সংবাদপত্রের ধর্ম পাতা : সাপ্তাহিক ইসলাম উৎসব

পরাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সে দেশের মানুষের কোনো স্বপ্ন থাকে না । থাকিতে পারে না। আমাদের ও ছিলো না [...]

যাহারা সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রযন্ত্রের চতুর্থখাম্বা বলিয়া প্রচার করিয়া থাকেন, তাঁহারা নিশ্চিতভাবেই ধর্মকে বিশেষ করিয়া ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রের আসমান বলিয়া মানেন । পাশাপাশি নির্মাণ করিয়া চলেন ধর্মভিত্তিক নানা মধ্যযুগীয় মতাদর্শের আধুনিক সংস্করণ। লুঙ্গির কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠাইয়া নামেন ধর্মের বহুবিধ ফজিলত, আমল-আখলাকের গল্প প্রচারে। তাঁহাদের এই যুদ্ধে, ধর্মকে রাষ্ট্রের আসমান হিসাবে নির্মাণ ও নিশ্চিতকরণের রেসে সহযোদ্ধা হিসেবে চতুর্থখাম্বাটি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে প্রাধান্যশীল হইয়া উঠিয়াছে; উঠিতেছে প্রতিনিয়ত।

পরাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সে দেশের মানুষের কোনো স্বপ্ন থাকে না। থাকিতে পারে না। আমাদেরও ছিলো না। ধলা ভদ্দরলোক এবং তাহাদের দেশি দোস্তরা আমাদের দেশ নিয়া, দেশের ধর্ম নিয়া, নারী নিয়া, নোংরা রাজনীতি নিয়া যে নোংরা সাংবাদিকতার জন্ম দিয়াছিলেন, তাহা নিয়া আমার-আমাদের কোনো বিলাপ নাই। বিলাপ থাকিবার মতো কোনো কারণও হয়তো নাই। কিন্তু একটা স্বাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সেই দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখিতেই পারে। বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখিয়া ছিলো। কিন্তু যে প্রজাতিটি আদতেই ধর্ষণপ্রবণ, তাহাদের দ্বারা কোনো স্বপ্নেরই যে বাস্তবতা নির্মাণ সহজতর হয় না।

বাঙালী বড়ই ধর্ষণপটু প্রজাতি। তাহারা একটি দেশকে স্বাধীন করিবার পর যেভাবে তাহাকে পরাধীন করিয়া তুলিয়া ছিল, ঠিক সেভাবেই একটি জ্যোর্তিময় সংবিধানের জন্ম দিয়া তাহাকে বলাৎকারে বলাৎকারে রক্তাক্ত করাতেও বাধে নাই বাঙালীর। ধর্মের সহিত রাষ্ট্রের কোনো যোগ থাকিবে না, একটা স্বাধীন দেশে সে রকমটাই আশা করা গিয়াছিল। কিন্তু হায়, গরিবের আবার লাল পিরান! আমাদের স্বর্গীয় ব্যবসায়ী-রাজনীতিকেরা সবচেয়ে যে ভালো ব্যবসাটি শিখিয়াছিলেন; তাহা ধর্মের ব্যবসা। স্বর্গীয় মহাপিতারা, যাহারা এখন বেহেশতে বসিয়া হুর সঙ্গম করিতেছেন, আমরা তাঁহাদের – সেসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের উত্তরপুরুষ । আমাদের সবচেয়ে মেধাবী এবং সৎ ধার্মিকটি এখন পত্রিকার ধর্ম পাতার কলাম লেখক।

প্রথম প্রথম বিভিন্ন ইসলামী দিবস উপলক্ষে দুই-একটা কলাম ছাপা হইত পত্রিকার পাতায়। সেখানে জায়গা করিয়া নিত অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। তাদের বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রযন্ত্রের চতুর্থখাম্বাটি সাজিতো নানা উৎসবে। পূর্বে পরোক্ষভাবে হইলেও পত্রিকাগুলো ছিলো ধর্মনিরপেক্ষ। ছিলো সব ধর্মের মানুষের।

