জিএসপি ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য রাজনীতি

জোসে ফার্নান্দেজকে আমাদের পক্ষে এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়-সংক্রান্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি তিনি। গত মে মাসের শেষদিকে বাংলাদেশ সফর করতে এসে এই ফার্নান্দেজ আমাদের জানিয়েছিলেন, দু দেশের মানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।...

জোসে ফার্নান্দেজকে আমাদের পক্ষে এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়া সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়-সংক্রান্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি তিনি। গত মে মাসের শেষদিকে বাংলাদেশ সফর করতে এসে এই ফার্নান্দেজ আমাদের জানিয়েছিলেন, দু দেশের মানে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। তবে তার ওই কথা বোধহয় অনেকের মনে তত দাগ কাটেনি। কেননা প্রায় একই সময় বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ওয়েন্ডি শেরম্যান -সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক বাতিল করে তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন।
রাজনীতিবিষয়ক আর বাণিজ্যবিষয়ক দু জন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির প্রায় একই সময়ের সফরের মাত্র দু পক্ষের মাথায় গত ১৭ জুন বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে টিকফার খসড়া চুক্তি অনুমোদন মিললেও এ দেশের গার্মেন্টস শিল্প জিএসপি সুবিধা বঞ্চিত হওয়ার মধ্যে দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, ফার্নান্দেজ শুধু ইঙ্গিত নয়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করে গিয়েছেন। এখন কেঁদেকেট সাতকুল ভাসালেও বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব নয় সেই ভাগ্যরেখা থেকে বেরিয়ে আসা। এক অর্থে,গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের দ্বি-পক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্কের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে। গত এক দশকের হিসেবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার ঘটনা তো আছেই-পাশাপাশি রয়েছে গত দু বছরেই এ বাণিজ্য ১১ শতাংশ বেড়ে যাওয়ার রেকর্ড। এরকম প্রেক্ষাপট থাকার পরও ফার্নান্দেজ গত ২৬ মে ঢাকা চেম্বার আয়োজিত বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাত ফোরামের বাণিজ্য ও বিনিয়োগবিষয়ক অধিবেশনের বক্তব্যে সম্পর্কজনিত জটিলতার কথা তুলেছিলেন। একই অধিবেশনে ঢাকা চেম্বারের পরিচালক মহিউদ্দিন মোনেম বলেছিলেন, ‘টিকফা চুক্তি স্বাক্ষর করা হলেই জিএসপি সুবিধা থাকবে-এরকম হলে চলবে না।’ নিশ্চয়ই মহিউদ্দিন মোনেমের বক্তব্যটি কথার কথা ছিল না। অনেকে মনে করেন, টিকফার সঙ্গে জিএসপি ইস্যুর কোনও সম্পর্ক নেই, ঠিক তেমনি সম্পর্ক নেই জিএসপির স্থগিতাদেশের সঙ্গে ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়ার অভিমত-নিবন্ধ লেখার। জিএসপি ইস্যুটি নিতান্তই শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত এবং সে নিরিখেই গত সপ্তাহে বাংলাদেশে জিএসপি সুবিধা স্থগিত করা হয়েছে বলে মনে করেন তারা। বিষয়টি এরকম সহজ, সরল হলে ভালোই হতো। ‘বিশ্বে থাক সহজ সুখে, সরল আনন্দে’ রবীন্দ্রনাথ আমাদের এরকম পরামর্শই দিয়ে গেছেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই ‘সহজ কথা যায় না লেখা সহজে’র মতোই সহজে কি সহজ থাকা সম্ভব? সহজে কি সব কিছু সহজ ভাবা সম্ভব?
আপাতদৃষ্টিতে এরকমই মনে হবে, শ্রম অধিকার ও কর্মপরিবেশের নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে রেখেই যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি মাইকেল ফ্রোম্যানের বিবৃতিতেও বলা হচ্ছে, তাজরীন ফ্যাশনসে আগুন এবং রানা প্লাজা ধ্বসে ১২শ’র বেশি শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন অবশ্য অত কঠিন সিদ্ধান্ত নেয়নি। তারা বরং তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের মতো যে কোনো পরিস্থিতি অবশ্যই এড়াতে হবে, কেননা তেমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর বড় ধরণের বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন জিএসপি সুবিধা অব্যাহত রাখায় বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গার্মেন্টস শিল্প বড় ধরণের একটি সঙ্কট থেকে রক্ষা পেল, কেননা বাংলাদেশের উৎপাদিত মোট পোশাকের ৬০ শতাংশ, যার বাজার মূল্য ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি, প্রতি বছর কিনে থাকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।
যুক্তরাষ্ট্র জিএসপি স্থগিত করেছে আর ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা স্থগিত করেনি-এই বিপরীতমুখী অবস্থান কি কেবলই অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিবেচনা? কোনও রাজনৈতিক বিবেচনা কি কাজ করেনি এর পেছনে? জিএসপির স্থগিতাদেশকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ থেকে শুরু করে সংসদের বাইরেও যে-আলোচনা হচ্ছে- কি প্রধানমন্ত্রী, কি সাবেক প্রধানমন্ত্রীও যে আলোচনার অংশগ্রহণকারী- তার একটি রাজনৈতিক সংস্করণ আমাদের সামনে বেশ স্পষ্ট। এর সঙ্গে যদি আমরা যুক্ত করি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক নীতিও এক ধরণের রাজনীতির ফল, তা হলে এ সত্যও মানতে হয় যে, জিএসপি সুবিধা স্থগিত করার মধ্যে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক বার্তাই দিচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ কোনও আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক বক্তব্য দেয়া হয়নি, কেবল বলা হয়েছে, কারখানার কর্মপরিবেশকে উন্নত করতে হবে। ড্যান মজিনা এরকম স্বান্ত্বনাও দিয়েছেন যে, তারা এ সুবিধা বাতিল করেননি, স্থগিত করেছেন মাত্র। এই স্থগিতাদেশ যাতে উঠে যায় এবং আর কখনও এ ধরণের ঘটনা না ঘটে সে ধরণের পদক্ষেপ বাংলাদেশকেই নিতে হবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও তাদের কোনও রাজনৈতিক বক্তব্য শোনানো হয়নি, বরং গত ১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের নিয়মিত বৈঠকে জিএসপি সুবিধা ফিরে পেতে সংশোধিত শ্রম আইন-২০১৩ যাচাইবাছাইয়ে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে প্রধান করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও কি আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি, কারখানার কর্মপরিবেশকে উন্নত করার প্রসঙ্গকে সরকার ও কারখানা মালিকরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন? বলতে কি পারি, এ নিয়ে দৃশ্যের অন্তরালে অদৃশ্য যে-রাজনীতি চলছে, তা থেকে আমরা দ্রুতই মুক্ত হবো? এরকম কোনও সম্ভাবনার চেয়ে বরং মনে হচ্ছে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও বেশ কিছুদিন জিএসপি ইস্যুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হবে, এমনকি রাজনীতির মেরুকরণও ঘটবে। জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের এক পর্যায়ে সরকারি দল ও বিরোধী দলের মধ্যেকার বিতর্ক, তার আগেপরের বিভিন্ন রাজনৈতিক তৎপরতা সেরকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে আমাদের।
এটি খুব বেশিদিন আগের ঘটনা নয়-২০১২ সালের প্রথমদিকে বাংলাদেশে একটি সামরিক অভ্যুত্থানের অপচেষ্টা হয়েছিল। আশি ও নব্বইয়ের দশকে যারা সামরিকতন্ত্র ও সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন করেছেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন করেছেন, অন্তত তাদের কাছে ঘটনাটি ছিল নিঃসন্দেহে স্পর্শকাতর। একজন সামরিকজান্তার নেতৃত্বে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হলেও দলটি পরবর্তী সময়ে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন করায় বিএনপির কাছেও বিষয়টি স্পর্শকাতর হতে পারত। কিন্তু সামরিক অভ্যুত্থান করার এ ব্যর্থ অপচেষ্টার এক বছর পার হতে না হতেই চলতি বছরের ২৪ মার্চ বগুড়ার এক জনসভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘দেশে কোনও বিশৃঙ্ক্ষলা হলে সেনাবাহিনী বসে থাকবে না। তারা সময়মতো কাজ করবে।’ অনেক রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকই তার এ বক্তব্যকে দেখেছেন উস্কানি হিসেবে। তারও আগে ৩০ জানুয়ারিতে ওয়াশিংটনের একটি সংবাদপত্র ওয়াশিংটন টাইমসে খালেদা জিয়ার নামে এক অভিমত-নিবন্ধ ছাপা হয়। এতে লেখা হয়, বাংলাদেশে গণতন্ত্র ‘রক্ষার’ জন্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘হস্তক্ষেপ’ প্রত্যাশা করছেন। লেখা হলো, ‘শ্রমিক ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের পক্ষে যারা কথা বলেন,তাদের ওপর দমন-পীড়ন হওয়ায় জিএসপি সুবিধা বাতিলের হুমকি শেখ হাসিনা সরকারকে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।’ এ নিবন্ধ নিয়ে সারা দেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে গেছে। কিন্তু সাবেক প্রধানমন্ত্রী, সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি এবং পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ তখন ওই নিবন্ধের সাফাই গেয়েছিলেন। বলেছিলেন, খালেদা জিয়া নিবন্ধে সঠিক তথ্য তুলে ধরেছেন বলেই আওয়ামী লীগ এতো সমালোচনামুখর হয়ে উঠেছে!

