস্বীকার করছি না। ১-১১ এর হোতাদের তিনি তোষামোদ করেছেন, এটা আমি বলতে চাইনি, তিনি ১-১১ এ যা হয়েছে তাতে আশান্বিত হয়েছিলেন, এটাই আমি বলতে চেয়েছি। ১-১১ এ যা হয়েছে তা মিলিটারি ক্যু এর চেয়েও ভয়ঙ্কর ব্যাপার। সে সময়ে আওয়ামী লীগ বিএনপির মধ্যে একটা সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ব্রিটিশ আর মার্কিন রাষ্ট্রদূতেরা সেটাকে গৃহযুদ্ধের চেহারা দিয়ে দিনরাত অহেতুক ছুটাছুটি শুরু করেন, মইন ইউ আহমেদ তাঁদের সবুজ সঙ্কেত পেয়েই বেনামে ক্ষমতা দখল করেন। ক্ষমতা নিয়ে আগের স্বৈরশাসকদের মতই তিনি রাজনৈতিক জঞ্জাল সাফ করা শুরু করেন। পাবলিক এ জাতীয় কাজকর্মে সব সময়েই প্রথমে হাততালি দেয় এবং কিছুদিনের মধ্যেই নিজেদের ভুল বুঝতে পারে। মোহাম্মদ জাফর ইকবাল নিজেও এই হাততালিতে যোগ দেন। তরুণ সম্প্রদায়ের মাঝে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং শ্রদ্ধেয় জাফর ইকবালের এই হাততালি শুধু তাঁর নিজের হাততালি নয়, এক ধরনের endorsement. তিনি তোষামোদ করেননি বটে, তবে কতিপয় সিভিল আর মিলিটারী এলিটের ফাঁকতালে ক্ষমতা দখলের সাথে মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের তুলনা দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নিজের পিতা প্রাণ হারিয়েছেন, তিনি নিজেও পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, এত কিছুর পরেও সেনাশাসনের মধ্যে তিনি কি নতুন আলো দেখেছিলেন সেটা তিনিই ভাল বলতে পারবেন।

    • মাসুদ করিম - ১৫ মার্চ ২০১১ (১০:০৯ পূর্বাহ্ণ)

      সম্প্রতি দেশে কয়েক বছর কাটিয়ে আসার সুযোগ হয়েছিল। সে সময়ে দেশের আনাচে কানাচে ড ইউনুসের বিরুদ্ধে সবচেয়ে সোচ্চার দেখেছি মৌলবাদীদের। ভয় হয় এই ইউনুস / গ্রামীন নিধনে মৌলবাদিদের হাতই হয়তো আরো শক্তিশালী করা হবে।

      কারা এই মৌলবাদী? গ্রামের মোল্লা মুয়াজ্জিন মাওলানা শ্রেণী? যাদের প্রধান কাজ আমপারা ও মিলাদ পড়ানো এবং তাবিজ তুমার পানিপড়া বিক্রি করা, নাকি আরেক ধরনের মোল্লা মুয়াজ্জিন মাওলানা শ্রেণী যারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রণোদিত হয়ে গ্রামে কাজ করেন। প্রথম অংশ ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী হলেও এদের কোনো রাজনৈতিক ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষা এবং কোনো জঙ্গি মনোভাব ও তৎপরতা নেই। এরা ইউনূসকে অপছন্দ করলেও করতে পারে। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত ওই দ্বিতীয় অংশ ইউনূসের বিরু্দ্ধে উপরে উপরে সোচ্চার দেখালেও ভিতরে ভিতরে তাকে সমর্থনই করে — কারণ তারা চায় এই ইউনূস সূত্র ধরে যদি আওয়ামী লীগের তথা শেখ হাসিনার ক্ষমতা টলিয়ে দেয়া যায় তাহলে তাদের এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়ে যাবে। অবিশ্রুত যেটা বলছিলেন আমাদের দেশে মিডিয়ার আর্কাইভ সিস্টেম ভাল নয়, সেকথাটা জঙ্গি মৌলবাদ প্রসঙ্গে আবার বলতে হচ্ছে — ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার পর রেহমান সোবহানের মতো ইউনূসও প্রবন্ধ ফেঁদেছিলেন ওই নির্বাচনে বিএনপি-জামাতের ভূমিধ্বস বিজয়ের গাণিতিক ব্যাখ্যা ও এর পেছনে কী কী নিয়ামক কাজ করেছে সেসব নিয়ে। কিন্তু এরপর যখন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামাতের ছত্রছায়ায় গ্রামীণ ব্যাংকের মহিলাদের উপর সংঘবদ্ধ সহিংস মৌলবাদী আক্রমণ হয়েছিল তখন একবারের জন্যও ইউনূসকে প্রতিবাদ তো দূরে থাক একটা বিবৃতি পর্যন্ত দিতে দেখা যায়নি। এসব কথা আজ আর লিন্ক দিয়ে বলা সম্ভব নয়।

      আর ইউনূস নিধন আর গ্রামীণ নিধনকে সমার্থক ভাবার এখনো কিছু হয়নি। ইউনূস যুক্ত না থাকলে গ্রামীণ ব্যাংক চলবে না তাত্ত্বিকভাবে এর কোনো ভিত্তি নেই। গ্রামীণ ব্যাংকের ফান্ড এখন আর বিদেশ থেকে আসে না, ব্যাংকের জামানত প্রক্রিয়া থেকেই এর ঋণদান প্রক্রিয়া চলে, ফলে যোগ্য যে কোনো ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিয়েই এই প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব। বরঞ্চ নোবেল প্রাপ্তির বিড়ম্বনা হিসেবে যে ইউনূসকে বছরের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতে হচ্ছিল এবং সামাজিক ব্যবসা নিয়ে তার বেশি মনোযোগের কারণে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অনুপস্থিত একজন ব্যবস্থাপনা পরিচালকের চেয়ে আরো ভাল চলার কথা। এখন কথা হচ্ছে এই সহজ বিষয়টি কার দোষে ঘোলা হল ইউনূসের না হাসিনার? এই প্রশ্নের উত্তর যাদের কাছ থেকে আমরা পেতে পারতাম তাদের কেউই এখন কথা বলছেন না, আমরা এও জানি না তারা কখনো এবিষয়ে কথা বলবেন কিনা।

  5. অবিশ্রুত - ১৫ মার্চ ২০১১ (৫:০২ অপরাহ্ণ)

    বাংলা ভাষায় মিডিয়া আর্কাইভের দুর্বলতার কথা মনে রেখে সময় থাকতেই এখানে একটি বিষয় তুলে রাখছি। গত ছয় মার্চ, ২০১১-তে যুগান্তরের একটি লেখায় বদরুদ্দীন উমর গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের ব্যাপারে লিখেছেন :

    …মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলো ও তাদের সঙ্গে গাঁটছড়ায় বাঁধা এ দেশীয় লোকরা নিজেদের স্বার্থগত কারণে এই সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করলেও আমরা সরকারের এই নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তকে সমর্থন করি এবং মনে করি দেশের ও গরিব জনগণের স্বার্থে একে সবার সমর্থন করা দরকার
    আসলে এই সমর্থন আছেও। একটু লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে, নোবেল প্রাইজের মাল্যে ভূষিত ড· ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টরের পদ থেকে অপসারণের পর দেশে ও বিদেশে যে প্রতিক্রিয়া হয়েছে তার একটি স্পষ্ট শ্রেণী চরিত্র আছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার তার নিজস্ব যে কারণেই ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অপসারণ করে থাকুক এর একটি আইনগত ভিত্তি আছে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধদের দিকে তাকালে দেখা যাবে যে, এই বিক্ষোভকারীদের শীর্ষস্থানে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার। ইউনূসের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন টেলিফোনে শেখ হাসিনাকে বলেছিলেন, ইউনূসের সঙ্গে ‘সদাচরণ’ করতে! ইউনূসের বিরুদ্ধে যাতে কোন তদন্ত করা না হয়, তার বিরুদ্ধে যাতে কোন পদক্ষেপ না নেয়া হয়, এটাই ছিল তার তদবিরের বা চাপ সৃষ্টির মর্মার্থ!! এর থেকেই বোঝা যায়, মার্কিন সরকার ইউনূসকে কতখানি নিজেদের লোক মনে করে। শুধু হিলারি ক্লিনটনই নন, ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূতও এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের ওপর জোর চাপ সৃষ্টি করছেন এবং ঘন ঘন প্রেস বিবৃতি দিয়ে ইউনূসের পক্ষে ওকালতি করছেন। এর থেকেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, ড· মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশে যে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তার সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্রাজ্যবাদী স্বার্থ কত অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। কিন্তু শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রই নয়, বিশ্বের সব সাম্রাজ্যবাদী রাষ্ট্রই এক্ষেত্রে মার্কিন সরকারের সঙ্গে একমত। তারা সবাই ইউনূসের বিষয়ে নেয়া সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের জন্য সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ চাপের মুখেও সরকার যে তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না করার ক্ষেত্রে অবিচল আছে এর জন্য তাদের অভিনন্দন জানানো দরকার

    বদরুদ্দীন উমরের লেখাটির শিরোনাম : ড. মুহাম্মদ ইউনূস কাদের লোক। উদ্ধৃতির বাক্যসমূহে গুরুত্বারোপ আমার করা।

  6. নীড় সন্ধানী - ১৫ মার্চ ২০১১ (৫:২৩ অপরাহ্ণ)

    ১. নোবেল প্রাপ্তির পরে যারা গ্রামীণ ব্যাংক আর ড.ইউনুসের বিরোধিতায় নেমেছেন, তাদের গ্রামীণ বিরোধীতার বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। স্পষ্টতই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক এবং ব্যক্তি বিদ্বেষ। তাদের সাথে আলোচনা বা বিতর্ক অর্থহীন। আনু মুহম্মদের মতো যারা গোড়া থেকেই গ্রামীনের বিরোধীতায় ছিলেন/আছেন, সেটা ব্যক্তি বিদ্বেষ নয়, সেটা নিয়ে বিতর্ক চলতে পারে।

    ২. ক্ষুদ্র ঋনের সুদ বেশী। এই সুদের হার নির্ধারনে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে। গ্রামীনের বর্তমান সুদের হার ২০%, যেটা পিকেএসএফ প্রস্তাবিত সুদের হার ২৭% এর নীচে। ১০০ টাকায় ৪৫ টাকা সুদের হার জাতীয় কিছু চোখে পড়েনি। দয়া করে সুত্রটা উল্লেখ করবেন কি? ‘সুদখোর মহাজন’ জাতীয় বাক্যগুলি যারা ব্যবহার করেন তারা গোটা বিশ্বের ব্যাংক ব্যবস্থাকে অস্বীকার করেন কিংবা ব্যাংকিং জিনিসটাই বোঝেন না তারা। রাষ্ট্রের প্রধানতম ব্যক্তির মুখে এরকম সস্তা বাগধারা শিক্ষার দৈন্যতাকেই প্রকাশ করে।

    ৩. নোবেল শান্তি একটি রাজনৈতিক পুরস্কার। বিভিন্ন সময়ে এই পুরষ্কারের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তিদের মধ্যে বিতর্কিত ব্যক্তিত্বও আছে। মাদার তেরেসা যেমন আছে তেমনি আইজাক শ্যারন আছে। তাই নোবেল পেলেই কেউ দেবতা হয়ে গেল কিংবা কেউ শয়তানের চর হয়ে গেল, এই ধারনাটাও হাস্যকর।

    ৪. ইউনুসকে যারা দেবতা মনে করেন কিংবা যারা শয়তানের চর মনে করেন, দুই দলই বিভ্রান্তির জালে আটকা আছেন, আলোচনার কোন অবকাশ রাখেননি দুই পক্ষই। সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছেন আগেই। যারা সংশয়বাদী তাদের সাথে বরং আলোচনা করা যেতে পারে।

    ৫. ইউনুসের পক্ষে বলার জন্য জাফর ইকবালকে যদি তীব্র আক্রমনের সম্মুখীন করা করা যায়, তাহলে হাসিনা খালেদার মতো অযোগ্য নেতার প্রশংসায় মুখর উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তিদের ব্যাপারে কি করা উচিত?

    ৬. গ্রামীণ বা ড.ইউনুসের কারণে আমার পাসপোর্টের বিন্দুমাত্র দাম বাড়েনি। কিন্তু একজন ভিনদেশী মানুষ যখন ড.ইউনুসের নামটা সম্মানের সাথে উচ্চারণ করে, সেটায় আমার আত্মপ্রসাদ হলে সমস্যা কোথায়। লোকটার সব কাজ হয়তো প্রশ্নাতীত নয়, কিন্তু লোকটা বিশ্বে নিজের একটা ইমেজ তৈরী করেছে কোন রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াই। এটা একটা যোগ্যতা, এটাকে অস্বীকার করে আমি কিসের বড়াই করি?

    ৭. গ্রামীণের কারনে বাংলাদেশ লাভবান হলো না ক্ষতিগ্রস্থ হলো, গ্রামীনের হাজার কোটি টাকার মালিকানা অবশেষে কার কাছে যাবে, ইউনুসের ব্যক্তিগত হিসেবে গ্রামীনের কতো টাকা অবৈধভাবে ঢুকেছে, সেসব নিয়ে একটা তদন্ত হতে পারে, গবেষণা হতে পারে, কিন্তু সেরকম কিছু না করে কেবল ইউনস খেদাও কর্মসূচীতে সরকার দেশকে কি দিল? ক্ষুদ্রঋনের ব্যবসা কি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করা হবে? হাজার হাজার এনজিও এই ব্যবসায় জড়িত, তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে না?

    ৮. সরকার কি রোগের বিরুদ্ধে লড়ছে না রোগীর?

    ৯. গ্রামীণ ব্যাংককে দাতব্য প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করার কোন সম্ভাবনা আছে কিনা?

    • মাসুদ করিম - ১৫ মার্চ ২০১১ (৬:৪২ অপরাহ্ণ)

      গ্রামীনের বর্তমান সুদের হার ২০%, যেটা পিকেএসএফ প্রস্তাবিত সুদের হার ২৭% এর নীচে।

      এই সুদের হারের লিন্ক দিতে পারেন? যদিও লিন্কই সব নয় বাস্তবে কত নেয়া হচ্ছে তা সরেজমিনে তদন্ত দাবি করে। গ্রামীণের ওয়েবসাইটে সুদের যেহার আছে তা আপনার উল্লেখিত সুদের হারের চেয়ে অনেক কম : ১১% ফ্ল্যাট আর ডিক্লাইনিং ধরলে ২২%।

      14.0 Low Interest Rates

      Government of Bangladesh has fixed interest rate for government-run microcredit programmes at 11 per cent at flat rate. It amounts to about 22 per cent at declining basis. Grameen Bank’s interest rate is lower than government rate.

      There are four interest rates for loans from Grameen Bank : 20% for income generating loans, 8% for housing loans, 5% for student loans, and 0% (interest-free) loans for Struggling Members (beggars). All interests are simple interest, calculated on declining balance method. This means, if a borrower takes an income-generating loan of say, Tk 1,000, and pays back the entire amount within a year in weekly instalments, she’ll pay a total amount of Tk 1,100, i.e. Tk 1,000 as principal, plus Tk 100 as interest for the year, equivalent to 10% flat rate.

      কিন্তু সেই ঘোষণাতেও সমস্যা আছে একবার বলা হচ্ছে ১১% আবার উদাহরণ দিতে গিয়ে বলা হচ্ছে ১০%।
      লিন্ক এখানে

      আর পিকেএসএফ-এর যেসুদের হার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে পাচ্ছি তার সাথে আবার আপনার তথ্যটা মিলছে না।

      Service charge on credit varies from 10% to 20% at flat method of collection, all partners of Palli Karma-Sahayak Foundation (PKSF) charge 12.5%. Average interest offered by NGO-MFIs on savings to the members is 5%.