২.
যাহা কিছু ভালো তাহার সঙ্গে আমাদের প্রথম আলো। প্রচারসংখ্যায় সর্বাধিক। প্রচারপটুতায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম।
ইহার সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান সম্ভবত বাংলাদেশের ধার্মিক সম্পাদকসমূহের মধ্যে প্রধানতম। তিনি এই দুনিয়ায় বসিয়া পরজনমের সুখ-সম্ভোগ নিশ্চিত করিবার জন্যে উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছেন। চোখ বুজিলেই দেখিতে পান হুর-সরাব-অবাধ যৌনাচার। তাহার প্রথম শ্রেণীতে প্রথম ক্লাস পাওয়া চতুর্থখাম্বাটিতে প্রতি শুক্রবার ঘটা করিয়া প্রকাশ করা হয় বিশিষ্ট মৌলভির অনবদ্য সুন্দর ধার্মিক ‘কলাম’। সেইখানে ধর্মের নানা নন্দনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ যেমন উপস্থিত থাকে; তেমনই থাকে ধর্মের সাথে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা। থাকে বেহেশতে প্রবেশের সবচেয়ে সহজতম পথটির কথা। থাকে জীবন আর ইসলামের নানা সমাজতাত্ত্বিক যোগের কথা। সপ্তাহের আর সব দিন ছাড়িয়া কেন শুক্রবার-ই প্রকাশ করিতে হয় এই ধর্মভিত্তিক সাহিত্য-শিল্পকলাটিকে! শুক্রবারটা মুসলমানদের বিশেষদিন বলিয়া? ঢাকা শহরটা, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি আর পাঞ্জাবিতে সাদা শুভ্র হইয়া ওঠে বলিয়া?

মধ্যবিত্ত মুসলমানদের প্রথম প্রধান এবং শ্রেষ্ঠ খাবার হইতেছে ধর্ম। রাষ্ট্রপ্রধানেরা এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীটাকে ধর্ম ছাড়া আর কিছু দিতে জানেন না ; সম্ভবত চানও না। আর মধ্যবিত্তরা তাহাতেই খুশিতে গদগদ হইয়া থাকে সবসময়। একবেলা না খাইয়া থাকিলে তাহাদের চলে, অপরের দাস হইয়া জীবনযাপনে তাহাদের কোন অসুবিধা হয় না; কিন্তু একবেলা ধর্মপালন না করিতে পারিলে তাহারা অস্থির হইয়া উঠে। রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাহাদের শোষণের শেকলে বাঁধেন; আর আমরা মধ্যবিত্তরা বাঁধা পড়ি। মতিউর সাহেব রাষ্ট্রপ্রধানদের এই পলিসি ভালোই আয়ত্ব করিয়াছেন। যেহেতু আমাদের ধার্মিক সম্পাদকটির সাথে রাষ্ট্রপ্রধানের যোগ সবচেয়ে বেশি, সেহেতু এই কাজটি তাঁহার জন্য করা খুব কঠিন তো নয়, নয় নাজায়েজও।

যেহেতু ধর্মের শেকলে বাধা পড়া মধ্যবিত্ত মুসলমানদের কল্যাণেই আমাদের আলোচ্য এই চতুর্থখাম্বাটি সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাইয়াছে; তাই এই শ্রেণীটির কথা মতিউর সাহেবের তো ভাবিতেই হয়। বণিকেরা ধর্ম নিয়া বাণিজ্য করিবে ; তাহাতে আর বলিবার কি নতুন! কিন্তু সপ্তাহের আর সব দিন ছাড়িয়া কেন শুক্রবার-ই প্রকাশ করিতে হয় এই ধর্মভিত্তিক সাহিত্য-শিল্পকলাটিকে! শুক্রবারটা মুসলমানেদের বিশেষ দিন বলিয়া ?

