কী বেদনায় ব্যথিত ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন[...]

কী বেদনায় ব্যথিত ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কেন এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, দ্বারকানাথ ঠাকুরের সমস্ত ব্যবসায়িক নথিপত্র কেন তিনি পুড়ে ফেলেছিলেন, এর আগে এরকম আরেকটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দ্বারকানাথের পত্নী দিগম্বরী দেবী – তিনি দ্বারকানাথ ঠাকুর দ্বারা আয়োজিত সামাজিক বিবিধ ভোজসভায় মদ্যমাংসের প্রাচুর্য ও ঠাকুরের নিজের মদ্যমাংস গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় দ্বারকানাথের সাথে সাক্ষাৎসম্পর্ক ত্যাগ করেছিলেন – এরপর থেকে দ্বারকানাথ বৈঠকখানা বাড়িতেই থাকতেন এবং নিজ বাড়ির পরিবর্তে বেলগাছিয়ায় এক বাগানবাড়ি প্রতিষ্ঠা করে ভোজসভা নৃত্যগীত ইত্যাদির আয়োজন করতেন, দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর তো ধর্মচর্চায় লিপ্ত হয়ে বিষয়কর্ম থেকে দূরেই সরে গিয়েছিলেন, ঠাকুর পরিবারের যাবতীয় আর্থিক প্রতিপত্তির উৎস দ্বারকানাথ কী এমন করেছিলেন যে ঠাকুর পরিবার তাকে এভাবে ভুলতে চেয়েছে, এই যে ১৮৪২এ তিনি প্রথম বিলাতযাত্রা করেছিলেন এবং মহারাণি ভিক্টোরিয়ার অভ্যর্থনা ফ্রান্সের সম্রাট লুই ফিলিপের অভ্যর্থনা এডিনবরা মিউনিসিপ্যালটির মহানাগরিক উপাধি প্রাপ্তি এসবের পরে দেশে ফিরে এসে আবার ১৮৪৫এ বিলাত ফিরে গেলেন, কেন – দ্বারকানাথ ঠাকুরের স্ত্রীবিয়োগ হয়েছিল ১৮৩৯এ, স্ত্রীর মতো সন্তানেরাও তাকে দূরে ঠেলে দিয়েছিল – এসব বিষণ্ণ প্রশ্নের উত্তর আর কখনো পাওয়া সম্ভব নয় – অতলে হারিয়ে গেছেন দ্বারকানাথ ঠাকুর। সেউত্তরের হয়ত আমাদের আর প্রয়োজনও নেই, ঠাকুর পরিবারের এসব একান্ত পারিবারিক ব্যাপারগুলো জেনে আমাদের কী কাজ।

কিন্তু দ্বারকানাথ ঠাকুরের যে বিরাট কীর্তি – প্রথম ভারতীয় ব্রিটিশ যৌথ মালিকানায় কারটেগোর (Carr-Tagore) কোম্পানির প্রতিষ্ঠা, সেকোম্পানির যাবতীয় নথিপত্র কেন পুড়ে ফিলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কীসে তার লেগেছিল, দ্বারকানাথ ঠাকুরের আয়ের বিরাট অংশ এসেছিল অহিফেন রপ্তানি ও অহিফেন পরিবহনের মাধ্যমে, চীনে যেত অহিফেন, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আনুকূল্যে, যেত চীনের সাধারণ মানুষকে অহিফেন বিষে জর্জরিত করে দিয়ে চীনকে সাম্রাজ্যবাদী শোষণের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয় করে দিতে, সেপ্রমাণ লোপাট করে দিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উচিত হয়নি, একেবারেই উচিত হয়নি – ইতিহাসের এমন এক সূত্র ধ্বংস করে দেয়া উচিত হয়নি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।

বিশ বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথ ভারতীয় ও ব্রিটিশ ব্যবসায়ীদের অহিফেন ব্যবসা নিয়ে এক জার্মান লেখার ইংরেজি অনুবাদ থেকে লেখেন ‘চীনে মরণের ব্যবসায়’, লেখাটি জৈষ্ঠ ১২৮৮ (১৮৮২ সালে) ‘ভারতী’তে প্রকাশিত হয়েছিল।

ভারতবর্ষীয় রাজস্বের অধিকাংশ এই অহিফেন বাণিজ্য হইতে উৎপন্ন হয়। কিন্তু অহিফেনের ন্যায় ক্ষতিবৃদ্ধিশীল বাণিজ্যের উপর ভারতবর্ষের রাজস্ব অত অধিক পরিমাণে নির্ভর করাকে সকলেই ভয়ের কারণ বলিয়া মনে করিতেছেন। ১৮৭১/৭২ খৃস্টাব্দে এই বাণিজ্য হইতে সাড়ে সাত কোটি পাউন্ডেরও অধিক রাজস্ব আদায় হইয়াছিল। কিন্তু কয়েক বৎসরের মধ্যে তাহা ৬ কোটি ৩ লক্ষ পাউন্ডে নামিয়া আসে। এরূপ রাজস্বের উপর নির্ভর করা অত্যন্ত আশঙ্কার কারণ। ভারতবর্ষীয় অহিফেন নিকৃষ্ট হইয়া আসিতেছে, সুতরাং তাহার দাম কমিবার কথা। তাহা ভিন্ন চীনে ক্রমশই অহিফেন চাষ বাড়িতেছে। চীনে স্থানে স্থানে অহিফেন-সেবন-নিবারক সভা বসিয়াছে। ক্যান্টনবাসী আমীর-ওমরাহগণ প্রায় সহস্র প্রসিদ্ধ পল্লীতে প্রতি গৃহস্থকে বলিয়া পাঠাইয়াছেন যে, ‘তোমরা সাবধান থাকিয়ো যাহাতে বাড়ির ছেলেপিলেরা অহিফেন অভ্যাস না করিতে পায়।’ যাহারা অহিফেন সেবন করে তাহাদের সমাজ হইতে বহিষ্কৃত করিবেন বলিয়া ভয় দেখাইয়াছেন। তিনটি বড়ো বড়ো নগরের অধিবাসী বড়োলোকেরা সমস্ত অহিফেনের দোকান বন্ধ করাইতে পারিয়াছেন। এইরূপে চীনে অহিফেনের চাষ এত বাড়িতে পারে, ও অহিফেন সেবন এত কমিতে পারে যে, সহসা ভারতবর্ষীয় রাজস্বের বিশেষ হানি হইবার সম্ভাবনা। অতএব ওই বাণিজ্যের উপর রাজস্বের জন্য অত নির্ভর না করিয়া অন্য উপায় দেখা উচিত। এতদ্ভিন্ন অহিফেন চাষে ভারতবর্ষের স্পষ্ট অপকার দেখা যাইতেছে। অহিফেন চাষ করিতে বিশেষ উর্বরা জমির আবশ্যক। সমস্ত ভারতবর্ষে দেড় কোটি একর (Acre) উর্বরতম জমি অহিফেনের জন্য নিযুক্ত আছে। পূর্বে সে-সকল জমিতে শস্য ও ইক্ষু চাষ হইত। এক বাংলা দেশে আধ কোটি একরেরও অধিক জমি অহিফেন চাষের জন্য নিযুক্ত। ১৮৭৭/৭৮-এর দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক কোটি লোক মরে। আধ কোটি একক উর্বর ভূমিতে এক কোটি লোকের খাদ্য জোগাইতে পারে। ১৮৭১ খৃস্টাব্দে ডাক্তার উইল্‌সন পার্লিয়ামেন্টে কহিয়াছেন যে, মালোয়াতে অহিফেনের চাষে অন্যান্য চাষের এত ক্ষতি হইয়াছিল যে, নিকটবর্তী রাজপুতানা দেশে ১২ লক্ষ লোক না খাইয়া মরে। রাজপুতানায় ১২ লক্ষ লোক মরিল তাহাতে তেমন ক্ষতি বিবেচনা করি না, সে তো ক্ষণস্থায়ী ক্ষতি। এই অহিফেনে রাজপুতানার চিরস্থায়ী সর্বনাশের সূত্রপাত হইয়াছে। সমস্ত রাজপুতানা আজ অহিফেন খাইয়া আত্মহত্যা করিতে বসিয়াছে। অত বড়ো বীর জাতি আজ অকর্মণ্য, অলস, নির্জীব, নিরুদ্যম হইয়া ঝিমাইতেছে। আধুনিক রাজপুতানা নিদ্রার রাজ্য ও প্রাচীন রাজপুতানা স্বপ্নের রাজ্য হইয়া দাঁড়াইয়াছে। অত বড়ো জাতি অসার হইয়া যাইতেছে। কী দুঃখ! আসামে যেরূপে অহিফেন প্রবেশ করিয়াছে, তাহাতে আসামের অতিশয় হানি হইতেছে। বাণিজ্য-তত্ত্বাবধায়ক ব্রুস্‌ সাহেব বলেন, ‘অহিফেন সেবন রূপ ভীষণ মড়ক আসামের সুন্দর রাজ্য জনশূন্য ও বন্য জন্তুর বাসভূমি করিয়া তুলিয়াছে এবং আসামীদের মতো অমন ভালো একটি জাতিকে ভারতবর্ষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা অধম, দাসবৎ এবং নীতিভ্রষ্ট করিয়া তুলিয়াছে।’ অহিফেন বাণিজ্য আমাদের ভারতবর্ষের তো এই-সকল উপকার করিয়াছে!

