ক্ষুদ্রঋণ আর সামাজিক ব্যবসা নিয়ে কিছু ‘সাদাসিধে কথা’

"মুনিম ভাই, আপনেরে ২৮০০ 'টাকার' কার্ড দিসে সিটি ব্যাঙ্ক, কই খাওয়াইবেন কন" আমার রুমমেট চেঁচিয়ে ঊঠল [..]

“মুনিম ভাই, আপনেরে ২৮০০ ‘টাকার’ কার্ড দিসে সিটি ব্যাঙ্ক, কই খাওয়াইবেন কন” আমার রুমমেট চেঁচিয়ে ঊঠল। আমেরিকায় আমার প্রথম ক্রেডিট কার্ড, ২৮০০ ডলার, এই ২৮০০ ডলারে আমি একশো ফানুস কিনে কিছু ফানুস উড়ানোর আজন্ম সলজ্জ সাধ পূরণ করতে পারি, নতুন জুতো কিনতে পারি, বেড়াতে যেতে পারি, শুধু মাসের শেষে মিনিমাম পেমেন্ট করলেই হবে। আমি শ তিনেক ডলার প্রথম মাসেই লোণ করলাম, মিনিমাম পেমেন্ট মোটে বিশ ডলার। কয়েক মাস বাদে আমার লোণ হাজার দুয়েক, মিনিমাম পেমেন্ট এমন কিছু নয়, ৫০ ডলার। আরও কয়েকটা কার্ড বাগিয়ে আমার ক্রেডিট লিমিট দাঁড়ালো ১৫ হাজারে, দুবছর বাদে দেশে গিয়ে বিয়েও করে এলাম, মূলত ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমেই। এর বছর খানেক পরে আমার স্ত্রী যখন এদেশে এলেন, তখন মিনিমাম পেমেন্ট আর ‘মিনিমাম’ নেই, সেটা মাসে ৭০০ ডলারের কাছাকাছি। আমার মোট ঋণ তখন বিশ হাজার ডলারের উপরে। এই ঋণের চাপে নব বিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে জোছনা এবং বৃষ্টি বিষয়ক নানা হূমায়নীয় ঢং করার যে স্বপ্ন ছিল, তাও বাস্তবায়িত হয়নি। আমার স্ত্রীকে মঁপাসার ‘দ্য ডায়মন্ড নেকলেসের’ কেরানীর স্ত্রীর মত কাজে নামতে হয় এবং কয়েকবছর কাজ করার পর আমাদের ঋণ শোধ হয়। আমি ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলো থেকে থেকে যা লোণ নিয়েছি তার পরিমাণ সব মিলিয়ে ১২-১৪ হাজারের বেশী নয়। তবে সব মিলিয়ে শোধ করেছি ৩০ হাজার ডলারেরও বেশী।

ব্যক্তিগত গল্প বলে বিরক্তি উৎপাদনের জন্য দুঃখিত। তবে এই গল্প ঠিক ব্যক্তিগত নয়, আমেরিকাতে বসবাসকারী প্রায় সবারই একই গল্প। আমেরিকান বড় বড় ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলো অতি লাভজনক ব্যবসা করে চলেছে দশকের পর দশক। সিটি গ্রুপের কার্ড নিয়ে আমি যে শুধ ফানুস উড়িয়েছি তাই নয়, টিউশন ফি দিয়েছি, পাঠ্যবই কিনেছি, মানে সেই কার্ড আমাকে পড়াশুনা শেষ করে আমেরিকায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্যও করেছে, শুধু আমাকেই নয়, লক্ষ লক্ষ মার্কিন ছাত্রকে করেছে। কিন্তু তাই আমরা কেউই বলছি না যে সিটি গ্রুপের CEO বিক্রম পণ্ডিতের নোবেল পাওয়া উচিত। বিক্রম বাবু নোবেল তো দুরের কথা, অতিরিক্ত বোনাস নেবার কারণে ওবামার বিরক্তির কারণ হয়েছিলেন।

বাংলাদেশেও গ্রামীণ ব্যাঙ্ক নামে একটি ব্যাঙ্ক আছে, গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর মত লাভজনক ব্যবসা করছে। ঋণ দেওয়া হয়েছে দরিদ্রদের, তাদের বেশীরভাগই সময়মত সুদসহ ঋণ শোধ করেছে এবং করে চলেছে। ব্যাঙ্কটি বলছে যেহেতু গরীবরা সময় মত ঋণ শোধ করেছে, সেহেতু ধরে নিতে হবে তারা ঋণ নিয়ে নিজেরা ব্যবসা করেছে, ব্যবসায় লাভ হয়েছে এবং এর মাধ্যমেই তারা ঋণ শোধ করার সামর্থ্য অর্জন করেছে। ঋণ না পেলে তারা দারিদ্রের যে গভীর গাড্ডায় ছিল, সে গাড্ডাতেই থাকতো। জাপান কোরিয়ার মত দেশগুলোও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে দারিদ্র ব্যাপক হারে কমিয়েছে, তবে সেটা old fashioned wayতে, ব্যাপক রপ্তানীমুখি শিল্পায়ন করে আর সেই শিল্পে লোকজনকে কাজ দিয়ে। এখন যেমন করছে চীন। বিশ্বে কেবল মাত্র বাংলাদেশেই দেখা গেলো গরীবদের লোণ দিয়ে ব্যবসা করিয়ে দারিদ্রমুক্ত করা যায়।

তবে সেই দারিদ্রমুক্তির ব্যাপারটিও অবশ্য এতই সন্তর্পণে হয়েছে যে আমরা বাংলাদেশীরা দেশে থেকেও সেটা টের পাইনি। আমরা পত্রিকা খুললেই দেখতাম পনের হাজার বাংলাদেশী অবৈধ পথে মালয়েশিয়াতে গিয়ে কাজ না পেয়ে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছে, বেপরোয়া তরুণ বিমানের চাকায় উঠে বিদেশে পালাতে গিয়ে দম আটকে মারা গেছে, সাহারা মরুভূমি পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টায় মারা গেছে ডজন খানেক বেকুব যুবক। দারিদ্রমুক্তির ব্যাপারটা আমরা প্রথমে জানলাম তৎকালীন মার্কিন ফার্স্ট লেডী হিলারি ক্লিনটনের কাছ থেকে। তিনি সশরীরে বাংলাদেশে গিয়ে দেখলেন দারিদ্রমুক্ত মহিলাদের। কয়েকঘন্টা দেখেই তিনি বললেন গ্রামীণ ব্যাঙ্ক দারিদ্রমুক্তিতে বিশাল ভূমিকা রাখছে। এর কয়েক বছর বাদে বিল ক্লিনটন স্বয়ং এলেন। তিনি অবশ্য নিরাপত্তা জনিত কারণে দারিদ্রমুক্ত অঞ্চলে যেতে পারলেন না, তবে দারিদ্রমুক্ত মহিলা এবং শিশুরা এলেন মার্কিন দূতাবাসে, দারিদ্রমুক্ত আনন্দিত শিশুরা ক্লিনটনকে ঘিরে নাচ গানে মেতে উঠলো। তিনিও বললেন দারিদ্রমুক্তি ঘটেছে। ক্লিনটন যে বছর এলেন সে বছরই এই পোস্টের লেখকও বুয়েট থেকে পাস করলো, পাস করে বেকার ঘুরতে লাগলো, এক স্নেহশীল শিক্ষকের কল্যাণে সে জাপানী দলের সাথে দোভাষীর কাজ নিয়ে চাঁদপুরের এক গ্রামীণ গ্রামে গেল। দারিদ্রমুক্তির কিছুই সে দেখল না, তবে জাপানী সাহেবেরা দেখা গেলো এই গ্রামের দারিদ্রমুক্তদের কি করে আর্সেনিক মুক্ত করা যায় সেই নিয়ে নিরীক্ষা করছেন। দারিদ্রমুক্তদের অবশ্য আর্সেনিক মুক্তি নিয়ে তেমন কোন আগ্রহ দেখা গেল না। দারিদ্রমুক্তদের জিজ্ঞাসা করা হল গ্রামে আর্সেনিক বিশুদ্ধকরনের প্লান্ট বসালে তাঁরা অর্ধেক খরচ দিতে রাজী কিনা, দারিদ্রমুক্তরা বলল “সরকার পুরা খরচ দিলে দিবো, নাইলে নাই, গত বছরও সায়েবরা আইয়া একই কতা কইছিল, আমরা না কইরা দিসি”।

