বিশ্ব অর্থনীতির দ্বিতীয় বৃহত্তম পরাশক্তির সাথে টক্কর লেগেছে ইন্টারনেটের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের। গত পরশু গুগল তাদের ওয়েবসাইটে ঘোষনা দিয়ে জানিয়েছে যে চীনে তাদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিবেশ ক্রমাগত বিরূপ হয়ে পড়েছে এবং এই অবস্থা চলতে থাকলে অচিরেই তারা চীন থেকে তল্পি-তল্পা গুটিয়ে চলে যেতে বাধ্য হবে। গুগল ও চীনের এই সংঘর্ষের কি কোন শুভ পরিণতি আছে?

একটু পেছনে তাকানো যাক। ইন্টারনেট ব্যবহার করে অথচ গুগল চেনে না, এমন লোক বোধ হয় লাখে একটাও পাওয়া যাবে না। এক কথায় ইন্টারনেটের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বহুলব্যবহৃত সার্চ ইঞ্জিনের নাম হলো গুগল। ১৯৯৬ সালে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পিএইচডি অধ্যয়নরত ছাত্র ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন তাদের গবেষণার মাধ্যমে নতুন এক সার্চ এলগোরিদম প্রণয়ন করেন। এর আগে আরো অনেক সার্চ ইঞ্জিনই ছিল। ৯০-এর দশকে যারা নেট ব্যবহার করতেন তাদের অনেকের মনে থাকবে Lycos, Altavista বা Infoseek-এর কথা। কিন্তু কার্যকারিতার দিক থেকে এইসব ইঞ্জিনের চেয়ে গুগল অনেক বেশী সফল প্রমাণিত হয়।

ইন্টারনেটে রয়েছে শত কোটি ওয়েবসাইট। এর মধ্যে থেকে ঠিক আপনার প্রয়োজনীয় তথ্যটুকুই এক নিমেষের মধ্যে খুঁজে বের করে সেটাকে আপনার সামনে হাজির করা – একেবারে সহজ কাজ নয়। কিন্তু পেজ ও ব্রিন এই দুঃসাধ্য কাজটিই সাধন করেন। কি লাগবে আপনার? মিটার থেকে ফুট হিসাব করতে চাই? বলে দেবে গুগল। সম্রাট অশোকের রাজধানীর নাম যেন কি ছিল? জানে গুগল। আচ্ছা, কেক বানাতে চাই, কিছু রেসিপি দরকার। গুগলে গিয়ে খোঁজ লাগাও। ১৯৯৯ সালে এক প্রযুক্তি পত্রিকায় আমি প্রথম গুগলের নাম শুনি। লাস ভেগাসে বাৎসরিক প্রযুক্তি সম্মেলনে সদ্য পুরস্কার জিতেছে নতুন এই কম্পানী – ক্রিকেটের গুগলির সাথে নামের বেশ মিল! খবরটা পড়েই আমি গুগলে গিয়ে আমার স্কুল জীবনের এক হারিয়ে যাওয়া সহপাঠীর নাম সার্চ দেই। শুধু এতটুকুই জানতাম যে সে বিদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে। ঠিকই গুগল এনে দিয়েছিল তার নাম-ধাম, বর্তমানে কোথায় আছে কি করছে, এবং যোগাযোগের ইমেইল। বলা বাহুল্য, সেদিনের পর থেকে আজ অব্দি গুগল বিনা আর কোন সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করার প্রয়োজন বোধ করিনি।

গেল দশ বছরে গুগল আরো বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাইক্রোসফট-কে ছাপিয়ে গুগল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রযুক্তি কম্পানী। কোকাকোলা-কে টপকিয়ে গুগল এখন পৃথিবীর এক নম্বর ব্র্যান্ড। গুগল সার্চ ইঞ্জিন ছাড়াও এখন আছে গুগল নিউজ, গুগল ম্যাপস, গুগল ভিডিওস ইত্যাদি। ইয়াহু বা হটমেইল-এর সাথে পাল্লা দিতে এসেছে জিমেইল। ২০০৬ সালে গুগল কিনে নেয় ভিডিও আপলোড সাইট ইউটিউব-কে। দাম পড়ে ১৬৫ কোটি ডলার। (ইউটিউবের আদি প্রতিষ্ঠাতা যেই তিনজন, তাদের একজন বাঙালী ছেলে জাভেদ করিম। গুগল যখন ইউটিউব কিনে নেয়, জাভেদ-ও মেলা টাকা পেয়েছিল – প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলার।)

