যতদিন ছুটুমা-সোনাপিসে খালিশপুরের বাড়িতে ছিলেন, ১৪ ডিসেম্বর সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে হাদিস পার্কে সারা রাত অনুষ্ঠান হত। এক রাত আমি ওই বাড়িতে ছিলাম, অনুষ্ঠান শেষে। এই রাত্রিদিন গুলি আমার জন্য রক্তের আখরে আঁকা। ছুটুমা বলতেন, ‘ওরা আসবে,’ — ‘ওরা দেখতে পাচ্ছে। তোর মনে হয় না?’ [. . .]

১ আমার পিসিদের তিনজনকে আমি ছোটবেলা থেকে আমি মা বলতে শিখেছি — রাঙামা, ফুলমা, ছুটুমা। সম্ভবত, তাঁদের জৈবিক অর্থে কোনো সন্তান ছিল না বলে, অন্য পিসিরা এবং আমার মাবাবা এই শিক্ষাটা দিয়েছিলেন। মার মতোই আমার পিসিরা, সবাই। মমতায় কাছে টেনেছিলেন তাই নয়, মানুষও করেছিলেন। যে যেভাবে পেরেছেন। প্রত্যেকের হাতেই দেয়ার মতো অজস্র সম্পদ ছিল যে! শেষের জন, মুক্তি মজুমদারের সান্নিধ্যে এসেছি অনেক ছোটবেলা থেকেই, তবে প্রবাস থেকে ফেরার পর সাড়ে দশ বছরের আমি থেকে পরিণত বয়েসি আমি পর্যন্ত আমার প্রত্যেক দিনই ইনি আমার চেতনার অংশীদার হয়ে রয়েছেন। ভালোবাসায়। ২ আসলে ছুটুমাই বোধ হয় আমাকে রবীন্দ্রনাথ, শান্তিনিকেতন চিনিয়েছেন, আর চিনিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের গান, নতুন করে, নতুন আঙ্গিকে। আমার যৌবনকে করেছেন টালমাটাল, অপূর্ব। শান্তিনিকেতনের পরিবেশের আভা তাঁর জীবনে, তাঁর ব্যক্তিত্বে; এটা তাঁর খোলস নয়, তাঁর ধাতু। আবার বাংলাদেশের সচেতন, সাহসী, অসাম্প্রদায়িক পরিবেশের পরিষ্কার, স্বাস্থ্যকর সুবাস। আমি ওই সুবাসে আসক্ত হয়েছিলাম ছোটবেলায়, তাই ছুটুমার বাড়ি যেতে চাইতাম সুযোগ পেলেই। গেলেই বাবার আনা লংপ্লেতে ভারতীয় রাগসঙ্গীত, অথবা চিত্রাঙ্গদা, চণ্ডালিকা, অথবা নানা রঙের স্বাদের পুরনো রেকর্ড আমাকে শুনতে দিতেন। আমি সেই সব গান মন্ত্রের মতো বসে বসে শুনেছি, জয়নুল আবেদিন অথবা নন্দলাল বসুর স্কেচের বই হাতড়েছি। অদূরে ধানক্ষেত তখন সবুজ আভায় টুসটুস করছে। ‘আমার যায় বেলা বয়ে যায় বেলা কেমন বিনা কারণে’, শুনতে শুনতে সময় থমকে থেকেছে। সেসব দিনে ছুটুমার গলায় শুনেছি মায়াবী ব্যঞ্জনার গান, নিভৃতে, সেই গ্রামীণ বাংলাদেশের নির্জন, নিরালা সুস্বাদু পরিবেশে, ‘কী সুর বাজে আমার প্রাণে, আমিই জানি, মনই জানে’। উনি জেনেছেন, আমিও বোধ হয় জেনেছি তখন, সেই ছোটবেলাতেই। কেউ বাধা দেয়নি। বরং ছুটুমার কাছে গান শিখতে আসা প্রাণের মেলায় মিলতে আসা শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীদের ভিড়ে আমিও মিশে গিয়েছি, শিখেছি এমন সব গান যা আমি আগে শুনিনি, ‘মোরা সত্যের 'পরে মন আজি করিব সমর্পণ’ অথবা ‘জাগো নির্মল নেত্রে রাত্রির পরপারে, জাগো অন্তরক্ষেত্রে মুক্তির অধিকারে’ — প্রবাসে চার বছর কাটিয়ে আসার পর গান, বাংলা ভাষা আর সুমধুর পরিবেশের এই বন্যা, আমার কৈশোরকে, যৌবনকে কোনো বিশাল স্বপ্নকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করেছে। এর একটা কারণ বোধ হয় আমার জীবনের একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে, অর্থাৎ আমার প্রাক-বয়ঃসন্ধির সময় থেকে শুরু…

|| ইতিহাসের ভাষা || রোমকদের ইতিহাস সম্পর্কে এখানে বেশ খানিকটা আলোচনা করেছি আমরা, একেবারে তাদের প্রাচীনকাল থেকে পরবর্তী বেশ কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত। আমরা যে এসব সম্পর্কে কিছু জানি তার কারণ নিজেদের ইতিহাস লিখে রাখার ব্যাপারে আগ্রহের কমতি ছিল না রোমকদের। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   ইতিহাসের ভাষা রোমকদের ইতিহাস সম্পর্কে এখানে বেশ খানিকটা আলোচনা করেছি আমরা, একেবারে তাদের প্রাচীনকাল থেকে পরবর্তী বেশ কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত। আমরা যে এসব সম্পর্কে কিছু জানি তার কারণ নিজেদের ইতিহাস লিখে রাখার ব্যাপারে আগ্রহের কমতি ছিল না রোমকদের। ইতিহাস লেখার এই ধারণাটিও তারা পেয়েছিল আসলে গ্রীকদের কাছ থেকেই, যারা রোমকদের বহু শত বছর আগেই নিজেদের ইতিহাস লিখে রাখতে শুরু করেছিল। আর, মজার বিষয় হলো রোমের ইতিহাস বিষয়ে আমাদের কাছে এখনো যেসব উৎস রয়েছে তার অনেকগুলোই গ্রীক ভাষায় লেখা। তবে একবার শুরু করার পর রোমকরা বেশ কিছু উৎকৃষ্ট মানের লেখার জন্ম দিয়েছে। রোমের ইতিহাস যাঁদের আগ্রহের বিষয় তাঁদের জন্য বেশ কিছু রোমক ঐতিহাসিকের লেখা আজও পাঠযোগ্য বলে বিবেচিত। সাধারণত প্রথমেই যাঁর নাম আসে তিনি সালাস্ত (Sallust; লাতিন ভাষায়, Sallustius) — সিযারের ঘনিষ্ঠতম কর্মকর্তাদের অন্যতম, নিজেও সিনেটর হয়েছিলেন, আর প্রশাসক নিযুক্ত হয়েছিলেন নুমিদিয়ার (মোটামুটি বর্তমান আলজেরিয়া বলা যেতে পারে জায়গাটিকে)। সম্ভবত, নিজের প্রদেশটিকে ভালোই শোষণ করেছিলেন তিনি, কারণ রোমের সেরা এলাকায় বিশাল এক বাগানসহ একটা বাড়ি কিনেছিলেন তিনি নিজের জন্য। অবশ্য চল্লিশ বছর