      লিন্ক এখানে। যেপাতা থেকে আমি উদ্ধৃতি দিয়েছি সেখানে যেতে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইটে গিয়ে Financial System-এ ক্লিক করুন তারপর সেখানে Micro Finance Institutions (MFIs)-এ ক্লিক করুন।

      সুদের হারের ক্ষেত্রে একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমানতকারীকে কত দেয়া হচ্ছে এবং ঋণগ্রহীতার কাছ থেকে কত নেয়া হচ্ছে। সেহিসাবটা লক্ষ্য করলে দেখা যায় আমানতকারীকে গড়ে ৫% সুদ দেয়া হচ্ছে যেখানে ঋণগ্রহীতা থেকে নেয়া হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবেই ১০-২০%, তার মানে এখানে একটা ভাল মার্জিন আছে যদিও ক্ষুদ্রঋণ ও জামানতবিহীন ঋণের ক্ষেত্রে এটাকে আমরা স্বাভাবিক ধরে নিচ্ছি কারণ এক্ষেত্রে পরিচালন ব্যয় ব্যাংকের অনেক বেশি। কিন্তু বাজারে আমরা সচরাচর যা শুনি ২০ থেকে ২৫% ফ্ল্যাট রেটে ও তার উপরে সুদ নেয়া হয়, তাহলে তো এটা পীরের ‘রক্ত চুষে’ নেয়া ছাড়া আর কিছু নয় এবং আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত কিভাবে আমরা এই সরেজমিন ফলাফলটা পেতে পারি।

      • নীড় সন্ধানী - ১৫ মার্চ ২০১১ (১১:০৮ অপরাহ্ণ)

        ১.গ্রামীনের সুদের হার আপনার কমেন্টের মধ্যেই দেয়া আছে
        There are four interest rates for loans from Grameen Bank : 20% for income generating loans, 8% for housing loans, 5% for student loans, and 0% (interest-free) loans for Struggling Members (beggars).
        আমরা যখন সুদের হারের কথা বলি তখন income generating loans এর সুদের কথাই বলি। ফ্ল্যাট রেটে যেটা ১০%।

        অন্যদিকে পিকেএসএফ ঋনের সুদের ব্যাপারে নীচের লিংকে গিয়ে পড়ে আসতে পারেন। যেটা বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইটে পেয়েছেন ১২.৫% ওটা হলো ফ্ল্যাট রেট, ডিক্লাইনিং রেটে যেটা ২৭% পর্যন্ত সীমা নির্ধারন করা হয়েছে। যেটা অন্যান্য সাধারন এনজিও ৩০% এর উপরে নিত। সরকার আইন করে ২৭% সীমায় বেধে দিয়েছে। গ্রামীণ কি সেই সীমা লংঘন করেছে?

        http://ittefaq.com.bd/content/2010/11/11/news0049.htm

        • মাসুদ করিম - ১৬ মার্চ ২০১১ (১২:১০ পূর্বাহ্ণ)

          এই লিন্কটি যেমন কাজে লাগল তেমনি ওই গ্রামীণের সাইটের সুদ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আমি একটা ভুল করেছি সেটাও চোখে পড়ল। ১১% ফ্ল্যাট বলা হয়েছে সরকারের নির্ধারিত এবং ১০% ফ্ল্যাট নেয় গ্রামীণ ব্যাংক।

          হ্যাঁ, এই সুদ নির্ধারণটা তো আমরা দেখছি কিন্তু সরেজমিন তদন্তের কোনো রিপোর্ট কোথাও পাচ্ছি না — সেটা খুঁজতে হবে। আর প্রত্যেক সপ্তাহে যে টাকা নির্ধারণ করে দেয়া আছে সেটা কোনো সপ্তাহে দিতে না পারলে কী হয় সেটা আমরা জানি না, কারণ এসব কিছু তো ওয়েবসাইটে থাকবে না, তাই মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কী পাওয়া যাচ্ছে তারই আজ পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য পাঠ আমি পাইনি। আর মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি কিন্তু কাজ শুরু করেছে ২০০৬ থেকে তার আগে সুদের হার নির্ধারিত ছিল না, তাই ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার নিয়ে আরো অনুসন্ধান প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে যত খোলামেলা আলোচনা ও অনুসন্ধান চলবে ততই ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদের হার আরো ভালভাবে আমরা বুঝতে পারব।

          • মোহাম্মদ মুনিম - ১৬ মার্চ ২০১১ (৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ)

            শতকরা ২০ ভাগ হারে ১ বছরে পরিশোধযোগ্য ১০০০ টাকার সুদ ১০০ টাকাই হয়। সুদের হিসাব মার্কিন ক্রেডিট কার্ড কোম্পানি বা ব্যাঙ্কগুলো যেভাবে করে গ্রামীণ ব্যাঙ্কেরও সেভাবেই করার কথা।
            বছরে শতকরা ২০ ভাগ সুদকে (Annual Percentage Rate, APR) ৩৬৫ দিয়ে ভাগ করে Daily Periodic Rate হিসাবে প্রতিদিন সুদ আরোপ করা হয়।
            শতকরা ২০ ভাগ হারে ১০০০ টাকার লোণে ১০০ টাকা সুদ তেমন বেশী মনে না হলেও কেউ যদি খানিকটা বেশি টাকা ঋণ নেন, তখনই সুদের ব্যাপারটা বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। কেউ যদি ৩০০০ টাকা ঋণ নিয়ে মাসে ১০০ টাকা করে শোধ করেন, তবে তিনি প্রথম মাসে ৪৯ টাকা সুদ দিবেন। এভাবে তিনি ৪২ মাসে গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে ৪২০০ টাকা দিয়ে ঋণ শোধ করবেন (১২০০ টাকা সুদ)। প্রতি মাসে গড় সুদের পরিমাণ হবে ২৮ টাকা।

    • অবিশ্রুত - ১৬ মার্চ ২০১১ (৫:৫১ অপরাহ্ণ)

      @নীড়সন্ধানী,
      শুভেচ্ছা আপনাকে।
      ১. নোবেলপ্রাপ্তির পরে ইউনূস ও গ্রামীণবিরোধিতার কথা বলে কি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের দিকে ইঙ্গিত করছেন? এই বিরোধিতার সূত্রপাত আসলে কি নোবেলপ্রাপ্তির পরেই শুরু হয়েছে? আমার কাছে কোনও তথ্য নেই। আমিও এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজছি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকলেও এটি স্বীকার করতেই হবে, এরকম সমালোচনার সূত্র ধরেই এখন শিক্ষিত মধ্যবিত্ত সচকিত হয়ে ড. ইউনূস ও ক্ষুদ্র ঋণ সম্পর্কে জানার চেষ্টা করছেন। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপত্রের দিক থেকে ড. ইউনূস কিংবা হাসিনা-খালেদারা তেমন দূরত্বে অবস্থান করেন না, অন্যদিকে আনু মুহম্মদরা অবস্থান করেন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। কিন্তু বদরুদ্দীন উমর, আনু মুহম্মদ কিংবা অন্যান্য বামরা গত আড়াই যুগ ধরে চেষ্টা করেও ক্ষুদ্র ঋণের নেতিবাচক দিক সম্পর্কে যেখানে সাধারণ মানুষকে আগ্রহী করে তুলতে পারেননি, সেখানে হাসিনার কয়েক মন্তব্যেই অনেকের জানার ক্ষুধা বেড়ে গেছে।

      ২. ৪৫ শতাংশ সুদের কথা পড়েছিলাম কোনও এক প্রাসঙ্গিক বইয়ে। সেটি অনলাইনে নেই। তবে খুজে পেলাম, বইটির প্রকাশক সম্প্রতি অনলাইন এক বার্তা সংস্থায় একটি লেখা লিখেছেন। সেটিতেও একটি বাক্য আছে :

      ড. মুহাম্মদ ইউনুসের ক্ষুদ্রঋণে একজন গরিব মানুষকে ৪৫% সুদ দিতে হয়।

      কোনও বিবরণ না থাকলেও, লিংকটির উল্লেখ করছি। প্রসঙ্গত বলি, এসব বিষয়ে তথ্য এত অপ্রতুল যে, অনির্ভরযোগ্য মনে হলেও যে-কোনও তথ্যকেই বিবেচনায় নেয়া উচিত।

      ৩. এই রাজনৈতিক পুরস্কারটি ড. ইউনূসকে প্রদানের ক্ষেত্রে কি কোনও রাজনীতি কাজ করেছে? এ নিয়ে একেকজনের একেক মত থাকতে পারে। একেক রাষ্ট্রে, রাষ্ট্রের জনগণের কাছে নোবেল পুরস্কারের গুরুত্বও একেকরকম। যেমন, পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র ভারতেও রাষ্ট্র-পরিচিতি ও সম্মানের ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারের কোনও ভূমিকা আছে বলে মনে হয় না; কিন্তু আমাদের অনেকেই আমাদের রাষ্ট্রের ও জনগণের পরিচিতি ও সম্মান বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নোবেল পুরস্কারকে একটি সূচক হিসেবে বিবেচনা করছেন। তবে আমাদের এ কথাটিও মনে রাখা দরকার, যারা গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূসকে পুরস্কারটি দিয়েছেন, তারা একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ঋণের ধারণাটিকেও উৎসাহিত করছেন, ক্ষুদ্র ঋণকে তৃতীয় বিশ্বের পুঁজি সঞ্চয়নের গুরুত্বপূর্ণ পন্থা মনে করছেন (তাদের ভাষায় দারিদ্র দূরীকরণের গুরুত্বপূর্ণ পন্থা)।

      ৪. তা হলে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্যে চিরকালই সংশয়বাদী হয়ে থাকতে হবে যে! কোনও উপসংহারে পৌঁছলেই বিপদ!

      ৫. মুহম্মদ জাফর ইকবালের কাছে বেশির ভাগ মধ্যবিত্তের প্রত্যাশাই অনেক বেশি, যাদের ঘিরে প্রত্যাশা থাকে তাঁদের অহেতুক কোনও ক্ষেত্রে ওকালতি করতে দেখলে অনেকেই সমালোচনামুখর হতে পারেন। আমাদের বোধহয় সমালোচনার মেরিট কতটুকু সেদিকে নজর দেয়াই ভালো। আর অযোগ্য হাসিনা-খালেদার প্রশংসাকারীদের কী করা উচিত? আপাতত ক্যাস্টোর সেই বিখ্যাত ভাষণের (ইতিহাস আমাকে মুক্তি দেবে) একটি উক্তি মনে পড়ছে, যে-দেশের প্রেসিডেন্ট একটা চোর, সে-দেশের সব ভালো মানুষের জেলে থাকার কথা। আমার-আপনার জেলে থাকার কথা, কিন্তু আমাদের সে ভাগ্যও নেই। চোরে চোরে গালমন্দ করে, মারামারি করে, আমাদের সময় কাটে সেইসবের তত্ত্বতালাশ করে!

      ৬. একেক মানুষের একেকভাবে একটি দেশকে চেনার সুযোগ হয়। বোধহয় ২০০০ সালেই দৈনিক ভোরের কাগজে জিনসূত্র আবিষ্কারের সংবাদে আবিষ্কারকদের দলে দুজন বাংলাদেশি বৈজ্ঞানিকও আছেন জেনে উদ্বেলিত হয়েছিলাম। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক ওসমান চৌধুরী ও আসাদুজ্জামানের খবর পড়েও আনন্দিত হয়েছিলাম। এখন যেমন পুলকিত চট্টগ্রামের ড. শুভ রায়কে নিয়ে। মাঝেমধ্যে যে-বিদেশি ডাক্তারের কাছে যাই, তার দিকে আরও ভালো করে চোখ তুলে কথা বলতে পারি। তিনি ড. ইউনূসকে দিয়ে নন, তিনি বাংলাদেশকে চিনেছেন আমার মতো তুচ্ছ রোগী আর শুভ রায়ের মতো সংগঠনবিহীন এক ডাক্তারকে দিয়ে। কিন্তু ড. ইউনূসকে এক দশক আগে থেকে নোবেল পুরস্কার দেয়া হোক, নোবেল পুরস্কার দেয়া হোক বলে যেভাবে দাবিদাওয়া জানানো হচ্ছিল তাতে একদিকে যেমন বিরক্ত হয়েছি, অন্যদিকে তেমনি আগ্রহী হয়েছি, কেন তার ভক্তরা এত উচ্চকিত বুঝবার জন্যে। তিনি রাজনৈতিক সংগঠন ছাড়াই ইমেজ তৈরি করেছেন, কিন্তু সংগঠন ছাড়া করতে পারেননি। আর গৌরব ও আত্মপ্রসাদেও বোধকরি পার্থক্য আছে। এগুলি নিয়ে কথা বলাটা অস্বীকারের মতো শোনালে, বড়াইয়ের মতো শোনালে আমি দুঃখিত।

      ৭. এসব নিয়ে তদন্ত হয়নি, এটা আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এসব ব্যাপারে কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করেনি, তার মানে এই নয় যে তদন্ত হয়নি। এরকমও হতে পারে, বাংলাদেশ ব্যাংকও ড. ইউনূসের একটি সম্মানজনক প্রস্থানের পথ তৈরি করতে চাইছিল, কিন্তু সম্মানজনক প্রস্থানের জন্যে ইউনূস যে প্রেসক্রিপশন দিয়েছিলেন তা ছিল প্রকারান্তরে তাকেই গ্রামীণের অদৃশ্য কর্ণধার করে রাখার দাওয়াই। আমি যতদূর জানি, বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান গভর্নর আতিউর রহমানই প্রথম ১৯৯২ সালে দৈনিক ভোরের কাগজ ও ডেইলি স্টারে যথাক্রমে বাংলা ও ইংরেজিতে দীর্ঘ কলাম লিখেছিলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নোবেল পুরস্কার দেয়া উচিত। তারপর থেকে বিভিন্ন সময়েই এ নিয়ে চিঠিপত্র কলামে চিঠি দেখা গেছে, হয়তো আরও লেখালেখিও হয়েছে। এ হেন আতিউর রহমান কিংবা সামরিক শাসনামলে গ্রামীণ ব্যাংককে অনুমোদনদানকারী ড. মুহিত কেবল সরকারপক্ষের চাপে মুহাম্মদ ইউনূসকে অপসারণ করার সিদ্ধান্তে চাপের মুখে রাজি হয়ে গেছেন, সেরকম নাও হতে পারে।

      ৮. সরকার রোগ কিংবা রোগী কারও বিরুদ্ধেই লড়ছেন না, রোগীকে (জনগণকে) কোন রোগ আক্রান্ত করে রাখবে তা নিয়ে দুটি রোগের মধ্যে ধাওয়াধাওয়ি হচ্ছে।

      ৯. প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠকে বলেছিলেন, ১৯৯৮ সালে নাকি মুমূর্ষ গ্রামীণ ব্যাংককে বাঁচানোর জন্যে ৪০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছিল। খবরটি ছাপা হয়েছিল ৫ ডিসেম্বর ২০১০-এর প্রথম আলোয়। প্রথম আলোর আর্কাইভ এই মুহূর্তে বন্ধ আছে বলে কোনও লিংক দেয়া যাচ্ছে না। বাক্যগুলি ছিল এরকম :

      প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৮ সালে ব্যাংকটা বসে যাচ্ছিল। তখন সরকারের পক্ষ থেকে ৪০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। কিন্তু এটাকে এমনভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, যেন ব্যক্তিসম্পত্তি। গ্রামীণফোন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘প্রথম প্রথম আমিও ধোঁকায় পড়েছিলাম। বলা হয়েছিল, গ্রামীণফোন চালু করে গরিব মহিলাদের উন্নয়ন করা হবে। তারা স্বাবলম্বী হবে। তাই গ্রামীণফোনের ব্যবসার অনুমোদন দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আর গরিব মহিলাদের ফোন নেই। গ্রামের মেয়েরা যে অবস্থায় ছিল, সে অবস্থাতেই আছে। মানুষকে নিয়ে এত ধোঁকাবাজি করা হচ্ছে—এটা কারও কাম্য নয়। এটারও তদন্ত হওয়া উচিত।’

      তাই যদি হয়ে থাকে, তা হলে গ্রামীণ ব্যাংক তো অনেক আগে থেকেই দাতব্য প্রতিষ্ঠান! নতুন করে আর দাতব্য প্রতিষ্ঠান হওয়ার কী আছে?

  7. নীড় সন্ধানী - ১৫ মার্চ ২০১১ (১১:২৬ অপরাহ্ণ)

    আর ইউনূসের নামে পরিচিত বাংলাদেশ বিদেশীদের কাছে এমন একটি দেশ যে-দেশটির অধিবাসীরা অচিরেই নিজেদের গ্রামে বসে চা খেতে খেতে ড. ইউনূসদের তত্ত্বাবধানে ওয়ালমার্টের পাহারাদারি করবে, যে দেশের প্রবালদ্বীপ ও সমুদ্রবন্দরটিকে অচিরেই সাম্রাজ্যবাদীদের ইচ্ছে অনুযায়ী সাজানো হবে, যে দেশের তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদকে সামাজিক ব্যবসায়ের মাধ্যমে আহরণ করা হবে। বিদেশীরা তো আর আমাদের দেশের কথিত শিক্ষিত মধ্যবিত্ত নয়-তারা ভালো করেই জানে, নোবেল শান্তি পুরস্কার কেন দেয়া হয়, কাদের দেয়া হয়। তারা তাই এটুকুও বোঝে, বাংলাদেশে এখন এমন একজন ব্যক্তিত্ব পাওয়া গেছে, যাকে দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে সাম্রাজ্যবাদের ঘানি টানানো যাবে।

    এই অংশটা পড়ে হাসি চাপতে হলো। নিজের দেশকে মূল্যবান মনে করা দেশপ্রেমের লক্ষণ, কিন্তু অতিমূল্যায়ন হয়ে যাচ্ছে কিনা সেটাও খেয়াল করা উচিত। বাংলাদেশকে পাবার জন্য বিশ্বশক্তি হন্যে হয়ে উঠেছে, সেন্টমার্টিন দ্বীপের জন্য আমেরিকা উন্মাদ হয়ে আছে, এরকম কথা গ্রাম্য আড্ডায় শুনতাম। অন্ততঃ আপনার কাছ থেকে আশা করিনি। আপনার সাথে আমার নানা বিষয়ে অমত হলেও আপনার লেখার প্রতি আমার একটা শ্রদ্ধাবোধ বরাবর থাকে। নোবেল পুরষ্কারের সাথে তেলগ্যাসের ব্যাবসাকে যেভাবে মেলালেন পৃথিবীটা যদি সত্যি সত্যি এত সহজ হতো?

