হরকিষেণ সিং সুরজিৎ


ভারতে যাঁদের বয়স ৯০‌-৯৫, তাঁদের মধ্যে অনন্য বিখ্যাত দুজন, জ্যোতি বসু ও হরকিষেণ সিং সুরজিৎ। গত ১ অগাস্ট ২০০৮-এ নয়ডার মেট্রো হাসপাতালে মারা গেলেন হরকিষেণ সিং সুরজিৎ, বয়স হয়েছিল ৯২ বছর, জ্যোতি বসুর চেয়ে ২ বছর কম। সেই কৈশোর হতে রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রত্যক্ষ অংশগ্রণের মধ্য দিয়ে। তখন ছিলেন ভগত সিংয়ের ‘নওজওয়ান ভারত সভা’র সদস্য। ১৯৩৪-এ তিনি নিষিদ্ধ কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হন। ১৯৩৫ থেকে ১৯৩৬-এ কংগ্রেসের স্বাধীনতা আন্দোলনের সহযোগী হিসেবে কৃষক সভার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন সুরজিৎ। ১৯৩৮-এ কৃষক সভার পাঞ্জাব রাজ্য শাখার সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৩৮-এর পর পাঞ্জাবের বাইরে আসেন,উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর থেকে প্রকাশ করতে থাকেন মাসিক পত্রিকা ‘চিঙ্গারি’। ১৯৩৯-এ সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ঘোষণা হওয়া মাত্র ব্রিটিশ সরকার ভারতে যে-নেতৃবৃন্দকে গ্রেপ্তারের জন্য প্রথম দফার পরোয়ানা জারি করে,তাদের অন্যতম হরকিষেণ সিং সুরজিৎ। আত্মগোপন করেছিলেন সুরজিৎ। ধরা পড়ে যান ১৯৪০-এর ডিসেম্বরে। ১৯৪৪ পর্যন্ত কারাগারে ছিলেন সে-সময়। মুক্তি পাওয়ার পর আবার কৃষকদের পাশে,কৃষক সভার কাজে। দেশভাগের সময় রক্তাক্ত দাঙ্গার দিনগুলোতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য ঝুঁকি নিয়ে ছোটাছুটি করেছেন হিন্দু,মুসলিম,শিখদের গ্রামগুলোতে।  দেশভাগের বছরে সুরজিৎ ছিলেন পার্টির পাঞ্জাব শাখার সম্পাদক। স্বাধীনতার পর কমিউনিস্ট পার্টি নিষিদ্ধ থাকার দিনগুলোতে ১৯৪৮-৫২ পর্যন্ত ছিলেন আত্মগোপনে। পঞ্চাশের দশকের ওই সময় সরকারি সেচ বিভাগ পাঞ্জাবে সেচের জলে কর বসানোয় কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ ঘনিয়ে ওঠে। সুরজিৎ কৃষকদের এই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। ১৯৫৯-এ এই আন্দোলন তুঙ্গে উঠে গোটা দেশে ইতিহাস সৃষ্টি করে। ওই আন্দোলনের নেতৃত্বের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবেই তিনি প্রথমে সারা ভারত কৃষক সভার সম্পাদক ও পরে সভাপতি নির্বাচিত হন। বেশ কিছু সংবাদপত্র,পার্টি মুখপত্র প্রকাশ,সম্পাদনা করেছেন সুরজিৎ। জলন্ধর থেকে ১৯৬৬-তে সম্পাদনা করেছেন ‘দুখী দুনিয়া’, ‘দৈনিক লোক লহর’। পরে পার্টির হিন্দি মুখপত্র ‘লোক লহর’ সাপ্তাহিকের সম্পাদনা করেছেন। বেশ কয়েকটি বইও লিখেছেন তিনি। তাঁর বইগুলোর মধ্যে ‘ল্যান্ড রিফর্ম ইন ইন্ডিয়া’, ‘ফিউচার অফ কাশ্মীর’, হ্যাপেনিংস অফ পাঞ্জাব’, আউটলাইন হিস্ট্রি অফ দি কমিউনিস্ট পার্টি’ উল্লেখযোগ্য। কমিউনিস্ট পার্টি ভাগ হওয়ার সময় সিপিএমের প্রথম পলিটব্যুরোর ৯ জন সদস্যের একজন ছিলেন সুরজিৎ। অবিভক্ত পার্টিতে ১৯৫৪ সালের জানুয়ারি থেকে ছিলেন পলিটব্যুরোর সদস্য। ১৯৯২ সালে মাদ্রাজে সিপিএমের ১৪তম কংগ্রেসে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন। ২০০৫-এর দিল্লি পার্টি কংগ্রেস পর্যন্ত তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০০৮-এর এপ্রিলে সিপিএমের ১৯তম পার্টি কংগ্রেস পর্যন্ত তিনি ছিলেন পলিটব্যুরোর সদস্য। সাম্প্রদায়িকতা, বিশেষ করে বিজেপি-র বিরুদ্ধে তাঁর দ্বিধাহীন অবস্থান তাঁকে বিশিষ্ট করেছে। ১৯৯০ সালে বিজেপি-বিরোধী জোট সরকারের অন্যতম স্থপতি ছিলেন হরকিষেণ সিং সুরজিৎ। ইউপিএ সরকারের প্রতি বাম সমর্থনের তিনি ছিলেন অন্যতম তাত্ত্বিক প্রবক্তা। বয়সের কারণে,অসুস্থতার জন্য তিনি গত এপ্রিলের পর পার্টির পলিটব্যুরোর সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি ছিলেন একজন স্থায়ী আমন্ত্রিত সদস্য। সংসদীয় রাজনীতিতে তাঁর অভিজ্ঞতা এবং বড় ধরনের জোট তৈরির ক্ষেত্রে তাঁর নমনীয়তা এবং বিভিন্ন দল ও মতকে সাধারণ কর্মসূচির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ করে তোলার ক্ষমতার জন্য সুরজিৎ ভারতের রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে এক বিশিষ্ট নেতার স্বীকৃতি ও পরিচিতি অর্জন করেছেন।

