শলোখভ থেকে শামসুর: সমাজতান্ত্রিক অবমূল্যায়ন

আলোচনার সুবিধার্থে ব্লগপোস্টটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে নিচ্ছি। প্রথমভাগের আলোচনাটি কমরেড জামানের মূল্যায়নটির সুনির্দিষ্ট বক্তব্যনির্ভর, পাঠকের সুবিধার্থে মূল্যায়নটির কিছু কিছু অংশ সেখানে সরাসরি উদ্ধৃত। পাশাপাশি, যেখানে প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাম্প্রতিক কিছু উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয় অংশটি বৃহত্তর দৃশ্যপট নিয়ে, যেখানে চেষ্টা করেছি সমাজতান্ত্রিক দল এবং আদর্শকে ঘিরে আবর্তিত "পার্টি সাহিত্যে"র ধারণা এবং আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার।

কবি শামসুর রাহমানের মৃত্যুর পর কলকাতা থেকে প্রকাশিত দ্বি‌-মাসিক “পথিকৃৎ”-এর পক্ষ থেকে প্রয়াত কবির উপর একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা ছাপাবার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। লেখাটি চাওয়া হয়েছিল বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল – বাসদ-এর আহ্বায়ক কমরেড খালেকুজ্জামানের কাছে। কমরেড জামান-কৃত কবির মূল্যায়নটি পড়তে হলে এই লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন। সুন্দরভাবে টাইপ করা তথ্যসমৃদ্ধ মূল্যায়নটি পড়ে আমার মনে কিছু প্রশ্ন জেগেছে, যে কারণে এই ব্লগ লেখা। শুরুতে বুঝতে পারিনি যে লেখাটি এত দীর্ঘ হয়ে যাবে; তাই পাঠকের কাছে অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি তাঁদের অনেকটা সময় নিয়ে নেয়ার জন্য।

আমার জানা নেই কমরেড খালেকুজ্জামানের সাহিত্য সমালোচনার কোনো প্রশিক্ষণলব্ধ যোগ্যতা (যেমন: সাহিত্যে উচ্চতর ডিগ্রি), কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতা (যেমন: দীর্ঘদিন কোনো পত্রিকার সাহিত্য পাতা সম্পাদনার সাথে সম্পৃক্ততা), কিংবা একজন সাহিত্যিক বা সাহিত্য সমালোচক হিসেবে সর্বজনগ্রাহ্যতা আছে কিনা। ধরে নিতে হচ্ছে, এই তিন দলের অন্তত যে-কোনো একটির মধ্যে তিনি পড়েন; আর তা নাহলে কেনই-বা “পথিকৃৎ” নামের এই সাহিত্য পত্রিকাটি তাঁর কাছেই কবি শামসুর রাহমানের মূল্যায়ন চাইবে ? আর যদি তিনি এই তিনটি দলের কোনোটির ভেতরই না পড়েন, তখন পুরো বিষয়টিকেই একটু অন্যভাবে দেখার অবকাশ থাকে বৈকি। এ প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার, “পথিকৃৎ” পত্রিকার এই মূল্যায়ন চাওয়ার বিষয়টিও কিছুটা কৌতূহলোদ্দীপক। কেন একটি সাহিত্য পত্রিকা একজন অসাহিত্যিকের কাছ থেকে শামসুর রাহমানের মূল্যায়ন চাইবে, সে বিষয়টা আমার এবং আরো অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। একজন কবি, তা-ও শামসুর রাহমানের মাপের একজন কবি কোনো দেশ, কাল বা সীমানার মধ্যে আবদ্ধ থাকেন না; কোনো দল বা মতাদর্শের মধ্যে তো নয়ই। তাঁর মতো কবিরা পৃথিবীর সম্পদ। তাঁকে নিয়ে মূল্যায়নধর্মী কাজ দাঁড় করানোর মতো প্রয়োজনীয় মাল-মশলা-তথ্যাদি পশ্চিমবঙ্গে দুর্লভ নয়। আমার জানা মতে, পশ্চিমবঙ্গে শামসুর রাহমানের প্রায় সমস্ত কবিতার বই-ই পাওয়া যায়। “পথিকৃৎ” পত্রিকা যদি নিউ ইয়র্ক কিংবা ব্রাসেলসের হতো, তাহলেও কথা ছিল। এও ধরে নিতে পারি যে, “পথিকৃৎ”-এর সদস্যরা পড়তে লিখতে পারেন এবং সাহিত্য বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ-ও ধারণ করেন। সুতরাং এত কিছু থাকতে কেন যে তারা জনৈক অসাহিত্যিক রাজনৈতিক নেতার মতামত জানতে এত আগ্রহী হলেন, সে বিষয়ে যত ভাবি, ততই বিস্মিত হই।

যাই হোক, মূল্যায়নটিকে একটু কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করা যাক। আলোচনার সুবিধার্থে ব্লগপোস্টটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে নিচ্ছি। প্রথমভাগের আলোচনাটি কমরেড জামানের মূল্যায়নটির সুনির্দিষ্ট বক্তব্যনির্ভর, পাঠকের সুবিধার্থে মূল্যায়নটির কিছু কিছু অংশ সেখানে সরাসরি উদ্ধৃত। পাশাপাশি, যেখানে প্রাসঙ্গিক মনে হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাম্প্রতিক কিছু উদাহরণ তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। দ্বিতীয় অংশটি বৃহত্তর দৃশ্যপট নিয়ে, যেখানে চেষ্টা করেছি সমাজতান্ত্রিক দল এবং আদর্শকে ঘিরে আবর্তিত “পার্টি সাহিত্যে”র ধারণা এবং আনুষঙ্গিক কিছু বিষয়ের ওপর আলোকপাত করার।

এক.

কমরেড খালেকুজ্জামান তাঁর নিবন্ধের এক জায়গায় লিখেছেন:

বিনীত, মার্জিত, মৃদুভাষী কবি শামসুর রাহমান বিশ্বাস করতেন ‘কবিতা মানুষের মনকে পরিশীলিত করে।’ এটা ঠিক যে কবিতার ছন্দ মানুষের মনকে দোলায়িত করে। কিন্তু কবিতার গাঁথুনির মধ্যে যে কাব্যভাব লুকিয়ে থাকে এবং যে ভাব-চেতনা পাঠক শ্রোতাদের মনে আবেগ-আবেশ, অনুভূতি-প্রেরণা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সুরের দ্যোতনা সৃষ্টি করে – শ্রেণীতে ভাগ করা সমাজে কবি কিংবা পাঠক কেউ-ই কাব্যভাবের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ওই শ্রেণীপ্রভাব থেকে মুক্ত থাকতে পারেন না। এ বিষয়ের সঠিক উপলব্ধি যে খুব জরুরি তাঁর লেখায় সেটি তেমন তীক্ষ্ণভাবে ফুটে ওঠেনি। [গুরুত্বারোপ লেখকের]

আধুনিক কবি হিসেবে শামসুর রাহমানের কবিতা যে ছন্দনির্ভর নয়, সে কথা না-ই বা তুললাম। [১৮ নং মন্তব্যের বিপরীতে লেখকের প্রত্যুত্তর দ্রষ্টব্য]। আর আধুনিক কবিতার পাঠকের কাছে কবিতার আবেদনের পেছনে যে ছন্দই প্রধান নয়, কমরেড খালেকুজ্জামানের মতো একজন বোদ্ধা পাঠককে সেটি মনে করিয়ে দেয়া হয়তো একটু ধৃষ্টতাই হয়ে যাবে। সুতরাং সে চেষ্টাও করবো না। কিন্তু যে বিষয়টা আমাদের অবাক করে, তা হল, একজন ক্ষমতাবান কবি হিসেবে শামসুর রাহমানের মানব মনোজগতে অবদান কমরেড জামানের কাছে যথেষ্ট নয়। কারণ, তিনি মনে করেন কাব্যভাবনার অন্তরালে শামসুর রাহমানের বুকের খাঁচায় শেষ পর্যন্ত একটি বুর্জোয়া-হৃদয়ই স্পন্দিত হয়।

অভিজ্ঞতা থেকে দেখেছি, বন্ধুমহলের সমাজতন্ত্রীদের কাছে এই “শ্রেণীপ্রভাব” শব্দটি খুব প্রিয়। এটি তাঁরা প্রায়শই একটি মোক্ষম অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। তাঁদের অমোঘ বিচারে কখন যে কে শ্রেণীদোষে দুষ্ট হয়ে যাবেন, সেটা বলা খুব মুশকিল। তাত্ত্বিক নই, সুতরাং আমার কাছে পুরো বিষয়টিই একটু গোলমেলে ও ধোঁয়াটে ঠেকে বৈকি। যাই হোক, যখন দেখি কবি শামসুর রাহমানের মত মানুষও কোনো কোনো মূল্যায়নকারীর রায়ে শ্রেণীদোষে দুষ্ট হন তখন স্বাভাবিকভাবেই মনে প্রশ্ন জাগে — কী এই “শ্রেণীপ্রভাব” ? কিসের ভিত্তিতে এর নিরূপণ হয়? যিনি রায় দিচ্ছেন, তিনি নিজে কোন শ্রেণীর মাঝে দাঁড়িয়ে কোন অধিকার বলে দিচ্ছেন সে রায় ? তাতে কতটা বস্তুনিষ্ঠতা আর কতটাই-বা গোঁড়ামিপ্রসূত পক্ষপাতদুষ্টতা? কতটা আদর্শের তাগিদ আর কতটা দলীয়কর্মী ও অনুসারীদের মন মানস নিয়ন্ত্রণের ধান্দাবাজি ? কতটা সততা আর কতটা ফন্দিবাজি ?

