বিসর্জন ও পশু

স্রষ্টার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকারের বাণীই এ ঘটনার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে [...]

আল্লাহ তাআলা হজরত ইব্রাহিম (আ.) কে নির্দেশ দিয়েছিলেন, তাঁর সবচেয়ে প্রিয় বস্তু কোরবানি দিতে। আল্লাহ তাঁর নবীকে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন। স্নেহের পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) ছিলেন হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সবচেয়ে প্রিয়। পিতা হয়ে পুত্রকে কোরবানি দেওয়া অসম্ভব কাজ। কিন্তু আল্লাহর নির্দেশপ্রাপ্ত হয়ে হজরত ইব্রাহিম (আ.) বিনা দ্বিধায় নিজ পুত্রকে কোরবানি দিতে উদ্যত হয়েই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। মহান আল্লাহর নির্দেশে তাঁর ছুরির নিচে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর স্থলে কোরবানি হয়ে যায় একটি দুম্বা। স্রষ্টার প্রতি পরিপূর্ণ আনুগত্য ও ত্যাগ স্বীকারের বাণীই এ ঘটনার মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়েছে।

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সন্তানের পরিবর্তে হলো পশু, তাহলে পশুর পরিবর্তে এই পরিবর্তনের যুগে অর্থ হলে ক্ষতি কী?
সবাই মিলে একই দিনে এভাবে এতগুলো পশু বিসর্জনের মধ্য দিয়ে নিজেদের পশুশক্তির বিনাশ চেয়ে কী পাশবিকতায় মেতে উঠছি আমরা?
জলবায়ু পরিবর্তনের ত্রাসের মধ্যে থেকে এই দূষণ ছড়ানো কুরবানি ত্যাগ করে, আর্থিক উৎসর্গের কোনো নীতির দিকে যেতে পারে না ধর্মপ্রাণ মুসলিম সমাজ?

মাসুদ করিম

লেখক। যদিও তার মৃত্যু হয়েছে। পাঠক। যেহেতু সে পুনর্জন্ম ঘটাতে পারে। সমালোচক। কারণ জীবন ধারন তাই করে তোলে আমাদের। আমার টুইট অনুসরণ করুন, আমার টুইট আমাকে বুঝতে অবদান রাখে। নিচের আইকনগুলো দিতে পারে আমার সাথে যোগাযোগের, আমাকে পাঠের ও আমাকে অনুসরণের একগুচ্ছ মাধ্যম।

14
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
মনজুরাউল
সদস্য

এই পুরো ব্যাপারটার ভেতরেও এক ধরণের পশুবৃত্তি কাজ করছে। জঙ্গলে সিংহ একটি মোষ বা হরিণ শিকার করে তার বুকের ওপর দাঁড়িয়ে শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে।ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে নেকি বা ছোয়াব হাসিলের আরো অনেক পন্থা থাকা স্বত্তেও “কুরবানী”র নামে পা বেঁধে পশু হত্যার আর কোনই ব্যাখ্যাই নেই সেই সিংহসম দাম্ভিকতা আর শ্রেষ্ঠত্ব প্রমান ছাড়া।

একটা সমাজ কতটা পিছিয়ে থাকা হলে সেখানে এখনো দল বেঁধে নাঙ্গা তলোয়ার হাতে রক্তাক্ত পোশাকে সারাদিনমান এক ধরণের খুনে দৃশ্যের প্রচার চলতে পারে! আমাদের প্রজন্মের পর প্রজন্ম সেই খুনে সংস্কৃতিই বহন-লালন করে চলেছে। জবেহ্ সংস্কৃতি।

তাপস দে
অতিথি
তাপস দে

ধন্যবাদ মাসুদ করিম, ভোগের আয়োজনে সংযমের আলোচনায়। আত্মসমালোচনা এবং সময়োপযোগিতায় আপনি হয়তো মুসলমানের কুরবানি নিয়ে বলেছেন, কিন্তু আমি বড় পরিসরে অন্য ধর্মের অনুসারী বা নাস্তিকদেরও এই সুযোগে একটি অনুরোধ করব। প্রতিদিন মুক্তাংগনে অনেক বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে আনন্দ লাভ হয়, নতুন বিষয় জানার সুযোগ হয়, সচেতনতা বাড়ে। অন্ততঃ লেখক মন্তব্যকারীর বিদ্যাবুদ্ধির পরিচয় পাওয়া যায়, আলাপ, গল্প-গুজব, ঝগড়ার সুযোগ হয়। অনেক সময় লেখার পটভূমি এত ব্যাপক হয় যে শুধু পড়া ছাড়া কিছুই করার থাকে না। প্রতিদিনের মাংস খাওয়ার যে অভ্যাস তাই টিকিয়ে রাখে উৎসবের দিনে পশুহত্যার এই ব্যাপক আয়োজন। বেশী মাংস খেলে-মানুষের রোগব্যাধি বেশী হয, উৎপাদনের বিচারে এক কেজি শাক-সবজি,ফল-মূলের তুলনায়… বাকিটুকু পড়ুন »

