সুপারিশকৃত লিন্ক জুন ২০২১

মুক্তাঙ্গন-এ উপরোক্ত শিরোনামের নিয়মিত এই সিরিজটিতে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিন্কের তালিকা। কী ধরণের বিষয়বস্তুর উপর লিন্ক সুপারিশ করা যাবে তার কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম, মানদণ্ড বা সময়কাল নেই। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই তাঁরা মন্তব্য আকারে উল্লেখ করতে পারেন এখানে।
ধন্যবাদ।

আজকের লিন্ক

এখানে থাকছে দেশী বিদেশী পত্রপত্রিকা, ব্লগ ও গবেষণাপত্র থেকে পাঠক সুপারিশকৃত ওয়েবলিন্কের তালিকা। পুরো ইন্টারনেট থেকে যা কিছু গুরত্বপূর্ণ, জরুরি, মজার বা আগ্রহোদ্দীপক মনে করবেন পাঠকরা, তা-ই সুপারিশ করুন এখানে। ধন্যবাদ।

৪ comments

  1. মাসুদ করিম - ১ জুন ২০২১ (৪:১০ অপরাহ্ণ)

    Authors to earn royalties on secondhand books for first time
    https://www.theguardian.com/books/2021/jun/01/authors-to-earn-royalties-on-secondhand-books-for-first-time

    AuthorSHARE, a royalty fund set up by two used booksellers with support from industry bodies, is calling for more retailers to participate

    Unlike regular book sales or library borrowing, authors do not receive a penny from the sale of secondhand editions of their works – but a new scheme dreamed up by used booksellers is set to change this for the first time.

    William Pryor, founder of Somerset-based used bookseller Bookbarn International, came up with the idea to pay authors royalties on used book sales in 2015, but needed a wider partnership to make it work. World of Books Group, which describes itself as the UK’s largest retailer of used books, then got involved to help Pryor create AuthorSHARE, a royalty fund worth £200,000 for the scheme’s first year.

    Authors will be paid each time one of their books is bought directly from the World of Books and Bookbarn International websites, up to a cap of £1,000 a year.

    The Society of Authors (SoA) and the Authors’ Licensing and Collecting Society (ALCS) are supporting AuthorSHARE. Participating retailers will share their sales information with the ALCS, which will match the works with their writer members and pay them their royalties as a lump sum twice a year.

    The first payments will be made in October and anything left over from the scheme’s £200,000 fund will then be donated to the SoA’s Authors’ Contingency fund.

    Pryor said that he hoped that others in the industry will sign up to the scheme in future so it could expand.

    “As a writer as well as founder of Bookbarn, I was puzzled that authors, the very people who create the raw material of our business, were not benefiting,” said Pryor. “This is all about giving authors recognition for the value they create and we hope other retailers within this space will eventually join us in this innovative voluntary initiative.”

    Previously, authors could only receive royalties on sales of new books, but the growth of the used book market, which is predicted to be worth £563m in the UK by 2025, had seen calls for a new approach to writer remuneration.

    Chocolat author and chair of the SoA, Joanne Harris, welcomed the initiative.

    “The value of a book goes beyond the value of the paper it is printed on, so it is great to see that original creators will see some benefit when their work finds a new reader. That the scheme has come from a partnership of private companies who simply believe that this is the right thing to do is very reassuring,” said Harris.

    “This has been such a financially challenging time for so many authors. Now more than ever, the secondary incomes that come from library borrowing, copying, and now re-selling can all add up to help make a creative career a financially viable one.”

    The award-winning graphic novelist Hannah Berry, who is on the AuthorSHARE steering committee, said it was “great to be acknowledging the lifespan of a book”.

    “I don’t really know if people are reading my old books. I mean, how would I ever be aware? As far as I’ve known, as soon as they’ve been sold they just disappear off the map,” she said. “So it’s really heartening to see that there is a real will to support creators beyond the initial publication.”

    Chief executive of the SoA Nicola Solomon said that “as well as the welcome financial boost, authors love to know that their books are still being read and enjoyed long after the first sale”.

