উত্তরপশ্চিমে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে ভারতীয় মাওবাদীরা পৌঁছে গেছে। তারা এখন মুর্শিদাবাদ নদীয়া ও মালদায় ঘাঁটি গড়েছে।[...]

উত্তরপশ্চিমে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছে ভারতীয় মাওবাদীরা পৌঁছে গেছে। তারা এখন মুর্শিদাবাদ নদীয়া ও মালদায় ঘাঁটি গড়েছে। এটা মাওবাদীদের কৌশলগত সম্প্রসারণ। সম্প্রতি মাওবাদীদের অপারেশনগুলো ভারত সরকার ও মিডিয়াকে ভাবাচ্ছে। এতদিন বলা হত তাদের অস্ত্রের উৎস ভারতের অস্ত্র বাজারেই সীমাবদ্ধ। এখন কিন্তু সরকার ও মিডিয়া উভয়েরই আঙ্গুল উঠেছে বাংলাদেশের অস্ত্রের কারবারিদের দিকে। ভারতীয় মিডিয়া এখন বলছে বাংলাদেশের উত্তরপশ্চিম সীমান্তে মাওবাদীরা এসে কিছু অস্ত্র এর মধ্যে কিনে নিয়ে গেছে এবং আরো অস্ত্রের বায়নানামা সম্পাদনের প্রয়োজনীয় বোঝাপড়া সেরে গেছেন এবং এখানকার অস্ত্রের কারবারিদের সাথে তাদের একটি গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। আর এই অঞ্চলের চরমপন্থিদের সাথেও মাওবাদীদের দুয়েকটি বৈঠকের কথাও মিডিয়া বলছে এবং কিছু সংবাদমাধ্যম এতটুকু পর্যন্ত বলছে যে ভারতীয় মাওবাদীরা বাংলাদেশে মাওবাদের সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে চায়। ভারত সরকার শুধু বলেছে, মুর্শিদাবাদ নদীয়া ও মালদা তিন জেলায় যে বিস্তীর্ণ এলাকা আছে সীমান্তে, সেই সীমান্ত পথকেই অস্ত্রের চালানের কাজে ব্যবহার করতে চায় মাওবাদীরা। মাওবাদীদের কয়েকজন নেতা নাম বদল করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী গ্রামগুলো ঘুরে গেছেন।আমরা তো বাংলাদেশে আমাদের অস্ত্র কারবারিদের সম্বন্ধে কিছুই জানি না। কিন্তু সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের অস্ত্র কারবারিদের নাম আছে। আগে বাংলাদেশের ইসলামি জঙ্গি, উলফা এবং ভারতের ইসলামি জঙ্গিদের সাথে এখানকার অস্ত্র ব্যবসায়ীদের ভয়ঙ্কর সম্পর্কের কথা আমরা অনেক শুনেছি। কিন্তু ঠিক কারা কারা এই অস্ত্র ব্যবসায়ের গডফাদার, তাদের সংখ্যাই বা কত, তার কোনো ধারণা আমরা আজো আমাদের সরকার বা মিডিয়ার কাছ থেকে পাইনি। এই ধরনের নাশকতার শক্তিধর চক্রের সমীক্ষা জানতে সরকার ও মিডিয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমাদের সব সরকার ও সব মিডিয়া এই বিষয়টিতে সবসময়ে অত্যন্ত রক্ষণশীল ভূমিকা পালন করছে। কিন্তু সময় হয়ে গেছে, এখনই সরকার ও মিডিয়াকে রক্ষণশীল ভূমিকা পরিত্যাগ করতে হবে না হয় বাংলাদেশের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সব গোপন আঁতাতগুলো ভয়ঙ্কর সব পদক্ষেপের দিকে এগিয়ে যাবে। যেদিকটি সরকার ও মিডিয়ার সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা উচিত, তা হল, সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা যেন মাওবাদী ও বাংলাদেশের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনোভাবেই গোপন আঁতাতটি শক্তিশালী না হয়ে ওঠে। কারণ এই আঁতাত যদি একবার দৃঢ় হয় তবে বাংলাদেশে মাওবাদী উগ্রপন্থা বিস্তারের হাজারটা সম্ভাবনাহীনতার কারণ থাকলেও এই উগ্রপন্থার সম্প্রসারণ ঘটবেই – এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কারণ আমার মতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত উগ্রপন্থী এখন মাওবাদীরা – চূড়ান্ত সামরিক দক্ষতা ও গেরিলা আক্রমণ ঠেকানোর মতো সাঁড়াশি রণকৌশল জানা না থাকলে মাওবাদীদের কেউ ঠেকাতে পারবে না। আর বাংলাদেশের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলে এখন আর আদিবাসী বসতি তেমন না থাকলেও বাংলাদেশের দরিদ্রতম অঞ্চল এটি এবং বাংলাদেশের খনি সম্পদ যা আছে তাও এ অঞ্চলেই আছে। এবং আমরা সবাই জানি মাওবাদীরা এই দারিদ্র ও খনি যেখানে সেখানে তাদের উগ্রপন্থা বিস্তারে খুবই সফল। তাই আমাদের সরকার ও মিডিয়ার সময় এসেছে অস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবসায়ের কালোবাজারটিকে নিয়ে আরো সতর্ক হওয়া ও প্রতিবেদন মনস্ক হওয়া। আর এটাও আমরা সবাই জানি আমাদের সরকার ও মিডিয়ার যত দেরী হয়ে যাবে ততই উগ্রপন্থীদের বন্দুকের নলের কাছে আমরা পৌঁছে যাব।