সৃষ্টির শুরু থেকেই একটা স্লোগানের জন্য গুগল আলোচনা/সমালোচনার মুখোমুখি হয়ে আসছে। Don’t be evil – কম্পানীর মূল পাথেয়-গুলোর অন্যতম। এর একটা মানে হলো যে – গুগলের যে বিশাল ক্ষমতা, সেটার যেন জেনে শুনে কোন অপব্যবহার না করা হয়। আর শুধুমাত্র টাকা বা স্বল্পমেয়াদী মুনাফার পেছনে ছুটে কম্পানীর সুনাম বা ভবিষ্যত যেন বিপদের মুখে ঠেলে দেয়া না হয়।

গুগলের চীন যাত্রা

২০০৬ সালে গুগল একটি চীনা সাইট চালু করে – www.google.cn। এখন সমস্যা হলো যে তথ্যের অবাধ প্রবাহের ব্যাপারে চীনা সরকারের ঘোরতর আপত্তি আছে। সেটা যে কোন মাধ্যমেই হোক না কেন – নিয়ম-শৃংখলা থেকে ইন্টারনেট-ও মওকুফ নয়। উদাহরন স্বরূপ ধরেন ১৯৮৯ সালে বেইজিং-এর তিয়ানানমেন স্কোয়ারে ছাত্র আন্দোলনের কথা। চীনের ভেতরে বসে আপনি এই ঘটনা নিয়ে কোন তথ্য বের করতে পারবেন না ইন্টারনেট থেকে। একইভাবে তাইওয়ানের স্বার্বভৌমত্ব, তিব্বতের স্বাধীনতা, ফালুন গং গোষ্ঠী – এইসব বিষয়ও চীনা ইন্টারনেটে কঠোরভাবে সেন্সর করা হয়।

এমনকি আপাতদৃষ্টিতে বিপজ্জনক নয়, এমন সাইটও চীনে অহরহ ব্যান করা হয়। এর মধ্যে আছে ইন্টারনেটের সবচেয়ে বহুল-ব্যবহৃত এবং সবচেয়ে জনপ্রিয় সাইটগুলোও – যেমন ফেসবুক, ইউটিউব, ফ্লিকার, উইকিপিডিয়া, ব্লগস্পট, পিকাসা, টুইটার, হটমেইল, জিমেইল এবং www.google.com (যদিও www.google.cn জায়েজ আছে।) এই ব্যাপক আকারের সেন্সরশিপ চালু রাখতে চীনা সরকার যেই প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে, তার নাম গোল্ডেন শীল্ড প্রজেক্ট, ২০০৩ সাল থেকে এটি কার্যকর রয়েছে। গ্রেট ওয়াল অফ চায়নার সাথে মিল রেখে রসিকজন এর নাম দিয়েছেন গ্রেট ফায়ারওয়াল অফ চায়না।

২০০৬ সালে গুগল যখন চীনে প্রবেশ করে, তখন একটা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গুগলের মূলমন্ত্র হলো তথ্যের অবাধ প্রবাহ, যেটা চীনা সরকার একেবারেই অনুমোদন করবে না। কিন্তু অন্যদিকে আছে চীনের ১৩০ কোটি লোক – সেই বিশাল বাজার থেকে দূরে থাকাও সমীচীন নয়। সবকিছু মিলিয়ে গুগল সিদ্ধান্ত নেয় যে চীনা সরকার প্রদত্ত নিয়মকানুন মেনে নিয়েই তারা চীনে প্রবেশ করবে। অর্থাৎ চীনা সরকার যেসব সাইট ব্যান করতে বলবে, যেসব তথ্য সেন্সর করতে বলবে, গুগল সেই অনুযায়ী তাদের সার্চ রেজাল্ট বদলে দিয়ে তারপরেই নেট ব্যবহারকারীদের কাছে পরিবেশন করবে। একটা নোট জুড়ে দেবে নীচে – যে আইনগত কারনে আপনি সম্পূর্ণ সার্চ রেজাল্ট দেখতে পাচ্ছেন না।