অপর এক স্থানে কমরেড খালেকুজ্জামান লিখেছেন:

(শামসুর রাহমান) বলতেন, “আমি ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যে বিশ্বাস করি, আর ব্যক্তির বিকাশ, তার সৃজনশীল বিকাশের প্রতিও আমি বিশ্বাসী, এবং এ পৃথিবীর সব মানুষের কল্যাণ হোক এবং মানুষ প্রগতির দিকে এগিয়ে যাক — এ বিশ্বাস আমার আছে।” তিনি আরও বলেছেন, “আমি তেমন একটি সমাজে স্বস্তি বোধ করবো যেখানে মানুষকে অনাহারে থাকতে হবে না, মানুষের পরার কাপড় থাকবে, খাবারের নিশ্চয়তা থাকবে এবং তার ব্যাক্তিত্ব ক্ষুণ্ন হবে না – এরকম সমাজে আমি থাকতে পছন্দ করবো যে সমাজ শোষণহীন এবং যেখানে দারিদ্র্যের নিপীড়নে মানুষ মারা যাবে না, এবং তার ব্যক্তিসত্তাটা ক্ষুণ্ন হবে না।” কবির এই সুন্দর চাওয়টা মহৎ। কিন্তু এ নিয়মশাসিত জগতে নিয়মের অনুশাসনের বাইরে কোন কামনা তা যত মহৎই হোক – বাস্তবে রূপ নেবার কোন পথ নেই। [গুরুত্বারোপ লেখকের]

মূল্যায়নকারীকে ধন্যবাদ জানাতে হচ্ছে শামসুর রাহমানের উক্তিটি তুলে ধরার জন্য। ব্যক্তি শামসুর রাহমানের সাধারণ মানুষের প্রতি অকপট ভালোবাসাই স্পষ্ট হয় এতে। এতে একদিকে যেমন অভুক্ত বস্ত্রহীন মানুষের জন্য প্রকাশ পেয়েছে কবির শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, তেমনি রয়েছে তাদের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও ব্যক্তিত্বের বিকাশ কামনা করার মতো যথেষ্ট শ্রদ্ধা ও মানবতাবোধ, যা দিন দিন বিরল থেকে বিরলতর হয়ে উঠছে এদেশের সৃজনশীল মানুষদের মধ্যে; একালের লেখকদের মধ্যে তো বটেই।

আজ বাংলাদেশের চরম দুর্দিনের কথাটাই ধরা যাক। সরকারের অব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ নিত্য-প্রয়োজনীয় চাল ডালটুকু পর্যন্ত কিনতে পারছে না। ছোট্ট শিশুরা স্কুল ফেলে চালের জন্য লাইনে; দিনমজুর তার জীবিকা ফেলে রেখে খাবারের জন্য লাইনে — যদি সস্তায় দু’মুঠো অন্ন জোটে (একেবারে আক্ষরিক অর্থেই), সে আশায়। মাঝে মাঝে মনে হয়, এমন দিনে কবি হয়তো চুপ থাকতে পারতেন না; যেমনটি তিনি থাকেননি তাঁর সারাজীবন। দুঃখের বিষয় হল, এমন দুর্দিনে কমরেড খালেকুজ্জামান কিংবা তাঁর দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীর পাশে অর্থবহভাবে দাঁড়ানোর কোনো লক্ষণ আমাদের চোখে পড়েনি। উল্টো তাঁদের দেখেছি এই সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ জুগিয়ে যেতে গত দেড়টি বছর ধরে। (এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত একটা পোস্ট লিখবো সময় পেলে)। তাঁর দলের অনেকেই শুনি আজ খুশিতে আত্মহারা — কারণ, বুর্জোয়ারা নাকি এ যাত্রায় বাকি বুর্জোয়াদের কেটে-ছেঁটে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে এবং এতে করে নাকি তাঁদের দলের খুব লাভ হচ্ছে – কারণ, বিভিন্ন জেলায় নাকি আজ হাজার হাজার নতুন কর্মী বাসদে নাম লেখাচ্ছে। সে কর্মীদের আদর্শিক চেতনার মান, কিংবা স্থিরতা কতটুকু, সে প্রশ্ন না হয় না-ই বা তুললাম। আসল ঘটনা কী ঘটছে সেখানে, তা দলের নেতা কমরেড জামান নিশ্চয়ই জানেন; আমারাও যে তা কম-বেশি জানি না তা কিন্তু নয়। আর এই নীরবতা এবং সেনা সমর্থনের রহস্য যে সাধারণ মানুষ অনুমান করতে পারে না, তাও নয়। কারো মতে এটা ক্ষমতার লোভ। আবার কেউ মনে করেন এটা দলের দিক থেকে হঠাৎ উপলব্ধি, যে, এ যাত্রায় কোরেশীদের সাথে লেগে থাকতে পারলে ভাগ্যের ফেরে ক্ষমতার শিকেটা ছিঁড়ে তার কিছু ভাগ পাওয়া গেলেও যেতে পারে। [‘আঁতাত’ এবং ‘কোরেশী’ বিষয়ে লেখকের মন্তব্য-প্রত্যুত্তর ৭ এবং ৪৩ দ্রষ্টব্য; আরো দেখুন ৩৪, ৩৮-৪‌০‌ এর বিপরীতে লেখকের প্রত্যুত্তর]।

আরেক স্থানে খালেকুজ্জামান লিখেছেন:

এক্ষেত্রে শোষণমুক্ত কল্পনার রাজ্য তথা কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের অসার অসংগতিপূর্ণ ধারণার বদলে ইতিহাস নির্ধারিত বিজ্ঞানসম্মত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ভাবাদর্শের মাধ্যমে কীভাবে সত্যিকার মানবমুক্তি, শোষণমুক্তির পথ রচিত হয়ে আছে সে বিষয়ে শামসুর রাহমানের সঠিক উপলব্ধির ঘাটতির কারণে তিনি বর্তমান সময়ের দুঃখ-জ্বালা, শাসকশ্রেণীসহ সকল প্রতিক্রিয়াশীল শ্রেণীর শোষণ-পীড়ন-নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত হলেও, মানবিক প্রেমে-আবেগে নৈসর্গিক সৌন্দর্যে সকলকে উদ্বেলিত করতে পারলেও, সকল শোষণ-পীড়ন থেকে মুক্তির আরও সুন্দর ভবিষ্যতের সঠিক দিশা তুলে ধরতে অসমর্থ হয়েছেন। . . . যথার্থ গণমুক্তির জন্য বুর্জোয়া ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণবিপ্লবের প্রয়োজনীয়তা তাঁর উপলব্ধিতে ধরা পড়েনি। [গুরুত্বারোপ লেখকের]

কাউকে কোনো কাজে ব্যর্থ আখ্যা দেয়ার আগে যে বিষয়টা সর্বাগ্রে বিবেচ্য তা হল — সে কাজটা তার ওপর অর্পিত দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত ছিল কিনা। যতদূর বুঝি, জবাবদিহিতার ব্যাকরণে সেটাই হল প্রথম পাঠ। সুতরাং প্রশ্ন হল, ‘সুন্দর ভবিষ্যতের সঠিক দিশা’ তুলে ধরা কি কবি শামসুর রাহমানের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ ছিল যে তাঁকে সে দায়িত্বে ব্যর্থতার জন্য দায়ী করা হচ্ছে আজ ? সবকিছু, এমনকি সমাজ পরিবর্তনের সঠিক ‘দিশা’-টুকুও যদি কবিকেই দিয়ে যেতে হয়, তাহলে কমরেড খালেকুজ্জামানের মতো বিচক্ষণ ও ত্যাগী নেতারা এবং তাঁদের বিপ্লবী দল কী করবে? এখানে মনে রাখতে হবে কমরেড জামানের দল বাসদের নেতাদের ভরণপোষণ থেকে শুরু করে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অর্থ আসে জনগণের কাছ থেকে, গণচাঁদার আকারে। সুতরাং অজান্তেই জনগণের ট্রাস্টির ভূমিকায় কমরেড খালেকুজ্জামান ও তাঁর দল অধিষ্ঠিত হয়ে আছেন, প্রয়াত কবি শামসুর রাহমান নন। আর জনগণ থেকে অর্থ নিয়ে সেই ট্রাস্টির দায়িত্ব বাসদের মতো বড় একটি সমাজতান্ত্রিক দল গত দেড় বছরে কতটুকু পালন করেছে জনগণের দুর্দিনে পাশে দাঁড়িয়ে ‘সঠিক দিশা’ দেয়ার ক্ষেত্রে, তার বিচারও জনগণ সময়মতো করবে, সে বিশ্বাস আমাদের আছে। সুতরাং অন্যের দায়িত্বের মূল্যায়নের আগে নিজেদের দায়িত্বে অবহেলা বা ব্যর্থতাগুলো কি একটু খতিয়ে দেখার সময় আসেনি কমরেড খালেকুজ্জামানের মতো একজন তীক্ষ্ণধী মূল্যায়নকারীর ?

অনেকটা বলতে বাধ্য হচ্ছি, বাসদের মতো দলের “ইতিহাস নির্ধারিত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ভাবাদর্শের” পথে চলার নমুনা যদি হয় স্বৈ‌র-সামরিক সমর্থনপুষ্ট আমলানির্ভর সরকারের তাঁবেদারি — যে সরকার কিনা শুরু থেকেই জনবিরোধী, গণতন্ত্র ও রাজনীতি বিরোধী, রাজনৈতিক প্রক্রিয়াবিরোধী, মানবাধিকার বিরোধী, প্রতিক্রিয়াশীল, সংবিধানবিরোধী এবং সর্বোপরি উন্নয়নবিরোধী — তখন বুঝি আমাদের অবাক হবার ক্ষমতাও লোপ পায় ! জামান সাহেব এবং তাঁর দলের সমর্থনপুষ্ট এই সরকারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো এইমাত্র করলাম তার পক্ষে অগুনতি উদাহরণ দাঁড় করাতে পারি, নিকট অতীত থেকেই। যেমন: এই সরকার অজুত শ্রমিককে পথে বসিয়েছে; তাদের হাতে পাটগার্মেন্ট শ্রমিকদের নীপিড়ন‌-নির্যাতনের কথা না হয় বাদই দিলাম। এই সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতার টুঁটি চেপে ধরেছে (ডিজিএফআই কর্তৃক তাসনীম খলিলের উপর নির্যাতন, ইন্টারনেট, পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলগুলোর উপর সরকারের খবরদারি)। এই সরকার মৌলবাদী শক্তির সাথে আপোস করেছে (আরিফের কার্টুন, নারীনীতি)। এই সরকার সংখ্যালঘু জাতিসত্তার ন্যূনতম বাঁচার এবং জীবিকার অধিকারটুকুও কেড়ে নিয়েছে (মধুপুর বনের গারো নেতা চলেশ রিচিল হত্যা, পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘সাজেক’ -এ অনাচার, অলকেশ চাকমা এবং আরো চারজনের অপহরণ)। দ্রব্যমূল্যের অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি, রেকর্ড মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্য ও বিদ্যুৎ সংকট — সব মিলিয়ে এই সরকারের সময় মানুষের খেয়েপরে বেঁচে থাকাই এক কঠিন অস্তিত্বের সংগ্রামে পরিণত হয়েছে। আর যে যতই মিথ্যা এবং আইনি তত্ত্বের প্রলেপ দেয়ার চেষ্টা করুক না কেন, এই সরকারের না আছে সাংবিধানিক বৈধতা, না আছে আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং সংবিধানের প্রতি কোনো শ্রদ্ধাবোধ। দেশের সাধারণ মানুষ মাত্রেই দেখেছেন হাই কোর্টের রায়গুলো কি বিচিত্র ফর্মুলায় সুপ্রীম কোর্টে গিয়ে একের পর এক উল্টে গেছে গত দেড়টি বছর। ইদানীং আবার তারেক জিয়াদের মতো বড় বড় দুর্নীতিবাজদের নিরাপদে বিদেশে পাচার করার জোর পাঁয়তারা চলছে। এ নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা যেতে পারে। প্রশ্ন হল, বাসদের মতো দলটির কি এসব বিষয় অজানা ? আমার বিশ্বাস তাঁরা এ বিষয়গুলো আমাদের মতো সাধারণ নাগরিকদের চেয়ে অনেক ভালো জানেন এবং বোঝেন। কে জানে, তাঁদের “ইতিহাস নির্ধারিত বিজ্ঞানসম্মত বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের ভাবাদর্শের” শিক্ষা হয়তো এভাবেই ‘জনগণের রাজনীতি’ চালিয়ে যাবার দিক নির্দেশনা দেয় আজকাল ‌ (যার মোদ্দা কথা সামরিক সরকারের তাঁবেদারি এবং জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা )। প্রয়াত কবি শামসুর রাহমান অন্তত, যতদূর জানি, জীবনে কোনোদিন জনগণের বিপরীতে দাঁড়িয়ে স্বৈর সামরিক সরকারের তাঁবেদারি করেননি। সন্ত জন-এর গসপেল‌-এ একটি কথা আছে : let him who is without sin cast the first stone. সেই বিচারে কমরেড খালেকুজ্জামানের কতটুকু নৈতিক ঊর্ধ্বাবস্থান আছে কবি শামসুর রাহমানের সমাজ-রাজনৈতিক মানস বিচারের, সে বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ থাকে। আমি জানি, কমরেড জামানের নেতৃত্বাধীন বাসদের গত দেড় বছরের রাজনৈতিক ভূমিকার এই বয়ান কারো কারো কাছে প্রসঙ্গবহির্ভূত মনে হতে পারে। কিন্তু এই তুলনামূলক আলোচনাটির দরকার ছিল কবির রাজনৈতিক ভূমিকার মূল্যায়নকারীদের দলীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্বীয় অবস্থান আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য।