বয়েসে অবসর নিয়ে লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। সেসব লেখার মধ্যে যা আমাদের হাতে এসে পৌঁছেছে তা ছোট দুটি বই, যার একটি সেই ক্যাতিলিন সম্পর্কে, যাঁকে সিসেরো আক্রমণ করেছিলেন। পড়তে বেশ ভালো বইটা, স্কুলে পাঠ্য-ও ছিল বেশ কয়েকশ বছর। ছাড়া ছাড়া রচনা শৈলীতে বেশ ভালোই লেখেন সালাস্ত, এবং তাঁর বর্ণনায় পাওয়া যায় মানুষজন কেমন, কেমন তাদের হওয়া উচিত সে-সম্পর্কে পরিষ্কার ভাষায় বলা তাঁর নিজস্ব ভাবনা চিন্তা: যেমন, তিনি বলছেন, “Régibus boni quam mali suspectiores sunt”, অর্থাৎ, ‘রাজার কাছে মন্দ লোকের চাইতে ভালোরাই বেশি সন্দেহজনক।‘ (লাতিন থেকে আক্ষরিক ইংরেজি করলে দাঁড়ায় — To kings, good than bad more suspected are)। ইতিহাসের ঘটনার বর্ণনার মাঝে নৈতিক শিক্ষা খোঁজ করবার একটা প্রবণতা চালু করেছিলেন তিনি রোমক ইতিহাসবিদদের মাঝে। আধুনিক আর রোমক ইতিহাসবিদদের মধ্যে একটা পার্থক্য হলো, তাঁরা তাঁদের চরিত্রদের দিয়ে কোনো বক্তৃতা করিয়ে নিতেন। তবে, এটা এক অর্থে ঐতিহাসিকভাবেও…

মানুষটা তাঁর যুগ ও বাস্তবতার অনেক আগেই জন্মেছেন। জার্মানির একটি গণিত-প্রেমিক, ইহুদি পরিবারে। আইনস্টাইনের প্রায় সমসাময়িক, এবং জীবন-বাস্তবতা প্রায় বিপরীত। আইনস্টাইন খ্যাতি ও সামাজিক পরিচিতির কড়া আলোয় এসেছেন। আর এই মানুষটি দশজনের চোখের আড়ালে, আঘাত ও অসম্মানের সঙ্গে পেছন থেকেই, তাঁর মত এক শান্ত, নির্লিপ্ত সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। [. . .]

মানুষটা তাঁর যুগ ও বাস্তবতার অনেক আগেই জন্মেছেন। জার্মানির একটি গণিত-প্রেমিক, ইহুদি পরিবারে। আইনস্টাইনের প্রায় সমসাময়িক, এবং জীবন-বাস্তবতা প্রায় বিপরীত। আইনস্টাইন খ্যাতি ও সামাজিক পরিচিতির কড়া আলোয় এসেছেন। আর এই মানুষটি দশজনের চোখের আড়ালে, আঘাত ও অসম্মানের সঙ্গে পেছন থেকেই, তাঁর মত এক শান্ত, নির্লিপ্ত সংগ্রাম চালিয়ে গেছেন। দুজনই জার্মান, ইহুদি, ও বিজ্ঞান-সাধক। আরো মিল তাঁদের গভীরে সমাজ ও মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ আগ্রহে ও সহানুভবে, তাঁদের নিঃসীম উদারতায় ও সাদামাঠা জীবনযাপনে, এবং তাঁদের যৌথ বিজ্ঞান-সাধনায়। জার্মানিকে গণিত-সাধনার পাদ-পীঠ বলা হয়। জার্মানির গণিত-ইতিহাস প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী, এবং সেখানে বহু ইহুদির