গ্রামীণ ব্যাঙ্কের দারিদ্রমুক্তি এতটাই চুপিসারে ঘটেছে যে গ্রামাঞ্চলের অনেক মহিলাই সম্ভবত এর খোঁজ পান নি, নইলে গার্মেন্টসে দিনে বার ঘণ্টা কাজ করার জন্য তিরিশ লক্ষ মহিলা গ্রাম ছাড়বেন কেন? নিজেদের মা বোনেরা গ্রামীণ ঋণ নিয়ে দারিদ্রমুক্ত হচ্ছেন, বাড়ির গর্দভ যুবকটি তা বোধহয় বুঝতেই পারেনি, নইলে জমি বিক্রি করে মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণ শিল্পে কাজ করতে যাওয়া কেন। কেনইবা শুধু শুধু ক্রেনের ধাক্কায় ধুম করে মরে যাওয়া।

তিরিশ লক্ষ গার্মেন্টস কর্মীর আর চল্লিশ লক্ষ প্রবাসীর অর্থনীতিতে অবদান বছরে চল্লিশ বিলিয়ন ডলার। আর গ্রামীণের বিতরণ করা ক্ষুদ্র ঋণের পরিমাণ? ১ বিলিয়ন ডলার। চল্লিশ বিলিয়নের পুরোটা না হোক, খানিকটা তো trickle-down হয়ে গ্রামেই যায়, সেটা কি পারে না ১ বিলিয়নের বার্ষিক কিস্তি মেটাতে? ক্ষুদ্রঋণের ফিল্ড অফিসার তো ছাগল কেনার জন্য রোকেয়া বেগমের হাতে গুজে দিয়ে যান ‘ক্ষুদ্রঋণ’, সেই সাথে হিসাবের খাতা, সাপ্তাহিক কিস্তির পরিমাণ তাতে লেখা আছে। সেই কিস্তি শোধ হয়েই যায়, হয় ছাগলের দুধ বেঁচে না হলে রোকেয়া বেগমের আঠার বছরের কন্যার ঢাকার গার্মেন্টসে রক্ত বেঁচে। বছর ঘুরলেই গ্রামীণের ঝকঝকে ব্যালেন্স শিট, ২০০ মিলিয়ন গ্রোস প্রফিট, ১০ মিলিয়ন নেট প্রফিট। সেই ব্যালেন্স শিট নিয়ে ডঃ ইউনুস ঘুরে বেড়ান সারা পৃথিবীতে, সাথে আছে গোটা দশেক ‘সাকসেস স্টোরি’, হতদরিদ্র সুফিয়া বেগমের পাকা বাড়ি, স্বামী হারা রাবেয়া খাতুনের গ্রামীণ ফোনের জমজমাট ব্যবসা, সেই সাকসেস স্টোরি দেখে ইউরোপের অডিটোরিয়াম ফেটে পড়ে স্ট্যান্ডিং ওভেশনে। অডিটোরিয়াম দেখেছে ৭২এর তলা বিহীন ঝুড়ি, এখন দেখছে ১ বিলিয়ন ডলারের গ্রামীণ ব্যাঙ্ক সেই ঝুড়ির তলা লাগিয়ে ফেলেছে। ১৫০ মিলিয়ন লোকের ঝুড়ি, এই ঝুড়ির তলা ১ বিলিয়নে লাগে না, ৪০ বিলিয়ন লাগে, তিরিশ লক্ষ গার্মেন্টস কর্মীর আর চল্লিশ লক্ষ প্রবাসীর উদয়াস্ত পরিশ্রম লাগে, কিন্তু এত হিসাবের সময় কোথায়? সুফিয়া বেগমের পাকা বাড়ির ভিস্যুয়াল, এর কাছে হেরে যায় নিরামিষ অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান।

কিছু কিছু বেরসিক অর্থনীতিবিদ অবশ্য বলেই যান, ক্ষুদ্র ঋণ একটা হাইপ, ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তারা দাবী করেন সবার মাঝেই একজন entrepreneur লুকিয়ে আছে, কথাটা ঠিক নয়, সকলেই entrepreneur নয়, কেউ কেউ entrepreneur। তবে নাকের সামনে টাকা ঝোলালে সকলেই নেবে, সেটা ১৬ দফা নাকে খত দিয়ে হলেও নেবে। নিয়ে চেষ্টা করবে নিজস্ব ব্যবসার, অল্প জনই সফল হয়, বেশীরভাগই ব্যর্থ। তবে সেযুগের কাবুলিওয়ালার মত পাওনাদার এসে প্রতি সপ্তাহে দরজা ধাক্কালে পাওনা ঠিকই আদায় হয়। ব্যাঙ্কের হিসাব ঠিকই মিলে যায়, তবে ব্যাঙ্কের হিসাব মিলে যাওয়া মানে এই নয় যে দেনাদারেরা সবাই ব্যবসা করে দারিদ্রমুক্ত হয়েছেন। দারিদ্রমুক্তি কোন ব্যাঙ্কের কাজ নয়, এটা সরকারের কাজ, দারিদ্রমুক্তির জন্য শিক্ষা, অবকাঠামো, কর্মসংস্থান এসবই প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকার (মানে বেকুব এবং দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদেরা) গত কয়েক দশক ধরে রাস্তা এবং সেতু বানিয়েছেন, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র বানিয়েছেন, সরকারী মাঠ কর্মীরা অনেক বছর ধরেই গ্রামে গ্রামে গিয়ে জনগণ কে স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন, পরিবার পরিকল্পনা করতে বলেছেন, সবই দারিদ্র বিমোচনের পূর্বশর্ত। ইউরোপের সাহেবেরা অবশ্য এত কিছুর খবর রাখেন না, তারা ‘আবুলে’ ভর্তি বাংলাদেশ দেখেন, আর দেখেন দরিদ্র নারীদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেয়া ডঃ ইউনুসকে, দারিদ্রমুক্তি যা ঘটছে, এনার হাত ধরেই হয়েছে।