১৮৭১/৭২এ অহিফেনের ব্যবসা অনেক কমে গিয়েছিল সেই সময়েই রাজস্ব আয় সাড়ে সাত কোটি পাউন্ডের বেশি আর ১৮৩০-১৮৪২এ যখন অহিফেনের রমরমা বাণিজ্য তখন দ্বারকানাথ এই ব্যবসায় জড়িত হন ১৮৩৪এ কারটেগোর কোম্পানি গঠিত হওয়ার পর থেকে – তার ব্যবসায়িক নথিপত্রে এই ব্যবসার হদিস ছিল – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এসমস্ত কাগজপত্র ধ্বংস করে দেন, কিন্তু কেন করলেন, ঠাকুর পরিবারকে অপমান অপবাদের হাত থেকে বাঁচাতে – আবারো বলব উচিত হয়নি – অহিফেন ঠাকুরের নথিপত্র ধ্বংস করা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উচিত হয়নি। ওই নথিপত্র থাকলে ব্রিটিশভারতের সাথে চীনের ন্যাক্কারজনক অহিফেন পর্বের ইতিহাস আরো স্পষ্ট হত – সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কারণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঐতিহাসিক নথিপত্র ধ্বংস করেছিলেন।

‘রামমোহন রায়’কে নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রথম বক্তৃতা চব্বিশ বছর বয়সে, এরপর বিভিন্ন উপলক্ষে রবীন্দ্রনাথ ‘রামমোহন রায়’কে নিয়ে আরো বক্তৃতা করেছেন – আমি এরকম তিন/চারটি বক্তৃতা পড়েছি – এই বক্তৃতাগুলোর কোথাও একবারের জন্যও দ্বারকানাথ ঠাকুরের উল্লেখ নেই, অথচ ইতিহাস বলে রামমোহন রায়ের সমাজসংস্কারমূলক কাজের সবচেয়ে বড় পৃষ্টপোষক ছিলেন দ্বারকানাথ ঠাকুর। দেখে শুনে তো মনে হচ্ছে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ও সচেতনভাবে রবীন্দ্রনাথ দ্বারকানাথ ঠাকুরকে মুছে ফেলেছিলেন। অহিফেন ঠাকুরকে রবীন্দ্রনাথ পারিবারিক কলঙ্কের ইতিহাসই ভেবেছিলেন, তার ব্যবসায়িক কীর্তির সবকিছু নিশ্চয় কলঙ্কের ছিল না, তিনি ব্যাঙ্ক বীমা জাহাজ কয়লা এসবের ব্যবসাও করতেন – অহিফেন ঠাকুরকে মুছতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরো দ্বারকানাথ ঠাকুরকেই পুড়ে ফেলেছিলেন।

মাসুদ করিম

লেখক। যদিও তার মৃত্যু হয়েছে। পাঠক। যেহেতু সে পুনর্জন্ম ঘটাতে পারে। সমালোচক। কারণ জীবন ধারন তাই করে তোলে আমাদের। আমার টুইট অনুসরণ করুন, আমার টুইট আমাকে বুঝতে অবদান রাখে। নিচের আইকনগুলো দিতে পারে আমার সাথে যোগাযোগের, আমাকে পাঠের ও আমাকে অনুসরণের একগুচ্ছ মাধ্যম।

১২ comments

  1. Pingback: Tweets that mention মুক্তাঙ্গন | অহিফেন ঠাকুর | মাসুদ করিম -- Topsy.com

  2. 5th in the alfabet - ২ মার্চ ২০১১ (৮:৫৭ অপরাহ্ণ)

    আমাদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের গুরুত্বপুর্ন ধারক ঠাকুর পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আমার খুব আগ্রহ । আপনি ঠাকুরদের সম্পর্কে আমার অজানা এক বিষয় জানালেন ।

  3. ইমতিয়ার - ২৭ মার্চ ২০১১ (৫:৫১ অপরাহ্ণ)

    আত্মহননের আগে কাদম্বরী দেবী একটি চিঠি লিখেছিলেন। দীর্ঘ চিঠি। কিন্তু সেই চিঠিটি নাকি পুড়িয়ে ফেলা হয়। দেখা যাচ্ছে, ঠাকুর পরিবারের অন্ধকার দিক গোপন করার জন্যে ঠাকুররা সবসময়েই উদ্যমী ছিলেন। লিখেছেন,

    অহিফেন ঠাকুরকে মুছতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পুরো দ্বারকানাথ ঠাকুরকেই পুড়ে ফেলেছিলেন।

    হয়তো এরকম মোছামুছির ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বুদ্ধি যুগিয়েছিল কাদম্বরী দেবীর সেই চিঠি পোড়ানোর ঘটনা (?)… কিন্তু সত্যিই কি মুছে ফেলা গেছে? কাদম্বরী দেবীকে সারা জীবন রবীন্দ্রনাথ ফিরে ফিরে দেখেছেন, হয়তো দ্বারকানাথকেও।

    • মাসুদ করিম - ২৮ মার্চ ২০১১ (১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ)

      আমার ধারণা দ্বারকানাথ ঠাকুরের নথিপত্রগুলো হয়ত আগে ধ্বংস করেছিলেন। ধারণা, ঠিক নাও হতে পারে। কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার পর চিঠি পোড়ানো ও দ্বারকানাথ ঠাকুরের নথিপত্র পোড়ানো ভিন্ন ধাঁচের ঘটনা, এটা ভাবছি, দুটো মিলতে পারে কি না? আরো ভাবছি জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে খুব জানা উচিত, শিল্পবোধসম্পন্ন ও বিলাসী এই মানুষটার মধ্যে কোথায় যেন দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিল, এমানুষটিই কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর পরে জাহাজ ব্যবসায় নেমে সর্বস্বান্ত হয়েছিলেন। জ্যোতিরিন্দ্রনাথের প্রেরণায় বসনে ভূষণে কাদম্বরী দেবী অসাধারণ হয়ে উঠেছিলেন, কিন্তু কাদম্বরী দেবী জ্যোতিরিন্দ্রনাথের সব কিছু কি নিতে পেরেছিলেন, বা জ্যোতিরিন্দ্রনাথ কি সহজে নিতে পেরেছিলেন ওরই প্রেরণায় উচ্ছ্বল হয়ে ওঠা কাদম্বরীকে? ‘নষ্ট নীড়’ ধরে রবীন্দ্রনাথ-কাদম্বরী সম্পর্ক বিচারে আমার সন্দেহ আছে — দেখা যাক কোনোদিন সে সন্দেহ ঘোঁচে কি না? তবে যেটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ সেটা কিভাবে করা যায় সেটাই ভাবছি — জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে কিভাবে গভীর ভাবে জানা যায় সেউপায় খুঁজছি।

  4. Pingback: মুক্তাঙ্গন | চীনে অপমানিত রবীন্দ্রনাথ | মাসুদ করিম

  5. কিশোরকুমার বিশ্বাস - ৮ মে ২০১২ (৮:০২ অপরাহ্ণ)

    মাসুদ সাহেব
    প্রীতিভাজনেষু, আপনি যে তথ্য দিয়েছেন সেটা বেশ কৌতূহলোদ্দীপক । আপনি এ বিষয়ে তথ্য সন্ধানের প্রেরণা যোগালেন । ধন্যবাদ ।

