আসুন পাঠকসকল, অতঃপর এনজিও-পূজনে মগ্ন হই!

বাংলাদেশে এনজিও-কাযর্ক্রম নিয়ে কিছু আশঙ্কা ও প্রশ্ন [...]

এনজিও যে আমাদের সামাজিক-সাংস্কৃতিক জীবনের প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছায়ার মতো তাদের থাবা বিস্তার করছে তা বোধহয় আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আমরা যদি এনজিও-কার্যক্রমের দিকে নজর দিই তাহলে দেখব, স্বাধীনতার পর-পর মাত্র গুটিকয় এনজিও তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। আর এখন তো বাংলাদেশের প্রতি ধূলিকণায় তাদের রক্তাক্ত ছোঁয়া রেখে যাচ্ছে। রুরাল ইকোনোমির প্রায় সবটুকুই তারা তাদের করায়ত্ত করে ফেলছে।

তাদের কাজের বিস্তৃতির কিছু নমুনা দেয়া যাক। রেলের টেলিকম সিস্টেমের সাথে গ্রামীণ ফোনের সম্পর্ক বরাবরই বেশ নিবিড়। এখন এরা সুবর্ণ এক্সপ্রেসের একটা বগি সেলফোনের জন্য নানান সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের বিজ্ঞাপনের কাজে ব্যবহার করছে। আরও এক মজাদার বিষয় কেউ কেউ লক্ষ্য করে থাকবেন : চট্টগ্রাম শহরের অলঙ্কার মোড়ে একটি পুলিশ বক্স। তা এমনই দৃষ্টিনান্দনিকতায় পরিপূর্ণ যে, মনে হবে বেহেশতের স্নিগ্ধস্রোত চুঁইয়ে চুঁইয়ে নামছে। যে-কোনো পুলিশ বক্সকে বরাবরই ষড়যন্ত্রমুখর, পলায়নপর, যন্ত্রণাময় এক জায়গা মনে হয়। কিন্তু এমন স্মার্ট আর রোমান্টিক পুলিশ বক্স এই দেশে কমই আছে। এটি নির্মিত হয়েছে সানমারের সৌজন্যে। এ-ধরনের বহু কাজ সরকার-নিয়ন্ত্রিত অঙ্গনে হরহামেশাই চোখে পড়ে।

সবচেয়ে বড়ো বিষয় হচ্ছে, এই যে, এনজিও-গ্রাস শুরু হয়েছে তা কোথায় গিয়ে ঠেকবে? বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিকাশ কি এতে রুদ্ধ হবে না?

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর

কথাসাহিত্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত। পেশায় চিকিৎসক। মানুষকে পাঠ করতে পছন্দ করি। আমি মানুষ এবং মানব-সমাজের যাবতীয় অনুষঙ্গে লিপ্ত থাকার বাসনা রাখি।

11
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
ইমতিয়ার শামীম
সদস্য

বাংলাদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিকাশ কি এতে রু্দ্ধ হবে না? সে কি আর বলার অপেক্ষা রাখে? কিন্তু এনজিও-গুলি তাদের মাইক্রোক্রেডিট প্রোগ্রামের মধ্যে দিয়ে অসুস্থ পুঁজিবাদকে টিকিয়ে রাখার যে কোরামিন-স্যালাইন প্রস্তুত করে চলেছে, তার জন্যে আমাদের অহরহ শুনতে হচ্ছে যে, এনজিওগুলি সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখছে। আমার মনে হয়, সামাজিক উন্নয়নের যে-টুকু এনজিও করছে বলা হয় (যেমন, নারীর ক্ষমতায়ন), তা ‘চুঁইয়ে পড়া’ একটি প্রতিফল মাত্র। তাদের দরকার একটি ঋণগ্রস্থ জনগোষ্ঠী, যাদের কাছ থেকে তারা এক হাতে দেবেন, আরেক হাতে নেবে। লক্ষ্যদল হিসেবে তাই পুরুষ সঠিক নয়। কেননা, উন্মূল পুরুষ পালিয়ে যেতে পারে, ঋণগ্রস্ত হওয়ার পর এখানে ওখানে চলে যেতে পারে। নিরাপদ লক্ষ্য… বাকিটুকু পড়ুন »