আরেকটা বিষয় না বললেই নয়। কবি শামসুর রাহমানের মতো একজন মানবতাবাদী সংবেদনশীল মানুষ যখন শোষণহীন সমাজের আবেগ ও স্বপ্নকে লালন করেন, তার মধ্যে একধরণের সারল্য এবং সততা থাকে। তাঁর নির্জলা চিন্তা এবং চাওয়ার মধ্যে আমাদের চেনাজানা বহু তত্ত্ববাগীশদের চর্চিত বাগাড়ম্বরি ভেক নেই। কে জানে, হয়তো সেটাই হয়েছে শামসুর রাহমানের মতো মানুষদের সবচাইতে বড় অপরাধ — যার জন্য তাঁর সহজসরল স্বপ্নগুলোও আজ আখ্যায়িত হয় “শোষণমুক্ত কল্পনার রাজ্য” কিংবা “কাল্পনিক সমাজতন্ত্রের অসার অসংগতিপূর্ণ ধারণা” হিসেবে।

দুই.

অন্যদের কথা জানি না , তবে আমার কেন জানি মনে হয়, এই পুরো মূল্যায়নপ্রচেষ্টার মধ্যেই কোথায় যেন একধরণের ধৃষ্টতারও আভাস রয়েছে; সাধারণ শিষ্টাচারবোধের অভাব তো বলাই বাহুল্য। এ কারণেই জরুরি হয়ে পড়ে আরেকটু গভীর বিশ্লেষণ। সেই সঙ্গে খুঁজে দেখতে হয় পুরো ব্যাপারটার মধ্যে ধৃষ্টতার বাইরেও সমাজতান্ত্রিক আদর্শের বদহজমজনিত কোনো জটিলতর রোগের লক্ষণ রয়েছে কিনা। ভেবে দেখতে হয় এর মধ্যে কোনো সাধারণ ছক বা প্যাটার্নের পুনরাবৃত্তি ঘটছে কিনা যা বহুদিন ধরে চলে আসা কোনো অচলায়তন কর্ম ও চিন্তাপদ্ধতিকে প্রতিফলিত করে। ভাবতে ভাবতে মনের কোণে কয়েকটি উদাহরণ ভেসে উঠল; তার কোনো কোনোটা নিকট অতীতের, কোনোটা অর্ধ শতকেরও বেশি আগের।

সোভিয়েত লেখক মিখাইল শলোখভ এর কথাই ধরা যাক, যিনি ১৯৬৫ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তাঁর কালজয়ী উপন্যাস “ধীরে বহে ডন”- এর জন্য। সারা পৃথিবী যখন তাঁর প্রতিভায় শ্রদ্ধাবনত, তাঁর নিজের দেশে তখন তিনি সম্মুখীন হয়েছেন একের পর এক হয়রানির। তাঁর অপরাধ হল : ডন নদীতীরের মানুষদের নিয়ে লেখা এ উপন্যাসের মূল চরিত্র “গ্রিগরি মেলেখভ” — যাকে শলোখভ সৃষ্টি করেছেন গভীর মমতা ও যত্ন নিয়ে — একজন অকমিউনিস্ট কসাক। কমিউনিস্ট পার্টির কর্তাব্যক্তিরা এতে অত্যন্ত নাখোশ হন। এর পেছনে তাঁরা শলোখভের সাম্যবাদী আদর্শের প্রতি নিষ্ঠার অভাব দেখতে পান। ফলতঃ জীবদ্দশায়ই তাঁর উপন্যাস সোভিয়েত কর্তৃপক্ষের সেন্সরশিপের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে এমনও অপবাদ ছড়ানো হয়েছে যে পুরো উপন্যাসটিই শলোখভ আসলে অন্যের কাছ থেকে চুরি করেছেন। সবচেয়ে বিস্ময়কর ব্যপার হল, কোনো এক স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তাঁর লেখার সাহিত্যিক এবং আদর্শিক মান বিচার করে (!) তাঁর বিরুদ্ধে “প্রয়োজনীয়” ব্যবস্থা গ্রহণের। সব প্রচেষ্টা যখন ব্যর্থ হয়েছে, তখন এমনকি শলোখভকে বিষ খাইয়ে হত্যা করারও চেষ্টা হয়েছে; হয়েছে শল্য চিকিৎসার সাজানো নাটকের মাধ্যমে অপারেশন টেবিলে হত্যার ষড়যন্ত্র; হয়েছে নিরাপত্তা-গোয়েন্দা সদস্যদের দিয়ে তাঁকে গ্রেফতারের সময় “পালানোর চেষ্টার অভিযোগ” তুলে গুলি করে মেরে ফেলার ষড়যন্ত্র। ভাগ্যক্রমে, কিছু উচ্চপদস্থ শুভানুধ্যায়ী (যাঁদের একজন ছিলেন যোসেফ স্তালিন) থাকাতে শলোখভ শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। কিন্তু এতো আজ কারো অজানা নয় যে সে সময়ের বাকি অজস্র লেখক-কবি-সাহিত্যিকদের সবার সেই সৌভাগ্য হয়নি। আদর্শিক শুদ্ধি অভিযানের নামে তাদেরকে দেয়া হয়েছে সাইবেরিয়ায় যাবজ্জীবন সশ্রম নির্বাসন, কারণ কর্তৃপক্ষের বিচারে তাদের লেখা যথেষ্ট “লাল” ছিল না। আগের কথায় ফিরে আসি। কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেলেও সারাজীবন শান্তি পাননি শলোখভ। সমাজতান্ত্রিক আদর্শের ধ্বজাধারী কিছু পার্টি কর্মকর্তা তাড়া করে ফিরেছে তাঁকে সোভিয়েত রাষ্ট্রের এ প্রান্ত থেকে সে প্রান্ত — যারা আদপে ছিল গোঁড়া, কূপমণ্ডুক, মৌলবাদী, এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই সাহিত্যের মান বিচারের ক্ষমতা ও যোগ্যতাহীন। এসব দেখে মনে হয়, কবি শামসুর রাহমানের সাত পুরুষের ভাগ্য যে তিনি সোভিয়েত রাশিয়ায় জন্মাননি; সম্ভবত এটাও কবির পরম ভাগ্য — তিনি কোনো “সমাজতান্ত্রিক” বাংলাদেশে জন্মাননি যার রাষ্ট্রক্ষমতায় কমরেড জামানের মত মূল্যায়নকারীরা।

কাছের বন্ধুদের অনেকেই এ ধারার রাজনীতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকায় কিছু জিনিস খুব কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। পেছন ফিরে দেখলে এখন বুঝতে পারি, পরিচিত অনেকের মধ্যেই একচোখা “সমাজতান্ত্রিক মূল্যায়নের” এসব লক্ষণ কমবেশি সবসময়ই ছিল। অন্যান্য দলগুলোর কথা জানি না, তবে পরিচিতদের অনেকেই সদস্য ছিল কমরেড জামানের বাসদ ও এর ছাত্র সংগঠন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের। ওদের কাছ থেকেই শুনেছি কীভাবে দলের বিভিন্ন পাঠচক্র থেকে শুরু করে সাধারণ আলোচনায় এক ধরণের সীমিত এবং একপেশে দৃষ্টিভঙ্গির চর্চা চলে আসছিল বহুদিন ধরে। যেমন সাহিত্যের কথাই ধরা যাক — দলের চোখে রবীন্দ্রনাথের চেয়ে শরৎচন্দ্র অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ লেখক ছিলেন। কারণ, দু’জনেই পেটি বুর্জোয়া হলেও প্রথমজন দলের চোখে আপোসকামী ধারার প্রতিনিধি এবং পরের জন সংগ্রামী ধারার। এই পক্ষপাতের মূল কারণ হিসেবে শরৎচন্দ্রের “পথের দাবী” উপন্যাসটি প্রায়ই আলোচনায় আসতো, যেটির অবস্থান ছিল পার্টির সুপারিশকৃত পাঠ্যতালিকায় উপরের দিকে। যতদূর শুনি, সেই তালিকার কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি এতদিন পরও। প্রিয় পাঠক, আপনারা যদি উপন্যাসটি না পড়ে থাকেন, তবে অনুরোধ করব চট করে পড়ে নেবার। ছোট্ট একটি সূত্র দিচ্ছি — এক গেলাস মাসুদ রানা ( কাজী আনোয়ার হোসেনের “দূর্দান্ত দুঃসাহসী স্পাই,” যে কিনা “গোপন মিশন নিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশ দেশান্তরে”!), এক মুঠো কবির চৌধুরী (একই লেখকের সৃষ্ট পাগল বৈজ্ঞানিকের চরিত্র), সেইসাথে এক চিমটি বনহুর (রোমেনা আফাজের সৃষ্ট রমণীমোহন সেই দস্যুচরিত্র) ‌‌- এই সবগুলো উপাদানকে যদি একপাত্রে মিশিয়ে নিতে পারেন তাহলে যে অদ্ভুত জগাখিচুড়িটি পাবেন সব মিলিয়ে তা “পথের দাবী”র মতো তথাকথিত এই সংগ্রামী উপন্যাসটির চেয়ে দূরবর্তী কিছু নয়। উপন্যাসটির মান কিংবা এতে সৃষ্ট চরিত্রগুলো নিয়ে আমি আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না। বিচিত্র এই সংমিশ্রণটির সাহিত্যিক গুণাগুণ বিচারের ভার আমি বরং বোদ্ধা পাঠকের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি। সাহিত্য হিসেবে সাধারণ বিচারের পাশাপাশি এমনকি শরৎচন্দ্রেরও অন্যান্য লেখার বিপরীতে “পথের দাবী” উপন্যাসটির মান কী দাঁড়ায় তুলনামূলক বিচারে তা‌ও বিবেচনা করার অনুরোধ ও আহ্বান রইলো পাঠকের প্রতি।