    “We know that books are often passed on or sold many times, yet authors have to date only benefited financially from the first sale. It is great to see that they will now receive a small share whenever their book is sold from the websites of Bookbarn, World of Books and other participating retailers,” she added.

    https://twitter.com/seagullbooks/status/1399636796124778500

  2. মাসুদ করিম - ৮ জুন ২০২১ (৯:৪১ পূর্বাহ্ণ)

    স্বাধীনতার ঘোষকের আলোচনা অপ্রাসঙ্গিক: রেহমান সোবহান

    https://bangla.bdnews24.com/politics/article1899234.bdnews

    ছয় দফার পথ ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব জনগণের ধারাবাহিক আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে স্বাধীনতা ঘোষণার আগেই বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভিত্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।

    উত্তাল সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরে সোমবার এক ওয়েবিনারে বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের এই সদস্য বলেন, একাত্তরের ৫ মার্চের আগেই স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

    ”এটা যখন আজকাল আলোচনা হয়, কে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে, এসব তো অপ্রাসঙ্গিক কথা। কারণ দেশ ইতোমধ্যে স্বাধীন হয়েই গেছে। একজন মাত্র লোক যোগ্য ছিলেন, যিনি সেই স্বাধীনতার নেতৃত্ব দেবেন, সেটা ছিলেন বঙ্গবন্ধু।”

    পাকিস্তানি শাসন-শোষণ-বঞ্চনা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে ১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সব বিরোধী রাজনৈতিক দলকে নিয়ে ডাকা এক জাতীয় সম্মেলনে পূর্ব বাংলার জনগণের পক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

    ছয় দফার মূল বক্তব্য ছিল: প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্র বিষয় ছাড়া সকল ক্ষমতা প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে। পূর্ববাংলা ও পশ্চিম পাকিস্তানে দুটি পৃথক ও সহজ বিনিময়যোগ্য মুদ্রা থাকবে। সরকারের কর, শুল্ক ধার্য ও আদায় করার দায়িত্ব প্রাদেশিক সরকারের হাতে থাকবে, দুই অঞ্চলের অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রার আলাদা হিসাব থাকবে এবং পূর্ববাংলার প্রতিরক্ষা ঝুঁকি কমানোর জন্য এখানে আধা-সামরিক বাহিনী গঠন ও নৌবাহিনীর সদর দফতর থাকবে।

    সেই ৬ দফা দাবি আদায়ে ৭ জুন ঢাকাসহ সারা বাংলায় আওয়ামী লীগের ডাকে হরতাল পালিত হয়, সূচনা হয় ব্যাপক গণজাগরণের।

    সেদিন হরতালে টঙ্গী, ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে তৎকালীন পুলিশ ও ইপিআরের গুলিতে মনু মিয়া, শফিক ও শামসুল হকসহ ১১ বাঙালি শহীদ হন, গ্রেপ্তার হন অনেকে।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে ফিরে ৬ দফার পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারাভিযান শুরু করেন এবং বাংলার আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে গিয়ে জনগণের সামনে ৬ দফার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

    স্বাধিকারের এই আন্দোলন ও আত্মত্যাগের পথ বেয়েই অর্জিত হয় স্বাধীন বাংলাদেশ।

    ঐতিহাসিক ছয় দফা দিবসের স্মরণে সোমবার আয়োজিত বিশেষ ওয়েবিনারের শিরোনাম ছিল ‘৬ দফা বাঙালির মুক্তি সনদ’।

    স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক সোবহান ছয় দফার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণকে তাদের অধিকার না দেওয়া এবং বৈষম্যের কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল ছয় দফা।

    ”সামরিক-আমলাতন্ত্র ও মুষ্টিমেয় জমিদারের হাতে ছিল পুরো পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ। এ কারণে আমরা দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বক্তব্য উপস্থাপন করেছিলাম। সম্পদ পাকিস্তানের এই অংশে পাঠানোর কিংবা স্বায়ত্বশাসন দেওয়ার। স্বায়ত্বশাসনকে কেন্দ্র করে বঙ্গবন্ধু বহু আলোচনার প্রেক্ষাপটে ছয় দফা ঘোষণা করেন।”

    ছয় দফা ঘোষণার পর বাঙালির অধিকার আন্দোলন ক্রমান্বয়ে গ্রামেগঞ্জে এবং সব পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “এর আগে আন্দোলন মূলত ছাত্রসমাজকে কেন্দ্র করে মধ্যবিত্তের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু ছয় দফার পর এটা সব পর্যায়ে ছড়িয়ে যায়।

