মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দিতে গুরুচাপ লঘুচাপ দুটোই সমান শক্তিশালী – সভ্যতাকে ঘাড় ধরে টেনে নামাতে, লেখক শিল্পীর নির্বাসন নিশ্চিত করতে, তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে ‘মৌলবাদের মুখ, তার ভাষা এবং মতলব’ সমান সক্রিয়।[...]

মুহম্মদ হাবিবুর রহমান তার ‘বাংলাদেশের তারিখ’ বইয়ে ১৯৯৪ সালের ৯ আগস্ট তারিখে ‘তসলিমা নাসরিনের দেশত্যাগ’ কথাটি ঠিক লেখেননি। এটা ছিল মোটা দাগের নির্বাসন দণ্ড : নিশ্চিত গলাধাক্কা। মৌলবাদের কাছে পরাজিত রাষ্ট্র ও সরকার সেদিন তসলিমা নাসরিনকে বাংলাদেশ থেকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিয়েছিল। সেসাথে দেশের পত্রপত্রিকা ও প্রকাশকরা তার কলাম ও বই প্রকাশও বন্ধ করে দিয়েছিল।

১৯৯৮ সালে তসলিমা নাসরিন একবার বাংলাদেশে আসার সুযোগ পান এবং মাস তিনেক থাকার পর মৌলবাদীদের চাপে রাষ্ট্র ও সরকার আবার তাকে বাংলাদেশ ত্যাগে বাধ্য করে। ২০০২ সালে বাংলাদেশ সরকার তসলিমার পাসপোর্ট নবায়নের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে, তখন সুইডেন তাকে সেদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করে।

সুইডিশ পাসপোর্টে ভারতের রেসিডেন্সি ভিসা নিয়ে ২০০৪ সাল থেকে তসলিমা কলকাতায় থাকতে শুরু করেন। তার ভারতে পদার্পনের পর থেকেই ভারতীয় মুসলিম মৌলবাদীরা বোম্বে হায়াদ্রাবাদ ও কলকাতায় তার ভারতে অবস্থানের বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালে কলকাতায় মুসলিম মৌলবাদীদের তাণ্ডবের পর আইন শৃঙ্খলার অবনতির আশঙ্কায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার তসলিমাকে তার বাসস্থান ত্যাগে বাধ্য করে ও প্রাথমিকভাবে রাজস্থানে অজ্ঞাতবাসে পাঠিয়ে দেয়। এরপর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার তাকে রাজস্থান থেকে সরিয়ে দিল্লিতে অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যায়। ৭/৮ মাস অজ্ঞাতবাসের পর ভারত ত্যাগের শর্তে তসলিমার ভারতের রেসিডেন্সি ভিসার নবায়ন করে তাকে ভারত ত্যাগে বাধ্য করা হয়।

২০০৮ সালে তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশ সরকারের কাছে পাসপোর্টের আবেদন করলে তার আবেদন যথারীতি প্রত্যাখ্যাত হয়। তখন তসলিমা তার ইউরোপিয়ান পাসপোর্টে ‘বাংলাদেশ ভ্রমণে ভিসার প্রয়োজন নেই’ এই ছাপ মারতে কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন, এতেও প্রত্যাখ্যাত হয়ে তিনি সাধারণ টুরিস্ট ভিসার আবেদন করেন এবং তাতেও প্রত্যাখ্যাত হন। আর এসব কিছুর পর ২০০৮ সালেই বাংলাদেশ সরকার তার ‘কালো তালিকা’য় তসলিমা নাসরিনের নাম অর্ন্তভুক্ত করে।
২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত নতুন করে বেশ কয়েকবার তিনি বাংলাদেশে এসে বসবাসের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, কিন্তু সরকার থেকে এখনো কোনো আশ্বাস বা অনুমতি তসলিমা পাননি।
এরমধ্যে ২০১০-এর ফেব্রুয়ারিতে তিনি আবার দিল্লির অজ্ঞাতবাসে ফিরে আসেন, এখনো তিনি অজ্ঞাতবাসেই সিদ্ধান্তহীনভাবে দিন কাটাচ্ছেন।