সুরজিৎ কিংবদন্তী হতে চাননি। তিনি ইএমএস নাম্বুদিরিপাদ এবং জ্যোতি বসুকে কিংবদন্তী বলতেন।কিন্তু সুরজিৎ যা হয়েছেন এদের দুজন তা হতে পারেননি,সুরজিৎ হয়েছেন রাজনীতির চেয়ে বড়,বিশাল সংগঠক,মহান রাজনৈতিক কারিগর,সমকালে তিনিই শুধু জানতেন বহু বর্ণময় ভারতীয় রাজনীতির সব স্বর ও চ্ছটা। তাঁর হাতেই তৈরী হয়েছেন প্রকাশ কারাত ও সীতারাম ইয়েচুরি, যাঁরা এখন সারা ভারত সিপিএমের নতুন প্রজন্মের শীর্ষ সংগঠক। তাঁর মৃত্যুর পর সীতারাম ইয়েচুরি যথার্থই লিখেছিলেন “সুরজিতের ব্যক্তিত্বে অদ্ভূতভাবে সন্নিবেশ ঘটেছিল কিছু বিরল গুণের। দূরদর্শিতায় তিনি ছিলেন অদ্বিতীয়। সাদাচোখে তাঁকে মনে হতো রাজনীতিতে বড় বেশি ঢিলেঢালা, খুবই নমনীয়, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি উদার। কিন্তু যারা এমন ভাবত তারা সুরজিৎকে সত্যিই চিনত না। অথবা দূর থেকে চিনত। যারা ওঁকে কাছ থেকে চিনেছে, জেনেছে তারা কখনও ভুলেও এসব কথা ভাবেনি। আমরা জানতাম সুরজিৎ দেশ আর দলের পারষ্পরিক হিতকে যতটা সোজা-সরল ভাবে ব্যাখ্যা করে এসেছেন, তা এক কথায় বিরল। কঠিনতম রাষ্ট্রতত্ত্বকে যেভাবে জলের মতো বুঝিয়ে দিয়েছেন তার তুলনা নেই। অন্য পাঁচটা দলের সঙ্গে যে-কোনো ইস্যুতে জোট বাঁধতে গিয়ে নিজের দলের মৌলিক অবস্থানকেই চিরকাল প্রতিষ্ঠিত করেছেন। অন্যের চাপে নিজের অবস্থান কখনও বদলাননি। এটাই বোঝা যেত না সুরজিৎকে বাইরে থেকে দেখলে। সুরজিৎ বিশ্বাস করতেন অচঞ্চলভাবে এবং আমাদের স্থিরপ্রজ্ঞা দিয়ে বোঝাতেন,দলের স্বার্থ না দেখলে তোমার হাতের অস্ত্রটাই তো ভোঁতা হয়ে গেল। তখন আর কী দিয়ে লড়বে? আর দেশের স্বার্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলতেন,দেশের রাজনীতির খোলনলচেটাই যদি বদলে যায়, তাহলে কি কমিউনিস্ট পার্টি থাকবে, না তার লক্ষ্য পূর্ণ হবে? সেজন্যেই চাই গণতন্ত্রের ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোটাকে আগলে রাখা। গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রকাঠামো অক্ষত থাকলে তবেই দেশ সমাজতন্ত্রের পথে এগোবে। সুতরাং, ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোকে একসঙ্গে এক মঞ্চে যেভাবে হোক আনতে হবে। রুখতে হবে সাম্প্রদায়িকদের। ওঁর এই দিকনির্দেশ আমাদের দেশের বহু দলের অভিমুখ বদলে দিয়েছে সদর্থকভাবে। এছাড়া সুরজিৎ বলতেন,অন্যদের কথাও শুনতে হবে এবং নিজেদের পরীক্ষিত অবস্থানের সঙ্গে সমঝোতা না করেই এগোতে হবে বৃহত্তর ঐক্যের দিকে। এমন ঐক্য যা আমাদের রাজনৈতিক লক্ষ্যে পৌঁছনোর সহায়ক হবে। এজন্য নিজের জমি ছাড়ার দরকার নেই। কারো সঙ্গে মতে না মিললে,এমনকি বিচ্ছেদ হলেও সুরজিৎ মনে করতেন,এ যাত্রা পুরো পথটা একসঙ্গে হাঁটা গেল না ঠিকই,তবে এখানেই সব শেষ হয়ে যায়নি।”