স্বভাবতই এই self-censorship-এর জন্যে গুগল কিছুটা সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল। প্রধাণ দুই মানবাধিকার সংস্থা এমনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ – উভয়ই গুগলের এই পদক্ষেপের সমালোচনা করে। একদিকে আছে গুগলের স্বপ্রণোদিত স্লোগান Don’t be evil. আবার অন্যদিকে তারাই চীনা সরকারের আদেশ মোতাবেক নানান রকম ঘোমটা-বোরখা দিয়ে নেট সার্চ ঢেকে দিচ্ছে। মানে কথা ও কাজে একটা অসামঞ্জস্য আছে। গুগল তখন যেই যুক্তি দিয়েছিল তার সারকথা হলো যে – আমরা আমাদের নীতির প্রশ্নে পিছ-পা হয়েছি, এটা সত্য। কিন্তু চীন থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না থেকে আমরা বরং বিশ্বাস করি যে খন্ডিত/আংশিক গুগল-ও চীনা নেট ব্যবহারকারীদের জন্যে একটা ভালো জিনিস হতে পারে। আর কিছু না হোক, আমরা তথ্যের একটা অল্টারনেটিভ সূত্র দিতে পারছি।

সেই ছিল ২০০৬ সালের কথা। চার বছরে হোয়াংহো নদীতে অনেক জল বয়ে গেছে। গত কয়েক মাসে বিভিন্ন কারনে গুগল ও চীনা সরকারের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমাগত খারাপের দিকে গিয়েছে। অবশেষে ১২ তারিখে গুগল তাদের বিবৃতিটি দিল – বললো যে এখন থেকে তারা আর google.cn-এর কোন সার্চ রেজাল্ট অদল-বদল করবে না, কোন প্রকার সেন্সরশিপে যাবে না। এবং এর ফলে যদি চীনা সরকার google.cn বন্ধ করে দেয় এবং চীন থেকে গুগল-কে বিদায় নিতে হয়, তাহলে সেই মাশুল তারা গুণতে রাজী আছে।

একদিকে ইন্টারনেট জগতের এক ভার্চুয়াল শক্তি, অপরদিকে ভূ-রাজনীতি ও অর্থনীতির পরাশক্তি চীন। এই লড়াই একদিকে যেমন অসম, অপরদিকে তেমনই অভিনব। এই চূড়ান্ত পরিস্থিতির কিভাবে উদ্ভব হলো, এবং আগামীতে এর ফলাফল কি দাঁড়াতে পারে, তা নিয়ে লেখার ইচ্ছে রইলো এর পরের পর্বে।

33
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

গুগলের চীন ত্যাগ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলাপ হচ্ছে। গুগল বাকি দুনিয়াতে এক নম্বর সার্চ ইঞ্জিন হলেও চীনে দু নম্বর (এক নম্বর হচ্ছে বাইদু.কম)। তার পরেও চীনে বিশাল সংখ্যক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছে (৩২০ মিলিয়ন, যা মার্কিন মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশী)। এত বড় বাজার ছেড়ে আসা গুগলের জন্য সাহসের ব্যাপারই বটে। তবে আপাতদৃষ্টিতে গুগল যে moral high ground দেখাল, তাতে বাকি দুনিয়াতে গুগলের সুনাম বাড়বে, আর সুনাম বাড়া মানেই ব্যাবসা বাড়া। ইতিমধ্যেই কিছু কিছু বেইজিং এবং সাংহাইবাসী গুগলের চীনা অফিসের সামনে ফুল দেয়া শুরু করেছে। জনসংযোগের ব্যাপারে গুগল নিশ্চিতভাবেই চীনের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছে, তাতে অবশ্য চীনা সরকারের… বাকিটুকু পড়ুন »