তসলিমা হয়তো একমাত্র দৃষ্টান্ত যিনি পাশাপাশি দুটি দেশের সংখ্যাগুরু মৌলবাদী ও সংখ্যালঘু মৌলবাদীদের হুমকিতে জীবনযাপন করেছেন। মুসলিম মৌলবাদীরা যেমন তাকে বাংলাদেশছাড়া করেছে, ভারতের মুসলিম মৌলবাদীরাও তাকে অজ্ঞাতবাসে নিয়ে যেতে ও ফলশ্রুতিতে ভারত ছাড়তে বাধ্য করতে পেরেছে। নারীবাদীর শত্রু অনেক, কিন্তু তার সবচেয়ে বড় শত্রু মৌলবাদীরাই। এবং এই মৌলবাদীরা সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের হোক বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের হোক, তাদের উন্মত্ততার প্রতিক্রিয়াশীলতা সমান ক্ষুরধার। কারণ সরকারের কাছে সংখ্যাগুরুরা স্বাভাবিকভাবেই প্রধান বিবেচ্য বিষয় হলেও সংখ্যালঘুরা আবার ভোটে হারজিতের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। তাই মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দিতে গুরুচাপ লঘুচাপ দুটোই সমান শক্তিশালী – সভ্যতাকে ঘাড় ধরে টেনে নামাতে, লেখক শিল্পীর নির্বাসন নিশ্চিত করতে, তাকে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে ‘মৌলবাদের মুখ, তার ভাষা এবং মতলব’ সমান সক্রিয়।

সমালোচকরা আমার স্বাধীনতাকে চিহ্নিত করতে চাইছেন স্বেচ্ছাচারিতা বলে। আসলে আমাদের সুরুচি কুরুচি বোধ, পাপ পুণ্য বোধ, সুন্দর অসুন্দর বোধ, সবই যুগ-যুগান্ত ধরে পিতৃতন্ত্রের শিক্ষার পরিণাম। নারীর নম্রতা, নতমস্তকতা, সতীত্ব, সৌন্দর্য, সহিষ্ণুতা সেই শিক্ষার ফলেই নারীর বৈশিষ্ট হিসেবে স্বীকৃত। আমাদের সুনিয়ন্ত্রিত চেতনা কোনো রূঢ় সত্যের মুখোমুখি হতে তাই আতঙ্ক বোধ করে। কোনো নিষ্ঠুর বাক্য শুনলে কানে আঙুল দিতে ইচ্ছে করে, ঘৃণায় ঘিনঘিন করে গা, অনেক সমালোচকেরও বাস্তবে তাই হচ্ছে। আমি লেখক কি না, আমার আত্মজীবনী তাও আবার ধারাবাহিকভাবে লেখার অধিকার আছে কি না, এমন প্রশ্নও তুলেছেন। বস্তুত সবার, যে কোনো মানুষেরই আত্মকথা লেখার অধিকার আছে। এমনকী আত্মম্ভর সেই সাংবাদিকেরও সেই অধিকার আছে যিনি মনে করেন আমার হাতে কলম থাকাই একটি ঘোর অলুক্ষণে ব্যাপার। আমাকে দোষ দেয়া হচ্ছে এই বলে যে, আমি চরম দায়িত্বহীনতার কাজ করেছি। আমি দায়িত্বহীন হতে পারি, যুক্তিহীন হতে পারি, তবু কিন্তু আমার অধিকারটি ত্যাগ করতে আমি রাজি নই। জর্জ বার্নার্ড শ বলেছিলেন, A reasonable man adopts himself to the world. An unreasonable man persists in trying to adopt the world to himself. Therefore, all progress depends upon the unreasonable man. বুদ্ধিমান বা যুক্তিশীল লোকেরা পৃথিবরি সঙ্গে মানিয়ে চলে। নির্বোধ বা যুক্তিহীনরা চেষ্টা করে পৃথিবীকে তার সঙ্গে মানিয়ে চলতে। এতএব সব প্রগতি নির্ভর করে এই যুাক্তহীনদের ওপর। আমি তসলিমা সেই যুক্তিহীনদেরই একজন। আমি তুচ্ছ একজন লেখক, এত বড় দাবি আমি করাছ না যে পৃথিবীর প্রগতি আমার উপর সামান্যতম নির্ভর করে আছে। তবে বিজ্ঞদের বিচারে আমি নির্বোধ বা যুক্তিহীন হতে সানন্দে রাজি। নির্বোধ বলেই তো মুখে কুলুপ আঁটিনি, যে কথা বলতে মানা সে কথা বলেছি, পুরো একটি সমাজ আমাকে থুথু দিচ্ছে দেখেও তো সরে দাঁড়াইনি, নির্বোধ বলেই পিতৃতন্ত্রের রাঘব বোয়ালরা আমাকে পিষে মারতে আসছে দেখেও দৃঢ় দাঁড়িয়ে থেকেছি। আমার মূর্খতাই, আমার নির্বুদ্ধিতাই, আমার যুক্তিহীনতাই সম্ভবত আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
ধর্মের কথাও উঠেছে। আমি, যাঁরা আমাকে জানেন, জানেন যে, সব ধরনের ধর্মীয় দুঃশাসনের বিরুদ্ধে কথা বলি। ধর্ম তো আগাগোড়াই পুরুষতান্ত্রিক। ধর্মীয় পুরুষ ও পুঁথির অবমাননা করলে সইবে কেন পুরুষতন্ত্রের ধারক ও বাহকগণ! ওই মহাপুরুষেরাই তো আমাকে দেশছাড়া করেছেন। সত্যের মূল্য আমি আমার জীবন দিয়ে দিয়েছি। আর কত মূল্য আমাকে দিতে হবে।