    বিশ্বাস করুন, বাংলাদেশের দাম সাম্রাজ্যবাদী দেশের কাছে এখনো অনেক অনেক কম। নিজেদেরকে বিক্রি করার মতো অবস্থায় নিতে পারলেও সন্তুষ্ট হতাম। ৪০ বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিব বাদে আমাদের প্রত্যেকটা রাষ্ট্রপ্রধান একেকটা লজ্জা। কি যোগ্যতায় কি আচরণে। প্রটোকল বাক্য বাদে এমনকি শুদ্ধ করে তিনটা বাক্যও নিজ থেকে বলতে পারে না এরা। যেটা ইউনুসের মতো মানুষ পেরেছে, ভালোভাবেই পেরেছে। জাফর ইকবালের মতো মানুষকেও তাই মুগ্ধ হতে হয়। এগিয়ে যেতে হলে আমাদেরকে আসলেই গর্ত থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

    • মোহাম্মদ মুনিম - ১৬ মার্চ ২০১১ (২:৪২ পূর্বাহ্ণ)

      ডঃ ইউনুসের ‘সম্মান’ রক্ষার্থে হিলারি ক্লিনটন, জন কেরী, মার্কিন রাষ্ট্রদূত সকলেরই এত আগ্রহ দেখে আমার নিজেরও ব্যাপারটা ভাল ঠেকছে না। আমি নিকট অতীতে কোন নোবেল বিজয়ীর মানসম্মান নিয়ে এতগুলো পশ্চিমা ব্যক্তিত্বের এত আগ্রহ দেখিনি। নোবেল বিজয়ী আল গোরকে carbon billionaire বলে প্রতিনিয়ত কটাক্ষ করা হচ্ছে, তাঁর বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র নিয়ে যুক্তরাজ্যে মামলা হয়েছে, তাঁর নিজের বাড়ির বিলাস বাহুল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, হিলারি ক্লিনটনের গোর সাহেবের মান সম্মান নিয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা আছে বলে তো মনে হয়না।

    • মাসুদ করিম - ১৬ মার্চ ২০১১ (৯:০৫ পূর্বাহ্ণ)

      ৪০ বছরের ইতিহাসে শেখ মুজিব বাদে আমাদের প্রত্যেকটা রাষ্ট্রপ্রধান একেকটা লজ্জা। কি যোগ্যতায় কি আচরণে। প্রটোকল বাক্য বাদে এমনকি শুদ্ধ করে তিনটা বাক্যও নিজ থেকে বলতে পারে না এরা। যেটা ইউনুসের মতো মানুষ পেরেছে, ভালোভাবেই পেরেছে।

      একজন ছাড়া বাংলাদেশের সব রাষ্ট্রপ্রধানরা সবসময়েই ভাল বাংলা বলেছেন, এক্ষেত্রে কলঙ্ক একেবারেই জিয়াউর রহমান, তিনি ছিল না বলতে পারতেন না বলতেন চ্ছিল না। আর একজন ছাড়া বাংলাদেশের সরকার প্রধানরা সবাই ভাল বাংলা বলেছেন, খালেদা জিয়ার উচ্চারণ ত্রুটি নেই কিন্তু মাঝে মাঝে এমন শব্দ ব্যবহার করেন — এই তো গতকালই সংসদে বললেন, এই যে লোকটা নোবেল পেল তাকে আপনারা সম্মান দিতে পারলেন না।
      ৪০ বছরকে এক লহমায় উড়িয়ে দিতে হলে অবশ্য এভাবেই কথা বলতে হয়।

      আর ইউনূস বাংলা বলেন ঠিকই কিন্তু সেটা খুবই ‘কালো অক্ষর’ বাংলা, এভাবে যারা কথা বলে তাদের বাংলাকে আমরা স্কুলে তাই বলতাম — প্রাণহীণ বইয়ের কালো ছাপার অক্ষরের বাংলা, ইউনূসের কথা বেশি তো আমরা শুনেছি ২০০৬-২০০৮ পর্যন্ত, সেই স্মৃতি পুরোপুরি তো ঝাপসা হয়ে যায়নি, আর ঝাপসা হয়ে গেলেও ক্ষতি নেই ইউনূসের ভাই জাহাঙ্গীর তো নিয়মিতই টিভিতে হাজির হন তার বাংলার সাথে ইউনূসের বাংলার প্রচণ্ড মিল, শুধু জাহাঙ্গীরের কণ্ঠস্বরে জোরের চেয়ে সুর একটু বেশি।

      • নীড় সন্ধানী - ১৬ মার্চ ২০১১ (১২:০৪ অপরাহ্ণ)

        শুদ্ধ বাক্য কেবল উচ্চারনের বিশুদ্ধতা নয়। অর্থবহ বাক্যকেও আমি শুদ্ধতার অন্তর্ভুক্ত করেছি। জিয়া,এরশাদ,খালেদা,হাসিনা প্রত্যেকেরই একই সমস্যা। গৎবাধা বাক্য ছাড়া এদেরকে শ্রুতিমধুর বিশ্বাসযোগ্য বাক্য বলতে শুনিনি আমি। কি জাতীয় ফোরামে কি আন্তর্জাতিক ফোরামে। জিয়ার কথা তেমন মনে নেই। এরশাদ, খালেদা, হাসিনার এদেরকে তিনটা বাক্য বলতে দিলে তার মধ্যে অন্তত একটা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নাজিল হবে। রাজনীতির তৈলবৃত্তি মগজে মননে এত বেশী ঢুকে গেছে বিশ্বকাপের উদ্বোধনীর মতো আসরেও মন্ত্রীদের রাজনৈতিক ভাষন দিতে হয়। বিচারপতি হাবীবুর রহমান বা ফখরুদ্দিনের উচ্চারন সেদিক থেকে অনেক স্মার্ট বলতে হবে। ইউনুসের বাংলা ভালো না হলেও তিনি যেটা বলতে চান, সেটা বোঝাতে পারেন।

        • মাসুদ করিম - ১৬ মার্চ ২০১১ (১২:৩৪ অপরাহ্ণ)

          হাসিনা খালেদা এরশাদের সাথে ইউনূসের তুলনা করতে হচ্ছে, ভালই লাগছে।

        • মোহাম্মদ মুনিম - ১৬ মার্চ ২০১১ (৯:৫৪ অপরাহ্ণ)

          হাসিনা খালেদা যে রাজনৈতিক আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলেন সেটা আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ। বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণও অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ছিল। মার্কিন রাজনীতিতেও রাস্তাঘাটের বক্তৃতা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় করা হয়। ‘অতীতকে ভুলে গিয়ে আসুন সবাই মিলে দেশ গড়ে তুলি’ এই জাতীয় ‘ভাল’ কথা জামাতিরা বলে। হাসিনা খালেদা সুন্দর ভাষায় কথা বলতে না পারলেও এঁরাই আশির দশকে এরশাদের লাঠির বাড়ি খেয়ে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলেন। এমনকি ‘মাইনাস টু’র আমলেও বিদেশে নির্বাসনে না গিয়ে কারাদণ্ড বরন করেছিলেন। খালেদা জিয়া সৌদি আরবে আর হাসিনা আমেরিকাতে চলে গেলে আমরা এখনও মইন ইউ আহমেদের অধীনে থাকতাম।
          চোস্ত ইংরেজি দিয়ে ফখরুদ্দিন নিউইয়র্কে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আর মইন ইউ আহমেদ হার্ভার্ডে ‘লেকচার’ দিয়েছেন। ডঃ ইউনুসের ভাষণও (অডিও ভিসুয়াল সুবিধা থাকলে আমেনা বেগমের কানে মোবাইলের ছবিসহ) মার্কিনীরা ২০-২৫ ডলার দিয়ে টিকেট কিনে মুগ্ধ হয়ে শোনে। এসব সুন্দর কথা দিয়ে হাততালিই পাওয়া যায়, দেশ চালানো যায় না।

    • অবিশ্রুত - ২০ মার্চ ২০১১ (১২:৫২ পূর্বাহ্ণ)

      @ নীড়সন্ধানী

      প্লিজ হাসি চেপে রাখবেন না। হাসলে শরীর ভালো থাকে। বিশ্বায়নের এই যুগে সাম্রাজ্যবাদ শব্দটা বেশ কানে লাগে, অচলও মনে হয়। তারপরও তাদের উপস্থিতিকে আমরা কিছুতেই ভুলতে পারি না, ব্যর্থতা এখানেই। হ্যাঁ, আপনি যেভাবে উন্মাদনার কথা বলেছেন, তাতে আমারও মনে হচ্ছে অতি-মূল্যায়নই বটে। তবে এই যুগে সাম্রাজ্যবাদীরাও অত বোকামী করে না, তাদের জন্যে জাতিসংঘ আছে (অতএব তারা চড়াও হতে পারে বৈধভাবে), তাদের জন্যে বহুজাতিক কোম্পানি আছে (অতএব তাদের কর্পোরেট বাহিনী নামতে পারে স্বাচ্ছন্দ্যে), তাদের জন্যে স্বাধীন সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক অথবা বহুপাক্ষিক বিভিন্ন চুক্তিও অপেক্ষা করে (অতএব তাদের সব কিছুই হয় জনগণের সরকার কর্তৃক অনুমোদিত)। আমিও বোধহয় কোনও গ্রাম্য আড্ডাতেই শুনেছিলাম, নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরপরই একজন নোবেল বিজয়ী চট্টগ্রাম বন্দরের ভবিষ্যৎ ঘোষণা করছে, তার সমিতির মহিলারা কেমন করে বন্দর পরিচালনা করবেন তা নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন।
      বাংলাদেশের দাম খুবই কম, তারপরও এখানে হায়েনার আনাগোণা এখনও কমে না কেন, সেটাই বুঝতে পারি না। আর আপনি-আমি মুজিব বাদে প্রত্যেকটা রাষ্ট্রনায়ক একেকটা লজ্জা মনে করে মাথা নিচু করে রাখতে পারি, কিন্তু সবাই বোধহয় সেরকম মনে করে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উড্রো উইলসন রিসার্চ সেন্টারের সিনিয়র পলিসি স্কলার, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত উইলিয়াম মাইলাম নাকি তার বইয়ে লিখেছেন :

      It’s hard to imagine what would have happened to Bangladesh had Ziaur Rahman been assassinated in 1975 instead of 1981. A failed state on the model of Afghanistan or Liberia might well have resulted. Zia saved Bangladesh from that fate”.

      দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ অনেক আগেই রক্ষা পেয়েছে; শেখ মুজিব নিহত হয়েছেন, সেটি নিয়ে মাইলামের উদ্বেগ নেই, উদ্বেগ হলো যদি জিয়া তখন মারা যেতেন! জিয়া যে বাংলাদেশকে রক্ষা করেছেন, জানি না- ইউনূসগণ হয়তো গর্ত থেকে বেরিয়ে এসেছে সেই বাংলাদেশকেই এগিয়ে নিয়ে যেতে; তাই বাংলাদেশে নিযুক্ত আরেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত এখন দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন, ইউনূসের সঙ্গে সম্মানজনক মীমাংসা করতে!

  8. অবিশ্রুত - ১৬ মার্চ ২০১১ (৬:১৪ অপরাহ্ণ)

    এ ঘটনাকে দুর্নীতি-অনিয়ম হিসেবে ভাবতে আমাদের সুশীলমন আপত্তিই জানাবে। তারপরও ঘটনাটি জেনে রাখা যাক :

    প্রথম আলো পত্রিকায় গ্রামীণফোনের ফেসবুক বাংলা অনুবাদ-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনটি দেখে সাতসকালে হতভম্ব হয়ে যাই। অফিসে যাওয়ার তাড়া। কী করবো বুঝতে পারছিলাম না! যে কাজ অনেকে গত দুই-আড়াই বছর ধরে করে আসছে এবং ইতোমধ্যে কাজের ৭০%-এরও বেশি শেষ হয়ে গেছে, সেই কাজের জন্য এমন বিজ্ঞাপনের মাজেজা বুঝতে কিছুটা দেরি হয়। অফিসে গিয়ে পত্রিকাটা পুনরায় দেখি এবং নিশ্চিত হই- শুধু ধান্ধাবাজি করার জন্য এবং সাধারণ ব্যবহারকারীদের এতোদিনকার কৃতিত্ব হাইজ্যাক করা ছাড়া এই বিজ্ঞাপনের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই।

    কিন্তু এ ঘটনার তথ্যচিত্র প্রচলিত মিডিয়ায় তুলে ধরা সম্ভব নয় এবং সে কারণে ব্যাপক জনগণের সামনে সঠিক তথ্য জানানোরও উপায় নেই। কেননা এ এক বিশাল চক্র, মিডিয়া বাঁচিয়ে রেখেছে তাদের, তারা বাঁচিয়ে রেখেছে মিডিয়াকে।

    পরদিন দুপুরে শীর্ষ পত্রিকার অমুক ভাইকে ফোন দিলাম। তিনি মিটিং-এ ব্যস্ত। এদিকে সিনিয়র সাংবাদিকের সাথে শীর্ষ পত্রিকার অমুক ভাইয়ের সম্পর্ক ভালো থাকাতে আমি অনুরোধ জানালাম, আমার পক্ষ থেকে সিনিয়র সাংবাদিক যেন তাঁকে আবার লেখাটি ছাপানোর তাগাদা দেন। তিনি আমার অনুরোধ রাখলেন। বিকেলে আমি আবারো শীর্ষ পত্রিকার অমুক ভাইকে ফোন দিলাম। তিনি আমার ফোন ধরলেন না। সন্ধ্যায় দিলাম। তিনি আমার ফোন ধরলেনই না।

    রাতে আমি আবার সিনিয়র সাংবাদিককে ফোন দিলাম। তিনি আমাকে যা জানালেন তা আসলে অনুমেয়ই ছিল! চলুন, শীর্ষ পত্রিকার অমুক ভাই এবং তাঁর সম্পাদকের কথোপকথন কী হতে পারে সেটি বাস্তব ভিত্তির আলোকে কল্পনা করি।

    শীর্ষ পত্রিকার অমুক ভাই: ইয়ে ‘সম্পাদক’ ভাই, এই লেখাটা একটু দেখবেন!
    সম্পাদক: কী লেখা!
    শীর্ষ পত্রিকার অমুক ভাই: না, ওই গ্রামীণের একটা বিজ্ঞাপন নিয়ে একটা লেখা আছে। লেখকের মতে, তাদের দীর্ঘদিনের একটা কাজ গ্রামীণফোন হাইজ্যাক করতে চায়।
    সম্পাদক: দেখি!

    বলে তিনি লেখাটি নিয়ে পড়লেন। পড়তে বেশি সময় লাগলো না। মাত্র দেড় পৃষ্ঠার লেখা।

    সম্পাদক: হুম। লেখাটা ভালো। কিন্তু এটা তো ছাপতে পারবো না।
    শীর্ষ পত্রিকার অমুক ভাই: দেখেন কিছু করা যায় কিনা। কারণ তাদের যুক্তিগুলো তো ঠিক।
    সম্পাদক: তা ঠিক। কিন্তু কী করবো বলেন! আপনি তো বুঝেনই!

    …বলে লেখাটি ফিরিয়ে দিলেন।
    ৪.
    পরদিন সিনিয়র সাংবাদিক তাঁর পত্রিকার সম্পাদকের কাছে লেখাটি নিয়ে গেলেন। একইভাবে তিনিও লেখাটি পড়লেন। বললেন- দেখেন, এটা আসলে ছাপা সম্ভব হবে না। লেখাটি যদি ‘রমুক’ কিংবা ‘এমুক’ ফোন কোম্পানির বিরুদ্ধে হতো, তাহলে ইজিলি ছাপতে পারতাম!
    ৫.
    সিনিয়র সাংবাদিক ফোন করে আমাকে তাঁর অপারগতার কথা জানালেন। বেদনাহত স্বরে বললেন, ‘এবার বুঝতে পারছো কোন বাংলাদেশে আমরা বাস করি!’
    ৬.
    হতাশ না হয়ে আমি আরো মধ্যম সারির কয়েকটি পত্রিকার পরিচিত সাংবাদিকদের সাথে কথা বলি। এবং শেষ পর্যন্ত সেই হতাশই হই।
    ৭.
    তার পরদিন আমি সবগুলো পত্রিকার স্লোগানগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি। দেখি সবারই অবস্থান সত্যের পক্ষে, বদলে দেবার পক্ষে, জনগণের পক্ষে ইত্যাদি ইত্যাদি। তারা সবাই মানুষের কথা বলে, জনগণের কথা বলে, আলোর কথা বলে, সুন্দরের কথা বলে। আমি বুঝে যাই, মিডিয়ায় সত্য-বদল-জনগণ-আলো-মানুষ কী কথা বলবে, তার সবই আসলে নির্ধারণ করে দেয় কর্পোরেট হাউজগুলো।

    নিশ্চয়ই এ ঘটনা ড. ইউনূসের অগোচরে ঘটেছে। তিনি জানলে এরকম করতে দিতেন না।
    গৌতমের পুরো লেখাটি পড়া যাবে এ লিংক-এ গেলে

  9. শুভ্র - ২১ মার্চ ২০১১ (৫:২৯ পূর্বাহ্ণ)

    অবশেষে আসল ঘটনা তুলে ধরেছেন লেখক। অনেক ধন্যবাদ!