এখন অবশ্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ওই বক্তব্য অস্বীকার করছেন। আর শুধু মওদুদ আহমদ কেন, খালেদা জিয়াও অস্বীকার করছেন, জাতীয় সংসদে দাড়িয়ে বলছেন, ‘কেউ কেউ বলে আমার নামে একটি লেখা বিদেশি পত্রিকায় প্রচারিত হয়েছে। আমি এমন কোনো লেখা পাঠাইনি।’ অথচ ওয়াশিংটন টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক ডেভিড এস জ্যাকসন জোর দিয়েই বলছেন, লেখাটি খালেদা জিয়াই লিখেছেন। লেখাটি তাদের দিয়েছেন মার্ক পার্সির মাধ্যমে এবং লেখা প্রকাশের আগে-পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে ওয়াশিংটন টাইমস। আর এই মার্ক পার্সি হলেন লন্ডনভিত্তিক জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান বিটিপির অন্যতম অংশীদার। কানাডার বাংলা ভাষাভিত্তিক ওয়েবসাইট নতুন দেশ আবার এ-ও জানাচ্ছে, এ প্রতিষ্ঠানটির ক্লায়েন্টদের মধ্যে নোবেলবিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসও রয়েছেন! যাই হোক, বিএনপির সব নেতাই এখন খালেদা জিয়ার স্বরে কথা বলছেন। সত্য-মিথ্যা নির্ধারণের তারাই কাজী। তারাই বলেছেন, প্রয়োজনে খালেদা জিয়া এরকম নিবন্ধ ভবিষ্যতেও লিখবেন। আবার তারাই এখন বলছেন, খালেদা জিয়ার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। খালেদা জিয়া এবং তার পারিষদবর্গ হয়তো ভুলে গেছেন, একজন সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেয়ার সময় কী কথা বলেন, কী প্রতিজ্ঞা করেন। বলা চলে, প্রায় পুরো ফেব্রুয়ারি মাস বাংলাদেশ ওই নিবন্ধটি নিয়ে উত্তপ্ত ছিল, তখন খালেদা জিয়ার কাছ থেকে আমরা আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক কোনও কথা শুনিনি। বরং তার দলের উল্লেখযোগ্য নেতারা নিবন্ধটির পক্ষে কথা বলেছেন, যুক্তি দিয়ে ন্যায্যতা দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এখন জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি বলছেন, ওই লেখা তার নয়! বলা হচ্ছে, বিএনপি জিএসপি সুবিধা বহাল রাখার পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দেবে। আমরা কি ধরে নেব, যুক্তরাষ্ট্র সেই চিঠি পেয়ে জিএসপির ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নেবে? নিট পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমই’র সহ-সভাপতি মোঃ হাতেম বলেছেন বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’। বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশকেন্দ্রিক কিছু এজেন্ডা রয়েছে এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্য থেকেই এ ধরণের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে। আরেকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস ইস্যুতে এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেয়ার বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চাপ রয়েছে। তা হলে কি আমাদের ধরে নিতে হবে, টিকফার মতো ‘বাণিজ্যিক চুক্তির’ চেয়েও গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূসের নেতৃত্ব এবং রোহিঙ্গা শরণার্থী ইস্যুর মতো রাজনৈতিক ইস্যুগুলিই এ ক্ষেত্রে অনেক বড় হয়ে উঠেছিল?
এর আগে টিকফা নিয়ে কথাবার্তা চলার সময় ২০১২ সালে সেসময়ের পররাষ্ট্র সচিব মিজারুল কায়েসকে আমরা সাংবাদিকদের সামনে বলতে শুনেছি, ‘আপনি কাগজ নিয়ে এসে বললেন, আলোচনার সময় নেই। এটাতেই সই করতে হবে। এটা তো হতে পারে না।…টিকফা না হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে কোনোভাবেই দায়ী করা যাবে না।’ তার এ কথা থেকেই অনুমান করা যায়, টিকফা নিয়ে বাংলাদেশ আসলে কতটা চাপের মধ্যে ছিল-এবং এখনও আছে। টিকফার যে-খসড়া চুক্তি বাংলাদেশের মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদন করেছে, যুক্তরাষ্ট্র যে সেটুকুতেই সন্তুষ্ট নয় তার আভাসও দিচ্ছে জিএসপি স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্ত।
চোখে পড়ার মতো ব্যাপার, এ সিদ্ধান্তের আগেপরে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিরোধী দলগুলির মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ড. ইউনূস। ২৭ জুন বিএনপির খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক কংগ্রেসনাল স্বর্ণপদক পাওয়ায় তাকে দলের পক্ষ থেকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে ইউনূসের সঙ্গে সংহতিও প্রকাশ করেছেন। এর পরদিন ২৮ জুন বিশ্ব সামাজিক বাণিজ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুহাম্মদ ইউনূস জানান, ‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আওয়ামী লীগ সরকারের সব পদক্ষেপ বাতিলসহ গ্রামীণ ব্যাংককে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দেবে।’ এরপর গত ১ জুলাই ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর আহমেদ, লিবারেল ডেমোক্রাটিক পার্টির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে। এসব ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ ছিল একটাই, ‘গ্রামীণ ব্যাংককে ধ্বংসের পায়তারা প্রতিহত করা’। এসব তৎপরতার পাশাপাশি লক্ষ্যণীয় জিএসপি’র স্থগিতাদেশ প্রসঙ্গে ড. ইউনূসের ভাষ্য। এ অবস্থার জন্যে তিনি কার্যত সরকারকেই দায়ী করেছেন এবং এ-ও জানিয়ে দিয়েছেন যে, এই সুবিধা পুনর্বহালের ক্ষেত্রে তার ভূমিকা রাখার কোনও সুযোগ নেই। কেননা, তিনি সরকারের কেউ নন! এর অর্থ পরিষ্কার,- যেখানে এ দেশের কলামিস্টরা তাদের কলামে, সাধারণ মানুষজন চিঠিপত্র কলামে চিঠি লিখে বিভিন্ন ইস্যুতে তাদের প্রতিক্রিয়া জানায়, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি অথবা অনুরোধ জানায়, নিজের অভিমত ও অবস্থান জানায়, সেখানে এ দেশের নোবেলবিজয়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল স্বর্ণপদক পাওয়া মানুষটি জিএসপি পুনর্বহালের জন্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অনুরোধ বা একটি বিবৃতি দিতেও প্রস্তুত নন। দুর্মুখেরা এ-ও বলতে পারেন, তিনি আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিব্রত করতে বিব্রতবোধ করছেন!
যুক্তরাষ্ট্রের ওবামা প্রশাসন বাংলাদেশ প্রশ্নে যে অবস্থান নিয়েছে, তা কার্যত বাণিজ্য রাজনীতি এবং আমরা কতটুকু ছাড় দিচ্ছি কিংবা দিচ্ছি না, তার ওপর ওই রাজনীতি নির্ভর করে না। আমাদের মুখচেনা কলামিস্টরা ওবামা প্রশাসনের এই অবস্থান দেখে হায় হায় করতে পারেন, সরকারের চৈতন্যোদয়ের প্রত্যাশা করতে পারেন; কিন্তু গার্মেন্টসের কর্মপরিবেশ উন্নত করেও রাজনীতির ওই ছোবল থেকে আমরা বাঁচতে পারব না। তার মানে এই নয় যে, আমরা কর্মপরিবেশকে, গার্মেন্টস শিল্পের শ্রমিকদের অধিকারহীন অবস্থানকে উপেক্ষা করছি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য রাজনীতিকেই বড় করে দেখছি। কারখানার কর্মপরিবেশ উন্নত করা এবং শ্রম আইনের ক্ষেত্রে সংশোধন করা আমাদের জন্যে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রসঙ্গত মনে হচ্ছে অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশের একটি নিবন্ধের কথা- যেখানে তিনি গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মানবিক জীবন ও উন্নত কর্মপরিবেশ দিতে ড. ইউনূসের একটি নিবন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে নিরাসক্তভাবে কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেছিলেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, বিদেশমুখিনতা ও ইউটোপিয় দিকগুলি তুলে ধরা হয়েছিল বলেই হয়তো ড. ইউনূস আর আলোচনাটি এগিয়ে নেননি; জিএসপি পুনর্বহালের ক্ষেত্রে যেমন তার ভূমিকা রাখার কোনও সুযোগ নেই, আলোচনাটিকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে একটি উপসংহারে পৌঁছানোরও কোনও সুযোগ হয়তো তার ছিল না। যে-কথাটি বলা প্রয়োজন, তা হলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য রাজনীতির প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরে এবং সে অনুযায়ী বিকল্প অনুসন্ধানের মধ্যে দিয়েই কেবল বাংলাদেশের পক্ষে সম্ভব, এর ফলে উদ্ভূত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক-বাণিজ্যিক বিপর্যয় থেকে নিজেকে রক্ষা করা-নতি স্বীকার করে নয়। টিকফার খসড়া চুক্তির অনুমোদন তো এক ধরণের নতি স্বীকারই করা-কিন্তু তারপরও কি আওয়ামী লীগ সরকার পেরেছে জিএসপি স্থগিতাদেশের বিপর্যয় থেকে গার্মেন্টস শিল্পকে রক্ষা করতে?