সাহেবরা ইউনুস আর গ্রামীণ ব্যাঙ্ককে দিয়ে দিলেন বিশাল এক মেডাল, মেডালের নাম নোবেল পুরষ্কার। এই মেডালের ধাক্কায় বাংলাদেশীরা উঠে গেল বিশাল এক উচ্চতায়, উচ্চতা এতটাই বেশি যে তাদের “নীচের দিকে তাকাতে ভয় লাগছে”। ফ্রাঙ্কফুর্টের রাস্তার ফুল বিক্রেতা, প্যারিসের কফির দোকানের ওয়েট্রেস, হিথরো এয়ারপোর্টের কাস্টমস কর্মকর্তা, নিউইয়র্কের ডাউন টাউনের বেশ্যা, সকলেই প্রবাসী বাংলাদেশীদের দেখলেই সম্মান জানাচ্ছে (এই পোস্টের লেখক অবশ্য সম্মান পাওয়া দুরে থাক, নিজের মুসলিম পরিচয় লুকাতেই ব্যস্ত, ফর্মাল রিপোর্টেও বাপের দেওয়া নাম Mohammed Munim লিখে না, লিখে ‘Moe’ Munim)। এই নোবেলের কল্যাণে ক্ষুদ্র ঋণের মাহাত্ম্য অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়লো। সবচেয়ে বেশী পড়লো দক্ষিণ আমেরিকান দেশ মেক্সিকোতে। ওয়াল স্ট্রিটের সফল মেক্সিকান ব্যাংকাররা ঝাঁপিয়ে পড়ছে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসায়। ওয়াল স্ট্রিট কানেকশন যেহেতু আছে, শতকরা ৪/৫ সুদে বৃহৎ ঋণ পাওয়া কঠিন কিছু নয়। সেই বৃহৎ ঋণ খাটবে শতকরা ২০ ভাগ সুদে, ক্ষুদ্র ঋণ হিসাবে, মুনাফার করার এর চেয়ে সহজ উপায় এই দুনিয়াতে নেই। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের ১ বিলিয়নের যাদুতে মুগ্ধ ব্যাংকাররা এখন ৮০ বিলিয়ন খাটাচ্ছেন ক্ষুদ্র ঋণ ব্যবসায়, ৭ বিলিয়নের পৃথিবীতে ৬ বিলিয়নই মোটামুটি দরিদ্র, এদের বিরাট অংশ নিবে ক্ষুদ্র ঋণ, এই দরিদ্রদেরই একটা অংশ হবে ক্ষুদ্র ঋণের ফিল্ড অফিসার, গরীবকে দেওয়া ঋণের টাকা আদায় গরীবকে দিয়েই হবে, ৮০ বিলিয়ন ৮০০ বিলিয়ন হতে আর বিশেষ দেরী নেই।

নোবেল পেয়ে আকাশে উঠে ডঃ ইউনুস দেখলেন দেশের কলহপ্রিয় দু নেত্রীর বড়ই দুর্দিন যাচ্ছে, সকলেই ভাবছে এই দু নেত্রী মাইনাস হলেই বেহেশতের দরজা খুলে যাবে। সিভিল এলিট আর সেনাবাহিনী শাসিত বেহেশতি বাংলাদেশে আর রাজনৈতিক জঞ্জাল থাকবে না, পাঁচ বছর পর পর লগী বৈঠার শোডাউন থাকবে না, দুর্নীতি থাকবে না। ডঃ ইউনুস নেমে পড়লেন দরিদ্র মহিলা কেন্দ্রিক তাঁর রাজনৈতিক স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে, কিন্তু দেখলেন চালের দাম মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে সামলানো খুব কঠিন, ছাত্রের গালে সিপাহীর সামান্য চড়ের ঘটনা সামলাতেই কারফিউ ডাকতে হয়। তিনি মানে মানে কেটে পড়লেন।

রাজনীতির স্বপ্ন ছেড়ে ডঃ ইউনুস নিয়ে এলেন এক নতুন তত্ত্ব, তত্ত্বের নাম ‘সামাজিক ব্যবসা’। বিশ্বের সকল অর্থনৈতিক বালা মুসিবতের কারণ নাকি মুনাফা কেন্দ্রিক ব্যবসা (বিল গেটস, স্টিভ জবসের মত লোকেরা মাইক্রোসফট আর এপল খুলেছেন নিজেদের ব্যক্তিগত লাভের কারণে, তাঁরা নিজেদের ব্যবসা বাড়িয়ে ১০০ বিলিয়নে নিয়ে গেলেন, লক্ষ লক্ষ লোককে কাজ দিলেন, সবই করলেন ব্যক্তিগত লাভের জন্য!)। সামাজিক ব্যবসা হবে জনসেবা কেন্দ্রিক, মুনাফা করা যাবে না, ব্যবসায় যা লাভ হবে সবই ফিরে যাবে সে ব্যবসাতে, চমৎকার ব্যবস্থা। কেমন চমৎকার, তা দেখাতে তিনি দেশে নিয়ে এলেন ফরাসী দই প্রস্ততকারক ড্যানোনকে। ড্যানোন দইয়ের প্ল্যান্ট বসিয়ে ফেললো, দইয়ের প্ল্যান্ট তারা পৃথিবীর যেকোনো জায়গাতেই বসাতে পারে, মূল চ্যালেঞ্জটাই তো দইয়ের বাজার তৈরি করা। ডঃ ইউনুস করলেন দই বিক্রির দারুণ ব্যবস্থা, দরিদ্র মহিলাদের দেওয়া হল ক্ষুদ্র ঋণ, সেই ঋণ দিয়ে তাঁরা কিনে নিবেন পাইকারি দই, পাইকারি দই তাঁরা বাড়ী বাড়ী গিয়ে বিক্রি করবেন, লাভের টাকায় তাঁরা ক্ষুদ্র ঋণ শোধ করবেন। ব্যাপার হল মার্কেটিংয়ের ঝুঁকি পুরোটাই দরিদ্র মহিলাদের। এই মহিলাদের কেউ কেউ দই ভালো বিক্রি করবেন, দ্রুত ঋণ শোধ করে তাঁরা নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে যাবেন। কিন্তু অনেকেই দইয়ের ব্যবসা সামলাতে পারবেন না, তবে তাঁরা কিস্তির টাকা ঠিকই শুধবেন, সেটা হালের বলদ বিক্রি করে, না হলে সৌদি প্রবাসী সন্তানের টাকায়। দরিদ্র মহিলার তো আর অভাব নেই, যারা ঝরে পড়বেন তাদের জায়গা নিতে আসবেন নতুনরা। এভাবে কিছু সফল, আর অনেক অসফল দরিদ্র মহিলার কাঁধে ভর রেখে মোটামুটি সহজেই ড্যানোন বাংলাদেশের দইয়ের বাজার নিয়ে নেবে। দু টাকার শক্তি দইয়ের ব্যবসা দাঁড়িয়ে গেলে শুরু হবে বিশ টাকার ‘মজার দইয়ের’ ব্যবসা, বাজার যখন দাঁড়িয়েই গেছে, ট্র্যাডিশনাল রিটেল মার্কেটই সেই ‘মজার দই’ বিক্রির দায়িত্ব নেবে।

বাংলাদেশে দইয়ের ব্যবসা অবৈধ নয়, বিদেশী বিনিয়োগও আমরা চাই। কিন্তু গ্রামের সহজ সরল মহিলাদের এই স্বাধীন ব্যবসার মুলো দেখানো কেন? তাঁরা কি আসলেই স্বাধীন ব্যবসায়ী, নাকি শক্তি দইয়ের সেলস পারসন মাত্র? সেলস পারসনরা মাস গেলে বেতন পান, না হলে বিক্রির কমিশন। বিক্রিতে সুবিধা করতে না পারলে শুধু তাঁদের চাকরিটাই যায়, ব্যবসার মূলধন নয়। ইউরোপ আমেরিকা দেখবে জনা বিশেক সফল দই ব্যবসায়ী মহিলার (আর তাঁদের মাঝে ডঃ ইউনুসের) হাসিমুখ, দেখবে না হাজার হাজার ব্যর্থ দই ব্যবসায়ী সর্বস্বান্ত মহিলার কান্না। সামাজিক ব্যবসার সফল বাস্তবায়নের জন্য আরেকটি নোবেল পুরষ্কারের সুপারিশ হতেই পারে।