কামরুজ্জামান  জাহাঙ্গীর
সদস্য

আপনার পোস্টের শিরোনাম পড়াতে মনে হতে পারে, চিনের সাথে গুগলের্ একটা যু্দ্ধ যেন শুরু হয়ে গেছে। বিষয়টি কি এরকম? না, চিন এখনও খানিক প্রগতিমুখী আদর্শ বা জেদের ভিতর আছে হয়ত। তারা তো রাষ্ট্রীয় পুজিঁ থেকে ব্যক্তিপুজিঁর দিকে অলরেডি ঝুকেঁই আছে। তবু সমাজবাদ থেকে পুজিঁবাদে ব্যাক করার ট্রানজিয়েন্ট পয়েন্টে একটু লাশ-শরমের খেলা দেখানোর মতো ব্যাপার হচ্ছে আর-কী। নাচতে নেমে চিনারা কেন যে ঘোমটা দিচ্ছে! সমাজতন্ত্র বরাবরই একটা রাষ্ট্রের ব্যাপার, এতে নিয়ম-শৃংখলার এক বিষয় তো থাকতেই হবে। কোনো একটা রাষ্ট্রে সমাজতন্ত্র কায়েম হলে পর এর আশপাশের রাষ্ট্র তো একে গিলে খাওয়ার জন্য হা করে থাকে। সমাজতান্ত্রিক সেই রাষ্ট্র যদি তার ঘরের বেবাক… বাকিটুকু পড়ুন »

রাগিব হাসান
অতিথি

১ গুগলের don’t be evil কথাটা অনেকটা “ভাব” মনে হলেও আসলেই কিন্তু কোম্পানিটির কর্মক্ষেত্রের সংস্কৃতিতে এই ধারণাটা ব্যাপকভাবে চালু। আমি যখন কাজ করতাম (ইন্টার্নশীপ), আমার গ্রুপের বাকি ৩ জনই দেখেছি প্রাইভেসি সংক্রান্ত ব্যাপারে প্রচন্ড সচেতন। সেসময় স্ট্রিট ভিউ ফিচারটি বাজারে ছাড়ার আগে গুগলের কর্মীদের জন্য চালু করে দেয়া হয়। তখনই কোম্পানির ভেতরের বিভিন্ন ফোরামে অনেকে এর প্রাইভেসি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো নিয়ে জোর আলোচনা ও দরকার হলে সমালোচনা করতে দেখেছি। অনেকেরই আশংকা ছিলো, স্ট্রিট ভিউ এর কিছু ফিচার Googly হবে না, মানে গুগলের যে ভালোমানুষ নীতি, তার সাথে মিলবে না। একই ঘটনা দেখেছি ডাবলক্লিক নামের পপআপ ও ব্যানার বিজ্ঞাপনের কোম্পানিটি কেনার সময়ে।… বাকিটুকু পড়ুন »

সৈকত আচার্য
সদস্য

সুবিনয় মুস্তফীকে অভিনন্দন। আপনার এই পোষ্টের কল্যানে দরকারি কিছু তথ্যাদিও জানা হয়ে গেল, যা আগে জানতাম না। জনা পাঁচেক চায়নীজ ছাত্র-ছাত্রীর সাথে যোগাযোগ ছিল আমার। তাদের প্রত্যেকেই দুঃখ করে বলতো, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ এবং তার কোন রুপ প্রচার-প্রচারনা চোখে পড়লেই চায়নীজ সরকার তাদের সাথে অত্যন্ত অমানবিক আচরন করতো এবং তাদের বাকী জীবনকে নরক বানিয়ে ছাড়তো। সবাই এক বাক্যে বলতো, তাদের দেশের নেতারা নাকি অত্যন্ত ভীতু প্রকৃতির যে কারনে তারা তাদের দেশকে সমগ্র বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখার পক্ষপাতী। চীনা মানুষ যেন সেই আদর্শবাদী পিতার সন্তান, যার নাকি, কারো সাথে মিশতে বারণ, পাছে সে খারাপ হয়ে যায়! মুক্ত চিন্তার জয় হোক,… বাকিটুকু পড়ুন »