  6. Pingback: মুক্তাঙ্গন | রবীন্দ্রনাথ | মাসুদ করিম

  7. Pingback: হন্যতে : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গোপন ডায়েরি | মাসুদ করিম

  8. মাসুদ করিম - ৯ মে ২০১৫ (৯:৩৮ পূর্বাহ্ণ)

    রবীন্দ্রনাথ জমিদারও ছিলেন
    দেবারতি দাশগুপ্ত

    অষ্টাদশ শতাব্দী শেষাশেষি তখন৷‌ ১৭৯৩-এ কুখ্যাত জমি রাজস্ব সংক্রান্ত ‘চিরস্হায়ী বন্দোবস্ত’ চালু করেছেন তৎকালীন বড়লাট কর্নওয়ালিশ৷‌ বাংলার নব্যবাবুদের কাছে তা ছিল পড়ে পাওয়া চৌদ্দ আনা৷‌ বিপুল অর্থ-বৈভব ধারেভারে বাড়াতে যত্রতত্র জমি কেনে বাবু সমাজ৷‌ জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবারও ব্যতিক্রম ছিল না৷‌ ওড়িশার কিছুটা এবং পূর্ববঙ্গের বিরাট অঞ্চলে বিস্তৃত ছিল তাদের জমিদারি৷‌ এই বিপুল জমিদারির দায়ভার যখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর বর্তায়, তখন ঠাকুর পরিবার তাদের বিগত ঐশ্বর্য হারিয়ে শ্রীহীন এবং নেহাতই সাদামাঠা৷‌ ঠাঁটবাট, উচ্ছল জীবনযাত্রার সুবাদে ‘প্রিন্স’-এর তকমা পাওয়া দ্বারকানাথের উত্তরসূরিরা কীভাবে তাঁদের আর্থিক প্রতিপত্তি হারিয়েছেন, তার একটা আভাস পেতে ফিরে যেতে হবে সেই সময়ে, ঠাকুররা যখন সবে জমিদারি পেয়েছেন৷‌

    শহুরে জমিদার ছিলেন দ্বারকানাথ৷‌ জমিদারির সদর কার্যালয় ছিল কলকাতায়৷‌ দপ্তরের শাখাপ্রশাখা ছড়িয়েছিল পূর্ববঙ্গে সাজাদপুর, পতিসর, শিলাইদহে৷‌ এবং ওড়িশার পান্ডুয়া, বালিয়া, পহরাজপুরে৷‌ একই সঙ্গে অনেকগুলি ব্যবসা শুরু করেছিলেন দ্বারকানাথ৷‌ জাহাজ, খনি, ব্যাঙ্কে লগ্নি এমনকি চিনিকল, পাট চাষ, চা বাগানেও৷‌ সঙ্গত কারণে তাই বিশ্বস্ত কয়েকজন সেরেস্তা কর্মী, খাজাঞ্চির কাছে খাজনা আদায়ের ভার সঁপেছিলেন তিনি৷‌ বিলেতে দ্বারকানাথের অকালমৃত্যু ঠাকুর পরিবারে সব ওলটপালট করে দেয়৷‌ নানা ব্যবসায় হাত পুড়িয়ে, প্রচুর দেনা হয়েছিল তাঁর৷‌ ঋণভারে জর্জরিত ব্যবসা ও জমিদারির দেখাশোনার দায়িত্ব নিতেই হয় তাঁর দুই পুত্র দেবেন্দ্রনাথ ও গিরীন্দ্রনাথকে৷‌ ব্যবসা, জমিদারির আরেক দাবিদার ছিলেন দ্বারকানাথের কনিষ্ঠপুত্র নগেন্দ্রনাথ৷‌ নিঃসন্তান নগেন্দ্রনাথের মৃত্যু হয় ১৮৬৯-এর ১৬ মে৷‌ তার অল্পসময় আগে তিন নাবালক পুত্র গগনেন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ ও সমরেন্দ্রনাথকে রেখে মারা যান গিরীন্দ্রনাথ৷‌ নগেন্দ্রনাথের বিধবা স্ত্রী ত্রিপুরাসুন্দরী সম্পত্তির একাংশ পেলেও জমিদারির ভাগ পাননি৷‌ গিরীন্দ্রনাথের বংশধরদের অংশ ছিল ন’ভাগের ৪ ভাগ৷‌

    দ্বারকানাথের মতো দেবেন্দ্রনাথও জমিদারি সামলাতেন জোড়াসাঁকো থেকে৷‌ কালেভদ্রে জমিদারি পরিদর্শনে বেরোতেন৷‌ নায়েব, গোমস্তাদের থেকে হিসেব বুঝে নিতেন৷‌ ব্রাহ্মসমাজের কাজে সদা ব্যস্ত থাকায় বিভিন্ন সময়ে পরিবারের একাধিক সদস্যকে জমিদারির কাজ দেখাশোনায় নিযুক্ত করেছিলেন মহর্ষি৷‌ দীর্ঘ সময়ে এই দায়িত্ব পালন করেছেন জ্যোতিরিন্দ্রনাথ৷‌ তবে তাঁর জাহাজি ব্যবসায় লোকসান, এবং নানা বিশৃঙ্খলার জেরে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির জেরে সাময়িক বড় জামাই সারদাপ্রসাদ গঙ্গোপাধ্যায়কে সেই দায়িত্ব দিয়েছিলেন দেবেন্দ্রনাথ৷‌ তবে একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথকে ওই কাজের উপযুক্ত করার ইচ্ছে ছিল তাঁর৷‌ রবীন্দ্রনাথের বিয়ের দু-দিন আগে ২২ অগ্রহায়ণ, ১২৯০-এ তাঁকে লেখা এক চিঠিতে মহর্ষির নির্দেশ ছিল, ‘এইক্ষণে তুমি জমিদারির কার্য পর্যবেক্ষণ করতে প্রস্তুত হও, প্রথমে সদর কাছারিতে নিয়মিত রূপে বসিয়া সদর আমিনের নিকট হইতে জমাওয়ালিশ বাকি ও জমাখরচ দেখিতে থাক এবং কয়েকদিনের আমদানি রপ্তানিপত্র সকল দেখিয়ে নোট করিয়া রাখ৷‌’ এই নির্দেশ কবি কতটা পালন করেছিলেন, আদৌ পালন করেছিলেন কিনা, তার কোনও প্রমাণ নেই৷‌ পত্রপ্রাপ্তির ঠিক দু-দিন পর সারদাপ্রসাদের মৃত্যু হয়৷‌ এবং তারও কয়েক মাস পর স্ত্রী কাদম্বরী দেবী আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনায় জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে জমিদারির কাজ থেকে পাকাপাকি ভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়৷‌ ২৪ আষাঢ় ১২৯১ থেকে জমিদারির হিসাবপত্র দেখাশোনার ভার পান দেবেন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠপুত্র দ্বিজেন্দ্রনাথ, ‘বড়বাবু’ নামে যাঁকে চিনত শিলাইদহ৷‌ অঙ্কশাস্ত্রে মহাপণ্ডিত হওয়া সত্ত্বেও, জমিদারির হিসেবনিকেশ তাঁর বোধগম্য হত না৷‌ খাজনা আদায় তো দূরঅস্ত, প্রজাদের দোরে দোরে গিয়ে তাদের দুঃখ, কষ্টের কারণ জেনে বেড়ানোই ছিল তাঁর প্রধান কাজ৷‌ ঋণ মকুব করতেন যখন-তখন৷‌ এদিকে, রাজস্বের অবস্হা শোচনীয়৷‌ বছর ঘুরতেই দেবেন্দ্রনাথকে চিঠি লিখে জমিদারি চালানোর অর্থ মঞ্জুরের আবেদন করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ! এরপর আর এক মূহূর্তও দেরি করেননি মহর্ষি৷‌ তড়িঘড়ি তাঁকে কলকাতায় ডেকে পাঠান৷‌ এরপর কিছুকাল সেই দায়িত্ব পালন করেন দ্বিজেন্দ্রনাথ-পুত্র দীপেন্দ্রনাথ৷‌