আমাদের দেশে আজ যে অভাব সবচেয়ে বেশি আমাদের ক্লিষ্ট করছে তা এই সুরজিতের মতো এমন বামপন্থী নিরন্তর কর্মী ও নেতৃত্বের অভাব। আমাদের দেশীয় রাজনীতি শত বাধা বিপত্তির পর যে সংসদীয় রাজনীতির পথে পা বাড়িয়েছিল তা অচিরেই ধর্ম ও বাণিজ্য সভার রূপ নেয়াতে, আজ রাজনীতির মৃত্যু আমাদের দরজার কড়া নাড়ছে। আমাদের রাজনীতি মোটেই তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছবে না যদি না আমাদের বামপন্থী রাজনীতি তার পথ ও পরিণতির ভাবনায় গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোটার জন্য সাংগঠনিক সার্বক্ষনিক কর্মতৎপরতা ও জোট গঠনে নেতৃত্ব দেয়ার কঠিন ও দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাসযোগ্যতায় পথ না চলে। অচল বিপ্লবভাবনায় ও অবিচল শুদ্ধ সমাজতন্ত্রের স্বপ্নে অলস দিন কাটিয়ে আর সাহিত্যে ও শিল্পে ও অর্থনীতিতে শ্রেণীপ্রভাবের তসবিহ গুনে গুনে রোজকার দিন কাটিয়ে আখেরাতে সমাজতন্ত্রের আশায় যাঁরা পথ চলছেন তাঁদের সুমসৃণ পথের শেষ কোনোদিন হবে না বলেই মনে হয়।

