Tore Janson-এর, সুইডিশ ভাষায় রচিত Latin: Kulturen, historien, språket গ্রন্থের Merethe Damsgård Sørensen ও Nigel Vincet-কৃত ইংরেজি অনুবাদ A Natural History of Latin-এর বাংলা অনুবাদ প্রাচীন রোম থেকে ভেসে আসা স্বর প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান মূলত লিখিত উৎস নির্ভর। আর একথা বলার আপেক্ষা রাখে না যে, যাঁরা সে-সময়ে জীবিত ছিলেন তাঁরা যা লিখে গেছেন সেটাই সবচাইতে নির্ভরযোগ্য ও সেরা। রোমের ক্ষেত্রে প্রাচীন কালের সে-ধরনের উপাদান খুব বেশি পাওয়া যায়নি। রোমকদের অবশ্যই একটি বর্ণমালা ছিল এবং সেটা তারা অন্তত ৫০০ খৃষ্টপূর্বাব্দ থেকেই খানিকটা ব্যবহার করতে শুরু করেছিল, কিন্তু ২০০ খৃষ্টপূর্বাব্দর আগের লেখা তেমন কিছু পাওয়া যায় না বললেই চলে, এবং যা পাওয়া গেছে তার মধ্যে রয়েছে মূলত সমাধি ফলকে উৎকীর্ণ লিপি ও সেরকম কিছু জিনিস। কিন্তু একেবারে প্রাচীন যুগ সম্পর্কে আমরা যা জানি তা আসলে লিখে গেছেন সেই সব লেখক যাঁরা ধরার বুকে এসেছিলেন আরো অনেক পরে, যীশু খৃষ্টের জন্মের কাছাকাছি সময়ে। তো, সেই প্রাচীনতম সময়ের এতো কম জিনিস-পত্র পাওয়ার কারণ সম্ভবত এই যে, লেখার মতো বা শুরু করার মতো সেরকম উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না আসলে। আর সে-সময়ে রোমকদের লেখালেখির অভ্যাসটাও গড়ে ওঠেনি তেমন একটা। যাঁদেরকে লেখক বলা যেতে পারে তাঁদের দেখা মেলেনি খৃষ্টপূর্ব ৩য় শতকের আগে। কিন্তু তাঁদের লেখার টুকরো টাকরা যা কিছু পাওয়া গেছে তা দেখে বলা যায় তাঁরা লেখক হিসেবে খুব একটা সুবিধের ছিলেন না। লাতিন রচনার কোনো লিখিত আদর্শ পাওয়া যায় না, পাঠশালাগুলোতেও ছিলো না লাতিনে লিখিত কোনো নির্দেশনা। কাজেই, আদ্দিকালের রোমকরা কি ভাবতো, কেমন ছিল নানান বিষয় সম্পর্কে তাদের আবেগ-অনুভূতি সে সম্পর্কে আসলে আমরা তেমন কিছুই জানি না। তবে, প্রাচীন রোমকরা কেমন ছিল সে-বিষয়ে একজন বিশেষ ব্যক্তির লেখা একটি বইয়ের কথা প্রায়ই বলা হয়, আর তিনি হলেন মারকাস পরকিয়াস কাতো, বা, বড় কাতো। কার্থেজের বিরুদ্ধে যুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি, এবং তিনি যেসমস্ত কারণে বিখ্যাত তার একটি হচ্ছে সিনেটে তাঁর অধিকাংশ বক্তৃতাই তিনি শেষ করতেন এই কথা দিয়ে: 'Praetérea cénso Cartháginem esse delendam' (তাছাড়া আমার মত হচ্ছে কার্থেজকে ধ্বংস করা উচিত। ) কাতো মারা যান ১৪৯ খৃষ্ট পূর্বাব্দে, আর যে বইটি তিনি…
|| প্রাচীন রোম থেকে ভেসে আসা স্বর || প্রাচীন ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান মূলত লিখিত উৎস নির্ভর। আর একথা বলার আপেক্ষা রাখে না যে, যাঁরা সে-সময়ে জীবিত ছিলেন তাঁরা যা লিখে গেছেন সেটাই সবচাইতে নির্ভরযোগ্য ও সেরা। রোমের ক্ষেত্রে প্রাচীন কালের সে-ধরনের উপাদান খুব বেশি পাওয়া যায়নি। [. . .]