    জমিদারি ও পারিবারিক কাজ-কারবারে মহর্ষি রবীন্দ্রনাথের ওপর সর্বময় কর্তৃত্ব সঁপে আমমোক্তারনামা (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি) স্বাক্ষর করেন ১৩০৩-এর ২৫ শ্রাবণ (ইং ৮ আগস্ট ১৮৯৬)৷‌ রবীন্দ্র ভবনে রক্ষিত ওই দলিলে ‘টেগোর ফ্যামিলি ডকুমেন্ট’ নম্বর ৬৮-এর ওপর লেখা: ‘হ্মপ্সভ্রন্দ্বব্জ ((ন্দ্র ট্টব্ধব্ধপ্সব্জুন্দ্বম্ভ ন্দ্রব্জপ্সপ্প ড্ডন্দ্ব্ত্বন্দ্বুস্তুব্জ্রু্রব্ধড় ক্ট্রন্ধপ্সব্জন্দ্ব ব্ধপ্স ত্ম্র্ত্বন্ুস্তুব্জ্রু্রব্ধড় ক্ট্রন্ধপ্সব্জন্দ্ব ((ু ৮ব্ধড় ট্টব্ভন্ধব্ভব্দব্ধ ১৮৯৬ ন্ু ব্ধড়ন্দ্ব হ্মব্জন্দ্বব্দন্দ্বুন্তুন্দ্ব ((ন্দ্র ত্তপ্সড়ন্ুন্ ত্তপ্সড়্রু ট্রড়্রব্ধব্ধন্দ্বব্জন্দন্দ্বন্দ্ব, ত্রপ্সপ্তন্ন্তুন্ব্ধপ্সব্জ ট্র্রপ্ত.. ত্নব্জন্দ্বব্দন্দ্বুব্ধন্দ্বস্তু ্ত্বন্দ্বব্ধভ্রন্দ্বন্দ্বু ব্ধড়ন্দ্ব ড়প্সব্ভব্জব্দ ১০ ব্ধপ্স ১১৷‌ এই দলিলের বলে সম্পত্তি বিভাগ ও পরিচালনায় দীর্ঘদিন কর্তৃত্ব করেছেন রবীন্দ্রনাথ৷‌ খাতায়)কলমে পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি পাওয়ার কিছু আগে শিলাইদহ যাতায়াত ছিল কবির৷‌ তখন জমিদারি দেখভালের দায়িত্বে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ৷‌ মাঝে মাঝে কিশোর রবীন্দ্রনাথও তাঁর সঙ্গী হতেন৷‌ সেই প্রসঙ্গে ‘ছেলেবেলা’-য় কবি লেখেন, ‘জমিদারির কাজে প্রায়ই তাঁকে যেতে হত শিলাইদহে৷‌ একবার যখন সেই দরবারে বেরিয়েছিলেন, আমাকেও নিয়েছিলেন সঙ্গে৷‌ তখনকার পক্ষে এটা ছিল বেদস্তুর, অর্থাৎ যাকে লোকে বলতে পারত ‘বাড়াবাড়ি হচ্ছে’৷‌ তিনি নিশ্চয় ভেবেছিলেন ঘর থেকে এই বাইরে চলাচল এ একটা চলতি ক্লাসের মতো৷‌ তিনি বুঝে নিয়েছিলেনক্ট ‘আমার ছিল আকাশে বাতাসে চরে বেড়ানো মন, সেখান থেকে আমি খোরাক পাই আপনা হতেই৷‌ তার কিছুকাল পরে জীবনটা যখন আরও উপরের ক্লাসে উঠেছিল, আমি মানুষ হচ্ছিলাম এই শিলাইদহে৷‌’ পরবর্তীকালে রবীন্দ্রনাথকে জমিদারির কাজে জুড়ে দেওয়ার আরও একটা কারণ ছিল৷‌ মহর্ষির ধারণা ছিল, তাঁর পুত্র তখন উদ্দেশ্যহীন জীবন কাটাচ্ছিলেন৷‌ প্রথাগত ও পুঁথিগত শিক্ষা না থাকায় অন্য কিছু করার সম্ভাবনাও ছিল না৷‌ কবি তখন তিরিশের কোঠায়৷‌ দায়িত্ব নেওয়ার বয়স তো ওটাই! সপরিবারে শিলাইদহে যাওয়ার আগে কলকাতার সদর দপ্তরে রীতিমতো শিক্ষানবিশি করতে হয় তাঁকে৷‌ জমিদারির সর্বময় কর্তৃত্ব পাওয়া সত্ত্বেও বৈষয়িক বিষয়ে বার বার মহর্ষির শরণাপন্ন হয়েছেন রবীন্দ্রনাথ৷‌ মাসের প্রথম দিকে কলকাতায় থাকলে মাসকাবার অর্থাৎ জমিদারি, পারিবারিক বা আদি ব্রাহ্মসমাজের মাসিক আয়ব্যয়ের সংক্ষিপ্তসার জানিয়ে আসা ছিল তাঁর অবশ্য কর্তব্য৷‌ কবির লিখিত বয়ান অনুযায়ী, ‘বড়ো বয়সে কাজের ভার পাইয়া যখন তাহার কাছে হিসাব দিতে হইত সেদিনের কথা এইখানে আমার মনে পড়িতেছে৷‌ তখন তিনি পার্ক স্ট্রিটে থাকিতেন৷‌ প্রতি মাসের দোসরা ও তেসরা আমাকে হিসাব পড়িয়া শুনাইতে হইত৷‌ তিনি তখন নিজে পড়িতে পারিতেন না৷‌ গত মাসের ও গত বৎসরের সঙ্গে তুলনা করিয়া সমস্ত আয়ব্যয়ের বিবরণ তাহার সম্মুখে ধরিতে হইত৷‌ প্রথমত মোটা অঙ্কগুলি তিনি শুনাইয়া লইতেন৷‌ ও মনে মনে তাহার যোগবিয়োগ করিয়া লইতেন৷‌ মনের মধ্যে যদি কোনও অসঙ্গতি অনুভব করিতেন তবে ছোটো ছোটো অঙ্কগুলি শুনাইয়া যাইতে হইত৷‌ কোনো কোনো সময়ে এমন ঘটিয়াছে, হিসাবে যেখানে দুর্বলতা থাকিত সেখানে তাহার বিরক্তি বাঁচাইবার জন্য চাপিয়া গিয়াছি৷‌ কিন্তু কখনো তাহা চাপা থাকে নাই৷‌ হিসাবের মোটা চেহারা তিনি চিত্তপটে আঁকিয়া লইতেন৷‌ যেখানে ছিদ্র পড়িত সেখানেই তিনি ধরিতে পারিতেন৷‌ এই কারণে মাসের ওই দুটো দিন বিশেষ উদ‍্বেগের ছিল৷‌’

    জমিদারির বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে সম্পত্তি ভাগবাঁটোয়ারা ও তার জেরে পারিবারিক মনোমালিন্যের মতো অপ্রিয় ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় কবিকে৷‌ গিরীন্দ্রনাথের তিন পুত্র গগনেন্দ্রনাথ, অবনীন্দ্রনাথ ও সমরেন্দ্রনাথ সাবালক হওয়ার পর সম্পত্তি ভাগের বিষয়টি প্রকট হয়৷‌ সম্ভবত মৌখিকভাবে স্হির হয়েছিল, ডিহি সাজাদপুরের জমিদারি পাবেন গুণেন্দ্রনাথ ও তাঁর উত্তরাধিকারীরা৷‌ সেই থেকে অশান্তির সূত্রপাত হয় এবং তা কতদূর গড়িয়েছিল, তার প্রমাণ পাওয়া যায় ১৩০৭-এ ছইং ১৯০০গ্গ গগনেন্দ্রনাথকে লেখা রবীন্দ্রনাথের একটি চিঠিতে৷‌ কবি লিখেছিলেন, ‘…এজমালি সম্পত্তিতে আমাদের কোনো স্বার্থ নেইক্ট বাবামশায়ের প্রতি বিশ্বাস পালনই একমাত্র লক্ষ্য৷‌ যে ক’টি তোমাদের স্পষ্ট লোকসান কেবল সেই কটির পরিবর্তে তোমরা গালিমপুর চেয়েছ, এতে যে কেবল শান্তিনিকেতনের গালিমপুর লোকসান তা নয়৷‌ শিলাইদহ এবং কামরাখালি কুঠিবাড়িতে তোমাদের কাছে যা প্রাপ্য আছে, তাও লোকসান দিতে হবে৷‌ কালিগ্রামের দাদনী টাকার শেষ অবশেষে অনেক অংশই আদায়ের অযোগ্য হয়ে পড়েছে, সেও তোমরা দিতে চেয়েছক্ট কিন্তু সেটা কাগজে যেরকম দেখাবে, কাজে সরকম হবে না৷‌ কুঠিবাড়ির মালমশলা সম্বন্ধে যে দাবি করেছ, তার বিরুদ্ধে আমাদের তরফের দাবিও অনেকগুলি দেখবার ছিল৷‌ বোধহয় তোমরা নিজেরাও জান তোমরা যে প্রস্তাব করেছ, বৈষয়িক হিসেবে সেরকম প্রস্তাবকে তোমরা নিজেও কখনো গ্রাহ্য করতে পারবে না৷‌ কিন্তু লাভের চেয়ে শান্তি ভালক্ট অনেক সময়ে ন্যায্য দাবির চেয়েও তা প্রার্থনীয়৷‌ বাবামশায় তোমাদের প্রস্তাব শুনে বিস্মিত হয়েছিলেন, কিন্তু তিনি কোনোরকম বিরোধ চান নাক্ট তোমরা যদি তোমাদের বর্তমান প্রস্তাবকেই ন্যায়সঙ্গত মনে কর তাহলে আমাদের তরফ থেকে লেশমাত্র আপত্তি করব না৷‌’