ডঃ ইউনুস নিজেকে কিভাবে দেখেন জানি না, তবে নিশ্চিতভাবেই তাঁর মাঝে এক রাজনৈতিক মহানায়ক দেখে বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের একটা বিরাট অংশ। রাজনৈতিক স্বপ্ন তাঁদের দেখিয়েছেন ডঃ ইউনুস নিজেই, সেই স্বপ্ন ‘দাবায়ে রাখতে পারবা না’ আর ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ এর গোলমেলে সেকেলে রাজনীতি নয়। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশে দরিদ্র মহিলারা চালাবেন চট্টগ্রাম বন্দর, ভিডিওতে মার্কিন ওয়াল মার্ট পাহারা দেবে বাংলাদেশের গ্রামের মানুষ, ছাত্ররা মারামারি ছেড়ে মন দিয়ে লেখাপড়া করবে। সেটা ঠিকই আছে, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক তিনি, রাজনৈতিক স্বপ্ন দেখার অধিকার তো তাঁর আছেই। কিন্তু এই স্বপ্ন বাজ কে ঘিরে কি এত আগ্রহ কেন মার্কিনীদের? লাদেনকে ৫ বছর লুকিয়ে রেখেও পাকিস্তান নির্বিঘ্নে আমেরিকায় বছরে ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করে, মার্কিন ক্রেতারা কেনেন বলেই তো রপ্তানি হয়। কিন্তু এই স্বপ্নবাজের গায়ে টোকা পড়লেই অতি নিরীহ বাংলাদেশের পণ্য নিয়ে মার্কিন ক্রেতারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। কেন করেন? দেশে তো ‘আবুল’ আগেও ছিল, বিশ্বব্যাংক এই ‘আবুল’দের নিয়েই এত বছর বাংলাদেশে কাজ করেছে, ‘আবুল’রা কি নাইজেরিয়াতে নেই? পাকিস্তানে নেই? সেখানে তো ঠিকই লোণের টাকা যাচ্ছে। বাংলাদেশেরটা কেন আটকে গেল? কেনইবা মার্কিন রাষ্ট্রদূত আগ বাড়িয়ে বলেন, লোণ আটকে যাওয়াতে স্বপ্ন বাজের কোন হাত নেই?

মোহাম্মদ মুনিম

পেশায় প্রকৌশলী, মাঝে মাঝে নির্মাণ ব্লগে বা ফেসবুকে লেখার অভ্যাস আছে, কেউ পড়েটড়ে না, তারপরও লিখতে ভাল লাগে।

126
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
রায়হান রশিদ
সদস্য

. . . দারিদ্রমুক্তি এতটাই চুপিসারে ঘটেছে যে গ্রামাঞ্চলের অনেক মহিলাই সম্ভবত এর খোঁজ পান নি, নইলে গার্মেন্টসে দিনে বার ঘণ্টা কাজ করার জন্য তিরিশ লক্ষ মহিলা গ্রাম ছাড়বেন কেন? নিজেদের মা বোনেরা ঋণ নিয়ে দারিদ্রমুক্ত হচ্ছেন, বাড়ির গর্দভ যুবকটি তা বোধহয় বুঝতেই পারেনি, নইলে জমি বিক্রি করে মধ্যপ্রাচ্যের নির্মাণ শিল্পে কাজ করতে যাওয়া কেন। কেনইবা শুধু শুধু ক্রেনের ধাক্কায় ধুম করে মরে যাওয়া। . . . বছর ঘুরলেই ঝকঝকে ব্যালেন্স শিট, ২০০ মিলিয়ন গ্রোস প্রফিট, ১০ মিলিয়ন নেট প্রফিট। সেই ব্যালেন্স শিট নিয়ে তিনি ঘুরে বেড়ান সারা পৃথিবীতে, সাথে আছে গোটা দশেক ‘সাকসেস স্টোরি’, . . . সেই সাকসেস… বাকিটুকু পড়ুন »

ডাইনোসর
অতিথি
ডাইনোসর

চমৎকার হয়েছে। ইউনুস সাহবের মতো এত ধূর্ত মানুষ পৃথিবীতে খুব কমই আছে। কি সুন্দর ভাবে বলে ঋণ গ্রহীতারা গ্রামীন ব্যাংকের মালিক। এর মতো প্রতারণা আর কি হতে পারে?

হিমু
অতিথি

একটা খুব সরল প্রশ্নের জবাব নোবেলবাবার কোনো মুরিদই দিতে পারেন না। গ্রামীণ ব্যাঙ্কের মালিক যদি তার ঋণগ্রহীতা দরিদ্র মহিলারাই হয়ে থাকবেন, তারা একজোট হয়ে সুদের হার কমাতে কখনো উদ্যোগ নেননি কেন? ইউনূসের নারীর ক্ষমতায়নের বুলিবুকনি মেনে নিলে এও মেনে নিতে হবে যে ঐ দরিদ্র মহিলারাই নিজেদের কাঁধে চড়া সুদের জোয়াল চাপিয়ে রেখেছেন।

আলী জাহাঙ্গীর
অতিথি
আলী জাহাঙ্গীর

কথা হচ্ছে, আপনি সমালোচনা করতেই চান তাহলে সবারই করা সম্ভব। আপনারও সম্ভব। আপনার লেখা পড়লে মনে হবে ইউনুস একজন ভিলেন। আর বাংলাদেশের সবাই তার চেয়ে কম ভিলেন। কিন্তু আসলেই কি ব্যাপারটা সেরকম? সেটা বিবেচনার ভার যথারীতি মদ্ধবিত্তের ঘাড়েই পড়ে। আর আশা করি লেখক সেই বিবেচনা দেখবেন ভবিষ্যতে ।

সাইফ
অতিথি
সাইফ

অসাধারন লেখা।

নজা
অতিথি
নজা

তাঁকে কখনো শহীদ মিনারে দেখিনি, রমনার বটমূলে দেখিনি, ২৬ মার্চ ১৬ ডিসেম্বরে দেখিনি আমাদের জন্য কোন আশার কথা শোনাচ্ছেন, গায়ে সুতির কাপড় থাকলেও তাঁকে কখনো সত্যকারের ‘গ্রামীন’ মনে হয়নি।

Sohel Mahmud
অতিথি
Sohel Mahmud

অসাধারণ।

স্বাধীন মণণ
অতিথি
স্বাধীন মণণ

আমরা মনে হয় শ্রদ্ধেয় ‘ইউনূস’ সাহেব এবং ‘গ্রামীন ব্যাংক’ দুইটা ভিন্ন বিষয়কে গুলিয়ে ফেলছি।

‘গ্রামীন ব্যাংক’ কারো ব্যাক্তি-মালিকানাধীন নয় এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং আইনেরও উর্ধ্বে নয়। তাছাড়া সবসময়ই শুনি গরিবের ব্যাংক। গরিবরাই নাকি মালিক। ব্যাংক এর মালিক যদি গরিব থেকে যায় তাহলে আর ব্যাংক এর কি দরকার?

কারো পারিবারিক বন্ধু বিষয়টা নিয়ে চিন্তিত থাকতেই পারে এবং সেটা পারিবারিক থাকাই কাম্য।

খালেদ
অতিথি
খালেদ

ইউনুস সাহেবের মতো কিসিনজার,মেনাহিম বেগিন,সাদাত- এরাও নোবেল পে্য়েছেন।ওরাও খুব ভাল মানুষ,টা কেউ বলবেনা।তাই আমার মনে হয়,নোবেলেই ইউনুস সাহেব খুশী নন। তিনি ইউনুস নবী
হতে চান। এতো দিন বিমানে উড়েছেন, এখোন মনে হয়, মাছের ঘাড়ে চরে তিনি দুনিয়া ঘুরে বেরাবেন। উনার সাফল্য্ কামনা করি।

R. Ahsan
অতিথি
R. Ahsan

First, let me apologize for writing in English. I haven’t written in Bangla in ages and would greatly appreciate if the moderators approved my comment. Now, about the article, Mr Munim, you brought up few very intriguing arguments– 1)existence of Garment workers and non-resident-Bangladeshis mean that poverty has not been reduced. Well, Bangladesh has 16 crore people. According to your statistics, there are 30 lakh Garment workers, that means,the largest export-industry could create only 1.87% jobs and 2.5% people had to look for jobs in the middle-east.Well, Grameen alone has 4 crore borrowers, that means, 25% of the people found… বাকিটুকু পড়ুন »

Habibulllah Taljukder
অতিথি
Habibulllah Taljukder

Your write-up is nothing but a supplement to the ongoing assassination of Dr. Yunus’s character by some jealous VIPs and their supporters. Your credit card story reflects your mentality.Try to do something for our people, then criticize other’s initiative.