ইমতিয়ার শামীম

আপনারে এই জানা আমার ফুরাবে না...

২৩ comments

  1. Issa - ৪ জুলাই ২০১৩ (৭:০২ অপরাহ্ণ)

    Rightly explained. Thanks

  2. মাসুদ করিম - ১০ জুলাই ২০১৩ (১২:১০ পূর্বাহ্ণ)

    বাংলাদেশ যদি মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার দিকেই এগিয়ে যেতে চায় তাহলে ‘জিএসপি’ বাংলাদেশেরই আর গ্রহণ করা উচিত নয়, কারণ জিএসপি শুধুমাত্র ‘এলডিসি’দের দেয়া হয় এবং এর সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বড় বেশি একপাক্ষিক ধনীর দাতামি নির্দেশক রাজনীতির দ্বারা চালিত। বাংলাদেশের অনেক বেশি মনোযোগ দেয়া উচিত তার নিজের প্রয়োজনে শ্রমিক ইউনিয়ন গড়ার দিকে, নতুন বাজারের সন্ধানের দিকে, তুলা চাষ বাড়ানোর ও ফেব্রিক উৎপাদনে শক্তিশালী অবস্থান অর্জনের দিকে এবং সর্বোপরি প্রধান দুই বাজার ইউরোপ ও আমেরিকার সাথে গুচ্ছগুচ্ছ পণ্যের শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের দিকে। ‘টিকফা’ যার সূচনা হতে পারে। ‘টিকফা’ও বা ইউরোপের সাথে যদি ‘এফটিএ’ হয় এসবও রাজনৈতিক কিন্তু ‘জিএসপি’র মতো দাতামি দেখানোর সুযোগ সেখানে কম। আর ‘টিকফা’ ‘এফটিএ’ যদি লক্ষ্য হয় তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ‘জিএসপি’ নিষ্ক্রিয় হয়।

    ‘টিকফা’ ‘এফটিএ’র ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি খেয়াল রাখতে হবে সাংস্কৃতিক পণ্যগুলো এখনই যেন এর আওতায় না আসে — এবং পণ্যের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোনো একটি গুচ্ছ দিয়ে শুরু করে পর্যায়ক্রমে দুপক্ষের সুবিধা মতো গুচ্ছ গুচ্ছ পণ্য ও সেবাকে চুক্তির আওতায় আনা। এর জন্য আমাদের শ্রম, বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়ের বিশেষ দক্ষতা অর্জন করতে হবে — তাদের দক্ষতার উপর ভিত্তি করেই পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় আলোচনার এজেন্ডা সাজাবে, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এজেন্ডা অনুযায়ী শ্রম, বাণিজ্য ও অর্থমন্ত্রণালয়ের এজেন্ডা সাজানো বিরক্তিকর ও পশ্চাদপদ নীতি ছাড়া কিছুই নয়।

    • মাসুদ করিম - ২৩ জুলাই ২০১৩ (২:১১ অপরাহ্ণ)

      টিকফা স্বাক্ষরে প্রস্তুত ঢাকা

      মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা চুক্তি টিকফা সই করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত বাংলাদেশ। চুক্তিটি সই করার দিনক্ষণ নির্ধারণে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা চলতি মাসের শেষ নাগাদ ওয়াশিংটন যাচ্ছেন।

      সোমবার তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হকের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের প্রস্তুতি সম্পর্কে জেনেছেন। এ সময় চুক্তি সই করার জন্য বাংলাদেশ প্রস্তুত বলে মজীনাকে জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক।
      মন্ত্রিসভা গত জুনে টিকফা সই করার জন্য খসড়া অনুমোদন করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি রোববার সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, টিকফা সই করার মতো অবস্থা বর্তমানে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, টিকফা সই করতে বাংলাদেশে আসার জন্য মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
      তিনি বাংলাদেশ সফরে আসবেন নাকি বাংলাদেশের বাণিজ্য সচিব যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে চুক্তিতে সই করবেন সেটা স্পষ্ট হবে মজীনা ওয়াশিংটন যাওয়ার পর।

      মার্কিন রাষ্ট্রদূত ড্যান ডবি্লউ মজীনার সঙ্গে বৈঠকের পর পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক সোমবার সমকালকে বলেছেন, “বাংলাদেশ টিকফা সই করার জন্য প্রস্তুত। এ কথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়ে দিয়েছি। এখন দুই দেশের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে চুক্তি সই করার দিনক্ষণ নির্ধারণ করা হবে।”

      মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু আলোচনার পাশাপাশি পররাষ্ট্র সচিব তার সাম্প্রতিক মিয়ানমার সফরের বিষয়েও আলোচনা করেছেন।
      পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক বলেন, “বাংলাদেশ, চীন, ভারত, মিয়ানমার (বিসিআইএম) অর্থনৈতিক করিডরের উদ্যোগের প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন ব্যক্ত করেছে।”

      পররাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মজীনা সাংবাদিকদের বলেন, “দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। টিকফা সইয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেছি।”

    • মাসুদ করিম - ৫ মে ২০১৪ (১২:৪০ অপরাহ্ণ)

      গত বছর বলেছিলাম

      বাংলাদেশ যদি মধ্যম আয়ের দেশ হওয়ার দিকেই এগিয়ে যেতে চায় তাহলে ‘জিএসপি’ বাংলাদেশেরই আর গ্রহণ করা উচিত নয়

      আজ বাণিজ্যমন্ত্রীকেও বলতে হল

      জিএসপির দরকার নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

      যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পুনরায় পাওয়ায় তদবির চালিয়ে ফল না পেয়ে স্পষ্টত ক্ষুব্ধ বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, জিএসপি সুবিধার প্রয়োজন নেই।

      “আমাদের দরকার নেই…দরকার নেই… জিএসপি নিয়ে অনেক কথা হয়েছে…সব ভুলে যান… আমাদের আর জিএসপির দরকার নেই,” রোববার এক অনুষ্ঠানে বলেন তিনি।

      আশুলিয়ার তাজরীন ফ্যাশনসে অগ্নিকাণ্ডে সহস্রাধিক এবং সাভারের রানা প্লাজা ধসে সহ্রসাধিক শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে।

      যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধায় বাংলাদেশ যে পণ্য বিক্রি করত, তা দেশের ৫০০ কোটি ডলারের রপ্তানির ১ শতাংশের মতো। বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক এই সুবিধা পায় না।

      জিএসপি স্থগিতের পর ওয়াশিংটন জানায়, কারখানাগুলোর কর্ম পরিবেশের উন্নতি এবং শ্রমিকদের সংগঠন করার সুযোগসহ ১৬টি শর্ত পূরণ হলে তবেই এ সুবিধা ফেরত দেয়া হবে।

      এরপর থেকে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিশেষ এই সুবিধা পুনরায় পেতে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে আসছে সরকার।

      যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পোশাক ক্রেতাদের পরামর্শে কারখানাগুলোর উন্নয়নে কাজও চলছে। পরিবেশ ভালো না হওয়ায় বিভিন্ন কারখানা বন্ধ করতেও বলছেন তারা।

      এর মধ্যেই রোববার নিউ ইয়র্কভিত্তিক তাউ ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর অনুষ্ঠানে জেএসপি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে অসন্তোষ জানান তোফায়েল আহমেদ।

      অ্যাকর্ড (ইউরোপের ক্রেতাদের সংগঠন) চট্টগ্রামে রোববারই কয়েকটি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে তো এটা বুঝতে হবে যে একদিনেই সব কিছু বদলানো যাবে না।

      আকস্মিকভাবে কারখানা বন্ধ করায় শ্রমিকদের বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের চাকরি হারানোর কথাও তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

      “তারা যদি রাস্তায় নামে, সমাজে একটা বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, আর তা বাংলাদেশের জন্য কোনো অর্থেই ভালো হবে না।”

      আর এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কোনো সহায়তা না পাওয়ার কথা তুলে ধরে তোফায়েল বলেন, তৈরি পোশাকের শুল্কমুক্ত সুবিধা বারবার চেয়েও বিফল হতে হয়েছে।

      যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের জিএসপি সুবিধা স্থগিতের পেছনে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে বলে আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন।

  3. অবিশ্রুত - ১৩ জুলাই ২০১৩ (৩:৫২ অপরাহ্ণ)

    জিএসপি সুবিধার আওতায় বাংলাদেশ গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র দেড় কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে। অন্যদিকে, ভারত রপ্তানি করেছে ৪৮০ কোটি ডলারের পণ্য। এ তথ্য ইউএস-বাংলাদেশ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিলের সভাপতি সাব্বির চৌধুরীর। বেশির ভাগ বিশেষজ্ঞই মনে করেন, ভারত এলডিসি’র মধ্যে পড়ে না। বরং তার অবস্থান এনআইসি (নিউলি ইন্ড্রাস্টিয়াল কানট্রিজ)-তে-যা উন্নত ও উন্নয়নশীল ক্যাটেগরির মধ্যবর্তী একটি ক্যাটেগরি। কিন্তু তারপরও তারা এ সুবিধাটির সদ্ব্যবহার করে চলেছে আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে। বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশভুক্ত হয়ে উঠতে হবে, এ কথার সঙ্গে একমত হয়েও তাই বলা যায়, জিএসপিকে পরিত্যাগ করা সঠিক হবে না।

