বাংলাদেশের নির্বাচন ২০০৮ এবং ইন্টারনেটের ব্যবহার

আগামী ২৯শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বাংলাদেশ একটি বহুল প্রতিক্ষিত সংসদ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত নভেম্বরে সমাপ্ত বহুল প্রচারিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল যে প্রার্থীরা সিটিজেন মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা এমনকি নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে অনুদান সংগ্রহ করেছেন। তবে বাংলদেশের নির্বাচনের প্রেক্ষিত ভিন্ন কারন সাড়ে চোদ্দ কোটি লোকের শতকরা ১ ভাগেরও কম ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ পান। যদিও নতুন প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে অনেকেই ব্লগ এবং ফেসবুক ব্যবহার করে পরিস্থিতির পরিবর্তনে সচেষ্ট রয়েছেন। সামহোয়্যার ইন, সচলায়তন, আমার ব্লগ, মুক্তাঙ্গন ইত্যাদি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্মে নির্বাচন সংক্রান্ত পোস্টে ভরে গেছে যেখানে যুক্তিপূর্ণ বিতর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্লগাররা একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায়ও লিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু এসব বিতর্ক আর মতামত কি করে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে যেখানে নীতিনির্ধারকরা, যেমন রাজনৈতিক নেতারা এবং সরকারী আমলারা ডিজিটাল মিডিয়া এবং এইসব কথোপকথন থেকে আপাত:দৃষ্টিতে দূরে থাকেন। বাংলাদেশে এখনও ঐতিহ্যবাহী মূলধারার প্রচার মাধ্যমেরই প্রভাব বেশী তবে সাম্প্রতিক কালে তাদের কারও কারও একপেশে রিপোর্টিং এর কারনে তাদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছে [...]

আগামী ২৯শে ডিসেম্বর, ২০০৮ বাংলাদেশ একটি বহুল প্রতিক্ষিত সংসদ নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছে। গত নভেম্বরে সমাপ্ত বহুল প্রচারিত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দেখা গিয়েছিল যে প্রার্থীরা সিটিজেন মিডিয়া এবং ইন্টারনেট ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা এমনকি নির্বাচনী ব্যয় মেটাতে অনুদান সংগ্রহ করেছেন। তবে বাংলদেশের নির্বাচনের প্রেক্ষিত ভিন্ন কারন সাড়ে চোদ্দ কোটি লোকের শতকরা ১ ভাগেরও কম ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ পান। যদিও নতুন প্রজন্মের তরুণদের মধ্যে অনেকেই ব্লগ এবং ফেসবুক ব্যবহার করে পরিস্থিতির পরিবর্তনে সচেষ্ট রয়েছেন। সামহোয়্যার ইন, সচলায়তন, আমার ব্লগ, মুক্তাঙ্গন ইত্যাদি বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্মে নির্বাচন সংক্রান্ত পোস্টে ভরে গেছে যেখানে যুক্তিপূর্ণ বিতর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্লগাররা একে অপরের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায়ও লিপ্ত হয়েছেন। কিন্তু এসব বিতর্ক আর মতামত কি করে দেশের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে যেখানে নীতিনির্ধারকরা, যেমন রাজনৈতিক নেতারা এবং সরকারী আমলারা ডিজিটাল মিডিয়া এবং এইসব কথোপকথন থেকে আপাত:দৃষ্টিতে দূরে থাকেন। বাংলাদেশে এখনও ঐতিহ্যবাহী মূলধারার প্রচার মাধ্যমেরই প্রভাব বেশী তবে সাম্প্রতিক কালে তাদের কারও কারও একপেশে রিপোর্টিং এর কারনে তাদের প্রতি জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর ওয়েবসাইট ইন্টারঅ্যাক্টিভ নয় ফলে জনগণের মতামতকে তারা আমল দিচ্ছেন কিনা তা বোঝার উপায় নেই। এছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী হাজারো প্রার্থীর মাত্র কয়েকজনকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রচারণায় নামতে দেখা গেছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি বক্তৃতাসর্বস্ব এবং প্রচারণামূলক, খুবই কম সুযোগ আছে মূল নেতাদের সাথে কথোপকথনের এবং তাদের কাছে জবাবদিহীতা চাওয়ার। তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষদের কিছুই বলার থাকেনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে। তবে জাগরী নামে বাংলাদেশের যুবাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ফেসবুক এবং ব্লগ ব্যবহার করছে যুবাদের জ্ঞাত এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার জন্যে যাতে তারা রাজনৈতিক এবং নীতি নির্ধারনী প্রক্রিয়ায় আরও বেশী করে অবদান রাখতে পারে।