প্রশ্ন সেখানে নয়। প্রশ্ন হল, কোনো সাহিত্যে সমাজতন্ত্রের কথা কিংবা সশস্ত্র সংগ্রামের কথা থাকলেই কি তা উন্নত সাহিত্য হয়ে যায়? “গ্রহণযোগ্য” হয়ে যায়? আর সে সব না থাকলেই কি সে সাহিত্য “শ্রেণী সীমাবদ্ধতার” দোষে দুষ্ট হয়ে যায়? অসম্পূর্ণ হয়ে যায়? কে ঠিক করেছে সাহিত্য বিচারের এমন অদ্ভুত মাপকাঠি? একজন সাহিত্যিক যখন লেখেন তখন তিনি নিশ্চয়ই কোনো স্লোগান কিংবা মেনিফেস্টো সামনে রেখে লিখতে বসেন না। অতীতে যে-সব সাহিত্যিক সেভাবে লিখেছেন (যেমন করেছেন অনেকেই সোভিয়েত ইউনিয়নে, বাধ্য হয়ে কিংবা আপোস করে), তাঁদের সাহিত্যকর্মটিই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবার আগে। এ বিষয়ে সততা, স্বতঃস্ফূর্ততা কিংবা সৃষ্টিমৌলিকতার বিষয়গুলোর কথা যদি বাদও দিই।

শামসুর রাহমানের বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের চেতনার অভাবের কথা লিখেছেন কমরেড খালেকুজ্জামান। “পথের দাবী” উপন্যাসের সব্যসাচী’র চরিত্র কতখানি বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র ধারণ করে, কিংবা তাত্ত্বিক বিচারে লেখক শরৎচন্দ্রই বা কতখানি “সমাজ পরিবর্তনের দিশা” আমাদের দেন, কিংবা বর্তমান সমাজ প্রেক্ষাপটে শরৎ আদৌ প্রাসঙ্গিক কিনা, কই কমরেড জামান কিংবা তার দল তো কখনো সেসব বিষয়ে সমালোচনাধর্মী নিবন্ধ লেখেন না ! যে-কোনো সাহিত্যকে প্রথমে তো অন্তত সাহিত্যের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে হবে, তার পর তার তত্ত্ব বিচারের প্রশ্ন, নিতান্তই যদি করতে হয়। স্বীকার করে নিতে বাধা নেই — সাহিত্য বিচারের অধিকার হয়তো পাঠকমাত্রেরই কমবেশি রয়েছে। তবে বিচারের প্রশ্ন যখন ওঠে, তখন অনেকটা অবশ্যম্ভাবীভাবেই বিচারকের যোগ্যতাটাও বিবেচনার মধ্যে আনতে হয়।

দুঃখজনক হলেও সত্যি, অন্যান্য সাহিত্য বিচারের ক্ষেত্রেও এধরণের দ্বৈতনীতির প্যাটার্ন লক্ষ করেছি পরিচিত অনেক সমাজতন্ত্রীর মধ্যে। প্রায়ই তাঁরা এরকম অদ্ভুত সরলীকৃত একধরণের তুলনা করে থাকেন কবি জীবনানন্দ দাশ ও সুকান্ত ভট্টাচার্যের মধ্যেও, এমনকি রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের মধ্যেও। সেসব ক্ষেত্রে কার বা কাদের ব্যপারে পার্টির পক্ষপাত একটু বেশি, তা বুদ্ধিমান পাঠক সহজেই অনুমান করতে পারেন। এখানে বলে রাখা দরকার — পার্টিকর্মীদের যদিও রবীন্দ্রনাথ কিংবা জীবনানন্দ পড়তে সরাসরি নিষেধ করা হয় না কখনো, একধরণের অসম্পূর্ণ এবং ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়নের চশমা তাদের হাতে ঠিকই ধরিয়ে দেয়া হয় নানা পার্টি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। তদুপরি, পার্টির অভ্যন্তরে প্রতিটি কর্মীর ভেতর বাকি কমরেডদের কাছে সমালোচিত না হবার তাগিদ তো রয়েছেই; রয়েছে গ্রহণযোগ্যতা লাভের তাগিদ — পাছে তাদের আদর্শিক নিষ্ঠা নিয়ে অন্যরা প্রশ্ন তোলে! এসবের মাঝেই জন্ম নেয় “অন্তর্গত-সমালোচনা‌-বিমুখ” এক আত্মবিধ্বংসী সংস্কৃতির। কেউ আর তখন “অপ্রিয়” কিংবা কঠিন কোনো প্রশ্ন করতে চায় না। অতীতে যারা প্রশ্ন তুলেছে, তারা সবাই কালে কালে ছিটকে পড়েছে দলের পরিমণ্ডলের বাইরে; অনেক উদাহরণ আছে তার।

স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ ছেলেমেয়েরা “গণমুখী” সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির ঐতিহাসিক ন্যায়বিচারের দিকটির দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে দলটির কাছে আসে। অবক্ষয়ী রাজনীতির বিপরীতে নিবেদিতপ্রাণ সমাজতান্ত্রিক নেতাকর্মীদের আদর্শমুখী অতি-সাধারণ জীবনযাপনের দৃষ্টান্ত নিজের চোখে দেখে তাদের সেই প্রাথমিক আকর্ষণ বা মোহ পরিণত হয় শ্রদ্ধা ও নির্ভরতায়। পত্তন হয় এক ধরণের mentorship বা বুদ্ধিবৃত্তিক গুরুশিষ্যের সম্পর্কের। (আমি জানি বাসদের নেতারা এর সাথে দ্বিমত পোষণ করবেন; তাঁরা দাবি করবেন এ সম্পর্কের ধরণ নিতান্তই যুক্তি ও আদর্শভিত্তিক)। আর তরুণ সে-সব পার্টিকর্মীদের অপরিপক্ব মনের ওপর যখন গোঁড়ামিনির্ভর আধাসত্য তাত্ত্বিক দিকনির্দেশনা চাপিয়ে দেয়া হয় শিল্প-সাহিত্য বিচারের অজুহাতে, তখন এর কি সুদূরপ্রসারী ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়া হতে পারে তাদের সার্বিক মনন বিকাশে, সে নিশ্চয়ই বলে দেবার প্রয়োজন হয় না। আমার নিজের চারপাশেই অন্তত কয়েক ডজন উদাহরণ রয়েছে আজ — কেমন করে একের পর এক আদর্শবাদী বুদ্ধিমান সব তরুণ-তরুণীর মনমানসকে পঙ্গু করে দেয়ার আয়োজন চলেছে সেখানে (ইচ্ছায় হোক বা অনিচ্ছায়), স্রেফ আদর্শের নামে। বিশ্বাস এবং নির্ভরতার অবস্থানে থাকা কেউ যখন কাউকে ভুল দিকনির্দেশনা দেয়, ভুল দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করতে শেখায়, মনোজগৎকে সীমাবদ্ধ করতে শেখায় — তখন তাকে কী বলে?

কার্ল মার্কসের একটি উক্তি দিয়ে শেষ করবো। দ্বান্দ্বিক ও ঐতিহাসিক বস্তুবাদ তথা বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জনক মার্কস-এঙ্গেলস আশা করেছিলেন, তাঁদের দর্শন পথ রচনা করবে এমনই এক মুক্তচিন্তার সংস্কৃতির, যার ভিত্তি হবে বিতর্ক গবেষণা এবং প্রতিটি বিষয়ে প্রশ্ন করতে পারার মতো পরিবেশ। কিন্তু নিজের জীবদ্দশাতেই অত্যুৎসাহী অনেক কমিউনিস্ট নেতার তত্ত্বের প্রতি গোঁড়ামি ও কূপমণ্ডুক দৃষ্টিভঙ্গি দেখে হতাশ কার্ল মার্কস নিজেই বলতে বাধ্য হয়েছিলেন: “thank God, I am not a Marxist !” কমরেড খালেকুজ্জামানকৃত কবি শামসুর রাহমানের এই মূল্যায়নটি পড়ে আমার এ উক্তিটিই মনে পড়ে গেল।

[যুগপৎ প্রকাশ: ওয়ার্ডস এন্ড বাইটস | প্রাসঙ্গিক: , , , , ,, , , , ১০, ১১, ১২, ১৩]

ইনসিডেন্টাল ব্লগার

মূল ধারার সংবাদ মাধ্যমগুলোর বেশীরভাগের ভূমিকায় অনেকটা নিরাশ হয়েই লিখতে শুরু করেন "ইনসিডেন্টাল ব্লগার" ছদ্মনামে।

সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
trackback

[…] প্রকাশ: মুক্তাঙ্গন: নির্মাণ ব্লগ | প্রাসঙ্গিক: ১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, […]

মাসুদ করিম
সদস্য

যত মন্তব্য হবে ততই বিষয়টি আরো আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে।দেখা যাক কতগুলো মন্তব্য পাওয়া যায়।

প্রলয়
অতিথি
প্রলয়

@ মাসুদ করিমঃ একবার হল কি, এক জমিদার ঠিক করলেন তার একটি দুধের পুকুর চাই। পুকুর খনন করা হল । ঢোল সহরত করে আদেশ দেয়া হল যে, কোন এক শুভদিনে জমিদারের ঐ পুকুরে গ্রামবাসীদের প্রত্যেককেই এক কলসী করে দুধ ঢেলে দিতে হবে । নিজ নিজ বাড়ী থেকে এ দুধ আনতে হবে । তবেই হবে দুধের পুকুর । গ্রামবাসীদের প্রত্যেকেই ভাবল, “বাকী সবাই তো দুধের কলসী নিয়ে যাবে, ফলে, আমি এক কলসী পানি নিয়ে পুকুরে ঢাললে তাতে দুধের পুকুরের কোন ক্ষতি হবে না।” বেশীরভাগই এই চিন্তা করে পানির কলসী নিয়ে গেল। দুধের পুকুর আর হল না ।

trackback

[…] [বাকীটুকু এখানে] […]

রেজাউল করিম সুমন
সদস্য

জামান সাহেবের এই লেখাটির কথা জানা ছিল না। পুস্তিকাটি দেখিনি; এখন ইনসিডেন্টাল ব্লগারের দেয়া লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিয়ে পিডিএফ ফরম্যাটে লেখাটা পড়লাম। একটু সময় নিয়ে পরে মন্তব্য করব। পোস্ট-লেখক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গ উত্থাপন করেছেন।

শান্ত
অতিথি
শান্ত

বাসদের কোন কর্মসূচী কোন অবস্থানে আপনার মনে হয়েছে- এই সেনা সমর্থিত সরকারের সাথে তাদের আঁতাত রয়েছে?
কোথায় পেলেন যে- বাসদ কর্মীরা এই সরকারের পদক্ষেপে দারুন খুশী????