বাংলা ভাষায় সাম্প্রতিক কালে অনেক নারীবাদীর লেখাই পড়েছি, দেহহীন নারীবাদীদের প্রাধান্যের মধ্যে হাতে গোনা কয়েক জন দেহী নারীবাদী আছেন – এর মধ্যে সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত আমাদের তসলিমা নাসরিন। আমাদের দূর্ভাগ্য আমরা মত প্রকাশের স্বাধীনতায় এতোই পশ্চাদপদ ও স্বাধীন মত প্রকাশে অভ্যস্ত কারো প্রতি এতোই প্রতিশোধ পরায়ণ, যে, আমাদের দেশের শ্রেষ্ঠ নারীবাদীকে আমরা হত্যা করতে চেয়েছি, আমরা তাকে নির্বাসনে পাঠিয়েছি – হয়তো বা চিরকালের জন্য বিতাড়িত করেছি। আর এটা এমন এক বিতাড়ন, যা, আমাদের দেশকে শুধু নারীপ্রগতিতেই পিছিয়ে দেবে না, আমাদের দেশে মানবতার স্ফূরণকেও ব্যাহত করছে ও করবে।

আমি চাই তসলিমা নাসরিনকে তার প্রিয় স্বদেশ ফিরিয়ে দেয়া হোক – দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ নারীবাদী তাকে অন্যরা বলুক – আমরা তাকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারীবাদী হিসেবে বাংলাদেশে উদযাপিত দেখতে চাই। আর সবার আগে চাই অচিরেই দেশের প্রধান পত্রিকাগুলো তার লেখা ছাপাক – অন্তত, দুয়েকটি পত্রিকা তার লেখা ছেপে দেখাক মত প্রকাশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বাংলাদেশের দুয়েকটি পত্রিকা শামিল আছে।

মাসুদ করিম

লেখক। যদিও তার মৃত্যু হয়েছে। পাঠক। যেহেতু সে পুনর্জন্ম ঘটাতে পারে। সমালোচক। কারণ জীবন ধারন তাই করে তোলে আমাদের। আমার টুইট অনুসরণ করুন, আমার টুইট আমাকে বুঝতে অবদান রাখে। নিচের আইকনগুলো দিতে পারে আমার সাথে যোগাযোগের, আমাকে পাঠের ও আমাকে অনুসরণের একগুচ্ছ মাধ্যম।

74
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
বিনয়ভূষণ ধর
সদস্য
বিনয়ভূষণ ধর

@মাসুদ ভাই!