Mohammad Chowdhury
অতিথি
Mohammad Chowdhury

To the writer: A different prespective of understading! But, why you need to hide your name? I visited, visiting USA, Europe several times after 9-11 with my real name with Mohammad and Rahman in it. You need self respect, then can respect others. Sorry for you.

ফয়সাল আমিন মিআজী
অতিথি
ফয়সাল আমিন মিআজী

দারুন লিখনী

তুলন
অতিথি
তুলন

বাংলাদেশ ছোট দেশ। এর বয়স খুবই কম। সাফল্য আরও কম। আমি যখন ইন্টারনেট এ বিশ্বের দরবারে চারপাশে তাকিয়েও কোন বাংলাদেশিতো দূরে থাক, এশিয়ান কাউকেই দেখি না, সেখানে এক জন নিজের দেশের লোকের বক্তৃতা যখন বিশ্বের সব বাঘা বাঘা অর্থনীতিবিদ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ত শুধু শুনছে নয়, গিলছে দেখি, আমি গর্বিত বোধ করি, আমার ভাল লাগে, আমি inspired হই। Social Business অথবা Micro-credit বুঝতে হলে আমদের in-details বুঝতে হবে। আমি যা বুঝেছি, তাতে এই প্রসঙ্গে মনে বিন্দু মাত্র সংশয় নাই। আর একটা ছোট্ট কথা বলতে চাই, Micro-credit যদি এতই বিতর্কিত হয়ে থাকে, তবে কিভাবে এই কার্যক্রম বিশ্বের সব জায়গাতে সমাদৃত ও অনুকরণীও হতে… বাকিটুকু পড়ুন »

মাইনুল
অতিথি
মাইনুল

ধন্যবাদ জনাব মুনিম আপনার লেখার জন্য। কিছু প্রশ্ন
১/ প্রা্ন্তিক জনগোষ্ঠী যারা ব্যাংকি সেবা বঞ্চিত, আমার আপনার মত মধ্যবিত্ত যাদের যাকাতের শাড়ি, লুঙ্গির বেশি কিছু দেয়না, ক্ষুদ্র্রঋণ ছাড়া তাদের আর কি বিকল্প আছে?
২/ আপনি কেন ধরে নিচ্ছেন, ক্ষুদ্রঋন যারা পরিশোধ করছেন তাদের ফ্যামিলি মেম্বারা গার্মেন্টসে বা মিডেল ইস্টে কাজ করে?
৩/ কোন অর্থনীতিবিদ কোন পেপারে ক্ষুদ্র ঋনকে হাইপ বলে উল্লেখ করছেন? দয়া করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহনযোগ্য কোন পেপারের উদ্ধৃতি দিবেন। কোন এনজিও বা রিচার্স সেলের প্রকাশনার নয়।
আপনাকে আবারো ধন্যবাদ।

রাখাল বালক :)
অতিথি
রাখাল বালক :)

xxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxxx

[মডারেশন নোট: ড. ইউনুসের এক অন্ধ ভক্তের ছাপার অযোগ্য মন্তব্য মুছে দেয়া হলো]

রাহিম
অতিথি
রাহিম

গ্রামীন ব্যাংকের মালিক গরীবরা কিভাবে? কোন মালিক কত টাকা লাভ পেলো? এর হিশাব কোথায়?
আজ পর্যনত শুনলামনা কাউকে লাভ পেয়েছে!!!!!!!!!!!!!!!!

মাসুদ করিম
সদস্য

সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চায় বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের জন্য ‘ক্ষতিকর’ প্রচারণা চালাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন অথমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক সেমিনারে বক্তব্য দেওয়ার সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, “ইউনূস সাহেব সঠিক কথা বলছেন না। তিনি বলছেন, সরকার গ্রামীন ব্যাংক দখল করতে চায়। আমি প্রথম দিন থেকে বলে আসছি, সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চায় না এবং এখন পর্যন্ত দখল করেনি। ইউনূস সাহেব আননেসেসারি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। ইটস হার্মফুল ফর কান্ট্রি।” অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংক থেকে চলে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি এখন সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে। “ইউনূস সাহেব যাওয়ার পর গ্রামীণ ব্যাংক বন্ধ হয়ে… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

মোহাম্মদ মুনিমের সাদাসিদে কথা, এই ব্লগে মুহাম্মদ ইউনূস আলোচনায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। মুহাম্মদ ইউনূস নিয়ে আমার নিজের আর নতুন করে তেমন কিছু বলার নেই। এই ব্লগে বেশ কিছু পোস্টে বিভিন্ন আলোচনায় অংশ নিয়ে ইউনূসকে নিয়ে প্রায় সবকিছুই বলা হয়ে গেছে বলে আমি মনে করি। অনেকেই হয়ত সেসব পোস্টগুলো পড়ে ফেলেছেন, তারপরও ভাবছি নতুন পাঠকদের জন্য অথবা পুরনো পাঠকদের জন্য এখানে এই ব্লগের সেই পোস্টগুলোর লিন্ক আবার শেয়ার করতে পারি : বৈদেশিক ঋণ নিয়ে ডঃ মুহাম্মদ ইউনুসের নতুন তত্ত্ব, আবারও সেই সুশীলসঙ্গীতানুষ্ঠান, ঋণলস, ড. ইউনূস : ‘ভারতের ত্রাণকর্তা’?, দারিদ্র্যবণিক ও বিলবোর্ডের ভুবনে একশ’ বছরের সুফিয়া কামাল, পৃথিবীতে এত জায়গা থাকতে বাংলাদেশে… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

আমাদের দেশের অনেকে যারা ‘পাকিস্তান’কে অতি মূল্যবান ভেবেছিলেন বা এখনো ভাবেন — তারা শেখ মুজিবকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে দেখেন, যদিও আমাদের দেশের অনেকের বিচারে এবং শেখ মুজিবের বিচারে পাকিস্তানই ছিল বিশ্বাসঘাতক। ঠিক এখন আমাদের দেশের অনেকে যারা ‘মুহাম্মদ ইউনূস’কে অতি মূল্যবান ভাবছেন তারা শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ হিসাবে দেখছেন, যদিও আমাদের দেশের অনেকের বিচারে এবং শেখ হাসিনার বিচারে মুহাম্মদ ইউনূসই বিশ্বাসঘাতক।

Ahsan Iqbal
অতিথি
Ahsan Iqbal

Ami khubi bishmito! Ekhon porjonto ami shudhu ‘Grameen Bank’ nam shune ashchi ‘Goriber Bank’ hishabe, r ekjon ke shunechi tini naki robinhood! kintu ami ekhon porjonto kono gorib manusher mukhe ai bank ter kono shukhayti shuni ni! Jara ai bank ti shomporke valo valo kothabarta bolen tara beshir vagi hoy upper middle class ba upper class belong koren…tahole ki ami dhore nebo je Grameen Bank ai shob gorib valochona kari valo manushder ke gorib borolok kore diyachen? tai tader mukhei ki ai bank niya shudhu valo valo kotha shona jay! Grameen Bank niya etto ahajari shona jay! Ami jotodur bujhi… বাকিটুকু পড়ুন »

ভুমিহিন/বিত্তহিন
অতিথি
ভুমিহিন/বিত্তহিন

১৯৭১ সালে উনার বা উনার পরিবারের কারো মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কোন অবদান নাই। উনি তখন টেনেছিতে সহকারী প্রফেসর ছিলেন(দেশে আশেন১৯৭৩ সালে মুক্তিজুদ্ধ শেষ হলে), উনার রক্ষণশীল পরিবারের সবাই পাকিস্তান ভাঙ্গার বিপক্ষে। স্বাভাবিক ভাবেই উনি আমাদের মহান ২১ফেব্রুয়ারি, ১৬ ডিসেম্বরের পক্ষে না।

