সুপারিশকৃত লিন্ক: জুলাই ২০২৪

মুক্তাঙ্গন-এ উপরোক্ত শিরোনামের নিয়মিত এই সিরিজটিতে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিন্কের তালিকা। কী ধরণের বিষয়বস্তুর উপর লিন্ক সুপারিশ করা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, মানদণ্ড বা সময়কাল নেই। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই তাঁরা মন্তব্য আকারে উল্লেখ করতে পারেন এখানে। ধন্যবাদ।

আজকের লিন্ক

এখানে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিন্কের তালিকা। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই সুপারিশ করুন এখানে। ধন্যবাদ।

১৮ comments

  1. মাসুদ করিম - ৬ জুলাই ২০২৪ (৩:৪১ পূর্বাহ্ণ)

    দাবার আসরেই চিরবিদায় নিলেন গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়া
    https://bangla.bdnews24.com/sport/d79ce70db7fc

    জাতীয় দাবার খেলা চলাকালেই লুটিয়ে পড়েন জিয়াউর রহমান; এই গ্র্যান্ডমাস্টারকে দ্রুত হাসপাতালে নিলেও ফেরানো যায়নি।

    খেলা চলছিল দুই গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়াউর রহমান ও এনামুল হোসেন রাজীবের মধ্যে। এর মধ্যেই হঠাৎ লুটিয়ে পড়লেন জিয়া। দ্রুত হাসপাতালে নিলেও ফেরানো যায়নি তাকে।

    গ্র্যান্ডমাস্টার জিয়ার মৃত্যুর বিষয়টি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে নিশ্চিত করেছেন ইন্টারন্যাশনাল আরবিটার হারুনুর রশীদ।

    “জিয়া অসুস্থ হওয়ার ১০ মিনিটের মধ্যেই আমরা ওকে নিয়ে ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে এনেছিলাম। কিন্তু ওকে ফেরানো গেল না।”

    জাতীয় দাবা প্রতিযোগিতায় শুক্রবার দ্বাদশ রাউন্ডে রাজীবের বিপক্ষে খেলছিলেন জিয়া। ম্যাচটি শুরু হয়েছিল বেলা তিনটায়। ম্যাচ চলাকালেই ছয়টার দিকে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

    ১৯৭৪ সালের ১ মে জন্ম নেওয়া জিয়ার দাবার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে ওঠে ছোটবেলায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নৃ-বিজ্ঞানে পড়াশোনা করা জিয়া ক্যারিয়ার হিসেবে বেছে নেন দাবাকেই।

    ১৯৮৭ সালে আন্তর্জাতিক রেটিং লাভ করা জিয়া ১৯৯০ সালে ফিদেমাস্টার, ১৯৯৩ সালে আন্তর্জাতিক মাস্টার ও ২০০২ সালে গ্র্যান্ডমাস্টার হন।

  2. মাসুদ করিম - ৬ জুলাই ২০২৪ (৪:০৮ পূর্বাহ্ণ)

    ইতিহাস কখনও সখনও প্রেমপত্রর চেয়েও প্রখর, বুঝিয়েছিলেন পি টি নায়ার
    https://robbar.in/recent-affairs/an-obituary-of-p-thankappan-nair-by-partha-dutta/

    পরমেশ্বরন থনকাপ্পান নায়ার। জনপ্রিয় ছিলেন ‘পি টি নায়ার’ নামেই। ছয়ের দশকে এই কলকাতায় এসে কীভাবে যেন জুড়ে গিয়েছিলেন এই মালায়লি– আরেকরকম কলকাতার সঙ্গে। সে-কলকাতা শুধু তাঁর বর্তমানের কলকাতা নয়, ইতিহাসের কলকাতা। তিনি হেঁটে বেরিয়েছেন কলকাতার রাস্তায়, খুঁজে বেরিয়েছেন কাগজ, বই-পত্রিকা, ছবি। যা দিয়ে এই দুম করে ভালোবেসে ফেলা কলকাতাকে আরও চেনা যায়। ভালোবাসলে যে অতীত থেকে ভালোবাসতে হয়, শিকড় থেকে, আরও একবার প্রমাণ করেছিলেন নায়ার। তিনি খুঁজে গিয়েছেন সারাজীবন, সেই কলকাতাকে। কীরকম ছিল কলকাতা শরীর ও মনের আঙ্গিক, তা ছানবিন করেছেন। দেখতে চেয়েছেন পুরনো রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকান, মানুষ– যারা হারিয়ে গিয়েছে, কিংবা এখনও দু’-একটা চিহ্ন দেখে, যা সম্পর্কে একটা আন্দাজ তৈরি হবে।

    পি টি নায়ারের কাছেই শুনেছিলাম, তিনি কলকাতায় এসেছিলেন একজন টাইপিস্ট হয়ে। খুচরো কাজ করতেন নানা প্রেসে। পরে অ্যানথ্রোপলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াতে ছিলেন। সে চাকরিও ছেড়ে দেন একদিন। তারপর? রোজগারহীন একটা লোক, কলকাতার রাস্তার হেঁটে বেড়াচ্ছিল! কীভাবে দিন গিয়েছে তাঁর, আমরা জানি না। কলকাতার হাওয়া-বাতাস হয়তো তাঁকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল, কখনওই কলকাতাকে খুঁজতে চাওয়ার ইচ্ছে হারিয়ে যায়নি তাঁর। যখন ওঁকে পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম, নায়ার বলেছিলেন, ওঁর স্ত্রী ও ছেলেরা কেরলে থাকে। স্ত্রী ইশকুলে পড়ান। ফলে ওঁদের চলে যায় ঠিক।

    পরমেশ্বরন থনকাপ্পান নায়ার। জনপ্রিয় ছিলেন ‘পি টি নায়ার’ নামেই। ছয়ের দশকে এই কলকাতায় এসে কীভাবে যেন জুড়ে গিয়েছিলেন এই মালায়লি– আরেকরকম কলকাতার সঙ্গে। সে-কলকাতা শুধু তাঁর বর্তমানের কলকাতা নয়, ইতিহাসের কলকাতা। তিনি হেঁটে বেরিয়েছেন কলকাতার রাস্তায়, খুঁজে বেরিয়েছেন কাগজ, বই-পত্রিকা, ছবি। যা দিয়ে এই দুম করে ভালোবেসে ফেলা কলকাতাকে আরও চেনা যায়। ভালোবাসলে যে অতীত থেকে ভালোবাসতে হয়, শিকড় থেকে, আরও একবার প্রমাণ করেছিলেন নায়ার। তিনি খুঁজে গিয়েছেন সারাজীবন, সেই কলকাতাকে। কীরকম ছিল কলকাতা শরীর ও মনের আঙ্গিক, তা ছানবিন করেছেন। দেখতে চেয়েছেন পুরনো রাস্তাঘাট, বাড়িঘর, দোকান, মানুষ– যারা হারিয়ে গিয়েছে, কিংবা এখনও দু’-একটা চিহ্ন দেখে, যা সম্পর্কে একটা আন্দাজ তৈরি হবে।

    পি টি নায়ারের কাছেই শুনেছিলাম, তিনি কলকাতায় এসেছিলেন একজন টাইপিস্ট হয়ে। খুচরো কাজ করতেন নানা প্রেসে। পরে অ্যানথ্রোপলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াতে ছিলেন। সে চাকরিও ছেড়ে দেন একদিন। তারপর? রোজগারহীন একটা লোক, কলকাতার রাস্তার হেঁটে বেড়াচ্ছিল! কীভাবে দিন গিয়েছে তাঁর, আমরা জানি না। কলকাতার হাওয়া-বাতাস হয়তো তাঁকে বাড়তি অক্সিজেন জুগিয়েছিল, কখনওই কলকাতাকে খুঁজতে চাওয়ার ইচ্ছে হারিয়ে যায়নি তাঁর। যখন ওঁকে পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করেছিলাম, নায়ার বলেছিলেন, ওঁর স্ত্রী ও ছেলেরা কেরলে থাকে। স্ত্রী ইশকুলে পড়ান। ফলে ওঁদের চলে যায় ঠিক।

    পি টি নায়ারের বইগুলো বিচিত্র বিষয়ের। ‘আ হিস্ট্রি অফ ক্যালকাটা স্ট্রিটস’ (১৯৮৭), ‘ম্যারেজ অ্যান্ড ডাউরি ইন ইন্ডিয়া’ (১৯৭৮), ‘অরিজিন অফ দ্য কলকাতা পুলিশ’ (২০০৭)-এর পাশাপাশি ‘দ্য ম্যাঙ্গো ইন ইন্ডিয়ান লাইফ অ্যান্ড কালচার’ (১৯৯৬)– এছাড়াও বহু। যদিও প্রথমবার পি টি নায়ার একজন ‘কলকাত্তাইয়া’ ইতিহাসবিদ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিলেন ‘ক্যালকাটা ইন দ্য এইটটিনথ সেঞ্চুরি’ (১৯৮৪) এবং ‘ক্যালকাটা ইন দ্য সেভেনটিনথ সেঞ্চুরি’ (১৯৮৬)– এই দু’টি বইয়ের সূত্র ধরে। এই বই দু’টি স্পষ্ট করে দেয় পি টি নায়ারের আবির্ভাব, জানিয়ে দেয় কলকাতাকে এক মালায়লি ভদ্রলোক কিছু কম জানেন না, বরং অনেক অনেক বাঙালির চেয়ে ঢের বেশিই জানেন।

    শুধুই পুরনো রেকর্ড থেকে কলকাতার ইতিহাসের তল্লাশি চালাননি পি টি নায়ার, তিনি সতেরো-আঠারো শতকের ভ্রমণবৃত্তান্ত, ব্যক্তিগত স্মৃতিকথা, পুরনো বইপত্র যা অনেককাল রিপ্রিন্ট হয়নি– সেসবের ওপর ভরসা করেছিলেন। পরের দিকে উনিশ শতকের কলকাতা নিয়ে কাজটাও অসম্ভব নিষ্ঠা নিয়ে করেন। ফলে এই বইগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হয়ে ওঠে কলকাতা জানার জন্য অত্যন্ত জরুরি বই।

    পি টি নায়ারের ‘অ্যা হিস্ট্রি অফ ক্যালকাটা স্ট্রিটস’ (১৯৮৭) আসলে রাস্তা ধরে ধরে কলকাতাকে চেনার কৌশল। রাস্তার নাম কীভাবে এল, কবে তৈরি হল এবং নামগুলো বদলাল কী করে। এই যে কলকাতার রাস্তার নামবদল, এইটা খুঁজতে শুরু করলেই একরকমভাবে কলকাতার ইতিহাসকে পাওয়া যায়, বুঝেছিলেন পি টি নায়ার। ‘কলুটোলা’ যেমন সহজ হিসেবে– যে জায়গার কলুরা থাকতেন, সেখান থেকে এই নাম এসেছে। কিন্তু অনেক সময়ই কম জানা, কম পরিচিত মানুষের নামেও রাস্তা হয়েছে। তাঁরা কারা, দেখিয়েছিলেন নায়ার। রাস্তাঘাট নিয়ে কাজ যে এর আগে হয়নি, তা কিন্তু নয়। কিন্তু পি টি নায়ারের রাস্তাটা ছিল মৌলিক, তাঁর মতোই। মজার ব্যাপার, অনেক দিন এই বই খুঁজেও না পেয়ে নায়ারকে গিয়ে আমি যখন জিজ্ঞেস করি, বইখানা তো পাওয়া যাচ্ছে না! তখন তিনি বলেছিলেন, কলকাতার পুলিশ কমিশনার বইটা রিপ্রিন্ট করতে চেয়েছেন। পরে কলকাতা পুলিশের তরফ থেকেই এই বই প্রকাশিত হয়।

    কলকাতার যখন ৩০০ বছরের জন্মদিন পালন হচ্ছিল, তখন দুরন্ত একটি বই প্রকাশ করেন নায়ার। ‘ক্যালকাটা: টারসেন্টেনারি বিবলিওগ্রাফি’, প্রকাশক এশিয়াটিক সোসাইটি। সারাজীবন যতরকমভাবে কলকাতাকে তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, তার একটা জমায়েত ঘটিয়েছিলেন এই বইয়ে। ধরা যাক, কেউ কলকাতার ট্রাম নিয়ে কাজ করতে চাইছেন। এই বইতে ট্রামের অংশটি যদি সেই কলকাতা-উৎসাহী দেখেন, দেখা যাবে ট্রাম-সংক্রান্ত ৫০টি প্রবন্ধ সেখানে রয়েছে। উনিশ-বিশ শতকের নানা দুষ্প্রাপ্য সাময়িকপত্র থেকে সেগুলো জোগাড় করা একক দক্ষতা ও পরিশ্রমে। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, পি টি নায়ারের শ্রেষ্ঠতম কাজ এটি।

    ১৯৮৪ সালের আশপাশে এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গে পি টি নায়ার এক চমৎকার কাজ করেন। এশিয়াটিক সোসাইটির ২০০ বছর উপলক্ষে এই কাজ। সেজন্যই ফেলোশিপ, যার কথা বলেছি প্রথমেই। এশিয়াটিক সোসাইটির যে প্রসিডিংস, একেবারে পুরনো আমলের, সেগুলো তিনি নতুন করে প্রকাশ করলেন। আঠেরো-উনিশ শতকের সেসব কাগজপত্র, নথি, রেকর্ড– অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ছেপেছিলেন নতুন করে। প্রাতিষ্ঠানিক কাজ হলেও তা অত্যন্ত জরুরি যে কোনও ইতিহাসবিদের কাছেই। নায়ার আমাকে বলেছিলেন, ‘এই কাজ যদি পুনঃপ্রকাশিত না হত, তাহলে সেই ইতিহাস চিরতরে হারিয়ে যেত।’

    এসবের পরেও, বিদ্যায়তনিক ইতিহাসচর্চাকারী ও পি টি নায়ারের মধ্যে কিন্তু চিরকালই একটু দূরত্ব থেকে গিয়েছে। বেশিরভাগ ইতিহাসবিদরাই মনে করেছেন, নায়ার শুধুই তথ্য জোগাড় করেন। কিন্তু ইতিহাস লেখা তো আলাদা একটা শিল্প। তার জন্য জরুরি ইতিহাস ও সমাজবিদ্যার তত্ত্ব। কিন্তু সেসব পি টি নায়ারের ইতিহাস বইতে ছিল না। ফলত, কলকাতা নিয়ে যেসব ইতিহাসবিদরা কাজ করতেন, তাঁরা অনেকেই খুব একটা সম্ভ্রমের চোখে দেখতেন না নায়ারকে। তাঁকে সংগ্রাহকের ভূমিকায় দেখতেন, ইতিহাসবিদের ভূমিকায় না।

    এর বাইরেও অবশ্য আরেকটা ব্যাপার ছিল, তা হল যে-সমস্ত বাঙালি কলকাতার ইতিহাস নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের যুক্তি ছিল কলকাতা নিয়ে কাজ করলেও পি টি নায়ার কোনও বাংলা সোর্স দেখতেন না। যদিও নায়ার দিব্যি বাংলা বলতে পারতেন! নায়ারকে এ ব্যাপারে যখন জিজ্ঞেস করেছিলাম, তিনি বলেছিলেন, ‘বাঙালিরা বাংলায় ইতিহাসচর্চা করুক, কিন্তু আমার মনে হয় ইংরেজিতে প্রচুর সোর্স রয়ে গিয়েছে যা এখনও অনেকেই দেখেননি, জানেননি। আমি সে কাজটাই করতে চাই।’ কিন্তু কাজের সূত্রে প্রত্যেকেই নায়ারকে ব্যবহার করেছেন, কিন্তু ইতিহাসবিদ হিসেবে তেমন গুরুত্ব দিয়ে দেখেননি অনেকেই।

    নায়ারের ইতিহাস লেখার যে পথ, তা ছিল ইংরেজদের গেজেট অনুসারী। তথ্য, টিকা, পরিসংখ্যান, প্রবন্ধ, ছবি– এইসব নিয়ে অত্যন্ত পরিপাটিভাবে একটা ইতিহাস গড়ে তোলা। যার স্টাইলটা একেবারেই দেশি ঘরনার নয়। স্ট্রেনডেল, বেভারলির মতো ইংরেজ সাহেবদের ইতিহাসের মতো, যাঁরা প্রচুর ইংরেজি রেকর্ডস ব্যবহার করেছেন। মনে পড়ছে, সি আর উইলসনও এই পথেই হেঁটেছিলেন– সিরাজদৌল্লাকে নিয়ে বিশ শতকের শুরুতে তাঁর বইগুলো বেরয়। কটন সাহেবের কলকাতার ওপর যে গাইডবুক ‘কলকাতা ওল্ড অ্যান্ড নিউ’, যে বই এখনও জনপ্রিয় কলকাতা চিনতে গেলে, সেই ঘরানারই ছিলেন নায়ার। এক বাঙালি– এ. কে. রায়ের ১৯০১-এর সেনসাস রিপোর্ট। ইংরেজি রেকর্ড দেখে এবং সেই অঞ্চলে গিয়ে অতীতকে পাকড়াও করেছিলেন তিনি। তাঁর বই ‘সেনসাস অফ ক্যালকাটা: টাউন অ্যান্ড সাবারস’। অমল হোম প্রকাশ করতেন ‘ক্যালকাটা মিউনিসিপাল গেজেট’, তাঁকে খুবই পছন্দ করতেন নায়ার। জন ব্যারি নামক এক ভদ্রলোকের ইতিহাসচর্চার ব্যাপারেও কথা বলতেন নায়ার। ১৯৪০ সালে তিনিও কলকাতার গাইডবুক বের করে। নামে ইংরেজ, কিন্তু এই সাহেব ছিলেন কলকাতারই। তাঁর বই ‘ক্যালকাটা: নাইন্টিন ফরটি’ প্রকাশিত হয়েছিল সেন্ট্রাল প্রেস থেকে, ১৯৪৩ সালে। এই যে ইতিহাস লেখার ঘরানা, তা-ই আয়ত্ত করেছিলেন পি টি নায়ার। এই শহরের অতীত-পথিক।

    অনেক ইতিহাসবিদের অভিযোগ: নায়ার স্টেট আর্কাইভে যেতেন না। আমাকে নায়ার বলেছিলেন, ‘আর্কাইভ খুব জরুরি, কিন্তু উনিশ-বিশ শতকের কলকাতার ইতিহাসের যে পত্রপত্রিকাগুলো, সেগুলো দেখাও তো জরুরি। আর্কাইভে সমস্ত কিছু নেই।’ একটা সময় বিদেশ থেকে বেরনো পত্রিকাতেও কলকাতার ওপর অহরহ প্রবন্ধ প্রকাশ পেত। যেমন, ‘লন্ডন ইলাস্ট্রেটেড’। সেসব পত্রিকায় কলকাতার বাড়িঘর, গাড়ি, রাস্তাঘাট, খাওয়াদাওয়া, নানা ক্যাটালগ– এই সমস্ত কিছুই অত্যন্ত ধৈর্য সহকারে দেখতেন নায়ার। বলতেন, ‘মানুষ ওপর ওপর দেখে। মন দিয়ে দেখে না।’ কলকাতার ন্যাশনাল লাইব্রেরির জার্নাল সেকশনে সারাটা দিন বসে থাকতেন তিনি। সকাল ৯টায় চলে যেতেন। রাত সাড়ে ৭টা, ৮টা পর্যন্ত হাতেই লিখতেন নানা বই-পত্রিকা থেকে। প্রবন্ধ, তথ্য সবকিছুই। তিনি যখন কাজ শুরু করেছেন তখনও ফোটোকপি আসেনি। ফলে আর কোনও উপায়ও ছিল না।