  10. মোহাম্মদ মুনিম - ২৩ মার্চ ২০১১ (৩:৩৮ পূর্বাহ্ণ)

    মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্র সচিব বলেই দিয়েছেন ডঃ ইউনুসের সম্মান রক্ষা করা না হলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কে প্রভাব পড়তে পারে। দেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার আছে, ডঃ ইউনুসের আদালতে যাওয়ার পূর্ণ অধিকার আছে এবং তিনি সেই অধিকার প্রয়োগও করছেন। সেখানে মার্কিন সরকারের নাক গলাতে হবে কেন সেটাই প্রশ্ন। সুশীল সমাজের বড় মুরুব্বি রেহমান সোবহান, আইনের শাসন চেয়ে চেয়ে গলা ফাটিয়ে ফেলেন, তিনিও সরকারকে উপদেশ দিলেন ডঃ ইউনুসের সাথে ‘রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞা’ দেখিয়ে আপোষ করতে। প্রথম আলোতে ছাপানো লেখাতে রেহমান সোবহান গ্রামীণ ব্যাঙ্কের যে উজ্জ্বল চিত্র দিলেন, একজন অর্থনীতিবিদ হিসাবে তিনি নিশ্চয় জানেন সেগুলো অনেকাংশেই সত্য নয়। গ্রামীণ ব্যাঙ্ক এই তিন দশকে সরকারী ভর্তুকি, সফট লোণ, সরকারী গ্যারান্টিতে বন্ড বিক্রি সবই করেছে। এত কিছু পরেও সরকার গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে কিছু বলতে পারবে না, ছুঁতে পারবে না, এটা কোন ধরনের আইনের শাসন, সেটা রেহমান সোবহানই ভাল বলতে পারবেন।

    • অবিশ্রুত - ২৩ মার্চ ২০১১ (৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ)

      এতে কোনও রাখঢাক রাখা হয়নি, যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ও ব্লেকের চলতি বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য একটাই-ড. ইউনূসের ব্যাপারে সরকারকে ভদ্রভাবে শাসিয়ে দেয়া, হিলারী ক্লিনটনের বাংলাদেশ সফরের অনুকুল পরিবেশ তৈরি করা।
      খুব ভালো কথা, ধরা যাক, ইউনূসের ব্যাপারে রেহমান সোবহানদের ভাষায় রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকা রাখতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। তার মানে তা হলে এই সেই সরকারকে ওস্তাদকে ডেকে এনে শাসানী দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে?
      দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের আমরা বিক্রি হওয়ার মতো পর্যায়ে নিজেদের নিয়ে যেতে ব্যর্থ হলেও অন্তত একজন সেই পর্যায়ে উন্নীত হতে পেরেছেন। তাই তাঁকে রক্ষা করার জন্যে এখন তৎপর প্রভূরা।
      রবার্ট ও ব্লেক জানিয়ে দিয়েছেন,

      “সুশীল সমাজকে উপেক্ষা করে (ইউনূসের অব্যাহতির বিষয়ে) যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে (দুই দেশের) সম্পর্কের ওপর প্রভাব পড়বে।”

      এখানেই শেষ নয়,

      সরকারের দাবি, ইউনূস নিয়ম লঙ্ঘন করায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে। তারপরও যুক্তরাষ্ট্র সরকার কেন উদ্বীগ্ন- তা জানতে চাইলে সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস একজন নোবেল বিজয়ী এবং আমেরিকান প্রেসিডেনশিয়াল মেডাল ও কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডালজয়ী ব্যক্তি।

      কী এই আমেরিকান প্রেসিডেনশিয়াল মেডাল ও কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডাল? উইকিপিডিয়ায় বলা হচ্ছে :

      The Presidential Medal of Freedom is an award bestowed by the President of the United States and is – along with the comparable Congressional Gold Medal bestowed by an act of U.S. Congress – the highest civilian award in the U.S. It recognizes those individuals who have made “an especially meritorious contribution to the security or national interests of the United States, world peace, cultural or other significant public or private endeavors.”

      বলা হচ্ছে :

      A Congressional Gold Medal is an award bestowed by the United States Congress and is, along with the Presidential Medal of Freedom, the highest civilian award in the United States. The decoration is awarded to an individual who performs an outstanding deed or act of service to the security, prosperity, and national interest of the United States.

      এরপর আর কি-ইবা বলার থাকতে পারে?
      এখন শেখ হাসিনার জন্যে দুঃখই হচ্ছে। তিনি সত্যিই বুঝতে পারেননি, কার লেজে পা দিয়েছেন।
      দুঃখ, ইউনূসের জন্যেও। আমেরিকা যার বন্ধু, তিনি যে দেশের জাতীয় স্বার্থ তার নিরাপত্তায় অবদান রাখার জন্যে পুরস্কৃত, যে দেশের সংজ্ঞায়িত বিশ্বশান্তি, সংস্কৃতি ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবদান রেখেছেন, তাঁর আর শত্রুর দরকার আছে কি?
      দুঃখ, আমাদের জন্যেও বটে। কেন? জ্ঞানী বোঝে ইশারাতে, মুর্খ বোঝে ***-এ লাথি পড়লে। লাথি পড়ুক, বুঝতে পারব তুমি কোন ভাঙনের পথে এলে

  11. মাসুদ করিম - ২৪ মার্চ ২০১১ (১১:১৪ অপরাহ্ণ)

    ভারতীয়দের সাথে ঘনিষ্ঠতার সূত্রে হিলারির কাছে বিদেশ সচিবের কাজের চেয়ে এই পদকে ব্যবহার করে বন্ধুর রাখিবন্ধনের জোর দেখানোর মওকাটাই বড় হয়ে উঠেছে। তাই শুধু মারিয়ার্টি নয় ব্লেককেও কাজে লাগালেন তিনি। ইউনূসের মুখে হাসি না ফুটলে ইউনূসের বন্ধু মার্কিন বিদেশ সচিবের ইউনূসের দেশে সফরে আসার পরিবেশ তৈরি হবে না — এই যদি হয় একজন আমেরিকান বিদেশ সচিবের পাঠানো গুরুত্বপূর্ণ দূতের মনোভাব — তাহলে পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে আর কথা বলে লাভ নেই।

    কয়েকমাস আগে এক জার্মান কার্টুনিস্টের ‘উইকিলিকস’ নিয়ে একটা কার্টুন খুব ভাল লেগেছিল — তাই সেটি ‘টুইটপিক’এ সেভ করে রেখেছিলাম — হিলারির এই কর্মকাণ্ডে মনে হচ্ছে কার্টুনটির লিন্ক এখানে রাখাটা প্রয়োজনীয়।

    • মাসুদ করিম - ৩ সেপ্টেম্বর ২০১৫ (৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ)

      গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে হিলারির দ্বারস্থ ছিলেন ইউনূস

      গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের সঙ্গে টানাপড়েন নিরসনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের সহায়তা চেয়েছিলেন ব্যাংকটির পদচ্যুত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

      সম্প্রতি হিলারির ফাঁস হয়ে যাওয়া ই-মেইলগুলোর বেশ কয়েকটি প্রকাশ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। প্রকাশিত কয়েকটি মেইলে দেখা যায়, গ্রামীণ ব্যাংক প্রশ্নে বাংলাদেশ সরকারকে প্রভাবিত করতে হিলারির কাছে বারংবার তদ্বির করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদকজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস।

      শান্তিতে নোবেলজয়ী ইউনূসের সঙ্গে ক্লিনটন পরিবারের বন্ধুত্ব দীর্ঘদিনের।

      মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর হিলারির প্রায় সাত হাজার ইমেইল প্রকাশ করেছে, যার মধ্যে তিন শতাধিক ইমেইলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ এসেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটিতে গ্রামীণ ব্যাংক প্রসঙ্গ রয়েছে।

      বেশকিছু মেইলে হিলারির জবাব গোপন রেখেছে তারা।

      হিলারির কাছে পৌঁছুতে মেলান ভারভিয়ার নামে একজন কর্মকর্তার কাছে মেইল পাঠিয়েছিলেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

      এমন একটি ইমেইল হিলারিকে পাঠিয়ে মেলান লিখেন, “ইউনূস এখনো গ্রামীণ নিয়ে উদ্বিগ্ন।”

      তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে হিলারির বৈঠক এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শেখ হাসিনার অংশ গ্রহণের ফাঁকে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে আলোচনার অনুরোধ জানিয়ে ইউনূসের পক্ষ থেকে পাঠানো ওই মেইলে লেখা হয়েছে, “প্রিয় মেলান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ওয়াজেদের আমেরিকা সফর নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি ১৬ সেপ্টেম্বর হিলারি ক্লিন্টনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সে সময় বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যু নিয়ে আলোচনার অনুরোধ রইল।

      “ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের পরামর্শে আমি আমাদের সমস্যা সম্পর্কে জানাতে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ চেয়েছি। কিন্তু ছয় সপ্তাহ ধরে কোনো সাড়া নেই।

      “আমি প্রেসিডেন্টের স্বাধীনতা পদক (প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম) পাওয়ায় বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবাই আমাকে শুভেচ্ছা জানালেও প্রধানমন্ত্রী এবং তার দলের পক্ষ থেকে টু শব্দও করা হয়নি। সুতরাং দেখতেই পাচ্ছেন সমস্যা কতটা জটিল রূপ নিয়েছে।

      “আমার মনে হয় আমি এ ব্যাপারে আপনাকে ধারণা দিতে এবং কী করতে হবে তা সম্পর্কে ধারণা দিতে পারব।

      “সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। এইচকে (হিলারি) শুভেচ্ছা দেবেন। শিগগিরই দেখা হবে।- ইউনূস।”

      মেইলটি পাঠানো হয় ২০০৯ সালের ৯ সেপ্টেম্বর।

      ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মন্তব্য উদ্ধৃত করে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গ টানা হয়েছে।

      সেখানে বলা হয়েছে, “বাংলাদেশের একটি শীর্ষস্থানীয় দৈনিকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বিষয়ে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। সব সংবাদপত্রই একই ধরনের সংবাদ ছেপেছে। এটি প্রধানমন্ত্রী হাসিনার জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের ওপর। আমার নাম উল্লেখ করা না হলেও প্রতিবেদনের উল্লেখযোগ্য অংশ আমাকে নিয়েই।

      “সম্ভব হলে আমার সম্পর্কে তার ভয়ঙ্কর মনোভাব দূর করার উপায় বের করুন। আমি আপনাকে শান্তির দূত হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে এটা ভয়াবহ রূপ নেবে। প্রধানমন্ত্রী হাসিনা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে আসবেন এবং তখন সম্ভবত সেক্রেটারি এইচ (হিলারি) এর সঙ্গে তার দেখা হবে।”

      মেইলের নিচে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনটি তুলে দেওয়া হয়।

      ‘ইউনূস ও হাসিনার চলমান বিরোধ’ শিরোনাম দিয়ে মেলান মেইলটি পাঠান হিলারিকে।

      ২০ সেপ্টেম্বর এর জবাবে হিলারি লেখেন, “আগামীকাল ইউনূসের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আমরা হিলটন ফাউন্ডেশন নিয়ে কথা বলব। তিনি আমার সঙ্গে সেখানে দেখা করতে চান। সেখানে আমি বিষয়টি সম্পর্কে আরো জানব।”

      পরদিন মেলান হিলারিকে জবাবে লেখেন, “আমি ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছি। উনি (প্রধানমন্ত্রী) সবকিছু কঠিন করে তুলছেন। স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রকল্প নিয়ে আপনাদের মধ্যে যে আলোচনা হয়েছে সে ব্যাপারে সরকারের সায় মেলেনি।

      “উনি আশা করছেন, উনার যে রাজনীতিতে কোনো আগ্রহ নেই, সে ব্যাপারে তাকে (প্রধানমন্ত্রী) আশ্বস্ত করার পথ পাওয়া যাবে এবং প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণের মতো তাকেও দেশগড়ার কাজে লাগাতে পারবেন। এখানে ব্যক্তিগত বিরোধিতার যে গভীরতা আছে তা উনি (ইউনূস) পরিমাপ করতে পারছেন না। অগ্রগতি খুবই খারাপ।”

      নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এনআরকে ২০১০ সালের ৩০ নভেম্বর ‘কট ইন মাইক্রোক্রেডিট’ নামে প্রচারিত প্রামাণ্যচিত্রর ওপর ভিত্তি করে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টিও উঠে এসেছে হিলারি-ইউনূস মেইল চালাচালিতে।

      বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০১১ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে অব্যাহতি দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়েও হেরে যান ইউনূস।

  12. মাসুদ করিম - ২৭ মার্চ ২০১১ (৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ)

    এখন ইউনূসই বলছেন গ্রামীণ ব্যাংকে বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্ব ২৫%, তাহলে কি গ্রামীণ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে আপডেট হয়নি, ব্যাংকের ওয়েবসাইট অনুযায়ী আমরা তো জানি ১০%, দেখুন এখানে

    Grameen Bank has always been on good terms with the government and has viewed the government as the bank’s partner from the start. The government holds a 25% share of the bank, and has always been a strong supporter of the bank in its fight against poverty.

    ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের ২৫% শেয়ারের কথা বলেছেন। একটা এত বড় এত বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে কার কত শেয়ার সেটাই যদি নিশ্চিতভাবে জানা না যায়, তাহলে আর কী আলোচনা আমরা করব?

    • সরব দর্শক - ২৭ মার্চ ২০১১ (১:২৪ অপরাহ্ণ)

      Today Grameen Bank is owned by the rural poor whom it serves. Borrowers of the Bank own 90% of its shares, while the remaining 10% is owned by the government.

      গ্রামীণ ব্যাংক-এর ওয়েবসাইটে উপরের এই তথ্যের নীচে ড. ইউনূসের বিখ্যাত দেঁতো হাসি আর তার ঠিক নীচেই, পৃষ্ঠার একেবারে শেষসীমায়, লেখা আছে :

      […] Last update January 11, 2011.

  13. মাসুদ করিম - ৪ এপ্রিল ২০১১ (৯:১৯ অপরাহ্ণ)

    জগদীশ ভগবতীর মতো নামী ‘বিশ্বায়ন’ বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ইউনূস, ক্ষুদ্রঋণ, হাসিনা, ম্যাক্রো অর্থনীতি ও বাংলাদেশ নিয়ে এত সংক্ষিপ্ত একটি ‘মতামত’ না দিয়ে আরো বিশদ একটা লেখা লিখলে আমরা উপকৃত হতাম। শুধু ইলা ভাটের নাম ‘ক্ষুদ্রঋণ’এর প্রবর্তক হিসেবে ঘোষণা করে ইউনূসের এত দিনের গ্রামীণ ব্যাংকের ফলিত প্রচেষ্টাকে খাটো করা যাবে না। তারপর তার একথার ঠিক অর্থ আমি বুঝতে পারিনি

    Unfortunately, Bangladesh’s most influential economists, and hence the country’s policies, remain mired in the growth-killing socialist economics that they learned at Cambridge and the London School of Economics a half-century ago.

    বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশির ভাগ সময়ে ছিল সামরিক শাসক ও সইফুর রহমানের হাতে, বাংলাদেশে একমাত্র হাসিনার গত সরকারের পাঁচ বছরে অর্থনীতি ছিল অর্থনীতিবিদ কিবরিয়ার হাতে, এখন আছে একবারেই আমলা বিবৃতিপ্রিয় একজন মুহিতের হাতে। এরা কেউই কি growth-killing socialist অর্থনীতিবিদ?

    তবে ভগবতী একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন, ম্যাক্রো অর্থনীতির সংস্কার ছাড়া শুধু ক্ষুদ্রঋণ দিয়ে গ্রামীণ মানুষ বা দরিদ্র মানুষের অবস্থা উন্নতি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। হাসিনা সরকারের কাছে ম্যাক্রো অর্থনীতির সংস্কার একটা বড় চ্যালেঞ্জ, শুধু নিজের একজন অর্থনীতিবিদ অর্থ উপদেষ্টা দিয়ে সেকাজ হবার নয়। বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয়কে অর্থনীতিবিদদের দ্বারা গঠিত একটা উপদেষ্টা পরিষদ দিয়ে পরিচালনা করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।

    এখানে পড়ুন : Grameen vs Bangladesh।লেখাটির বাংলা সংস্করণ : গ্রামীণ বনাম বাংলাদেশ

    • মোহাম্মদ মুনিম - ৬ এপ্রিল ২০১১ (৬:০৩ পূর্বাহ্ণ)

      জগদীশ ভগবতী লেখাটি হোম ওয়ার্ক না করেই লিখে ফেলেছেন মনে হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আর যেই দুর্বলতা থাকুক, সোশ্যালিস্ট দুর্বলতা নেই, সেই এরশাদের আমল থেকেই বাংলাদেশের অর্থনীতি উদারিকরনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। এরশাদের আমলে চট্টগ্রামের ইপিজেডের জন্য কোরিয়ানদের পানির দামে জমি দেওয়া হয়েছিল। নেই নেই করেও বাংলাদেশের রপ্তানি আয় এখন প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার, জনসংখ্যার অনুপাত বিবেচনা করলে সেটা ভারতের (২০০ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় খুব খারাপ নয়। জিডিপির হিসাবেও বাংলাদেশ ভারতের তুলনায় (১০৫ বিলিয়ন এবং ১৪০০ বিলিয়ন ডলার) খুব খারাপ করছে না।
      ম্যাক্রো ইকোনোমির সংস্কারের কথা অনেকবারই শুনেছি, যা বুঝলাম তা হল ভর্তুকি বন্ধ করা। ভারতের কৃষিখাত smart করতে গিয়ে প্রতিবছর হাজারে হাজারে কৃষক আত্মহত্যা করছে। তাতে অবশ্য জগদীশ ভগবতীদের কিছুই যায় আসে না। ভারতীয় বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা আর প্রবৃদ্ধি বাড়লেই তাঁরা খুশী।

  14. মাসুদ করিম - ৫ এপ্রিল ২০১১ (২:১৪ অপরাহ্ণ)

    আপডেট : ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদেশ আপিল বিভাগে বহাল

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পদ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।

    ইউনূসের অব্যাহতির বিরুদ্ধে করা রিট এর আগে হাইকোর্ট খারিজ করলে তার বিরুদ্ধে গত রোববার করা লিভ টু আপিলও মঙ্গলবার খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

    মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বেঞ্চ এ শুনানি নেওয়ার পর এ আদেশ দেন।

    তবে ড. ইউনূসের পক্ষে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালন পর্ষদের ৯ জন পরিচালকের করা লিভ টু আপিলের শুনানি গ্রহণের পরেই নির্ধারিত হবে ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকছেন কি না।