মাসুদ করিম
সদস্য

গ্রামীণ ব্যাংক বিষয়ে উদ্বেগ নিয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে আলোচনা করে আশ্বস্ত হয়েছেন বলে জানালেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনা। সোমবার অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা এর সদস্যদের থাকবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন তিনি। গ্রামীণ ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তনে আইন সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়ার পর তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরকার অব্যাহতি দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে সরকারের নতুন পদক্ষেপে উদ্বেগ নিয়েই অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যান ড্যান মজিনা।… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

গ্রামীণ ব্যাংকে ব্যাবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগের জন্য ‘ইচ্ছাপত্র’ (লেটার অব ইনটেন্ট) আহ্বান করবে সকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান। মুহিত বলেন, “গ্রামীণ ব্যাংকে এমডি নিয়োগের জন্য ইন্টারন্যাশনাল লেটার অব ইনটেন্ট (ইচ্ছাপত্র) আহ্বানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। খুব শিগগিরই এটা আহ্বান করা হবে।” সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনার সঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠকের পরদিন এ কথা বললেন অর্থমন্ত্রী। মুহিতের সঙ্গে ওই বৈঠক শেষে মজিনা সাংবাদিকদের বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষমতা এর সদস্যদের হাতেই থাকবে বলে আশ্বাস পেয়েছেন তিনি। গ্রামীণ ব্যাংকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তনে আইন সংশোধনের প্রস্তাবে গত ২ অগাস্ট মন্ত্রিসভা… বাকিটুকু পড়ুন »

Surajit Barua
অতিথি

ক্ষুদ্র ঋণ বিলাস

Rezwan Wahid
অতিথি

অতীব সত্য কথন। ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে পাশ্চাত্যের অতি আগ্রহের বিবিধ কারন আছে। সবগুলো কিন্তু অমুলক নয়। এই প্রকল্পগুলোর সামগ্রিক প্রভাব যাচাইয়এর বৈজ্ঞানিক ডাটা কালেকশনের জন্য, ক্ষুদ্র ঋন কার্যক্রমকে যে সময় দেয়া প্রয়োজন, সেটা পার হয়েছে। আমার মনে হয়, এখন সে আনুসন্ধানগুলোর রিপোর্ট আশা শুরু করলে, ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে, অতিউতসাহ এবং বাগড়ম্বরে একটু ঠান্ডা পানি পড়বে। আবার এও সত্য, ইউনুস সাহেবের কৃতিত্বকে খুব খাটো করে দেখা যাবেনা। তবে, যতটুকু হবে, সেটা তার ব্যক্তিগত ইগোকেন্দ্রিক আচরনের জন্যই।

[ফেসবুকের আলোচনা থেকে মুক্তাঙ্গন এডমিন টিম কর্তৃক সংগৃহীত]

Afzal Zami
অতিথি

Bangladesh Statistics Office’er telesmati karbar ta bad diyechen…

Nazrul Islam
অতিথি

Obosta dekhe mone hochchay Bangladesher protiti gorer kono na kono sodoshsho tader kormochari.

রায়হান রশিদ
সদস্য

ব্লগার মোহাম্মদ মুনিম কিছু ‘সাদাসিধে কথা’ সাদাসিধে মানুষের আঙ্গিক থেকে সাদাসিধে মানুষের মতো করেই তুলে ধরেছেন। বিশ্লেষণে তত্ত্ববাজি নেই, কিন্তু সহজ কিছু প্রশ্ন উঠে এসেছে সেখানে। এসব প্রশ্নের যতক্ষণ না কোনো সদুত্তর আসছে, ততক্ষণ এই প্রশ্নগুলো উঠে আসতেই থাকবে। আর সদুত্তর মানে সাধারণ মানুষ সাধারণ যুক্তিবোধ দিয়ে বোঝে তেমন সদুত্তর হতে হবে। এখানে সরকার, বিদেশী শক্তি কিংবা একে তাকে দোষ দিয়ে অতিরিক্ত ডিফেন্সিভ হয়ে যাওয়ার কোনো সুফল দেখি না। ড. ইউনুস আর তার প্রতিষ্ঠান পাবলিক ডমেইনে বিরাজ করেন, সুতরাং, এই আলোচনাগুলো তো হবেই। আমার ধারণা, ইউনুস নিজেরও জবাবদিহিতা আর স্বচ্ছতার পক্ষেই অবস্থান নেয়ার কথা। এই বিষয়টার ওপর আলোচনাগুলো হয়তো আরও… বাকিটুকু পড়ুন »

Riaz Uddin
অতিথি

@ Rayhan Rashid ‎ “এটা আপনার কাছে বিবেচ্য না-ই হতে পারে সেটা আপনার দৃষ্টিভঙ্গীর ব্যাপার, কিন্তু বাকি দুনিয়ার কাছে কেন হবে না?” মনযোগ দিয়ে পুরো মন্তব্যটা পড়লে এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পারেন। সমাজবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গটি ব্যখ্যা করি প্রথমে। ধরা যাক একটা পুকুরে মাছ আছে কি নেই সেটা নিয়ে তর্ক হচ্ছে। দশজন জাল ফেললেন তার মধ্যে নয় জন মাছ পেলেন না আর একজন পেলেন এখন আপনি বলতে পারেন যেহেতু নয় জন মাছ খুঁজে পায়নি কাজেই মাছ নেই। ব্যপারটা কিন্তু তেমন নয়। এটা সহজ করে বলার স্বার্থে বললাম। PK98 এই জন্যে গুরুত্বপূর্ন যে আপনার দেয়া যেকোন রেফারেন্সের চেয়ে এই লেখাটি অনেক পদ্ধতিগত… বাকিটুকু পড়ুন »

রায়হান রশিদ
সদস্য

সমাজবিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা প্রসঙ্গটি ব্যখ্যা করি প্রথমে। ধরা যাক একটা পুকুরে মাছ আছে কি নেই সেটা নিয়ে তর্ক হচ্ছে। দশজন জাল ফেললেন তার মধ্যে নয় জন মাছ পেলেন না আর একজন পেলেন এখন আপনি বলতে পারেন যেহেতু নয় জন মাছ খুঁজে পায়নি কাজেই মাছ নেই। ব্যপারটা কিন্তু তেমন নয়। @Riaz Uddin: উপরে আপনার দেয়া মাছের উদাহরণটা কিন্তু যথার্থ হল না। সেটি যদি এখন ক্ষুদ্র ঋণের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করেন তাহলে কি দাঁড়ায়? আমি নিজে অর্থনীতির মানুষ না, ক্ষুদ্র ঋনও আমার বিষয় না, কিন্তু আর সবার মতো আমার যে আগ্রহ এই বিষয়ে তা সাধারণ মানুষের আগ্রহ। এবং এই সাধারণের প্রশ্নের উত্তরগুলো যদি বিশাল… বাকিটুকু পড়ুন »