    ১৯৯০ সালের আশপাশ হবে। কাসারিপাড়ার ৮২/সি-তে থাকতেন নায়ার। গলির মধ্যে একটু হেঁটে ওঁর বাড়ি। দুটো ঘর। গ্রাউন্ড ফ্লোর। ছোট বেঞ্চ, ছোট্ট টেবিল। মেঝেতে বই। আরেকটা ঘর– সেখানে ভাগ্যিস আমি ঢুকতে পেরেছিলাম, কাজের সূত্রেই– তা ছিল সত্যিই এক বইয়ের গুদাম! পত্রিকা, বই, খুচরো কাগজ ডাঁই করে রাখা। কলকাতার নানা পুরনো বইয়ের মার্কেট থেকে নানা সময় জোগাড় করা। কলকাতার আর্বান প্ল্যানিং নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে অনেক কিছুই খুঁজে পাচ্ছিলাম না আমি। নায়ার আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি আমার বইপত্র ব্যবহার করতেই পারো, কিন্তু আমি তো সকাল ৯টার মধ্যেই ন্যাশনাল লাইব্রেরি চলে যাই। আর সন্ধেবেলা আমার এনার্জি থাকে না। তুমি যদি কাজ করতে চাও, তাহলে ভোরবেলায় এসো।’

    আমি থাকতাম ন্যাশনাল লাইব্রেরির হোস্টেলে। সেখান থেকে হেঁটে রোজ সকাল ৬টা থেকে ৮টা নায়ারের বাড়ি যেতাম। সন্ধেবেলায় মাঝে মাঝে যে যেতাম না, তা নয়। তিনি তখনও আমাকে সাহায্য করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি। সেই কাজে কয়েকটি পত্রপত্রিকার খোঁজ করে নানা সময় বিফল মনোরথ হয়েছি, জেনেছি যে সে পত্রিকা লন্ডনে রয়েছে, আর কোনও উপায় নেই সেখান থেকে আনানো ছাড়া– আমাকে বাঁচিয়ে দিয়েছিলেন পি টি নায়ার। কিন্তু মজার ব্যাপার, তা তখন আর হাতের লেখা নোট নেই। নায়ার তো কলকাতায় এসেছিলেন টাইপিস্ট হিসেবে, তিনি তাঁর হাতে লেখা সমস্ত নোট টাইপ করে যত্ন করে গুছিয়ে রেখেছিলেন নানা ফাইলে। একটা কোনও প্রবন্ধ নয় কিন্তু, বহু বহু প্রবন্ধ।

    আমার গবেষণা যখন শেষ করলাম, বই হিসেবে বেরল তা, তখন ওঁর বয়স সত্তরের শেষদিকে। একলাই থাকতেন। একদিন বললেন, ‘এবার অবসর নিয়ে কেরল চলে যাব।’ এ খবরে চারপাশে উদ্বেগ ছড়াল– নায়ারের এই বিপুল সংগ্রহের তাহলে কী হবে! আমি খবর পেয়েছিলাম, বিদেশিরা, যারা সত্যিই সংগ্রহের জন্য প্রচুর টাকা দিতে প্রস্তুত, তারা ওত পেতে বসেছিল। শিকাগো, জাপানের বড় লাইব্রেরিগুলো খোঁজ নিয়েছিল এবং বেশ ভালোরকম টাকা দিতে রাজিও ছিল। দিল্লির প্রফেসর পার্থসারথি গুপ্ত নায়ারের এই খবরটা পেয়েই দিল্লি থেকে একটা চিঠি লেখেন মুখ্যমন্ত্রীকে। তখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। চিঠিতে ছিল এই সংগ্রহ বাঁচানোর কথা। এই চিঠির সূত্রেই সরকারের তরফ থেকে পি টি নায়ারের সংগ্রহ ১০ লাখ টাকায় কিনে নেওয়া হয়। ফলে, সংগ্রহটা বেঁচে রইল এই কলকাতাতেই। পি টি নায়ার অবশ্যই জানতেন, বিদেশ থেকে এই সংগ্রহ কিনলে অনেক বেশি টাকা তিনি পেতে পারতেন, শেষ জীবনটা হয়তো অনেক সুখশান্তির হত, কিন্তু তিনি বেজায় খুশি ছিলেন এই ভেবে যে, তাঁর সারাজীবনের কলকাতা সংগ্রহ যে এই কলকাতায় থেকে গেল টাউন হলের লাইব্রেরিতে।

    ভালোবাসার জন্য এই আত্মত্যাগ, পি টি নায়ার শেষ জীবন পর্যন্ত বহন করলেন। এক মালায়লি যুবক, কলকাতা যাঁর চিরকালীন প্রেম হয়ে থেকে গেল। সেই প্রেম পি টি নায়ারের মৃত্যুতেও ফুরোল না। কলকাতা থাকল, থাকল পি টি নায়ারের বইগুলো। ইতিহাস কখনও সখনও প্রেমপত্রর চেয়েও প্রখর।

  3. মাসুদ করিম - ৬ জুলাই ২০২৪ (৬:১৫ অপরাহ্ণ)

    50,000-year-old picture of a pig is the oldest known narrative art
    https://www.newscientist.com/article/2438291-50000-year-old-picture-of-a-pig-is-the-oldest-known-narrative-art/
    A new radiometric dating technique reveals that cave paintings on Sulawesi, Indonesia, are even older than previously thought, pushing back the earliest evidence of storytelling

    A painting of a pig with human-like figures in an Indonesian cave is at least 51,200 years old, making it the earliest known example of representational art in the world.

    “We like to define ourselves as a species that tells stories, and this is the oldest evidence of that,” says Maxime Aubert at Griffith University in Gold Coast, Australia.

    The pig artwork was discovered in 2017 on the ceiling of the limestone cave of Leang Karampuang on the island of Sulawesi.

    In 2019, Aubert and his colleagues dated a hunting scene from a nearby cave named Leang Bulu’ Sipong 4 to a minimum of 43,900 years old.

    Now, they have used a new, more accurate technique to estimate the ages of both artworks. They found that the image at Leang Bulu’ Sipong 4 is actually more than 4000 years older than previously thought – and the Leang Karampuang art is even older.

    https://x.com/newscientist/status/1809599880601427982

  4. মাসুদ করিম - ১৬ জুলাই ২০২৪ (১০:৪৪ পূর্বাহ্ণ)

    লারা-টেন্ডুলকারের চেয়েও ‘বেশি প্রতিভাবান’ ছিলেন যে ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার
    https://bangla.bdnews24.com/cricket/03e4a796ba2f
    স্বয়ং ব্রায়ান লারার মন্তব্য, “টেন্ডুলকার ও আমি নিজেও তার প্রতিভার ধারেকাছে নই।”

    এক প্রজন্মের সেরা দুই ব্যাটসম্যান সাচিন টেন্ডুলকার ও ব্রায়ান লারা। ক্রিকেট ইতিহাসেরই সেরাদের ছোট্ট তালিকায় রাখতে হবে তাদেরকে। অসংখ্য রেকর্ড আর অর্জনে সমৃদ্ধ তাদের ক্যারিয়ার। তবে তাদের চেয়েও প্রতিভাবান ক্রিকেটার ছিলেন আরেকজন। নাম তার কার্ল হুপার।

    চমকে উঠছেন নিশ্চয়ই! দারুণ স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান ছিলেন হুপার। একটা অলস সৌন্দর্য ছিল তার ব্যাটিংয়ে। তাই বলে লারা-টেন্ডুলকারের চেয়েও প্রতিভাবান! ওই সময়ে তো প্রজন্মের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সেভাবে উচ্চারিত হয়নি তার নাম। টেন্ডুলকার ও লারার তুলনায় সাবেক এই অলরাউন্ডারের রেকর্ডও বেশ সাদামাটা। কাজেই তাকে বেশি প্রতিভাবান বলাটা বিস্ময়করই। কিন্তু যদি বলা হয়, লারার নিজেরই মন্তব্য এটি!

    প্রকাশের অপেক্ষায় থাকা বই ‘লারা: দা ইংল্যান্ড ক্রনিকলস’-এ এমনটিই লিখেছেন লারা, “আমার দেখা সবচেয়ে সেরা ক্রিকেটারদের একজন অনায়াসেই কার্ল (হুপার)। আমি তো বলব, এমনকি টেন্ডুলকার ও আমি নিজেও তার প্রতিভার ধারেকাছে ছিলাম না।”

    ১৯৮৭ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১০২ টেস্ট ও ২২৭ ওয়ানডে খেলেছেন হুপার। টেস্টে ১৩ সেঞ্চুরিতে তার রান ৫ হাজার ৭৬২। ব্যাটিং গড় ৩৬.৪৬। ওয়ানডেতে ৭ সেঞ্চুরি ও ৩৫.৩৪ গড়ে রান ৫ হাজার ৭৬১। অফ স্পিনে উইকেট শিকার করেছেন টেস্টে ১১৪টি, ওয়ানডেতে ১৯৩টি। ফিল্ডার হিসেবেও তিনি ছিলেন দারুণ, বিশেষ করে স্লিপে। টেস্টে ১১৫ ক্যাচ নিয়েছেন, ওয়ানডেতে ১২০টি।

    হুপার যে তার প্রতিভার প্রতি সুবিচার করেননি, সেটিও বলছেন লারা। তার মতে, অধিনায়কত্বের ভারই কেবল হুপারের সেরাটা বের করে আনতে পেরেছে।

    “অধিনায়ক হিসেবে তার ক্যারিয়ারের সঙ্গে খেলোয়াড় হিসেবে তার ক্যারিয়ার আলাদা করুন। সংখ্যাগুলোর পার্থক্য বোঝা যাবে। অধিনায়ক হিসেবে তার গড় পঞ্চাশের কাছে, কারণ তিনি দায়িত্ব উপভোগ করতেন। এটা দুঃখজনক যে, কেবল অধিনায়ক হিসেবেই তিনি নিজের সম্ভাবনাকে পূর্ণতা দিতে পেরেছেন।”

    অধিনায়ক হিসেবে ২২ টেস্টে হুপারের ব্যাটিং গড় ৪৫.৯৭। বাকি ৮০ টেস্টে গড় ৩৩.৭৬।

    ১৯৯১ সালের লর্ডস টেস্টের উদাহরণ দিলেন লারা। সেই টেস্টে দারুণ এক সেঞ্চুরি করেছিলেন হুপার। লারা জানালেন, দলের অভিজ্ঞ ও গ্রেট ক্রিকেটাররাও মুগ্ধতাভরে সেই সময়ের তরুণ ব্যাটসম্যানের খেলা দেখতেন।

    “সেই লর্ডস টেস্টে যখন ফিরে তাকাই, হুপারের জাত আরও একবার বুঝতে পারি। কী দারুণ ক্রিকেটার! যতটা অনায়াসে তিনি ব্যাট করছিলেন, আমাদের চোয়াল ঝুলে গিয়েছিল। এমনকি সিনিয়র ক্রিকেটাররাও মুগ্ধ হয়েছিলেন। কার্ল ব্যাট করতে গেলে, তারা উপভোগ করতেন… ডেসমন্ড হেইন্স, ভিভ রিচার্ডস, গর্ডন গ্রিনিজ, তারা সবাই নিজের কাজ থামিয়ে কার্লের ব্যাটিং দেখতেন।”

    “এত প্রতিভাবান ছিলেন তিনি, তবু নিজেও বুঝতে পারেননি, আসলে তিনি কতটা ভালো। লোকে জিজ্ঞেস করতে পারে, এত প্রতিভাবান হয়েও তিনি নিজের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি কেন। আসলে পরিষ্কার কারণ বলা কঠিন।”

    ভিভ রিচার্ডসের কাছ থেকে রূঢ় আচরণ পাওয়ার কথাও এই প্রসঙ্গে জানালেন লারা। তরুণদের মানসিকতা আরও পোক্ত করতে এবং তাদের ভালোর জন্যই কিংবদন্তি এই ব্যাটসম্যান কঠিন সব কথা শোনাতেন। টেস্টে ৪০০ রানের ইনিংস খেলা একমাত্র ব্যাটসম্যান লারা জানালেন, রিচার্ডসের কাছ থেকে দূরে থাকতে চাইতেন হুপার।

    “প্রতি তিন সপ্তাহে একবার করে আমাক কাঁদিয়ে ছাড়তেন ভিভ। কার্লের ক্ষেত্রে সেটা ছিল প্রতি সপ্তাহে একবার। ভিভের কণ্ঠই এমন ভীতি জাগানিয়া যে, মানসিকভাবে যথেষ্ট শক্ত না হলে মনে আঘাত লাগতে পারে এবং পারফরম্যান্সে সেটির প্রভাব পড়ে।”

    “আমার ওপর এটার প্রভাব তেমন পড়েনি। আমার বরং এটা ভালোই লাগত। আমি প্রস্তুতই থাকতাম যে কটূ কথা শুনতে হবে এবং ব্যাক্তিগতভাবে শক্ত ছিলাম খুব। কিন্তু কার্ল? এটা সত্যি যে, কার্ল চেষ্টা করত ভিভের কাছ থেকে পালিয়ে বাঁচতে।”

  5. মাসুদ করিম - ২৪ জুলাই ২০২৪ (১:৫৭ অপরাহ্ণ)

    ছয় দিনে যা ঘটলো
    https://www.banglatribune.com/national/855501/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A6%BE-%E0%A6%98%E0%A6%9F%E0%A6%B2%E0%A7%8B

    গত ১৮ জুলাই রাত থেকে ২৩ জুলাই দিনগত রাত পর্যন্ত টানা পাঁচ দিন সারা দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল। এখনও ইন্টারনেট সংযোগ আসেনি সব জায়গায়। এই পরিস্থিতিতে সংবাদ প্রচার বিঘ্নিত হয় ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদ মাধ্যমগুলোতে, যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাংলা ট্রিবিউনও। এই পরিস্থিতিতে গত কয়েক দিনের প্রধান ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরা হলো–

    ১৮ জুলাই

    কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদের কমপ্লিট শাটডাউন শুরু হয় এদিন। এর আগে ১৭ জুলাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় তারা। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। অবরোধকারীদের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশ প্রায় অচল ছিল।

    মহাখালীতে সেতু ভবন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ভবন, দুর্যোগ ভবনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় আগুন দেওয়া হয়। শতাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। দুই দফা আগুন দেওয়া হয় রাষ্ট্রীয় প্রচার মাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশনে। এর জেরে অন্তত ১২ ঘণ্টা বিটিভির সম্প্রচার বন্ধ ছিল।

    ইন্টারনেট সেবা বন্ধ: এদিন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করা হয়। এর আগের দিন বুধবার (১৭ জুলাই) বন্ধ করা হয় দ্রুতগতির ফোরজি ইন্টারনেট সেবা। অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সহিংসতায় সরকারের ডাটা সেন্টার পুড়ে যাওয়ার কারণে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রয়েছে, তারা মেরামত করে দ্রুত লাইন চালুর চেষ্টা করছে।

    ১৯ জুলাই

    ১৪ দলের বৈঠক: সন্ধ্যায় ধানমন্ডির আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ১৪ দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে চলমান আন্দোলন পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক হয়। পরে ১৪ দলের নেতারা গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গেও বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে ১৪ দলের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনা মোতায়েন ও কারফিউ জারির পরামর্শ দেওয়া হয়।

    কারফিউ ও সেনা মোতায়েন: শিক্ষার্থীদের কোটা আন্দোলনের সূত্রে ধরে দেশের চলমান অরাজক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিন রাতে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শরিক ১৪ দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই এ সিদ্ধান্ত আসে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার দিরাগত রাত ১২টা থেকে প্রথম দফায় শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত কারফিউ ছিল। এরপর দুই ঘণ্টা বিরতির পর বেলা ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সারা দেশে কারফিউ চলে। একই সঙ্গে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য সেনা মোতায়েন করা হয়।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে দুটি মেট্রোরেল স্টেশন, এলিভেডেট এক্সপ্রেসওয়ের টোল প্লাজাসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

    কারাগার থেকে ৮২৬ কয়েদির পলায়ন: এ দিন নরসিংদীর জেলা কারাগারের গেট ভেঙে ৮২৬ জন কয়েদি পালিয়ে যায়। লুট করা হয় অস্ত্র। পালিয়ে যাওয়া কয়েদিদের মধ্যে আনসরুল্লাহ বাংলা টিমের সাত সদস্য ও জেএমবি’র দুই নারী সদস্যও রয়েছে। এসময় ৮৫টি অস্ত্র ও ১ হাজার ৫০টি গুলি ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

    ৮ দফা দাবি পেশ: ১৯ জুলাই দিবাগত গভীর রাতে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী ও তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাতের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আট দফা দাবি তুলে ধরেন কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক। একইসঙ্গে তারা জানান, আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। অবশ্য এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আব্দুল কাদের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় ৯ দফা দাবির কথা জানান। দাবি না মানা পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে বলে আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন।

    ২০ জুলাই

    কারফিউ শুরু: সরকারি সিদ্ধান্তে এ দিন দেশজুড়ে কারফিউ দেওয়া হয়। শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় শুরু হওয়া কারফিউ এদিন দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত শিথিল ছিল। কারফিউ চলাকালে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সেনা মোতায়েন করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে।

    কারফিউ চলাকালেও এদিন ঢাকার যাত্রাবাড়ি, উত্তরা, বাড্ডা ও মিরপুরে সড়ক অবরোধের চেষ্টা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। রাজধানীর বাইরেও কয়েকটি স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে। মেট্রোরেলের কাজীপাড়া ও মিরপুর ১০ স্টেশনে ভাঙচুর করা হয়।

    নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি: এদিন সরকার এক ঘোষণায় ২১ ও ২২ জুলাই দুই দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। সরকার নির্বাহী আদেশে এ ছুটি ঘোষণা করেছে বলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। পরে অবশ্য সাধারণ ছুটি আরও একদিন বাড়িয়ে ২৩ জুলাইও ছুটির আওতায় আনা হয়।

    সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ: কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে থাকা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ করে তার পরিবার। তার মা মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়ায় এক বন্ধুর বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে নাহিদ জানান, তাকে পূর্বাচলে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনেও অংশ নেন তিনি।

    ২১ জুলাই

    ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধায় আপিল বিভাগের রায়: সরকার পক্ষের আপিল আবেদনের পর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে হাইকোট বিভাগের রায় বাতিল করেন। একইসঙ্গে আপিল বিভাগ সরকারি চাকরিতে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ, মুক্তিযোদ্ধা/শহীদ মুক্তিযোদ্ধা/বীরঙ্গনার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য ১ শতাংশ এবং প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য ১ শতাংশ কোটা নির্ধারণ করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধার কোটা কেবল তাদের সন্তানদের জন্য প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধারের নাতিপুতিরা বিবেচ্য হবেন না। আপিল বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারকে প্রজ্ঞাপন জারি করতে আদেশ দেওয়া হয়।

    বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৫৬ সমন্বয়কের যৌথ বিবৃতি শিরোনামে একটি ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হয়। এতে কমপ্লিট শাটডাউন আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়।

    সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নির্দেশনা: এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি বাসভবন গণভবনে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নির্দেশনা দেন। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, মন্ত্রিপরিষদ সচিব মাহবুব হোসেন, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ জামান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

    ২২ জুলাই

    প্রজ্ঞাপন অনুমোদন প্রধানমন্ত্রীর: সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরির সব গ্রেডে (২০তম থেকে নবম গ্রেড) ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের পর সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দেন।

    ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর মতবিনিয়: এ দিন বিকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে দেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে হামলা-অগ্নিসন্ত্রাস করেছে মন্তব্য করে ওই মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখানে ছাত্রদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখনও তারা জ্বালাও-পোলাও আন্দোলনের হুকুম দিয়ে যাচ্ছে। যারা ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, এত সহজে ছাড়া হবে না। শক্ত অ্যাকশন নিয়ে এটা দমন করে পরিবেশটা উন্নত করা হবে।

    সরকার বাধ্য হয়ে কারফিউ ও সেনা মোতায়েন করেছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটা আমরা চাই না। তারা (ছাত্ররা) যখন সরে এসেছে সেই সময় আমি আর্মি নামিয়েছি। আমি কিন্তু তার আগে আর্মি নামাইনি। আমরা শেষ চেষ্টা করি রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে। তারপর আর্মি নামাতে বাধ্য হয়েছি। কারফিউ দিয়েছি। আস্তে আস্তে কারফিউ শিথিল করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

    পাঁচ দিন পর নিয়ন্ত্রণে আসে যাত্রাবাড়ী এলাকা: কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে একক স্পট হিসেবে সবচেয়ে বেশি সংঘর্ষ, সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও হতাহতের ঘটনা ঘটে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির ঘোষণার দিন সন্ধ্যা থেকেই এই এলাকায় সংঘাত-সংঘর্ষ শুরু হয়। থেমে থেমে এটি চলমান ছিল ২২ জুলাই পর্যন্ত। আদালতের শুনানির আগের দিন ২০ জুলাই সারা দেশে কারফিউ জারি ও সেনা মোতায়েন হলেও যাত্রাবাড়ী এলাকায় কারফিউয়ের মধ্যেও সংঘর্ষ চলতে থাকে। এ এলাকা কারফিউর দ্বিতীয় দিনে ২১ জুলাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে সেখানে সেনা ও পুলিশ প্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা পরিদর্শনে যান। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, এ এলাকায় অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। তবে পুলিশ বা হাসপাতাল থেকে কোনও নিশ্চিত সংখ্যা পাওয়া যায়নি।

    পুলিশের আহত-নিহতের তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। এছাড়া ১১৭ জন পুলিশ আহত হয়েছেন বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, আহতের মধ্যে ১৩২ জন গুরুতর আহত হন এবং তিন জন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন।

    ২৩ জুলাই

    কোটার প্রজ্ঞাপন জারি: সরকারি, আধাসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরিতে ৯৩ শতাংশ নিয়োগ মেধার ভিত্তিতে করার বিষয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। একইসঙ্গে ২০১৮ সালের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী নিয়োগে ৯৩ শতাংশ মেধা, ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা, ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এবং ১ শতাংশ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের জন্য নির্ধারণ করা হয়। নতুন এই বিধান নবম থেকে ২০তম গ্রেডের জন্য প্রযোজ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কোটায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে মেধার ভিত্তিতে শূন্য আসন পূরণ করা হবে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।

    সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু: পাঁচ দিন বন্ধ থাকার পর সীমিত পরিসরে ইন্টারনেট সেবা চালু হয় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। ২৩ জুলাই রাতে ব্রডব্যান্ড লাইনের ইন্টারনেট চালু করা হয়। তবে মোবাইলের ইন্টারনেট সেবা তখনও পর্যন্ত চালু হয়নি।

  6. মাসুদ করিম - ২৬ জুলাই ২০২৪ (৪:৪২ পূর্বাহ্ণ)

    ধ্রুপদী সংগীত পরিবারের এক রকস্টার শাফিন আহমেদ
    https://bangla.bdnews24.com/glitz/songit/9fc36fa3e037

    গানের ভুবনে দুই মহারথী বাবা-মায়ের পারিবারিক খ্যাতিকে পাশ কাটিয়ে হয়ে উঠেছেন ব্যান্ডের তারকা।

    ছোটবেলায় মায়ের কোলে বসে উচ্চাঙ্গ সংগীত শুনতে শুনতে বড় হওয়া ছেলেটাই পরে হয়ে ওঠেছিলেন রকস্টার। গানে আর সুরে মাতিয়েছেন দর্শক-শ্রোতাদের। গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তাও পেয়েছেন, দেখেছেন জীবনের নানা বাঁক বদল। বৃহস্পতিবার সকালে ব্যান্ড সংগীতের সেই তারা হারিয়ে গেল, একেবারে থেমে গেল শাফিন আহমেদের কণ্ঠ।

    আশি ও নব্বইয়ের দশকের কিশোর-তরুণ শ্রোতাদের মনে জায়গা করে নিয়ে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এ ব্যান্ড তারকা দেশে ও দেশের বাইরে কনসার্টও মাতিয়েছেন গিটার হাতে। তার ‘চাঁদ তারা সূর্য নও তুমি’, নীলা, আজ জন্মদিন তোমার, ‘ফিরিয়ে দাও’, ‘ধিকি ধিকি’ এর মত গান মুখে মুখে ফিরেছে সবার।

    মাইলস ব্যান্ডের অন্যতম ভোকালিস্ট শাফিন আহমেদ গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে কনসার্টে গানও করেন। আরও একটি কনসার্টে অংশ নেওয়া আগেই অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানেই বৃহস্পতিবার সকালে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

    পরিবারের সদস্যরা বলেন, গত ৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন শাফিন। একটি কনসার্টে গানও করেন। ২০ জুলাই ভার্জিনিয়াতে আরেকটি কনসার্টে গান করার কথা ছিল। এর আগে অসুস্থ হয়ে গেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে (বাংলাদেশ সময়) হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু হয় এ ব্যান্ড তারকার।

    গানের জগতে নিজের পরিচিতি নিজেই গড়ে তুলেছিলেন; পেয়েছেন রকস্টার খ্যাতি। গানের ভুবনে তার পরিবারের খ্যাতিকে পাশ কাটিয়ে হয়ে উঠেছেন ব্যান্ডের তারকা।

    পারিবারিক ঐতিহ্যের কারণে ছোটবেলা থেকেই গানের আবহে বেড়ে উঠেছেন শাফিন। বাবার কাছে উচ্চাঙ্গ সংগীত আর মায়ের কাছে নজরুলগীতি শিখেছেন।

    বাংলাদেশের সংগীত অঙ্গনের দুই মহারথী সংগীত শিল্পী ফিরোজা বেগম এবং সুরকার কমল দাশগুপ্তের ছেলে শাফিন নিজে ছিলেন বেইজ গিটারিস্ট, সুরকার এবং গায়ক।

    তার বাবা কমল দাশগুপ্ত উপমহাদেশের কিংবদন্তি সুরকার। কাজী নজরুল ইসলামের অধিকাংশ গানেরই সুর করেছেন তিনি। শাফিনের মা ফিরোজা বেগমের কণ্ঠে নজরুল সংগীত অনেক বেশি সাধারণের কাছে পৌঁছায়।

    ধ্রুপদি আর নজরুলের গানের সুর শুনে বেড়ে ওঠা শাফিন নজরুল সংগীতে না ঝুঁকে বেছে নেন ব্যান্ড সংগীতের পথ। ওয়েস্টার্ন ধাঁচের রক গান গাইতে শুরু করে নিজের একটি আলাদা ধাঁচ ও পরিচিতি তৈরি করেন; নিজেকে নিয়ে যান দেশের ব্যান্ড সংগীতের অনন্য উচ্চতায়।

    বড় ভাই হামিন আহমেদসহ ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়ে পশ্চিমের সংগীতের সঙ্গে সখ্য হয় শাফিনের। শুরু হয় তার ব্যান্ড সংগীতের যাত্রা।

    একরকম শখের বশেই ১৯৭৯ সালে তারা গড়ে তোলেন ব্যান্ড দল ‘মাইলস’। প্রথম কয়েক বছর তারা বিভিন্ন পাঁচতারা হোটেলে ইংরেজি গান গাইতেন। পরে মাইলসের বাংলা গানের প্রথম অ্যালবাম ‘প্রতিশ্রুতি’ বের হয় ১৯৯১ সালে।

    ওই অ্যালবামের জনপ্রিয়তার পর বিটিভিতে বিভিন্ন গানের অনুষ্ঠানে দেখা যেতে থাকে মাইলসকে। ধীরে ধীরে মাইলস দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডদলে পরিণত হয়।

    রক গানে ঝুঁকলেন কীভাবে?

    কমল দাশগুপ্ত ও ফিরোজা বেগমের ছেলে শাফিন কীভাবে রক গানে ঝুঁকলেন? এই বয়ান উঠে এসেছে স্বয়ং শাফিন আহমেদের কণ্ঠে। ছাপাখানার ভূত থেকে প্রকাশিত শাফিন আহমেদের আত্মজীবনীভিত্তিক গ্রন্থ ‘পথিকার’ এ শাফিন বলেছেন তার জীবনের নানা বাঁক বদলের অজানা কাহিনী, যা লিপিবদ্ধ করেছেন সাজ্জাদ হুসাইন।

    শাফিনের ভাষ্য, “আমরা তখন গুলশানের বাসায় থাকি। গুলশানের বাসায় থাকা অবস্থায় কিছু নতুন বন্ধু হল, যারা ওয়েস্টার্ন মিউজিক শোনে। তাদের কাছে বিদেশি রেকর্ড রয়েছে। তাদের কাছ থেকে কিছু রেকর্ড বাসায় নিয়ে আসতে শুরু করলাম। ইংরেজি গান, ওয়েস্টার্ন রক মিউজিকের গান যখন আসলো- তখন এর একটা প্রভাব পড়লো আমার উপর।

    “বাসায় তো দেশীয় সংগীত চর্চা দেখে আসছি ছোটকাল থেকে, জন্মের পর থেকে। কিন্তু ওই ওয়েস্টার্ন রেকর্ড যখন আসতে শুরু করল (থার্টি থ্রি আরপিএম লঙ প্লে রেকর্ড) ওগুলোতে ব্যান্ডগুলোর ইমেজ-টিমেজ দেখে মাথা নষ্ট অবস্থা। তখন পিংক ফ্লয়েড, লেড জ্যাপলিন, বব ডিলান, বিটলস শুনছি, রোলিং শুনছি, স্যানটানা শুনছি অনেক। এদের অ্যালবাম হাতে পেলে মনে হতো সোনার টুকরো হাতে পেয়েছি। এত মূল্যবান মনে হতো।”

    বাবার কাছেই গিটার টিউনিং

    শাফিনের ধারণা ছিল, তার বাবা-মা উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ হলেও ওয়েস্টার্ন বাদ্যযন্ত্রের পারদর্শী নন। ওয়েস্টার্ন মিউজিক খুব একটা বুঝতে পারবেন না। কিন্তু সেই ভুল ভেঙেছিল একদিনের ঘটনায়।

    তার ভাষ্য, “ওই সময় একটা গিটার কারও কাছ থেকে এনে বাজানোর খুব চেষ্টা করছি। কিন্তু প্রপারলি টিউন করা জানি না। আব্বা পাশের ঘর থেকে এসে একটা থিওরি দিলেন, যেটা টিউনিং করার লেসন হয়ে গেল আজীবনের জন্য। আমার ধারণা ছিল, আব্বা-আম্মা দেশি মিউজিক বোঝেন, এটা বুঝবেন না। কিন্তু আব্বা এসে সিম্পলি বুঝিয়ে দিলেন টিউন কী করে করতে হয়। এত লজ্জা পেয়েছিলাম ওইদিন।”

    শাহবাগের রেললাইন পেরিয়ে স্কুলে যেতেন শাফিন

    ‘মনোজিৎ দাশগুপ্ত’ কিংবা ‘মুনা’ নামগুলো অচেনা মনে হলেও শাফিন আহমেদকে ছোটবেলায় তাকে পরিবারের সদস্যরা ডাকতেন মুনা বলে। কলকাতায় প্রথম স্কুলে ভর্তি করতে গিয়ে তার নাম রাখা হয়েছিল ‘মনোজিৎ দাশগুপ্ত’।

    ১৯৬৭ সালে তাদের পরিবার ঢাকায় আসার পর ক্লাস থ্রিতে ভর্তি হন শাফিন। ঢাকার স্কুলে ভর্তির আগেই নতুন পাসপোর্ট করা হয়, যেখানে নাম রাখা হয় মোহাম্মদ শাফিন আহমেদ। ‘পথিকার’ গ্রন্থে শাফিনের বয়ানে ষাট ও সত্তুর দশকের ঢাকার একটি আমেজও ওঠে এসেছে।

    শাফিনের ভাষ্য “আমরা তিন ভাই কলকাতায় ওই চিপাগলি দেখতে দেখতে- হঠাৎ ঢাকার এই পরিবেশে এসে দেখলাম চারপাশ প্রচণ্ড খোলামেলা। বাচ্চা হিসেবে আমাদের ফিলিংটাই বদলে গেল। আনন্দ-ফূর্তি, খোলা জায়গা। ঢাকা তখন কলকাতার থেকে কিন্তু এগিয়ে। পরিবেশের দিক থেকে। কোয়ালিটির দিক থেকে। লাইফস্টাইলের দিক থেকে।”

    শাহবাগে রেললাইন পেরিয়ে স্কুলে যাওয়ার স্মৃতিচারণ করেন তিনি বলেন, “এখন যেখানে জাদুঘরটা আছে, শাহবাগে-ওখান দিয়ে একটা রেলপথ ছিল। ওটার ওপর দিয়ে হেঁটে হেঁটে শটকার্ট করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রি বিল্ডিং পার হয়ে ঢুকে যেতাম স্কুলে।”

    বাবার দোকান দেখে, শাফিনের উপলব্ধি ‘জীবন বিচিত্র’

    উপমহাদেশের খ্যাতনামা সংগীত পরিচালক কমল দাশগুপ্ত যে ঢাকায় দোকান দিয়েছিলেন, সেই তথ্য হয়তো অনেকের কাছেই অজানা। ‘পথিকার’ নামে শাফিনের যে আত্মজীবনী গ্রন্থটি বেরিয়েছে, সেটি মূলত ওই দোকানের নামেই।

    শাফিন বলেন, “আমাদের দোকানের নাম ছিল ‘পথিকার’। যখন আমরা ভূতের গলিতে থাকি, তখন ইনকাম বাড়ানোর জন্য বাবা-মা মিলে একটা দোকান দিলেন। মূলত বই-খাতা, কাগজ-কলমসহ স্টেশনারি জিনিসপত্র পাওয়া যেত। একদম হাতিরপুল মোড়ে, প্রমিন্যান্ট জায়গায় ছিল দোকানটা। এটা আব্বা চালাতেন। মহাকালের পথিকৃৎ শিল্পী বস্তুগত পৃথিবীতে সর্বশান্ত হয়ে একটা দোকান খুলে বসলেন, পথিকার। এই পথিকার কে? এই পথিকার হলেন কমল দাশগুপ্ত।”

    শৈশব-কৈশোরে বাবার জীবনের বাঁকবদল নিজ চোখে দেখে শাফিনের মনে হয়েছিল, “জীবন বড়ই বিচিত্র। অদ্ভূত! কোথা থেকে কোথায়? ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে মিউজিক করে দুনিয়া কাঁপিয়ে দিয়ে এসে হাতিরপুলে দোকান। ট্র্যাজিক! ইটস ভেরি ট্র্যাজিক।”

    জীবনের বাঁকে বাঁকে নানা গল্পের সুতো বুনে শাফিনও তার জীবনকে করে তুলেছেন বিচিত্র। শাফিনের জীবন কেটেছে কলকাতা, ঢাকা ও লন্ডনে। ব্যক্তি জীবনকে অনেকটাই আড়ালে রাখা আলোচনায় আসেন মাইলস থেকে বেরিয়ে এসে।

    জনপ্রিয় ব্যান্ড দলটির সঙ্গে তিন দশকের পথচলার সমাপ্তি টেনে ২০১০ সালের জানুয়ারি মাসে বেরিয়ে আসেন আসেন শাফিন আহমেদ। তবে তার সংগীত যাত্রা চলতে থাকে। তার বিভিন্ন সলো অ্যালবামও জনপ্রিয় হয়। পরে তিনি গড়ে তোলেন নিজের ব্যান্ড দল ‘ভয়েস অব মাইলস’।

    তিনি আলোচনায় এসেছিলেন রাজনীতিতে জড়িয়েও। জাতীয় পার্টি থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) উপনির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশন পরে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে। আইনি জটিলতায় সে বছর ঢাকা উত্তর সিটির উপনির্বাচনও আর হয়নি।

    শাফিন নামের বর্ণিল জীবনের প্রদীপটি বৃহস্পতিবার নিভে গেল যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালে।

  7. মাসুদ করিম - ২৬ জুলাই ২০২৪ (৫:৫০ পূর্বাহ্ণ)

    ভাষাবিদ মাহবুবুল হক আর নেই
    https://samakal.com/bangladesh/article/247570/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%95-%E0%A6%86%E0%A6%B0-%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87

    খ্যাতিমান প্রাবন্ধিক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত ভাষাবিদ ড. মাহবুবুল হক মারা গেছেন। বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।

    মাহবুবুল হক দীর্ঘদিন হৃদ্‌রোগ ও কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে মরহুমের লাশ চট্টগ্রাম নগরের লালখানের নিজ বাসায় আনা হবে।

    আগামীকাল শুক্রবার বাদ আসর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাহবুবুল হকের মেয়ে উপমা মাহবুব।

    মাহবুবুল হকের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আবু তাহের, উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) বেনু কুমার দে ও উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) মো. সেকান্দর চৌধুরী।

    চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মাহবুবুল হক। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রবন্ধ রচনা, ফোকলোর চর্চা, গবেষণা, অনুবাদ, অভিধান, সম্পাদনা ও পাঠ্যবই রচনার জন্য দেশে-বিদেশে তিনি পরিচিতি লাভ করেছেন।

  8. মাসুদ করিম - ২৬ জুলাই ২০২৪ (৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ)

    Sheikh Hasina seeks justice from countrymen for mayhem
    https://today.thefinancialexpress.com.bd/last-page/pm-seeks-justice-from-countrymen-for-mayhem-1721930012

    Prime Minister Sheikh Hasina sought on Thursday justice from countrymen for massive destruction of the government establishments during recent nationwide mayhem as she paid a visit to the vandalised Mirpur-10 Metro Rail Station, reports BSS.

    “The people of the country have to expose them (culprits involved in nationwide mayhem) to justice. I am seeking justice from the masses. I have no word to describe the destructions,” she said.

    The prime minister made the appeal to the countrymen in an emotion-chocked voice after seeing severe devastation carried out on the Mirpur 10 Metro Rail Station.

    She also called upon the countrymen to resist the anarchists who went on rampage for multiple days since July 17 and heavily damaged the government establishments built in the last 15 years to ease public sufferings and transform Bangladesh into a developed and prosperous country, cashing in on the quota reform movement.

    The prime minister said her government built the metro rail from Uttara to Motijheel with the most modern equipment as around 250 thousand people go to their work places and return homes easily through metro rail in the shortest possible time without being stuck in jams for hours.

    “Everything of our metro rail that includes the metro rail station and services is of international standard. I have visited many countries across the globe. But, our metro rail is the most modern,” she said.

    “But, what a grave destruction I saw today (after inspecting different parts of the Metrorail Station at Mirpur 10). How could the people of the country do that? But, they did it,” she said.

    She also said every official involved in the metro rail construction, has now tears in their eyes after seeing the insane havoc.

    “Who are the beneficiaries of the metro rail?” the premier questioned.