    ড. কামাল শুনানির পর সাংবাদিকদের বলেন, দুটি লিভ টুআপিল ছিলো একটি ড. ইউনূসের পক্ষে করা সেটি আজ খারিজ হয়েছে। অপরটি করা হয় গ্রামীণ ব্যাংকের ৯ জন পরিচালকের পক্ষে যার শুনানি বুধবার অনুষ্ঠিত হবে।

    কোন গ্রাউন্ডে আপিল খারিজ করা হলো তা জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, রায়ের কপি পেলেই তা জানা যাবে।

    এর আগে শুনানিতে অংশ নিয়ে ড. ইউনূসের আইনজীবী ড. কামাল হোসেন হাইকোর্টে ড. ইউনূসের করা রিট খারিজ করে দেওয়া আদেশকে আইনগত ভ্রান্তিমূলক আদেশ বলে উল্লেখ করেন।

    শুনানিতে ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, যে কোনো প্রতিষ্ঠানের কাউকে চাকরিচ্যুত বা অব্যহতি দিতে হলে নোটিশ দিতে হয়, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হয়। ইউনূসের ক্ষেত্রে তা হয়নি। সরাসরি অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ কোনো রুল না দিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের ভিত্তিতেই আদেশ দিয়েছেন। কিন্তু অ্যাটর্নির বক্তব্য হলফনামা আকারে আদালতে জমা দেওয়া হয়নি, যা আদালতের জন্য অত্যাবশ্যক।

    ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের দেওয়া তিনটি রায়কে নজির হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যে ক্ষেত্রে আইনের প্রশ্ন জড়িত সেখানে রুল না দিয়ে রিট সরাসরি খারিজ করা যায় না। রিটে আইনের অনেক ব্যখ্যা জড়িত তাই রিট সরাসরি খারিজের আবেদন আইন সম্মত হয়নি।

    ‘এ অবস্থায় হাইকোর্টের দেওয়া আদেশটি আইনগতভাবে ভ্রান্তিমূলক’, বলেন ড. কামাল হোসেন।

    তিনি আরও বলেন, ১৯৯৩ সালের গ্রামীণব্যাংকের চাকরি বিধিমালা কেবল কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ কর্মীর সংজ্ঞাভুক্ত নয়। এ পদের নিয়োগ দেয় পরিচালনা পর্ষদ আর কর্মী নিয়োগ দেন ব্যবস্থাপনা

    পরিচালক। চাকরি বিধিমালায় ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদটি আলাদাভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে বলেও জানান ড. কামাল।

    তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে অবসরের ৬০ বছরের সময়সীমা কর্মীদের জন্য প্রযোজ্য, ব্যবস্থাপনা পরিচালকের জন্য নয়।

    এর আগে ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতির আদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বিরুদ্ধে পরের দিন ৩ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসও গ্রামীণব্যাংকের নির্বাচিত নয় জন পরিচালক দুটি রিট আবেদন করেন। তিনদিনের শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ৮ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. ইউনূসের অব্যাহতি সংক্রান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দু’টি রিটই খারিজ করে দেন।

    এর পরের দিনই এ আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে দু’টি আবেদন (সিএমপি) করা হয়। এ আবেদনের উপর ১৫ মার্চ শুনানি শেষে আদালত দু’ সপ্তাহ শুনানি মুলতবি করেন।

    এরপর গত ২৯ মার্চ শুনানি শেষে ড. ইউনূসের পক্ষে নিয়মিত লিভ টু আপিল দাখিল করতে বলেন আদালত।

    হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ চেয়ে ড. ইউনূসের পক্ষে আপিল বিভাগে করা আবেদনের (সিএমপি) ওপর গত ২৯ মার্চ শুনানি নিয়ে ৪ এপ্রিল পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করা হয়।

    তবে হাইকোর্টের আদেশের কপি পাওয়ার পর ড. ইউনূসের পক্ষে নিয়মিত লিভ-টু-আপিল করার বিষয়টি আদালতে জানানো হলে আদালত মঙ্গলবার শুনানির জন্য ধার্য করেন।

    বাংলাদেশ সময় ১৩৪১ ঘণ্টা, এপ্রিল ৫, ২০১১

    • মাসুদ করিম - ৬ এপ্রিল ২০১১ (৯:৪৫ পূর্বাহ্ণ)

      আপডেট : লিভ টু আপিল খারিজের নির্দেশ প্রত্যাহারের আবেদন ড. ইউনূসের

      ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আপিল আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে দেওয়া আপিল বিভাগের আদেশ প্রত্যাহারের জন্য আবেদন করা হয়েছে।

      মঙ্গলবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ প্রত্যাহার আবেদন ‘রিকল অ্যাপ্লিকেশন’ জমা দেওয়া হয়েছে বলে বাংলানিউজকে জানিয়েছেন ড. ইউনূসের আইনজীবী ও কামাল হোসেন অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস চেম্বারের সদস্য ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন।

      বুধবার এ আবেদনের ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি জানান।

      গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ড. ইউনূসের দায়িত্ব পালন প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে করা লিভ টু আপিল মঙ্গলবার খারিজ করে দেন আপিল বিভাগ।

      প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়ারুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বেঞ্চ এ শুনানি নেওয়ার পর এ আদেশ দেন।

      এর আগে ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতির আদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণব্যাংকের নির্বাচিত নয় জন পরিচালক এর বিরুদ্ধে দুটি রিট আবেদন করেন। ৮ মার্চ হাইকোর্ট দু’টি রিটই খারিজ করে দেন।

      বাংলাদেশ সময়: ১৯৫৮ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৫, ২০১১

      • মাসুদ করিম - ৬ এপ্রিল ২০১১ (১২:১৮ অপরাহ্ণ)

        আপডেট : ড. ইউনূসের আবেদনের শুনানি অবকাশের পর

        নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) খারিজ করে দেওয়া আপিল বিভাগের আদেশ প্রত্যাহারে করা আবেদনের শুনানি মুলতবি করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অবকাশ শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত।

        একই সঙ্গে আদালত ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকার বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়া আদেশের বিরুদ্ধে ব্যাংকের নয় পরিচালকের করা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদনের (লিভ টু আপিল) শুনানিও মুলতবি করা হয়েছে।

        বুধবার প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের আপিল বিভাগ বেঞ্চ সংক্ষিপ্ত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

        ড. ইউনূসের আইনজীবী ড. কামাল হোসেন জানান, সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পর আদালত শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।

        ৮ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি থাকবে সুপ্রিম কোর্ট। সেক্ষেত্রে ২ মে শুনানি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

        উল্লেখ্য, ড. ইউনূসের পক্ষে করা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) মঙ্গলবার খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ। এ আদেশ প্রত্যাহারের জন্য ওই দিনই আবদেন করা হয়।

        বুধবার শুনানি শুরু হলে আদালত ড. ইউনূসের আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের কাছে জানতে চান আজ আপনার শুনানি শেষ করতে পারবেন কি-না। আগামীকাল একজন বিচারপতি ছুটিতে থাকবেন। আজ পুরো শেষ করতে না পারলে ছুটির পরে শুনানি হবে।

        তখন ড. কামাল হোসেন বলেন, আজকে শেষ করা সম্ভব নয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ছুটির এক সপ্তাহ পর শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।

        এ সময়ের মধ্যে ড. ইউনূস দায়িত্ব চালিয়ে যেতে পারবেন কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, আপিল বিভাগের আদেশের কপি না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলা ঠিক হবে না।

        কি কারণে লিভ টু আপিল খারিজ করে দেওয়া আপিল বিভাগের আদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মঙ্গলবার শুনানিতে আমাদের বক্তব্য শেষ করতে পারিনি বলেই আবেদন করা হয়েছে।

        আজকের শুনানিতে ড. ইউনূসের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, সাবেক এটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলাম, তানিম হোসেন শাওন।

        রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে তৌফিক নেওয়াজ।

        এর আগে ২ মার্চ গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতির আদেশ দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। ৩ মার্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও গ্রামীণব্যাংকের নির্বাচিত নয় জন পরিচালক এর বিরুদ্ধে দুটি রিট আবেদন করেন। ৮ মার্চ হাইকোর্ট দু’টি রিটই খারিজ করে দেন।

        রোববার এর বিরুদ্ধে নিয়মিত দুটি আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন (লিভ টু আপিল) করা হয়।

        বাংলাদেশ সময়: ১০০৩ ঘণ্টা, এপ্রিল ০৬, ২০১১

  15. মাসুদ করিম - ২২ এপ্রিল ২০১১ (১১:০৭ অপরাহ্ণ)

    উইকিলিকসে ইউনূস বিষয়ক ক্যাবলটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দি হিন্দু’তে, ক্যাবল ৯৬৪২১ পাঠানো হয়েছিল ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৭ আমেরিকার কলকাতা কনসুলেট থেকে, ‘নাগরিক শক্তি’ নামক রাজনৈতিক দল গঠনের কয়েকদিন পরেই ইউনূসের কলকাতা সফরে আমেরিকার কনসাল জেনারেল Henry Jardine পাঠিয়েছেন এই ক্যাবল।

    96421 2/13/2007 1:33:00 PM 07KOLKATA50 Consulate Kolkata UNCLASSIFIED//FOR OFFICIAL USE ONLY VZCZCXRO6060PP RUEHBI RUEHCIDE RUEHCI #0050/01 0441333ZNR UUUUU ZZHP 131333Z FEB 07FM AMCONSUL KOLKATATO RUEHC/SECSTATE WASHDC PRIORITY 1399INFO RUEHNE/AMEMBASSY NEW DELHI PRIORITY 1296RUEHKA/AMEMBASSY DHAKA PRIORITY 0337RUEHCG/AMCONSUL CHENNAI 0547RUEHBI/AMCONSUL MUMBAI 0541RUEHGO/AMEMBASSY RANGOON 0222RUEHKT/AMEMBASSY KATHMANDU 0339RUEHIL/AMEMBASSY ISLAMABAD 0265RHMFIUU/CDR USPACOM HONOLULU HIRUEIDN/DNI WASHINGTON DCRUEAIIA/CIA WASHINGTON DCRHEHAAA/NSC WASHINGTON DCRUEHC/USAID WASHDCRUEHCI/AMCONSUL KOLKATA 1725 UNCLAS SECTION 01 OF 02 KOLKATA 000050 SIPDIS SENSITIVE SIPDIS

    E.O. 12958: N/A TAGS: PGOV, PHUM, SOCI, IN, BG

    SUBJECT: NOBEL PRIZE WINNER DR. MUHAMMAD YUNUS CONSIDERS ENTERING BANGLADESH POLITICS

    1. (SBU) Summary. On February 12, ConGen spoke with Nobel Prize winner Dr. Muhammad Yunus about his plans to enter Bangladesh politics. Yunus, on a two-day visit to Kolkata, expressed a strong interest to enter the political fray and said that he was reviewing his options. He expressed support of the present Caretaker Government and its decision to declare a “State of Emergency,” saying it had averted a possible civil war. Yunus felt that Muslim fundamentalists represented a fringe and that while the dominant parties had developed ties with fundamentalists for political gain, most Bangladeshis did not favor the extremism. Yunus was also receptive to closer commercial and trade relations with India. Yunus recognized the risk of entering politics and its potential to tarnish his exemplary image. However, even as he professed that he was still considering his options, he indicated a strong intent to plunge into the maelstrom of Bangladesh politics. End Summary.

    2. (SBU) As a fellow Bengali, Prof. Muhammad Yunus, received a hero’s welcome while participating in two days of programs in Kolkata, West Bengal, from Feb. 11-12. During a lunch hosted by the Calcutta Chamber of Commerce (CCC) for its 175 th anniversary, ConGen spoke with Dr. Yunus about the present political situation in Bangladesh. On February 11, Yunus had issued an open letter saying that he was seeking support from Bangladeshis to launch a political party to reform the violence and corruption in Bangladesh. In the letter, Yunus asked people to send him their opinions on forming a political party focusing on good governance. ConGen asked Yunus was he was intent on entering politics as recently reported. Yunus confirmed that he was interested, having supposedly been asked by many people to step-in and overcome the political impasse between the two strongest political leaders, Sheikh Hasina and Khaleda Zia. Yunus added, though, that he was still discussing the merits of becoming a political figure. CCC President Manoj Mohanka questioned the advisability of Yunus joining the messy world of Bangladesh politics and noted the likelihood of Yunus’ reputation being tarnished. Yunus quickly responded that he understood the dangers of entering politics but felt that responsible people had to step into the political field to make a real change in Bangladesh, which was wracked by corruption and poor governance.

    3. (SBU) ConGen asked Yunus for his views on a recent “Economist” magazine article that described the present Bangladesh Caretaker Government’s state of emergency and its support by the Bangladesh military as “The Coup That Dare Not Say Its Name.” Yunus was supportive of the imposition of the state of emergency, saying that it had averted a possible civil war. He did not believe that the military’s support was significant and added that the Caretaker Government’s role was clearly defined under the constitution.

    4. (SBU) When asked about the perception in India of the rising fundamentalism in Bangladesh, Yunus said that he saw the Muslim fundamentalists as a fringe not accepted by the Bangladeshi mainstream. ConGen noted, however, that even the Awami League (AL), which had been the primary advocate of a socialist, secular nation, in December had signed an agreement with fundamentalist group Bangladesh Khelafat Majlish (BKM). The agreement with BKM would recognize fatwas issued by Imams and block the introduction of laws contrary to sharia law. Yunus responded that the agreement was a reflection of the AL’s moral bankruptcy and was based on pure political calculus to garner a few additional votes and another example of the need for a new political party.

    5. (SBU) ConGen asked Yunus about his views on India and whether better trade relations could be developed. Yunus was positive about expanding economic ties with India and within the South Asian Association for Regional Cooperation (SAARC). He felt that Bangladesh would be receptive to better relations with

    KOLKATA 00000050 002 OF 002

    India but that often it became a divisive political issue, with Bangladeshi politicians stoking resentment against India for political gain. However, he recognized that the GOI maintained significant non-tariff barriers restricting Bangladeshi goods from India’s markets. He was favorable to opening Chittagong Port to regional trade with India, Burma, Bhutan and China; but said that the port was presently too small and at full capacity. He added Grameen Bank was considering the possibility of financing a new “mega-port” project in Chittagong to meet the regional demand.

    6. (SBU) Comment: Although Dr. Yunus limited himself to saying he was still considering his options, the tenor of his comments indicated a strong to desire to jump into the maelstrom of Bangladeshi politics. He recognized that he would face a potentially bruising response from the “two ladies” and other established political figures, but he felt that the situation in Bangladesh had reached a critical juncture as “civil war” had only just been averted. As a person of great moral stature and strong organizational skills, Yunus’ candidacy could offer a possible out from the present Hasina-Zia zero-sum game that cripples Bangladesh’s democratic process.

    7. (U) This message was cleared with AmEmbassy Dhaka.

    JARDINE

    এই ক্যাবল নিয়ে ‘দি হিন্দু’র A. SRIVATHSAN এর সংবাদ প্রতিবেদন : Muhammad Yunus knew seeking to enter politics in Bangladesh would receive ‘bruising response’

    এই বিষয়ে বাংলা নিউজ ২৪ ডট কম-এর প্রতিবেদন : ঝুঁকি ও বিপদ জেনেই রাজনীতিতে আগ্রহী হন ড. ইউনূস: উইকিলিকস

    ঢাকা: ২০০৭ সালে সেনাবাহিনী সমর্থিত প্রলম্বিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় রাজনীতিতে প্রবেশ করার ইচ্ছা পোষণ করার আগেই নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস এর সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং পরিণতি সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের নেত্রী শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়া এবং ‘প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা’ রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর এই হঠাৎ-প্রবেশকে কিছুতেই সহজভাবে মেনে নেবেন না।

    শুক্রবার ভারতের খ্যাতনামা ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য হিন্দু’র অনলাইন সংস্করণে ব্যতিক্রমী গণমাধ্যম উইকিলিকসের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনে নোবেল বিজয়ীর এই আশঙ্কার কথা প্রকাশ করা হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছিলেন কলকাতায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল অঁরি জারদাঁর (Henry Jardine) কাছে।

    ২০০৭ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি কলকাতা থেকে ওয়াশিংটনকে পাঠানো অঁরি জারদাঁর গোপন কূটনৈতিক বার্তা থেকে দ্য হিন্দুর জন্য প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন এ শ্রীবাথসান।

    ড. ইউনূস সেসময় কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ্রগ্রহণের উদ্দেশ্যে কলকাতা সফর করছিলেন। কলকাতা চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত এক মধ্যাহ্নভোজে জারদাঁ এবং ইউনূস বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ করেন। আলাপের সূত্রপাত হয় যখন জারদাঁ ইউনূসের রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চান।

    ওই সময় ড. ইউনূস রাজনীতিতে তার অংশগ্রহণের বিষয়ে ব্যাপক আগ্রহের কথা জানান।

    কলকাতা চেম্বারের সভাপতি মনোজ মোহংকা এসময় তাদের আলোচনায় ঢুকে পড়েন। রাজনীতিতে প্রবেশে ড. ইউনূসের আগ্রহ দেখে তিনি তাকে বাংলাদেশের সেসময়কার অস্থির ও ঘোলাটে রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে আশঙ্কা ব্যক্ত করেন যে, রাজনীতিতে প্রবেশের মাধ্যমে ড. ইউনূস নিজের সুনামই ক্ষুন্ন করবেন।

    মনোজের এই প্রতিক্রিয়ায় নোবেল বিজয়ী বলেন, এর বিপদ সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি সচেতন। তবে তার ধারণা ‘কুশাসন এবং দুর্নীতিজর্জরিত বাংলাদেশের রাজনীতিতে সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন আনতে হলে দায়িত্ববান ব্যক্তিদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’