    জীবনের এই অধ্যায় সম্পর্কে খুব কম লিখেছেন রবীন্দ্রনাথ৷‌ জমিদারি করতে গিয়ে যেসব যুগান্তকারী সামাজিক পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, সে বিষয়ও প্রায় নিশ্চুপ তাঁর কলম৷‌ তাঁর প্রচুর চিঠিপত্রের কিছু কিছুতে এর উল্লেখ আছে মাত্র৷‌ পূর্ববঙ্গের পতিসরে নোবেল পুরস্কারের প্রাপ্ত অর্থ থেকে গ্রামীণ ব্যাঙ্ক প্রতিষ্ঠার মতো প্রশংসাজনক কাজ সম্পর্কে উদাসীন ছিলেন তৎকালীন বরেণ্য দেশনেতারা৷‌ শিলাইদহ কাছারির এক প্রাক্তন কর্মচারী শচীন্দ্রনাথ অধিকারীর লেখা ‘শিলাইদহ ও রবীন্দ্রনাথ’ থেকে অল্পবিস্তর একটা ধারণা করা যায়৷‌ রথীন্দ্রনাথের স্মৃতিকথা ‘অন দি এজেস অফ টাইম’-এ মাত্র একটি ছত্র আছে, যা খুব উল্লেখযোগ্য নয়৷‌ জমিদার হিসেবে তিনি প্রজাদের কতটা কাছের মানুষ ছিলেন, তার একটা স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছিলেন অন্নদাশঙ্কর রায়৷‌ গত শতাব্দীর চারের দশকের একেবারে গোড়ার দিকে রাজশাহীর জেলাশাসক অন্নদাশঙ্কর পতিসর গেছিলেন সরকারি কাজে৷‌ ততদিনে ঋণভারে জর্জরিত শিলাইদহ ভাগ্যকুলের রায় পরিবারকে বেচে দিয়েছেন সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুর৷‌ ঠাকুর পরিবারের জমিদারি তখন পতিসরে সীমিত ছিল৷‌ এবং ওই অঞ্চলে তখন পাটচাষ ছাড়া কিছুই হত না৷‌ যে সময়ের কথা হচ্ছে, তখন শান্তিনিকেতনের কাজে ব্যস্ত থাকায় শেষ দশ বছর একবারও পতিসর যাওয়ার সময় পাননি রবীন্দ্রনাথ৷‌ ঋণ নিয়েছিলেন যাঁরা, তাঁরা শোধ করতে পারেননি৷‌ সুতরাং তাঁর তৈরি সমবায় ব্যাঙ্ক বন্ধের মুখে৷‌ একই অবস্হায় এলাকার স্কুল, হাসপাতালগুলোর৷‌ সব মিলিয়ে একেবারে হতশ্রী দশা৷‌ এত প্রতিকূল অবস্হাতেও জমিদার রবীন্দ্রনাথের নামে শ্রদ্ধায়, সম্ভ্রমে উচ্চারণ করতেন পতিসরবাসী৷‌ প্রজাদের হিতে নিজের খরচে সমবায় ব্যাঙ্ক তৈরি করেছেন কোনও জমিদার, এমন নজিরও তো বাংলাদেশে আগে দেখা যায়নি৷‌ হিন্দু-মুসলিম প্রজা সংখ্যায় প্রায় সমান সমান ছিলেন পতিসরে৷‌ একবার সেখানকার এক জমিদারি দরবারে বেড়িয়ে রবীন্দ্রনাথ দেখেন, হিন্দু প্রজারা সার বেঁধে চেয়ারে, বেঞ্চিতে বসেছেন৷‌ আর মুসলিম প্রজারা জড়সড় হয়ে বসেছেন মাটিতে৷‌ তৎক্ষণাৎ ওই দরবার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তিনি৷‌ এবং দেবেন্দ্রনাথের আমল থেকে চালু হওয়া ওই কুপ্রথা বন্ধ করিয়ে ছাড়েন৷‌ স্বভাবতই এই পদক্ষেপ তাঁকে মুসলিমদের মধ্যে প্রবল জনপ্রিয় করেছিল৷‌ মৃত্যুর আগে একবার পতিসর গেছিলেন রবীন্দ্রনাথ৷‌ সেই ঘটনার সাক্ষী ছিলেন অন্নদাশঙ্কর৷‌ তাঁর লিখিত বয়ান অনুযায়ী, ঠাকুরবাবুকে দেখতে সেদিন মাইলের পর মাইল হেঁটে জড়ো হয়েছিলেন পতিসরবাসী৷‌ একে একে সবাই তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করায়, বিস্মিত হয়েছিলেন অন্নদাশঙ্কর৷‌ হতদরিদ্র গ্রামবাসীর কাছে বিশ্ববরেণ্য কবির পরিচয় জমিদার বই তো কিছুই নয়! এক মুসলিম প্রজাকে অন্নদাশঙ্কর সেদিন বলতে শুনেছিলেন, ‘আমরা পয়গম্বরকে দেখিনি, কিন্তু ঠাকুরবাবুকে দেখেছি৷‌’

    রবীন্দ্রনাথ কর্তৃত্ব পাওয়ার আগে থেকেই জমিদারি অবনতির দিকে৷‌ ১৯০৫-এ মহর্ষির মৃত্যুর পর ঠাকুরবাড়ির সদস্য, আত্মীয়-অনাত্মীয় মিলিয়ে ছিল দেড়শো৷‌ এতজনের থাকা, খাওয়া, মাসোহারা বাবদ বছরে ২ থেকে ৩ লক্ষ টাকার প্রয়োজন হত৷‌ এ ছাড়া ব্রাহ্মসমাজ ও শান্তিনিকেতনের বার্ষিক খরচখরচা বাবদ সবই তাঁকেই দেখতে হত৷‌ আয়ের উৎস বলতে জমিদারিই৷‌ এক সত্যেন্দ্রনাথ ছাড়া কারোরই স্হায়ী রোজগার ছিল না৷‌ তিনি যৌথ পরিবারে মাসিক কিছু দিতেন বলে জানা যায় না৷‌ দিলেও সেটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল না৷‌ ১৯১২-য় কবির উদ্বেগ বাড়িয়ে নিজের সম্পত্তির তিন ভাগের একভাগ বার্ষিক ৪৭,৪০০ টাকার বিনিময়ে ৯৯৯ বছরের জন্য লিজ দেন৷‌ শর্ত ছিল, ক্ষতি হলেও বার্ষিক পাওনা মেটাতেই হবে৷‌ সত্যেন্দ্র অধিকাংশ সময় তৎকালীন বম্বে প্রেসিডেন্সিতে থাকায়, রবীন্দ্রনাথকেই সেই দায় নিতে হয়েছিল৷‌

    ১৯২৯ থেকে ৩৩’ আমেরিকার মহামন্দার আঁচ লেগেছিল এ দেশেও৷‌ স্বভাবতই ঠাকুরদের জমিদারি এর ব্যতিক্রম ছিল না৷‌ ৩৪’-এ পুত্র রথীন্দ্রনাথকে লেখা চিঠিতে কবি লিখেছেন, ফসলের দাম পড়তে থাকায় কীভাবে পথে বসেছেন তাঁর প্রজারা৷‌ আর তাই জমিদারির ভাঁড়ারও ঠনঠনে৷‌ নোবেল প্রাইজে পাওয়া নগদ টাকার সুদ ফুরিয়েছে৷‌ শান্তিনিকেতনের প্রতিষ্ঠা এবং তাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রায় সর্বস্বান্ত হয়েছেন, তারও উল্লেখ আছে চিঠিতে৷‌