    “Do my government officials, ministers and I only ride the metro rail or the people? Who are getting its benefits? You, the countrymen and commoners are getting its benefits. So, my question is why such anger on the metro rail,” she said.

    She continued that she didn’t know when the metro rail station would come into operation.

    The premier reminded the countrymen that they have built the metro rail before the scheduled time after confronting many hurdles.

    The Metro rail services have been suspended since July 18 amid widespread destruction by the BNP-Jamaat alliance.

    The metro rail will start its operation following submission of the assessment report on the damages by the inquiry committee within 10 working days after its formation on July 22.

    Sheikh Hasina said her government established well-connected communication system across the country by building communication infrastructures like the metrorail.

    Referring to the damaged metrorail stations, the Premier said the people of the country, particularly Dhaka’s inhabitants, would have to suffer for it as they would have to be caught in jam for hours.

    “So, I call upon you to resist those who have created the sufferings for you (through destruction of the metro rail). The countrymen have to prevent them,” she continued.

    Two metrorail stations including Mirpur-10 and Kazipara were rampaged on Friday last during the quota reform movement.

    “Who are the worst sufferers of the destruction of the metro rail? I do not know how long it would take to restore this metro rail and the vandalised stations,” she said in an emotion-charged voice.

    Sheikh Hasina said they have built all establishments in the last 15 years to give the countrymen an improved life with better connectivity.

    “What mentality works behind such rampage of the establishments,” she questioned. The Prime Minister said she considers the people of Bangladesh as her near and dear ones and works tirelessly for the development of the country from that philosophy.

    She said that in the last 15 years, she has done everything for the welfare and happiness of the people.

    “I have ensured food security, power, medicare, education and communication. Who are the beneficiaries of these developments?” she questioned.

    Bangladesh has got the status of a developing nation for the efforts of her government from 2009 to 2024 for which Bangladeshis are now moving around keeping their heads high.

    The Prime Minister said, “Don’t think that all the developments have taken place in a day.”

    Those who have got the benefit of the metrorail and other government establishments would have to resist the anarchists, she reiterated.

    “I am working tirelessly to upgrade the living standard of the people and I have done this and no one can deny that,” she said.

    When the country is marching ahead to reach the top stage, the conspirators are trying to pull the country down, she added.

    “Why? That is my question and I don’t know who will give the answer,” she said.

    About the quota reform movement, the Prime Minister said she felt pain over the issue as she earlier cancelled the quota in the government jobs as the students agitated against it in 2018.

    The freedom fighters’ family appealed against it and it was cancelled by the High court.

    “We filed appeal against that. They (Supreme Court) issued a status-quo over the High Court order and gave a time to give a decision after hearing everyone (involved in the process),” she said.

    She said she also repeatedly requested the agitating students to have patience and keep faith in the apex court and their expectation will be fulfilled.

    “I called upon them to refrain from it (the quota reform movement). But, they did not do that,” she said.

    The BNP-Jamaat clique have taken the chance of the movement and carried out massive destruction across the country.

  9. মাসুদ করিম - ২৬ জুলাই ২০২৪ (৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ)

    পুলিশের বয়ানে সেই দিনের সংঘর্ষ
    https://bangla.bdnews24.com/special/fda53412f977

    পুলিশ সদস্যদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি বলে তাদেরকে বুঝেশুনে চলতে বলা হয়েছিল। তবে বিক্ষোভে হঠাৎ ‘অছাত্র গোছের’ ব্যক্তিরা যোগ দিয়ে শুরু করে সহিংসতা।

    সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে ঢাকার প্রগতি এলাকায় দায়িত্ব পালন করা গুলশান থানার একজন এএসআই বলছিলেন, “বৃহস্পতিবার (জুলাই ১৮) সকালে আমরা যখন বাড্ডায়, তখনও স্যাররা কইতেছিল, ওই পোলাপাইন দেইখা মারিস। কারও গায়ে যেন না লাগে।”

    তবে পরিস্থিতি এমন থাকেনি। সংঘাত ছড়িয়ে পাঁচটি দিন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায় অনেকটা যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় গোটা দেশে।

    সেদিন সকালে ঢাকায় মূলত দুটি জায়গাতে সংঘাত শুরু হয়। এর একটি হল উত্তরা এবং একটি হল বাড্ডা এলাকা। দুই এলাকাতেই প্রাণহানি ঘটে এবং পরে তা ছাড়িয়ে যায় দেশের নানা প্রান্তে।

    এই সংঘাতের মধ্যে দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয়, হামলা হতে থাকে একের পর এক রাষ্ট্রীয় স্থাপনায়। ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় পরের কয়েকদিন তৈরি হয় উদ্বেগজনক পরিস্থিতি, বাড়তে থাকে মৃত্যু, জারি হয় কারফিউ।

    যাত্রাবাড়ী, রামপুরা, মোহাম্মদপুরে প্রায় চার দিন ধরে চলে সংঘর্ষ, সব মিলিয়ে দুইশর কাছাকাছি মৃত্যু এবং এক হাজারের বেশি পুলিশের আহত হওয়ার খবর এসেছে।

    পুলিশ বলছে, সেদিন সকালে শুরুর দিকে ছাত্রদের সঙ্গে আলোচনা করা গেছে। কিন্তু বেলা গড়ানোর পর পর তাদের সঙ্গে অন্য অনেকে আসতে থাকে, যারা ছাত্র নয় বলেই মনে হয়েছে। তখন থেকে পরিস্থিতি ঘোলাটে হতে থাকে।

    পুলিশ সদস্যরা বলছেন, উচ্ছেদ হওয়া হকার, বস্তিবাসীসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর লোকজনও এই আন্দোলনে যুক্ত হয়। অনেক জায়গায় কিছু লোকজন এসেছিলেন শুধু লুটপাট করার জন্য।

    বাড্ডায় কী হয়েছিল

    সেদিন বাড্ডার প্রগতি সরণিতে দায়িত্ব পালনকারী একজন এসআই বলেন, “বিষ্যুৎবার সকালেও আমাদের কোন ধারণা ছিল না কীসের ভিতরে যাইতাছি। স্যাররা ব্রিফ করছে পোলাপাইনের আন্দোলন, দেইখা-শুইনা চলতে হইব। আমাগোও পোলাপাইন আছে, সব মিলায়া মাঠে গেলাম।

    “সবারই হেলমেট, বুলেটপ্রুফ লাগানো আছিল। আগেরদিন বুধবারে আমাদের ফোর্স মহাখালী রেলগেটে ভালো মাইর খাইছে, পুলিশ বক্স পুড়াইছে। আমাদের প্রস্তুতি ছিল মব কন্ট্রোলের। কিন্তু এইখানে একটা যুদ্ধক্ষেত্র তৈরি হইছে।”

    পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সেদিন আশেপাশেই ছিলেন। সকালের দিকে শিক্ষার্থীরা রাস্তা আটকে মিছিল শুরু করে।

    সেই এসআই বলেন, “কয়টা বাজে খেয়াল নাই, পোলাপাইন রাস্তা আটকাইছে। আমাদের লোক তাদের সঙ্গে কথাও কইছে। হঠাৎ করে কিছু লোকজন আইসা এমন জঙ্গিপনা শুরু করল যে হয় আমাগো গুলি করা লাগে নাইলে পলানো ছাড়া উপায় নাই।

    “আমরা টিয়ার গ্যাস মারলে হ্যারা উল্টা আমাগো দিকে মারে। রাবার বুলেট তো বেশি দূর যায় না। পরে স্যাররা বললো, সীসা মারতে (শটগানের ধাতব ছররা গুলি)। সীসার রেঞ্জ বেশি। আমরা সীসা মারা শুরু করলাম। ওরা রাস্তা ছাইড়া প্রথমে পলাইল। পরে কোইত্থিকা এক বিরাট প্লাস্টিকের ব্যানার নিয়া আইসা ঢাল বানাইল, সেইটার পিছে খাড়াইয়া সবাই ঢিল মারতাছে সমানে। গুলতি দিয়া পাথরও মারছে প্রচুর।

    “এত ইট-পাথর মারামারি হইছে আমরা আর খাড়াইতে পারি না। সব জায়গাতেই একই অবস্থা। যে যার মত সেফ সাইড হইতাছে। এর মধ্যে শুনি আমাদের ডিসি স্যারসহ সিনিয়র স্যাররা বিল্ডিংয়ে আটকা পড়ছে। ওই সময় আমাদের আর দাঁড়ানোর মতো অবস্থা ছিল না। সেইফ সাইডে থাইকা গ্যাস, গুলি মাইরা কোন রকমে ঠেকানোর চেষ্টা করতাছিলাম।”

    সেই সংঘাত আর থামেনি। ফলে পুলিশ সদস্যদের আর কর্মঘণ্টার হিসেব ছিল না।

    বাড্ডা থানার একজন এএসআই বলেন, “রাইতে কই থাকুম কুনো ঠিক নাই। কোন বিল্ডিংয়ের নিচে বা ফাঁড়িতে গাদাগাদি কইরা অনেক লোক আছিলাম। খাওয়ারও কোনো ঠিক ঠিকানা আছিল না। আমাগো লগে এডিসি স্যার, এসি স্যার। পোলাইপাইন (কনস্টেবল) কেউ কেউ বিড়ি খায়, বারবার এই কোণা- সেই কোণায় বিড়ি খাইতে যায়, স্যারগো সামনে খাইতে পারে না তো। পরে স্যাররা আইসা বিড়ির প্যাকেট হাতে দিয়া কইছে, ‘তোরা এইখানেই খা, তবুও বাইরে যাইস না’।”

    কেবল ১৮ জুলাই না, পরের দুই দিনও রামপুরা বাড্ডায় বিক্ষোভ চলে। পুলিশের ভাষ্য, সেখানে বেশি ছিল অছাত্ররেই।

    বাড্ডার সেই এএসআই বলেন, “এই দাঙ্গাকারীরা গুলশানে ঢুকতে পারলে আশপাশের ‘সেনসিটিভ’ সব জায়গা জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে দিত, যাতে আন্তর্জাতিকভাবে সাড়া পড়ে যায়।”

    গুলশান-বনানী থেকে যে হকারদের উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারাও সেখানে ছিল বলে তথ্য পেয়েছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

    বলেন, “কে বা কারা এদের নাড়িয়েছে সেটা এখন আমরা খোঁজ নিয়েছি। আবার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চালকেরাও রাস্তায় নেমেছিল। আমরা তাদের নিশ্চয়ই খুঁজে বের করব।”

    সেদিন দুপুরে বাড্ডায় কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি ভবন থেকে ৬০ জন পুলিশ সদস্যকে হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করে র‌্যাব।

    বিমানবন্দর সড়কে বিক্ষোভের সময় ‘নেতা গোছের’ ওরা কারা?

    গুলশান বিভাগের একটি জোনের দায়িত্বে থাকা একজন কর্মকর্তা বলছেন, এই অঞ্চলে ভালো রকম শিক্ষার্থী জমায়েত হবে এ রকম একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন আগেই ছিল। তাই তারাও প্রস্তুত ছিলেন।

    এই শিক্ষার্থীরা বিমানবন্দর সড়ক অবরোধ করেছিল, পুলিশ কর্মকর্তারা তাদেরকে বিদেশগামীদের সমস্যার কথা বোঝালে তারা সরে যেতেও রাজি হন। পরে ‘ডানপন্থি’ নেতা গোছের কয়েকজন ঝামেলা পাকায়, বলছেন তিনি।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার পদের এই কর্মকর্তা বলেন, “ওইদিন হয়ত বেলা ১১টা নাগাদ কাকলী-বনানী এলাকায় মাঠে নামল আশপাশের কয়েকটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষার্থী। তারা দীর্ঘক্ষণ এয়ারপোর্ট রোডটা বন্ধ করে বসে রইল। এর মধ্যে ওপর থেকে স্যাররা বললেন, ওরা আন্দোলন করছে করুক, কিন্তু এয়ারপোর্ট রোডটা ক্লিয়ার করতে হবে।

    “নির্দেশনা পেয়ে বেলা ২টার পর ওখানে গেলাম ফোর্সসহ। ছেলে-মেয়েরা স্লোগান দিচ্ছে, আন্দোলন করছে- তবে তারা অনেক নমনীয়। ওদের নেতা গোছের কয়েকজনকে ডেকে আমরা কথা বললাম। বললাম, ‘তোমরা আন্দোলন করতে চাও কর, কিন্তু এয়ারপোর্ট রোডটা ছেড়ে দাও। বহু মানুষ ফ্লাইট মিস করবে, রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সাইরেন বাজাচ্ছে, রোগীরা গাড়ির ভেতরে ধুঁকছে।’

    “এসব কথা বলার পর ওরাও বুঝল। ওরা বলল, ‘ভাইয়া আমাদের ১০টা মিনিট সময় দেন আমরা রাস্তা ছেড়ে দিচ্ছি।’ কিন্তু ওরা (নেতা গোছের) যখন ওদের জমায়েতের ভেতর ঢুকল, তখন দেখলাম কয়েকজন ওদের কথা শুনছে না, তারা বলছে রাস্তা ছাড়বে না।”

    এই পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য, যারা রাস্তা না ছাড়ার পক্ষে ছিল তাদের দেখে ডানপন্থি বলে মনে হয়েছে তার।

    তিনি বলেন, “পরে আবার আমরা গিয়ে কথা বললাম, তারা রাস্তা ছাড়বে না। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হল- ফোর্স মুভ করবে। বাঁশি বাজিয়ে ধাওয়া দিলাম আমরা। কয়েকজন এদিকে-ওদিক ছুটে গিয়ে ইট মারল, কিন্তু পরে আর রাস্তায় আসেনি ওরা।”

    এরপর মহাখালীতে অবরোধের কথা জানতে পারেন এই সহকারী কমিশনার।

    তিনি বলেন, “আমরা মহাখালী এসে দেখলাম আন্দোলনকারীরা রেললাইনের ওপর, অদূরে কমলাপুরগামী একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে। আমরা তাদের সেখান থেকে সরানোর চিন্তা করে কেবল পুলিশ বক্সে ঢুকেছি, এসময়ই আমাদের আরেকটা টিম উত্তর দিক থেকে (আমতলী) হেঁটে আসার সময় তাদের ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে বৃষ্টির মতো পাথর মারা শুরু করল।

    “রেললাইনের বড় বড় পাথরে ফোর্স ও অফিসারদের অনেকেই আহত হলেন। ফোর্স কোণঠাসা হয়ে গেল। পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই মিরাজসহ কয়েকজন আটকা পড়লেন বক্সের ভেতরেই। চারদিক ঘিরে আন্দোলনকারীরা। এক পর্যায়ে কৌশল করে তাদের সেখান থেকে বের করা হয়। এরপরই আন্দোলনকারীরা আগুন দেয় পুলিশ বক্সে, পুলিশ সদস্যদের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়।”

    এরপর দুই ঘণ্টা সেখানে সংঘর্ষ হয়।

    “তখনো আমরা কেবল গ্যাস মেরে, রাবার বুলেট ছুঁড়েই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছি। আন্দোলনকারীরা শিক্ষার্থী এই চিন্তা আমাদের সবার মনেই ছিল। কিন্তু শুধু গ্যাস দিয়ে তাদের সঙ্গে টেকা গেল না। আমরা পরে বাড়তি ফোর্স আনিয়ে তাদের সরাতে পেরেছি, তাও দুই ঘণ্টা পর।”

    পুলিশ সরতেই সরকারি স্থাপনায় হামলা, ছিল ‘প্রশিক্ষিতরা’

    বাড্ডা-রামপুরা রোড দখলে নেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা গুদারাঘাট দিয়ে গুলশানের দিকে আসার চেষ্টা করতে থাকে। পুলিশ তখন তাদেরকে থামাতে চেষ্টা করে।

    “এরমধ্যেই খবর পেলাম থানায় হামলা হতে পারে। আমরা সেদিকে মনোযোগ দিলাম। থানা ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হল।

    “আমাদের গুলশান বিভাগের পুলিশের মনোযোগ ছিল ওরা যেন গুলশানে ঢুকতে না পারে। এক পর্যায়ে এখানেও আমাদের গুলি ছুঁড়তে হয়েছে।”

    এরমধ্যেই বিকেলের দিকে তারা মহাখালী ফাঁকা পেয়ে দুর্যোগ ভবন, সড়ক ভবন ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে আগুন দেওয়া হয়।

    “আমরা কোনো জায়গা থেকে সরে গেলেই সেখানে একটা আগুন দিয়ে পালায় ওরা”, বলেন সেই সহকারী কমিশনার।

    সেদিন আক্রমণের ধাঁচ দেখে এই কর্মকর্তা বলেন, “কিছু ট্রেইনড লোক, যাদের কাছে ম্যাপ করা ছিল কোন কোন স্থাপনায় হামলা করা হবে। তারা হাতে করে পানির বোতলে তেল (পেট্রোল) এনেছিল, কেউ আবার আনে পোটলার মত করে গান পাউডার। যার কারণে খুব অল্প সময়ে তারা অনেকগুলো জায়গায় আগুন দিতে পেরেছে।”

    আশপাশের বস্তির কিছু ছেলে তাদের সঙ্গে জুটে যায়, পুলিশের ভাষ্য, ‘যাদের মূল টার্গেট ছিল এসব জায়গা থেকে নাশকতার সময় লুট করা। এরা প্রচুর জিনিসপত্র লুটও করেছে।

    থানা রক্ষার ‘যুদ্ধ’

    মোহাম্মদপুরের বাসস্ট্যান্ড থেকে বেড়িবাঁধ তিন রাস্তার মোড় কেন্দ্রিক যে লড়াই শুরু হয়েছিল, তা ১৮ জুলাই শুরু হয়ে চলে ২১ জুলাই পর্যন্ত।

    মোহাম্মদপুরের একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “হঠাৎ করেই রাত ২টায় মনে হল সারাদিন কিছু খাইনি। সঙ্গে থাকা সঙ্গীরাও খাওয়ার কথাও মুখে তুলেনি। পরে পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে খাবার খোঁজ করতে গিয়ে কোনো হোটেল খোলা না পেয়ে পরিচিত একজনকে ২০ জনের খাবার তৈরি করতে বলি। সেই খাবার যখন আসে তখন ভোর ৪টা।

    “প্রায় ২০ ঘণ্টা পর সেদ্ধ ডিম আর সাদা ভাত খেয়ে কিছুটা বিরতির পর আবার অস্ত্র হাতে সেই ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে যেতে হয়েছে।”

    এসআই পদ মর্যাদার ওই পুলিশের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করলেও মোহাম্মদপুরে প্রায় প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে জানান ওই বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার রওশনুল হক সৈকত।

    তিনি বলেন, “আমি তো বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে যে পোশাক পরে বের হয়েছি সেটি শনিবার রাতে গিয়ে খুলেছি।”

    মোহাম্মদপুরের বছিলা- তিন রাস্তার মোড়ভিত্তিক আন্দোলনটা বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত টের পায়নি পুলিশ। বুধবার আসাদ গেট মোড়, আড়ং এর সামনে পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। পরে ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কের দিকে এগিয়ে যায় আন্দোলনকারীরা। সেখানেই তাদের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে পুলিশের। দুপুরে রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়।

    অতিরিক্ত উপ কমিশনার রওশনুল হক সৈকত জানান, “হঠাৎই খবর আসে একদল উচ্ছৃঙ্খল লাঠিসোঁটা নিয়ে মোহাম্মদপুর থানার দিকে আসছে। সে সময় থানায় মাত্র ৭ জন পুলিশ সদস্য ছিল। তারাই সেই জনতাকে সামাল দিতে গিয়ে একবারে হিমশিম খেয়ে যায়। ফাঁকা গুলি করতে গিয়ে তাও শেষ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে হামলাকারীদের বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত নেওয়া হয়।“