    ”এ কারণে পাকিস্তানিরা এটাকে সহজভাবে নেয়নি। তারা নির্যাতন চালায়, অনেককে হত্যা করে এবং গণহারে গ্রেপ্তার করা হয়। জনগণের রাস্তায় নেমে আসায় পাকিস্তানিরা ভীত হয়ে পড়েছিল।”

    বঙ্গবন্ধুর নামেই আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠিত হচ্ছিল জানিয়ে রেহমান সোবহান বলেন, “উনার নামেইতো আমি নয় মাস আন্তর্জাতিকভাবে আন্দোলন করেছি। কারণ তিনি মার্চ মাসেই আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন।

    ”পুরো পৃথিবীর সাংবাদিক সমাজতো ঢাকায় বসে ছিল। সে কারণে বাংলাদেশ কি, সেটা আমাদের প্রচার করার দরকার ছিল না। কারণ সবাই এটা জানত।”

    ছয় দফা ধরে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারে যাওয়ার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, “যেখানেই আমরা গিয়েছি, ট্যাক্সি ড্রাইভার হোক, রেস্তোরাঁয় বেয়ারা হোক, সবাই জানত, শেখ মুজিব একটা ক্যাম্পেইনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”

    বঙ্গবন্ধুর সফরসঙ্গী হয়ে ডেমরা থেকে নৌকায় কালিগঞ্জ যাওয়ার একটি ঘটনার কথাও আলোচনায় বলেন রেহমান সোবহান বলেন, ওই এলাকায় এক লাখের মত শ্রমিক জড়ো হয়েছিল। যেখানেই তারা গেছেন, সেখানে শ্রমিক-কৃষক-মেহনতি মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখেছেন।

    ”আমার বামপন্থি বন্ধুদের তখন বললাম- তোমরাতো বলেছিলে বঙ্গবন্ধু মধ্যবিত্ত শ্রেণির নেতা, ওই দেখো জওয়ান-বুড়ো থেকে শুরু করে সব পর্যায়ের মানুষ এখানে জড়ো হয়েছে।”

    আন্দোলন তীব্রভাবে চললেও পাকিস্তানিরা ছয় দফা ধরে আলোচনায় কখনো আগ্রহী ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, “শেষ মুহূর্তে তারা আলোচনায় আসে, ২৫ মার্চের আগে আগে। সে সময় তারা এটাকে গণহত্যা চালানোর প্রস্তুতি হিসাবে সৈন্য সমাবেশের জন্য ধুম্রজাল হিসাবে ব্যবহার করেছিল।”

    রেহমান সোবহানের ভাষায়, ছয় দফা বাঙালির স্বশাসনের ইশতেহারে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন অভিজাত শ্রেণি কোনোভাবে স্বায়ত্বশাসনকে মেনে নিতে চায়নি।

    “বঙ্গবন্ধু অন্য কোনো বাঙালি নেতার মত ছিলেন না। তারা বুঝে গিয়েছিল, তিনি ছাড় দেবেন না। কারণ তিনি তার অবস্থানে দৃঢ় ছিলেন। এক্ষেত্রে জনগণের ম্যান্ডেট তার ছিল। ওই পর্যায়ে গিয়ে তারা বুঝল, হত্যাযজ্ঞ চালানো ছাড়া উপায় নাই।”

    সে সময়ের তরুণ ছাত্রনেতা, বর্তমানে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু ওয়েবিনারে বলেন, মাওলানা ভাসনী, আতাউর রহমান খানসহ অন্য নেতাদের মধ্য থেকে বঙ্গবন্ধুই বাঙালি জাতির নেতায় পরিণত হয়েছিলেন। এই ছয় দফা আন্দোলনে তার দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক দৃঢ়তার কারণে মানুষ আকৃষ্ট হয়।

    আমু বলেন, সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই বঙ্গবন্ধু মুসলিম লীগের অসাম্প্রদায়িক বলয়ে রাজনীতি করতেন। অবিভক্ত ভারতে স্বাধীনতা ও স্বাধিকারের পক্ষের আন্দোলনগুলোতে বঙ্গবন্ধু যে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দিতেন, তারা কমিউনিস্ট ছাত্র ফেডারেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করত। খাজা নাজিম উদ্দিন শাহ আজিজের নেতৃত্বে একটি মুসলিম ছাত্রলীগ ছিল ঢাকাকেন্দ্রিক। আর বঙ্গবন্ধু কলকতায় সোহরাওয়ার্দী ও নুরুদ্দিনদের সঙ্গে কাজ করতেন।