আমরা কি? ছবি: জাগরীর সৌজন্যে

জাগরী বর্তমানে একটি প্রচারণা চালাচ্ছে ‘আমাদের ভোট, আমাদের কথা নামে’। তাদের ফেসবুক পাতা থেকে এই ক্যাম্পেইনের ব্যাপারে বিস্তারিত জানুন।


জাগরীর পরিকল্পনা ও সঞ্চালনা সংক্রান্ত মিটিং। ছবি জাগরীর সৌজন্যে

সাম্প্রতিক কালে জাগরীর উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে একটি ডকুমেন্টারী তৈরি করে বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্যে ইউটিউবে তা প্রকাশ করা।

৫ মিনিট ৪৪ সেকেন্ডের এই ডকুমেন্টারীর লক্ষ্য হচ্ছে আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশীরা যাতে প্রার্থী সম্পর্কে জেনেশুনে ভোট দেন। এতে স্বাক্ষাৎকার দেয়া যুবারা বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছে। তবে এই ডকুমেন্টারী যুবাদের সেই আশাকেও তুলে ধরেছে যে একটি পরিবর্তন আসবে অচিরেই।

এ বারে নির্বাচন এবং অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের উপর অনেক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে ইন্টারনেটে। এখন প্রয়োজন বাংলাদেশীদের এইসব তথ্য সম্পর্কে জানা যাতে তারা সঠিক ব্যক্তিকে ভোট দিতে পারেন।

বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কার্যরত বেসরকারী সংস্থা সুজন একটি পুরস্কারপ্রাপ্ত সাইট পরিচালনা করছে যাতে নির্বাচনের প্রার্থীদের সম্পর্কে বিপুল পরিমান তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই সাইটের বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে রয়েছে নির্বাচন সম্পর্কে বিভিন্ন সাধারণ তথ্য, নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী প্রার্থীদের তুলনামূলক বিশ্লেষণ এবং আরও অনেক কিছু। সুজনের আরও একটি বিশেষ পরিবেশনা রয়েছে। তাদের কাছে বিভিন্ন রাজনীতিবিদদের দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রায় ৪০০০ সংবাদ মাধ্যমের রিপোর্ট ও অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের আর্কাইভ রয়েছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা প্রার্থীদের দুর্নীতির রেকর্ড কিরকম তা নাম অনুযায়ী খোঁজা যাবে ওই আর্কাইভ থেকে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সাইটেও নির্বাচন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য রয়েছে, যেমন ভোটার লিস্ট, পিডিএফ ফরম্যাটে প্রার্থীদের প্রোফাইল এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের প্রতি নির্দেশিকা

ই-বাংলাদেশ বাংলাদেশের নির্বাচন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদের লিন্ক প্রতিদিন প্রকাশ করছে এবং বিভিন্ন পর্যালোচনা ও তাজা খবর পরিবেশন করছে নাগরিক সাংবাদিকদের কাছ থেকে তাদের বিশেষ নির্বাচন কাভারেজে (ইংরেজী ভাষায়)। এই সাইটে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যেমন প্রার্থীদের তালিকা এবং বিভিন্ন দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারের লিন্ক রয়েছে। এর আরেকটি সহপরিবেশনা, বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম আমার ব্লগও তাদের নির্বাচনী বিশেষ পরিবেশনা শুরু করেছে বাংলা ভাষায়। এই সাইটে নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ ও নাগরিক সাংবাদিকদের মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় ইংরেজী ভাষার গ্রপ ব্লগ আনহার্ড ভয়েসও নির্বাচন সংক্রান্ত বিভিন্ন মতামত ও বিশ্লেষণ প্রকাশ করে যাচ্ছে।

