রাজপথে স্তূপীকৃত গ্রন্থাবলী দিয়ে / সাজায়ে নারকী চিতা / সভ্যতার শবদাহ করে, ধ্বংস করে বিদ্যালয়, বিদ্যার্থীর / . . . কবি যারা শিল্পী যারা / জ্ঞানী যারা, অরাজক অন্ধকারে একমাত্র / আলোর ইশারা, / অত্যাচারে অপমানে নির্বাসনে / রক্তচক্ষু শাসনে ত্রাসনে / তাদের বিনাশ এর পৈশাচিক ব্রত। যদি বলি বুদ্ধদেব বসু এই কবিতার কবি, বিশ্বাস হয় কি খুব সহজে? কিন্তু এর নাম মৃত্যু... আর মৃত্যু কী ভীষণভাবে মানুষকে পাল্টে ফেলে, বদলে দেয় তার অনুভবের ভাষা, ভাষার প্রকাশ! তারই সামান্য আঁচ পাওয়া যায় এ কবিতার ভেতর দিয়ে। বুদ্ধদেব বসুর মতো রাজনীতিনিস্পৃহ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী কবিও কবিতা নির্মাণে এরকম বিকল্প বাকপ্রতিমা বেছে নেন সোমেন চন্দের নির্মম মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরে [...]

রাজপথে স্তূপীকৃত গ্রন্থাবলী দিয়ে সাজায়ে নারকী চিতা সভ্যতার শবদাহ করে, ধ্বংস করে বিদ্যালয়, বিদ্যার্থীর রক্তে করে ম্লান। যারা প্রাতঃস্মরণীয়, যারা মহাপ্রাণ কবি যারা শিল্পী যারা জ্ঞানী যারা, অরাজক অন্ধকারে একমাত্র আলোর ইশারা, অত্যাচারে অপমানে নির্বাসনে রক্তচক্ষু শাসনে ত্রাসনে তাদের বিনাশ এর পৈশাচিক ব্রত। ......... ........ ......... পশুত্বের প্রতিবাদে নিখাদে রেখাবে আজ হোক উদ্দীপিত আমার কবিতা। যদি বলি বুদ্ধদেব বসু এই কবিতার কবি, বিশ্বাস হয় কি খুব সহজে? কিন্তু এর নাম মৃত্যু... আর মৃত্যু কী ভীষণভাবে মানুষকে পাল্টে ফেলে, বদলে দেয় তার অনুভবের ভাষা, ভাষার প্রকাশ! তারই সামান্য আঁচ পাওয়া যায় এ কবিতার ভেতর দিয়ে। বুদ্ধদেব বসুর মতো রাজনীতিনিস্পৃহ ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদী কবিও কবিতা নির্মাণে এরকম বিকল্প বাকপ্রতিমা বেছে নেন সোমেন চন্দের নির্মম মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পরে। সেটি পড়তে-পড়তে এতকাল বাদেও আমরা বুঝতে পারি সোমেনের মৃত্যুতে উপচানো ক্রোধ, শোক, দ্রোহ ও দাহ। যদিও সে-সময়কে গ্রাস করেছিল রাজনৈতিক লক্ষ্যহীনতা, রাজনৈতিক মৃত্যুও ছিল আপাত লক্ষ্যহীন, তবুও সোমেন চন্দের মৃত্যুর পর অভিন্ন এক শোক, ক্রন্দন, ক্রোধ ও আকাঙক্ষায় একত্র হয়েছিলেন ছড়িয়েছিটিয়ে থাকা লেখক-সাহিত্যিক-শিল্পী-সংস্কৃতি কর্মী। ১৯২০ থেকে ১৯৪২ সালের ৮ মার্চ কি তেমন দীর্ঘ সময়? জন্মমৃত্যুর এই সামান্যতর ঘোরের মধ্যেই তিনি কী রাজনীতিতে, কী সাহিত্যে উজ্জ্বল হয়ে উঠছিলেন তাঁর একাগ্রতা দিয়ে। এই একাগ্রতার সঙ্গে কমিটমেন্টের দূরত্ব কতখানি তা মাপতে চুলচেরাবিদরা ব্যস্ত থাকুন; আমরা যা বলব তা হলো, কমিটমেন্ট হোক আর একাগ্রতাই হোক, সেটা তাঁর এই হ্রস্ব জীবনকেও এত দীপ্তিময় করে রেখেছে যেমনটি অনেকে তাঁদের অনেক দীর্ঘ জীবনেও করতে পারেন না। সোমেনের মৃত্যু এখনও কমিউনিস্ট আন্দোলন ও জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের তৎকালীন আত্মঘাতী সরলীকৃত রণকৌশলকে ধিক্কার দিয়ে বেড়ায়। এই মৃত্যুর প্রতীকী ভবিষ্য-ভাষ্যই যেন প্রতিফলিত হয় পরবর্তী সময়ের কমিউনিস্ট আন্দোলনে, বামপন্থীর আকাঙ্ক্ষা ও আত্মাহুতিতে। তবুও সান্ত্বনা, চারপাশের রাজনৈতিক লক্ষ্যহীনতা সোমেনের কমিটমেন্টকে দুর্বল করে ফেলে নি। বরং লজ্জা পেয়েছে এসব লক্ষ্যহীনতার মধ্যেও নির্ধারিত রাজনৈতিক কর্মসূচি লালন-পালনে সোমেনের একাগ্রতা দেখে। নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়ার পাদটিকা হিসাবে তাঁর জন্মতারিখ কিংবা শৈশব-কৈশোরও অজানা সবার। ম্যাট্রিক পাশ করার পরে একদিকে অর্থাভাব, অন্যদিকে প্লুরিসি বা ব্রঙ্কাইটিস জাতীয় কঠিন অসুখে মিটফোর্ড মেডিক্যাল স্কুলের ডাক্তারি পড়াও বাদ দিতে হয় তাঁকে। শুধু ডাক্তারি পড়া নয়, যে কোনও একাডেমিক লেখাপড়াও। তাঁর…

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.