বিপ্লব রহমান
সদস্য

অনেকদিন পর সুবিনয়দার লেখা পড়লাম। গুগল সর্ম্পকে আপনি যে চিন্তাশীল তথ্য দিয়েছেন, টেকনো-কানা হিসেবে এর প্রায় কিছুই জানা ছিলো না। সে জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ। বিনীত অনুরোধ, নিয়মিত লেখার।

রাগিব হাসানের তথ্য-বহুল দীর্ঘ মন্তব্যটিও ভালো লাগলো। চলকু। 🙂

অস্মিতা
অতিথি

@ সুবিনয় মুস্তফী
আপনার লেখা আগ্রহ নিয়ে পড়ি। চমৎকার তথ্যবহুল পোস্টটির জন্য ধন্যবাদ। ইন্টারনেট এবং মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কিছু মৌলিক ইস্যু জানা হল চীন এবং গুগল নিয়ে আপনার এই লেখাটির মাধ্যমে।

বিনয়ভূষণ ধর
সদস্য
বিনয়ভূষণ ধর

পোষ্টখানার লেখক সুবিনয় মুস্তফীকে অনেক ধন্যবাদ, শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। পোষ্টখানার মাধ্যমে দরকারী অনেক জিনিস জানতে পারলাম আমরা। এখানে আজকে প্রকাশিত ‘কালের কন্ঠ’ থেকে নিচে উল্লেখিত খবরটি দেয়া হলো… চীন ছাড়ছে গুগল! ইন্টারনেটে কঠোর বাধ্যবাধকতা এবং হ্যাকিংয়ের মুখে গত মঙ্গলবার চীনে তাদের সার্চ ইঞ্জিন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছে গুগল। চীনের মানবাধিকার কর্মীদের জিমেইল হ্যাক হওয়ার ঘটনা খুঁজে পাওয়ার পর গুগল এ ঘোষণা দেয়। গুগলের প্রধান আইন কর্মকর্তা ডেভিড ড্রমন্ড বলেন, ‘গত বছরজুড়ে গুগলের ওপর চলা নজরদারি এবং হ্যাকিং আক্রমণের বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার মাধ্যমে চীন ওয়েবের স্বাধীনতাকে আরো খর্ব করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘এসব ঘটনায় আমরা গুগলডটসিএন… বাকিটুকু পড়ুন »

Site Default
সদস্য

ধন্যবাদ সুবিনয়। পোস্টের বিষয়ে একটু একটু ধারণা ছিল। পুরোপুরি জানতে পারলাম অবশেষে।

অট. ভুটান নিয়ে একটা পোস্ট লিখতে চেয়েছিলেন আরো বিস্তারিত ভাবে। কবে পড়ব?

মনজুরাউল
সদস্য

স্বাগতম।

amoun re
অতিথি
amoun re

ঘটনায় নতুন মোড় যোগ হবে যখন বাইদু’র আন্তর্জাতিক সংস্করণ বাজারে আসবে। সেন্সরশিপে ম্যাংগো পাবলিকের কিছু আসে যায় না। ব্যবহার শুরু করার আগে ক’জন এর do no evil নীতিমালা পড়ে দেখে বলুন? সার্চ ইঞ্জিনের দ্রুততা ও ব্যাপ্তিতে এর প্রসার ঘটেছে, do no evil নীতিপালনে নয়। দিনের শেষে খেলাটা হবে টাকা ও প্রযুক্তির – কে কত টাকা ঢালতে পারে, কার প্রযুক্তি কতটুকু ভোক্তা টানতে পারে। গুগলের যদি একটি মেধাবী দল ও খাটানোর জন্য অফুরন্ত পুঁজি থেকে থাকে তাহলে বাইদুর পেছনে বসে থাকা China Inc. এরও সেগুলো আছে, বা সেটা তারা যোগাড় করতে চায়।