বলার মত অবদান আছে। জার্মান গণিতের কথা বললে গাউস, রীমান, ডেডিকেন্ট, ওয়ার্সত্রাস, মোবিয়াস, বেসেল, কুরান্ট, ক্রনেকার, হিলবার্ট, এমন অনেক নাম গণিত-ছাত্রের মনে হয়ত ধাক্কা দেবে। আর এই মানুষ তো গণিত নিয়েই তার পুরো জীবন কাটিয়ে গেছেন। তাঁর অভিনব আবিষ্কারে একের পর এক খুলে গেছে বিজ্ঞানের নানা দিকের দরজা। আশ্চর্য জটিল বিষয়ের নির্যাস ছেঁকে, তাদের মৌলিক, সরল ধর্মগুলি তুলে ধরেছেন অদ্ভুত সাবলীলতায়। জন্ম দিয়েছেন গণিতের আধুনিক রূপ, নতুন অবয়ব। স্থানকালের দিক থেকে নোয়েথার মোটামুটি একটি প্রতিকুল পরিবেশ বেছেই জন্মেছেন। জার্মানির তীব্র পুরুষতান্ত্রিক, সাম্প্রদায়িক পরিবেশে, তিনি ম্যাক্স নোয়েথারের কন্যা, এক জন উদার, প্রগতিশীল, সমাজবাদের আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাভাবাপন্ন মানুষ হিসেবে বিবর্তিত হয়েছেন। যেমন অনুমান করা যায়, এ সব কটি কারণেই তাঁর জীবনে বিপর্যয় এসেছে; অবমাননা, অসম্মান, জীবন-জোড়া আর্থিক সংকট, সংঘাত, সংগ্রাম। কিন্তু যাঁরা নোয়েথারকে চেনেন, তাঁরা তাঁর অস্তিত্বের প্রবল উজ্জ্বল দিকটিও জানেন। সব সংকুলতাকে প্রায় ধুলোর মত কাঁধ থেকে ঝেড়ে ফেলে তিনি ঝাঁপ দিয়েছেন জীবনের সব অবশ্য-কর্তব্য ইতিবাচক কাজের সমুদ্রে। সংসার ও সমাজের জটিল, নিষ্ঠুর কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শান্তির নীড়ের মত সরল বনস্পতি হয়ে উঠেছেন তাঁর আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু ও ছাত্রদের কাছে। আঠের বছর বয়স্ক এমি তাঁর জীবনের মোড় পাল্টেছেন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে: গতানুগতিক গৃহিণী বা ইস্কুলের শিক্ষক হতে নয়, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনো উচ্চশিক্ষা পেতে চান। ১৯০৮ পর্যন্ত চালচিত্রটা এরকম: জার্মানিতে মহিলারা রাজনৈতিক জীবনে বা সভা-সমিতিতে যোগ দিতে পারেন না। চোদ্দ বা পনের বছর পর্যন্ত কথা বলার মত কিছু ইংরিজি বা ফরাসী, ধর্মশিক্ষা, গার্হস্থ্য-বিজ্ঞান ও শিশু-শিক্ষা, বড় জোর ইস্কুল শিক্ষক হবার তালিম ছাড়া কিছু পান না…

সিসেরোর জন্ম ও মৃত্যু, যথাক্রমে, ১০৬ ও ৪৩ খৃষ্ট পূর্বাব্দে। সেই বিপ্লবের কালে, এক সংক্ষুব্ধ সময়ে জীবন কাটিয়েছেন তিনি। আমরা যাকে উচ্চ মধ্যবিত্ত বলি সেরকম এক পরিবারে জন্ম তাঁর, রোমে যাদের ‘équites’, (knights) বলা হতো। [. . .]