    হঠাৎ করে মোহাম্মদপুরে এত উচ্ছৃঙ্খল জনতা দেখে হতভম্ভ পুলিশের এই কর্মকর্তা।

    বিকাল থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, আল্লাহ করিম মার্কেট এলাকা থেকে সংঘাত ছড়ায় বছিলা পর্যন্ত।

    থানা ছাড়াও বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পুলিশ ফাঁড়ি, বছিলায় ডিএমপির পুলিশ লাইন, এসপিবিএন এর ৫টি ব্যারাক এবং র‌্যাব-২ কার্যালয় হামলাকারীদের মূল টার্গেট ছিল বলে মনে করে পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে এসব স্থাপনায় শেষ পর্যন্ত কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।

    তাদের হামলা এতটাই তীব্র ছিল যে মোহাম্মদপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সেখান থেকে সরে আসার জন্য বলাও হয়েছিল।

    পুলিশ কর্মকর্তা রওশনুল হক সৈকত বলেন, “ফাঁড়িটি শেষ পর্যন্ত চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায়। পরে তাদেরকে অস্ত্র এবং মূল্যবান জিনিস নিয়ে সরে যেতে বলা হয়। তারা যদি আগুন ধরিয়ে দেয় তাহলে স্থাপনাওটি ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্য কিছু নয়।”

    ওই ফাঁড়ির ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, “তারা ফাঁড়ি থেকে অস্ত্র সরিয়ে নিলেও তাদের যে জনবল আছে সেটি দিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে টানা দুইদিন ‘যুদ্ধ’ করি।

    “এই ফাঁড়ি ঘিরে ৬টি গলির মুখ আছে। প্রতিটি মুখ থেকে শত শত জনতা ইটপাটকেল ছুঁড়তে ছুঁড়তে এগিয়ে আসে। সন্ধ্যার পর শুরু ১৭ জনকে নিয়ে প্রতিরোধ চলে শুক্রবার পর্যন্ত।”

    পুলিশ কর্মকর্তারা মনে করেন, উচ্ছৃঙ্খল জনতার পুলিশের এইসব স্থাপনা হামলা চালিয়ে অগ্রসর হয়ে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন পর্যন্ত আসার পরিকল্পনা ছিল।

    রেজাউল জানান, খাবার সংকট ছিল ভয়াবহ। রাত বৃহস্পতিবার রাতে এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ফোন করে জানালেন কয়েকজন সদস্যের খাবারের ব্যবস্থা হচ্ছে। তবে কোনো খাবার আসেনি, তাছাড়া ঘটনাস্থল থেকে তারা যেতেও পারছিলেন না।

    পরে জেনেভা ক্যাম্পে একজনকে ফোন করে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

    মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে বছিলা সংলগ্ন তিন রাস্তা মোড় পর্যন্ত টানা দুইদিন ‘সম্মুখ যুদ্ধে’ ছিলেন মোহাম্মদপুর থানার এক কনস্টেবল।

    তার ভাষ্য, যে ঘটনা ঘটেছে অতীতে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি তিনি কখনও হননি।

    মোহাম্মদপুর থানার ওসি মাহফুজুল হক ভুঞা বলেন, ১৬ থেকে ১৯ জুলাই এক পোশাকে কাটিয়েছেন। থানায় গেলেও বসার সুযোগ পাননি।

    টার্গেট করে পুলিশকে হামলা

    পুলিশের গুলশান বিভাগের কর্মকর্তা বলছেন, “তারা (বিক্ষোভকারী) টার্গেট করে পুলিশ খুঁজেছে। বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মোবাইল চেক করেছে তিনি পুলিশ কি না এটা বোঝার জন্য।

    “বনানী থানার এসআই তকিফুল ইসলামের পরিবারে একজন অসুস্থ ছিলেন। শুক্রবার রাতে চারদিকে সংঘাতের মধ্যে জরুরি প্রয়োজনে সাদা পোশাকে কর্তব্যস্থল গুলশান এলাকা থেকে সেনানিবাসের ভেতর দিয়ে পল্লবী এলাকায় ভাড়া বাসায় যাওয়ার চেষ্টা করেন।

    “পল্লবীতে এলাকায় ঢোকার পর দাঙ্গাকারীরা তাকে আটক করে বেদম মারধর করে। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে স্থানীয় আলোক হেলথকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। এসআই তকিফুল এখন ভর্তি আছেন আগারগাঁওয়ের নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে।”

    রিকশায় করে সাদা পোশাকে অফিসে যাওয়ার সময় ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগে হামলার শিকার হন ট্যুরিস্ট পুলিশের এক এসআই। তার রিকশা আটকে তল্লাশি চালিয়ে তিনি পুলিশ তা বুঝতে পেরে মারধর করা হয় তাকে। মারধর করে তার মাথা থেঁতলে দিয়ে হত্যা করা হয়।

    পুলিশের হিসেবে সংঘাতময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে সারা দেশে বাহিনীটির ১ হাজার ১১৭ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৩২ জন গুরুতর, মারা গেছেন তিনজন। আইসিইউতে আছে আরও তিনজন।

    সারা দেশে পুলিশের থানা, ফাঁড়িসহ ২৩৫টি স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি আগুন দেওয়া হয়েছে পুলিশের সাঁজোয়া যানসহ ২৩৬টি যানবাহনে।

    এমন পরিস্থিতিতে ১৮ জুলাই থেকে চারদিন ঢাকার পুলিশ কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যদের সার্বক্ষণিক বুলেটপ্রুফ ভেস্ট, হেলমেটসহ রায়ট গিয়ার পরে থাকার নির্দেশনা মানতে হয়েছে।

  10. মাসুদ করিম - ২৭ জুলাই ২০২৪ (১০:১৭ পূর্বাহ্ণ)

    নদীর পাড়ে বর্ণিল আয়োজনে প‍্যারিস অলিম্পিকসের উদ্বোধন
    https://bangla.bdnews24.com/sport/ed15c4fb4f0d

    সেন নদীর তীরে ভিন্নধর্মী আয়োজনে প্যারিস অলিম্পিকসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চমকে দিল সারা বিশ্বকে।

    প্রথমবারের মতো স্টেডিয়ামের বাইরে আয়োজন। তাও আবার নদীতে! প্যারিস অলিম্পিকসের একেবারেই ভিন্ন স্বাদের এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সাক্ষী হলো বিশ্ব। সেন নদীতে ভেতরে, পাড়ে সাজানো মঞ্চ, লেডি গাগার গান, ফরাসি সংস্কৃতি ফুটিয়ে তোলা, নৌযানে দলগুলোর মার্চ পাস্ট, মশাল নিয়ে মুখোশ পরা রহস্যময় একজনের ছুটে চলা, বিশ্ববিখ্যাত মোনালিসা চিত্রকর্ম চুরি হয়ে যাওয়া, ‘মিনিয়নস’-এর তা খুঁজে পাওয়া থেকে শুরু করে অন্যরকম এক উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপহার দিল ‘সিটি অব লাভ’ খ্যাত প্যারিস।

    ১৯ দিনের আসরে এবার লড়াই হবে ৩১৯টি সোনার। যদিও দুই দিন আগেই সে লড়াই শুরু হয়ে গেছে আর্চার, ফুটবল, রাগবির মতো কিছু ইভেন্টের মধ্য দিয়ে। তবে শুক্রবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো লাখো ক্রীড়াপ্রেমী ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানদের উপস্থিতিতে।

    সেন নদীর দুই পাড়ের সংযোগ সেতুতে ওড়ানো হলো তিন রংয়ে ধোয়া। ১০১ অ্যাথলেট নিয়ে গ্রিস দলের অ্যাথলেটদের নৌকায় করে আসা দিয়ে মার্চ পাস্টের শুরু। একে একে আসতে থাকে দলগুলো। বড় নৌযানগুলোয় একই সাথে একাধিক দলের অ্যাথলেটরা সওয়ার হন।

    ৮৫টি নৌকায় আসেন সব দেশের অ্যাথলেটরা। নৌযানগুলো যাওয়ার সময় পাশেই পানির ফোয়ারাগুলো একসঙ্গে সক্রিয় হলে অন্যরকম কুয়াশাচ্ছন্ন আবহ তৈরি হয়। হালকা বৃষ্টি প্যারিস অলিম্পিকসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এনে দেয় জাদুকরী মাদকতাও।

    এরই মধ্যে লেডি গাগা নদী তীরে সাজানো মঞ্চে গাইতে আসেন দল নিয়ে। একটু পরই দেখা যায় বাংলাদেশ দলকে বহনকারী নৌকা। লাল-সবুজের পতাকা এবার বহন করছেন সরাসরি প্যারিস অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা আর্চার মোহাম্মদ সাগর ইসলাম। সব মিলিয়ে বাংলাদেশের পাঁচ জন অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছে প্যারিস অলিম্পিকসে। ‘ওয়াইল্ড কার্ড’ পাওয়া দুই সাঁতারু সামিউল ইসলাম রাফি, সোনিয়া খাতুনের সঙ্গে আছেন শুটার রবিউল ইসলাম ও স্প্রিন্টার ইমরানুর রহমান।

    নদীর পাড়ে সমর্থকদের সরব উপস্থিতি, তীরবর্তী বাড়িগুলোর ব‍্যালকনিতে, জানালায় দাঁড়িয়ে ক্রীড়াপ্রেমীরা উপভোগ করেন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। সংযোগ সেতুর উপর তৈরি করা হয় গ্যালারি, সেখানেও ছিলেন দর্শকরা। হর্ষধ্বনিতে মাতিয়ে রাখেন তারা অনুষ্ঠান।

    নদীর পাড়ে কেউ বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে, নাচের দল নৃত্য পরিবেশন করছে, কেউ নানা শারীরিক কসরত দেখাচ্ছে, কুচতাওয়াজও চলছে। নদীর মধ্যেই বড় বড় বোর্ডে ফুটিয়ে তোলা হয় নানা মানুষের মুখচ্ছবি। এরই মধ্যে রহস্য বাড়ায় মুখোশ পরে মশাল নিয়ে ছোটা একজনের উপস্থিতি।

    প্যারিস অলিম্পিকসের পদকগুলো তৈরির প্রক্রিয়াও দেখানো হয়। পদকে থাকছে ফ্রান্সের ঐতিহ্য আইফেল টাওয়ারের ছাপ। এরপরই মাস্ক পরা ওই ব্যক্তি একটি বক্সে রাখেন মশালটি। সেটি বয়ে আনেন বাকিরা।

    পাড় ও পার্শবর্তী বাড়িতে ব‍্যালকনির অংশে সাজানো মঞ্চে শুরু হয় সঙ্গীত। হেভি মেটালের সঙ্গে বেজে ওঠে লা মিজারেবল সিনেমার ‘ডু ইউ হেয়ার দ্য পিপল সিং’ গানটি। ফরাসি বিপ্লবের ছবি ফুটিয়ে তোলেন শিল্পীরা।

    একটু পর ফের মশাল হাতে উদয় হন মুখোশ পরা সেই মানুষটি। সেতুর উপর রাখা টর্চ পেপারে মশালটি তিনি ছোঁয়াতেই আতশবাজির ফোয়ারা ছোট দুই পাশে। সেতুর অপর প্রান্তে সাজানো মঞ্চে আবির্ভাব হয় মালিয়ান বংশোদ্ভূত ফরাসি গায়িকা আয়া নাকামুরার, তিনি গেয়ে ওঠেন ইকুয়ালিটি গানটি।

    কিছুক্ষণ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের পর দৃশ্যপটে আবার হাজির মুখোশ পরা নাম না জানা সেই রহস্যময় মানুষটি। ১৯১১ সালে চুরি হয়ে যাওয়া মোনালিসার ছবির ভাঙা ফ্রেমের সামনে নতজানু হয়ে বসে থাকতে দেখা যায় তাকে। এরপর মিনিয়নসদের তা খুঁজে পাওয়ার দৃশ্যও ফুটিয়ে তোলা হয় পর্দায়। ভিন্নধর্মী এই আয়োজনে উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শকরা।

    উস্তালিজ সেতু থেকে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, নথু-দেম ক্যাথেড্রালের পাশ ঘেঁষে অনেক সেতু পাড়ি দিয়ে অবশেষে সবাই ছুটতে থাকেন আইফেল টাওয়ারের দিকে।

    সেতুর উপর সাজানো মঞ্চে চলতে থাকে ফ্যাশন শো, গান। মার্চ পাস্টের একেবারে শেষে আসে স্বাগতিক ফ্রান্সের অ্যাথলেটদের বহনকারী ইয়াট।

    ততক্ষণে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। নদীর পাড়ে জ্বলে থাকা আলোতে অন্যরকম আবহ চারদিকে। সংযোগ সেতুতে সাজানো লাইটিং ছড়াতে থাকে মুগ্ধতা। ফরাসি সমর্থকদের বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসের ফোয়ারা বইতে থাকে।

    বর্ণিল সন্ধ্যার মুগ্ধতা ভিন্ন মাত্রা পায় নদীর মধ্যে সাজানো ভাসমান মঞ্চে জন লেননের ‘ইমাজিন’ গানের মূর্ছনায়। বৈশ্বিক সাম্যের যে গান আর অলিম্পিকসের বার্তা মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় পিয়ানোর সুরে।

    অলিম্পিকের পতাকা পিঠে মুড়িয়ে ‘কৃত্রিম’ ঘোড়ায় চেপে ছুটতে থাকতে দেখা যায় এক অশ্বারোহীকে, তার হাতে অবশ্য ছিল না মশাল। পুরানো দিনের অলিম্পিকের সংবাদ, নানা মুহূর্তের তথ্যচিত্র ভেসে ওঠে পর্দায়। অশ্বারোহী ছুটতে থাকেন। সবগুলো দেশের পতাকা নিয়ে আইফেল টাওয়ারের নিচে সমবেত হতে থাকেন প্রতিনিধিরা। এরপর সত্যিকারের ঘোড়ায় চেপে টাওয়ারের নিচ দিয়ে আগমন সেই অশ্বারোহীর। অলিম্পিকের পতাকা তিনি বয়ে নিয়ে তুলে দেন কর্মকর্তাদের হাতে। পতাকা ওড়ানোর সময় বেজে ওঠে অলিম্পিকের সঙ্গীত।

    অবশেষে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। মূল মশাল প্রজ্জ্বলনের। কিন্তু কে জ্বালাবেন? এখানে রহস্য রেখেছিল আয়োজকরা, যেমনটা ছিল লেডি গাগার উপস্থিতি নিয়েও।

    আয়োজক কমিটির সভাপতি, তিনবারের ক্যানন স্লেলুমের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন টনি এস্টাঙ্গুয়ে অ্যাথলেটদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, “এটা ভালোবাসার শহর। এবং আগামী ১৬টি দিন, এই শহর আপনাদের।” আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সভাপতি টমাস বাখ তার বার্তায় তুলে ধরেন অলিম্পিকসের উদ্দেশ্য, “এই আয়োজন বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ করে।”

    এরপর মঞ্চে আসেন বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার জিনেদিন জিদান। মুখোশ পরা সেই রহস্যময় মানবের মঞ্চে আগমণ মশাল হাতে; তুলে দেন জিদানকে। ‘জিজুর’ হাত থেকে মশাল যায় ফ্রেঞ্চ ওপেনের রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন ও রোঁলা গাঁরোর ‘সম্রাট’ স্প্যানিশ তারকা রাফায়েল নাদালের হাতে। আইফেল টাওয়ার দিয়ে ছুটতে থাকে আলোর রোশনাই।

    আরেক টেনিস কিংবদন্তি সেরেনা উইলিয়ামসের হাতে মশাল তুলে দিয়ে তার সঙ্গে স্পিডবোটে চেপে বসেন নাদাল। সেখানে তাদের সঙ্গী হন দুই গ্রেট অ্যাথলেট কার্ল লুইস ও জিমন্যাস্ট নাদিয়া কোমিনেচি। চার কিংবদন্তি মিলে মশাল নিয়ে পরিভ্রমণের পর নোঙর ফেলেন এক পাড়ে। সেখানে নিজের হাতে থাকা মশাল জ্বালিয়ে ছুটতে থাকেন ফরাসি সাবেক টেনিস তারকা এমিলি মরিসমো। টনি পারকারের পর আরও কয়েক হাত ঘুরে মশাল যায় জুডোকা টেডি রাইনার ও স্প্রিন্টার মারিয়ে-জোসে পিয়ার্সের হাতে। ল্যুভর, প্যালেস দে লা কনকর্ডের লাগোয়া বেলুনে আগুন দেন দুজনে। আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা ওঠে প্যারিস অলিম্পিকসের।

    সকালে রেলের নেটওয়ার্কে হামলায় যে শঙ্কা উঁকি দিয়েছিল, সন্ধ্যোয় তা উড়ে যায় ভিন্নধর্মী, মন জুড়ানো জমকালো উদ্বোধনীতে।

  11. মাসুদ করিম - ২৮ জুলাই ২০২৪ (৪:১৩ পূর্বাহ্ণ)

    Indirect deaths in Gaza three to 15 times more than direct deaths: Lancet
    https://today.thefinancialexpress.com.bd/views-opinion/indirect-deaths-in-gaza-three-to-15-times-more-than-direct-deaths-lancet-1722088243

    As the Israeli genocidal war machine moved on to invade Gaza in late October last year, it was killing anyone who moved and destroying anything that stood. The Israeli Occupation Force (IOF) is both massacring Palestinians and destroying their physical and social infrastructure. Even before the current war, the Gaza strip was hermitically blockaded by Israel for 17 years, turning it into an open-air prison. In fact, the Israeli blockade rendered the impoverished Gaza Strip virtually “unliveable”, a term used by the then UN Special Rapporteur Michael Lynk in 2018.

    The Gaza Ministry of Health estimates that the total number of Palestinians dead exceeds 38,000, of which more than 15,000 are children in early July. The total number of casualties is well above 120,000 and most of its 2.3 million population are displaced. According to the Wall Street Journal, by mid-December last year almost 70 per cent of Gaza’s 439,000 homes and half of its buildings have been destroyed or damaged. Now the situation is far worse.

    According to a statement issued on June 19 by the United Nations Agency for Palestinian Refugees, UNRWA, close to 70 per cent of Gaza’s water, sanitation facilities and infrastructure have been destroyed or damaged, leading to the spreading of infectious diseases.

    The Israeli Occupation Force (IOF) in pursuance of its genocidal war also destroyed the Gaza headquarters of UNRWA levelling it to the ground. UNRWA Commissioner General Philippe Lazzarini posted the images of destruction and commented, “UNRWA headquarters in Gaza, turned into a battlefield and now flattened.”

    A group of highly qualified independent UN experts declared early this month that because of a deliberate policy of mass starvation against Palestinians pursued by the Israeli government, famine has spread throughout the entire Gaza strip. The experts clearly condemned Israel deliberate policy of mass starvation in Gaza and said, “We declare that Israel’s intentional and targeted starvation campaign against Palestinian people is a form of genocidal violence and resulted in famine across all of Gaza.”

    Compounding the food and water crisis is the pollution caused by mountains of solid waste piling up across whole of Gaza. The 2,000-pound bombs dropped by Israel are changing the landscape in Gaza. So far 14, 000 of these 2,000-pound bombs have been supplied by the US. Also, about 10 per cent of bombs dropped on Gaza did not explode on impact. It is reported that more than 10 explosions of these unexploded ordnance happen every week.