    পরবর্তীতে ঢাকায় গঠিত হওয়া পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ ও আওয়ামী মুসলিম লীগ নামগুলো কীভাবে হল সে কথাও বলেন আমু।

    “পূর্ব পাকিস্তানে মুসলিম ছাত্রলীগ, আওয়ামী মুসলিম লীগ- এই নামগুলো সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে বঙ্গবন্ধু বলতেন, তখন মুসলমান, কায়েদে আজম ও পাকিস্তান একাকার ছিল। ওই সময় মুসলিম শব্দ না দিলে তখনই পাকিস্তানে আমাদের রাজনীতির কবর রচনা হত। সুতরাং অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতেই রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হয়।”

    বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক আদর্শের মানুষদের পাকিস্তানের জন্মের সূচনা থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা সন্দেহের চোখে দেখেছে এবং বঞ্চিত করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা আমু।

    তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের আগে, পাকিস্তান ইস্যুতে নির্বাচনের আগে কেবল বাংলাদেশেই সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে মুসলিম লীগ জয় পেয়েছিল। বাকি চারটি রাজ্যে মুসলিম লীগ জেতেনি। অথচ ৪৭ সালে সরকার গঠিত হলে সোহরাওয়ার্দীকে সরিয়ে খাজা নাজিম উদ্দিনকে প্রাদেশিক সরকারের প্রধান করা হয়।

    হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি বর্ণনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “সোহরাওয়ার্দী সেসময় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি জিন্নাহ ও গান্ধীকে বিষয়টি বোঝাতেও সক্ষম হয়েছিলেন। কিন্তু দুই নেতার অনুসারীরাই তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে ওই অবস্থান থেকে সরিয়ে ফেলে। ওই সময় থেকেই পাকিস্তানি নেতৃত্ব সোহরাওয়ার্দীকে অবিশ্বাস করতে শুরু করে।

    বঙ্গবন্ধু শুরু থেকেই পাকিস্তানি নেতৃত্বকে মেনে নিতে পারেননি জানিয়ে আমু বলেন, “তার রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় শুরু থেকেই ছিল পাকিস্তানি নেতৃত্বের বিরোধিতা। সোহরাওয়ার্দী পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে সরকার গঠন করলেও বঙ্গবন্ধু সেই সরকারে যোগ দেননি। তিনি পাকিস্তানের কাদা গায়ে মাখেননি।”

  3. মাসুদ করিম - ১২ জুন ২০২১ (৪:৫৪ পূর্বাহ্ণ)

    পাট থেকে অ্যান্টিবায়োটিক ‘হোমিকরসিন’– ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষে অনন্য উপহার
    https://opinion.bdnews24.com/bangla/archives/66586

    ‘আর নয় পলিথিন, সোনালি আঁশ ফিরিয়ে দিন’- বর্তমান প্রবন্ধটি লিখতে গিয়ে এ শ্লোগানটির কথা মনে এলো। ১৯৯৭ সাল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের ৪০ বছর পূর্তি। আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে আমাকে। অনুষ্ঠানের ব্যানার ও ফেস্টুনে ব্যবহারের জন্য শ্লোগান তৈরি করছি আমরা। বর্তমানে কাতারের দোহা কর্নেল মেডিকেল কলেজে কর্মরত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন অনুজীব অনুপ্রাণ বিজ্ঞানী ড. মো. রুবায়েত হাসান তখন মাস্টার্সের ছাত্র। তার দেওয়া অনেকগুলো শ্লোগানের মধ্যে সোনালি আঁশের ছন্দময় শ্লোগানটি আমাদের মনে ধরলো। ব্যানার, ফেস্টুন ছাড়াও পাটের তৈরি কনফারেন্স ব্যাগের গায়ে আমরা লিখেছিলাম শ্লোগানটি। ২৫ বছর আগের শ্লোগানটি এখন মনে করিয়ে দেওয়ার সংযোগটি হচ্ছে- অতি সম্প্রতি নেচার রিসার্চ থেকে প্রকাশিত ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টে’ পাট থেকে প্রাপ্ত নতুন অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বাংলাদেশের একগুচ্ছ প্রতিভাবান বিজ্ঞানীর অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি গবেষণাপত্র: A plant endophyte Staphylococcus hominis strain MBL_AB63 produces a novel lantibiotic, homicorcin and a position one variant.