পার্থক্য একটাই, চীন প্রতিশোধ নেয়।

রাগিব হাসান
অতিথি

“গুগলের যদি একটি মেধাবী দল ও খাটানোর জন্য অফুরন্ত পুঁজি থেকে থাকে তাহলে বাইদুর পেছনে বসে থাকা China Inc. এরও সেগুলো আছে, বা সেটা তারা যোগাড় করতে চায়।” এখানে দ্বিমত পোষণ করছি। গুগলের মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন বর্তমানে ১৮৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। সেই তুলনায় বাইদুর মাত্র ১৬ বিলিয়ন। বাইদু আমেরিকাতে এসে এখানকার তরুণ ইঞ্জিনিয়ারদের হাতিয়ে ফেলবে, এটা বিশ্বাস করা খুব কঠিন। আর চীনা তরুণ কম্পিউটার প্রকৌশলীদেরও গুগলের চাকুরি বনাম বাইদুর চাকুরি বেছে নিতে হলে গুগলই জিতবে। (এর পেছনের একটা বড় কারণ আসলে শিশু!! চীনের এক সন্তান নীতি এড়াতে অনেক চীনাই বিদেশে থাকতে চায়, অন্তত আমার চীনা এক সহকর্মীর কাছে এটাই শুনেছি!!) আর… বাকিটুকু পড়ুন »

নীড় সন্ধানী
সদস্য

এই বিষয় নিয়ে আজকের নিউইয়র্ক টাইমসের একটা খবরের খানিকটা তুলে দিচ্ছি। এখানে চীনের সাধারন মানুষের মনোভাব সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়েছেঃ At the elite Tsinghua University here, some students were joking Friday that they had better download all the Internet information they wanted now in case Google left the country. But to many of the young, well-educated Chinese who are Google’s loyal users here, the company’s threat to leave is in fact no laughing matter. Interviews in Beijing’s downtown and university district indicated that many viewed the possible loss of Google’s maps, translation service, sketching software, access to scholarly papers and… বাকিটুকু পড়ুন »

ফারুক ওয়াসিফ
সদস্য

সেন্সরশিপের আড়ালে চীন ও গুগলের অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বন্দ্বটি এখানে কিছুটা আলোচিত হয়েছে। আশা করি কাজে লাগবে।
Gathering Clouds
http://www.tnr.com/article/politics/gathering-clouds

রায়হান রশিদ
সদস্য

প্রিয় সুবিনয় মুস্তফী, অনেক দিন পর আপনার লেখা পড়লাম। বরাবরকার মতো অনেক কিছু জানা হল। রাগিব এবং মুনিমের আলোচনা, এবং ফারুক ওয়াসিফের দেয়া নিকোলাস কার এর লিন্ক থেকেও ভেতরকার অনেক বিষয় এবং বহুমূখী স্রোতগুলোর ব্যাপারে জানা গেল। সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা। অফ টপিক: দুঃখিত অন্য একটি বিষয়ও মনে পড়লো; পরে মনে না থাকতে পারে সে কারণে এখানেই উল্লেখ করে রাখি। প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং জলবায়ুর ওপর “গুগল অনুসন্ধান” এর প্রতিক্রিয়া নিয়ে একটা ইন্টারেস্টিং খবর চোখে পড়েছে সম্প্রতি। অনেকে মনে করেন গুগুল সার্চের carbon footprint একেবারে ফেলনা কিছু নয়, যেহেতু কোটি কোটি মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। হার্ভার্ডের এক পদার্থবিদের গবেষণা উপাত্তের ভিত্তিতে… বাকিটুকু পড়ুন »

মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

আমার মনে হয় গুগলের যুক্তিগুলো ফেলনা নয়, IT এর কল্যাণে ইউরোপ আমেরিকাতে বিপুল সংখ্যক লোক বাড়িতে বসে অফিসের কাজ করছেন, তাঁদের অফিসে যাতায়াতের কারণে যে পরিবেশ দুষন হতো, সেটা হচ্ছে না। সাম্প্রতিক কালে ব্রিটেন কাগজের চেক ধীরে ধীরে তুলে নেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে (ইলেক্ট্রনিক চেকের জনপ্রিয়তার কারণে), এখন প্রতিদিন ব্রিটেনে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন চেক লেখা হয়, কাগজের চেক উঠে গেলে বিপুল পরিমাণ গাছের সাশ্রয় হবে। আমাদের অফিসে গত দুবছর ধরে ক্লায়েন্টদের রিপোর্ট হার্ডকপি আকারে পাঠানোর বদলে ডিজিটাল কপি পাঠানো হচ্ছে, শুধু আমাদের দশ জনের অফিসে এটা করে প্রায় পাঁচশ রিম কাগজের সাশ্রয় হয়েছে, রিপোর্টের হার্ডকপি বিলি করার (পোস্ট অফিস, কুরিয়ার… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