সুরজিতের জীবন নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমার মনে হয়েছে ১৪ দলের পাশাপাশি আমাদের সব বামপন্থী দলগুলো নিজেদের মধ্যে ঐক্যকে আগে আরো জোরদার করুক। শুধুমাত্র তাহলেই প্রার্থীতার জোটের চেয়ে সাংগঠনিক লাভালাভের অর্ন্তগত হিসাব নিকাশ নিয়ে নিজেদের অর্জন আরো ফলপ্রসু হবে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি যত দ্রুত দলের ভেতর আরো সংহত হয়ে ১৪ দলীয় জোটে নিজেদের অবস্থান ঘোষণার প্রেক্ষিত তৈরী করতে পারে ততই গণতান্ত্রিক ধর্মনিরপেক্ষ কাঠামোটি শক্তিশালী হবে বলেই মনে হয়।

ভারতবর্ষের রাজনীতিতে সুরজিৎ প্রভাব বাড়ুক,তাহলেই এই দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ধর্মের অমোঘ অচল প্রভাব কমার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সবার অবশ্যই এটা বোঝা উচিত ধর্মের হিসাব নিকাশ শেষ না হলে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি কোনোদিন প্রগতিশীল হবে না। আর তাই যদি না হয় কোথায় তলিয়ে যাবে সব তার হদিস আমরা কেউই পাব না।

আমি হরকিষেণ সিং সুরজিৎ বিষয়ে সব সময়ই তথ্য জুগিয়ে যাব এখানে। যেমন আজ একটি তথ্য পেলাম, তিনি কৈশোরে কবি হতে চেয়েছিলেন তাই নিজের ‘হরকিষেণ সিং বাস্সি’ নাম পাল্টে রাখলেন ‘হরকিষেণ সিং সুরজিৎ’ — কবি হতে পারেননি ঠিক কিন্তু নিজের নামটিকে কী অসাধারণ ছন্দোময় করে রাখলেন চিরদিনের জন্য।

মাসুদ করিম

লেখক। যদিও তার মৃত্যু হয়েছে। পাঠক। যেহেতু সে পুনর্জন্ম ঘটাতে পারে। সমালোচক। কারণ জীবন ধারন তাই করে তোলে আমাদের। আমার টুইট অনুসরণ করুন, আমার টুইট আমাকে বুঝতে অবদান রাখে। নিচের আইকনগুলো দিতে পারে আমার সাথে যোগাযোগের, আমাকে পাঠের ও আমাকে অনুসরণের একগুচ্ছ মাধ্যম।

১০ comments

  1. ইনসিডেন্টাল ব্লগার - ১৩ আগস্ট ২০০৮ (১২:০০ অপরাহ্ণ)

    অসাধারণ এই মানুষটির খবর জানা ছিলনা। আপনার কল্যানে জানা হল। ধন্যবাদ।

  2. অলকেশ - ১৬ আগস্ট ২০০৮ (৫:৩১ পূর্বাহ্ণ)

    মাসুদ করিমের লেখাটা অনবদ্য। সময়ের নিরিখে বেশ তাৎপর্য পূর্ন । বামপন্থার উপর আস্থা রাখার পক্ষে তিনি। যদিও, একটি প্রবনতা সম্পর্কে স্মরন ও সতর্ক করে দিতে ভুলেন নি তিনি তা হল, বিশুদ্ধতার নামাবলী গায়ে জড়িয়ে,ভাল মানুষ টি সেজে নিতান্ত কিছু তত্ত্ব/তথ্য কথা আয়ত্ত্বকরন,হিতোপদেশ বিতরন ও স্বমতের সাথে অমিল দেখলেই নাসিকা কুঞ্চিতকরন ইত্যাদি বিষয়ে ত্রুটি মুক্ত হওয়া বামদের জন্য জরুরী নইলে ব্যক্তিজীবনে গনতন্ত্রের বোধ তৈরী করা যায় না। গনতন্ত্র প্রতিষ্টার আন্দোলনে জরুরী বিষয় হলো ব্যক্তির এই বোধটুকু । এটা খুব জরুরী হয়ে পড়েছে।