    As murderous air assaults along with ground offensives continue, the Gaza Ministry of Health reports that 38,400 Palestinians have been killed and wounded more than 88,000 by the beginning of July. However, the Lancet, the prestigious British medical Journal calculates that 186,000 or more Palestinians have been killed by the Israeli Occupation Force (IOF) in Gaza, accounting for 8 per cent of Gaza’s pre-war population. The estimate is based on a conservative estimate of “indirect deaths” by the genocidal attack on Gaza. A similar percentage of the population of the US would be 26 million people.

    This figure is far more than the figure of 37,396 provided by the Gaza Health Ministry at the time of the preparation of the study. The study pointed out that the estimated death toll is higher because the official death toll does not take into account thousands of dead buried under rubble and indirect deaths caused by the destruction of health facilities, food distribution systems and other public infrastructure.

    The Lancet report noted, “In recent conflicts, such indirect deaths range from three to 15 times the number of direct deaths. Applying a conservative estimate of four indirect deaths per one direct death to the 37,396 deaths reported, it is not implausible to estimate that up to 186,000or more deaths could be attributed to the current conflict in Gaza.”

    But there are reasons to question the validity of these low benchmark assumptions given the fact that various Israeli ministers and officials have explicitly stated a goal of killing Palestinians through starvation and disease. A report published last month by the United Nations commission investigating the Gaza war said, “Israel has used starvation as a method of war, affecting the entire population of the Gaza Strip for decades to come, with particularly negative consequences for children.”

    The Lancet study further added that even if the Gaza war ends immediately, it will continue to cause many indirect deaths in the coming months and years through diseases. It further added that “collecting data is becoming increasingly difficult for the Gaza Health Ministry due to the destruction of much of the infrastructure.”

    The Lancet report clearly demonstrates that the Gaza genocide is one of greatest acts of barbarism in modern history. Yet, the Lancet study has been barely reported in the US and Western mainstream media.

    Prime Minister Benjamin Netanyahu and his murderous regime can act as they like because they enjoy the unconditional support of the US and the major European powers like the UK, France and Germany. Prime Minister Netanyahu has been accused of war crimes and crimes against humanity by the International Criminal Court (ICC). He travelled to Washington D.C. on July 24 where he addressed a joint session of Congress, essentially to provide a progress report to his principal supporters and paymasters in this genocide.

    The Lancet report rightly observed that, “Documenting the true scale is crucial for ensuring historical accountability and acknowledging the full cost of the war. It is also a legal requirement.”

    Ever since the birth of organised Zionism in 1897, its followers have been determined to establish a Jewish state on a land not theirs but populated by Palestinians. If correctly contextualised, or more precisely it is vitally important to understand that Israel is a colonial settler state. Therefore, it would be impossible to understand the current Israeli genocide that is being carried out in Gaza without understanding the colonial settler context.

    As such apartheid was knowingly and deeply entrenched in the construction of Israeli state from the beginning. As historian Rashid Khalili observes the conflict is not between two equal national movements fighting over the same land, but rather is “a colonial war waged against the indigenous population, by a variety of parties, to force them to relinquish their homeland to another people against their will.”

    It is evidently clear that the Zionist colonial settler apartheid state called Israel has been at war against Palestinians since its establishment in 1948 with the intent to establish complete control and sovereignty over Palestine. What is happening in Gaza now is not only a war but also genocide to achieve that goal.

  12. মাসুদ করিম - ২৯ জুলাই ২০২৪ (৪:২১ পূর্বাহ্ণ)

    যাত্রাবাড়ীতে ৫ দিনের সংঘাতে ওরা কারা?
    https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/9e58bcf1d787

    স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সংঘাতে এলাকাবাসীর পাশাপাশি বয়সে তরুণ কিছু ‘অছাত্র’ ছিল। তাদের মনোভাব ছিল বেপরোয়া; এরা স্থানীয় নয়।

    সরকারি চাকরিতে কোটা নিয়ে আন্দোলনে বড় আকারের সংঘাতের আগেই উত্তপ্ত হয়ে উঠে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকা, সংঘাতপূর্ণ অন্যান্য এলাকা শান্ত হতে থাকলেও অনেক বেশি সময় লেগেছে ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণে আসতে।

    কারফিউয়ের মধ্যেও সব মিলিয়ে সংঘাত চলেছে পাঁচ দিন। যাত্রাবাড়ী থেকে প্রতিদিনই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে মরদেহ, শেষ পর্যন্ত সংখ্যাটি কত দাঁড়াল, সেই হিসাব অবশ্য মেলেনি।

    স্থানীয় বাসিন্দা একজন গণমাধ্যমকর্মী জানিয়েছেন, সংঘাতে বয়সে তরুণ অনেকেই ছিলেন, যারা ছিলেন বেপরোয়া। স্থানীয় এক প্রবীণ বলেছেন, গত কয়েক বছর গড়ে উঠেছে– এমন অনেক বাড়ির মালিকদের ভূমিকা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। তারা সংঘাতে জড়িতদের জন্য ‘দুয়ার খুলে রেখেছিলেন’।

    আবার এমন ভাষ্যও পাওয়া গেছে যে, সংঘাতে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছিল স্থানীয় শ্রমজীবী, কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।

    একজন পুলিশ সদস্যকে হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখার ঘটনাটি ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করেন অনেকেই। তাদের ভাষ্য, ‘সাধারণ’ কোনো বিক্ষোভকারীর এমন কাজ করার কথা নয়।

    স্থানীয় একজন সংসদ সদস্য বলছেন, পুলিশের সঙ্গে যারা সংঘাতে জড়িয়েছেন, তাদের অনেককেই ‘প্রশিক্ষিত’ মনে হয়েছে। একজন বাড়ির মালিক বলেছেন, ‘উৎসবের মত করে’ একজোট হয়ে লড়াই হয়েছে। কেউ আহত বা নিহত হলেও ভয় না পেয়ে পাল্টা আক্রমণে গেছে বিক্ষোভকারীরা।

    স্থানীয় এক সাংবাদিক পুলিশের কাঁদুনে গ্যাস ও গুলির মধ্যেও যাত্রাবাড়ী থানায় হামলার পরিকল্পনার বিষয়টি তাদের মুখ থেকেই শুনতে পেয়েছেন।

    কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচির আগেই উত্তাপ

    ১৮ জুলাই রাজধানীর বাড্ডা ও উত্তরা এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষের আগের দিনই উত্তপ্ত হয়ে উঠে যাত্রাবাড়ী। মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের টোলপ্লাজায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, সেই আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িও যায়নি ভয়ে।

    পুলিশ সেই রাতে আর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি, বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। ঢাকা-চট্টগ্রাম আর ঢাকা সিলেট তো বটেই, ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জে যাতায়াতও অসম্ভব হয়ে পড়ে।

    পরদিন ওই সংঘাত যাত্রাবাড়ী থেকে সাইনবোর্ড হয়ে ছড়িয়ে যায় চিটাগাং রোডের দিকে। আরেক সড়কে ডেমরা রোড ধরে ডেমরা, স্টাফ কোয়ার্টার এলাকাতেও ছড়ায় সংঘাত।

    তবে যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে দক্ষিণে জুরাইনসহ ঢাকা-মাওয়া সড়কের আশপাশের এলাকাগুলো একদমই শান্ত ছিল। যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে পশ্চিমের অংশে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, জনপথ মোড়, দয়াগঞ্জ, রাজধানী মার্কেট এলাকাতেও জনজীবন স্বাভাবিক ছিল।

    সংঘাতে যারা

    রাজধানীর উপকণ্ঠ এই এলাকাটি শ্রমজীবী মানুষদের বসবাসের জন্য পরিচিত। সেখানে আছে বহু কওমি মাদ্রাসা। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, এই সংঘাতে তারা ‘অচেনা’ মানুষদের দেখেছেন, একই কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও।

    স্থানীয়রা বলছেন, ১৭ ও ১৮ জুলাই সংঘাতে স্থানীয় কিছু তরুণকে দেখা গেছে যারা ছাত্র নন, সেটা ‘দেখেই বোঝা যায়’। আশপাশের কওমি মাদ্রাসার ছেলেরাও সেখানে ছিল। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাতে বাড়ি ফিরে গেলেও ‘অছাত্ররা’ রাতেও সংঘাত চালিয়ে গেছে।

    গত ১৯ ও ২০ জুলাই ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা গেছে হতাহতদের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের। তাদের মধ্যে আছে ফুটপাথের ব্যবসায়ী, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, অটো চালক, কারখানা কর্মী, রিকশা চালক বা দোকান কর্মী। স্কুল- কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংখ্যা কমই দেখা গেছে এই দুই দিনের পর্যবেক্ষণে।

    সংঘাত থামলেও এলাকার মানুষদের মধ্যে এখনও সেই পাঁচ দিন নিয়ে আলোচনা থামেনি। শনিবার আর কুতুবখালী, রসুলবাগ, মাতুয়াইল মেডিকেল এলাকা ঘুরে স্থানীয়দের নানা বক্তব্য জেনেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

    একজন চা দোকানির ভাষ্য, “এলাকার বাড়িতে বাড়িতে গিয়া খোঁজ নেন, প্রত্যেক বাড়ি থিকা কেউ না কেউ রাস্তায় নামছে। বেশিরভাগই নামছে হুজুগে। পরে যখন গুলি মারা শুরু করছে তহন মাইনষে জিদ্দে এমন করছে।”

    অটো গ্যারেজের এর পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলন, “স্থানীয় ফুটপাথের ব্যবসায়ী, খাবার বিক্রেতা, অটো চালক, মাছের আড়তের কর্মীদের অনেকে ওই সংঘাতে অংশ নেয়। মাদ্রাসার ছেলেরাও ছিল।”

    কিছু উচ্ছৃঙ্খল কিশোরকে কেউ রাস্তায় নামিয়েছে বলেও তিনি মনে করছেন। তিনি বলেন, “এরা যেসব লাঠিসোঁটা ও অন্য কিছু নিয়ে মারামারি করতে গেছে, সেগুলোও তাদের কেউ জোগান দিয়েছে বলে মনে হয়।”

    পুলিশের ওয়ারী বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলছেন, “যাত্রাবাড়ী থেকে কদমতলী এলাকায় প্রচুর মাদ্রাসা থাকার বিষয়টা সবসময় আমাদের হিসাবের মধ্যে থাকে। সংঘাতে মাদ্রাসা ছাত্ররা অংশ নিয়েছিল, পাশাপাশি আরও কিছু লোকজন ছিল যারা ছিল ভীষণ বেপরোয়া।”

    ১৮ জুলাই ঘটনাস্থল ঘুরে আসা সাংবাদিক শেখ আবু তালেব বলছেন, “সেখানে ছাত্ররা ছিল, মাদ্রাসা ছাত্ররাও ছিল। আর ছিল কিছু কিশোর-তরুণ যারা ভীষণ বেপরোয়া। তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই তেড়ে আসে।

    “গুলি-গ্যাসের মুখেও মাঠ ছাড়ছিল না তারা। তাদের কথাবার্তায় শোনা গেছে যাত্রাবাড়ী থানায় আগুন দেওয়ার উদ্দেশ্যের কথা।”

    আবু তালেবের ভাষ্য, “যে কোনো জায়গা থেকে একটা পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে এই কিশোররা, যার কারণে তারা অনেক বেপরোয়া ছিল।”

    আন্দোলন কাছ থেকে দেখেছেন এমন ব্যক্তিরা বলছেন, বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার আন্দোলনে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা ছিল। তবে রাতের বেলায় তারা বাড়ি ফিরে যেতেন। রাতভর কিছু কিশোর-তরুণ ‘রীতিমত উৎসব করে’ সংঘাতে চালিয়ে গেছে।

    নতুন বাড়ির মালিকদের ‘সন্দেহজনক’ ভূমিকার তথ্য

    ১৯ জুলাই সেখানে রীতিমতো ‘যুদ্ধ’ চলেছে বলে মন্তব্য করলেন মাতুয়াইলের বাদশা মিয়া রোডের একজন পুরনো বাসিন্দা। তখন পুলিশ সরাসরি গুলি চালানো শুরু করে।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই ব্যক্তি বলছেন, “মাতুয়াইল এবং রায়েরবাগ এলাকাটি ১৫-২০ বছর আগেও নিচু, জলাভূমি ছিল। এখানে মাদ্রাসা ও কিছু স্কুল-কলেজকে কেন্দ্র করে বসতি গড়ে উঠে। আমি এই এলাকায় থাকি প্রায় ৪০ বছর যাবৎ।

    “এখানে প্রায় ৯০ শতাংশ লোক নতুন বাড়ি করেছে। এদের অনেকেই জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে যুক্ত বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে। কিন্তু আপনি জিজ্ঞাসা করলে বলবে ‘আমরা কোনো দল করি না’।”

    তিনি বলেন, “যখন আন্দোলনটি সহিংসতায় রূপ নেয়, তখন যাত্রাবাড়ী থেকে শুরু করে রায়েরবাগ পর্যন্ত এলাকায় অনেক বাড়ির ভাড়াটে, আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী, এমনকি অনেক বাসার দারোয়ানরাও মাঠে নেমে পড়ে।

    “যখন পুলিশ অস্ত্র নিয়ে সামনে আসে তখন সবারই তো নিজের বাড়ি-ঘরে তারা ফিরে আসে। যার কারণে তারা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকতে পেরেছে। আবার বাইরে থেকে এসে যারা এখানে মারামারি করেছে তারা কে বা কারা তার কোন হিসেব নেই, কিন্তু ধাওয়া খেয়ে দৌড় দিয়ে তারা আশপাশের বাড়িগুলোতে লুকিয়ে যেতে পেরেছে, বাড়ির মালিকরা সেটা অ্যালাউ করেছেন। যে দুয়েকটি বাড়ির মালিক বাধা দিয়েছে, তারাও শেষ পর্যন্ত বিপদে পড়ে দরজা খুলতে বাধ্য হয়েছে।”

    বাদশা মিয়া রোডের বাসিন্দা মোতাহার আলী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “সহিংসতার মধ্যে ঘর থেকে বের হতে পারিনি, বাসার নিচে নামতে গেলেই বিপদ, হয় আন্দোলনকারীরা আক্রমণ করবে না হয় পুলিশ।

    “জানালা দিয়ে সব দেখেছি। মাঝে মাঝে ছাদে উঠি কিন্তু হেলিকপ্টার দিয়ে মারা হচ্ছে কাঁদুনে গ্যাস আর সাউন্ড গ্রেনেড, তখন আরও বিপদ। যা দেখছি তা বর্ণনা করার মত না। বলতে গেলে বন্দি জীবন কাটাতে হয়েছে।”

    চোখে দেখা সহিংসতার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “প্রত্যেক বাড়ি থেকে দল বেঁধে লোকজন বের হয়ে যাচ্ছে রাস্তায়, কারও হাতে ইট কারও হাতে রড, কারও হাতে লাঠি, অনেকের হাতে দা বঁটি। বলতে গেলে কোনো না কোনো অস্ত্র তাদের সবার হাতেই ছিল।”

    মোতাহার আলী বলেন, “একজন গুলিবিদ্ধ হচ্ছে আর অন্যরা আরও বেশি চিৎকার দিয়ে বলছে, ‘আমাদের একজন মেরে ফেলছে, সবাই আসেন’। তখন আবার পুলিশের উপর আক্রমণ। বলতে গেলে আমার কাছে আন্দোলন মনে হয়নি, তারা ‘উৎসবের মত’ করে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় গেছে।

    “কত লোক মারা গেছে সেটা নিয়ে কারও চিন্তা নেই, কেউ মারা গেলে বা আহত হলে লোকজন আরও বেশি উৎসাহিত হয়ে রাস্তায় যাচ্ছে, মনে হচ্ছে যুদ্ধ লেগেছে আর কারও ঘরে থাকার সময় নেই।”

    হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে উল্লাস

    ১৭ জুলাই সকালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভারের ঢালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছিল আশপাশের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। দুপুরের পরেই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় কিছু লোকজন যোগ দেয়। সন্ধ্যার পর পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় সংঘাত।

    রাতব্যাপী পুলিশের সঙ্গে সংঘাত হয় দাঙ্গাকারীদের। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ফ্লাইওভারের টোল প্লাজা। সংঘাত ছড়ায় মহল্লাগুলোর অলি-গলিতেও। ছররা গুলির ক্ষত নিয়ে দুই বছরের শিশুসহ বেশ কয়েকজন ঢাকা মেডিকেলে আসে ওই রাতেই।

    শেষ রাতের দিকে সংঘাত থেমে যায়। ১৮ জুলাই সকালে কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা আবার রাস্তায় নামে। তাদের সঙ্গে ছিল ‘অন্যরা’ও। তারা একটি কন্টেইনারবাহী লরি আড়াআড়ি করে রেখে ফ্লাইওভারের ঢালে বাধা তৈরি করে।

    সেদিন বাড্ডা ও উত্তরায় সংঘর্ষে বেশ কয়েকজনের প্রাণ ঝরারে। একই অবস্থা হয় যাত্রাবাড়ীতেও।

    যেখানে আন্দোলনকারীরা ইট-পাটকেল ছুঁড়েছে পুলিশকে লক্ষ্য করে, তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ছুড়েছে রাবার বুলেট, ছররা গুলি এবং প্রচুর কাঁদুনে গ্যাস। দুপুরে সেখানে অবস্থান নেয় বিজিবি সদস্যরাও।

    বৃহস্পতিবার বেলা ৩টার দিকে দাঙ্গাকারীরা এগোতে এগোতে মাছের আড়তের কাছে চলে আসে, তার দেড়-দুইশ ফুট দূরেই যাত্রাবাড়ী থানা।

    দাঙ্গাকারীদের ধাওয়ায় পুলিশ অবস্থান নেয় থানায়। সেখান থেকে তারা কাঁদুনে গ্যাস মারতে থাকে। গুলিও ছোঁড়া হয় বলে জানাচ্ছেন অনেকে।

    তাতে দাঙ্গাকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে কিছুটা পিছিয়ে যায়। পরে তারা গুলির মুখে মাছের আড়তের প্লাস্টিকের চৌবাচ্চা, ছোট ছোট ড্রাম আর ট্রাফিক পুলিশের চওড়া রোড ব্যারিকেডগুলো ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে।

    এভাবে তারা কিছুটা সামনে এগিয়ে আসে, পুলিশের গুলি-গ্যাসের মুখে আবার পিছিয়ে যায়। আবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য এসে তাদের ধাওয়া দিলে তারা মহল্লার ভেতর অলি-গলিতে ঢুকে পড়ে।

    ২০ জুলাই সকাল থেকে কারফিউ শুরুর পর যাত্রাবাড়ী থেকে শনির আখড়া পর্যন্ত পুলিশ নিয়ন্ত্রণে নেয়। দাঙ্গাকারীরা সরে যায় ডেমরা রোডের দিকে। তখন ‘যুদ্ধটাও’ সরে যায় সেদিকে।

    সেদিন সকালে রায়েরবাগ এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটে, যা ছিল বীভৎস। ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই মোহাম্মদ মোক্তাদির মাতুয়াইলের বাসা থেকে অফিস ধরতে পল্টনের পথে বের হন। পথে তার পরিচয়পত্র দেখার পর একদল মানুষ তাকে পিটিয়ে হত্যা করে। এরপর মরদেহ রায়েরবাগ ফুটব্রিজে ঝুলিয়ে রাখে কয়েক ঘণ্টা।

    ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ দাবি করেছেন, এই ঘটনায় জড়িতদের নাম পরিচয় পেয়েছেন তারা।

    ২১ জুলাই পর্যন্ত রায়েরবাগ, মাতুয়াইল, সাইনবোর্ড, চিটাগাং রোড, ডেমরা, স্টাফ কোয়ার্টার এসব এলাকায় থেমে থেমে সংঘাত চলে। পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর অবস্থান ছিল সেখানে। আকাশে অনেকটা নিচু দিয়ে হেলিকপ্টার চক্কর দিতে দেখেছেন স্থানীয়রা।

    পুলিশ কর্মকর্তার ভাষ্য

    ওই এলাকায় টানা তিনদিন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাস্তায় ছিলেন কদমতলী থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বৃহস্পতিবার সারা দিন তারা রাস্তা দখল করে রেখেছে। সন্ধ্যার দিকে যাত্রাবাড়ী থানায় উপর থেকে (ফ্লাইওভারে) ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে কদমতলী থানায় আক্রমণ করে। এরপর থেকে আমদের কাছে থানা ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ আসে।”

    সাইফুল বলেন, “তবে শুক্রবার (১৯ জুলাই) জুমার নামাজের পর অন্তত ১৫/২০ হাজার লোক কাচপুরের দিক থেকে এসে শনিআখড়া ও রায়েরবাগ এলাকায় রাস্তায় অবস্থান নেয়। তারা বার বার ঢাকার দিকে প্রবেশ করার চেষ্টায় থাকে।

    “শুক্রবার সারা দিন সারা রাত এবং শনিবার দুপুর পর্যন্ত রাস্তায় ছিল তারা, পরে রাস্তা ছাড়তে বাধ্য হয়। যতক্ষণ তারা রাস্তায় অবস্থান নিয়ে ছিল ততক্ষণ বার বার পুলিশের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে, এদের হামলায় আমাদের পুলিশও মারা গেছেন।”

    সংঘাত ৫ দিনে গড়ালো কীভাবে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, “লোকজন বেশি থাকায় এবং অস্ত্রধারী হওয়ায় তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।”

    ওরা ছিল প্রশিক্ষিত: সংসদ সদস্য

    যাত্রাবাড়ী, মাতুয়াইল ও রায়েরবাগ এলাকা (ঢাকা-৫ আসন) থেকে স্বতস্ত্র প্রার্থী হয়ে গত সংসদ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন মশিউর রহমান মোল্লা সজল, তবে তিনি আওয়ামী লীগেরই নেতা।

    বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “যারা যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া এলাকায় তাণ্ডব চালিয়েছে, এরা পরাপুরি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জামায়াত-শিবির কর্মী, একদম ‘জঙ্গি’।

    “আমাদের লোকজন যতটুকু নামছে তা কিন্তু কম না। আরও বেশি নামলেও কোনো লাভ হত না, কারণ এরা সশস্ত্র ‘জঙ্গি’। আমাদের হাতে তো অস্ত্র ছিল না। এখানে তাদের কয়েকশ জন আমাদের হাজার হাজার লোককে মোকাবেলা করার মত শক্তি নিয়ে আসছে।”

    মশিউর বলেন, “তারা পুলিশের গুলির সামনে দাঁড়িয়ে ‘যুদ্ধ’ করেছে। এদেরকে থামাতে হেলিকপ্টার থেকে কাঁদুনে গ্যাস ছোড়া হয়েছে, তবুও তারা নিবৃত্ত হয়নি। এরা সাধারণ কোনো রাজনৈতিক দলের না। এই বিষয়গুলো আমরা কেন্দ্রকে জানিয়েছি।”

    এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল- এ বিষয়টিও মেনে নেন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা। বলেন, “আমাদের মধ্যে কোনো সমন্বয় ছিল না, এটা সত্য। সব নেতাকর্মী মাঠে নামেনি।”

    যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্না বলেন, “নির্বাচনের পরে আমাদের এখানে একটা বিভাজন ছিল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এমপি হয়েছে। সেক্ষেত্রে উনার সঙ্গে কারা ছিল আপনি খবর নিলে বলতে পারবেন।

    “আর আমাদের আওয়ামী লীগের লোকজন নিয়ে আমি দিন রাত মাঠে ছিলাম। কিন্তু যারা আক্রমণ করেছে, সহিংসতা করেছে তারা তো ট্রেইনিংপ্রাপ্ত। তাদের সঙ্গে মোকাবিলা লোকবল দিয়ে সম্ভব নয়। তাদের মোকাবিলা করতে সশস্ত্র হতে হবে, সেটা আমরা করতে পারিনি। ট্রেইনিং নিয়ে আসা লোকজনকে পাল্টা আক্রমণ করা কঠিন।”

  13. মাসুদ করিম - ৩০ জুলাই ২০২৪ (৩:২৫ পূর্বাহ্ণ)

    What’s behind Paris Olympics cauldron?
    https://today.thefinancialexpress.com.bd/sports/whats-behind-paris-olympics-cauldron-1722275268

    At the opening ceremony of the Paris Olympics last Friday evening, the main cauldron, lifted by a balloon, slowly ascended in the Tuileries Garden. The warm glow of the “flame” illuminated the surrounding Louvre Pyramid and the Obelisk of the Place de la Concorde.

    The Paris 2024 team showcased an unprecedented cauldron design, demonstrating France’s deeply ingrained romanticism to the world.

    However, behind this unique cauldron lies an even greater innovation – it is the first main cauldron in Olympic history without a real flame. The “flame” seen by the audience is actually a visual effect created by a combination of light flow and water mist.

    “This is a brand-new initiative. We aim to create the most eco-friendly and green Olympics, so we abandoned the traditional use of fossil fuels in favor of electricity, forming the main cauldron’s ‘electric flame’ for these Olympics,” said Tony Estanguet, president of the Paris 2024 organizing committee.

    The design of the main cauldron, like the torch, was crafted by French designer Mathieu Lehanneur. The cauldron maintains the same design style as the torch, with a sleek and metallic exterior. Hidden in the center of this 7-meter diameter cauldron are 40 LED spotlights capable of outputting 4 million lumens of light, along with 200 high-pressure mist nozzles. The controlled spray of water mist and powerful light flow create the visual effect of a warm-colored flame.

    Estanguet explained that to achieve the perfect ignition effect, when the final torchbearers – France’s Olympic judo champion Teddy Riner and athletics champion Marie-José Pérec – “lit” the main cauldron on the night of the opening ceremony, backstage staff simultaneously activated the LED lights and mist nozzles through controlled switches, instantly completing the transformation of the two different “flames”.

    For power supply, the Paris organizing committee’s partner, Electricité de France (EDF), provided a solution. Special cables were used to transmit power and high-pressure water flow to the main cauldron. The total height of the cauldron and balloon installation is approximately 30 meters.

    According to the plan, from 11am to 7pm daily, staff will control the cauldron with cables, bringing it closer to the ground for visitors to view up close. At night, the cauldron will be raised 60 meters above the ground, recreating the romantic atmosphere of the opening ceremony.

  14. মাসুদ করিম - ৩০ জুলাই ২০২৪ (৫:০৭ পূর্বাহ্ণ)

    ‘যৌন হেনস্তা’ করে, লাইটার দিয়ে মুখ পুড়িয়ে দেয়: নারী সাংবাদিক
    https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/783911fde67a
    নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় তিন নারী সাংবাদিকের ওপর এ হামলা চালানো হয়।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের মধ্যে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলাকারীদের হাতে ‘যৌন নিপীড়নের শিকার’ এবং গ্যাস লাইট দিয়ে মুখমণ্ডল পুড়িয়ে দেওয়া নারায়ণগঞ্জের এক নারী সাংবাদিক ১০ দিন পরেও ঘুমের মধ্যে আঁতকে ওঠেন; ভয় আর আতঙ্ক মানসিকভাবে কাবু করে ফেলেছে তাকে।

    তিনি বলছিলেন, “রাতে ঘুম হয় না। দুঃস্বপ্নে ঘুম ভেঙে যায়। সারাক্ষণ আতঙ্কের মধ্যে থাকি। মানুষের ভিড় দেখলেই ভয় লাগে। প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। কোনোভাবেই মাথা থেকে ওই স্মৃতি মুছতে পারছি না।”

    সোমবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের একটি বেসরকারি হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে এমন অভিব্যক্তি প্রকাশ করলেন সেই নারী সাংবাদিক।

    সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়ে ২০ জুলাই বিকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সাইনবোর্ড এলাকায় নির্যাতনের শিকার হন ৩৭ বছর বয়সী এই নারী। এ সময় তার সঙ্গে আরও দুই নারী সহকর্মী ছিলেন। তারাও মারধরের শিকার হন।

    আহত তিন নারী সাংবাদিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে কাজ করেন। তাদের মধ্যে দুইজনের সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের।

    তারা বলেন, সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর আন্দোলনরতদের একটি অংশ তাদের ওপর হামলা চালায়। হাসপাতালে যিনি ভর্তি আছেন তার শারীরিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে বলে জানিয়েছে চিকিৎসক।

    পাঁচ দিন ধরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী সাংবাদিক বলেন, আন্দোলনের শুরু থেকেই পেশাগত কারণে মাঠপর্যায়ে কাজ করছিলেন তারা। ১৯ জুলাই রাতে কারফিউ ঘোষণার পরও নারায়ণগঞ্জের একাধিক স্থান ছিল আন্দোলনকারীদের দখলে।

    পরদিন বিকাল ৪টার দিকে শহরের চাষাঢ়া থেকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক হয়ে সাইনবোর্ড এলাকায় যান তিন সাংবাদিক। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পরই হামলার শিকার হন তারা।

    ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ওই সাংবাদিক বলছিলেন, “আমরা যখন যাচ্ছিলাম তখন পরিচিত একজন বলছিলেন, ওদিকে যাইয়েন না, সাংবাদিক জানলে মেরে ফেলবে। তখন ফিরে যেতে চাইলেও সাথের জন বললো, চলেন যাই, বেশিক্ষণ থাকবো না। কিছু ছবি আর ফুটেজ (ভিডিও) নিয়ে চলে আসবো। তার কথায় সায় দিয়ে গেলাম সেখানে।

    “যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ‘ওই সাংবাদিক’ বইলাই আমাদের ঘেরাও দিয়ে ফেলে। তারপর আর কিছু বলার নাই। যার হাতে যা ছিল তা দিয়েই মারতে শুরু করলো। দুইজন কোনোমতে পালাতে পারলেও শারীরিকভাবে আমাকে ওরা হেস্তনেস্ত করে ছাড়লো। তা তো আপনারা শুনেছেনই।”

    শুধু মারধরই নয়, ‘যৌন নির্যাতনের’ শিকার হয়েছেন অভিযোগ করে তিনি হেনস্তার ঘটনা তুলে ধরেন।

    তিনি বলেন, “আন্দোলনের সময় গাড়িগুলো যেভাবে পিটাইয়া ভাঙছে, আমাদেরও একইভাবে পিটাইছে। এক পর্যায়ে একজন বলে উঠলো ‘তোরা থাম, মইরা গেলে তো মামলা খাবি’। তখনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার থেকে সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ার শব্দ পেয়ে হামলাকারীরা সরে যায়। পরে স্থানীয় দুইজন লোক আমাকে কোনোমতে ধরে রিকশা তুলে দেয়।”

    তার আগে হামলাকারীরা মুখের সামনে গ্যাস লাইটার জ্বেলে ধরলে মুখমণ্ডলের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায় বলেও তুলে ধরেন এই সংবাদকর্মী।

    আহত অবস্থায় প্রথমে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন তিনি। পরে তাকে পাঠানো হয় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলেও তিনি যেতে পারেননি।

    কারণ, পরিস্থিতি তখনও স্বাভাবিক হয়নি। এমন অবস্থায় সড়ক পথে ঢাকায় যাওয়ার ঝুঁকি আর নেননি তিনি। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে নিজ বাড়িতে না গিয়ে আশ্রয় নেন ভাইয়ের বাসায়।

    ওই সংবাদকর্মী বলছিলেন, “আমি এই পেশায় ১৪-১৫ বছর। এই শহরের অনেকেই আমাকে চেনে। এইভাবে হামলায় পড়ব কখনো ভাবিনি। আমি এইসব আর নিতে পারছি না। মাথা যন্ত্রণায় ফেটে যায়। স্মৃতিগুলো বারবার মনে পড়ে।”

    নির্যাতনের শিকার এই সাংবাদিকের ছেলে স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। মায়ের ওপর হামলা ও আচরণের ‘এমন সব কথা শোনার পর’ তার মানসিক অবস্থা নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি।

    হাসপাতালে সাংবাদিকের শয্যাপাশে ছিলেন তার ছোট বোন। তিনি বলেন, “ও (সাংবাদিক) এখন মানুষ দেখলেই ভয় পায়। কোথাও যেতে চায় না। প্যাথলজি পরীক্ষা করানোর জন্য এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে গেছিলাম। সেখানে মানুষের ভিড় দেখে আমাকে জড়িয়ে ধরে। বাড়ি ফিরে যাবে বলে ছটফট করতে থাকে।”

    এই সাংবাদিক নারায়ণগঞ্জের যে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন সেই হাসপাতালের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মাহাদী হাসান বলেন, “একবার তিনি এখানে চিকিৎসা নিয়ে বাসায় গিয়েছিলেন। পরে আবার এসে হাসপাতালে ভর্তি হন। গত পাঁচদিন তিনি ভর্তি আছেন।

    “চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার শারীরিক অবস্থা আগের থেকে ভালো। তবে তার মাথায় আঘাত বেশি। মুখের বেশকিছু অংশ ঝলসে যাওয়ায় সিটিস্ক্যান করা যাচ্ছে না।”

    ‘শরীরে ছররা গুলি নিয়েই পেশাগত কাজে’

    হামলায় মারধরের শিকার আরেক নারী সাংবাদিক আগের দিন পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশের ছররা গুলিতে আহত হয়েছিলেন। তার শরীরের তিনটি স্থানে ছররা গুলি লেগেছিল। ডান হাতে লাগা গুলিটি অস্ত্রোপচার করে বের করতে হয়েছিল বলে জানান ৪৯ বছর বয়সী ওই সাংবাদিক।

    তিনি বলছিলেন, “আগের দিন গুলি খেলেও বাসা থেকে বের হইছিলাম পেশাগত তাগিদে। কিন্তু এভাবে হামলার শিকার হব তা কোনোভাবেই ধারণায় ছিল না। যখন হামলা হয় তখন আমরা তিনজন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। মারধরের এক পর্যায়ে কোনোমতে আমি দৌঁড়ে একটি নির্মাণাধীন ভবনের নিচে গিয়ে আশ্রয় নেই। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহযোগিতায় সেখানে অনেকক্ষণ অবস্থানের পর গলির রাস্তা দিয়ে আবারও হামলার শিকার হব কি না সেই আতঙ্ক নিয়ে বাসায় ফিরতে পারি।

    “কিন্তু আমাদের তিনজনেরই মোবাইল, ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ায় বাকি দুজনের খবর তৎক্ষণাৎ নিতে পারিনি। পরে আমার সঙ্গে থাকা দুই সহকর্মীর খোঁজ পেয়েছি অন্য সহকর্মীদের মাধ্যমে। তাও প্রায় দুই ঘণ্টা পর।”

    ওইদিনের ঘটনার ‘ট্রমা’ কাটিয়ে উঠতে পারছেন না, রাতে জানালার পাশে কেউ দাঁড়ালেই আতঙ্ক বোধ করেন জানিয়ে তিনি বলেন, “ওইদিন আমাদের সঙ্গে আরও খারাপ কিছু হতে পারতো। সেই সিচুয়েশন তৈরি হয়েছিল। নিজেকে একটু স্বাভাবিক করতেই আজ (রোববার) বাসা থেকে বের হলাম।

    “সাংবাদিকরা মানুষের কথা বলে। সাংবাদিকরা কোনো দলের বা গোষ্ঠীর নন। পেশাগত কাজ করতে গিয়ে এমনভাবে হামলার শিকার হয়েছি, যা ন্যাক্কারজনক। এইটার বিচার হওয়া উচিত।”

    তিনি বলেন, “কিন্তু তার চেয়ে বড় একটি বিষয় আমাকে আঘাত দিয়েছে, তা হল- আমার অনেক সহকর্মী খোঁজ-খবর নিয়েছেন, শারীরিক অবস্থা জানতে চেয়েছেন। কিন্তু কেউ কেউ আবার বলেছেন, ‘গ্যাছো কেন এই পরিস্থিতিতে ওইদিকে’। এইটা আমাকে আঘাত করে। আমি আমার কাজ করতে যাব না? নাকি কেবল নারী বলে এই ধরনের তাচ্ছিল্য আমাদের প্রতি?”