ইন্টারনেট সংক্রান্ত ব্যাপার স্যাপার এতোই কম বুঝি যে একেবারে প্রথম দিনেই লেখাটা পড়ার পরও কোনো মন্তব্য করিনি। আজকে যা করতে যাচ্ছি তা ঠিক মন্তব্য নয়, বরং জানতে চাই আর কোন কোন দেশ ইন্টারনেটের ওপর নজরদারি করে? আমেরিকা, ইসরাইল, রাশিয়া, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, জাপান, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, ভারত, সিঙ্গাপুর… এরা কি ইন্টারনেটে নজরদারি করে না? শুধু চীন শয়তান, আর সবাই সাধু! মনে হয় না!
আমার মনে হয় ব্যাপারটি একেবারেই ব্যবসায়িক, নীতিগত কিছু নয় — যদিও আমি এ বিষয়ে অজ্ঞ — তারপরও গুগল নীতির জন্য যুদ্ধে অবতীর্ণ, এ আমার বিশ্বাস হয় না।

তানবীরা
সদস্য

অত্যন্ত সুখ পাঠ্য লেখা।

এব্যপারে একটা মজার ঘটনা না লিখে পারছি না, ঘরে কিছু খুঁজতে হলেই আমার সাত বছর বয়সী মেয়ে বলে ওঠে, কোথায় খুঁজবে, গুগলে?

পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

সুবর্ণা সেঁজুতি
অতিথি
সুবর্ণা সেঁজুতি

সুবিনয় বহুদিন পরে আপনার লেখা পড়লাম। অন্য একজনের দেওয়া লিঙ্ক দিয়ে। গুগলের ব্যাপারটা তিব্বতী বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের আক্রমণের পরবর্তী পর্যায়েই জেনেছিলাম। তখন অস্ট্রেলিয়ার মিডিয়ায় এ নিয়ে অনেক হৈ চৈ হলেও চীনকে কোনোরকম সতর্কতামূলক প্রস্তাব পাঠানো হয়নি, কিস্যু না! আফটার অল, সবচেয়ে বড় আর সবচেয়ে সস্তায় প্রোডাকশান হাউস আর কোথায় পাওয়া যাবে বলুন।

শিশির মীর
অতিথি

শুনুন।।
গুগল ভীষণ শক্তিশালী এটা ঠিক কিন্তু???
গুগল কি চিন্তা করে তৈরি করা হয়েছে জানেন??গুগল তৈরি করা হয়েছে সারা বিশ্বকে চিন্তা করে।
আর
বাইদু তৈরি করা হয়েছে চীনাদের জন্য।চীনাদের চাহিদা অনুযায়ী বাইদু ডেভেলপ করা।।
বাইদু ইচ্ছে করলে গুগলের থেকে এগিয়ে যেতে পারে কিন্তু তাহলে বাইদুকে আবার সবকিছু ডেভেলপ করতে হবে এবং সারা পৃথিবীর চাহিদা অনুযায়ী।।
লোকে গুগল না ব্যবহার করে বাইদুই ব্যবহার করত!!
কিন্তু বাইদুর ভাষা কিভাবে বুঝবে???
বাইদু তো চীনা ভাষায় লেখা।এমনকি ইংরেজি ভাষায়ও উপলব্ধ নয়!!
তাই বাইদু আর গুগলের তুলনা না করাই ভালো।কারন গুগলে যে ফীচাট গুলো আছে বাইদুতেও তা আছে।।
আর বাইদু শক্তিশালী ও বটে!!

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.