  3. Mosharrof - ১৬ আগস্ট ২০০৮ (৬:৩৭ পূর্বাহ্ণ)

    একজন প্রবীণ বামপন্থী রাজনীতিকের জীবন সংগ্রাম তুলে ধরার জন্য লেখককে বিশেষ ধন্যবাদ। রাজনীতি যখন মানুষের মন থেকে নিবার্সনে দেয়ার আয়োজন চলছে তখন আমৃত্যু রাজনীতিতে নিবেদিতপ্রাণ মানুষের কাছে আমাদের কাছে শেখার সবচেয়ে বড় বিষয় যে তিনি রাজনীতিকেই সমাজের পরিবর্তনের একমাত্র উপায় হিসেবে নিয়ে জীবনে ব্রতী ছিলেন।
    গত ১১ আগস্ট ছিল শহীদ বিপ্লবী ক্ষুদিরামের শততম ফাঁসি দিবস। মাত্র ১৮ বছর ৪ মাসে ক্ষুদিরামের ফাঁসি হয়েছিল, কিন্তু ক্ষণজন্মা হয়েও তাঁর জীবন সংগ্রাম সেদিন গোটা ভারতবাসীকে জাগিয়ে দিয়ে গিয়েছিল। তেমনি একটা সময়ে জন্ম নিয়ে প্রয়াত হরকিষেণ সিং সুরজিৎ আমৃত্যু জীবন-সংগ্রাম চালিয়েছেন। এটি আজকের দিনে রাজনৈতিক সংগ্রামের একটা অণুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
    এ লেখা লিখতে গিয়ে লেখক ভারত ও বাংলাদেশের রাজনীতির বিষয়ে হরকিষেণ সিং এর দল এ লেথকের নিজস্ব মতামত তুলে ধরেছেন। প্রথমত একদিকে অসাম্প্রদায়িক রাজনীতির বিরুদ্ধে লেখকের স্পষ্ট অবস্থান থাকলেও তার বিপরীতে আমাদের দেশের আজকের বুর্জোয়া দলগুলোর সাম্প্রদায়িকতার সাথে আপোষের অবস্থান নিয়ে আলোচনা আরো স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ১৪ দলীয় অবস্থান কী সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন হিসেবে প্রতিভাত? ভারতের সি পি আই এবং সি পি এম নেতৃত্বাধীন বাম জোট ইউ পি এ সরকারকে যখন সমথর্ন করে তার সঠিকতার প্রশ্ন নাই তুললাম। কিন্তু বাংলাদেশে বামপন্থী দলগুলোর দুর্বল অবস্থান অনস্বীকার্য। ১৪ দলীয় জোটকে নেতৃত্ব দেয়ার স্বপ্ন যারা দেখছেন, সাম্প্রতিক হয়ে যাওয়া নির্বাচনে তাদেরকে ন্যূনতম তোয়াক্কা আওয়ামী লীগ যে দেখায় নি তা থেকেও বোঝার কথা যে সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলন তাদের কাছে কথার কথা মাত্র। আসল কথা ক্ষমতায় যাওয়া। এবং জনগণের জীবন-মান উন্নত করার কোন বিষয় কি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব ভাবে? না কি জনগণের দুদর্শা নিয়ে নিছক কথা চালাচালি করে তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সিড়ি হিসেবে তারা জনগণকে ব্যবহার করছে মাত্র? লেখাটির মূল উপজীব্য হিসেবে উপসংহারে এটিই এসেছে। যা আলোচনার দাবি রাখে।

    • মাসুদ করিম - ১৯ আগস্ট ২০০৮ (৩:২৯ পূর্বাহ্ণ)