    হামলার শিকার তৃতীয়জনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

    তবে তার দুই সহকর্মী জানিয়েছেন, তিনিও ব্যাপক মারধরের শিকার হয়েছেন। তবে এখন শারীরিক পরিস্থিতি অনেকটা ভালো।

    এদিকে, সোমবার বিকালে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিককে দেখতে যান জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন।

    এর আগে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আন্দোলন চলাকালীন আহত হওয়া আরও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। তাদের মধ্যে অনলাইন পোর্টাল জাগো নিউজের প্রতিবেদক শ্রাবণ মোবাশ্বির গুলিতে আহত হয়েছেন। তার মাথায় বিদ্ধ একাধিক গুলি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করতে হয়েছে।

    আন্দোলনকারীদের হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক নয়াদিগন্তের ফটোসাংবাদিক মনিরুল ইসলাম সবুজও।

    ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, “ছাত্ররা ন্যায্য একটি আন্দোলনে ছিল। সেই আন্দোলনকে ব্যবহার করে সারাদেশে সন্ত্রাসীরা তাণ্ডব চালিয়েছে। বিশেষ করে গণমাধ্যম ও গণমাধ্যমকর্মীর ওপর তারা হামলা চালিয়েছে। সরকারি উন্নয়নগুলো ধ্বংস করার চেষ্টা চালিয়েছে। আমরা কেউ বিশ্বাস করি না, ছাত্রদের দ্বারা এই ধরনের তাণ্ডব হতে পারে।

    “নির্যাতনের শিকার তিনজন নারী সাংবাদিকের একজনের অবস্থা খুবই খারাপ। তার সঙ্গে যা হয়েছে তা মুখেও প্রকাশ করা যায় না। মায়ের জাতির সঙ্গে তারা এই ধরনের বর্বরতা কীভাবে করে তা আমার বুঝে আসে না।”

    প্রধানমন্ত্রী আহত সাংবাদিকদের সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান তিনি।

  15. মাসুদ করিম - ৩০ জুলাই ২০২৪ (৫:৩৩ পূর্বাহ্ণ)

    পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাসুদের ‘শরীরজুড়ে ছিল কোপ আর রডের আঘাত’
    https://bangla.bdnews24.com/samagrabangladesh/9c0fbe42e88d

    ছুটিতে থাকা অবস্থায় ১৯ জুলাই রাজধানীর রামপুরার বনশ্রী এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে হামলার শিকার হন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ছুটিতে থাকা অবস্থাতেই সাদা পোশাকে রাজধানীর রামপুরায় হামলাকারীদের হাতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভুঁইয়া। তার পরিবার বলছে, মাসুদের সারা শরীরজুড়ে ছিল অস্ত্রের কোপ আর রড দিয়ে পেটানোর জখম।

    আন্দোলনের মধ্যে ১৮ জুলাই কয়েক হাজার মানুষ গিয়ে তালা ভেঙে মাসুদের কর্মক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জের পিবিআই কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। সেদিন তিনি কার্যালয়ে ছিলেন না।

    ছুটিতে রামপুরার বনশ্রী এলাকায় পরিবারের সঙ্গে ভাড়া বাসায় ছিলেন। পরদিন ১৯ জুলাই বাসা থেকে বেরনোর পর তিনি হামলার শিকার হন। হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও রড দিয়ে পিটিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। পরে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

    পরিবারের সদস্যরা এখনও বুঝে উঠতে পারছেন না, কেন তাকে হত্যা করা হলো? কারণ, ছুটিতে থাকায় সেদিন তিনি ডিউটিতে ছিলেন না। সাদা পোশাকে ছিলেন। ‘পরিকল্পিত হত্যার’ অভিযোগও করেছেন।

    ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি ইউনিয়নের কালান্দর গ্রামের আব্দুল জব্বার ভূঁইয়া ও গুলজান বেগমের আট ছেলে-মেয়ের মধ্যে মাসুদ পারভেজ ষষ্ঠ। ১৯৯৬ সালে উপ-পরিদর্শক হিসেবে পুলিশে যোগদান করেন মাসুদ। পরে পদোন্নতি পেয়ে পরিদর্শক হন।

    কর্মক্ষেত্র নারায়ণগঞ্জ হলেও স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে ঢাকার রামপুরা বনশ্রী এলাকায় বসবাস করতেন মাসুদ পারভেজ-মেরিনা আক্তার বীনা দম্পতি।

    তাদের বড় মেয়ে উম্মে মাইশা স্নেহা ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটিতে ইংরেজি সাহিত্যে প্রথম বর্ষে অধ্যয়নরত। মেঝ মেয়ে উম্মে মাহিরা নেহা এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। সবার ছোট ছেলে আহনাফ মাহিন ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অষ্টম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।

    মাসুদকে তার গ্রামের বাড়িতেই দাফন করা হয়েছে। রোববার দুপুরে বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, সুনশান নিরবতা। বাড়ির একটি ঘরে খাটে শুয়ে ছিলেন গুলজান বেগম।

    তার পাশেই দেয়ালে ফ্রেমবন্দি মাসুদের দুটি ছবি। সাদাকালো ছবি হাতে নিয়ে বারবার আদর করার পাশাপাশি গুলজান বেগম কথা বলছিলেন সাংবাদিকদের সঙ্গে।

    পরিবারের সদস্যরা জানান, ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই বাকহীন, স্তব্ধ হয়ে গেছেন গুলজান বেগম। কাঁদতে কাঁদতে বারবার মূর্চ্ছা যাচ্ছেন তিনি। আহাজারি যেন কোনোভাবেই থামছে না। তাকে শান্তনা দেওয়ার ভাষা নেই। বয়সের ভারে দীর্ঘদিন ধরে ভুগছেন কিডনি, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ সমস্যায়।

    বারবার বলছেন, “তুমরা আমার কলিজার টুকরো ছেলেকে এনে দাও; আমার ছেলে নেই, এখন কে আমাকে ওষুধ কিনে দিবে? আমার ছেলেকে সন্ত্রাসীরা হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।”

    মাসুদ পারভেজ পরিবারের পাশাপাশি গ্রামের মানুষদেরও সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। বেশ বন্ধু-বৎসল ছিলেন বলে প্রতিবেশীরা জানান। মাসুদের এমন হত্যায় গ্রামের শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। তার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছেন না।

    মাসুদ পারভেজ ভুঁইয়ার ছোট ভাই সোহেল ভুঁইয়া বলেন, “বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের সব দায়-দায়িত্ব ভাইয়ের হাতে ছিল। আমাদের খোঁজ-খবর নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের আগে মায়ের খবর নিতেন। মাস শেষ হওয়ার আগেই মায়ের ওষুধ কিনে পাঠিয়ে দিতেন। প্রতিমাসে মাকে একবার ডাক্তার দেখাতেন।”

    তিনি বলেন, “আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে কর্মরত থাকলেও অফিস করতেন ঢাকার বাসা থেকে গিয়ে। ঘটনার দিন বাসা থেকে চা খেতে সন্ধ্যার পর বের হন। পরে অপরিচিত নাম্বার থেকে বাসায় কল দিয়ে জানানো হয়, ভাইকে কুপিয়ে রাস্তার মধ্যে ফেলা রাখা হয়েছে। তাকে এমনভাবে আঘাত করা হয়েছে মানুষ মানুষকে এভাবে কখনও মারতে পারে না। আমি ভাই হত্যার সঠিক বিচার চাই।”

    কোটা আন্দোলনের মধ্যে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিন সদস্য নিহত হয়েছেন। তারা হলেন- পরিদর্শক মাসুদ পারভেজ ভূঁইয়া, ট্যুরিস্ট পুলিশের এএসআই (নিরস্ত্র) মো. মোক্তাদির এবং ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের নায়েক গিয়াস উদ্দিন।

    তাদের পরিবারকে আইজিপির ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে অনুদান দেওয়া হয়।

    মাসুদ পারভেজের মেরিনা আক্তার বীনা রোববার দুপুরে তিন ছেলে-মেয়েকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন।

    তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হত্যার বিচারের পাশাপাশি সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। কোনো সহযোগিতা না পেলে তিন সন্তানকে নিয়ে চলা খুব কষ্ট হয়ে যাবে।”

    বীনা বলেন, ঘটনার দিন তাকে (মাসুদ) বাস থেকে বের হতে না করেছিলেন। কিন্তু সে সবাইকে সতর্ক করে নিজেই বের হয়ে মৃত্যু ডেকে আনল।

    “তার সারা শরীরে শুধু আঘাত আর আঘাতের চিহ্ন। ধারালো অস্ত্র কুপিয়ে রড দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় এক নারী রাস্তা থেকে মাসুদকে তুলে নিয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করে।”

    সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার সকালে মাসুদ মারা যান। পরে ওইদিন রাতে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    স্থানীয় বাসিন্দা খোকন মিয়া বলছিলেন, “মাসুদ ভাই এলাকার মানুষের কাছে ভাল মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার মৃত্যু কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারছি না। কেউ কোনো সমস্যায় পড়ে এলাকার নাম বলে কল দিলেই তিনি সাহায্য করতেন। যারা ভাইকে হত্যা করেছে, তারা যেন কোনো ভাবেই ছাড় না পায়।”

  16. মাসুদ করিম - ৩০ জুলাই ২০২৪ (৬:০৮ পূর্বাহ্ণ)

    কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্বে ‘ছাত্রশক্তি’র এরা কারা?
    https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/53f6968c3a28

    সমন্বয়কদের কমিটির তালিকায় দেখা যায়, ২৩ জন সমন্বয়কের মধ্যে ৯ জনই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

    সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী আন্দোলন আবার শুরু হলে এক পর্যায়ে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ এর ব্যানারে আসতে থাকে কর্মসূচি; যেটির নেতৃত্ব দেওয়া সমন্বয়কদের মধ্যে গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির নেতাদের আধিক্যের তথ্য সামনে এসেছে।

    সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ ব্যানারকে তুলে ধরা হলেও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছাত্রশক্তির নেতাদের নিতে দেখা যায়।

    সমন্বয়কদের কমিটির তালিকায় দেখা যায়, ২৩ জন সমন্বয়কের মধ্যে ৯ জনই গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির শীর্ষ পর্যায়ের নেতা।

    প্রায় ১০ মাস আগে গঠিত ’ছাত্রশক্তির’ নেত্বত্বে রয়েছেন ২০১৮ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ’সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের’ অন্যতম নেতা আখতার হোসেন। পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সমাজসেবা সম্পাদক নির্বাচিত হন।

    আখতার হোসেনেরে নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’ নামে নতুন এ ছাত্র সংগঠন।

    এবার হাই কোর্টের রায়ের পর নতুন করে কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরুর পর তা কোটা সংস্কার আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে গত ৮ জুলাই আন্দোলনকারীরা ৬৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করেন, সেখানে ২৩ জন সমন্বয়ক ও ৪২ জন সহসমন্বয়ক রয়েছেন।

    এদের মধ্যে ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা হলেন- ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব নাহিদ ইসলাম, যুগ্ম সদস্যসচিব আসাদুল্লাহ আল গালিব, নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি ও সদস্য সোহাগ মিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, সদস্যসচিব মো. আবু বাকের মজুমদার ও যুগ্ম সদস্যসচিব আব্দুল হান্নান মাসুদ।

    এছাড়া কমিটির সহসমন্বয়ক রিফাত রশীদ, হাসিব আল ইসলাম, আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন, নিশিতা জামান নিহা গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সদস্য।

    এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কমিটিতে সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন ছাত্রলীগ থেকে মনোনীত অমর একুশে হল ছাত্র সংসদের সদস্য সারজিস আলম। ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক থাকার কথা আলোচনায় এসেছে।

    ঢাকা বিশ্বিবদ্যালয় ছাত্র ফেডারেশনের সদস্যসচিব উমামা ফাতেমাও সমন্বয়ক হিসেবে রয়েছেন।

    কোটা নিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ ইসলামসহ বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক বর্তমানে ডিবি হেফাজতে রয়েছেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে গোয়েন্দারা তাদের হেফাজতে রেখেছেন বলে সরকারের তরফে বলা হয।

    কমিটিতে কেন ছাত্রশক্তির নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হল- ডিবি হেফাজতে যাওয়ার আগে এমন প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছিলেন, “হাই কোটের্র রায়ের পর ৫ জুন আমাদের আন্দোলন শুরু হয়। শুরু থেকে যারা সংগঠক হিসেবে কাজ করেছে, সময় দিয়েছে তারাই কমিটিতে অগ্রাধিকার পেয়েছে। ৬৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির কয়জনই বা কমিটিতে আছে? এখানে ছাত্রলীগের কয়েকজন রয়েছে, ছাত্র ফেডারেশনের রয়েছে।

    “আমরা বলেছি, এটা কোনো দলীয় বা সাংগঠনিক ঐক্য নয়, এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপেন প্ল্যাটফর্ম। এখানে কারো দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। এটা শুধু কোটা বৈষম্য নিরসনের জন্যই কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের দাবি পূরণের সাথে সাথে এ প্ল্যাটফর্মের কার্যকারিতা হারাবে।”

    ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনেরে নেতৃত্বে ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’ নামের নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশের দিন বলা হয়েছিল, এটি হবে রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তিমুক্ত স্বতন্ত্র একটি ছাত্র সংগঠন।

    ‘ছাত্রশক্তির’ আত্মপ্রকাশের দিনই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন আখতার হোসেনসহ কয়েকজন নেতা।

    ওই সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ ছিল, আখতার ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে আখতার তখন তা অস্বীকার করেন।

    আখতার পরিচিত পান সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০১৮ সালের আন্দোলন চলাকালে। তখন আন্দোলন চলেছিল সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে।

    পরে ২০১৯ সালের মার্চে অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে এ ব্যানারের প্যানেল থেকে প্রার্থী হয়ে ভিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নুরুল হক নুর। তার সঙ্গী আখতার হোসেন হয়েছিলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক। ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে এই সংগঠনের নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ করা হয়।

    পরে নুরুল হক নূর গণঅধিকার পরিষদ নামে রাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। ছাত্র অধিকারের কেন্দ্রীয় নেতারা নুরের নেতৃত্বাধীন গণ অধিকার পরিষদে গিয়ে দলীয় লেজুড়বৃত্তি করছে অভিযোগ এনে ২০২৩ সালের ২৩ জুলাই একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দেন সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা।

    পরে ৪ অক্টোবর তারা ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’ নামে স্বতন্ত্র ছাত্র সংগঠনের আত্মপ্রকাশ করেন। প্রাথমিকভাবে গঠিত ২১ সদস্যের কমিটিতে আখতার হোসেন নিজেই আহ্বায়ক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. নাহিদ ইসলামকে সদস্য সচিব করা হয়। এক বছরের জন্য এই কমিটি আগামী ৪ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হবে।

    এছাড়া ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে আহ্বায়ক এবং মো. আবু বাকের মজুমদারকে সদস্য সচিব করে ছাত্রশক্তির ৩৩ সদস্যের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল।

  17. মাসুদ করিম - ৩১ জুলাই ২০২৪ (৬:৫৪ পূর্বাহ্ণ)

    থেমে গেল গায়ক জুয়েলের কণ্ঠ
    https://bangla.bdnews24.com/glitz/70ff1b93cb5f
    মঙ্গলবার ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জুয়েল মারা যান।

    এক যুগের বেশি সময় ধরে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই, দেশে-বিদেশে চিকিৎসা আর এ সবের মধ্যেই জীবিকা চালিয়ে নেওয়ার সংগ্রাম থামিয়ে চলে গেলেন নব্বই দশকের গায়ক হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল।

    মঙ্গলবার বেলা ১১টা ৫৩ মিনিটে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর।

    জুয়েলের মেজ ভাই মহিবুল রেজা রুবেল গ্লিটজকে বলেন, “ওর অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে যাচ্ছিল। কিন্তু গত রাত থেকে শ্বাসকষ্টের সমস্যাটা হঠাৎ বেড়ে যায়। সকালে হাসপাতাল থেকে ফোন করে আমাদের সবাইকে আসতে বলা হয়৷ আমরা হাসপাতালে পৌঁছানোর ৩০-৪০ মিনিট পরে জুয়েল মারা যায়।”

    জুয়েলের মরদেহ বনানীর বাসায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জানিয়ে তার ভাই বলেন, “বাদ আসর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে তার দাফন হবে।”

    ২০১১ সাল থেকে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করছেন জুয়েল। শুরুতে যকৃতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। সেখান থেকে এই মারণব্যধি ছড়িয়ে পড়ে ফুসফুসেও।

    দেশে ও দেশের বাইরে বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলের চিকিৎসা হয়েছে। কিন্তু মাঝেমধ্যেই শরীর খারাপ করছিল জুয়েলের।এর মধ্যে শ্বাসকষ্ট গুরুতর হলে গত ২৩ জুলাই তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়েছিল বলে গ্লিটজকে জানিয়েছিলেন রুবেল।

    গান গাওয়ার পাশাপাশি টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাতাও ছিলেন এই গায়ক। যুক্ত ছিলেন ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজেও।পরিবারে তার স্ত্রী এবং এক মেয়ে আছে।

    নব্বইয়ে দেশে ব্যান্ড সংগীত নিয়ে যখন তুমুল উন্মাদনা শুরু হয়, জুয়েল সংগীত জগতে পা রাখেন ঠিক সেই সময়টায়। তার প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশিত হয় ১৯৯৩ সালে।

    এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘এক বিকেলে (১৯৯৪)’, ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) এবং ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭)।

    জুয়েলের ১০টি একক অ্যালবামের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা পেয়েছে ‘এক বিকেলে’ অ্যালবামটি। এটি প্রকাশের পর তার নাম হয়ে যায় ‘এক বিকেলের জুয়েল’।

  18. মাসুদ করিম - ৩১ জুলাই ২০২৪ (৬:৫৫ পূর্বাহ্ণ)

    ডয়েচে ভেলের সাংবাদিক বললেন, ‘এমন ধ্বংসযজ্ঞ শিক্ষার্থীদের দ্বারা সম্ভব নয়’
    https://www.banglatribune.com/others/856277/%E0%A6%8F%E0%A6%AE%E0%A6%A8-%E0%A6%A7%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%AF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%AC-%E0%A6%A8%E0%A6%AF%E0%A6%BC

    সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর শেষে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে সৃষ্ট সহিংসতা ও পরবর্তী বাংলাদেশ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জার্মানভিক্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান দেবারতি গুহ বলেছেন, ‘এমন ধ্বংসযজ্ঞ শিক্ষার্থীদের দ্বারা সম্ভব নয়।’

    ডয়েচে ভেলেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের আর্কাইভ ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। আমি যখন সেটা দেখলাম তখন আমার নিশ্চিত মনে হলো এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাজ না। আমিও বিশ্বাস করি এখানে তৃতীয়পক্ষ আছে, সেটা যেই হোক না কেন। তৃতীয়পক্ষটা কে সেটা আমি বলতে পারি না, তদন্তের মধ্য দিয়ে বেরিয়ে আসবে। আন্দোলনকারীরাও বলছে তারা এই ধরনের সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত নয়। এটা খুবই দুঃখজনক যে শান্তিপূর্ণ একটি আন্দোলন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলো ‘

    তার দেখা সহিংসতাকালে বাংলাদেশ ও বর্তমান পরিস্থিতি বিষয়ে জানতে চাইলে দেবারতি গুহ বলেন, ‘আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে। কিছু সময় শিথিল করে কারফিউও চলছে। এখনও ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে কিছু কর্মসূচি চলছে। আমি বাংলাদেশে থাকাকালীন হাসপাতালে গিয়েছি, যেখানে আহত অবস্থায় অনেকে চিকিৎসাধীন। সেখানে কেবল ছাত্র আছে তা নয়, পুলিশ এবং সাংবাদিকও রয়েছে। অন্তত চার জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন, আমাদের একজন প্রতিনিধিসহ অনেকে আহত হয়েছেন। আমার মনে হয়েছে অনেকটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু শোক, প্রতিবাদ এখনও চলছে। শুরুতে পূর্ণাঙ্গ কারফিউ, এরপর দিনের একটা সময় শিথিল করে কারফিউ দেওয়া চলছে। আমি নিজে বাইরে যাওয়ার সময় কারফিউ পাস ব্যবহার করেছি। এখনও ফেসবুক-টিকটক নিষিদ্ধ। এরকম দীর্ঘসময় ধরে চলতে পারে না।’

    অনেক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়েছে সেটার প্রতিক্রিয়া এবং আটকদের পরিবার কেমন দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে, জানতে চাইলে ডয়েচে ভেলের এশিয়া বিভাগের প্রধান বলেন, ‘আমি আশা করবো রিমান্ডের নামে তাদের ওপর নির্যাতন করা হবে না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ধরনের নির্যাতন হতে আমরা দেখেছি। যখন বিরোধীদল ক্ষমতায় ছিল তখনও। সেটা নিয়ে আমি চিন্তিত এবং আমার ধারণা বেশিরভাগ বাংলাদেশি সেটা নিয়ে চিন্তিত।’

    ক্ষমতা প্রশ্নে শেখ হাসিনার অবস্থান নিয়ে জানতে চাইলে এই সাংবাদিক জানান, যদিও তিনি এর উত্তর দেওয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি নন, তবে তিনি মনে করেন শুরুতে যে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছিল সেটি সঠিক সময়ে সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার বেশ কয়েকটি ভুল করেছে। দ্বিতীয়ত, আওয়ামী লাগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে সম্পৃক্ত করা ঠিক হয়নি। তৃতীয়ত, পুলিশের আরও মানবিক আচরণ করা উচিত ছিল। আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো ঠিক হয়নি, বিশেষত ছাত্রদের ওপর। যদিও সেখানে ছাত্র ছাড়াও সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। চতুর্থত, বক্তব্য বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে কিনা সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আরও সতর্ক থাকতে পারতেন। শেখ হাসিনার জন্য এই আন্দোলন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। এমন কোনও রাজনৈতিক দল নেই যারা তার পদত্যাগ চাইতে পারে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ছবিও পোস্ট হয়েছে যে- রাতে আটক, দিনে নাটক। বছরের পর বছর বেকারত্ব, দুর্নীতির কারণে বেশ অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমি কোন সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল থেকে এ ধরনের কোনও দাবি দেখিনি।

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.