মাসুদ করিম

লেখক। যদিও তার মৃত্যু হয়েছে। পাঠক। যেহেতু সে পুনর্জন্ম ঘটাতে পারে। সমালোচক। কারণ জীবন ধারন তাই করে তোলে আমাদের। আমার টুইট অনুসরণ করুন, আমার টুইট আমাকে বুঝতে অবদান রাখে। নিচের আইকনগুলো দিতে পারে আমার সাথে যোগাযোগের, আমাকে পাঠের ও আমাকে অনুসরণের একগুচ্ছ মাধ্যম।

24
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

ভারতের নকশালদের আন্দোলনকে আন্দোলন না বলে এক ধরনের organized crime syndicate বলা যায়। তারা চাঁদাবাজির মাধ্যমে মোটামুটি ভাবে ১৫০০ কোটি টাকার একটা tax base তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাঁদার বিনিময়ে নিরাপত্তা পাচ্ছে, বেকার যুবক শ্রেণী কাজ পাচ্ছে (কাজ মানে নকশাল আন্দোলনের কর্মী হবার কাজ), এই নিরাপত্তা আর কাজ কোনটাই ভারতীয় সরকার দিতে পারেনি। খুব শীঘ্রি পারবে বলেও মনে হয় না। বোম্বে আর হায়দ্রাবাদে রাতারাতি কল সেন্টার বসিয়ে বিদেশী কাঁচা পয়সা এনে বাহবা কুড়ানো যত সহজ, গহিন বনাঞ্চলে শক্তিশালী অর্থনীতি চালু করা তত সহজ নয়। বিশ্বের অন্যান্য স্থানেও radical রাজনীতি কেন্দ্রিক এই জাতীয় syndicate আছে। আফ্রিকাতে যেমন আছে হীরক… বাকিটুকু পড়ুন »

বিনয়ভূষণ ধর
সদস্য
বিনয়ভূষণ ধর

@মাসুদ ভাই!
আপনার মতো আমরাও খুব উদ্বেগের সাথে ব্যাপারটি খেয়াল করেছি। সন্ত্রাসের মাধ্যমে মাওবাদীদের যেভাবে বিস্তার ঘটেছে তা থেকে কিভাবে আমরা সবাই পরিত্রান পেতে পারি তা নিয়ে আমাদের সবার খুব গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করা উচিত। কারণ আর যাই হোক মানুষ হত্যা আর সন্ত্রাস করে বর্তমান বিশ্বে অধিকার আদায়ের নামে অপ-রাজনীতি মানুষ এখন আর গ্রহন করেনা। মাওবাদীদের বিষয়টি নিয়ে গতকাল প্রথম আলো পত্রিকায় একটি চমৎকার কলাম লিখেছেন বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক জনাব হাসান ফেরদৌস। পড়ুন এখানে…

মনজুরাউল
সদস্য

যেদিকটি সরকার ও মিডিয়ার সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখা উচিত, তা হল, সর্বোচ্চ সতর্ক থাকা যেন মাওবাদী ও বাংলাদেশের অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে কোনোভাবেই গোপন আঁতাতটি শক্তিশালী না হয়ে ওঠে। কারণ এই আঁতাত যদি একবার দৃঢ় হয় তবে বাংলাদেশে মাওবাদী উগ্রপন্থা বিস্তারের হাজারটা সম্ভাবনাহীনতার কারণ থাকলেও এই উগ্রপন্থার সম্প্রসারণ ঘটবেই – এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত। কারণ আমার মতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত উগ্রপন্থী এখন মাওবাদীরা – চূড়ান্ত সামরিক দক্ষতা ও গেরিলা আক্রমণ ঠেকানোর মতো সাঁড়াশি রণকৌশল জানা না থাকলে মাওবাদীদের কেউ ঠেকাতে পারবে না। লেখককে মনে হলো ভয় পেয়ে স্পোকসম্যানের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন! মোহাম্মদ মুনিম এর মন্তব্যে একাত্তরে ইন্দীরা গান্ধীর রাষ্ট্রীয়… বাকিটুকু পড়ুন »

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.