      ক্ষুদিরাম,খুবই প্রাসঙ্গিক একটি নাম মনে করিয়ে দিয়েছেন।

      আমাদের বামপন্থী দলগুলোর ঐক্যই সবার আগে প্রয়োজন।14 দল মানে আওয়ামী লীগ এই আমরা দেখতে পাচ্ছি। আওয়ামী লীগ ছাড়া 14 দলের অন্য শরিকরা নিজেদের মধ্যে যত বেশি দৃঢ় ঐক্যের অবস্থান তৈরী করতে পারবেন ততই আওয়ামী লীগের সাম্প্রদায়িক ও স্বৈরাচারী মনোভাবকে একটু রাশ টেনে রাখা যাবে। কিন্তু তার জন্য দেশে একটি বড় বাম ঐক্য এবং সেসাথে বাম ঐক্যের একটি কার্যকর ওয়ার্কিং কমিটি দরকার। আমার ভাবনাটি অন্য জায়গায়,14 দল একটি সংসদ নির্বাচনী/নির্বাচনী জোট হয়ে পড়েছে,ফলে প্রার্থী হিসেবে কোথায় কে দাঁড়াবে সেটিই এখন মূল এজেন্ডা হয়ে গেছে জোটটির, এবং এটিই যদি এর একমাত্র পরিণতি হয়,এবং ফজলে হোসেন বাদশার ক্ষেত্রে যা হয়ে গেল রাজশাহীর মেয়র মনোনয়ন নিয়ে,এবং সংসদ ও উপজেলা নির্বাচনে তা যদি আরো বাড়ে,তাহলে প্রার্থীতা নির্ভর জোটের দ্বারা আদতেই কিছু হবে না, আর যদি তারা সংসদ নির্বাচন জিতে সরকার গঠন করে তাতেও কিছু হবে না, বরং তখন মন্ত্রীত্ব সমস্যা আরো প্রকট সমস্যার সৃষ্টি করবে। কিন্তু বামপন্থী দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, যদি এই ঐক্যের একটি বড় শক্তি হয় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি তাহলে এই ঐক্যকে ধরে বাম দলগুলো তাদের সাংগঠনিক শক্তি আরো বাড়াতে পারে বলেই আমার মনে হচ্ছে।

  4. mahtab - ১৮ আগস্ট ২০০৮ (৬:৫৭ অপরাহ্ণ)

    (লখাটা প(ড় ভা(লা লাগ(লা।

  5. Mosharrof - ২৪ আগস্ট ২০০৮ (৪:০২ অপরাহ্ণ)

    আপনার অসাম্প্রদায়িক অবস্থান ও বামপন্থী চিন্তা আপনার লেখায় স্পষ্ট। বাম আন্দোলনের বিভিন্ন ধারা বাংলাদেশে আছে। ’90 এর আন্দোলনের এক পর্যায়ে 5 দল নামে বামপন্থীদের একটা জোট গড়ে ওঠে যেটা পরে 8 টা দল নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট নামে কাজ করছিলো। জাসদ এ জোট থেকে বেরিয়ে আওয়ামী লীগের ঐক্যমতের সরকারে যোগ দেয়। পরে বাম ফ্রন্ট ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন ও দ্বি-দলীয় রাজনীতির বাইরে বিকল্প শক্তি হিসেবে 11 দল গঠন করে। ধারাবাহিক বিভিন্ন আন্দোলনে বামপন্থীদের ভূমিকা 14 দল গঠনের আগ পর্যন্ত ছিল। কিন্তু সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী আন্দোলনের কথা বলেই 11 দলের কয়েকটি দল আওয়ামী লীগের সাথে ঐক্য করে। বাস্তবে বাসদ(খালেকুজ্জামান), বাসদ(মাহবুব), শ্রমিক-কৃষক সমাজবাদী দল কখনোই 14 দলে যায় নাই। কমিউনিস্ট পার্টি প্রথম 14 দলীয় জোটে গেলেও পরে সে জোট থেকে বেরিয়ে আসে। ফলে 14 দলে বাস্তবে 14 দল নাই। এর বাইরেও যে দলগুলো 14 দলে আছে তাদের ঐক্যের প্রশ্নে কোন কোন দলে বিভক্তি পর্যন্ত ঘটে। এ বিষয়ে বিশেষভাবে বাসদ স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছিল। জানি না এটা কে নীতিবাগিষতা হিসেবে লেখক দেখছেন কি না?
    প্রাসঙ্গিকভাবে বাম রাজনীতির বতর্মান ধারাসমূহ আমাদের জানা থাকা দরকার। বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী গণতান্ত্রিক ঐক্য – এ তিনটি ধারা 14 দলের ঐক্যকে অসাম্প্রদায়িকতা বিরোধী আন্দোলনের ঐক্য নয় বরং লেখকের মতোই নির্বাচনী জোট হিসেবেই মনে করেন। কিন্তু বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টে অন্তর্ভুক্ত দলগুলোর কোন কোনটি এ বিষয়ে দ্বি-মত পোষণ করেন।
    ফলে বামপন্থী দলগুলোর বিভিন্ন ধারার মধ্যে সঠিক ধারাকে বুঝতে হলে নীতির বিচারেই তা বুঝতে হবে। আর কমিউনিস্ট পার্টি বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টে থেকে কীভাবে এ আন্দোলন পরিচালনা করতে চান তা স্পষ্ট হচ্ছে না, কারণ সেখানে কয়েকটি দল 14 দলভুক্ত হলেও কমিউনিস্ট পার্টি সে জোটে নেই, আবার নতুন কোন জোটেও কমিউনিস্ট পার্টি যুক্ত হয় নি।
    সবশেষে বলতে চাই, শুদ্ধাচারী হওয়া বা না হওয়া এ নিয়ে যারা বাম রাজনীতিকে কটাক্ষ করেন তাদের বলা দরকার কোন নীতির ভিত্তিতে বাম রাজনীতি এগুনো দরকার। সেখানে সব দল সঠিক নীতি নিয়ে চলছে না এমন নয়। তাই বাম নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিকে চিনে তাকে এগিয়ে নেয়াই শ্রেয়।