Riaz Uddin
অতিথি

‎@Mohammed Munim: আপনার সাথে অধ্যাপক রীয়াজের পেজে কিছুটা আলাপ হয়েছিল, নির্মানের লেখাটা দেখে প্রথমে চিনতে পারিনি আপনাকে — এখন আপনার প্রোফাইল ছবি দেখে মনে পড়ল। তবে অবাক হয়েছিলাম আপনার পোস্টে FDI প্রসঙ্গটি আসায় কারন এই বিষয়টি কাউকেই আমি কখনো উল্লেখ করতে দেখিনি। ইউনুসের পিছনে লাগতে গিয়ে সরকার এবং তার অনুসারিরা দেশের কি অপূরনীয় ক্ষতি করছেন সেটা যারা বুঝতে পারছেন তাদের কি পরিমান মানসিক যন্ত্রনা ভোগ করতে হচ্ছে বলে বোঝানো যাবে না। সান্ত্বনা কেবল এটুকুই যে অন্তত কিছুটা হলেও চেষ্টা করছি কেউ কেউ। জোসেফ স্টিগলিটসের পিএইচডি ছাত্র — একজন বাংলাদেশি অর্থনীতিবিদ। অনুযোগ করে তাকে বলেছিলাম আপনারা কেন লিখলেননা কিছু এই অর্থহীন… বাকিটুকু পড়ুন »

হিমু
অতিথি
হিমু

সরকারের কারণে জামায়াতে ইসলামের মাসুম নেতাদের চল্লিশ বছরের তিল তিল করে তৈরি হওয়া অর্জন পয়মাল হওয়ার পথে। তাদের ছেলেপিলেদের কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে উঠছে।

[ফেসবুকের আলোচনা থেকে মুক্তাঙ্গন এডমিন টিম কর্তৃক সংগৃহীত]

Riaz Uddin
অতিথি

Rayhan Rashid আপনার সাইটেশানগুলো পড়ছি। নিচে সামারি দিচ্ছি — প্রথম থেকে শুরু করে বেশ কয়েকটা দেখলাম। আপনার বক্তব্যে মনে হল আপনি যেই রেফারেন্সগুলো উল্লেখ করেছেন সেগুলো হয় আপনি পড়েছেন অথবা অন্তত এগুলোর সব ক্ষুদ্রঋনের প্রভাব নিয়ে স্টাডি করেছে। কিন্তু মনে হচ্ছে এর দুটোই ভুল ধারনা। দেখুন পেপারগুলো থেকে আমি কি পেলাম (বাকি গুলো দেখা হলে আপডেট দিচ্ছি)ঃ Ahmed, M. M. (2003): এই পেপারে দেখানো হয়েছে মাইক্রোফাইনান্সের মাঠ পর্যায়ের কিছু কিছু সমস্যাকে আরো সূচারুভাবে সমাধান করা সম্ভব মাঠকর্মীদের সাথে আলাপ করে এবং এরা কোন সরাসরি ইম্প্যাক্ট এনালিসিস করেননি। (# সাইটেশান ২৩) Anthony, D. and C. Horne (2003) এই পেপারে দেখা হয়েছে… বাকিটুকু পড়ুন »

রায়হান রশিদ
সদস্য

@Riaz Uddin: PK98 একটু সময় বের করে একবার মাত্র চোখ বোলাতে পেরেছি কাজের চাপে, কাজেই আমার বোঝায় কিছু ভুল থাকাও বিচিত্র না সেটা আগেই বলে নিচ্ছি, আশা করি সেরকম কিছু থাকলে তুলে ধরবেন। পেপারটিতে গাণিতিক সমীকরণের অংশগুলো যথেষ্ট ব্যাকগ্রাউন্ড না থাকায় স্কিপ করতে হল (NOTE TO SELF: এবার গণিত শিখতেই হবে মনে হচ্ছে) । গবেষণাটিতে আমার মনযোগ আকর্ষণ করেছে গ্রামবাসীদের স্যাম্পলিং এর বিষয়টি। আপনি জানেন – ইমপ্যাক্ট এসেসমেন্ট কেন, যে কোনো এমপিরিক্যাল কাজেই তথ্যদাতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে sampling, selection bias ইত্যাদি বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। PK98 এর গবেষণাটির ক্ষেত্রে দেখছি – এমপিরিক্যাল গবেষণায় ক্ষুদ্রঋণ নিয়েছে এমন টার্গেট গ্রামগুলোর তালিকা আসলে… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

চ্যাতিয়া উঠিলেন দেখি জনেক মাইলাম বাবা! গ্রামীণ ব্যাংক ও ড. ইউনূসকে নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থানের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে সহযোগিতা বন্ধের হুমকি দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপকে পরামর্শ দিয়েছেন উইলিয়াম বি মাইলাম। পাশাপাশি বিশ্ব ব্যাংকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকেও একই পথ অনুসরণ করতে বলেছেন গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিন বছর ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে থাকা এই কূটনীতিক। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে মঙ্গলবার মতামত বিভাগে প্রকাশিত এক কলামে এই পরামর্শ দেন বর্তমানে ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার’র এই পণ্ডিত। গ্রামীণ ব্যাংকের দায়িত্ব থেকে মুহাম্মদ ইউনূসকে অব্যাহতি দেওয়া এবং সর্বশেষ এই ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি সংশোধনে সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনের উষ্মা প্রকাশের মধ্যেই এনিয়ে… বাকিটুকু পড়ুন »

অদিতি কবির
সদস্য

আমি ঠিক জানি না আমার মন্তব্যটি কতখানি প্রাসঙ্গিক। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করে প্রায় আড়াই বছর একটি ক্ষুদ্র ঋণদান সংস্থায় কাজ করেছি। একই জায়গায় বারবার ট্যুরে যাবার ফলে একই ঋণগ্রহীতাদের সাথে বারবার দেখা হয়েছে। কই কাউকে তো একেবারে দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসতে দেখি নি।

মাসুদ করিম
সদস্য

গ্রামীণ ব্যাংক আইন সংশোধন নিয়ে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্যকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে শুক্রবার দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ড. ইউনূস এ ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদও বলেছেন, তারা ক্ষমতায় গেলে আইনের এ সংশোধনী বাতিল করবেন। এ ধরনের বক্তব্য সম্পূর্ণই রাজনৈতিক বক্তব্য।” গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগের বিধি পরিবর্তন করে সংশোধিত গ্রামীণ ব্যাংক আইন বুধবার অধ্যাদেশ আকারে জারি করে সরকার। বৃহস্পতিবার এটি প্রকাশ হওয়ার পর ইউনূস দিনটিকে ‘কালো দিবস’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সরকার গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে ইউনূসকে অপসারণের পর থেকে এই নোবেল… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

‘ব্যক্তিগত সম্পর্ক ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছেন ইউনূস’ আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ব্যবহার করে সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করছেন। এই অভিযোগ করেছেন দেশের ৫১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। শনিবার এক বিবৃতিতে তারা বলেছেন, ইউনূস ব্যক্তিগত পরিচয়ের সূত্রে বৃহৎশক্তি ও দাতাগোষ্ঠীকে দিয়ে দেশের ওপর নানা চাপ প্রয়োগ করে চলেছেন। বিদেশি শক্তিগুলোর এই চাপ প্রয়োগকে অবাঞ্ছিত উল্লেখ করে এই বিশিষ্টজনেরা বলেছেন, “এই চাপ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সামিল, যা স্বাধীন দেশের ক্ষেত্রে নাগরিকদের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।“ গণমাধ্যমে দেওয়া শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা। এদের মধ্যে… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

The government is yet to write back to US Secretary of State Hillary Clinton who recently expressed concern over the amendment to Grameen Bank Ordinance. “We got the letter from her and we are yet to respond to that,” Foreign Minister Dipu Moni told bdnews24.com on Sunday evening. She would not say when they would do so. “It is under consideration.” Clinton wrote to Prime Minister Sheikh Hasina in the second week of August expressing her concern over the recent changes to Grameen Bank ordinance, which empowers the Chairman of the bank to constitute a selection committee for appointing the… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