    • মাসুদ করিম - ২৩ জুলাই ২০১৩ (১:৫৮ অপরাহ্ণ)

      যুক্তরাষ্ট্রে জিএসপি বহাল রাখতে উদ্যোগী ভারত

      যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চলমান ভারত সফরেও জিএসপি নিয়ে আলোচনা গুরুত্ব পাচ্ছে।

      যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের অগ্রাধিকারমূলক শুল্কমুক্ত সুবিধার মেয়াদ আগামী ৩১ জুলাই শেষ হচ্ছে।

      ভারতকে আর এ সুবিধা না দেয়ার জন্য ওয়াশিংটনে আলোচনার মধ্যেই সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে জিএসপির মেয়াদ নবায়নের আহ্বান জানান ভারতীয় বাণিজ্যমন্ত্রী আনন্দ শর্মা।

      অন্তর্জাতিক বাণিজ্য সংস্থার মতৈক্য অনুযায়ী, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র জিএসপির আওতায় প্রায় পাঁচ হাজার পণ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা দেয়। আর এ সুবিধার আওতায় ২০১১ সালে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয় ভরত।

      ওই বছর শুল্কমুক্ত সুবিধায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৩৭০ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করে ভারত।

      ভারতের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে শ্রমিক স্বার্থ, বিশেষ করে নারীদের কল্যাণে জিএসপি সুবিধা বহাল রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন আনন্দ শর্মা।

      গত অর্থবছরে ভারতের মোট রপ্তানি ১ দশমিক ৭৬ শতাংশ কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তাদের রপ্তানি বেড়েছে। রপ্তানির পরিমাণ ৪ শতাংশ বেড়ে ৩ হাজার ছয়শ’ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির মোট রপ্তানির ১২ শতাংশ।

      জিএসপি সুবিধা নবায়ন না হলে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় সব পণ্যে পুরোমাত্রায় আমদানি শুল্ক দিতে হবে।

      কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজের রপ্তানি বিষয়ক জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় বুধিয়া বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের আমদানি খরচ বাড়লে তার দামও বেড়ে যাবে এবং তা হবে ব্যবসায়ীদের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা।

      কারখানার কর্মপরিবেশ ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত না করার কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র। এই সুবিধা ফিরে পাওয়ার জন্য বাংলাদেশকে একটি রূপরেখাও দিয়েছে ওয়াশিংটন।

    • মাসুদ করিম - ৫ মার্চ ২০১৯ (৫:৩৬ অপরাহ্ণ)

      ভারতের জিএসপি সুবিধা বাতিল করছে যুক্তরাষ্ট্র

      ভারতের পণ্য রপ্তানিতে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) প্রত্যাহার করে নিতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

      কংগ্রেসকে লেখা এক চিঠিতে তিনি বলেছেন, ভারতের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের যৌক্তিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে দিল্লি ব্যর্থ হয়েছে।

      এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে এই সুবিধার আওতায় বছরে ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিনাশুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করছে ভারত।

      যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি সুবিধার আওতায় থাকা তুরস্কের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন মনে করছে, তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে অনেক এগিয়ে যাওয়ার শুল্কমুক্তবাণিজ্যের সুযোগ পাওয়ার যোগ্যতা এখন আর দেশটির নেই।

      বিবিসি লিখেছে, এমন এক সময়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিলেন যখন চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধের অবসান ঘটানোর চেষ্টায় আছে যুক্তরাষ্ট্র।

      জেনারেলাইজড সিস্টেম অফ প্রিফারেন্সেস বা জিএসপির আওতায় তালিকাভুক্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর কিছু নির্দিষ্ট পণ্য বিনাশুল্কে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার পায়।

      এই সুবিধা পাওয়ার জন্য কিছু শর্ত ঠিক করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস। পণ্যের মেধাস্বত্ত্ব নিশ্চিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ক্ষেত্রেও ন্যায্য ও যৌক্তিক প্রবেশাধিকারের মত বিষয় থাকে এসব শর্তের মধ্যে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ভারত ও তুরস্ক নির্ধারিত সব শর্ত পূরণ করতে পারছে না।

      এনডিটিভি লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের জিএসপি থেকে বিশ্বে যে দেশগুলো সবচেয়ে বেশি সুবিধা পায়, ভারত তার একটি। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত নরেন্দ্র মোদীর সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে এল।

      যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এখন ভারত ও তুরস্ককে এ বিষয়ে নোটিস দেবে। তারপর দুই মাসের মধ্যে জিএসপি সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে।

  4. মাসুদ করিম - ২৪ জুলাই ২০১৩ (১২:৪৯ পূর্বাহ্ণ)

    জাপান টাইমসের জনেক কলাম লেখক ওবামা প্রশাসনের বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যে দেয়া জিএসপি সুবিধা স্থগিত করাকে প্রেসিডেন্ট ওবামার ‘মারাত্মক ভুল’ আখ্যা দিয়েছেন।

    Obama’s blunder with Bangladesh

    by Kevin Rafferty

    President Barack Obama recently announced that he was suspending Bangladesh’s trade benefits under the Generalized System of Preferences (GSP) because the country failed to give its workers proper rights.

    Not for the first time, I have to wonder at the clumsiness and the lack of sensible, let alone sensitive, policies by the administration of President Barack Obama.

    No doubt he was inspired by horror and outrage after the deaths of almost 1,500 workers in a series of criminal accidents in Bangladesh’s factories making garments for the biggest multinational companies in the world such as Wal-Mart, Primark, H&M, Marks and Spencer, Topshop.

    Bangladesh factories suffered from several fires where workers could not get out because the exits were blocked. One fire last year killed 113 people. But the truly murderous culmination came in April when an eight-story factory, whose owners had ignored planning and construction regulations, suddenly collapsed like the proverbial pack of cards.

    Police had warned about cracks, but the factory owners told worried workers that if they did not go to work they would lose their jobs: 1,129 of them lost their lives, and others survived only after crushed limbs were amputated. It was the world’s biggest factory disaster.

    The punishment that Obama has imposed is like an old-fashioned sledgehammer to crack the proverbial nut — but the sledgehammer has missed its target. That’s a good thing because if Obama had succeeded in hurting Bangladesh, those he would have hurt most would have been the women who work sometimes in unsafe conditions of semi-slavery to produce garments for the world.

    As Kimberley Elliott of the Center for Global Development noted, the U.S. action is in most ways a symbolic measure because GSP does not cover clothing, which accounts for 90 percent of Bangladesh’s exports to the United States.

    The punishment affects about 1 percent of exports, or a trifling $35 million in goods, so it seems a clumsy way of making a point. It may be that Obama understood that what he was doing would have very little impact on the economy but nevertheless wanted to send a warning shot. But the way he did it smacks of bullying.

    It also sends dangerous messages in different directions. It might encourage the European Union to follow suit, which would threaten more than $12 billion worth of Bangladesh goods. Washington’s action could also encourage big retailers to rethink and try to pull out of Bangladesh because Obama has withdrawn a significant seal of approval from the country.

    Already one chief executive of an American company that designs and distributes high-end apparel from Bangladesh told the New York Times, “Right now, the name of Bangladesh just gives a bad rep (reputation) to a company.” A number of international companies are keen to explore other opportunities away from disgraced Bangladesh.

    I have to declare an interest. I watched the creation of Bangladesh and its bloody Caesarian birth out of Pakistan with India as midwife. Even in the heady days of independence, the economic plight of Bangladesh seemed desperate, with few exports but heavy dependence on imports for all sort of basic goods, from food to energy and clothing.

    Worse still, the life expectancy and literacy rates of the infant country were among the lowest in the world. The land was crisscrossed by rivers curling round each other like snakes in an orgy.

    The main means of transport were country boats with home made patched up sails that had to be pulled if there was no wind, or slow buses or slower trains, all of which were usually so crowded that there was no room to stand, even on the roof.

    What was the hope for this country, except for the heartwarming energy and enthusiasm of the people?

    To cut a long story short, Bangladesh, after a painful start, has begun to make important steps forward, thanks largely to the women in the textile factories. They are the backbone of the $20 billion in clothing exports that have helped Bangladesh to climb up the world economic tables. Per capita income, thanks to annual growth of 6 to 7 percent, is $1,700, and Bangladesh now occupies 44th place in the global economic league tables.

    It has gained a place in Goldman Sachs’ N-11 group of countries, meaning the Next Eleven, which have the potential after the BRICS (Brazil, Russia, India, China and South Africa) to become the big movers and shakers of the world economy in this century. The list is an odd one, with some doubtful names on it, but it puts Bangladesh in the august company of Mexico, Indonesia, South Korea and Turkey, which have begun to make their global presence felt.

    Who could have imagined such Bangladeshi progress even 10 years ago?

    But the women textile workers have achieved much more for their country. They have helped to change the social fabric, so that in key indicators such as life expectancy, infant mortality, the schooling of girls and combatting undernourishment of children, Bangladesh is now superior to its big neighbor, India.

    Does Obama wish to bring his sledgehammer policies to crush their future and that of Bangladesh?