এ ধরণের সাহিত্য আলোচনায় অহেতুক মিথ্যা ভাষণ এবং বানোয়াট অভিযোগ আনয়ন আপনার উদ্দেশ্য সম্পর্কেই সন্দিহান করে।

tinos
সদস্য

এ বিষয়ে এখানেও কিছু আলোচনা হয়েছে। আগ্রহী হলে পড়ে দেখতে পারেন।

watcher
অতিথি
watcher

i think the comments and the way of judgement of Incidental is one sided. I think he has some pre-conceptions and he is guided by them.
Because there are more some points which are not mentioned on his writings.

watcher
অতিথি
watcher

To Incidental: You have questions about democratic centralism. what do u think about it? Have you ever practiced it? You have a question with “Koreshi”.what do u know about the relation between koreshi and SPB? In this time, what do u think which one was the biggest and which one was the most important movement of Bangladesh?Where was SPB then?I think u must know that at first as a political party who broke the “Joruri obostha”? We know the total primary number of SPB.Do u think in the last 1/1.5 years thousands of worker of SPB have increased?We dont think… বাকিটুকু পড়ুন »

অলকেশ
অতিথি
অলকেশ

@ ওয়াচারঃ আপনি অবশ্যই চাইবেন যে, আপনার লিখা আমরা সবাই পড়ি। বুঝি । ফলে, বাংলায় লিখলে বোধ হয় ভাল করতেন । কারন, আপনার কষ্ট হয়েছে বোঝাতে এবং আমাদের কষ্ট হয়েছে বুঝতে —–।

pothik
অতিথি
pothik

prthomei khoma chaschi, bangrejite likhchi bole. amar unicode jhamela korche bole, r english-e thik thik moner vab-ta prokasher khomota nei bole…. shomalochok j ei eki dol korten besh bujhte parchi. vai netritto cheye panni kina tao bujhchi na. tobe gayer jhal vai ja mitaichen ta bolar na. she apnader bepar apnarai shamlaben. shudhu ekta bishoy ullekh korte chai. amar mone hoy shomalochona korbar odhikar shobar ache jodi tar shotti shotto janar agroho-ta thake. she krishoki hok, methori hok r rajniti bidi hok. borong ek jon rajnitibid ei bishoye kotha bolchen shetai amar kache odvud legeche. amar jana chilo na j… বাকিটুকু পড়ুন »

tinos
সদস্য

অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে আলোচনা চলছে। আমরা সবাই তা উপভোগ করছি, অনেক কিছু জানতেও পারছি। ব্লগারদের এবং মন্তব্যকারীদের সবার প্রতি সনির্বন্ধ অনুরোধ:

১। আলোচনাকে পোস্টের বিষয়বস্তুর (যথা: সমাজতান্ত্রিক সাহিত্য বিচার) নিরিখে প্রাসঙ্গিক রাখার চেষ্টা করুন; এবং

২। ব্যক্তিগত আক্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন। এত সব বিচক্ষণ এবং যৌক্তিক মানুষের সমাবেশে তার মনে হয় কোন প্রয়োজন নেই।

এই ব্লগ মডারেট করা হয়না। যার অর্থ প্রত্যেকে স্বাধীনভাবে মন্তব্য করতে পারেন এখানে কারো সম্মতির অপেক্ষায় না থেকে। সাহায্য করুন সেটিই যেন বজায় রাখতে পারি এখানে সবসময়।

শান্ত
অতিথি
শান্ত

আপনি বলেছেন, “…সবশেষে বলতে হয়–এতো কথা লিখেছেন আপনি, কিন্তু আমার পোস্টটির মূল বক্তব্য “সাহিত্যিক অবমূল্যায়নের মৌলবাদী প্রবণতা” সম্বন্ধে আপনাকে কিছুটা নিরবই মনে হল! আমার ভুলও হতে পারে।”

==>>>>>

আপনার পোস্টের মূল বক্তব্য কি “সাহিত্যিক অবমূল্যায়নের মৌলবাদী প্রবণতা”?? “সাহিত্যিক অবমূল্যায়নের মৌলবাদী প্রবণতা” মানে কি???

শান্ত
অতিথি
শান্ত

আপনার পোস্টের শিরোনাম এবং শুরুর কয়েক লাইন পড়ে প্রথমে ভেবেছিলাম- একটি সাহিত্যালোচনা পড়তে যাচ্ছি- যেটি মূলত খালেকুজ্জামান কর্তৃক শামসুর রাহমানের উপর মূল্যায়নকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে এবং সেই আলোচনা/মূল্যায়নের সীমাবদ্ধতা, সমস্যা-সংকটগুলো উঠে আসবে। কিন্তু আপনার পোস্ট যতই এগিয়েছি- ততই হতাশ হয়েছি, সেখানে সাহিত্য সমালোচনার বাইরে গিয়ে মিথ্যা-ভিত্তিহীন অভিযোগের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে!! ফলে, আপনার 3000 শব্দের এই কথামালায় সাহিত্যালোচনা খুজে পেতে পরে অণুবীক্ষণ যন্ত্র দিয়ে খুঁজতে হয়!!! কিছু কিছু আলোচনা অবশ্য পাওয়া যায়- তবে সেই এক দুলাইন আলোচনার পরপরেই শুরু হয় আবার সাহিত্যালোচনার বাইরের অহেতুক অভিযোগের পাহাড়!!! এবং যতই পড়েছি, আপনার পোস্ট যতই এগিয়েছে- ততই আপনার মৌলবাদী চিন্তাধারাটি… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

এরপরে পথিকৃৎ পত্রিকা নিয়ে কিছু কথা বলেছেন- এই পত্রিকা কেন খালেকুজ্জামানের কাছ থেকে এই লেখাটি/মূল্যায়নটি আহবান করেছে- সেটি আপনার কাছে যথেস্ট কৌতুহলোদ্দীপক!!! এই কৌতুহলোদ্দীপনের পেছনে যে একজন রাজনীতিবিদের, বিশেষ করে একজন সমাজতন্ত্রীর সাহিত্যালোচনা নিয়ে আপনার একধরণের এলার্জী আছে- সেটি বুঝতে বেগ পাওয়া যায় না। সেটা পরবর্তীতে আপনার “শ্রেণীপ্রভাব” নিয়ে ব্যঙ্গবিদ্রুপ এবং পরবর্তীতে সোভিয়েত স্থানীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিচালককে সাহিত্য বিচারের দায়িত্ব দেয়ায় নাখোশ হওয়ার ঘটনায় বুঝা যায়!!!! একজন সমাজতন্ত্রবিরোধী মানুষের কাছ থেকে এ আচরণ অবশ্য অপ্রত্যাশিত নয়। তাই আপনার জ্ঞাতার্থে এটুকু জানানো যেতে পারে যে, পথিকৃৎ পত্রিকাটি মার্ক্সীয় ঘরানার একটি সাহিত্য-সংস্কৃতি ভিত্তিক পত্রিকা। তারা সাহিত্যালোচনা করে মার্ক্সবাদী দৃষ্টিভঙ্গীর আলোকেই। ফলে- সেখানকার… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

আপনি লিখেছেন, “…আধুনিক কবি হিসেবে শামসুর রাহমানের কবিতা যে ছন্দনির্ভর নয়, সে কথা না-ই বা তুললাম। আর আধুনিক কবিতার পাঠকের কাছে কবিতার আবেদনের পেছনে যে ছন্দই প্রধান নয়, কমরেড খালেকুজ্জামানের মতো একজন বোদ্ধা পাঠককে সেটি মনে করিয়ে দেয়া হয়তো একটু ধৃষ্টতাই হয়ে যাবে। সুতরাং সে চেষ্টাও করবো না।” খালেকুজ্জামানের যে আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি বলেছেন- সেটি হলোঃ “বিনীত, মার্জিত, মৃদুভাষী কবি শামসুর রাহমান বিশ্বাস করতেন ‘কবিতা মানুষের মনকে পরিশীলিত করে।’ এটা ঠিক যে কবিতার ছন্দ মানুষের মনকে দোলায়িত করে। কিন্তু কবিতার গাঁথুনির মধ্যে যে কাব্যভাব লুকিয়ে থাকে এবং যে ভাব-চেতনা পাঠক শ্রোতাদের মনে আবেগ-আবেশ, অনুভূতি-প্রেরণা, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সুরের দ্যোতনা সৃষ্টি… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

খালেকুজ্জামানের 7পৃষ্ঠার আর্টিকেল থেকে আপনি শেষের দিকের 3টি প্যারা তুলে দিয়ে খালেকুজ্জামান কৃত অবমূল্যায়ন দেখাতে চেয়েছেন!! আপনার দেয়া 3টি প্যারার মধ্যে 1টি প্যারার আলোচনার জন্য আবার ধন্যবাদও জানিয়েছেন। সুতরাং, এই আলোচনায় আপনি মূলত তুলে ধরেছেন 2টি প্যারা- যেদুটিতে আপনি আপত্তি খুজে পেয়েছেন। কিন্তু আপনার আপত্তিও যখন জানিয়েছেন- সেটি কিন্তু সঠিক পন্থায় নয়, কোন সাহিত্য মূল্যায়নকে অবমূল্যায়ন হিসাবে প্রতিপন্ন করতে হলে সেই মূল্যায়নের কোন কোন জায়গায় কি সমস্যা- কোথায় দ্বিমত, সেগুলো তুলে ধরাই শ্রেয়; কিন্তু তা না করে- যে আলোচনা/সমালোচনা করছে- তার কি যোগ্যতা, সে কি করে – তার দল কি করেছে এ ধরণের ফিরিস্তি (মিথ্যায় ভরা) তুলে ধরাকে আর যাই… বাকিটুকু পড়ুন »

আহমেদ মুনির
সদস্য

লেখাটা পড়লাম । জানিনা কে এই লেখক । তবে মনেহয় বাসদকে তার ভালই জানা । মুখোশ খুলে গেছে বাসদের।

অলকেশ
অতিথি
অলকেশ

@ আহমেদ মূনিরঃ আমার কাছে মনে হয়েছে বাসদ আমাদের দেশের প্রগতিশীল ও গণতান্ত্রিক শক্তির সামনের সারির একটি নিবেদিত দল । স্বৈর-শাসন বিরোধী আন্দোলনে এর অসাধারন প্রকাশ ঘটেছিল । মৌলবাদ বিরোধীতা এবং অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনে এই দলের আন্দোলন এবং কর্মসূচী অনেক বেশি এবং অনেকের চেয়ে বেশী স্পষ্ট ও সুনির্দ্দিষ্ট বলে মনে হয়েছে । আমার বিশ্বাস বলছে আপনি এই প্রগতির শক্তিকেই হয়তো অন্য কোন প্লাটফর্ম থেকে এগিয়ে নিতে চান । ইনসিডেণ্টাল ব্লগার ও নিশ্চয় এই ধারার একজন শক্তিশালী প্রতিনিধি । তিনি সাহিত্য সমালোচনায় সমাজতান্ত্রিক দৃষ্টিভংগীর সমালোচনা করতে চেয়েছেন কঠোর ভাবে । এই অধিকার তার রয়েছে বটে । মনে হয়েছে, প্রাসংগিক ভাবেই রাজনীতি… বাকিটুকু পড়ুন »