সর্বাধিক বৃহৎ বাংলা ব্লগিং প্লাটফর্ম সামহোয়ার ইন “বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ” ইংরেজী দৈনিক দ্যা নিউ এইজ এর সাথে যৌথভাবে নির্বাচনের উপর একটি গ্রুপ ব্লগ শুরু করেছে। নিউ এইজ সংবাদপত্রও সম্প্রতি একটি নির্বাচন পোর্টাল চালু করেছে যাতে এই গ্রুপ ব্লগ থেকে নির্বাচিত লেখা এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণ ও তাজা খবর প্রকাশ করছে। এটিই এ দেশে প্রথম এমন উদ্যোগ, যেখানে একটি মূলধারার প্রচার মাধ্যম তাদের হাউজের বাইরে কোন ব্লগের সাথে মিলে কিছু করছে। এই সাইটটিতে একটি ইন্টারঅ্যাক্টিভ ম্যাপ রয়েছে যেখানে পূর্ববর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে দেখানো হয়েছে।

নির্বাচনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রচারনায় প্রযুক্তির কম ব্যবহারের এই ধারার বিপরীতে আছেন ব্লগার এবং সাংবাদিক মাসকাওয়াথ আহসান, যিনি রাজশাহী -৬ নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী হয়েছেন এবং ফেসবুক ব্যবহার করে তার নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন।

সবাই এটি এখন দেখার অপেক্ষায় যে বাংলাদেশীরা নির্বাচনের সময় ব্লগ, ভিডিও (যেমন ইউটিউব), ফটোগ্রাফ (যেমন ফ্লিকার), টুইটার ইত্যাদি বিভিন্ন নাগরিক মিডিয়া টুল কিভাবে ব্যবহার করে বিভাবে তাদের মতামত জানায়।

মূল: গ্লোবাল ভয়েসেস অনলাইনে ইংরেজীতে প্রকাশিত ও বাংলা লিঙ্গুয়ায় অনুবাদ হিসেবে প্রকাশিত।

রেজওয়ান

আমি তোমাদেরই কোন একজন। সাহিত্যিক নই তবে সাহিত্য পড়তে ভালবাসি। টেকি নই তবে টেকনলজি পছন্দ করি। গাইতে পারিনা তবে সঙ্গীতে ভেসে থাকি। জীবনের এক সন্ধিক্ষনে অবস্থান করছি।

15
আলোচনা শুরু করুন কিংবা চলমান আলোচনায় অংশ নিন ~

মন্তব্য করতে হলে মুক্তাঙ্গনে লগ্-ইন করুন
avatar
  সাবস্ক্রাইব করুন  
সাম্প্রতিকতম সবচেয়ে পুরোনো সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত
অবগত করুন
স্নিগ্ধা
সদস্য

জাগরী আর সুজন সম্পর্কে জেনে ভালো লাগলো! সত্যিই আমাদের দেশে এতো সীমিত সংখ্যক মানুষের ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ আছে যে, এই দুটো অন্তর্জাল ভিত্তিক তথ্য আর্কাইভের উপকারিতাও কতজন যে লাভ করবেন, জানি না।

তারপরও, ভালো উদ্যোগ, নিঃসন্দেহে!

সৈকত আচার্য
সদস্য

সুজন সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা থাকলে ও জাগরীর কথা শুনলাম, এই পোষ্ট দেখে। সুজনের কথা টেনে আনলাম এই কারনে যে, তাঁরা সুশাসন চান দেশে। সরাসরি কেউ ওখানে রাজনীতি করেন না। গোপনে করেন কিনা তা জানা যায় না। তবে গত দু’বছর যেভাবে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সাহসিকতার সাথে কথা বলেছেন, মতামত প্রকাশ করেছেন বা ভুমিকা রেখেছেন, তাতে করে তারা নিজেরা রাজনীতি না করলেও তাদের চিন্তাভাবনা ও কর্মকান্ড সামরিক সমর্থনপুষ্ট এই সরকারের রাজনীতিকে পুষ্টি যুগিয়েছিল। তাদের বক্তব্য এই সরকারকে আশাবাদী করে তুলেছিল। অন্যান্য অনেক অবদানের পাশাপাশি, একটি রাজনীতিবিহীন কল্পিত সমাজের প্রবক্তা হিসেবে তাদের অবদান ছিল স্মরণ করার মতো, যদিও আমরা এখনো জাতি হিসেবে… বাকিটুকু পড়ুন »