    It would have been — would be — far better for Obama to use carrots before resorting to a stick. The U.K. government has shown a more enlightened attitude by asking leading companies buying goods from Bangladesh how they can work together to improve the standards of the factories. European retailers have also shown the right attitude — to try to make the working conditions safer and better for the women. But their U.S. counterparts walked away from any such deal, not wishing to get involved in legal obligations.

    There is surely room for big international retailers to squeeze their profits to ensure safer production. Industry sources calculate that Bangladesh women get the lowest monthly pay of all the Asian women working in garment factories, a mere $37 for a 48-hour working week, against $120 in Cambodia, $145 in Vietnam, $300 in factories near Jakarta and $500 in Guangdong.

    At the international level, where is World Bank President Jim Kim?

    He has been quick to make grand statements about defeating poverty globally, but in this key area of actually doing something to protect vulnerable workers who are trying to raise themselves out of poverty, I cannot find a single word from Kim or the bank or indeed from the Asian Development Bank or from big international aid givers, apart from the United Kingdom.

    Are they waiting for the Bangladesh government to ask for help to defeat its own corrupt part in allowing infringement of building codes that led to the rise and fall of unsafe factories and for protection of the politically connected factory owners who profit from slave labor and exploiting the women? Shame.

    Kevin Rafferty is a professor at the Institute for Academic Initiatives at Osaka University.

  5. মাসুদ করিম - ২৪ জুলাই ২০১৩ (৯:২৫ পূর্বাহ্ণ)

  6. মাসুদ করিম - ১৩ আগস্ট ২০১৩ (২:০৯ পূর্বাহ্ণ)

    যে আটটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে সেগুলো হলো- উৎপাদন সামর্থ্য বাড়ানো; কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; শিল্প-বাণিজ্য; পণ্য উৎপাদন বৃদ্ধি; মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন; বহুমাত্রিক সঙ্কট ও উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ; উন্নয়নের সামর্থ্য সৃষ্টির জন্য অর্থের জোগান এবং সব পর্যায়ে সুশাসন নিশ্চত করা।

    মানব ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোকেই জাতিসংঘ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাভুক্ত করেছে। দারিদ্র্য (মাথাপিছু আয়), মানবোন্নয়ন (পুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সাক্ষরতার হার বিবেচনায়) এবং অর্থনৈতিক সামর্থ্য- এই তিনটি সূচকের ওপর ভিত্তি করে দশ বছর পরপর স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা হালনাগাদ করা হয়।

    বর্তমানে আরো ৪৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশও এ তালিকায় রয়েছে।

    বাংলাদেশ ২০১৫ সালের মধ্যে এ তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে- এমন আশা প্রকাশ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “পরপর দুই বার রিভিউ করার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া হবে।”

    তিনি জানান, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বের হয়ে আসতে তিনটি সূচকে বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রয়োজন। বর্তমানে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৯২৩ ডলার, যাকে ১১৯০ ডলারে উন্নীত করতে হবে তালিকা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে।

    বাকি দুটি সূচকের মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে ভাল অবস্থায় রয়েছে এবং মানব সম্পদ সূচকও উত্তরণের কাছাকাছি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন সচিব।

    স্বল্পোন্নত দেশের তালিকাতে থাকালে বেশ কিছু সুবিধা পাওয়া যায় উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, “আমরা অনন্তকাল এ সুবিধা নিতে চাই না।”

    তিনি জানান, এ কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করতে ২৭টি মন্ত্রণালয় নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছে। এছাড়া বছরে একবার কয়েকজন মন্ত্রী বসে এ বিষয়টি দেখবেন। কোন মন্ত্রণালয় কি কাজ করবে তাও এ কর্মপরিকল্পনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

  7. মাসুদ করিম - ৬ নভেম্বর ২০১৪ (১০:৩৫ পূর্বাহ্ণ)

    New European Union (EU) Ambassador to Bangladesh Mayaudon Pierre has called for taking immediate initiatives to ensure the country’s access to GSP Plus regime as a middle-income country (MIC) after 2021.

    He said Bangladesh will lose the existing privileges of duty-free and quota-free market access to the EU market as a least developed country (LDC) after its graduation to MIC by 2021, as envisioned.

    Mr Mayaudon shared his views at a press conference at a city hotel on Wednesday after officially assuming his office as the Head of EU Delegation for three years.

    The career diplomat presented credential to President Abdul Hamid this week after his tenure as the deputy head of EU delegation in Pakistan.

    The EU envoy expressed optimistic views about Bangladesh’s achieving success as a MIC for its robust and steady economic growth prospects by 2021.

    But as a MIC, Bangladesh will not be eligible to get the EU’s GSP Plus, until and unless it complies with a combination of stringent conditions, he also said.

    “Considering 2021 is not that far away, necessary work in this regard should start now,” he told the journalists.

    GSP Plus is an incentive for the countries that have signed and ratified as well as are properly implementing 27 international core conventions in the areas of human rights, labour rights, environment and governance.

    Replying to a question, the EU head of delegation said under GSP Bangladesh enjoys cent per cent duty-free and quota-free market access. It will be 90 per cent under GSP Plus, and textile will be among many other sectors enjoying the facility.

    He also expressed confidence about increase in trade volume in favour of Bangladesh from the existing € 12.5 billion.

    Mr Mayaudon, however, called for diligent interventions in areas like skill development, energy, infrastructure and connectivity.

    He also offered the EU’s partnership to work on urgent basis on various issues, including climate change, on bilateral and regional basis.

    He informed that the EU’s bilateral aid to Bangladesh will be increased to 70 per cent in the areas of education and skill development, nutrition and food security, and democratic governance for adopting the new 7-year development cooperation programme, named Multi-annual Indicative Programme (MIP) 2014-2020.

    The ambassador also said eight of the EU countries, including Switzerland and Norway, will be close partners from the European side in implementing the programme, while India, China, South Korea and Japan will be strategic partners.

    He said the Bangladesh-EU joint commission will meet next year to address a broad range of issues of common interest.

    The EU will increase budget support component of cooperation for increasing more interaction with the government to achieve high quality education as well as a better performing and transparent public financial management, he opined.

    Besides, during the next three years, the EU will also work with the NGOs and the private sector to ensure sustainable development of the country.

    “We will be working with them, not only in the RMG sector, the main driver of economy, but also in the emerging sectors, such as – ship-building, IT and pharmaceutical.”

    Regarding the Lisbon Treaty, signed in 2009 that has enlarged the range of the EU associations, the EU envoy said it has broadened the scope of bilateral relationship between the countries in an unprecedented manner.

  8. মাসুদ করিম - ১৮ জানুয়ারি ২০১৫ (৯:৫৪ পূর্বাহ্ণ)

    BD needs to do more: USTR

    The United States has ruled out the possibility of reinstatement of Bangladesh’s trade benefit under its generalised system of preferences (GSP) unless further progress is attained in certain areas, including labour rights and factory inspection.

    Furthermore, the US government’s trade wing wants effective collaboration among the government, private-sector stakeholders and the ILO (International Labour Organisation).

    It is needed to cope with factory-safety issues in Bangladesh’s apparel industry, the USTR (United States Trade Representative) office said after an interagency review of the ground situation and Dhaka’s strong plea for restoring the trade facility in the US market-the single-largest destination for Bangladesh’s main exportable, readymade garments.

    “…Bangladesh has made progress over the last year to address fire and building safety issues in the ready-made garment (RMG) sector, further progress is needed, including addressing serious worker rights issues, before reinstatement of Bangladesh’s trade benefits under the Generalised System of Preferences (GSP) can be considered,” the USTR said after the review Friday.

    United States Trade Representative Michael Froman made the USTR position available on its official website, in response to Bangladesh’s last update, sent in mid-November in 2014, on progress made in line with the US-designed Action Plan.

    Washington revoked trade benefits for Bangladesh in mid-2013 following tragedies in the Rana Plaza building collapse and Tazreen Fashions factory fire. More than 1,200 people were killed.

    The USTR review found that under government oversight more than 2,000 safety reviews of factories had been carried out in the last year, most by teams organised by private-sector initiatives led by North American and European brands and retailers, resulting in the closure or partial closure of 48 plants.

    The government of Bangladesh is responsible for inspection of several hundred more factories, the trade representative pointed out in regretting US inability to restore the trade facility for now.

    “We urge the government to complete remaining factory inspections as soon as possible to prevent recurrence of workplace tragedies such as those that occurred in 2012 and 2013,” Mr Froman said.

    “There is more work to do, building on the collaboration between the government of Bangladesh, private-sector stakeholders, and the International Labor Organization, to address the concerns about factory safety in the apparel sector,” he added.

    The US government is concerned about continuing reports of “harassment and violence” against union activists seeking to establish new unions or to exercise their legal rights, the USTR statement said.

    “We also urge the government to accelerate its efforts to ensure workers’ rights and to take measures to address continuing reports of harassment of and violence against labour activists who are attempting to exercise their rights,” it added.

    There has also been little progress in advancing the labour-law reforms called for in the Action Plan, including changes to ensure that workers are afforded same rights and protections in Export Processing Zones as in the rest of the country, the statement went on listing the dos.

    Suspending trade benefits did not directly hit Bangladesh’s multi-billion-dollar clothing exports but it put pressure on the country and many of the world’s largest garment and fashion companies, which sourced clothes from Bangladesh manufacturers.