    অঁরি জারদাঁ আলোচনার এই পর্যায়ে ড. ইউনূসের কাছে বাংলাদেশে মৌলবাদের বাড়-বাড়ন্ত অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। জানতে চান। জবাবে ড. ইউনূস তাকে বলেন, বাংলাদেশের ‘মুসলিম মৌলবাদীর সংখ্যা হাতেগোনা। দেশের মূলধারায় এদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।’
    মার্কিন কনসাল জেনারেল ধর্মনিরপেক্ষ এবং সমাজতান্ত্রিক ধ্যান-ধারণার লালনকারী দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে খেলাফত মজলিশের সম্পাদিত একটি চুক্তির বিষয়ে ড. ইউনূসের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই চুক্তির মূল বিষয় ছিলো ফতোয়াকে স্বীকৃতি দেয়া এবং শরীয়াহ বিরোধী আইন প্রণয়ন নিষিদ্ধ করা।

    ড. ইউনূস এই চুক্তির সমালোচনা করে বলেন, ‘এই চুক্তি হচ্ছে আওয়ামী লীগের নৈতিক দেউলিয়াত্বেরই প্রতিফলন এবং শুধু বাড়তি কিছু ভোট পাওয়ার জন্য স্রেফ রাজনৈতিক হিসেবনিকেশ থেকেই এই চুক্তি করা হয়েছে। বাংলাদেশে যে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের প্রয়োজন রয়েছে, এই চুক্তিটি তারই আরেক প্রমাণ।’

    বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বৃদ্ধির বিষয়টিকে ড. ইউনূস ইতিবাচকভাবে দেখেন বলেও ওই বৈঠকে জানান। তবে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি প্রায়ই বিভেদের ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতারা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদগারে মেতে ওঠেন।’

    এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশি পণ্যে প্রবেশে ভারত সরকারের নেতিবাচক ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, ‘বিশেষ করে বেশ কিছু অশুল্ক বাধার কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশ কঠিন নিয়ন্ত্রণের মুখে পড়ে।’

    উইকিলিকসকে উদ্ধৃত করে দ্য হিন্দু জানায়, আঞ্চলিক বাণিজ্যের সুবিধার্থে চট্টগ্রাম বন্দরকে ভারত, মিয়ানমার, ভুটান এবং চীনের জন্য খুলে দেওয়ার পরিকল্পনার ছিল ড. ইউনূসের। এছাড়া গ্রামীণব্যাংকের বিনিয়োগে চট্টগ্রামে বহুমুখী ব্যবহার উপযোগী নতুন একটি বন্দর নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেওয়ার ইচ্ছাও তাঁর ছিল।

    ড. ইউনূসকে ‘উচ্চ নৈতিকতা ও শক্তিশালী সাংগঠনিক ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে মার্কিন গোপন কূটনৈতিক বার্তাটি শেষ করা হয়। বার্তায় জারদাঁ বলেন, ‘রাজনীতিতে তাঁর (ইউনূস) প্রার্থিতা হাসিনা-খালেদার নেতিবাচক রাজনীতির অচলায়তন থেকে মুক্তির একটা সম্ভাব্য উপায় হতে পারে। এ দুই নেত্রীর নেতিবাচক রাজনীতির কারণে বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে বার্তায় উল্লেখ করা হয়।

    বাংলাদেশ সময়: ১৪৫০ ঘন্টা, ২২ এপ্রিল, ২০১১

  16. মাসুদ করিম - ২৫ এপ্রিল ২০১১ (২:০৬ অপরাহ্ণ)

    গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদন্তে গঠিত কমিটি আজ অর্থমন্ত্রীর কাছে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

    গ্রামীণব্যাংক বিষয়ক সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটি সোমবার সকালে অর্থমন্ত্রীর কাছে রিভিউ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এতে কমিটি তাদের সুপারিশে উল্লেখ করেছে, ‘গ্রামীণব্যাংক ও ইউনূসের সামাজিক ব্যবসাকে (সোশ্যাল বিজনেস) একটি নীতিমালার মধ্যে আনা প্রয়োজন।’

    গ্রামীণব্যাংকের তহবিল থেকে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে গত ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের তদন্ত (রিভিউ) কমিটি গঠন করা হয়।

    প্রতিবেদনে গ্রামীণব্যাকের কার্যক্রম, গঠনতন্ত্র, সহযোগী সংস্থাগুলোর কার্যক্রম এবং সর্বোপরি গ্রামীণ ব্যাংকের তহবিল ব্যবস্থাপনার বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখা হয়।

    তবে নরওয়ের রাষ্ট্রীয় টেলিভশনে প্রচারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা তহবিল স্থানান্তরে কোনো অনিয়ম তারা কমিটি খুঁজে পায়নি বলে কমিটি উল্লেখ করে।

    বিস্তারিত পড়ুন : গ্রামীণ ব্যাংক ও সোশ্যাল বিজনেসকে নীতিমালার মধ্যে আনার সুপারিশ

  17. মাসুদ করিম - ৫ মে ২০১১ (১১:৪৪ পূর্বাহ্ণ)

    সুপ্রিম কোর্টের রায়ও ইউনূসের বিপক্ষে গেছে।

    আইনি লড়াইয়ে হেরে হেলেন ড. ইউনুস। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের লিভ টু আপিলের খারিজ আদেশ প্রত্যাহারে করা আবেদনটি খারিজ করেছে দিয়েছেন। একই সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের ৯ পরিচালকের করা লিভ টু আপিলও খারিজ করেছেন আপিল বিভাগ।

    রায় ঘোষণার পর ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ জানান তিনি রিভিউ আবেদন করবেন।

    লিভ টু আপিল খারিজে আদেশ প্রত্যাহারে ড. ইউনূসের আবেদনকে ভ্রান্ত ধারণা প্রসুত বলেও উল্লেখ করেছেন আদালত।

    এর মাধ্যমে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে অব্যাহতিকে বৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল থাকলো।

    প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

    ড. ইউনূসের পক্ষে ড. কামালের নেতৃত্বে আইনজীবী প্যানেলের সকলেই এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘোষণার পর গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত ৯ পরিচালকের পক্ষে রহিমা বেগম লিখিত বক্তব্যে ড. ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানান।

    এর আগে বুধবার আবেদনগুলোর ওপর শুনানি শেষ করে বৃহস্পতিবার রায় দেওয়ার তারিখ নির্ধারন করেন আপিল বিভাগ।

    বাংলাদেশ সময় ১০২৯ ঘণ্টা, মে ০৫, ২০১১

    খবরের লিন্ক এখানে

  18. মাসুদ করিম - ১২ মে ২০১১ (১১:০৪ অপরাহ্ণ)

    ১. গ্রামীণ ব্যাংক: রিভিউ কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করলো সরকার

    গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত রিভিউ কমিটির তদন্ত রিপোর্ট জনসম্মূখে প্রকাশ করেছে সরকার।

    বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত http://www.mof.gov.bd ওয়েব সাইটের মাধ্যমে রিভিউ কমিটির রিপোর্ট প্রকাশ করেন।

    এ সময় তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক সম্পর্কিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট প্রথমে জনসম্মূখে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া রিভিউ কমিটি’র রিপোর্ট পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষণ শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিবেদন প্রকাশ সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্ট ড. ইউনূসের পিটিশন প্রত্যাখ্যান করেছে। সুতরাং তার আইনজীবী এ ব্যাপারে পুনরায় আপিল করলেও সেটা আর রিভিউ করার কোনো সুযোগ নেই।‘

    তিনি বলেন, ‘রিভিউ তখনই করা হয় যখন কোনো বিষয় নিয়ে সন্দেহ থাকে। কিন্তু এক্ষেত্রে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। সুতরাং এটা আর রিভিউ করা হবে না।’

    অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত ড. ইউনূসের অবর্তমানে ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) করবেন। তিনি যদি দায়িত্ব পালনে অপারগ হন তাহলে বিকল্প কারো সন্ধান করা হবে।’

    সরকার ইউনূসের সম্মানজনক বিদায় চায়:
    ‘আমরা গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুটির সম্মানজনক সমাধান চাই’ উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংক একটি সরকারি ব্যাংক। সরকারি আদেশবলে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ড. ইউনূস এটা প্রতিষ্ঠা করেছেন। কিন্তু এটা যে সরকারি ব্যাংক এটা তিনি স্বীকার করতে চান না। তার সঙ্গে আমাদের এই একটি বিষয়ে মত পার্থক্য।’

    ইউনূসকে রাখার আবেদন প্রত্যাখ্যান:
    ড. ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে বহাল রাখার জন্য পরিচালনা পর্ষদ ও গ্রামীণ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আবেদন জানিয়েছিলেন্। সাংবাদিকরা এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অর্থমন্ত্রী বলেন,‘সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের এ আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়।‘

    ইউনূসের দায়িত্বে আসছেন নূরজাহান বেগম
    বাংলানিউজকে একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, নতুন কাউকে এমডি পদে সরকার দায়িত্ব না দেওয়া পর্যন্ত এমডি পদে দায়িত্ব পালন করবেন ডিএমডি নূরজাহান বেগম।

    রিভিউ কমিটি’র পুরো প্রতিবেদনটি হুবহু নিচে দেওয়া হলো:

    প্রথম পর্ব
    দ্বিতীয় পর্ব

    বাংলাদেশ সময়: ১৯৩০ঘণ্টা, মে ১২, ২০১১

    খবরের লিন্ক এখানে

    ২. পদ ছাড়লেন ইউনূস

    গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামীণ ব্যাংকের প্যাডে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি এ কথা জানান।

    এতে ইউনূস বলেছেন, “আমি আজ মে ১২, ২০১১ তারিখে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিচ্ছি। গ্রামীণ ব্যাংকের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব নূরজাহান বেগমকে আমি আমার দায়িত্ব প্রদান করছি।”

    যতোদিন পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশের ১৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পরিচালনা পর্ষদ এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা না নিচ্ছে, নূরজাহান বেগম ততোদিন এই দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলেও উল্লেখ করেন ইউনূস।

    তার স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “আপিল বিভঅগের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো আমাদের হাতে আসেনি। আপিল আদালতে যে সমস্ত আইনগত বিষয় উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলিকে কোনোভাবে ক্ষুন্ন না করে, শুধু গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রম যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না-হয় তা, এবং গ্রামীণ ব্যাংকে আমার ২৫ হাজার সহকর্মী, ৮৩ লাখ ঋণগ্রহীতা ও দরিদ্র মালিকগণ যাতে কোনেক্রমে দৈনন্দিন কাজে বাধাগ্রস্ত না-হয় তা নিশ্চিত করার জন্য আমি এ পদক্ষেপ গ্রহণ করলাম।”

    বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম/জেকে/২২৪৯ ঘ.

    খবরের লিন্ক এখানে

  19. মাসুদ করিম - ২৪ অক্টোবর ২০১১ (৬:১৪ অপরাহ্ণ)

    ইউনূস এখন বাংলাদেশের বিপক্ষে ক্যাম্পেইন করছেন। আমার ব্লগে সুশান্ত লিখছেন

    বিগত কয়েকদিন ধরে পদ্মা সেতুর অর্থায়ন বন্ধের বিভিন্ন কারন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন যে, যে বা যারা পদ্মা সেতুর কার্যক্রমে দূর্নীতি করেছেন সেটা প্রমানিত হলে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। পদ্মা সেতুর কথিত দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ ইতোমধ্যে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দুর্নীতি দমন কমিশন কাজও শুরু করেছে।

    পদ্মা সেতু প্রকল্প নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন , যে পদ্মা সেতু প্রকল্পের এখনও টেন্ডারই হয়নি, বিশ্বব্যাংক কোনো ঋণও দেয়নি, সেখানে দুর্নীতি হল কীভাবে? আমি স্পষ্টভাবেই বলেছি, যে কেউ দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারলে অভিযুক্তকে আমিও ছাড় দেব না। তিনি বলেন, আমি বিশ্বব্যাংকের কাছে কোথায় কী দুর্নীতি হয়েছে তার তথ্য-প্রমাণ চেয়ে চিঠি দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তা প্রকাশ করে বলেন, পদ্মা সেতু আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা। এই ওয়াদা পূরণ করতেই হবে।

    যে কথা বলতে চাইছিলাম সেইকথা প্রধানমন্ত্রী ও ইতোমধ্যে বলেছেন। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন , একজন নোবেল লরিয়েট পদ্মা সেতুর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এই সেতু যাতে না হয় সে জন্য তিনি আন্তর্জাতিকপর্যায়ে লবিং করছেন।

    এবার আমি বলি যে কিভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনুস বাংলাদেশ এর উন্নয়ন প্রকল্প সমূহে বাঁধার তৈরী করছেন। আপনার নিশ্চয়ই Moody’s Corporation নাম শুনেছেন। এই Moody’s Corporation এর অন্যতম কাজ হলো বিশ্বব্যাংক এর মতো প্রতিষ্টানের পক্ষে বিভিন্ন দেশ এর ক্রেডিট রেটিং করে থাকে।

    ১৯ এপ্রিল ২০১১ এর এক নিউজে দেখা যায়, Moody’s Corporation বাংলাদেশ’কে স্ট্যাবল দেশ হিসেবে রেটিং করেছে। এখানে দেখুন বাংলাদেশ এর ক্রেডিট রেটিং।

    ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১১ সকাল ১০ ঘটিকায় পদ্মা সেতু’র ফান্ড সংক্রান্ত এক মিটিং ছিলো Moody’s Corporation , সিটি ব্যাঙ্ক ও বাংলাদেশ এর মধ্যে। ঐ মিটিং এ Moody’s Corporation সরাসরি বলে বাংলাদেশে এমন কিছু করা যাবে না যেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনুস এর সমস্যা হয়।

    তথ্য উপাত্ত ও প্রাসঙ্গিক লিন্কের জন্য বিস্তারিত পড়ুন : বাংলাদেশে যাতে financial assistance না আসে সেজন্য ড. মুহাম্মদ ইউনুস কেম্পেইন করছেন।

  20. মাসুদ করিম - ৩ জুন ২০১২ (৬:৫৫ অপরাহ্ণ)

    ৯ মার্চ ১৯১১ তে প্রশ্ন তুলেছিলাম

    রায় হয়ে গেছে, ইউনূসের রিট খারিজ করে দেয়া হয়েছে।

    গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের অপসারণের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছে আদালত।

    বিচারপতি মো. মমতাজউদ্দিন আহমেদ ও গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার বেলা তিনটায় এই আদেশ দেয়।

    গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে না হয় একটা রায় হয়ে গেল, কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের ‘ফেমিলি এন্টারপ্রাইজ’ হিসেবে করা কোম্পানিগুলোর সাথে গ্রামীণ ব্যাংকের কী ধরনের ভাগ-বাটোয়ারা আছে আমরা তো এসবের কিছুই জানি না। আমি অন্য কোম্পানি নিয়ে অত চিন্তিত নই — কিন্তু গ্রামীণ ফোনের ৩৪% শেয়ারের মালিক ‘গ্রামীণ টেলিকম’এর সাথে গ্রামীণ ব্যাংকের কী সম্পর্ক? ওই বিশাল শেয়ার কার হবে? গ্রামীণ ফোনের ওয়েবসাইটে গ্রামীণ টেলিকমকে বলা হচ্ছে

    is a not-for-profit company and works in close collaboration with Grameen Bank.

    এই close collaborationএর মানে কী, কে জানে?

    গ্রামীণ টেলিকমের ওয়েবসাইটে কোথাও কোম্পানিটির কর্পোরেট কাঠামোর কথা বলা হয়নি। শুধু বলা হয়েছে

    a wholly-Owned non-profit Organization to provide phone service in rural areas as an income-generating activity for members of Grameen Bank

    wholly-Owned non-profit মানে কী, এটার মানে কী গ্রামীণ ব্যাংকের পূর্ণ মালিকানা? কে জানে?

    এই জটিল ধাঁধাঁগুলোর কোনো সমাধান শেষ পর্যন্ত হবে কি না? কিভাবে যে চলত গ্রামীণ ব্যাংক?

    আর গত ১৫ মে ২০১২তে খবর : গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে একটি কমিশন গঠন করেছে সরকার

    গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম পর্যালোচনা করতে একটি কমিশন গঠন করেছে সরকার। গ্রামীণ ব্যাংক ও এর সহযোগীদের ভবিষ্যতে করণীয় সম্পর্কে সুপারিশ প্রণয়ন করবে এই কমিশন।
    অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
    চার সদস্যের কমিশনের সভাপতি সাবেক সচিব মো. মামুনুর রশিদ। সদস্যসচিব পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক এম এ কামাল। অপর দুই সদস্য আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি ও মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ। কমিশনকে আগামী তিন মাসের মধ্যে এ বিষয়ে প্রতিবেদন পেশ করতে বলা হয়েছে।
    এই কমিশন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, দুর্বলতা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করবে। গ্রামীণ ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করার উপায়, বিশেষ করে এর ব্যবস্থাপনার জবাবদিহিতা ও পরিচালনার স্বচ্ছতার বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিশন। গ্রামীণ ব্যাংক এবং এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, আইনি অবস্থা এবং এর পরিচালনা বিষয়ে একটি পর্যালোচনা করবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারের সঙ্গে কী সম্পর্ক, গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক কী, গ্রামীণ ব্যাংকের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সঙ্গে তারা কীভাবে অবদান রাখছে, এদের সাংগঠনিক, ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কাঠামো কী—এসব বিষয়েও চিহ্নিত করবে এই কমিশন।

    • মাসুদ করিম - ৩ জুন ২০১২ (৭:০৮ অপরাহ্ণ)

      আর এই পর্যালোপনা নিয়ে মুহম্মদ ইউনূসের আশঙ্কা ও গ্রামীণ ব্যাংক বাঁচাতে তার আহবান।

      Formation of the Commission of Inquiry

      I was very saddened by the news. I am sure many others, including the poor women who are the owners of the Grameen Bank, felt the same as I did. The finance ministry formed a four-member Commission of Inquiry through promulgation of an order on May 15, 2012. The Commission has been given three months to submit their report.