    পলিথিনের বদলে সোনালী আঁশ দিয়ে তৈরি সামগ্রী ব্যবহারের দিকে আমরা যাইনি। গত ২৫ বছরে তার ভয়াবহ ফলাফল আমরা প্রত্যক্ষ করছি। পলিথিনের বর্জ্যে শহর-গ্রাম-জনপদের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে, নদী-খাল-বিল-হাওরের তলদেশ ঢেকে ফেলেছে পলিথিন। বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির মারাত্মক অনুষঙ্গ বর্জ ব্যবস্থাপনার দিকে সরকার, নীতিপ্রণেতা এবং লুটেরা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা নজর দেয়নি। ফলে বাংলাদেশের মানুষ সৃষ্ট এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

    আরেক ভয়াবহ দূষণের কবলেও পড়েছে বাংলাদেশ। তা হলো- অ্যান্টিবায়োটিক দূষণ। অনাগত কাল থেকে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব বিশেষ করে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষ ব্যবহার করে আসছে বিভিন্ন ছত্রাক ও উদ্ভিদ থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবায়োটিক। ১৯২৮ সালে অ্যালেকজান্ডার ফ্লেমিং পেনিসিলিয়াম ছত্রাক থেকে আবিষ্কার করেন সংক্রমণবিরোধী অব্যর্থ মহৌষধ, পেনিসিলিন অ্যান্টিবায়োটিক। এ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে মারাত্মক সব সংক্রমণের বিরুদ্ধে আধুনিক কালের অ্যান্টিবায়োটিকের জয়যাত্রা শুরু। কিন্তু অ্যান্টিবায়োটিকের অযাচিত ও অপরিণামদর্শী বহুল ব্যবহারের কারণে প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর বিরুদ্ধে রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াসমূহ গড়ে তোলে প্রতিরোধ। একের পর এক আরও শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক আসে বাজারে। তারাও অকার্যকর হয়ে পড়ে অচিরে।

    এমন এক প্রেক্ষাপটে সোনালী আঁশের পাটবীজের এক বিশেষ এন্ডোফাইট স্টাফিলোকক্কাস হোমিনিস থেকে নিঃসৃত ল্যান্টিবায়োটিক গ্রুপের নতুন এক অ্যান্টিবায়োটিক ‘হোমিকরসিন’ এবং তার ভিন্ন একটি রুপ ‘হোমিকরসিন ১’ প্রথমবারের মত আবিষ্কার করেছেন গত তিন বছর সময় ধরে একনিষ্ঠ গবেষণারত বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের একটি দল। নতুন এ অ্যান্টিবায়োটিকের নাম ‘হোমিকরসিন’ তারা দিয়েছেন ব্যাকটেরিয়া (Staphylococcus Hominis) এবং পাট (Corchorus)- জাত উৎসের কথা বিবেচনা করে। জ্যেষ্ঠ দুইজন বিজ্ঞানী ড. হাসিনা খান এবং ড. মো. আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম এবং শাম্মি আখতারসহ একগুচ্ছ নবীন বিজ্ঞানী এ অনন্য ফলাফলটি নিয়ে এসেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগ ও জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ বৈজ্ঞানিক ও শিল্প গবেষণা কাউন্সিলের (বিসিএসআইআর) গবেষণাগারে তিন বছর ধরে গবেষণা চলে। এই গবেষণায় যুক্ত বিজ্ঞানীদের সম্পর্কে আরও বলবো। তার আগে পাটের এন্ডোফাইট ও ল্যান্টিবায়োটিক নিয়ে দুটো কথা বলবো।