  6. মাসুদ করিম - ২৭ মার্চ ২০০৯ (৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ)

    ভারতে ১৬ মে ২০০৯-এ পঞ্চদশ লোকসভার ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পর এবার প্রথম ভারতীয় সমাজতান্ত্রিক সরকার তৃতীয় ফ্রন্ট আত্মপ্রকাশ করবে। পুরো ব্যাপারটি বাস্তবে কেমন হবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না। কিন্তু তখন সবচেয়ে আলোচিত নামটি হবে নিঃসন্দেহে হরকিষেণ সিং সুরিজৎ। ১৯৮৯ সালের বিশ্বনাথপ্রতাপ সিং-এর সরকারের কারিগর, ১৯৯৬ সালের দেবগৌড়া সরকারের রসায়নবিদ হরকিষেণ সিং সুরিজতের প্রদর্শিত পথেই ভারত অপেক্ষা করছে তার প্রথম সমাজতান্ত্রিক সরকারের—অবশ্যই তা হবে একান্তই ভারতীয় সমাজতান্ত্রিক মডেল, অত্যন্ত নির্ভরশীল হবে সেই সরকার রাজ্য দলগুলোর রাজনৈতিক শক্তির ওপর। আগের ৮৯/৯৬-এর সরকার দুটোর মতো ক্ষণস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা এই নতুন সরকারের থাকবে না বলেই মনে হচ্ছে। বরং হরকিষেণ সিং সুরিজতের শেষ কীর্তি ২০০৪ সালের কংগ্রেস(ইউপিএ)-বামফ্রন্ট সরকারের মতোই স্থিতিশীলই হবে ভারতীয় মডেলের প্রথম সমাজতান্ত্রিক সরকার তৃতীয় ফ্রন্ট

  7. মাসুদ করিম - ২১ জুলাই ২০০৯ (৭:৫১ অপরাহ্ণ)

    সুরজিৎ-কে নিয়ে আউটলুক ইন্ডিয়া থেকে কিছু লিন্ক:
    The Marxist kingmaker
    Old Man And The sickle
    Seven And A Half Decades
    Harkishan Singh Surjeet (1916-2008)

  8. মাসুদ করিম - ৫ আগস্ট ২০০৯ (৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ)

    হরকিষাণ সিং সুরজিতের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে তার গ্রাম পাঞ্জাবের বান্দালায় শ্রদ্ধা জানালেন অগণিত মানুষ।

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.