আমি চাই তসলিমা নাসরিনকে তার প্রিয় স্বদেশ ফিরিয়ে দেয়া হোক – দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ নারীবাদী তাকে অন্যরা বলুক – আমরা তাকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারীবাদী হিসেবে বাংলাদেশে উদযাপিত দেখতে চাই। আর সবার আগে চাই অচিরেই দেশের প্রধান পত্রিকাগুলো তার লেখা ছাপাক – অন্তত, দুয়েকটি পত্রিকা তার লেখা ছেপে দেখাক মত প্রকাশের স্বাধীনতার সংগ্রামে বাংলাদেশের দুয়েকটি পত্রিকা শামিল আছে।

আপনার সাথে আমারও খুব আশাবাদী হতে ইচ্ছে হয় কিন্তু মুশকিলটা হচ্ছে ‘বিড়ালের গলায় ঘন্টাটা বাঁধবে কে?’

মুয়িন পারভেজ
সদস্য

আমি চাই তসলিমা নাসরিনকে তার প্রিয় স্বদেশ ফিরিয়ে দেয়া হোক – দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠ নারীবাদী তাকে অন্যরা বলুক – আমরা তাকে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারীবাদী হিসেবে বাংলাদেশে উদযাপিত দেখতে চাই। বেগম রোকেয়ার (১৮৮০-১৯৩২) জন্ম না হলে তসলিমা নাসরিনকে (জ. ১৯৬২) হয়তো ‘বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নারীবাদী’ বলা যেত! যুক্তিশাণিত ভাষায় রোকেয়া ‘অবরোধবাসিনী’দের যে-মুক্তির কথা লিখে গেছেন উনিশ শতকে, তা পড়লে শ্রদ্ধায় নত হয়ে আসে মুখ আর তসলিমার উপন্যাসোপম জীবনচরিত পাঠ করলে বিবমিষা জাগে কখনও-কখনও! লজ্জা উপন্যাসটি মৌলবাদীদের ‘নেকনজরে’ পড়ার পর আগ্রহ নিয়ে পড়েছিলাম কৈশোরান্তে, প’ড়ে আমার দুঃখ হল তসলিমার জন্য নয় — মৌলবাদীদের জন্যই। অদ্ভুত একরৈখিক মিল আছে এসব বইয়ের ‘দুর্ভাগ্যে’ : সালমান… বাকিটুকু পড়ুন »

নিরাভরণ
সদস্য
নিরাভরণ

তসলিমা নাসরিনকে নিয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনা প্রবাহ খুব মনোযোগ দিয়ে অনুসরন করা হয়নি। আর তার লেখাও পড়া হয়নি সে ভাবে। কিন্তু অল্পবিস্তর যা পড়েছি, তাতে প্রগতিচিন্তার সাথে মেধার সংযোগের যে সহজ আকাংখা তা পূর্ণতা পায়নি তসলিমার লেখায়। একটু সরলিকরন হলেও আমার পর্যবেক্ষনে মনে হয়েছে প্রগতি বা নারীবাদকে ব্যবহার করে সুনাম কূড়ানোর চেষ্টা হয়ত তার মধ্যে প্রবল ছিল। ভাল সাহিত্য বা সমাজবীক্ষনের চেয়ে এই মাত্রাটাই হয়ত বেশি প্রকট ছিল তাঁর ক্ষেত্রে। যে নারীবাদকে তিনি অস্ত্র হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা করেছিলেন সেটাকে সংবেদনশীল ভাবে উপস্থাপনে ব্যর্থ হয়েছিলেন বলেই আমার অভিমত। ফলে নিজে জর্জরিত হয়েছেন এই অস্ত্রের অসতর্ক নাড়াচাড়ার ফলস্বরূপ। তার কিছু নিবন্ধ পড়েছিলাম।… বাকিটুকু পড়ুন »