    এন্ডোফাইটস হলো- মূলত ছত্রাক এবং ব্যাকটেরিয়া গোষ্ঠীভুক্ত অণুজীব যারা প্রধাণত বীজের মাধ্যমে উদ্ভিদের দেহে প্রবেশ করে এবং আন্তঃকোষীয় স্থান জাইলেমে উপনিবেশ স্থাপন করে। এরা সাধারণত উদ্ভিদে আপাত কোনও রোগের লক্ষণ সৃষ্টি করে না বরং উদ্ভিদের সাথে এক পরষ্পর উপকারী সহজাত সম্পর্ক বজায় রেখে চলে। এন্ডোফাইটগুলি মূলত উদ্ভিদ ও ফসলের কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণে এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং বিকাশ এবং ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এসব কারণে এন্ডোফাইটের প্রতি প্রাণবিজ্ঞানীদের নজর পড়েছে। যদিও উদ্ভিদে বসবাসকারী এসব এন্ডোফাইট সম্পর্কে এখনও অনেক কিছুই অজানা, তবে এ কথা জানা গেছে যে উদ্ভিদের বৃদ্ধি এবং সুরক্ষা ছাড়াও এন্ডোফাইটিক ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক মানুষের নানাবিধ রোগ চিকিৎসার জন্য কার্যকরী জৈব যৌগিক পদার্থের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। উল্লেখ করার মত এমন পদার্থের মধ্যে রয়েছে রোগ সৃষ্টিকারী অণুজীব বা ক্যান্সার-বিরোধী যৌগ, বিভিন্ন উপকারী অ্যালকালয়েড, অ্যান্টিঅক্সিডেন্টস, অ্যানজাইম এবং রঞ্জক। এসব বিবেচনায় গবেষকরা বিভিন্ন ধরনের এন্ডোফাইটে অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল পেপটাইডের (AMP) সন্ধান শুরু করেন। এসকল অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল পেপটাইডের মধ্যে অন্যতম এক উদাহরণ হলো ল্যান্টিবায়োটিক। এরা সাধারণত গ্রাম-পজিটিভ ব্যাকটেরিয়া যেমন, ব্যাসিলাস, এন্টারোকক্কাস, মাইক্রোকক্কাস, স্ট্রেপ্টোকক্কাস, স্ট্যাফিলোকক্কাস, অ্যাক্টিনোমাইসেটিস এবং এন্ডোফাইটিক ছত্রাকের দ্বারা নিঃসৃত অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড। তবে এন্ডোফাইটিক ব্যাকটেরিয়া-জাত ল্যান্টিবায়োটিক সম্পর্কে এ গবেষণার আগে কোন তথ্য জানা যায়নি।

    এ গবেষণায়, বিজ্ঞানীরা পাটের এন্ডোফাইট ব্যাকটেরিয়া Staphylococcus hominis strain MBL_AB63 থেকে নিঃসৃত পাঁচটি নতুন ল্যান্টিবায়োটিক খুঁজে পান। তাদের মধ্য থেকে দুটো ল্যান্টিবায়োটিক, যথাক্রমে, ‘Homicorcin’ এবং এর একটি ভিন্ন রূপ ‘Homicorcin 1’- এর বিশুদ্ধিকরণ, অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে তাদের কার্যকারিতা দেখা, প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে এদের তুলনামূলক চিত্র, নতুন এ পেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রিয়া কৌশল জানা এবং কেন এরা উচ্চতাপ কিংবা উচ্চমাত্রার অম্ল বা ক্ষারেও সক্রিয় থাকে- তার অনুপুঙ্খ অনুসন্ধান তারা করেছেন। বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন একগুচ্ছ জিন, যাদের থেকে সংশ্লেষিত হয় অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল পেপটাইড লেন্টিবায়োটিক গোত্রের উল্লেখিত অ্যান্টিবায়োটিক। এসব জিনের গোটা ক্রমবিন্যাস নির্ধারণ করে বিজ্ঞানীরা দেখলেন অতীতে প্রকাশিত পেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিক Epicidin 280-এর সাথে সাতটি অ্যামিনো অ্যাসিড ব্যতিত পুরো সাদৃশ্য রয়েছে তাদের নতুন আবিষ্কৃত দুটো অ্যান্টিবায়োটিকের।

    বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের আবিষ্কৃত ‘হোমিকরসিন’ অ্যান্টিবায়োটিকের বিশেষ গুরুত্বের বিষয়ে একটু বলতে হবে। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে মারাত্মক রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং তার ফলে বিশাল জনগোষ্ঠীর বাংলাদেশে ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি বিষয়ে পূর্বে বলেছি। নব আবিষ্কৃত অ্যান্টিবায়োটিকটি একটি পেপটাইড (ছোট প্রোটিন) হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়ার প্রতিরোধ গড়ে তোলার সম্ভাবনা অনেক কম। প্রচলিত অ্যান্টিবায়োটিকের বিপরীতে, এ পেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিকগুলোর গঠন কাঠামোতে প্রাকৃতিক অ্যামিনো অ্যাসিডের স্থলে কৃত্তিম অ্যামিনো অ্যাসিড বা ভিন্ন কোন যৌগ প্রতিস্থাপন করে তার গাঠনিক বৈশিষ্টের পরিবর্তন করা সম্ভব। এর ফলে এ পেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিকের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি কিংবা তাদের দ্রবণীয়তা বাড়ানো এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলি আরও উপযোগী করা যাবে। আশা করা যাচ্ছে, ‘হোমিকরসিন’ ল্যান্টিবায়োটিক অদূর ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিকের সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

    আমাদের বিভাগে পাট নিয়ে একনিষ্ঠ গবেষণা শুরু করেন অধ্যাপক হাসিনা খান ১৯৯৮ সাল থেকে। গড়ে তোলেন পাট গবেষণার জন্য একটি আধুনিক ল্যাব। পাটের জীবন রহস্য নিয়ে কিছু মৌলিক গবেষণা সম্পন্ন হয়ে যায় এই ল্যাবে। এর মধ্য দিয়ে সংযোগ হয় হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বিজ্ঞানী অধ্যাপক মাকসুদুল আলমের সাথে ২০০৮ সালে। এর আগের বছর পেঁপেঁ গাছের জেনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন করে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন।

    ২০০৯ সালে মাকসুদুল আলম বাংলাদেশের পাট গবেষণা কেন্দ্রের অধীনে পাটের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্পে মুখ্য গবেষক হিসেবে যোগ দেন। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের তোষা পাটের (Corchorus olitorius 04) জেনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন হয় ২০১০ সালে। এ অর্জনে অধ্যাপক হাসিনা খান ও তার গবেষক দল অবদান রাখেন। পরে ২০১২ সালে মাকসুদুল আলমের নেতৃত্বে পাটের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ছত্রাক (macrophomina phaseolina) এবং তার পরের বছর ২০১৩ সালে সাদা পাটের (Corchorus capsularis CVL1) জেনোম সিকোয়েন্সিং সম্পন্ন হয়। গভীর বেদনা ও পরিতাপের কথা বরেণ্য বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর তারিখে লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ইহলোক ত্যাগ করেন অকালে। পাটের জীবন রহস্য আবিষ্কারের স্বপ্নযাত্রায় সে সময়কার খাদ্য ও কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এ বিশাল কাজে তিনি সরকারের পক্ষ থেকে ত্বরিৎ আর্থিক সহায়তা অবারিত করেছিলেন। আরো সুখের কথা বাংলাদেশ সরকার বিজ্ঞানী মাকসুদুল আলম ও হাসিনা খানকে বিজ্ঞান গবেষণায় অবদানের জন্য রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ দিয়ে তাদের এবং বাংলাদেশের বিজ্ঞানীদের সম্মানিত করেছেন।

    আমাদের বিভাগের অধ্যাপক মো. রিয়াজুল ইসলাম ‘নুকাসিন’ নামের ল্যান্টিবায়োটিক নিয়ে কাজ করেছেন দীর্ঘদিন ধরে। উচ্চমানের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জার্নাল বিশেষ করে ২০১২ সালে অত্যন্ত নামী ‘জার্নাল অব দ্য আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি’তে তার গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় নুকাসিন অ্যান্টিবায়োটিকের সুনির্দিষ্ট বিক্রিয়া কৌশল নিয়ে। পাটের ল্যান্টিবায়োটিক নিয়ে অধ্যাপক হাসিনা খানের কাজের সাথে তার গবেষণা সংযোগ ঘটে যায়।