নাঈম
অতিথি
নাঈম

আমরা এমন একজন সমালোচকের লেখা ধরে তর্ক-বিতর্ক করছি, যিনি (১) সাহিত্য, কবিতা, ছন্দ ইত্যাদি সম্পর্কে বকলম। যিনি নির্দ্বিধায় বলতে পারেন _ আধুনিক কবি হিসেবে শামসুর রাহমানের কবিতা যে ছন্দ নির্ভর নয়, …. …. আর আধুনিক কবিতা পাঠকের কাছে কবিতার আবেদনের পেছনে যে ছন্দই প্রধান নয় … … ইত্যাদি ইত্যাদি_ আর যাই হোক তিনি কবিতা বা ছন্দের যে কিছুই বোঝেন না আমি সে বিষয়ে পুরোপুরি নিশ্চত। শামসুর রাহমান বেঁচে থাকলে বলতেন, ‘থ্যাংক গড, আমি আধুনিক কবিতা লিখি না।’ আর আমরাও বেঁচে গেছি, আমাদের আধুনিক কবিতা পড়তে হয় না। অন্যের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলবার আগে নিজের যোগ্যতাটা একটু মাথায় রাখা দরকার। ইনি… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

খুব সম্ভবত ‘পথিকৃৎ’পত্রিকাটি পশ্চিম বাংলার ‘এস ইউ সি’র সাহিত্যিক মুখপত্র। ‘এস ইউ সি’ ও ‘বাসদ’এর রাজনৈতিক মতাদর্শিক মিল রয়েছে,কাজেই এটা খুবই স্বাভাবিক যে পত্রিকাটি খালেকুজ্জামানের কাছেই লেখা চাইতে পারে।আর খালেকুজ্জামানের লেখাটির নাম ‘শামসুর রাহমান স্মরণ’ এবং লেখাটি পড়ে আমার মনে হয়েছে খালেকুজ্জামান সঙ্গতভাবেই বাংলাদেশের এই মহান কবিকে স্মরণ করেছেন। রাহমানের যেসব কবিতার উল্লেখ তিনি করেছেন,আর তিনি আসলে রাহমানের কবিতার অনবরত উল্লেখের মাধ্যমেই তার লেখাটি তৈরি করেছেন,সেসব কবিতা রাহমানের মনোযোগী পাঠক অবশ্যই স্বীকার করবেন, তার সেরা ও জনপ্রিয় কবিতার মধ্য থেকেই খালেকুজ্জামান উদ্ধৃত করেছেন।এদিক থেকে আমি বলব লেখাটি তৈরি করতে গিয়ে খালেকুজ্জামান বুদ্ধিমত্তা ও সংবেদনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন কবি… বাকিটুকু পড়ুন »

সুব্রত
অতিথি
সুব্রত

শান্তর এত বিস্তারিত আলোচনার পরেও মুনির ভাইয়ের মনে হল- বাসদের মুখোশ খুলে গেছে? বিষয়টা কি- ঊট পাখির বালিতে মুখ গুঁজে নিজকে লুকনোর মতো হয়ে গেল না? অথবা সেই বোকা কাকটা, যে নিজের চোখ বুজেঁ চুরির মাল লুকিয়ে ভাবে অন্য কেউ দেখতে পেল না। তাতে এখন মনে হচ্ছে শান্তর পুরো শ্রমটাই পণ্ড। তবুও আমারও দু ছত্র লিখতে ইচ্ছে করছে। একটা মানুষের সাথে আমার মতের বিরোধতো থাকতেই পারে তাই বলে এরকম চোখ বন্ধ হয়ে আসা মানুষ দেখলে কষ্ট লাগে। তাও এমন দারুন মানুষটারও এই অবস্থা দেখলে। ব্যক্তিগত ক্ষোভ বিক্ষোভ কি এতটাই শক্তিশালী, যে মানুষের সুক্ষ্মতম যুক্তিবোধকেও অকেজ করে দেয়। অথচ দারুন একটা… বাকিটুকু পড়ুন »

রেজাউল করিম সুমন
সদস্য

১২ জুলাই তারিখে প্রকাশিত ‘শলোখভ থেকে শামসুর : সমাজতান্ত্রিক অবমূল্যায়ন’ শিরোনামে ইনসিডেন্টাল ব্লগার-এর একটি লেখাকে ঘিরে গত এক সপ্তাহ ধরে মুক্তাঙ্গনে তর্ক-বিতর্ক জমে উঠেছে। কলকাতার ‘পথিকৃৎ’ সাময়িকপত্রে (বর্ষ ৪৪ সংখ্যা ১, সেপ্টেম্বর ২০০৬) মুদ্রিত এবং পরবর্তীকালে ঢাকা থেকে চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্র কর্তৃক প্রকাশিত (প্রথম প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০০৭, দ্বিতীয় মুদ্রণ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৭) খালেকুজ্জামানের ‘শামসুর রাহমান স্মরণে’ শীর্ষক লেখাটির পাঠ-প্রতিক্রিয়া হিসেবে ইনসিডেন্টাল ব্লগার এই পোস্টটি লিখেছেন। তবে তাঁর এই প্রয়াস কেবল ওই লেখাটির সমালোচনায় সীমাবদ্ধ থাকেনি। তারই সূত্র ধরে তিনি বাসদ তথা তার অঙ্গ-সংগঠনের সাহিত্য-বিষয়ক পাঠচক্রের পাঠ্যক্রমের উল্লেখ ক’রে মার্কসীয় সাহিত্য-বিচারের নামে একটি সংকীর্ণ সাহিত্য-মূল্যায়নের ধারার প্রতি আমাদের… বাকিটুকু পড়ুন »

সহজ কথন
অতিথি
সহজ কথন

সুমনকে ধন্যবাদ তাঁর সুন্দর মন্তবের জন্য। বাসদ এর সাহিত্য রুচির ধারা ও এর মৌলবাদী চিন্তা প্রবণতা নতুন না। জ্দানভ্ এদের গুরু। ইতিহাসে নজির আছে, এরা কিভাবে কালজয়ী কবিতা, উপন্যাস, চলচ্চিত্র ইত্যাদি শ্রমিক শ্রেণির বিপক্ষে, রাষ্ট্রের বিপক্ষে গণ্য করে বাতিল করেছে, অত্যাচার করেছে। এ উপমহাদেশে এদের গুরু শিবদাস ঘোষ। কোনো রকম ব্যাখ্যা, যুক্তি ছাড়াই যিনি বলেছেন, রবীন্দ্রনাথ বাজে কথার ফুলঝুড়ি চাষ করেছেন, শরৎচন্দ্রের শিল্পশৈলী গোকির চেয়ে উন্নত ইত্যাদি ইত্যাদি। এদের আরেকটি গুণ– সব সময় ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে বেড়ায়, সমালোচনা, ভিন্নমত সহ্য করতে পারে না (শান্তর মন্তব্য- আহমেদ মুনির, আমিও জানিনা কে এই লেখক, জানিনা কে আপনি, কারা আপনারা, কাদের এই ব্লগ??… বাকিটুকু পড়ুন »

পথিক
অতিথি
পথিক

“বাসদ এর সাহিত্য রুচির ধারা ও এর মৌলবাদী চিন্তা প্রবণতা নতুন না।”বাসদ এর মৌলবাদী চিন্তা প্রবণতা গুলো বিস্তারিত বলবেন কি?

অস্মিতা
সদস্য

প্রথমেই মুক্তাঙ্গনকে ধন্যবাদ দেবো এরকম সময়োপযোগী একটি বিষয়ে আলোচনা-সমালোচনার সূত্রপাত করার জন্য। দ্বিতীয় ধন্যবাদটি ইনসিডেনটাল ব্লগারের প্রাপ্য। যে কথাগুলো অনেকদিন ধরে মনে মনে ভেবে ক্ষুব্ধ এবং ব্যথিত হয়েছি, তার কয়েকটি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সাহসের সাথে উচ্চারনের জন্য। নানা কারনেই এই পোস্টটি লিখতে হচ্ছে একটু ভয়ে ভয়ে। কেন ভয় পাচ্ছি তা খোলাসা করে বলি। আমাদের এই দুর্ভাগা দেশে কোনো রাজনৈতিক দল সম্পর্কে যে কোন ধরনের সমালোচনায় অংশগ্রহণ করা প্রায় সবসময়ই বিপদজনক। রাজনৈতিক পান্ডাদের হুমকি ধামকি, নানা পদের, রঙের, এবং দর্শনধারী মৌলবাদীদের আক্রমন এবং সেই সঙ্গে নতুন অনুষঙ্গ হিসেবে যোগ হয়েছে জলপাইধারীদের দৌরাত্ম। এই সময় হয়তো নিরবতাই অনেক বেশী স্বাস্থ্যকর বিশেষ করে… বাকিটুকু পড়ুন »

সৈয়দ তাজরুল হোসেন
সদস্য

রেজাউল করিম সুমনকে অনেক ধন্যবাদ তার চমৎকার মন্তব্যের জন্য। এ থেকে মনে হয় অনেকেই পাঠ নিতে পারেন একজন লেখক পাঠককে জোর করে তেতো বড়ি গেলানোর চেষ্টার মতো না করেও কি ভাবে বলিষ্ঠভাবে নিজের মত প্রকাশের পাশাপাশি অন্যের মতের বিরোধিতা করতে পারেন। ইন্সিডেন্টাল ব্লগারের শলোকভ থেকে শামসুরঃ সমাজতান্থিক অবমুল্যায়ন, লেখাটি পড়ে দু’একটি জায়গায় আমারও খটকা লেগেছে, সবজায়গায় লেখকের মতের সঙ্গে একমতও হতে পারিনি। লেখাটির শুরুতেই তিনি সমালোচক হিসেবে জনাব খালেকুজ্জামানের যোগ্যতার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলেছেন। আমি মনে করি যে কোন বিষয়ে অভিমত দেয়ার স্বাধীনতা সকলেরই আছে। কিন্তু বিচায্য বিষয় হবে কারা, কোন প্রেক্ষিতে, কি উদ্দ্যেশ্যে অভিমতটি চাইছেন। কামারকে দিয়ে কেউ যদি সোনারুর… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

একটি বিশেষ অনুরোধ প্রবীর পালের হুমায়ুন আহমেদের সাক্ষাৎকার বিষয়ক লেখাটি নিয়ে মন্তব্য করুন না একটু। অসুন না একজন জীবিত লেখকের বিচার করি। সবাই আসলে খুশী হব।

ইমতিয়ার শামীম
সদস্য

খালেকুজ্জামানের সঙ্গে বিতর্কের অবকাশ থাকলেও তাঁকে ধন্যবাদ জানাই এজন্যে যে, অন্তত একজন রাজনীতিক পাওয়া গেল যিনি শামসুর রাহমানের জীবন ও কবিতা নিয়ে চিন্তা করেছেন এবং এত বড় একটি রচনা দাঁড় করিয়েছেন। তা ছাড়া সামগ্রিকতার দিক থেকে তিনি শামসুর রাহমানকে অবমূল্যায়ন করেছেন বলে তো মনে হচ্ছে না! পথিকৃৎ পত্রিকাটি আমারও কোনও সময় দেখা হয়নি। তবে কোলকাতার দ্বি-মাসিক পত্রিকা জেনে অনুমান করছি, এটি সেখানকার এসইউসিআই রাজনৈতিক দলটির প্রভাবযুক্ত কোনও সাহিত্য পত্রিকা হতে পারে। এই সূত্রে মনে পড়ছে, আশির দশকে সাপ্তাহিক বিচিত্রায় রাজনীতিকদের শিল্পসংস্কৃতিবিষয়ক ভাবনা নিয়ে একটি সিরিয়াল হয়েছিল। তা পড়ে জেনেছিলাম, কোনও কোনও বামনেতার প্রিয় লেখক আশুতোষ! এর বিপরীতে জামাতনেতার ভাষ্য ছিল,… বাকিটুকু পড়ুন »