Tore Janson-এর সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা ভাষান্তর   সিসেরো আর বক্তৃতা বা অলংকারশাস্ত্র সিসেরোর জন্ম ও মৃত্যু, যথাক্রমে, ১০৬ ও ৪৩ খৃষ্ট পূর্বাব্দে। সেই বিপ্লবের কালে, এক সংক্ষুব্ধ সময়ে জীবন কাটিয়েছেন তিনি। আমরা যাকে উচ্চ মধ্যবিত্ত বলি সেরকম এক পরিবারে জন্ম তাঁর, রোমে যাদের ‘équites’, (knights) বলা হতো। আইনকে যাতে পেশা হিসেবে নিতে পারেন, সব পরিস্থিতিতেই যাতে সুন্দর করে কথা বলতে পারেন, এবং প্রয়োজনে, যুদ্ধেও যোগ দিতে পারেন, একথা বিবেচনায় রেখে একেবারে ব্যতিক্রমী এক পূর্ণাঙ্গ শিক্ষা দেয়া হয়েছিল তাঁকে। প্রথমে রোমে, পরে এথেন্সে পড়াশোনা করেন তিনি, যেখানে গ্রীসীয় শিক্ষা ধারার যথেষ্ট গভীরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছিলেন তিনি। প্রায় পঁচিশ বছর বয়েস থেকেই বিতর্কিত বিচারগুলোতে সওয়াল-জবাবের জন্য আদালতে উপস্থিত হতে শুরু করেন তিনি, এবং ক্রমে বেশ সুনাম অর্জন করেন। এক সময়ে তিনি প্রশাসনের উচ্চপদে নির্বাচিত হন, আর তার ফলে পরে সিনেটেও স্থান লাভ করেন। হয়ে ওঠেন এক ‘homo novus’, (নতুন মানুষ), তার মানে এমন একজন মানুষ যাঁর পরিবারের কেউ সিনেটে না থাকার পরেও যিনি সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এমনকি কনসাল পদে, আর তার অর্থ, রাষ্ট্র প্রধান হিসেবেও, বৃত হন, এবং সেটা ৬৩ খৃষ্ট পূর্বাব্দে। একজন ‘homo novus’-এর পক্ষে এতদূর যাওয়া ছিল আসলেই অভূতপূর্ব একটি ঘটনা। জীবনের বাকি কুড়ি বছর সিসেরা — কম-বেশি সাফল্যের সঙ্গে — একেবারে সর্বোচ্চ স্তরে ক্ষমতার খেলা খেলে গেছেন। সিযারের হত্যাকাণ্ডের পর অল্প সময়ের জন্য রোমের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে শীর্ষে অবস্থান ছিল তাঁর, কিন্তু পরে, জেনারেল এন্টনিয়াসের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্বে হেরে যান তিনি, এবং আততায়ীর হাতে নিহত হন। ভাল কথা, এই এন্টনিয়াস-ই কিন্তু চলচ্চিত্র এবং নাট্যপ্রেমীদের প্রিয় 'এন্টনি ও ক্লিওপেট্রা'-র এন্টনী, যিনি গেইয়াস অক্টাভিয়াস বা পরবর্তীকালে সম্রাট অগাস্টাস নামে পরিচিত রোম সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে ক্ষমতার লড়াইয়ে হেরে আত্মহত্যা করেন। সিনেটে, এবংসাধারণভাবে জনগণের উদ্দেশে প্রচুর বক্তৃতা দিয়েছেন সিসেরো। নিজের জীবদ্দশাতে সেগুলোর বেশিরভাগ-ই প্রকাশ করেছিলেন তিনি, এবং সেসবের মধ্যে ৫০টি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। সিসেরোর বক্তৃতাগুলো বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। অত্যন্ত দক্ষ বক্তা ছিলেন তিনি; তাঁর কণ্ঠ ছিল ভাল, নিজের কথা বলতেও পারতেন…

প্রতি বছরের মতো ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বরও বিশ্বজুড়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে। ১৯৮১ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৩৬ মিলিয়ন মানুষ ঘাতক-ব্যাধি এইডস-এ মারা গেছে; প্রায় ৩৫.৩ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্ত। অ্যান্টিরেট্রোভাল ট্রিটমেন্ট আবিষ্কৃত হলেও এইডস-এ প্রতি বছর ২ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, যার মধ্যে ২৭০,০০০ হচ্ছে শিশু। [. . .]