    ব্যক্তিজীবনে বার বার আর্থিক অনটনের সঙ্গে যুঝেছেন কবি৷‌ দুই মেয়ে মাধুরীলতা এবং রেণুকার বিয়ে দিতে বন্ধুদের কাছে হাত পাততে হয়েছে৷‌ বার বার স্ত্রীর গয়না বিক্রি করতে হয়েছে৷‌ দুই ভাইপো সুরেন্দ্রনাথ, বলেন্দ্রনাথ এবং এক পারিবারিক বন্ধু রমণীমোহন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘ঠাকুর কোম্পানি’ শুরু করেছিলেন ১৮৯৬-এ৷‌ বিরাট লোকসানের মুখে পড়ে তাতে ঝাঁপ পড়ে যায় ১৯০০-তে৷‌ সেবার তাঁর রক্ষাকর্তা হয়েছিলেন বন্ধু তারকনাথ পালিত৷‌ তবে সেই দেনার সুদ মেটাতে ১৮ বছর লেগে গেছিল৷‌

    প্রসঙ্গ যখন জমিদার রবীন্দ্রনাথ, শিলাইদহের সদ্য জমিদারির দেখভাল পাওয়া কবির একটি চিঠির উল্লেখ করলে বোঝা যায়, কঠিন হিসেব কিতাবের জাঁতাকলে পড়ে কীভাবে কাব্যচর্চায় প্রায়ই ছেদ পড়ত৷‌ ১৮৯২-এ শিলাইদহ থেকে প্রমথ চৌধুরিকে লেখা চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘আমি কতক জমিদারির কাজ দেখচি৷‌ কতক সাধনার লিখচি এবং চেষ্টা করচি এরইমধ্যে একটু অবসর করে নিয়ে কবিতা লিখতে৷‌ কিন্তু হয়ে উঠছে না৷‌ কেন না কবিতা অন্যান্য ললনার মতো একাধিপত্য প্রয়াসিনী৷‌ ‘‘ আমি নিশিদিন তোমায় ভালবাসি, তুমি অবসরমতো বাসিও’’, এটা ঠিক তার সেন্টিমেন্ট নয়৷‌ এই জন্য আমি কিছু মনের অসুখে আছি৷‌ বাস্তবিক এ জীবনে কবিতাই আমার প্রথম প্রেয়সীক্ট তার সঙ্গে বেশিদিন বিচ্ছেদ আমার সহ্য হবে না৷‌’ সেই সময়ে একটা চালু ধারণা ছিল, এখনও আছে যে, সচ্ছল পরিবারের রবীন্দ্রনাথকে কোনও সমস্যার মুখেই পড়তে হয়নি৷‌ কাব্য লিখে, গান বেঁধে সময় কাটাতেন৷‌ প্রচলিত ওই ধারণা যে কতটা ভিত্তিহীন, কবির জীবনের এই অধ্যায়ে তা স্পষ্ট৷‌ সমসাময়িক কিছু ক্ষুদ্র সমালোচক তাঁর রচনার সমালোচনার অছিলায় আকছার তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে কাদা ছুঁড়েছেন৷‌ সেই কদর্য আক্রমণের ধারা আজও অব্যাহত৷‌

    তথ্যসূত্র: রবি জীবনী ছতৃতীয় ও চতুর্থ খণ্ডগ্গ–প্রশান্তকুমার পাল

    রবীন্দ্রনাথ টেগোর-অ্যান ইন্টারপ্রিটেশন- সব্যসাচী ভট্টাচার্য

  9. মাসুদ করিম - ৬ মে ২০১৯ (৬:০৫ পূর্বাহ্ণ)

    কে জানে অহিফেন ঠাকুরের সাথে অহিফেন জেজিভয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না।

    The opium trader who became one of India’s richest men

    The philanthropist and businessman’s relationship with colonialism is a complex legacy

    On his fourth trip to China, Jamsetjee Jejeebhoy was captured by the French. It was the middle of the Napoleonic Wars and hostilities between the British and the French had carried over to the Indian Ocean. Jejeebhoy was on a British ship called the Brunswick when, off the coast of Point de Galle in present-day Sri Lanka, it came face to face with two French frigates. The Brunswick was a trade ship and didn’t have much of a crew. They didn’t stand a chance. The passengers, mostly merchants like Jejeebhoy, were taken hostage to South Africa. They were released there but had no way to get home. It took Jejeebhoy four months to make it back. But when he did, his life had changed forever. He had made friends with the Brunswick’s young doctor, William Jardine. This chance meeting turned, as historian Jesse S. Palsetia writes in his book Jamsetjee Jejeebhoy of Bombay, into a friendship “that would change both men’s lives and influence the course of history.”

    When Jejeebhoy met him, Jardine’s time as a doctor of the East India Company was almost at an end. He had plans to set up a trading house in Canton, now known as Guangzhou. That trading house still exists, as a conglomerate with a market capitalisation of more than $40 billion. Jardine’s firm would become so enormously successful because it was soon going to corner the market on one particular commodity, one that was much more profitable than cotton, and one whose demand was exploding because the British had got millions of Chinese hopelessly addicted to it: opium.

    Opium wasn’t just another trade good for the British Empire. It was the necessary corollary to another commodity: tea. The British were importing tens of millions of pounds of tea from China every year. There seemed to be no end to the demand and everyone involved was making huge profits. There was just one problem. They didn’t have the cold hard cash or rather, cold hard silver to pay for it.

    With all of the Empire’s physical currency disappearing into China, the British were running a huge trade deficit. They needed something that the Chinese wanted as much as they wanted tea. Opium was the answer. And it was essential to keeping the Empire’s entire economy afloat.

    Shipped from Bombay

    The opium came from the East India Company’s nearby colony, India. It was grown in Malwa and shipped from Bombay. At its height, almost one-third of the entire trade was going to one firm, Jardine’s trading house in Canton. And the man who enabled this trade from India was becoming stunningly wealthy.

    By the time he was 40, Jamsetjee Jejeebhoy had allegedly made more than ₹2 crore — in the 1820s. He was already one of the richest men in the entire country, but he had his eye on even greater prizes.

    The life of Jamsetjee Jejeebhoy makes for an excellent story. It neatly divides into two acts. In the first act, Jejeebhoy lives a life of adventure and daring. In the second act, he becomes an elder statesman, a civic figure working for the benefit of the community. This is no accident. Jejeebhoy’s ambitions were sophisticated and manifold. They would’ve been far out of reach for anybody who wasn’t willing to reinvent themselves. Even in his earliest days, there are signs that Jejeebhoy was conscious of his persona, taking steps to change details of his life to better fit his desired narrative.

    For example, he repeatedly claimed to have been born in Bombay but a number of historians believe that he was actually born in Navsari in Gujarat. He also changed his name from Jamshed to Jamsetjee, allegedly so that he would seem more like a member of the mercantile Gujarati community. Undoubtedly, the capital and networks of the broader Parsi community were essential to his success, but in this way at least he was a self-made man.

    His early life was marked by tragedy: he lost both his parents before the age of 16. His family was from a Parsi priestly community but his father worked as a weaver. After they died, Jejeebhoy moved to Bombay and began working for his maternal uncle, buying and selling empty liquor bottles. He earned the nickname ‘Batliwalla’ or bottle-seller and seemed to revel in it, often signing letters with the moniker as if it actually was his last name.

    At 20, he married his maternal uncle’s daughter, Avabai, who was around 10 years old at the time. And through his family, he began to trade, making five trips to China. None of these trips directly made him rich, but they did make him vital connections across South and East Asia, including, of course, William Jardine.

    Vital connections

    Jamsetjee began his trading firm, Jamsetjee Jejeebhoy & Co, with three other partners, each from a different community. There was Motichund Amichund, who was Jain and had close ties to the opium producers in Malwa. There was Mohammed Ali Rogay, a Konkani Muslim, who was a ‘Nakhuda’ or ship-owner/ captain. They were joined by the Goan Catholic Rogério de Faria, who had connections with the Portuguese authorities that controlled the port at Daman. Initially, the existence of Daman was a thorn in the side of the British who tried to restrict the export of opium through Bombay alone. They eventually gave up and settled for taxing the produce at its source.