ঢাকা শহরটা, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি আর পাঞ্জাবিতে সাদা শুভ্র হইয়া ওঠে বলিয়া? তাহা হইলে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ কি অস্বীকার করে অমুসলিম বাঙালী পরিচয়ের তথ্যমতাদর্শভোক্তা শ্রেণীটিকে? অস্বীকার করে বাঙালী হিন্দুকে, বাঙালী খ্রিষ্টানকে, বাঙালী বৌদ্ধকে? বাঙালী অমুসলিম প্রজাতিটিকে?

প্রাচীন রাষ্ট্রপ্রধানেরা বাংলাদেশের মোসলমানি দিয়া গ্যাছেন অনেক আগেই। এখন আমাদের ধার্মিক সম্পাদকগণ রাষ্ট্রযন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাম্বাটির মোসলমানি দেবার ব্যবস্থা পাকাপাকি করিয়া ফেলিয়াছেন। আমাদের দেশটা মোসলমানদের। আমাদের প্রিয় সংবিধানটা মোসলমানদের। আমাদের বুদ্ধিজীবিরা, সম্পাদকেরা মোসলমানদের। আমাদের গণমাধ্যমগুলো কেবলই মোসলমানদের। চতুর্থখাম্বাগুলো মোসলমানদের। এখানে অন্য ধর্মালম্বীদের প্রবেশ নিষেধ। নিষেধ।

এখন আমাদের দেশের প্রধান ধারার পত্রিকাগুলি প্রতি সপ্তাহে খুব আওয়াজের সহিত ছাপে ধর্মবিষয়ক পাতা। ইসলামকে প্রতিটি পাঠকের জীবন করে তুলবার প্রয়াসে কতো উৎসব। একজন হিন্দু, একজন বৌদ্ধ, একজন অমুসলিম পাঠক যখন তাহার রক্তঘাম করা পয়সা দিয়া কিনিবেন একটা যুগান্তর, একটা আমার দেশ, সাথে সাথে তিনি কিনিতে বাধ্য হইবেন ইসলামবিষয়ক নানা মসালাসম্বলিত একটি ধর্ম পাতা।

আমাদের সম্পাদকগণ বড়ই ধার্মিক । পৃথিবীর সব ধার্মিকই যতোটা ধার্মিক তাহার চাইতে বেশি বণিক। আর তাই আমাদের ধার্মিক সম্পাদকদের থাবায় এখন ধর্ম সবচেয়ে বড় পণ্য। তাহারা বিনোদন পাতার উর্বশী পতিতাদের পাশে জায়গা করিয়া দেন ধর্মকে।

নাসিমূল আহসান

আমি মাংসের টুকরো থেকে দূরে ছিলাম। আমি নতজানু হবার বদলে নিগ্রহকে বরণ করেছিলাম। আমি পিঠে কুঁজের বদলে বুকে ছুড়িকাকে সাদরে গ্রহন করেছিলাম। আমি গলার বদলে হাতেপায়ে শেকল পরেছিলাম। আমি আমার মতো দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। আমি আমার মতো স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলাম। আমি আমার মতো কথা বলতে চেয়েছিলাম। আমি আমার নিজস্ব ভঙ্গিতে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। আমি নিতে চেয়েছিলাম নিজের নিশ্বাস। কিন্তু...আমার চারপাশ জুড়ে দেয়াল, অজস্র থাবা। আমি অন্ধকার ছাড়াতে ছাড়াতে জোছনা খুঁজতে খুঁজতে আবার অন্ধকারে মিলিয়ে যাই।.... তারপর পথে নেমে মানুষের মুখ খুঁজতে থাকি। মুখের ভাঁজ গুলোতে প্রতিরোধের , লড়াইয়ের চিহ্নগুলা মুখস্থ করে করে আত্মহননের রাস্তায় নামি...