স্নিগ্ধা
সদস্য

প্রথম মন্তব্যটা লিখতে লিখতেই ভাবছিলাম, তথ্য টথ্য আর্কাইভ করে রাখা ভালো উদ্যোগ নিঃসন্দেহে, কিন্তু সে তথ্য কতখানি নির্ভরযোগ্য সেটা নির্ধারণ করা হবে কিভাবে। সৈকত আচার্যের মন্তব্য পড়ে বুঝলাম, সুজন সুম্পর্কে কিছু না জেনেই আমি খুশী হচ্ছিলাম! তবে গত দু’বছর যেভাবে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সাহসিকতার সাথে কথা বলেছেন, মতামত প্রকাশ করেছেন বা ভুমিকা রেখেছেন, তাতে করে তারা নিজেরা রাজনীতি না করলেও তাদের চিন্তাভাবনা ও কর্মকান্ড সামরিক সমর্থনপুষ্ট এই সরকারের রাজনীতিকে পুষ্টি যুগিয়েছিল। যেহেতু নিজে পড়িনি, তাই সমালোচনায় যেতে পারছি না, কিন্তু সুজনের কর্মকান্ডের কথা শুনে – খুশীটা আপাতত ফিরিয়ে নিচ্ছি! আর জাগরী সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো নিয়ে আমার মতামত হচ্ছে – ১) নির্দলীয়… বাকিটুকু পড়ুন »

রায়হান রশিদ
সদস্য

পোস্টটির জন্য রেজওয়ান ভাইকে ধন্যবাদ। (১) একথা খুবই ঠিক যে বাংলাদেশে মূল ধারার রাজনৈতিক আলাপচারিতায় ইন্টারনেট বা তথ্য প্রযুক্তি তেমন প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি এখনো। এটি কিন্তু হবার কথাও না। কয়েকটি বিষয়: যে দেশে স্বাক্ষরতার হারই এতো কম সেখানে প্রিন্ট মিডিয়াই তো গণ মানুষের কাছে পৌঁছুতে পারছেনা। আবার ইন্টারনেট, তার যতই সম্ভাবনার দিক থাকুক না কেন, আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে তার সীমাবদ্ধতাগুলোও চিহ্নিত। যেখানে সারা দেশে (এমনকি শহর অঞ্চলগুলোতেও) বিদ্যুত সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন নয়, সেখানে খুব কম মানুষেরই কম্পিউটার নামের যন্ত্রটি ব্যবহারের একসেস আছে। এরা মূল জনসংখ্যার খুব নগন্য একটা অংশ। যাদের সে সুবিধে আছে, তাদেরও খুব সীমিত অংশের একসেস আছে মানসম্মত… বাকিটুকু পড়ুন »

রণদীপম বসু
সদস্য

রায়হান রশিদের মন্তব্যের সূত্র ধরেই বলি, হতে পারে আমরা অসংখ্য না-ভিত্তিক একটা সামাজিক আবহে বাস করছি। এখনও অনলাইন ভিত্তিক ফোরামগুলো বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মধ্যে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে হয়তো পারছে না। কিন্তু এটা তো ঠিক যে আমাদের বর্তমান এবং উঠতি প্রজন্ম যারা এই অগ্রগামী অনলাইন সুবিধার ছোঁয়ায় পৌঁছতে পারছেন, তারা কিন্তু চমৎকার একটা পারস্পরিক মিথষ্ক্রিয়ার মধ্যে নিজেদেরকে চিনে নেয়ার সুযোগ পেয়ে যাচ্ছেন। ইন্টারনেট প্রযুক্তি এখনো না এলে কী হতো ? প্রচলিত তথ্য ব্যবস্থায় আমাদের তথ্যজ্ঞান সেই আগের মতোই যথানিয়মে যা পাবার তা-ই পেতো। যেভাবে যা চলছে সেভাবেই চলতো। কিন্তু প্রযুক্তির স্পর্শে এসে আমাদের একটা প্রজন্ম (যত নগন্যই হোক) অনেক বেশি জানার… বাকিটুকু পড়ুন »