    The second act of Jejeebhoy’s life can be seen as both a continuation of his earlier life and a sharp break from it. When his son Cursetjee was old enough, Jejeebhoy began to step back from the business to focus on civic life. While opium was seen as just another item of trade within these mercantile circles, it is possible that Jejeebhoy wanted to distance himself publicly from the drug trade. Opium prices were freely published in newspapers and it was clear that none of the merchants felt any sympathy for the Chinese when the First Opium War broke out. Jejeebhoy and the others seemed to be primarily interested in compensation for destroyed stocks and for regular trade to resume. But in his burgeoning career as a public figure, he might have been worried about the potential damage to his reputation.

    Various historians have noted that between European merchants and their Indian counterparts there was a sense of shared community and mutual respect. But that was definitely not the case between the citizenry and the government in the Bombay Presidency. The Parsis, meanwhile, had repeatedly expressed their loyalty to the British and were rapidly becoming the most Anglophile of all Indian communities. For them and the other elite of Bombay, charity and public works were a way of building a common moral and ethical ground with the British — a way of proving their shared humanity. Simultaneously, the British were looking to ensure that the local elites saw a common interest in continued British rule.

    At the forefront of this push to use philanthropy to forge bonds with the rulers was Jejeebhoy. His donations were prolific. By 1855, his commercial empire was mostly complete and he had devoted himself entirely to philanthropy and public life. In his biography, historian J.R.P. Mody calculates that Jejeebhoy would have donated £2,450,00 over the course of his life. In current terms, that would be around £10 million or ₹100 crore.

    This astronomical charity left its mark on Bombay and Pune. He paid two-thirds of the entire cost of the Pune waterworks, with the remainder coming from the government. His wife, Avabai, single-handedly paid for the entire construction of the Mahim causeway that connects the island of Mahim to Bandra and ensured that the government wouldn’t charge citizens a toll.

    He founded the Sir JJ School of Art, where John Lockwood Kipling, father of Rudyard Kipling, would be dean in the 1860s. Probably the most notable of all his contributions was the founding of JJ Hospital, to which he eventually donated both land and a large sum of money.

    Caste and class lines

    The hospital had been entirely Jejeebhoy’s idea and when he wrote to the British government, they responded to the idea enthusiastically. But the process became extremely drawn out when sharp differences emerged in ideas of how the hospital should function. Jejeebhoy wanted it designed around class and caste lines, but the government refused. Finally, when the hospital was built, some concessions were made, like a separate kitchen for Brahmins.

    With his philanthropy, Jejeebhoy’s reputation among the British was growing. In 1834, he became one of the first Indians appointed as Justice of the Peace, which was a position in the Court of Petty Sessions, the de facto municipal authority. In 1842, he became the first Indian to be knighted, officially receiving a Sir prepended to his name.

    But Jejeebhoy wasn’t done. In secret, he began a campaign to receive a hereditary title. As Palsetia writes, it was the first “organized programme of publicity on behalf of a colonial subject”. Thomas Williamson Ramsay, former revenue commissioner of Bombay, wrote a glowing account of his numerous good deeds and with the help of many well-wishers, this account was widely distributed among the Lords of England, even reaching the hands of Prince Albert himself. In 1856, a profile of Jejeebhoy was published in The Illustrated London News. The campaign was eventually successful.

    In 1857, Queen Victoria named him the first Baronet of Bombay. But it took four years for him to finally obtain the title because the British government remained unsure of Parsi inheritance law and whether it would complicate the inheritance process. To secure the baronetcy, Jejeebhoy had to place a property (officially referred to as Mazagaon Castle) and a sum of ₹25 lakh in trust.

    Baronetcies galore

    Now that Jejeebhoy had blazed the trail, the British eventually opened up the honours system to colonial subjects. They used the gesture to portray a united and homogeneous global empire. Between 1890 and 1911, seven baronetcies were granted to citizens of the Bombay Presidency and 63 Parsis were knighted by 1946. Despite being such a small community, various Parsis would endow more than 400 educational and medical institutions over the course of the 19th and early 20th centuries.

    It’s apparent that Jejeebhoy’s philanthropy, institution-building and public works improved countless lives. But at the same time, the sheer wealth that he and other members of his class accumulated allowed them to negotiate colonialism and even benefit from it in a way that was impossible for most ordinary citizens. In the 160 years since Jejeebhoy’s death in April 1859, we still wrestle with his complicated legacy.

  10. মাসুদ করিম - ১৮ ডিসেম্বর ২০২১ (৪:৩৩ অপরাহ্ণ)

    A ‘prince’, East India Company and the history of Bengal’s first bank fraud
    In saying that, however, the history of bank scams in this part of the world is fairly long and rather intriguing.

    Bank frauds and loan defaults have reached new heights in post-independence Bangladesh. Instances of embezzlement of depositors’ money by defaulters in collusion with bank high-ups make headlines every now and then.

    In saying that, however, the history of bank scams in this part of the world is fairly long and rather intriguing.

    In fact, the very first bank, The Union Bank, established in undivided Bengal during the rule of the East India Company, was plagued by swindles.

    The history of the bank – founded by local capitalists, including Rabindranath Tagore’s grandfather Dwarkanath Tagore – is a history of deception.

    Misappropriation of deposits was not the only menace that the bank faced, but it was also blemished by the fact that the source of wealth of almost all, if not all, of its investors and owners was indigo cultivation – infamous for atrocities on farmers.

    Michael Kidron – an economist, Marxist theorist, writer and publisher – has done extensive research on the reference-based history of The Union Bank. He traces the origin of corruption in the bank that started its commercial activities in 1829.

    In Kidron’s words, “The Union Bank was one of the largest businesses in Calcutta from 1830 to 1847. The joint venture company had hundreds of Indian and European investors. This institution became a symbol of financial power and prestige of the banian class in Calcutta.”

    He further says the main objectives behind the establishment of the bank were to provide capital for the business class, increase credit, exchange banking, issue banknotes and control the prices of agricultural products. The Union Bank offered equal business opportunities for businessmen from both India and Britain. People of both nations were involved in the management of the bank.

    He, however, identifies three major problems concerning The Union Bank – first, the main problem of the bank, like that of other financial institutions in Kolkata, was its over-reliance on the business of the lone export product, indigo; secondly, the then authority, East India Company, did not show interest in playing a regulatory role by providing support to the bank and ensuring proper surveillance; and thirdly, the directors of the bank were preoccupied with their own business and relied on others who could give time to run the bank, but those people were short-sighted and had character flaws.

    However, in 1829 when Dwarkanath Tagore and his associates, the partners of Macintosh & Company, launched the new bank, they received a huge response from the local merchant community. At that time the only bank in Calcutta was the semi-government Bank of Bengal that used its capital mainly to buy government bonds.

    Even though three private agencies operated somewhat like commercial banks in Kolkata, they were not in a position to carry on the credit business on a large scale as depositors had withdrawn their money at the beginning of the economic crisis of 1830-33.

    As a result, there was a demand for new sources of funds among both local and foreign merchant communities. Dwarkanath and other founders of The Union Bank understood this very well.

    First loan default

    The total capital of the joint venture bank was Rs50 lakh. The total number of shares was 2,000, the price of each was Rs2,500. According to the founding contract, the accounts of the bank would be publicly discussed, there would be regular meetings of the partners and there would be a definite limit on the maximum number of shares owned by an individual. The bank started its operations when Rs12 lakh was raised in capital.

    The bank faced a crisis at the outset of its journey. Dwarkanath was the most loyal business associate of the ruling East India Company. Other directors of the bank could not turn down the loan request of Dwarkanath, who earned the epithet of ‘Prince’ because of his majestic lifestyle and wealth. He personally advocated a loan of Rs6 lakh to John Palmer & Company. This loan was half of the total asset of the bank. As a result, when John Palmer & Co failed to repay the loan in January 1830, The Union Bank was almost on the verge of liquidation.

    The bank’s then-secretary, William Carr, intervened to prevent the bank from collapsing. He made a cautious decision to take the indigo traders’ factory and fixed property (land) as collateral.

    Although the bank’s declaration did not have a policy of taking fixed assets as collateral in this way, the step gave the bank a power to seize these properties if an indigo agency fails to repay its loan. But William’s decision was also inauspicious. As a result, the bank was unable to pay dividends to its shareholders during the commercial crisis of 1830-33. At that time, the share price, which was fixed at Rs2,500, was sold at almost half the price.

    However, the situation improved by July 1833 and the bank paid an 8% dividend to its shareholders.