    In 2012, the total value of US imports from Bangladesh under GSP was $34.7 million. The top GSP imports from Bangladesh included tobacco, sports equipment, porcelain china, and plastic products.

    When contacted, Labour Secretary Mikail Shipar said the government was addressing the complaints of harassment and violence against union activists.

    “But the incidents are not so frequent as the USTR said.”

    He said two firms were hired to carry out the factory inspection under a government-ILO joint initiative.

    The inspections would hopefully be completed by April next, he said.

    Regarding the EPZ law, he said it was now a waiting the law ministry vetting.

    “Necessary changes have been made in this regard, considering the entire scenario, including the interest of foreign investment and local employment,” he noted.

  9. মাসুদ করিম - ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫ (৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ)

    There can be no question that Bangladesh should strive for a high growth rate, which is absolutely essential for an improvement in the standard of living of the general population. With the economy growing the country shall, sooner or later, graduate out of the low income and the LDC group. Graduation from a LDC is a more significant economic event than the attainment of a middle income status.

    When Bangladesh graduates to a developing country it will automatically lose the Generalised System of Preferences (GSP) trade privileges including duty-free quota-free access that the most developed and some developing countries offer to LDCs. It will also lose some other benefits such as Intellectual Property Right (IPR) exemptions. Bangladesh will have to compete in the international market at par with other developing countries such as China, India and Malaysia. Hence, the graduation to a developing country will pose difficult challenges. Bangladesh should spend the time it has till graduation in working out how these challenges can be best met.
    বিস্তারিত পড়ুন

  10. মাসুদ করিম - ১ জুলাই ২০১৫ (৯:২৭ পূর্বাহ্ণ)

    ১. What does the Trans-Pacific Partnership mean for BD?

    ২. Obama poised for huge win on trade

    ৩. Move to measure actual current LDC status of Bangladesh

  11. মাসুদ করিম - ৮ জুলাই ২০১৫ (৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ)

    Trans Pacific Partnership and garment export

    Whenever any of our major trade partners contemplates a free trade agreement or special trade preferences for countries that are exporters of apparels, an alarm is raised that such an agreement would adversely impact on the export of apparels from Bangladesh. There was considerable unease when the European Union (EU) granted generalised system of preferences (GSP)+ trade privileges to Sri Lanka in 2005 and later to Pakistan in 2013. A great deal was said about the adverse impact of the privileges on Bangladesh’s apparel export to the EU. But belying the predictions, the export of apparel from Bangladesh to the EU grew by 2.8 times during the period 2005-14. Recently, the USA has moved to conclude a free trade agreement namely, Trans Pacific Partnership (TPP) Agreement, with eleven Pacific Rim countries including Vietnam.

    Since Vietnam is the second largest exporter of apparels to the USA, which happens to be the largest single country market for apparels of Bangladesh, the prospect of Vietnam receiving duty-free access to the USA has predictably raised an alarm among concerned people. With China in decline, Vietnam is already the most dynamic exporter of apparels to the USA. If it gets duty-free access, it can accelerate the increase in its US market share. Bangladesh being hobbled by high tariffs will be unable to match the competitive strength of Vietnam, and hence lose out – so the argument goes.

    It is undoubtedly true that Vietnam will become a more attractive import source of apparels if and when it gets duty-free access to the USA. Currently the importers of the USA pay 19 per cent duty on knit garments and 17 per cent on woven garments originating from Vietnam. The landed prices of Vietnamese knit and woven apparels could be reduced by this margin if Vietnam were to be granted duty-free status making it a rather attractive source for the US importers. Hence Vietnam’s export of apparels could increase at an even faster rate than the current high rate, and it will capture an increasingly larger share of the US market. However, this need not mean that Vietnam would increase its market share at the expense of Bangladesh.

    Vietnam is not the only competitor of Bangladesh in the US market; all countries that export apparels to the USA are competitors. Even if Bangladesh is less competitive than Vietnam, it is certainly more competitive than most of the other exporting countries.

    As shown in the table below, Vietnam’s apparel export to the USA increased by a massive 244 per cent during the 10-year period between 2005 and 2014, unmatched by any other substantial exporter. Bangladesh did not do as well, but the growth of its apparel export to the USA was 108 per cent during this period, which was the second highest among the top exporters. China with 81 per cent and Indonesia with 70 per cent were the next most dynamic exporters. Since these growth rates were much higher than the growth of apparel import demand of the USA, the share of all these countries in the US import of apparels increased albeit in different proportions. Hence good export performance by one or two countries does not necessarily stymie the space for growth of every other country.

    There are at least two reasons why many exporting countries may not suffer, at least in absolute terms, due to a rapid expansion of export of a particular country such as Vietnam. First, secular increase in the US import of apparels may be greater than the increase in the export of Vietnam. Hence the absolute export of the other countries need not decline although the relative shares may change. Second, the duty-free access granted to Vietnam will most likely reduce the landed price of its apparel imported into the USA. There will be pressure on other exporters to reduce their prices. Firms in other countries that were exporting already at a slim margin may not be able to withstand this pressure. They will either reduce their export or go bust. Thus the main burden of adjustment to a large increase in the export of Vietnam, or for that matter any other country, will fall on these marginal firms in other countries. Bangladesh fortunately is not in this group as suggested by 2005-14 US import data. If it can improve its efficiency, then it need not suffer at all from Vietnam’s fortune.

    However, there are reasons for concern. The 10-year growth hides an important development. Most of the growth actually took place between 2005 and 2011. Since then there has been little growth in export of either knit or woven garments. Total apparel export increased by only 7.3 per cent between 2011 and 2014, which is only slightly more than the increase in the US apparel import demand. This obviously meant that Bangladesh barely managed a very small increase of 0.1 per cent in its share of the US market.

    In contrast, Vietnam’s share increased by 2.8 per cent (from 8.3 to 11.1 per cent) during these three years. Another important development is the beginning of the decline of China; its share declined from 38.2 per cent to 36.7 per cent. Its highest share of the US market, 39.7 per cent, was attained by China in 2010. Despite much hype about Bangladesh becoming an alternative powerhouse of apparel export, it is still to emerge as an alternative to China in the US market. But Vietnam has been successful in positioning itself as the major alternative source. Since China is likely to lose apparel market share rapidly in future, there will still be opportunities for Bangladesh. It must raise its efficiency level in order to carve out a greater share of the market. Given the political realities, there is little likelihood of obtaining duty-free access to the US apparel market without a free trade agreement.

    A country, especially the USA, does not enter into a free-trade agreement without a lengthy period of careful study, scrutiny and intense negotiations with both domestic stakeholders and partner countries. One does not have to be a genius to understand that the USA will not alter its decision on what is going to be the ‘cornerstone of the Obama Administration’s economic policy in the Asia Pacific’ representing 40 per cent of global gross domestic product (GDP) because of a complaint by a minor third party.

    What can then be achieved by expressing our concerns about TPP? Come to think of it, it does actually help the apparel exporters. If they could be shown to be a possible loser from the proposed TPP, it might help them extract some concessions from our government. It is a credible hypothesis that the presumed future loss of export market in the USA influenced, at least to some extent, the decision of the Finance Minister to a large reduction in the small tax-at-source on all apparel export proposed in the 2015-16 budget.

  12. মাসুদ করিম - ৯ জুলাই ২০১৫ (১২:৪২ অপরাহ্ণ)

    US GSP renewal: Hype and reality

    The renewal of the Generalised System of Preferences (GSP) of the United States is indeed welcome news for exporters from developing countries, not only Sri Lanka. It is a scheme that provides non-reciprocal, duty free access to certain products imported from designated Beneficiary Developing Countries (BDCs).
    Some of the articles that appeared on newspapers about the US GSP renewal however carried inaccurate information and exaggerated the perceived benefits. For example, some claimed the renewal was due to the improved human rights record of the Government, and that this is a big boost to Sri Lankan exports destined to the United States, especially apparel. These are false claims.

    Expiration or renewal of US GSP had nothing to do with Sri Lanka
    The expiration of the US GSP scheme on 31 July 2013 or the renewal of the scheme on 29 June 2015 had nothing to do with Sri Lanka. The US GSP program is subject to periodic renewal by Congress. This is not a country specific review.
    The GSP program was most recently extended until 31 July 2013, and congress failed to renew it on the due date, therefore the GSP scheme expired. As a result all 122 GSP beneficiary countries lost duty free access given by the scheme for selected products exported to the United States.
    Also, it is not the first time this has happened. It was in fact the eighth time the scheme has expired without being renewed in a span of 30 years. The US GSP scheme when it is renewed after a lapse of several months/years, is renewed retrospectively; i.e. the US Customs will reimburse U.S. importers for tariffs paid on eligible products during the gap period.

    Only 8% of Sri Lankan exports to USA benefits from US GSP scheme
    The reports also claim that the GSP program provides duty-free entry for 5,000 products exported from Sri Lanka. The product coverage is much less for developing countries like Sri Lanka; it is roughly about 3,500 products (and it is at HS 8-digit level, which makes the actual coverage even smaller).
    The least developed beneficiary developing countries (LDBDCs) receive duty free status to an additional 1,500 products. Therefore it is these 43 LDBDCs that actually have duty free access to 5,000 products.
    According to statistics published by the United States International Trade Commission (USITC) the percentage of exports from Sri Lanka that benefits from US GSP is very low. As a percentage of total exports from Sri Lanka to the United States, it has been around 8% (refer Figure 1).
    According to a report published by the Congressional Research Service on the GSP scheme, imports that utilised the GSP concessions from the 122 beneficiary countries amounted to only 1% of total imports into US in 2012, whereas the total imports from these countries into US was 12%. Overall, the benefits of the scheme for beneficiary countries is important but not large.