মুয়িন পার্ভেজ
অতিথি
মুয়িন পার্ভেজ

এই প্রথম ‘মুক্তাঙ্গন’-এ কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীরের একটি লেখা পড়লাম। লেখাটি সংক্ষিপ্ত হলেও বিষয়টি বিতর্কবিস্তারী। লেখককে অনেক ধন্যবাদ। বাংলাদেশে এনজিও-কার্যক্রম নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে বহু আলোচনা চোখে পড়েছে। ক্ষুদ্রঋণনির্ভর এনজিও-গুলোর ‘নিরাপদ লক্ষ্য দল হলো নারী’, ইমতিয়ার যেমন বলেছেন, ‘এনজিও-গুলি নারীদের নিয়ে যা করেছে তা পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকেই করেছে’ — তাঁর এ-পর্যবেক্ষণ যথার্থ ব’লে মনে হয়। আবার যেসব এনজিও-র (যেমন ‘বিটা’) ইশতেহার হল সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়ানো, সেগুলোরও প্রধান লক্ষ্য ‘বঞ্চিত’ বা ‘নির্যাতিত’ নারীসমাজ। গ্রামাঞ্চলে ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ বোধহয় এখনও স্পর্শকাতর এক নাম, যার বিরুদ্ধে নব্বইয়ের দশকে মাওলানারা অনলবর্ষী স্লোগানও দিয়েছিলেন (চট্টগ্রামের এক গ্রামে, আমার দেখা)। কিন্তু মঙ্গাপীড়িত উত্তরবঙ্গে (বগুড়া, জয়পুরহাট) কিছুদিন ঘুরে দেখেছি, ঘরে-ঘরে… বাকিটুকু পড়ুন »

রায়হান রশিদ
সদস্য

কামরুজ্জামান জাহাঙ্গীর ভাইকে ধন্যবাদ পোস্টটির জন্য। বেশ কয়েকটি বিষয় উঠে এসেছে আপনার সংক্ষিপ্ত আলোচনায়। আপনি লিখেছেন: রুরাল ইকোনোমির প্রায় সবটুকুই তারা তাদের করায়ত্ত করে ফেলছে। কথাটা মনে হয় সত্যি। অন্তত ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে কথাটা তো সত্যিই, যদিও হাতে কোন তথ্য উপাত্ত নেই (কারও কাছে থেকে থাকলে অন্তত রেকর্ডভুক্ত করে রাখার খাতিরে হলেও এখানে উল্লেখ করুন প্লিজ)। কিন্তু এতে কি আসলেই অবাক হওয়ার মতো কিছু আছে? অর্থনৈতিক নিরাপত্তার যে আচ্ছাদন রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়ে সরবরাহ করার কথা, সেটা যখন ভেঙ্গে পড়ে (আসলে কখনোই ছিলো না সেটা তেমনভাবে), বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তো সে স্থান পূরণ করবেই। তা সে মুনাফার জন্যই হোক আর যে উদ্দেশ্যেই… বাকিটুকু পড়ুন »

মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

বেশ কয়েকবছর আগে একটি ভারতীয় হাসির ছবিতে একটি দৃশ্য মনে পড়ে গেল। দৃশ্যটি হচ্ছে বহুল আলোচিত এক মামলায় আসামির ফাঁসীর হুকুম হয়েছে, যেহেতু মামলাটি বহুল আলোচিত, তাই ফাঁসীর ব্যাপারটি সমস্ত টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে এবং অনুষ্ঠানসত্ব মোটা অর্থে বিক্রি হয়েছে। অনুষ্ঠানের স্পনসরদের শর্ত হচ্ছে আসামি ফাঁসীর মঞ্চে যে পোশাকে ঊঠবেন তাতে তাদের লোগো থাকতে হবে। ফাঁসীর আসামি সেই শর্ত অনুযায়ী অসংখ্য কর্পোরেট লোগোতে সাজানো পোশাক পরে মঞ্চে উঠলেন। সেখানেই শেষ নয়, ফাঁসিতে ঝোলার আগে তাঁকে বিভিন্ন কর্পোরেট স্লোগানও দিতে হলো। যেহেতু হাসির ছবি, ফাঁসীর ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত ঘটেনি, তবে কর্পোরেট স্পনসরশীপের ব্যাপারটি যে কতটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে যেতে পারে,… বাকিটুকু পড়ুন »

নুর নবী দুলাল
সদস্য

জাহাঙ্গীর আমার মন্তব্যের কোন প্রতি উত্তর পেলাম না।

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.