      We have set a record through formation of the Commission of Inquiry on the Grameen Bank which is the only Nobel Prize winning organization in Asia, among only 20 winning organizations in the 110 years history of the Nobel Prize. It will remain an unforgettable episode in our history!

      But why Commission of Inquiry on the Grameen Bank?

      What has caused the government to be dissatisfied with Grameen Bank? Is it Grameen Bank’s innovative modus operandi, and its system of management? It is this that has brought international recognition to the Bank as an institution dedicated to improving the quality of life of the poor. Or has the Grameen Bank caused a large-scale catastrophe for which a Commission of Inquiry has become necessary? What issue of public importance has Grameen Bank caused that requires an enquiry? In the past all enquiry Commissions that the government has formed have been done after a large-scale mishap has occurred and which had raised various questions in the minds of the people. The law regarding formation of an inquiry Commission was designed to deal with this type of unusual situations.

      This Commission has been tasked to submit its opinions/recommendations reviewing the activities of the Bank from its inception up to 2010. I was the chief executive during this time. I do not understand why the period after 2010 has been left out of the review. Have all the problems of the Bank after 2010 been solved?

      Usually an inquiry Commission is asked to find out the causes and offer solution after an incident. But this time, after reviewing its activities, its philosophy and its operational details, the Commission has been asked to determine the future path of a distinguished organization, and that too, from the very beginning of the organization. It will be difficult for the Commission to complete this huge task with its limited manpower and facilities. If the Commission gives a wrong advice due to the constraints then the consequences might be terrible for the poor people of Bangladesh.

      This type of task is usually given to the best researchers of the best research organizations as a long-term project. To prepare such a report it is necessary to have intensive consultation with the people who were behind the designing and setting up those institutions, those who have managed them over years, those who are the beneficiaries of these institutions, people who are familiar with designing and managing such institutions.

      After going through a long process of interaction and sifting through all the data, an in-depth analysis is made. When the report is finalized it is submitted to the board for its review. The board goes through its own process of reflection to pick the recommendations they want to implement. Gradually the suitable recommendations of the report are carefully implemented, without impeding the ongoing function of the organization. Given the time limit of the Commission, it is clear that they cannot go through such a process.

      Grameen Companies

      In the terms of reference of the Commission the government has raised many questions about all the companies, which have the word “Grameen” in their names. One can sense from these questions that government assumes that these companies have been established under the ownership of the Grameen Bank. But in reality these are independent companies with no ownership link to Grameen Bank. As a result most of the questions become irrelevant. I have said many times that it is very easy to get the answers to these questions. All one needs to do is to commission an internationally reputed audit firm. They can easily find out from the history of the bank’s financial transactions whether the bank has invested in any of these companies. Why the need of forming a full-fledged inquiry Commission? Why such a big initiative from the state to find out whether the Grameen Bank is the owner of these companies, and whether it established these companies?

      I have established many companies on my own initiative. I have been using the word ‘Grameen’ in their name as an identifying mark of a new class of businesses created to solve social problems. Most of these companies are ‘not for profit’ companies. According to the law, these companies do not have any ‘owner’. Most of these companies are established according to Section 28 of the Company Law. These are non-stock companies and no one gets profit since no one has ownership of these companies. These companies are circumscribed by the personal guaranty of the sponsors, i.e. if a company fails to pay its debt then the sponsors are obligated to pay up as per the limit of their guaranty. So there is no question of Grameen Bank’s ownership of these companies since the idea of ownership is not relevant to these companies. Some of these companies are “for profit” companies, but all of these are themselves owned by “not-for-profit” companies. Again, there is no scope for Grameen Bank, which is a “for-profit” company, to become the owner of these companies.

      Grameen Bank has not established any company itself since the Grameen Bank law does not allow it to establish any company.

      There are reasons behind the creation of these companies. When I started to work with poor people I started noticing many other problems besides the need for credit. I saw problem of education; so I created Grameen Education. I saw health problem; I created Grameen Kalyan (Well-Being), marketing problems (Grameen Check), agricultural problem (Grameen Krishi or Agriculture), fisheries and animal farming problem (Grameen Fisheries), technology problem (Grameen Telecom, Grameen Communications), insurance problem( Grameen Byabsa Bikash), electricity problem and problem of cooking stoves (Grameen Shakti), and so on.

      Each of the companies I created was designed to address a specific problem of the poor. It became a habit for me to create companies to address a social problem. I wanted to make sure that each initiative to solve a problem would become self-reliant. It should be able to operate with its own earnings; it must not be financially dependent on others. Also, I believed that each company should be structurally independent so that if one company goes down, it cannot pull down the others with it.

      I tried to solve problems using innovative business ideas, new concepts and new methods. Several of these companies have gained global reputation for their path-breaking work. For example, providing mobile phones to village women through Grameen Telecom, has opened up a whole new thinking in marketing among all the telecom companies of the world. Grameen Shakti has become the global leader in bringing off-grid electricity based on solar power, in the rural areas at the household level.

      Not only has Grameen Shakti showed the way to do it, it demonstrated how to scale up in massive way. Grameen Shakti sells more than a thousand solar home systems per day. It will reach one million homes in rural Bangladesh with solar electricity, by October this year. All this is done in a sustainable way. Everybody pays for it, and the company covers all its costs. No one has personal ownership of these companies. These are almost like a ‘trust’. The sole purpose of their existence is to solve problems of the poor. None of these companies was created for anyone to earn personal profit. There is no scope for personal profit from any of these companies.

      I do not own share in any Grameen company or any other company anywhere. I do not own any share in Grameen Bank. So there was no scope for me to get profit from these companies, in the past, or at present. I have never received any allowance or honorarium for attending or conducting any meeting of the board of any of the Grameen companies.

      Another item in the TOR of the Commission is “What are the succession rules for ownership and management of these institutions.” Interestingly all the companies are registered under the Company’s Act. The rules of formation and restructuring of the Board of Directors are clearly stated in the laws and constitution of the registered company. Common inheritance law governs how the inheritance of the shares of a company will be determined. It is customary that shares of father are inherited by children. But as there is no possibility of owning any share in the Grameen companies (except in Grameen Bank) so the issue of inheritance of ownership is irrelevant here. It will not be surprising if questions rise in public mind as to the purpose and usefulness of government’s high-powered initiative to investigate into the “succession rules for ownership” in Grameen companies, through establishing a Commission.

      If one looks at the TOR of the Inquiry Commission one will find that the government is very interested in the relationship between the Grameen Bank and other companies with Grameen names. And then, it is not understandable why the government had to be so interested in the succession rules in a private company (even if there are private share-owners in these companies) to the extent that it found it worthwhile to form a Commission of Inquiry to investigate into it. It must surprise everybody to see that a whole Commission has been put to use their precious time to dig out the relationship which never existed at the time of creating the companies, nor at present. Audit teams from the Central Bank never mentioned it in their yearly audit reports and the Awami League government did not raise any question about it in their previous five year term. Specially knowing fully well that the modus operandi and recommendations of this Commission would be scrutinized thoroughly, and debated rigorously for many years to come at home and abroad.

      Backdrop

      Grameen Bank started its journey in 1976 in the village of Jobra in Chittagong. I lent Tk 856 from my own pocket. I then became a guarantor and began giving loans from the local branch of Janata Bank. In 1978, with the help of the then Managing Director of Krishi Bank, Mr. Anisuzzaman, it was transformed into a project of Krishi Bank. Upon approving my proposal, he opened a new branch in Jobra village just so it could be managed under my supervision. It was given a new category of name to signify its special status. It was called ‘Krishi Bank, Experimental Grameen Branch.’

      In 1979, it became a central bank project with a bigger territory to cover. This was done because of the interest taken by the Deputy Governor of the Central Bank, Mr. Gongopadhaya in the proposal that I had submitted to him. From a Krishi Bank project it then became a project of the central bank. Under the name of Grameen Bank Project, this project was dedicated to bring the whole Tangail district under microcredit programme. All the state-owned banks participated in the project.

      I set up the project headquarters in Tangail and moved to Akur Para to look after the project. I stayed there from 1979 to 1982. When it was decided to expand the coverage of the project to five districts, I had to shift the headquarters to Shyamoli, Dhaka, at the suggestion of the central bank, although I was very reluctant to have my office in Dhaka.

      While I was looking for a way to move from project status to a more institutional foundation, I got support from the new finance minister, Mr. Abul Mal Abdul Muhith, who had just assumed office. He responded to my proposal to give it an institutional shape by making it a formal bank. In 1983, with the finance minister’s support and approval from President Hussain Mohammad Ershad, ‘Grameen Bank Ordinance 1983′ was created. The Grameen Bank project became ‘Grameen Bank’.

      But I was not happy with the way it was done. I raised strong objections against the new laws regarding the structure of ownership. It gave 60% ownership to Government making it a government bank. I refused to go ahead with this ownership structure. Finance Minister assured me that he would soon change the ownership to give 75% share to the borrowers. The task was carried out by his successor, Mr. Syedduzzaman on July 8, 1986. He amended the law giving 75% of the ownership to the borrowers, and 25% to the government. To be consistent with the new ownership structure, he changed the composition of the board. The board would consist of 9 representatives of the borrowers, 3 from the government and the Managing Director (MD) as an ex officio member. Another amendment was introduced on July 31, 1990. This enabled the board to appoint the MD, instead of the MD being appointed by the government. Since 1990 Grameen bank has been operating in this manner.

      At present, the borrowers own 97% of the shares, and the government the remaining 3%. The reason why the shares owned by the government came down from 25% to 3% is because borrowers kept adding more equity as the bank grew, but the government did not inject any more money. Each share costs Tk 100. When the amount of savings of a borrower exceeds Tk 100, she can buy a share worth Tk 100. Each borrower had always done that. As a result, the percentage of shares of the borrowers has been steadily rising. If this trend continues, the relative share of the government will keep becoming smaller.

      The initiative that started with Tk 856 is now a bank that has given loans worth USD 1.5 billion to 8.4 million borrowers. At present, borrowers have nearly a billion dollars in their personal savings accounts. This amount keeps increasing every day. They have their own pension fund. Grameen Bank has given education loans of nearly USD 40 million to the children of the borrowers for higher education.

      The reason why Grameen Bank could become a strong and successful organization is because the bank had a good legal structure since 1990 that delegated all its management and decision making power to its board of directors.

      People who think Grameen Bank is like any other bank, that the only difference is that it gives small loans, end up with wrong conclusions. They miss the fundamental issue. It is the only bank in the world that runs without taking any collateral whatsoever. No legal papers are needed in this bank to take a loan. The bank delivers the service at the doorstep of the borrowers.

      If the borrower or her husband dies, then the balance amount needs to be paid; remaining amount is written off. If a borrower dies, her family gets a grant for burial expenses. Branch manager has to be present at the burial prayer. The children of the borrowers get loans for education. Every borrower is the owner of the Bank. This system is quite the opposite of the mainstream banking system. That was why Grameen Bank succeeded in bringing banking services to poor women. This is why Grameen Bank concept attracted so much attention from the world.

      Terms of Reference of the Commission of Inquiry

      Considering the range of the Commissions’ mandate, one fears that the government wants to bring changes in the legal structure and management system of Grameen Bank. The Commission’s TOR includes:

      a) To identify the strengths, weaknesses and constraints in the operation of Grameen Bank since its inception till 2010.

      b) To recommend measure for ensuring good governance in the Grameen Bank, especially focusing on accountability of management and transparency of operations.

      c) Organize the ownership of Grameen Bank, and comment on board representation and qualifications necessary to sit on the board.

      What will be the basis against which Grameen Bank’s strengths and weaknesses are measured?

      I am sure questions will be raised in the minds of people over the section in the TOR that refers to Grameen Bank’s strengths, weaknesses and constraints. On what basis will the Commission make their judgment? Will they use the rate of loan recovery, interest rate, profit or loss of the bank, number of borrowers served by each staff, quality of MIS, application of information technology in the bank, administrative strengths, benefits received by the staff of Grameen Bank, savings, yearly growth, how much the borrowers have been able to save, and so on, to judge Grameen Bank? Or will they use some other basis for their judgment? Against whom will they compare Grameen Bank to formulate their opinion? Will they fix on some imaginary qualification to form their judgment, or will they compare with other microcredit organizations in Bangladesh to understand and identify Grameen Bank’s ranking? Or will they compare it with other commercial banks-such as Krishi Bank, Sonali Bank, Kormosangsthan Bank or some international bank?

      The Commission will surely understand that if they do not base their judgment on reality and give their recommendations based on facts; their report will not be accepted by the people.

      Bangladesh Bank audits and inspects Grameen Bank on a yearly basis. The Central Bank has a specific department for this purpose. They have been carrying out this task for many years. They are aware of all information about Grameen Bank-good and bad. Their honest and capable officers have for many years visited the branches of Grameen Bank. They have visited the head office, visited numerous departments to question and assess the state of affairs of Grameen Bank. They have not ever raised any questions, to which Grameen has not provided a satisfactory answer. Year after year they have communicated to us in writing that they do not have any unresolved issue pending.

      On one occasion Central Bank raised an important objection.

      In 2000, the audit team from Bangladesh Bank raised question on the issue of my retirement. We explained to them that Grameen Bank operates on its own rules and regulations, and within the rules of Grameen Bank, there is no fixed retirement age for the Managing Director. Bangladesh Bank asked us to come with all of our documents; they would review and settle the issue in a formal meeting. Six senior officers, 3 from Bangladesh Bank and 3 from Grameen Bank, met on this issue on January 15, 2001. At this meeting it was decided that if Grameen Bank provides copies of relevant documents to Bangladesh Bank, then the issue would be consider resolved.

      The meeting was recorded and the minutes were signed by all participants. Grameen Bank provided the documents asked for. When Bangladesh Bank accepted that the issue had been resolved, my age was 61 years and 6 months. Even though my age was more than 60, and on reviewing the documents, Bangladesh Bank did not feel that there were any unresolved issues. In the intervening years, in their annual audit reports, Bangladesh Bank did not raise this matter ever again.

      It was not that Bangladesh Bank forgot to raise their questions on this matter; they had done their job professionally. We gave our explanation, and they were satisfied with it. The matter rested there until it was raised in 2011, with no reference to the history.

      Besides Bangladesh Bank, Grameen Bank is audited and examined on an annual basis by two of the most reputed audit firms of the country. They have repeatedly informed us in writing that our accounts and management practices are at par with international standards.

      The Commission has been asked to provide recommendations to ensure good governance, especially accountability of the management and transparency at Grameen Bank.

      After so many years of good work, after so many audit reports, after so many research reports, winning so many prizes, and achieving so much honour, when questions are being raised about good governance, transparency and accountability at Grameen Bank, a lot of people, just like me, will become very sad. There are so many organizations which have management qualities of just the opposite kind. But somehow, they are not the ones the government is choosing to pay attention to. That government has chosen to investigate Grameen Bank is causing surprise to a lot of people. Upon reading the TOR, people will wonder if there are other meanings to the words put in the TOR.

      It is unfair to put such a great burden on the four honorable members of the Commission. If they are not familiar with the world of microcredit, which I assume they are not, then the task becomes even more complicated for them.

      Even though microcredit was born in Bangladesh, it has now spread throughout the entire world. There is no country in the world, rich or poor, where microcredit is not operational. And as a result, throughout the world, there are a lot of experts on microcredit.

      There are departments devoted to microcredit at a lot of universities around the world; a lot of research institutes are dedicated to researching microcredit. A lot of publications, in many languages, focus on microcredit. A lot of people have become very well known around the world for managing microcredit programs. Bangladesh is a leading country in the world on microcredit. There are a lot of people in Bangladesh who have gained respect and fame for their work on microcredit.

      Much research has been conducted on Grameen Bank, nationally and internationally, numerous research papers have been written, and a lot of research reports have been published in research journals.

      Bangladesh Bank is responsible for overseeing the activities of Grameen Bank. Besides this, there is a separate government regulatory body to oversee the activities of microcredit institutions called the Microfinance Regulatory Authority. P.K.S.F. has become very experienced in providing financing for microcredit institutions. It is very difficult to understand why, when there are so many researchers, so many administrators, so many experts, why responsibility has been assigned to persons who probably have no exposure in microcredit.

      Judging by the TOR, one begins to wonder whether the government wants someone to tell them that Grameen Bank is a poorly managed institution, needing overhauling. For some reason government may feel that Grameen Bank should not continue operating the same way as it does now. The government wants to run it in its own way. The government is perhaps looking for an opening to introduce its own ideas into the operation of the bank.

      Under the current legal framework there is no scope for the government to do that. Under the present law the board, majority members of which are representatives of the borrowers, make all the decisions. In order for the government to make decisions, board structure has to be changed, i.e. the ownership structure must be altered. Perhaps the government is hoping that the Commission will come up with such a recommendation. If the ownership of the bank changes, the board changes; and as a result, everything else changes. Grameen Bank changes.

      There is another way. The government can amend the laws without changing the ownership structure in such a way that the board doesn’t have the final decision making power anymore. The board can remain as it is, but it will require government consent for implementing its decisions, and government can direct the bank on any issue.