রশীদ আমিন
সদস্য

এই বিষয়টি নিয়ে আসলে গভীরভাবে ভাবা দরকার। কিভাবে তথাকথিত এই কুরবানি বা নারকীয় পশুহত্যা উৎসবের বিরুদ্ধে একটি জনমত গড়ে তোলা যায় তা ভাবা উচিত । আপনার আমার মতো অনেকেই এই বিষয়টা মেনে নিতে পারে না, তাদেরকে কি এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসা সম্ভব?

পশু জবাই করার চর্চা থেকে উৎসাহিত হয়ে মানুষ জবাই করতে কুণ্ঠা বোধ করে না। এই বিষয়টিও আলোচনায় নিয়ে আসা উচিত।

মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

কোরবানির যে ব্যাপারটি আমার অপছন্দ সেটা হচ্ছে ছোট ছোট শিশুদের সামনে পশু জবাই করা হয় এবং তাদের সামনেই পশুর ছাল ছাড়ানো হয়। কিছু কিছু উপজাতি ধর্মীয় আচার আচরণের অংশ হিসাবে দলবেধে পশু বলি দেয়, সে দৃশ্যও খুব একটা প্রীতিকর নয়। প্রতি বছর পশু জবাইয়ের এই দৃশ্যটি দেখতে দেখতে শিশুদের মধ্যে কোন অপরাধ প্রবৃত্তির জন্ম নেয় কিনা সেটা আমার জানা নেই, তবে Wikipedia তে পড়লাম অনেক নিষ্ঠুর অপরাধীই শিশুকালে পশু নির্যাতন করতো। বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে সাধারণত কোরবানির আগের দিন পশুটি কেনা হয়। কিন্তু মফস্বলের শহরগুলোতে সপ্তাহখানেক আগে কেনা হয়, এই অল্প কয়েকদিনে বাড়ির শিশুদের সাথে পশুটির এক ধরনের সম্পর্ক গড়ে উঠে।… বাকিটুকু পড়ুন »

মুয়িন পার্ভেজ
অতিথি
মুয়িন পার্ভেজ

স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সন্তানের পরিবর্তে হলো পশু, তাহলে পশুর পরিবর্তে এই পরিবর্তনের যুগে অর্থ হলে ক্ষতি কী? বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উপযুক্ত পশু উৎসর্গ করা সচ্ছল মুসলমানদের জন্য অত্যাবশ্যক — এর বিকল্প নির্দেশিত হয়নি; দানের ক্ষেত্রে ছদকা-জাকাতের কথা আলাদাভাবে বলাই আছে এবং কোরবানির প্রসঙ্গে কোরানের বিধান এতই সুস্পষ্ট যে তা নিয়ে ইসলামি শাস্ত্রবিদদের ইজমা-কিয়াসের শরণাপন্ন হওয়ারও দরকার নেই। ‘মুসলমান ঘরে জন্ম নিয়েও যারা নাস্তিক’ (সুশান্তর লেখা থেকে কথাটি নেওয়া) তাঁদের প্রশ্ন তো আসেই না, কিন্তু যাঁরা পূর্ণ-আস্তিক, অল্প-আস্তিক কিংবা দ্বান্দ্বিক তাঁদের কেউ-কেউ হয়তো এই বর্বর প্রথাকে মেনে নেন পারিবারিক-সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি ভেবেই। বিদ্রোহী হওয়ার আগে স্বাধীনতার কথা ভাবতে হয়। কিন্তু এর… বাকিটুকু পড়ুন »

manik
অতিথি
manik

জনাবেরা আপনারা কুরবানীর সাথে সাথে পূজা নিয়েও একই কথা বললে আপনাদের সাথে আছি। কারন পূজাও অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। শেষ পর্যন্ত বিসর্জনের মাধ্যমে সকল টাকা নদীতে ফেলে নদী দষণ দিয়েই যার সমাপ্তি ঘটে

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.