প্রতি বছরের মতো ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বরও বিশ্বজুড়ে উদ্‌যাপিত হচ্ছে বিশ্ব এইডস দিবস হিসেবে। ১৯৮১ সাল থেকে ২০১৩ পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৩৬ মিলিয়ন মানুষ ঘাতক-ব্যাধি এইডস-এ মারা গেছে; প্রায় ৩৫.৩ মিলিয়ন মানুষ বর্তমানে এইচআইভি আক্রান্ত। অ্যান্টিরেট্রোভাল ট্রিটমেন্ট আবিষ্কৃত হলেও এইডস-এ প্রতি বছর ২ মিলিয়ন মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে, যার মধ্যে ২৭০,০০০ হচ্ছে শিশু। ১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ইঞ্জেকশন দিয়ে কয়েকজন নেশাসক্ত হাসপাতালে আসেন দুর্লভ ধরণের নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে। এই নিউমোনিয়া তাদেরই হয়, যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে যায়। এর কিছু পরে সচরাচর হয় না এমন ত্বকের রোগ কাপোসিস সারকোমা নিয়ে আসেন অনেক সমকামী। মর্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধ বিভাগ সচকিত হয় ব্যাপক সংখ্যক মানুষের এই দু’টো রোগের প্রাদুর্ভাবে। প্রথমদিকে এই বিভাগ এই অদ্ভুত অসুখের নাম দিয়েছিল ফোরএইচ (হাইতিয়ান, হোমোসেক্সুয়াল, হেমোফিলিক এবং হেরোইন ইউজারস)। প্রথমদিকে একে সমকামীদের অসুখ ভাবা হত, কিন্তু পরে দেখা গেল জাতি-বর্ণ-ধর্ম নির্বিশেষে সবাই আক্রান্ত হচ্ছেন এতে। ১৯৮২ সালের জুলাই মাসে ফোরএইচ নাম বদলে অসুখটির নাম হয় — অ্যাকোয়ার্ড ইমিউন ডেফিশিয়েন্সি সিনড্রোম অর্থাৎ প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধের অভাব। যে ভাইরাসটি এই অভাবের জন্য দায়ী তাকে বলে হিভ বা এইচআইভি, হিউম্যান ইমিউনোডেফিশিয়েন্সি ভাইরাস। ইউএনএইডসের ২০১০ সালের হিসাব মতে ২০১০ পর্যন্ত ৩৪ মিলিয়ন মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত হয়েছে। বলা হচ্ছে দু’টি বিশ্বযুদ্ধে যত মানুষ মারা গেছে এইডস তার চাইতে বেশি মানুষকে মেরেছে। এইডস শুধু যে অসুখ হিসেবে মানুষের মৃত্যুর কারণ হয় তাই নয়, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক বৈষম্যের কারণেও মানুষের মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে এইডসকে সমকামীদের এবং অমিত যৌনাচারের সাথে সম্পর্কিত অসুখ হিসেবে চিহ্নিত করায় বৈষম্য সমস্যাটি প্রকট হয়। দেখা গেছে এইডস জনিত কারণে যে নির্যাতন ইত্যাদি হয়, সেই আতঙ্কে অনেকে এইডস পরীক্ষা করানো থেকেও বিরত থাকে। এইডসের কলঙ্ক কয়েকটি ভাগে ভাগ করা যায় : ● যে কোনো ভয়ানক ছোঁয়াচে অসুখের ভয়। ● এইচআইভি/এইডসকে কোনো সামাজিক জীবনাচরণ বা দলের সাথে সম্পৃক্ত করে দেখা। ● যারা এইচআইভি/ এইডস বা এইআইভি পজিটিভদের সাথে সম্পৃক্ত তাদের সামাজিকভাবে হেয় করা। ইউএনএইডসের হিসাব মতে ২০১১ সালে সারাবিশ্বে এইচআইভি আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪.২ মিলিয়ন। এর মধ্যে অর্ধেক নারী। দেখা যায় যে, পুরুষের দ্বারা বা রক্ত সঞ্চালন ইত্যাদির মাধ্যমে আক্রান্ত হলেও…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.