    Textile and apparel is not eligible for GSP concessions
    The US GSP scheme does not give concessions to certain “import sensitive” products such as textile and apparel exports from developing countries (refer Figure 2). Apparel account for nearly 80% of total exports from Sri Lanka to the United States. This is the key reason for the low level of utilisation of GSP concessions by Sri Lankan exporters. Therefore the renewal of the US GSP scheme will not give a big boost to Sri Lankan exports destined to US.

    Sri Lanka’s eligibility for US GSP was reviewed in 2012
    GSP country and product eligibility are subject to annual review. The country review takes into consideration whether the country is eligible by assessing the level of economic development, the level of diversification of exports, and their competitiveness both globally and relative to GSP eligible products. Based on this assessment, countries considered economically advanced and competitive are graduated out of the scheme.
    The countries are also reviewed on other criteria such as worker rights, intellectual property protection, existence of trade distorting investment policies etc. For example on June 27, 2013, the US President announced the suspension of GSP benefits for Bangladesh on the grounds that “it has not taken or is not taking steps to afford internationally recognised worker rights to workers in the country”.
    In fact Sri Lanka was also under review, in 2012. The review however was not about human rights record of Sri Lanka, and US did not suspend concessions given to Sri Lanka. It was a review of country practice on worker rights. After reviewing the status and measures taken by the government, on 29th June 2012, the United States Trade Representative (USTR) confirmed that Sri Lanka will continue to receive GSP concessions.

    Conclusion
    Thus the current renewal of US GSP has nothing to do with the current political developments in Sri Lanka and its human rights record. Sri Lanka was of course one of the many developing countries that lobbied for early renewal of the scheme.
    Further, contrary to some reports, only a small portion of Sri Lankan exports to the United States benefit from the GSP concessions. Hence, US GSP renewal, while benefiting some exporters to United States, is not going to give a big boost to overall exports from Sri Lanka to the United States.
    (The writer is an expert on international trade and Head of Research at Verité Research)

  13. মাসুদ করিম - ১২ আগস্ট ২০১৫ (১২:২৩ অপরাহ্ণ)

    Bangladesh left out as US renews GSP facility

    Leaving out Bangladesh despite Dhaka’s arduous efforts for the trade concession, the United States has extended until 2017 its generalized system of preferences (GSP) facility for 122 countries that include all other SAARC members.

    According to the official website of the USTR (United States Trade Representative) the US President signed on July 29 the Trade Preferences Extension Act of 2015 that reauthorizes the GSP Programme until December 31, 2017.

    The renewal came after that the previous one expired in July 2013.

    As provided in the Act, duty-free treatment of GSP-eligible imports will take effect from July 29, 2015.

    The 122 favoured countries include SAARC members India, Pakistan, Nepal, Sri Lanka, Bhutan and Afghanistan. Only Bangladesh is not found among them.

    “The Trade Preferences Extension Act of 2015 reauthorization of GSP provides retroactive benefits only to goods from a country that is a beneficiary of the GSP program as of July 29, 2015. As such, this excludes countries such as Bangladesh and Russia that lost eligibility between July 31, 2013 and July 29, 2015,” according to the US federal register 144 notice of volume 80.

    The US suspended the GSP trade benefits for Bangladesh in July 2013 following tragedies in the Rana Plaza building collapse and Tazreen Fashions factory fire that killed more than 1,200 workers.

    Industry people termed the exclusion of Bangladesh from the beneficiary list ‘unfortunate’.

    Asked about such a development on the country’s trade front, Senior Secretary at Commerce Ministry Hedayet ullah Al Mamoon said, “We have met almost all the conditions outlined in the US action plan and we expect that our efforts will be reflected in its future action.”

    Both the countries have excellent bilateral and trade relations, he claimed, adding the issue would be resolved through discussion.

    Terming the exclusion of Bangladesh from the US GSP ‘unfortunate’, President of Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (BGMEA) Md Atiqul Islam said the country’s garment sector is working with two western coalitions–Accord and Alliance–to improve the workplace safety and labour rights.

    “Though garment products do not enjoy the GSP facility, it seriously hampers the image of the country,” he added.

    In 2012, the total value of US imports from Bangladesh under GSP was $34.7 million. The top GSP imports from Bangladesh included tobacco, sport equipment, porcelain china, and plastic products.

    No new initiative to regain GSP: Tofail

    The government will not take any new initiative to get back the Generalized System of Preferences (GSP) facility for Bangladeshi products in the US market, Commerce Minister Tofail Ahmed said.

    The US did not include Bangladesh in its updated list of eligible countries for enjoying GSP facility.

    “I don’t support taking any steps for reviving the facility,” Tofail Ahmed told reporters in his reaction on Tuesday.

    “We’ve fulfilled all our conditions. We’ve nothing more to do.”

    “Our exports will not be affected, if the country doesn’t get back the GSP facility,” the minister told the media after a view-exchange meeting with Slovenian envoy to India Darja Bavdaž Kuret, who is also accredited to Bangladesh.

    “I don’t see reasons other than the political ones (for not being on the GSP list). Obama has recently praised Bangladesh, and there’s no reason for us for not getting the GSP

    facility,” Tofail Ahmed said.

    “We’ve already fulfilled all the 16 conditions set by the United States Trade Representative (USTR) to regain the facility. I think the US will not lift the suspension even we meet many more conditions for GSP restoration.”

    Under GSP facility, 5,000 types of Bangladeshi goods enjoyed duty-free access to the US market.

    Bangladeshi businesses exported goods worth around $34.7 million to the US in 2012, and $2.0 million in duties was waived.

    The commerce minister expressed the hope that the US will withdraw the GSP suspension under the Trade and Investment Cooperation Framework Agreement (TICFA).

    Replying to a question Tofail said, “GSP is absolutely a matter of the US. We have nothing to do about the issue,”

    The US suspended Bangladesh’s GSP facility on June 27, 2013 in the aftermath of over 1,000 workers’ deaths in Tazreen Fashions fire and Rana Plaza collapse.

    UNB news adds: On June 29, President Barack Obama signed into law a bill that reauthorizes GSP through Dec 31, 2017, according to Office of the USTR.

    It excludes Russia and Bangladesh.

    In January’s review, the USTR recognised Bangladesh’s progress, but urged that more needed to be done on workers’ safety and rights.

    The USTR-led interagency review concluded that while Bangladesh has made progress over the last year to address fire and building safety issues in the ready-made garment (RMG) sector, further progress is needed, including the issues relating to the workers’ rights, before the reinstatement of Bangladesh’s trade benefits under GSP can be considered.

    GSP is a trade scheme, under which the US allows import of more than 5,000 goods from 122 least developed and developing countries with lower or zero-duty benefit.

  14. মাসুদ করিম - ১৩ আগস্ট ২০১৫ (৮:৪০ পূর্বাহ্ণ)

    GSP restoration after full Action Plan implementation: Bernicat

    US Ambassador in Dhaka Marcia Stephens Bloom Bernicat on Wednesday said the US will restore Generalised System of Preferences (GSP) for Bangladesh if it fully implements specific measures listed in the GSP Action Plan for it.

    She made the remark while talking to journalists after visiting two readymade garment units in Gazipur to assess working environment and compliance issues, UNB reported.

    Bangladesh Garment Manufacturers and Exporters Association (BGMEA) arranged the programme at Utah Fashion Ltd and Epyllion Style Ltd for the diplomats stationed in Dhaka.

    In response to a query whether political issues had been the reasons behind the GSP suspension, Bernicat said, “The US has suspended GSP because of Rana Plaza, not for any political reason… I repeat, there’s no political reason.”

    The Ambassador said the US was concerned over workplace safety and worker rights situation in Bangladesh’s RMG sector 10 years before Rana Plaza collapse; the Rana Plaza incident just added emphasis to the GSP suspension.

    “Since April 13, 2013 (Rana Plaza disaster), Bangladesh has made enormous progress to ensure safety in workplace; only a few works left … there shouldn’t be any disappointment regarding GSP restoration (process),” she added.

    On Tuesday, Commerce Minister Tofail Ahmed described the non-restoration of the GSP by the US as ‘unfortunate’ and mentioned that it is only politics, not other reasons, behind depriving Bangladesh.

    Talking to reporters in the capital, he also said the US decision forced him showing no interest in taking further initiatives to regain the GSP as Bangladesh was deprived of the facility despite fulfilling most of the conditions tagged by the US.

    GSP is a trade scheme under which the US allows import of more than 5,000 goods from 122 least developed and developing countries with lower or zero-duty benefit.

    On June 29, 2015, President Barack Obama signed into law a bill (HR 1295), that reauthorises the GSP through Dec 31, 2017, according to Office of the United States Trade Representative (USTR).

    This excludes goods that entered from Russia, which formally graduated from the GSP programme on Oct 4, 2014, and any other countries that are no longer eligible for GSP benefits, such as Bangladesh.

    Under the new law, duty reductions under the GSP programme will begin 30 days after the law is enacted, which took effect on July 29, 2015.