নীড় সন্ধানী
সদস্য

তসলিমা নাসরিনের সবচেয়ে বড় সাফল্য সম্ভবতঃ তার বিতর্কিত হবার ক্ষমতা। তাঁর নারীবাদী চরিত্রের চেয়েও তাঁর নারীত্বকে পরীক্ষামূলক অবমাননার মুখে ঠেলে দেয়ার ক্ষমতাকে প্রধান মনে হয়। এটা একান্তই ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষন আমার। তার আত্মজীবনীগুলি পড়েই সেই ধারনা হয়েছে।

মোহাম্মদ মুনিম
সদস্য

তসলিমা নাসরীন নব্বই দশকের শুরু থেকে লিখছেন। সে সময়ে তিনি মুলত ঈভ টিজিং নিয়ে লিখতেন, মফস্বল শহরে সিনেমা দেখে ফেরার সময় কেউ একজন অযথাই তাঁর বাহুতে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেন, এই জাতীয় অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের মেয়েরা প্রতিনিয়ত এই জাতীয় হয়রানীর শিকার হয়, কেউ কিছু বলে না, মেয়েরাও মেনে নেয়। সম্ভবত তসলিমা নাসরীন প্রথম এই ‘তুচ্ছ’ ব্যাপারগুলোকে এভাবে হাইলাইট করা শুরু করেন। বেগম রোকেয়া নিজেও radical লেখা লিখেছেন, তবে সে আমলে কটা লোকই আর লিখতে পড়তে পারতো? আর সে আমলের মোল্লারাও ব্রীটিশদের লাঠির ভয়ে তেমন কিছু বলার সাহস পেতেন না। তবে বেগম রোকেয়া বেজায় কষ্ট করে মুসলমান মেয়েদের জন্য স্কুল দিয়েছেন, তাদের নিজের… বাকিটুকু পড়ুন »

তানবীরা
সদস্য

আলোচনাটা ভালো লাগছে। পৃথিবী খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। যখন দশ বছর আগে ঢাকার রাস্তায় কোন তরুনী জীন্স পরে হাটতো তখনকার মানুষদের যা প্রতিক্রিয়া ছিলো আজকে নিঃসন্দেহে সেই প্রতিক্রিয়া আর নেই। তাই আজ থেকে একশ বছর পরে, তাসলিমা বাংলাদেশের মেয়েদের কাছে আর্দশের প্রতীক হবেন না এটা জোর করে বোধ হয় আর বলা যাবে না। বেগম রোকেয়া যখন পড়াশোনা করেছেন তখন তাকেও হয়তো তাসলিমার মতোই কটু পরিস্থিতির মধ্যে দিয়েই যেতে হয়েছিল।
ভবিতব্যই তার স্থান ঠিক করবে। শুধু সেদিন আমি কিংবা তাসলিমা আরো অনেকেই হয়তো দেখবেন না।

সুমাদ্রি শেখর
সদস্য
সুমাদ্রি শেখর

কোন লেখককে,সে তিনি ”নারী” ই হোন আর ”পুরুষ” ই হোন, একটা ”বাদ”‘ এর ভেতরে ঢুকিয়ে রাখার মানসিকতাটাও কিন্তু পাঠকের বিশাল এক সীমাবদ্ধতা।আমাদের দেশে অনেক ”শক্তিমান” পুরুষ লেখকেরা নিজেদের ”মানবিক” , ” প্রথাবিরোধী” অথবা ”নারীবাদী” বলে আত্মতৃপ্তি লাভ করে থাকেন যদিও তাদের সাহিত্যে দেখা যায় তারা নারীকে সম্ভোগ্য বস্তু হিসেবেই তুলে ধরেছেন সবচেয়ে বেশি।তসলিমা’র লেখার সাহিত্য-মুল্য কতটুকু সে আলোচনায় যাওয়াটা অবান্তর কারণ এটা সময়-ই নির্ধারণ করে দেবে।আমি যা বলতে চাই তা যদিও ”ক্লিছে” প্রায়,সেটি হল বাংলাদেশে অনেক রাষ্ট্রবিরোধী,লম্পট,ভন্ড,ধর্ষক জনপ্রিয় হয়ে বহাল তবিয়তেই আছেন,আমাদের সমাজে মিথ্যে আর কুপমন্ডুকতা টিকে থাকুক তার জন্য তাদের প্রচেষ্টা অব্যহত রয়েছে।রাষ্ট্র তাদের আশ্রয় দিতে এতটুকু কুন্ঠাবোধ করেনা।ধর্মীয়… বাকিটুকু পড়ুন »