অবিশ্রুত
সদস্য

খুবই গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট, অন্তত এই সময়ের বিবেচনায়। আর বিভিন্নজন এ বিষয়ে যেসব গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সূত্রপাত ঘটিয়েছেন, তাতেও অনেক গভীর ইঙ্গিত রয়েছে। বিষয়টি শিরোনামের দিক থেকে নির্বাচনে ইন্টারনেটের ব্যবহার বিষয়ক হলেও আসলে এতে অগ্রসর প্রযুক্তিনির্ভর একদল অ্যাকটিভিস্ট-এর কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা রাজনীতিতে অরাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আনার জন্যে কাজ করছেন! রেজওয়ানের এই বাক্যগুলি পড়ুন : বাংলাদেশের রাজনীতি বক্তৃতাসর্বস্ব এবং প্রচারণামূলক, খুবই কম সুযোগ আছে মূল নেতাদের সাথে কথোপকথনের এবং তাদের কাছে জবাবদিহীতা চাওয়ার। তৃণমূল রাজনৈতিক কর্মীরা এবং সাধারণ মানুষদের কিছুই বলার থাকেনা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে। তবে জাগরী নামে বাংলাদেশের যুবাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ফেসবুক এবং ব্লগ ব্যবহার করছে যুবাদের… বাকিটুকু পড়ুন »

শামীম ইফতেখার
সদস্য

এক জাগরীর ডকুমেন্টারিটা দেখলাম। ভাল লাগেনি। কেমন খাপ ছাড়া এবং অপরিণত চিন্তাভাবনায় ভরা। খুব সরলীকৃত বিচ্ছিন্ন কিছু মতামতকে তুলে ধরা হয়েছে, যেমন: “ফর দ্য ফার্স্ট টাইম আমি এবার ভোটার হয়েছি, কিন্তু আমি ভোট দিতে যাব না” (এক তরুণ) “ভোট যে দিব, আমি যাকে দেখছি তাকেই খারাপ দেখছি, আমি কাকে ভোট দিব?” (এক তরুণ) “দেশের যে কি অবস্থা! কেউই কিন্তু ইয়ের মত না! কারোই ওরকম এবিলিটি নাই টু কনট্রোল!” (এক তরুণীর বক্তব্য) “জনগণ এমন একটা অবস্থা হয়েছে যে তাদের কাছে জিন্মি। আমরা সাধারণ মানুষরা রাজনীতি করতে চাইনা” (এক তরুণ) যে জিনিসটি এখানে প্রথমেই চোখে পড়ে তা হল পরিপ্রেক্ষিতের অভাব। যেভাবে বেছে… বাকিটুকু পড়ুন »

রণদীপম বসু
সদস্য

শামীম ইফতেখার
সদস্য

@ রেজওয়ান ছিদ্রান্বেষী দৃষ্টিভঙ্গীতে আমরা অনেকেরই অনেক দোষ খুঁজে পাব। আমাদের দেশের জাতীয় চরিত্র হচ্ছে কেউ কোন নতুন উদ্যোগ নিলে তার সমালোচনায় মুখর হওয়া। . . . আমরা যদি কোন শিশুকে হাটতে শেখার সময় প্রতিবার পড়ে গেলেই সমালোচনা করি তাহলে সে কখনই হাটতে চাইবে না। আমার মন্তব্য ছিদ্রান্বেষণের মত শুনিয়ে থাকলে দুঃখিত। “তারা নির্দলীয় তবে অবশ্যই একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম” – উপরে আপনার মন্তব্য পড়ার আগেই এই ধারণাটা জন্মেছিল আমার মনে। সেজন্যই কিছুটা কৌতুহলী হয়েছি জাগরী’র ব্যাপারে। গত তের বছরে বাংলাদেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে প্রায়ই এধরণের অরাজনৈতিক-রাজনৈতিক উদ্যোগের প্রাধান্য আমরা দেখেছি। এটা যদি প্রচলিতভাবে “ধ্বংসাত্মক” ছাত্র রাজনীতি বলতে যা বোঝায়, তার বিপরীতে একটি… বাকিটুকু পড়ুন »

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.