    অধ্যাপক মো. আফতাব উদ্দিন এ নিবন্ধে উল্লেখিত পাটের অ্যান্টিবায়োটিক ‘হোমিকরসিন’ বিশুদ্ধকরণ, অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে তার কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখা, নতুন এ অ্যান্টিবায়োটিকের বিক্রিয়া কৌশল জানা এব পেপটাইড অ্যান্টিবায়োটিকের জিনগত বৈশিষ্ট্য খোঁজা– ইত্যাদি কাজে গত তিন বছর ধরে একনিষ্ঠ গবেষণায় রত ছিলেন। জিন প্রকৌশল ও জীব প্রযুক্তি বিভাগে তার নিজস্ব ল্যাব ছাড়াও প্রাণরসায়ন বিভাগে অধ্যাপক হাসিনা খানের ল্যাব এবং বিসিএসআইআর ল্যাবে তিনি দিনরাত এ গবেষণা কাজ করে গেছেন।

    আসলে বিজ্ঞান গবেষণা সাধনার বিষয়। এমন সাধনায় নিবিষ্ট ছিলেন অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন। শুধু তাই না, নবীন গবেষক বিশেষ করে প্রাণরসায়ন বিভাগের শাম্মি আক্তারকে তিনি তার অভিযাত্রার যোগ্য সহযোগী করতে পেরেছেন। সেজন্যই গবেষণাপত্রে বিজ্ঞানীদের তালিকায় অধ্যাপক আফতাব উদ্দিনের নাম সর্ব প্রথমে এবং তার পরেই শাম্মি আক্তারের নাম।

    শাম্মি বর্তমানে জাপানের কিয়ুশু বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি গবেষণায় রত আছেন। যাকে বলে ফ্রন্টিয়ার গবেষণা, তেমন কঠিন ও জটিল তাদের গবেষণাপত্রের সংক্ষিপ্ত বাংলা তর্জমা শাম্মি আক্তারই আমার জন্য করে দিয়েছেন। মাহবুবা ফেরদৌস, বদরুল হায়দার এবং আল আমিন– প্রাণরসায়ন বিভাগের এ নবীন বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন কাজে অবদান রেখেছেন এ গবেষণায়।

    গবেষণায় গুরুর প্রয়োজন পড়ে। নবীন বিজ্ঞানী শাম্মি আক্তার, মাহবুবা ফেরদৌস, বদরুল হায়দার ও আল আমিন নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। অধ্যাপক হাসিনা খান, অধ্যাপক আফতাব উদ্দিন এবং অধ্যাপক রিয়াজুল ইসলামকে গুরু হিসেবে তারা পেয়েছেন। তাদের সম্মিলিত বিজ্ঞান সাধনায় বাংলাদেশ পেয়েছে এক অনন্য অ্যান্টিবায়োটিক ‘হোমিকরসিন’।

    এ প্রসঙ্গে ১৯৫৫ সালের পয়লা অক্টোবর তারিখে বিশ্বখ্যাত ‘নেচার’ জার্নালে প্রকাশিত ‘Ramnacin: a New Antibiotic from a Streptomyces sp.’- শীর্ষক গবেষণাপত্রটির কথা মনে এল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা মাস্টার্সে আমার গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক বরেণ্য বিজ্ঞানী অধ্যাপক কামালুদ্দিন আহম্মদ ছিলেন ‘রমনাসিনের’ মুখ্য আবিষ্কারক। আমাদের প্রাণরসায়ন বিভাগের অদূরে রমনা পার্ক থেকে স্ট্রেপ্টোমায়সিসটি সংগৃহীত ছিল বলে কামাল স্যার এ ব্যাকটেরিয়া নিঃসৃত অ্যান্টিবায়োটিকটির নাম দিয়েছিলেন ‘রমনাসিন’। ৬৬ বছর পর প্রাণরসায়ন বিভাগের কৃতি শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা পাটবীজ থেকে অমূল্য রত্ন ‘হোমিকরসিন’ অ্যান্টিবায়োটিক খুঁজে পেলেন। সে গবেষণাপত্র প্রকাশিত হলো- নেচার রিসার্চ থেকে প্রকাশিত ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টে’। কি অসাধারণ সংযোগ! ২০০৪ সালে আমাদের প্রিয় শিক্ষক অধ্যাপক কামালুদ্দিন আহম্মদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন পরপারে। তার সৃষ্ট বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা তাকে নিরাশ করেননি।

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.