17
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
হিমু
অতিথি

বড়ই সুখপাঠ্য। বিয়াপক আমোদ লভিলাম। আলুকাগজের সাপ্তাহিক মরসিয়া লৈয়া ভাবিত ছিলাম, কিন্তু কিছু রচিবার পূর্বেই আপনার পোস্টখানা দৃষ্টিগোচর হৈল।

রায়হান রশিদ
সদস্য

ধন্যবাদ নাসিমূল আহসান। প্রথমেই বলে রাখি ‌- আপনার ভাষারীতির এ প্রয়োগ বেশ মজার। দু’এক জায়গায় একটু ছুটে গেলেও (আমার ভুলও হয়ে থাকতে পারে) সার্বিকভাবে উপভোগ করতে কোন অসুবিধে হয়নি। প্রথম আলো পত্রিকাটা বেশ অনেক দিন হল না পড়ার ফলে জানা ছিল না যে শুক্রবার এলেই সেখানে মাদ্রাসা খুলে বসা হয় আজকাল! পোস্টের কয়েকটা বাক্য রীতিমত উদ্ধৃতিযোগ্য, যেমন: — পরাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সে দেশের মানুষের কোনো স্বপ্ন থাকে না । থাকিতে পারে না। আমাদের ও ছিলো না। — আমাদের সম্পাদকগন বড়ই ধার্মিক । পৃথিবীর সব ধার্মিকই যতোটা ধার্মিক তাহার চাইতে বেশি বণিক। আরেক স্থানে লিখেছেন: আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি… বাকিটুকু পড়ুন »

মাহাবুবুর রাহমান
অতিথি
মাহাবুবুর রাহমান

অনেক দিন হয় ইনকিলাব পত্রিকা পড়া হয় না। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল সম্ভবত ইনকিলাব। তো ইনকিলাবে বিনোদন প্রতিদিন নামে একটা পাতা ছিল। সেটায় নায়িকাদের খুল্লাখাল্লাম ছবি ছাপা হত। আমার জানা মতে তখনকার পত্রিকাগুলার মধ্যে ইনকিলাবের নায়িকাদের ছবিগুলা থাকত বেশি উত্তেজক। হায় আল্লাহ তখন আমার বয়স কতই বা হবে। ১৫-১৬! তো সেই পত্রিকায়ই আবার ধর্ম ও জীবন নামক পুরা একপাতা বা দুইপাতা ধর্মীয় বয়ান থাকত। তো সেইসবে আমি তো কোনো জীবন খুঁইজা পাইতাম না পাইতাম বিনোদন প্রতিদিন পাতায়ই। তো যা-ই হোক, আমার বলার কথা হইল ইনকিলাবের একপাতায় থাকত যৌনতা আরেক পাতায় থাকত ধর্মীয় মাশালা। তো… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

‘চতুর্থখাম্বা’ চমৎকার, শ্লেষের পুরো জোরটা পাওয়া যাচ্ছে শব্দটিতে। ধর্মকে রাষ্ট্রের আসমান হিসাবে নির্মাণ ও নিশ্চিতকরনের রেসে সহযোদ্ধা হিসেবে চতুর্থখাম্বাটি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে প্রাধান্যশীল হইয়া উঠিয়াছে;উঠিতেছে প্রতিনিয়ত। উপরে ‘প্রাধান্যশীল’ না লিখে ‘প্রধান’ লিখলেই তো চমৎকার কাজ চলে যেত। আর লেখার কাজই তো কিসে ভালো কাজ চলে তা খুঁজে বের করা। ভুলেও উপদেশ ভাববেন না, তার চেয়ে ভাবুন আত্মিক সহযোগিতা, তাই যদি ভাবতে পারেন, তাহলে আরেকটি কথা বলব, চলিত রীতিতে লিখুন না, তাতে এই বিষয়ের লেখাগুলো আরো ভালো লাগবে। আর পাঠক সুপারিশকৃত লিন্কে ১৯ নম্বর মন্তব্যে আপনার প্রত্যুত্তর আশা করছি, মতিউর রহমান, পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকদের প্রশিক্ষণ চেয়ে গত মে… বাকিটুকু পড়ুন »