এশার
অতিথি
এশার

তসলিমা নাসরিনের লেখার ভক্ত কোনোদিনই ছিলাম না। কারন আমি করি তিনি ভালো লিখতে জানেন না, ভালো পড়েনওনি। কিন্তু প্রচন্ডরকম লজ্জিত হই তার নির্বাসনে। তিনি কী লেখেন কিনবা না লেখেন তার চেয়ে আমার কাছে বড় হয়ে উঠে “তার কথা বলার অধিকার হরণের বিষয়টি”। সভ্য সমাজের অন্যতম স্তম্ভ হচ্ছে “আমার কথা বলার স্বাধীনতা”। কোনো সরকার জনগনের এই অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে তা তাদের একটি বড় ব্যার্থতা বলেই বিবেচিত হবে। জাতি হিসেবে আমরা ভন্ড এবং তার আরেকটি বড় প্রমান হচ্ছে তসলিমার “নির্বাসন দন্ড”। এদেশে পতিতা থাকতে পারবে, তসলিমা থাকতে পারবেন না। এর চেয়ে বড় লজ্জা আর কী হতে পারে আমাদের জন্য? তস্লিমা,… বাকিটুকু পড়ুন »

তমসো দীপ
সদস্য

যারা এই লেখার বিভিন্ন কমেন্টে বলেছেন তসলিমা নাসরিন কোন লেখক না, ভাল লিখতে পারেন না, তাঁর লেখা সাহিত্য হয়নি, তাদের কাছে আমার একটি কথা জানবার আছে। তারা ক’টা বই পড়েছেন তসলিমা নাসরিনের? আসলেই কি পড়েছেন? আমার মনে পড়ে, আমি যখন তসলিমা নাসরিনের ‘ফরাসী প্রেমিক’ পড়ছিলাম, একটা চাপ্টারে আমার চোখ আটকে যায়। নায়িকা নীলা নিজের জন্য একটা বাড়ি কিনেছে। নিজের মত করে বাড়িটাকে সে সাজাচ্ছে। হঠাৎ পড়তে পড়তে আমার মনে পড়ল নিজের জীবনের একটা সময়ের কথা। তখন আমার জীবন কেবল শুরু হচ্ছে।বাবা মা’র সাথে থাকি, ইচ্ছে করে না। সারাক্ষণ স্বপ্ন দেখি নিজস্ব একটা ফ্ল্যাটের। মনে মনে হাজার বার এওটা ফ্ল্যাট কিনি,… বাকিটুকু পড়ুন »

নওরীন তামান্না
সদস্য

সত্যিই বড়ো দুঃখ হয় মাসুদ ভাই। আমরা কয়েক প্রজন্মের নারীরা বড় হলাম, সান্ত্বনা পেলাম, শক্তি পেলাম যার ‘নির্বাচিত কলাম’ পড়ে, আজ তাকেই আর কোথাও দেখি না। অথচ এই দেশটিতে এরশাদ, আমিনী, গোলাম আযম – সকলেরই ঠাঁই হয়, কেবল তসলিমারই হয়না। তার অপরাধ ‍্(যদি নিজের মত প্রকাশ কোন অপরাধ হয়ে থাকে) কি এদের চেয়েও গুরুতর?

trackback

[…] […]

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.