    It also extends duty reductions retroactively for any goods entered in between July 31, 2013, and the effective date.

    Bangladesh’s apparels have been enjoying duty-free benefits to majority of the developed and developing countries.

    But Bangladesh’s apparels do not enjoy duty-free benefit only in US market. In January this year’s review, the USTR recognised progress but urged that more needs to be done on worker safety and rights.

    President Obama suspended Bangladesh from GSP in June 2013 based on Bangladesh’s failure to meet statutory eligibility requirements related to worker rights.

    BGMEA president M Atiqul Islam led the tour to the factories while some other diplomats including EU Ambassador Pierre Mayaudon; Canadian High Commissioner in Dhaka Benoit-Pierre Laramee; Spanish Ambassador Eduardo de Laiglesia Y del Rosal; Charge d’ Affaires of Australian High Commission Dr Lucinda Bell; Charge d’ Affaires of Danish Embassy Jean-Pierre Poncet; and Charge d’ Affaires of the Netherlands Embassy Martine van Hoogstraten.

  15. মাসুদ করিম - ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ (২:৪০ অপরাহ্ণ)

    পদ হারিয়ে ব্যাংক এমডির অপপ্রচার: প্রধানমন্ত্রী

    গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মামলায় একটি ব্যাংকের সামান্য এমডি পদ হারিয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সমানে অপপ্রচার চালিয়েছেন তিনি।

    যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি সুবিধা ফিরে না পাওয়ার পিছনে ‘অন্য কোনো পরাশক্তির’ ইন্ধন আছে কি না- এক সংসদ সদস্যের এ প্রশ্নের জবাবে বুধবার জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

    তিনি বলেন, “কোনো পরাশক্তি নয়, বরং কিছু অপশক্তি; দেশের বাইরের নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরের তাদের কারো কারো ব্যক্তি স্বার্থে আঘাত লাগায় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তারা অপপ্রচার চালায়। আর অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, এই বাংলাদেশে যিনি এক সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, বিরোধী দলের নেতা ছিলেন। অবশ্য এখন এ ধরনের কোনো পদে নেই কিন্তু একটি দলের নেতা।

    “সেই দলের নেতা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে চিঠি দিয়ে জিএসপি যাতে বন্ধ হয় তার আবেদন করেছিলেন। তিনি ওয়াশিংটনের কোনো এক অখ্যাত পত্রিকায় একটি প্রতিবেদনও প্রকাশ করেছিলেন, যাতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়।”

    শেখ হাসিনা বলেন, “বিএনপি-জামায়াত আর ব্যাংকের এমডি মিলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অনেক চেষ্টা ও অপকর্ম করেছে কিন্তু অগ্রযাত্রা বন্ধ করতে পারেনি। অহেতুক বিনা কারণে পদ্মা সেতু নির্মাণ বন্ধ করতে চেয়েছিল।

    “কিন্তু তারা সেতু নির্মাণ ঠেকাতে পারেনি, আমরা নিজেরাই এই সেতু নির্মাণ করছি।”

    কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, “কোনো কোনো ব্যক্তি হয়তো একটি পদের জন্য। একটি ব্যাংকের সামান্য এমডি পদটি মামলা করে হারনোর পরে তিনি এতই ক্ষিপ্ত হয়ে যান যে সেখানে সরকারের বিরুদ্ধে সমানে অপপ্রচার চালান।”

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের ফাঁস হওয়া ই-মেইলে মুহাম্মদ ইউনূসের মেইলও পাওয়া গেছে, যাতে গ্রামীণ ব্যাংকে পদ ফিরে পেতে হিলারির হস্তক্ষেপ কামনা করতে দেখা গেছে তাকে।

    যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগের খবরের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের স্বাধীনতা বিরোধিতাকারী হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীর দোসর জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি অর্থ দিয়ে লবিস্ট রেখে বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার পরিচালিত করছে। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে বিএনপি-জামায়াত উঠে পড়ে লেগেছে।

    “কথায় বলে, ঘরের শত্রু বিভীষণ। কোনো পরাশক্তি নয়, ঘরের শত্রু বিভীষণ অপশক্তি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছি। রায়ও কার্যকর করেছি।”

    আরেক প্রশ্নের জবাবে যুদ্ধাপরাধীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর থেকে বিরত থেকে বিদেশ থেকে ফোন পাওয়ার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, “অনেক বড় বড় হোমড়া চোমড়ারাও টেলিফোন করেছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় যেন কার্যকর না হয়। ‍ভালো কাজে তাদের কোনো ফোন না পেলেও এ কাজে ফোন পেয়েছি, কথাও বলেছি।”

    তবে যেখানেই যত ষড়যন্ত্র হোক, যত বাধাই আসুক না কেন একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে অনড় অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি জাতির পিতার কন্যা। আপনজন সবই হারিয়েছি। সব হারিয়ে ‍শুধু বাংলাদেশের ‍মানুষের জন্য আমরা রাজনীতি।

    “বিচার আমরা বাংলার মাটিতে করেছি। ওই বিচার চলবে এবং চলতে থাকবে, তাতে যা ই আসুক না কেন আমি জীবনের মায়া করি না। জীবনের পরোয়া করে আমি চলি না। জীবনকে চ্যালেঞ্জ রেখেই বাংলার মাটিতে রাজনীতি করে যাচ্ছি।”

    ‘দালালদের কোনো দেশপ্রেম ও কর্তব্যবোধ নেই’ মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “কেবল লুটপাট, দুর্নীতি, মানুষ খুন, ষড়যন্ত্র করা- এর সাথে জড়িত তারা বাংলাদেশের বহু ক্ষতি করেছে। ইনশায়াল্লাহ তারা ভবিষ্যতে আর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না। কারণ বাংলাদেশের জনগণ এখন সচেতন।”

    আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ষড়যন্ত্রকারী যারা অবশ্যই তাদের বিচারও বাংলার মাটিতে হবে।”

    জিএসপি নিয়ে আলোচনায় আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ বৃদ্ধির কথা তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

    তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের এটা মনে রাখা দরকার। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বাংলাদেশে তাদের বিনিয়োগ ছিল মাত্র ২৫ মিলিয়ন ডলার। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পর সেটা ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়।

    “এখন ২ বিলিয়নের মত তাদের বিনিয়োগ এখানে রয়েছে। আমরাই তাদের সেই সুযোগ করে দিয়েছি।”

    জিএসপি সুবিধা না পাওয়ায় তৈরি পোশাক খাতে তেমন প্রভাব পড়ছে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রতি বছর আমরা আমেরিকাকে সাড়ে আটশ মিলিয়ন ডলার ট্যাক্স দিয়ে থাকি। যেটাতে আমরা জিএসপি সুবিধা পেতাম তার রপ্তানি কিন্তু খুবই কম। বড় জোর ২৫ মিলিয়ন ডলারের মত জিএসপি সুবিধা পাওয়া যেত।”

    তবে জিএসপি সুবিধা বন্ধ হওয়া বাংলাদেশের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর ও দুর্নামের বলে মন্তব্য করেন তিনি।

    “হয়তো আমরা আরো ভালো করতে পারতাম। সেখানে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমাদের থামিয়ে রাখতে পারেনি। অগ্রগতি ধরে রাখতে পেরেছি,” বলেন প্রধানমন্ত্রী।

    লিখিত প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, চলতি বছরে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ১২২টি দেশকে জিএসপি সুবিধা দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশকে দেয়নি।

    তিনি বলেন, তৈরি পোশাক ও চিংড়ি খাত এবং ইপিজেডভুক্ত কারখানায় শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ করে ২০১৩ সালের ২৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা স্থগিত করে। পরে এ সুবিধা পুনর্বহালে বাংলাদেশ সরকারকে বিভিন্ন শর্ত সংবলিত ‘বাংলাদেশ অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৩’ বাস্তবায়নের পরামর্শ দেয়।

    এই কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি তিন দফায় যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার এই বাস্তবায়নের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং চলমান কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে তাগিদ দিয়েছে।

    কর্ম পরিকল্পনার অধিকাংশ বিষয় বাস্তবায়ন হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অবশিষ্ট বিষয়গুলোতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে কারখানা পরিদর্শক নিয়োগ, ৩ হাজার ৬৮৫টি গার্মেন্ট কারখানার মধ্যে ৩ হাজার ৩৭৫টিতে অগ্নি, বৈদ্যুতিক ও স্ট্রাকচারাল বিষয় পরিদর্শন করে ত্রুটিপূর্ণ ৩৪টি কারখানা বন্ধ করে দেওয়া, বিদ্যমান শ্রম আইনের বিধি প্রায় চূড়ান্ত করা, ইপিজেড শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ ইত্যাদি।

    ওই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

  16. মাসুদ করিম - ২ জানুয়ারি ২০১৭ (১২:১৮ অপরাহ্ণ)

  17. Pingback: জিএসপি নিয়ে ঠিক কথাটি বললেন শেখ হাসিনা | প্রাত্যহিক পাঠ

  18. Pingback: জিএসপি নিয়ে ঠিক কথাটি বললেন শেখ হাসিনা | প্রাত্যহিক পাঠ

  19. Pingback: জিএসপি নিয়ে ঠিক কথাটি বললেন শেখ হাসিনা | প্রাত্যহিক পাঠ

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.