Mosharrof
অতিথি
Mosharrof

গত কয়েকদিন যে কয়েকটি লেখা এসেছে তাতে আলোচনার ভারকেন্দ্রটি বেশ স্পস্ট হয়ে উঠছে। যারা লিখছেন তারা সাহিত্যপ্রেমী ও সাহিত্যপাঠক এবং সাহিত্য নিয়ে মার্কসবাদী বিচারধারা সম্পর্কে এক ধরনের ধারণা নিয়ে তাদের মতামত স্পস্ট করে চলেছেন। সাহিত্য বিষয়ে খুবই অল্প ধারণা আছে বলে যারা জানেন তাদের লেখা পড়েই তা বোঝার চেষ্টা করবো ভেবেছি। কিন্তু প্রাসঙ্গিক কিছু বিষয় নিয়ে যেটুকু ধারণা রাখি সেখান থেকে কয়েকটি কথা তুলে ধরার চেষ্টা করছি। বারে বারে শ্রেণী দৃষ্টিভঙ্গির কথা আসছে। সেখানে বুর্জোয়া ও সর্বহারা এ দুইটি ধারা যে আছে তা অনেকে কী অস্বীকার করছেন? আবার এর সাথে সমাজ বিকাশের যে ধারণা মার্কসবাদীরা তুলে ধরেন তাকে কারা কীভাবে… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

আমার শেষ কমেন্ট টির পরে আরো অনেকেই অনেক আলোচনা করেছেন- অনেক যুক্তি- পাল্টা যুক্তিও এসেছে দেখলাম। এখানে আর আলোচনা করার ইচ্ছা ছিল না, তবে এমন কিছু কথা এসেছে সেগুলোর ব্যাপারে না বললেই নয় বিধায় আবার বসলাম…. আমার এই কমেন্টের কয়েক কমেন্ট আগে সৈয়দ তাজরুল ইসলাম পুরো আলোচনা নিয়ে ওনার মতামত জানিয়েছেন। জানাতে গিয়ে বলছেন, “…কিন্তু অত্যন্ত পীড়াদায়ক যে বিষয়টি, তা হল সংশ্লিষ্ট আলোচনাগুলোয় কিছু কিছু ক্ষেত্রে এখন আর যুক্তির কোন বালাই থাকছে না। অনেকেই যেন দাঁত খিঁচিয়ে তাদের হিংস্র চোয়াল দেখানোতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছেন। যেন বলতে চাইছেন, যা বলছি তা-ই মেনে নে শীগগীর, কার সংগে লাগতে এসেছিস জানিস বেটা? একে… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

আমার 19 নং কমেন্টের জবাবে ইনসিডেন্টাল ব্লগার জানিয়েছেন আমার সে আলোচনা নাকি ওনার কাছে তোলা নিক্তি পাই আনার হিসেব চাওয়ার মত শুনিয়েছে!!! অবাক হতেই হয়!!! এই লোক কি আমার আলোচনা বুঝে নি, নাকি বুঝেও নিজের খুশী মত আমার আলোচনার একটা কাল্পনিক অর্থ দাঁড় করিয়ে নিজের মতামত চাপিয়ে দিচ্ছেন?? যাহোক, আমি আমার বক্তব্য বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছি এটা ধরে নিয়েই আমার 19 নং কমেন্টে কি বলতে চেয়েছিলাম তা আবার বিবৃত করি….. আমার সেখানকার আলোচনার অংশবিশেষ আবার তুলে দিচ্ছিঃ “…..আপনার আলোচনায় আপনি বলেছেন, “যে-কোনো সাহিত্যকে প্রথমে তো অন্তত সাহিত্যের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে হবে, তার পর তার তত্ত্ব বিচারের প্রশ্ন, নিতান্তই যদি করতে হয়”।… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

রেজাউল করিম সুমনের একটি আলোচনা এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করছি, তিনি এক জায়গায় বলেছেন “,…‘শলোখভ থেকে শামসুর : সমাজতান্ত্রিক অবমূল্যায়ন’-এর ১৯ নং মন্তব্য-প্রতিক্রিয়ায় পাওয়া গেল প্রায় কাছাকাছি মত : ‘…একজন সমাজতন্ত্রীর কাছে সবসময়ই অবশ্যই কনটেন্টের গুরুত্ব অধিক (তার মানে এই না যে — ফর্ম তার কাছে গুরুত্বহীন!!)।’ সমাজতন্ত্রী হবার যোগ্যতা আমার নেই; কিন্তু জানতে ইচ্ছে করে, একজন সত্যিকার সমাজতন্ত্রীর কি এ ধরনের খণ্ডিত ধারণা পোষণ করা সাজে? আগ্রহী পাঠক এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক আলোচনা পাবেন সোভিয়েত নন্দনতাত্ত্বিক আভনের জিস ও হিস্পানি নন্দনতাত্ত্বিক আদোল্ফো সাঞ্চেজ ভাজকেজ-এর রচনায়।” একজন সমাজতন্ত্রী কনটেন্টকে অধিক গুরুত্ব দেয়- এ ধারণাটি ওনার কাছে খণ্ডিত মনে হলো! সেটা ওনার কাছে… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

টলস্টয় সম্পর্কে লেনিনের সেই বিখ্যাত মূল্যায়নের অংশ বিশেষ আপনাদের জ্ঞাতার্থে কপি পেস্ট করছিঃ “The contradictions in Tolstoy’s works, views, doctrines, in his school, are indeed glaring. On the one hand, we have the great artist, the genius who has not only drawn incomparable pictures of Russian life but has made first-class contributions to world literature. On the other hand we have the landlord obsessed with Christ. On the one hand, the remark ably powerful, forthright and sincere protest against social falsehood and hypocrisy; and on the other, the “Tolstoyan”, i.e., the jaded, hysterical sniveller called the Russian intellectual, who publicly… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

যাহোক- এখানে সাহিত্য বিষয়ে কোন কথা বলতে চাইনি- কারণ আলোচ্য পোস্ট টিকে কখনো সাহিত্য নিয়ে আলোচনার উপযোগী কিছু মনে হয়নি- একটি গালিগালাজ সর্বস্ব পোস্টে সাহিত্য সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার কোন মানে হয় না বিধায় আর কিছু বলছি না- যদিও আরো অনেক কিছু নিয়েই অনেক কথা বলা যেত!! আর এতক্ষণের আলোচনাটি করলাম- শুধু এই কারণে যে- এমন কিছু আলোচনা এসে গিয়েছিল যে, সেগুলো নিয়ে না বললেই নয় বলে মনে হয়েছিল!!

এবারে, উপরের অনেকের আলোচনার আরো কিছু বিষয়ে আলোকপাত করতে চাই…………

শান্ত
অতিথি
শান্ত

এখানে বাসদকে নিয়ে গালিগালাজমূলক পোস্ট দেয়ার পরে- সেগুলো নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে- সামনে আরো করবো ; কিন্তু খুব অবাক হয়ে ও কষ্ট নিয়ে দেখলাম- আমার বক্তব্যকে খণ্ডন না করেই এক লাইনে এক ব্যক্তি, নাম আহমেদ মুনীর, মন্তব্য করে বসলেন- সেখানে জানালেন: বাসদের না-কি মুখোশ উন্মোচিত হয়ে গেছে!!!! 20 নং কমেন্টে তিনি বললেন, “লেখাটা পড়লাম । জানিনা কে এই লেখক । তবে মনেহয় বাসদকে তার ভালই জানা । মুখোশ খুলে গেছে বাসদের।” এহেন মন্তব্যের আবার যখন প্রতিক্রিয়া আসা শুরু করলো- তখন দেখা গেলো- তিনি নিজেকে একটু আড়াল করার চেস্টা করছেন এই বলে যে- তিনি নাকি মুখোশ খোলা মানে সাহিত্য বিষয়টিকে ইণ্ডিকেট… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

এবারে ইনসিডেন্টাল ব্লগারের কিছু আলোচনার দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক। এই লোক একের পর এক মন্তব্য করে গেছেন- ওনার মন মত যখন যেটা খুশী বলেছেন- কোন বক্তব্য নিয়ে আপত্তি জানালে- সেটা থেকে সরে আরেকটি বক্তব্য তুলে ধরছেন- এভাবে মিথ্যার মায়াজাল বিস্তৃত করেছেন। অবলীলায় আতাত শব্দটি ব্যবহার করেছেন- আতাত নিয়ে আপত্তি তুললে বলেছেন- সদ্ভাবের ঘাটতি নেই- ভাগ্যের ফেরে ক্ষমতার শিকেটা ছিঁড়ে তার কিছু ভাগ পাওয়ার কথা বলেছেন- বাসদ কর্মীদের খুশীতে আত্মহারা হওয়ার কথা বলেছেন- ভ্যানগার্ডের মিউ মিউ আলোচনার কথা বলেছেন- ভ্যানগার্ডের আলোচনা দেখিয়ে দিলে- বলছেন, অন্যদের বক্তব্য/আলোচনা এনে হাজির করে তুলনামূলক আলোচনা করেছেন……. এহেন ব্যক্তির সাথে ধরে ধরে লাইন বাই লাইন আলোচনার… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

*এমনিকরে গণমুক্তি আন্দোলনের ব্যানারে এবং বাসদের নিজস্ব ব্যানারে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছে। *বস্তি-হকার উচ্ছেদ; শ্রমিক ছাটাই- কারখানা বন্ধ এসবের বিরুদ্ধে জোরালো আওয়াজ বাসদ সহ অন্যান্য বামেরা তুলেছে। *তথাকথিত দুর্নীতি বিরোধী অভিযানে যখন গোটা দেশ খুশী- তখন বাসদ প্রশ্ন তুলেছে, “সমাজের অভ্যন্তরে দুর্নীতির সমস্ত আয়োজন অক্ষুন্ন রেখে এমন লোক দেখানো অভিযানে আদতে কি হবে?” যখন ব্যবসায়ীরা একের পরে এক ছাড়া পেয়ে গেলো তখনও বাসদই উচ্চকিত হয়েছে। *চাল নিয়ে সংকটের সময়ে ব্যবসায়ী সিণ্ডিকেটদের নিয়ে বাসদ কন্টিনিউয়াস কথা বলে গিয়েছে এবং বারবার জানিয়েছে- এই সরকার কাদের হয়ে কথা বলেছে- কাদের পক্ষে কাজ করছে। *ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায়- ঢাবি, জাবি-জগন্নাথ কলেজ-… বাকিটুকু পড়ুন »