      This is what I get worried about when I read the TOR. I hope my concerns will be proved wrong. But I think I should bring up these concerns to everyone before it is too late. This is the reason why I am drawing your attention.

      On 23 April, 2012, a written statement from the finance ministry published in the media, reassured the people that, “No steps have been taken to establish government control on Grameen Bank and no such steps will be taken in future”. This statement relieved us from our worries. But only three weeks later when the TOR of the Inquiry Commission was announced the worries came back with much stronger force. This time it looked menacing and real.

      Grameen Bank’s Ownership

      From the beginning, the poor women have bought shares of Grameen Bank with their tiny savings. They have been working tirelessly to keep the bank strong, because they know that this is their bank. But now they are very upset that their bank’s ownership is questioned by the government. A shocking question has been placed in front of the Inquiry Commission. The 8.4 million poor women, the people of the country, will anxiously wait for the answers given by the Commission. All those interested in women’s empowerment all over the world will also be waiting them.

      The Commission was also asked to provide recommendations on the qualification requirements to be a board member. This is a very unfortunate question. They are owners of Grameen Bank-this is their fundamental qualification. Is the government thinking of creating an elite class among the poor owners? Eighty percent of Grameen Bank owners are illiterate. Until now, the leadership of members who were elected, in the past was never questioned by anyone who worked closely with them. Highly reputed personalities like Professor Iqbal Mahmud, Professor Rehman Sobhan, Dr. Akbar Ali Khan, Professor Kaiser Hossain, Mr. Tabarak Hossain have served as Chairmen of Grameen Bank board with great love and dedication. I can confidently say that none of them would express that the borrower members in the board were any way less eligible than other members of the board.

      On behalf of these members and borrowers, Ms. Taslima Begum from the village of Pirgacha in Chapainawabganj received the Nobel Peace Prize in Oslo, with her head held high, with an elegance and confidence comparable to any other person who ever received this prestigious Prize before her. She gave her acceptance speech in a very inspiring Bangla at the Nobel Prize giving ceremony. Bangladesh Television telecast the programme live. I think the ripples she created in the hearts of Bangladeshi women reverberate to this day. Has the Commission been formed to ignore the Taslimas of Bangladesh? One cannot but wonder what is on the government’s mind on this very crucial question.

      Grameen Bank’s future will be at stake

      On 2 October, 1983 Grameen Bank was launched in an open-air ceremony at the sports ground of Jamurki High School, Tangail at Grameen Bank project’s women gathering. At this gathering, speeches were delivered by the then Finance Minister and by the women borrowers of Tangail, and not by any other government officials.

      The fact that Grameen Bank is a poor women’s bank-this was never forgotten. This bank never deviated from its mission throughout its journey from Jobra to Mirpur.

      Taking away the ownership and the decision-making power from the poor women would derail Grameen Bank from its mission. Taking this step would take away the very essence of Grameen Bank. The ownership, the participation of the borrowers in the decision making process, the management structure, and the methodology is what made Grameen Bank a world class organization. That winning formula cannot be sacrificed by any means.

      This organization is self-reliant financially. Grameen Bank does not take any money from the government or from the donor organizations. This organization has created a new dimension in banking practice. Many bankers around the world are interested to learn from this bank. People look at Grameen Bank with great admiration for its contribution in the world of banking. Globally it has created a positive image of Bangladesh. We expect the government to handle Grameen Bank issues with the care and thoughtfulness it deserves. Since this is an organization of national pride, there should be national consensus around Grameen Bank.

      It is difficult to believe that the Commission will make recommendations that will help to realize the dreams of thousands of Grameen Bank workers and its million borrowers, that it will not recommend any steps, which will put the organization at peril.

      I hope the Commission will realize that Grameen Bank’s future will be at great risk if by changing the legal framework of Grameen Bank, the governments’ role is increased.

      To imagine Grameen Bank as a government bank is itself a scary thought. Grameen Bank is an institution built on strict discipline. If Grameen Bank is transformed into a government institution, that discipline will start eroding very fast. Grameen bank has twenty-four thousand dedicated, hard-working employees who travel through the narrow village roads, whilst carrying at least thirty to forty thousand Taka in cash. One can wonder, how much of this money will be deposited with the bank, and how much of it will vanish into thin air when its administration and supervision become weak. Paying bribes for everything may become routine reality-paying bribe to get a loan, paying bribe for buying postings and promotions, paying bribes to enter into a Grameen Bank group, etc. may become the order of the day. Women may no longer be majority of the borrowers any more. These are all nightmares. Just as dreams can become reality, nightmares too can become reality. We must take firm steps so that this nightmare does not get a chance to become a reality.

      In the past, poor management and allegations of massive corruption led to the privatization of the state-run enterprises. In that background, thethought of Grameen Bank going under government management is a frightening thought.

      Starting from the Grameen Bank headquarters in Mirpur to each individual rural ‘centre’, the institution works like clockwork. If the government’s management style is employed at Grameen Bank, then, the hard-earned reputation of the bank, earned over the past decades, will disappear in the blink of an eye.

      The people of Bangladesh, and in particular, the poor women owners of Grameen Bank, surely do not wish to see such a thing happen. The children of the Grameen Bank borrowers, especially those who had taken student loans and are now doctors and engineers, and other professionals, surely do not want to see the Bank’s ownership and management handed over to the government. If we the nation as a whole, can convince the government that the decision to change the legal structure of Grameen Bank will not do any good to the nation or to the poor, then we can prevent it. We must express our concerns to the government. All over the world Grameen Bank is Bangladesh’s brand name. We must not tarnish this brand name.

      Regardless of your political affiliation, profession, age or any other circumstance you may find yourself in, as citizens of Bangladesh we can make an effort to convince the government that changing the legal structure of Grameen Bank would most definitely be a mistake. I request everyone to come forward and take initiatives in every way possible. Those who believe in women’s’ empowerment and financial emancipation of the poor, I request you to become involved in this campaign. I am sending a copy of this message to every Grameen Bank branch, so that the borrowers are well briefed and they can make efforts to protect their ownership of the bank. They may approach the local political and social leaders to bring pressure to the government to stop moving in the wrong direction.

      We must all work together to protect Grameen Bank. We must ensure that Grameen Bank continues to be owned and governed by poor women and the bank continues to move forward to reach its goal. If you are concerned about the situation as much as I am, then I urge you to do something to keep Grameen Bank safe and strong.

      লিন্ক এখানে

    • মাসুদ করিম - ২৪ জানুয়ারি ২০১৩ (২:১৭ অপরাহ্ণ)

      ‘গ্রামীণ ব্যাংকের ৩০ হাজার কোটি টাকার হদিস নেই’ — এখবর যদি সত্যি হয়, তাহলে বলতেই হবে অনেক আগেই আমরা ঠিক গর্তেই আলো ফেলেছিলাম। এখন সেখান থেকে সাপ বের হচ্ছে।

      ‘গ্রামীণ ব্যাংকের ৩০ হাজার কোটি টাকার হদিস নেই’

      বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংবাদিকদের এ কথা জানান।

      মোজাম্মেল হক বলেন, “গ্রামীণফোন থেকে পাঠানো ৩০ হাজার কোটি টাকা গ্রামীণ টেলিকমে গেছে।

      “ওই টাকা গ্রামীণ ব্যাংকে আসার কথা ছিল। এর সুবিধা ভোগ করার কথা ছিল সদস্যদের। কিন্তু সে টাকা গ্রামীণ ব্যাংকে না এসে গেল কোথায়?”

      দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল ফোন সেবাদাতা গ্রামীণফোনের ৩৪ দশমিক ২ শতাংশ শেয়ারের মালিক গ্রামীণ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ টেলিকম।

      ওই অর্থ কোথায় গেছে- জানতে চাওয়া হলে গ্রামীণ ব্যাংক চেয়ারম্যান বলেন, “শোনা কথা, গ্রামীণ টেলিকম থেকে গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট নামে একটি আলাদা প্রতিষ্ঠান করা হয়েছে। ওই টাকা সেখানেই আছে।”

      গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট দুটো প্রতিষ্ঠানেরই চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূস বলে জানান মোজাম্মেলন হক।

      গ্রামীণ ব্যাংকেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন নোবেলজয়ী ইউনূস। কিন্তু বয়সসীমা অতিক্রান্ত হওয়ায় তাকে অব্যাহতি দেয় সরকার।

      গ্রামীণ টেলিকম ট্রাস্ট গ্রামীণ ব্যাংকে কোনো প্রতিবেদন পাঠায় না বলেও জানান মোজাম্মেল হক।

      তিনি বলেন, “অর্থ কোথায় গেল তা গ্রামীণ ব্যাংক কমিশন তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে তাদের প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা যাবে।”

      ২০১১ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অব্যাহতি দেয়ার পর তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছিলেন ইউনূস। তাতে হেরে গিয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরে দাঁড়ান তিনি।

      এরপর নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দিতে সরকারের পক্ষ থেকে একটি সাব-কমিটি করা হয়। তবে আদালতে সাব-কমিটির বিরুদ্ধে মামলা হওয়ায় তার কার্যক্রম থেমে যায়।

      ইউনূসকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ এতে উষ্মা প্রকাশ করে

  21. মাসুদ করিম - ৩ জুন ২০১২ (৭:১৯ অপরাহ্ণ)

    At present, the borrowers own 97% of the shares, and the government the remaining 3%. The reason why the shares owned by the government came down from 25% to 3% is because borrowers kept adding more equity as the bank grew, but the government did not inject any more money. Each share costs Tk 100. When the amount of savings of a borrower exceeds Tk 100, she can buy a share worth Tk 100. Each borrower had always done that. As a result, the percentage of shares of the borrowers has been steadily rising. If this trend continues, the relative share of the government will keep becoming smaller.

    হ্যাঁ, এবার পরিস্কার বুঝতে পারছি সরকারের শেয়ার কিভাবে গ্রামীণ ব্যাংকে ৩%। কিন্তু ২৪ মার্চ ২০১১তে প্রকাশিত ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাথে সাক্ষাৎকারে ইউনূস কেন বলেছিলেন

    Grameen Bank is a strong financial institution. It is an institution of 8.3 million empowered women and men who together own a thriving bank with $1.4 billon in deposits.

    But whatever they are today is because of their hard work and diligence. It is their success. The borrowers of Grameen Bank have proved to the world that they are bankable and creditworthy and capable of controlling a major institution, and they have been the inspiration to millions of people all over the world, so why not a power center.

    But whatever I or Grameen Bank has achieved, is the result of the efforts of the borrowers.

    Grameen Bank has always been on good terms with the government and has viewed the government as the bank’s partner from the start. The government holds a 25% share of the bank, and has always been a strong supporter of the bank in its fight against poverty.

    Even the chairman of Grameen Bank is a government appointee, as are two other directors of the board. The relationship has always been a very friendly and cooperative one from both sides.

    I don’t know why the present crisis could not have been resolved amicably.

  22. মাসুদ করিম - ২ আগস্ট ২০১২ (৪:০৮ অপরাহ্ণ)

    গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি নিয়োগের বিধিতে সংশোধন এনে গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ আনছে সরকার

    ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে ‘সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ’ জারি করতে যাচ্ছে সরকার।

    এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নির্ধারিত বয়সের বেশি সময় থাকা বৈধ ছিল কি না তাও খতিয়ে দেখা হবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০১২ এর খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান।

    তিনি বলেন, ৬০ বছর বয়স অতিক্রমের পরও মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থপনা পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। তার ওই দায়িত্বে এভাবে বেশি সময় থাকা বৈধ ছিলো কি না, তিনি ওই সময়ে কত টাকা নিয়েছেন এবং তা বৈধ ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখতে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

    এছাড়া গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি থাকাকালে ইউনূস ওয়েজ আর্নার হিসেবে কত টাকা বিদেশ থেকে এনেছেন এবং তিনি তা আনতে পারেন কি না, এনে থাকলে কর অব্যাহতি নিয়েছিলেন কি না- সেসব বিষয়েও একটি প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর)।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা নিয়ে এনবিআর এই প্রতিবেদন তৈরি করবে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।

    • মাসুদ করিম - ২ আগস্ট ২০১২ (৭:০০ অপরাহ্ণ)

      অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ইউনূসের প্রতিক্রিয়া।

      গ্রামীণ ব্যাংক রক্ষায় এগিয়ে আসুন: ইউনূস

      সরকার গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা পুরোপুরি নিতে চায় দাবি করে তা প্রতিরোধে দেশবাসীকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূস।

      ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে ‘সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ’ জারির একটি প্রস্তাব বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা অনুমোদনের পর এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।

      নোবেলজয়ী ইউনূস বলেন, “আমি আগে থেকে এই শঙ্কা প্রকাশ করে এসেছি। এখন আমার শঙ্কা বাস্তবে রূপ নিতে শুরু করেছে।”

      “গরিবের মালিকানায় পরিচালিত গরিবের ব্যাংকটি থেকে মালিকানা এবং মালিকানা প্রয়োগের ক্ষমতা থেকে গরিব মালিকদের বঞ্চিত হতে দেখে আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি,” বলেন তিনি।

      ইউনূস বলেন, “গরিবের সম্পদ এবং দেশের সম্পদ রক্ষায় এগিয়ে আসার জন্য দেশবাসীর প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।”

  23. মাসুদ করিম - ৩ জুলাই ২০১৩ (১২:১০ অপরাহ্ণ)

    বারবার বলা হচ্ছে মুহিত মিথ্যা বলছেন, মুহম্মদ ইউনূস গ্রামীণফোন থেকে ডিভিডেন্ড নেননি, ঠিক আছে নেননি — গ্রামীণফোনে ৩৪.২% শেয়ার আছে গ্রামীণ টেলিকমের তো সেই গ্রামীণ টেলিকম তো গ্রামীণফোন থেকে ডিভিডেন্ড নিয়েছে, এখন মুহম্মদ ইউনূস ও ইউনূস সেন্টার যদি আমাদেরকে সত্যটা জানাতে চান তাহলে গ্রামীণ টেলিকমে আসা গ্রামীণফোনের ডিভিডেন্ডের অর্থ কিভাবে বন্টন ও বিনিয়োগ হয়েছে তা বলেলেই তো হয়ে যায়।

    AGMxxx_Page_2

    Muhith gave JS false statement

    Yunus Centre yesterday protested Finance Minister AMA Muhith’s statement about Grameen Bank and its founder Prof Muhammad Yunus, terming it “completely false”.
    The centre which promotes philosophies of the Nobel laureate made the protest six days after the minister launched a scathing attack on the microcredit pioneer in parliament on June 26.
    About Muhith’s claim that all Grameen social businesses are owned by Prof Yunus, the centre said, “The statement [by Muhith] is completely false. All the social businesses carrying the Grameen name are not owned by Dr Yunus. Prof Yunus has repeatedly said that he does not own a single share in any businesses.”
    It further said, “The minister should apologise for making false assertion against a respected person if he could not produce any evidence to show Prof Yunus owning a single or more personal shares in any company.”
    Muhith said Prof Yunus took several thousand crore taka in dividend from Grameenphone.
    The centre questioned how the microcredit pioneer could receive that from the leading mobile phone operator in the country where he does not own any shares nor even shares bought from the stockmarket.

    আর গ্রামীণফোনের ওয়েসাইটেও গ্রামীণ টেলিকমের পরিচয় লিখতে পরিবর্তন আনা হয়েছে, আগে বলা হত

    is a not-for-profit company and works in close collaboration with Grameen Bank.

    এখন বলা হচ্ছে

    Grameen Telecom (GTC)

    Grameen Telecom, which owns 34.20% of the shares of Grameenphone, is a not-for-profit company in Bangladesh established by Professor Muhammad Yunus, winner of the Nobel Peace Prize 2006.

    GTC’s mandate is to provide easy access to GSM cellular services in rural Bangladesh and create new opportunities for income generation through self-employment by providing villagers, mostly the poor rural women, with access to modern information and communication-based technologies.

    Grameen Telecom, with its field network, administers the Village Phone Program, through which Grameenphone provides its services to the fast growing rural customers. Grameen Telecom trains the operators and handles all service-related issues.

    GTC has been acclaimed for the innovative Village Phone Program. GTC & its Chairman Nobel Peace prize laureate Professor Muhammad Yunus have received several awards which include; First ITU World information Society Award in 2005; Petersburg Prize for Use of the IT to improve Poor People’s Lives” in 2004; GSM Association Award for “GSM in Community Service” in 2000.

    As part of the conversion of Grameenphone from a private limited to a public limited company, Grameen Telecom transferred 1 share each on May 31, 2007 to its two affiliate organizations namely Grameen Kalyan and Grameen Shakti.

    ঠিক আছে, পরিবর্তনই মেনে নিলাম, কিন্তু তারপরও তো বলা হচ্ছে যে গ্রামীণ টেলিকম মুহম্মদ ইউনূসের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত, তাহলে সেই প্রতিষ্ঠানের গ্রামীণফোন থেকে প্রাপ্ত ডিভিডেন্ডের হিসাব তো তার কাছ থেকে চাওয়া যেতেই পারে? নাকি তাও চাওয়া যাবে না — নোবেলের অসম্মান হবে।

  24. Pingback: ইউনূসমিতি ২ | প্রাত্যহিক পাঠ

  25. মাসুদ করিম - ৮ আগস্ট ২০১৩ (৯:০৭ পূর্বাহ্ণ)

  26. মাসুদ করিম - ২২ জুলাই ২০১৪ (১:০১ অপরাহ্ণ)

  27. মাসুদ করিম - ৪ জুন ২০১৭ (১:১৮ অপরাহ্ণ)

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.