২৯ প্রশ্নের উত্তর দিতে ২৯ কোটি বার মুখ খুলেও গ্রামীণ ব্যাংকের আর কিছু হবে না। এটা মুহাম্মদ ইউনূসই সবচেয়ে ভাল জানেন যে ২০০৬ সালেই ইউনূস-গ্রামীণ যুগ শেষ হয়ে গেছে, ২০০৭ থেকে চলছে ইউনূস-শক্তি যুগ, সে যুগেরও প্রায় পাঁচ বছর তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন — পেয়েছেন দই, জুতো, মশারি আরো অনেক আন্তর্জাতিক সামাজিক ব্যবসা, এখন এ শক্তিযুগের আর কী কী ফসল তার ঘরে উঠবে তার জন্যই তিনি এখন কাজ করছেন। এই শক্তিযুগে রাষ্ট্রশক্তি দখলও তার এজেন্ডায় আছে তাও তিনি পরিস্কার করেছেন তার ‘কালোদিননামা‘য়।

মাসুদ করিম
সদস্য

১. গ্রামীণ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনগুলো দেখতে গিয়ে দেখলাম, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পরিচয়হীন কিছু লোকের উপস্থিতি — এরা কিভাবে পরিচালনা পর্ষদে স্থান পেয়েছিল কেউ জানেন? ১৯৮৪ সালের পরিচালনা পর্ষদ : কে ছিলেন এই তাহেরুন্নেসা আবদুল্লাহ? ঠিকানা ছাড়া আর কোনো পরিচয় নেই। এটি নব্বই সালের একজন এডভোকেট এবং একজন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর কিভাবে পরিচালনা পর্ষদে? ২. গ্রামীণ ব্যাংকের শুরু থেকে পরিচালনা পর্ষদে বিভিন্ন ভূমিহীন সমিতির মনোনীত সদস্য নারী ও পুরুষরা থাকতেন। ২০০৫ সাল থেকে পরিচালনা পর্ষদে ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা সদস্যদের দেখা যেতে থাকে। এটা ৮৯ সালের নারী পুরুষ উভয়ে আছে। এখানেও একজন উকিল আছেন এবং ধানমন্ডির একজন ডক্টর আছেন। এটা ২০০৪ সালের ভূমিহীন… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

আমেরিকায় সফররত বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে প্রথম বাংলাদেশ-আমেরিকা পার্টনারশিপ ডায়লগের (এমাসের ১৮/১৯ তারিখের দিকে যা আনুষ্ঠানিকভাবে আমেরিকায় অনুষ্ঠিত হবে) প্রস্তুতির আলোচনায় আমেরিকার সরকারের পক্ষ থেকে আবারও গ্রামীণ ব্যাংক ইস্যুতে তাদের উদ্বেগের প্রসঙ্গ তোলা হয়েছে। এখন থেকে মার্কিন সরকার মাইক্রোসফট অ্যাপল বা এরকম কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্ত করতে গেলেই আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করব এবং বারবার মার্কিন সরকারকে আমাদের উদ্বেগের কথা মনে করিয়ে দেব? ওদের ভাবসাব দেখে তো তাই করতে হবে মনে হচ্ছে। যেকোনো রাষ্ট্রের তার ভূখণ্ডের দেশিবিদেশি যেকোনো প্রতিষ্ঠানের বা তার ভূখণ্ড থেকে উদ্ভূত যেকোনো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম তদন্তের অধিকার সেরাষ্ট্রের সরকারের আছে : গণতন্ত্রের পীঠস্থানের যদি সেকথা মনে না… বাকিটুকু পড়ুন »

অবিশ্রুত
সদস্য

”এটি ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা। এ সময় লোয়ার অস্ট্রিয়ার মেলক এবেতে wellzell Meeting নামে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আলোচ্য বিষয় ছিল `global dialouge for inspiration’ (অনুপ্রেরণার জন্য বিশ্বসংলাপ)। এই বৈঠকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ২৭ জন বক্তার মধ্যে ড. ইউনূস ছিলেন একজন। বাংলাদেশ থেকে আরও একজন বক্তা ছিলেন, তিনি বিবি রাসেল। এই সম্মেলন উপলক্ষে বক্তাদের পরিচিতি নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হয়। নাম Time is now (এখনই সময়)। সম্মেলনের উদ্যোক্তারাই ১৪৩ পৃষ্ঠার পুস্তিকাটি প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু নিজেরা বক্তাদের পরিচিতি লেখেননি। বক্তাদেরই এই পরিচিতি পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছিল। এই অনুরোধ রক্ষা করে ড. ইউনূস সম্পর্কে যে পরিচিতি পাঠানো হয় তা পাঠানো… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

টুইটারে ইউনূস সেন্টারের হ্যান্ডেল তো ইউনূসের হয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেই, সেসাথে একটা নতুন হ্যান্ডেল সেভ গ্রামীণও দেখি কয়েকদিন থেকে সক্রিয় হয়েছে। তাদের কাজ কী? তাদের ভাষায়

@Yunus_Centre Thx 4the RTs. We R trying 2make intl community aware of injustice in Bangladesh. Ur followers should follow us 4latest updates

Muhammad Yunus ‏@Yunus_Centre

@Save_Grameen thx for the great work!

এই সেভ গ্রামীণের একটা টুইট আমাকে খুব হাসিয়েছে।

Dear @StateDept, thx for cvrge on Aug5 abt concern 4 #Grameen: http://1.usa.gov/PXwQZSCan we get an update abt HClinton’s nxt steps? Pls RT

মাসুদ করিম
সদস্য

এ কে মনোওয়ারউদ্দিন আহমদ, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্কুল অব বিজনেসের অধীন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান, গত বছর গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়ম অনুসন্ধানের জন্য গঠিত রিভিউ কমিটির প্রধান ছিলেন, তিনি বিডিনিউজ২৪.কমের মতামত-বিশ্লেষণে গ্রামীণ ব্যাংকের অনিয়ম ও ইউনূস প্রসঙ্গে একটি বিশদ লেখা লিখেছেন। লেখাটি তিনি শেষ করেছেন এভাবে। মজার ব্যাপার হল, বাংলাদেশের একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় হল, এর কারণ কী? হিলারি ক্লিনটন এ দেশে এসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সভাটি করেছেন ড. ইউনূস ও ফজলে হাসান আবেদের সঙ্গে। তার মানে কী? একসময় গ্রামের মহাজনরা যে ব্যবসা করতেন সেটা এখন এরা করছেন। ক্ষুদ্রঋণও একটি ব্যবসা। তাহলে এখানে কোনও স্বার্থ কি নেই?… বাকিটুকু পড়ুন »

মাসুদ করিম
সদস্য

ইউনূস সেন্টার তো অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়, জানি না এপ্রশ্নের উত্তর কী দেবে / কি দেবে?

মাসুদ করিম
সদস্য

বিকৃত খবরের জন্য অমর্ত্যের কাছে ক্ষমা আবুল মাল আবদুল মুহিত গত ৮ নভেম্বর শেরেবাংলা নগরস্থ পরিকল্পনা কমিশনে ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার পর্যালোচনা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সম্বন্ধে একটি বৈঠক হয়। এই বৈঠকে প্রতিভাত হয় যে গত দুই বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি ছিল প্রশংসনীয়। বিশ্বমন্দার তিন বছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি এক-চতুর্থাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু ৬ষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দুইটি দুর্বলতা অত্যন্ত প্রকট। প্রথমটি হচ্ছে যে, বিশ্বমন্দার কারণে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে আছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ অত্যন্ত নিম্নমানের। আর দ্বিতীয়টি হচ্ছে যে, মূল্যস্ফীতি প্রাক্কলনের তুলনায় বেশি, যদিও সেখানে প্রশমনের ইঙ্গিত ইতিবাচক। এখানে উল্লেখ্য যে, ত্বরান্বিত উন্নয়নে মুদ্রাস্ফীতি সচরাচর বেশি হয়। আমি সেই সভায় অংশগ্রহণ করি এবং… বাকিটুকু পড়ুন »

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.