শান্ত
অতিথি
শান্ত

*বাসদ তার সীমিত শক্তি দিয়ে প্রথম থেকেই সরকারের, সাম্রাজ্যবাদীদের বিভিন্ন পদক্ষেপ/ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধাচরণ বরাবরই করে এসেছে; সেই সাথে শক্তি-সামর্থের কথা বিবেচনা করে বামদের বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাও সবসময়ই অনুভব করেছে। ভ্যানগার্ডের আগস্ট সংখ্যায় লিড আর্টিকেলে তেমনি বাম ঐক্যের ডাক আমরা পাই।
*12 সেপ্টেম্বরে গণমুক্তি আন্দোলন- 5 বাম দল মিলে বৃহত্তর ঐক্য বাম মোর্চা গঠন করে। যেখানে দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদ ও বাম হঠকারীতার পথ পরিহার করে গণআন্দোলনের ধারায় জনগণের শক্তিকে সংগঠিত করার অঙ্গীকার করা হয়।
*আজ অবধি- বাসদ, গণমুক্তি আন্দোলন, বাম মোর্চা- নিজস্ব ও জোটবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে- অনেক বড় কিছু করে ফেলতে না পারলেও- বুর্জোয়া শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে পরিষ্কার ও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েই আছে।

শান্ত
অতিথি
শান্ত

ফলে কেউ যদি বলেন- বাসদ এই সেনা সমর্থিত সরকারকে উৎখাত করে ফেলেনি; মানতে রাজী আছি; বাসদ এই সেনা সমর্থিত সরকারকে উৎখাতের ডাক দেয়নি- মানতে রাজী আছি; বাসদ এই সেনা সমর্থিত সরকারকে সামান্য নাড়াও দিতে পারেনি বা দেয়নি- সেটাও মানতে রাজী আছি;….. কিন্তু যখন বলা হয়- এই সরকারের সাথে আঁতাত আছে- কোরেশীর সাথে মিলে ক্ষমতার ভাগের শিকেটা আদায়ের চেস্টা করছে,- অসদ্ভাবের কমতি আছে…… তখন সেই অন্ধ আক্রোশী অভিযোগকারীর প্রতি শুধু করুনাই হয়!!!!

এ কদিনে অনেক কথা বলেছি – আশা করি আমার মূল বক্তব্য বুঝাতে পেরেছি- ……

সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

শান্ত
অতিথি
শান্ত

এক বন্ধুর অনুরোধে আরেকটু লিখছি- যদিও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, এখানে এই পোস্টে আর কোন কথা বলবো না- তার অনুরোধ শরৎ নিয়েও যেন কিছু বলি এখানে…., যেহেতু এই পোস্টকে সাহিত্য আলোচনার উপযোগী মনে করছি না- সেহেতু খুব সংক্ষেপে কটি বিষয়ে টাচ করছি- বিস্তারিত আলোচনা- যেকোন তর্ক বিতর্কই হতে পারে- স্বতন্ত্র কোন এক পোস্টে যেখানে এ পোস্টের মত সাহিত্যালোচনার বাইরের নির্লজ্জ মিথ্যা অভিযোগের পাহাড় থাকবে না…..
…..

শান্ত
অতিথি
শান্ত

১। প্রথমেই আসি পথের দাবী প্রসঙ্গে। অনেকেই জানাচ্ছেন- বাসদের মতে এই “পথের দাবী” নাকি “সাহিত্য মানোত্তীর্ণ”, “বিপ্লবী”, “উচ্চাঙ্গ সাহিত্য”, “উন্নত সাহিত্য”… ইত্যাদি। কিন্তু বাসদ কবে কোথায় এই ধরণের দাবী করেছে একটু দয়া করে জানালে কৃতার্থ হতাম। আমি বাসদ ও এসইউসিআই এর এ সংক্রান্ত কিছু লেখনী আবারো পড়ে দেখলাম, কই সেরকম দাবী তো পেলাম না??? যেটি পেয়েছি- সেটি হলো: একটি সময়ের আলোচনা- যুগের আলোচনা। যুগটি হলো বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের যুগ। কংগ্রেসের মধ্যে দুটো গ্রুপ– একদল স্বশস্ত্র বিপ্লবের পক্ষে (সুভাষের নেতৃত্বে), আরেকটি গান্ধীর নেতৃত্বে এর বিরুদ্ধে। সে সময় শরৎ নিসংকোচে সুভাষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন- বৃটিশদের বিরুদ্ধে স্বশস্ত্র বিপ্লবের পক্ষে যুক্তি করছেন, যারা বিপ্লবীদের… বাকিটুকু পড়ুন »

Mosharrof
অতিথি
Mosharrof

উল্লিখিত লেখায় যেভাবে আলোচনা হয়েছে তাতে অনেক বিষয় স্পস্ট হয়েছে। সাহিত্য মূল্যায়নে মার্কসীয় দৃষ্টিভঙ্গিকে ব্যাখ্যা করার চেষ্টাও হয়েছে। ইনসিডেন্টাল ব্লগার এর যে লেখা নিয়ে এ আলোচনা এতদিন হয়েছে তাতে ইনসিডেন্টাল ব্লগার কী বুঝলেন তা একটি মূখ্য প্রশ্ন। কারণ, লেখাটিতে সাহিত্য নিয়ে বলা হলেও এবং তার মধ্যেও কনেটন্ট হিসেবে সাহিত্য বিচারে মার্কসীয় বিচারধারার প্রশ্নটি আসলেও শেষ পর্যন্ত তা বাসদের রাজনীতি ও এ দলের সাহিত্য সম্পর্কিত দৃষ্টিভঙ্গির বিরুদ্ধে একটি মতবাদিক বিরোধিতা হিসেবে লেখক আনতে চেয়েছিলেন। শান্ত’র আলোচনায় বাসদের রাজনৈতিক অবস্থান (সক্রিয় কর্মী হিসেবে না থেকেও শুধুমাত্র বাহির থেকে দেখে) এতো ভালভাবে এসেছে যে তাকে অনেকেই বাসদের কর্মী হিসেবেই দেখেছেন। এটি এ কারণে… বাকিটুকু পড়ুন »

রায়হান রশিদ
সদস্য

মন্তব্যকারীদের কয়েকজনের আলোচনায় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে পেশ করা বাসদের একটি “ফর্দ” বা দাবীনামার কথা বারবার উঠে এসেছে (দেখুন: অস্মিতা, শান্ত, ইনসিডেনটাল ব্লগার, মোশাররফ)। আলোচনার সুবিধার্থে এই দাবীনামার কিছু বিষয়ের উপর আলোকপাত প্রাসঙ্গিক। বাসদ মুখপত্র ভ্যানগার্ডে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী গত ৪ জুন ২০০৮ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে মুখোমুখি সংলাপে বসেন বাসদ নেতৃবৃন্দ। দলের পক্ষ থেকে এতে উপস্থিত ছিলেন সর্বোচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, যাঁদের মধ্যে: কমরেড খালেকুজ্জামান (যিনি লিখিত বক্তব্যটি পাঠ করেন), কমরেড মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, কমরেড আব্দুল্লাহ সরকার, কমরেড রাজেকুজ্জামান রতন, কমরেড শুভ্রাংশু চক্রবর্তী প্রমূখ উল্লেখযোগ্য। তাঁদের লিখিত বক্তব্যে ‘জাতীয় সনদ’, ‘লেজুড় রাজনীতি’, ‘দলীয় নিবন্ধন ও সংস্কার’, ‘প্রতিযোগীতামূলক অর্থনীতি’, ‘দূর্নীতি’, ‘হরতাল ধর্মঘট’… বাকিটুকু পড়ুন »

রেজাউল করিম সুমন
সদস্য

১. তর্কটা যেদিকে এগোচ্ছে, যেভাবে উপর্যুপরি মন্তব্যের ফুলঝুরি (‘ফুলঝুড়ি’ নয়, ওটা সম্ভবত অন্য জিনিস, ফুল রাখার ঝুড়ি বা সেরকম কিছু … হয়তো নার্সারি-ওয়ালারা ভালো বলতে পারবেন) ছুটছে, মূল প্রসঙ্গকে এড়িয়ে অন্যের জ্ঞানগম্যি নিয়ে মুহুর্মুহু সংশয় উত্থাপিত হচ্ছে, ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর অস্তিত্ব কল্পনা করা হচ্ছে, এসব দেখার পর বীতশ্রদ্ধ না হয়ে উপায় থাকে না। ২. বাসদের সাহিত্যরুচির ব্যাপারে ইনসিডেন্টাল ব্লগারই সবচেয়ে ওয়াকিবহাল এমনটা মনে করার কোনো কারণ আছে কি? আহমেদ মুনির কিংবা শান্ত কিংবা অন্য কেউ তাঁর চেয়েও এ বিষয়ে বেশি জানতে পারেন। আহমেদ মুনির একসময়ে বাসদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন; শান্ত তাঁকে না চিনলেও বাসদের নেতাকর্মীদের অনেকেই তাঁকে বিলক্ষণ চেনেন। ইনসিডেন্টাল ব্লগারের… বাকিটুকু পড়ুন »

সান্ত্বনা
অতিথি
সান্ত্বনা

মুক্তাঙ্গনে ইনসিডেন্টাল ব্লগারের এই লেখাটা পড়লাম। পড়লাম নানা বিচিত্র স্বাদের (শুধু অম্লমধুর নয়) অজস্র মন্তব্য ও প্রতিমন্তব্যগুলো। কেবল যুক্তি-তর্ক দিয়ে সত্যিই এগোনো যাবে ভাবছেন আপনারা? আমার তো মনে হয় প্রয়োজন সংলাপের। তা যে এখানেই, এখনই হতে হবে তা অবশ্য নয়।
সেই সঙ্গে মার্কসীয় দলগুলোর নেতা-কর্মীদের মধ্যেও নানা বিষয়ে সংলাপ হওয়া দরকার। মতান্ধতা, কে না জানে, সুস্থ সাহিত্যবোধেরও পরিপন্থী। সুস্থ জীবনবোধের পরিপন্থী তো বটেই।

অস্মিতা
সদস্য

#মোশাররফ#৪৬: “তার (ইন্সিডেনটালের) লেখাকে কেন্দ্র করে যেটুকু তাচ্ছিল্য হয়েছে তা তার লেখার কনটেন্টের কারণেই যে হয়েছে তা কী বলা যায় না?”– মোশাররফ মোশাররফ সাহেবের সাথে একমত না হয়ে পারছিনা। কিছুটা তাচ্ছিল্য ইন্সিডেনটালের নিশ্চয়ই প্রাপ্য। যেহেতু তিনি (ইন্সিডেনটাল) উপর্যুপুরি “অসভ্য”, “কুরুচিপূর্ণ”, “বকলম” – তিনি অন্য অনেক কিছুর পাশাপাশি বাসদের সাহিত্য রুচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন – একথা বুঝতেই পারেননি (বা বোঝার চেষ্টা করেননি) যে সাহিত্যরুচি মানুষের একেবারে নিজস্ব একটি বিষয়। যেটি তিনি নিজে দাবি করেছেন বাসদের কাছ থেকে – সেই একই অধিকার (প্রেসক্রিপশনহীন সাহিত্য পঠনের এবং রসাস্বাদনের অধিকার) তিনি বাসদের নেতাকর্মীদের দেবেননা কিংবা তাদের রুচি নিয়ে এমনকি ঠাট্টা তামাশাও করবেন তা নিঃসন্দেহেই… বাকিটুকু পড়ুন »

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.