আবু নঈম মাহতাব মোর্শেদ
সদস্য

লেখককে অনেক ধন্যবাদ। তবে দুটি কথা, আমাদের সংবিধান কোনকালেই জ্যোর্তিময় ছিল না । এটি জন্মলগ্ন থেকেই নকলনবীশ, কাটপেষ্ট এবং সাধারণ মানুষের সাথে রসিকতার সংবিধান ।

অবিশ্রুত
সদস্য

কখনও কখনও সাধুভাষার বিকল্প থাকে না,- নাসিমুল আহসানের এ লেখা তার প্রমাণ। আমাদের গণমাধ্যমগুলির সাম্প্রতিক প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতি আমাদের মনযোগ তুলে ধরেছেন তিনি; কেবল মনযোগ নয়, এই প্রসঙ্গটি তারও বেশি দাবি রাখে আমাদের কাছ থেকে। সংবাদপত্রগুলি, গণমাধ্যমগুলিসমেত ইদানিং যে-শারিবাদী সালসা পরিবেশন করে চলেছে প্রতিদিন, তাতে কেবল উদ্বিগ্ন হওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নাসিমুল আহসানের মতো কলম খুলে গুরুত্বের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করে চলা। সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা তাদের বাণিজ্যিক প্রবণতা থেকে একদিকে ধর্ম নিয়ে অযৌক্তিক আলোচনা ছাপিয়ে চলেছেন, কিন্তু তা নিয়ে সমালোচনামূলক লেখা প্রকাশের দুয়ার একদম রুদ্ধ করে রেখেছেন। এইভাবে তারা একদিকে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করছেন, অন্যদিকে… বাকিটুকু পড়ুন »

Aero
অতিথি

পড়লাম। ভালো লাগলো। সচেতনতা বৃদ্ধিতে লেখাটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

সম্ভবত পৃথিবীর কোন অমুসলিম দেশেই কোন মুলধারার পত্রিকায় খ্রীস্টান, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের গুনগান গেয়ে সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র প্রকাশ হয় না। ইসলাম তোষনের এই প্রবনতাটি পশ্চিমা মাধ্যমগুলোতেও মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। বেশ কয়েকবছর আগে BBC ওয়েব পেইজ এর একটি লেখাতে হযরত মোহাম্মেদের নামের পাশে PBUH (peace be upon him) দেখতে পেয়েছিলাম, অন্য কোন ধর্মীয় ব্যক্তির নামের পাশে এই জাতীয় কোন টাইটেল BBCকে বসাতে দেখিনি। এখন সৌদি পয়সাতে বিভিন্ন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী রিসার্চ হচ্ছে, সেগুলো সবই যে ফালতু ব্যাপার তা হয়তো নয়, কিন্ত ইসলামকে জানা, বোঝা ও বোঝানোর এতো আগ্রহ কেন। পৃথিবীতে তো হাজারটি বিষয় আছে জানার, ইসলাম এতো অগ্রাধিকার পাবে কেন?… বাকিটুকু পড়ুন »

মোরশেদ উদ্দিন
অতিথি
মোরশেদ উদ্দিন

লেখাটি ভাল লাগল।

মনজুরাউল
সদস্য

নাসিমূল তোমাকে কারো মন্তব্যের উত্তর দিতে দেখছি না! অবাক লাগছে! পোস্টের বিষয়ে আপাতত কিছু বলছি না। আলোচনা চলুক…..

প্রথম আলোর এই চরিত্রটিই কম-বেশি আর সবাইও ধারণ করে। সুতরাং তাদেরকেও এই সমালোচনার বিষয়বস্তু করা দরকার।

মাছের শরীরে “আল্লাহ”, গাছের সারিতে “আল্লাহু” মেঘের অবয়বে “বুজুর্গ ঈমানদারের প্রতিচ্ছবি”, কচুর পাতার নিচে “মুহম্মদ”, “আদমের কংকাল”, এ্যাডাম হিলে “আদমের পায়ের ছাপ”…..এই সব ইল্যুশন দিয়ে যখন ইসলামকে এবং আল্লাকে “আছে এবং সত্য” প্রমান করতে হয়, তখন বুঝতে হবে তিনি “নেই” প্রমান হয়ে গেছেন! অতএব এ ধরণের প্রাণান্ত চেষ্টা চলতেই থাকবে।

আরিফুর রহমান
সদস্য

চমৎকার রসালো লেখাটি পড়ে যে সুখানুভূতি পেলাম, তার জন্য লেখককে জানাই ধন্যবাদ।

আমার সীমিত দৃষ্টিতে মতিমিয়ার এই খৎনা হয়েছিলো মোহম্মদ বিলাই বিষয়ক টুপি মিছিলের ঠিক পরেই। সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ওবায়েদ খতিবের পদচুম্বন করে তিনি যে খত্ দিয়েছিলেন, তার জের শুধু চলছেই না.. উত্তোরোত্তর বৃদ্ধিও পাচ্ছে।

ভাবছি সৌদি নহরে স্ট্র চুবিয়ে তিনিও টান দিয়েছেন কিনা একটি বা দু’টি!

রেজাউল করিম সুমন
সদস্য

১ লেখাটিতে তীব্র শ্লেষ আছে, তারই টানে কখনো হয়তো টাল খেয়েছে মাত্রাজ্ঞানও। তবে স্বীকার করতেই হবে, এতে ভাবনার খোরাক আছে। ধন্যবাদ, নাসিমূল আহসান। ২ ইদানীং রাস্তাঘাটে মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে এরকম উপদেশবাক্য – ‘আপনার সন্তানকে কোরান শিক্ষা দিন’, ‘নামাজ পড়ুন’। গতকালও দুটি সিএনজি বেবিট্যাক্সির পশ্চাৎ-লিখনে প্রথম উপদেশটি দেখতে পাই; তার একটিতে অবশ্য ‘সন্তান’-এর পরিবর্তে লেখা ছিল ‘শিশু’। এই শকট দুটির মালিক পথচলতি মানুষজনকে, বিশেষ করে অভিভাবকদের, ধর্মপথে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত একমাস রাস্তাঘাটে অসংখ্যবার মুখোমুখি হতে হয়েছে এই প্রশ্নের : ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন্ কোন্ অবদানকে অস্বীকার করবে?’ এ প্রশ্ন নীরব নয়, সরব – মাইকে বেজেছে। ব্যক্তিউদ্যোগে নয়,… বাকিটুকু পড়ুন »

অস্মিতা
অতিথি

নাসিমূল আহসানকে ধন্যবাদ চমৎকার পোস্টটির জন্য। অবাক করার মতোই বিষয়। জর্জ গ্যালাওয়ের ভাষা ধার করে বলতে হচ্ছে আমাদের শ্রদ্ধেয় মতিউর রহমান এতদিনে সত্যিই প্রকৃতির সমস্ত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রজাপতি থেকে লেদা পোকায় পূনর্বিবর্তিত হলেন। গ্যালাওয়ে বলেছিলেন প্রাক্তন ট্রটস্কিপন্থী ক্রিস্টোফার হিচেন্সের ডিগবাজি খাওয়াকে উদ্দেশ্য করে, আমার বলতে হচ্ছে প্রাক্তন বাম মতিউর সাহেবকে। রেজাউল করিম সুমনের মন্তব্য পড়ে স্মৃতি ভারাক্রান্ত হলাম। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে বার কয়েক ধর্ম পরিবর্তন‍ যে আমিও করিনি, তা নয়। যদিও এ জাতীয় উপদেশ বাক্যগুলো প্রায় সবসময়ই দেয়া হয়ে থাকে মূসলমান “ভাইদের” উদ্দেশ্য করে, “বোনদের” নয়। তাতে যে জীবন রক্ষাকারী হিন্দু হোটেলগুলোর মুর্গি কিংবা সবজির স্বাদ কিছু কম… বাকিটুকু পড়ুন »

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.