    There were more problems. In the late 1830s, the bank’s board of directors made three wrong decisions after being persuaded by Dwarkanath. The first decision was to increase the capital of the bank from Rs15 lakh to Rs1 crore. Secondly, they decided to engage in a large-scale bill of exchange (hundi) business. And the third decision was to provide large loans to indigo traders.

    In those days, hundi business was legal. However, due to not having enough capital to do this business profitably, the bank fell into a liquidity crisis. The bank’s assets became almost exhausted as the loan given out to indigo businesses continued to turn bad.

    Dwarkanath himself was involved in indigo cultivation. He was also a big patron, financier of these indigo traders.

    Kidron notes that from the outset Dwarkanath intended to involve The Union Bank in the sale and purchase of hundi bills for import and export of agricultural products, including indigo.

    “At that time, the agency houses in Calcutta and the East India Company were jointly controlling the business. Dwarkanath was a representative of the indigo factory owners. New competitors in buying and selling of bills would actually benefit the indigo factories, and that is why Dwarkanath made this decision. In fact, his main goal was to create this facility rather than to sell bills.”

    However, the bank’s partners involved in the bill business began to strongly oppose the decision.

    Realizing that the situation was not in their favour, Dwarkanath and his associates adopted a new strategy. They did not directly propose to enter the hundi business, but focused on increasing the bank’s capital. As a result, even those who opposed the hundi business were compelled to decide in its favour eventually.

    Thus, the capital of the bank increased from Rs15 lakh to Rs21.60 lakh by 1836. The capital increased to Rs32 lakh in 1837, Rs80 lakh in 1838, and Rs1 crore by 1839, says Kindron.

    Nepotism and undue power practice

    Dwarkanath had absolute control over the bank. As a result, since 1834, representatives from only six agency houses – Carr, Tagore & Company, Cockrell & Company, Gilmore & Company, Hamilton & Company, Ferguson Brothers and William Strom – were appointed as directors of the bank.

    At the time when he had maximum control over the bank, Dwarkanath owned 700 out of its 2,500 shares.

    Thus Dwarkanath kept the policy of the bank under his complete control till 1844.

    Dwarkanath also appointed people of his choice to important positions in the bank through nepotism. Among them, the cases of accountant AH Sim and bank secretary George James Gordon were the most important. Sim forged accounts while Gordon used his position to lend money to companies that defaulted on loans.

    Dwarkanath came forward to protect both the corrupt officials. Although the bank lost a total of Rs5,99,000 because of Gordon and Sim, he prevented the authorities from taking appropriate punitive action against them.

    This control was not only due to his having maximum share ownership but also to the fact that he retained his friends, relatives and businessmen who depended on him by giving ownership of the bank’s shares. The biggest example of Dwarkanath’s control was an incident relating to a bureaucrat named AH Sim.

    Sim was an accountant. He was fired in 1838 for minor misconduct. He was later reinstated by a vote of shareholders controlled by Dwarkanath. Then in May 1839, one of the Indian clerks told Dwarkanath that Sim had embezzled Rs1,20,600. Upon learning of the incident, Dwarkanath, in consultation with other influential directors William Carr, Longville Clark, and Chairman James Cullen, promised to pay the money himself, on condition of anonymity.

    However, the matter was not kept secret and Dwarkanath paid it out of his own pocket to allay the panic of the depositors.

    In 1840, Dwarkanath appointed his friend George James Gordon as bank secretary, replacing James Young. Gordon came to India empty-handed after losing everything in the 1830-33 London stock market collapse. He needed a high-paying job to survive the financial loss. Dwarkanath gave him a job, called another board meeting and increased his salary from Rs1600 to Rs2500. Here, too, the opposing partners lost by a large margin in the face of Dwarkanath’s influence.

    Meanwhile, at a board meeting in 1840, a special loan classification was introduced for the purpose of giving unlimited loans to indigo cultivators. Indigo cultivation agencies could easily take out loans according to their needs and had the privilege to repay them at their convenience. This loan scheme was a breach of The Union Bank agreement. The agreement had a provision for confiscating the collateral if borrowers failed to pay installment for four months.

    But to avoid that rule, indigo growers were given the opportunity to renew their loans every three months by paying interest.

    During the commercial crisis of 1842, when several large indigo growers who had taken out loans from The Union Bank in this way went bankrupt, the bank incurred huge losses. The shareholders called the company secretary to explain the reasons for the loss. Secretary Gordon completely denied the loss. He had been making this false statement for over a year.

    However, in 1843, the information of loss was leaked. At that time, a committee of the bank alleged that the bank lost the entire amount of Rs4,79,663, given out in loans to Gilmore & Company, due to either collaboration or negligence of James Gordon.

    In 1840, Gilmore borrowed Rs2,71,095 from The Union Bank to buy a coal mine. But as the company failed to acquire the coal mine, its ownership changed.
    Gordon lent the rest of the lost money to Gilmore & Company for the purposes of indigo, copper and sugar businesses. At that time, the bank did not only fake the prices of these products but also allowed the borrowers to get the goods released from the warehouse even after defaulting on loans.

    The tragic end

    By 1845, Dwarkanath Tagore sold all the shares of The Union Bank under his control. He was also raising enough money for a trip to England for a second time.

    He made the decision after realising that the bank was sinking due to the excesses he and his associates committed. By that time his health had also deteriorated. Gradually, he sold his commercial assets and started buying zamindaris. He arranged for the distribution of these zamindaris among his sons.

    He took his youngest son Nagendranath, nephew Nabin Chandra, personal physician, secretary, chef and three servants with him on his way to Britain. His physical condition became increasingly fragile due to the emotional impact of the collapse of his businesses. He died in London on 1 August 1848 at the age of 51 and was laid to rest at the Kensal Green Cemetery in London.

    Meanwhile, The Union Bank also went broke by 1848 by giving loans to loss-making businesses. In this way, the first private bank in Bengal came to a tragic end.

  11. মাসুদ করিম - ৩ জুন ২০২৪ (৭:০৪ পূর্বাহ্ণ)

    আগে ‘অহিফেন ঠাকুর’ লিখে গুগল করলে প্রথমেই এই ব্লগপোস্টটাই [muktangon.blog/masudkarim/6353] আসত, এখন দেখছি আসছে এটা : ‘অহিফেন ঠাকুর’ দ্বারকানাথ এবং আফিম ব্যবসা : বিশ্বেন্দু নন্দ [https://pagefournews.com/afeem-tagore-and-his-trade-dawrokanath/]

    //শোনা যায় যৌবনে বাপ-ঠাকুর্দার ওপর রাগ করে প্রথমে দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর আর পরে রবীন্দ্রানাথ ঠাকুর দু-জনেই দ্বারকানাথের ব্যবসা সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজগপত্র পুড়িয়ে দিয়েছেন। ‘প্রিন্স’রূপী দ্বারকানাথকে নতুন করে উপস্থিত করার অন্য উপায়ও আজ আর নেই। রবীন্দ্রনাথ, দ্বারকানাথের গুরু রামমোহনের স্মৃতি তর্পণ করলেও জ্ঞানতঃ দ্বারকানাথের উপাসনা তো করেনই নি, খুব কম তাঁর নাম উচ্চারণ করেছেন। এমনই ছিল ঠাকুর্দার প্রতি রবীন্দ্রবিতৃষ্ণা।

    কোম্পানির পলাশী উত্তর সময়ে বাংলা দখল আর লুঠের পর নজর পড়ল চিনের সম্পদে। বাংলার আফিম চিনে বিক্রি করে সেই অর্থে চিনাংশুক আর পোর্সেলিন আর চা কেনার পরিকল্পনা করে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য। দ্বারকানাথ ঠাকুর তখন নীলের সঙ্গে আফিম ব্যবসা ধরলেন। যদিও ভারত-চিন আফিম ব্যবসায় বাংলার অংশিদারি ছিল খুবই কম। সব থেকে বেশি আফিম যেত মাদ্রাজ থেকে যার নাম মালওয়া আফিম। মূল ব্যবসাটার নিয়ন্ত্রণ ছিল পার্সিদের হাতে। সেই উদ্বৃত্ত অর্থে গড়ে উঠেছে আধুনিক মুম্বই (ওমর ফারিকি— দ্য ওপিয়াম সিটি)। কলকাতায় সাধারণ নাবিকের অবস্থা থেকে শুরু করে রুস্তমজী কাওয়াসজী তখন বিশাল ব্যবসায়ী। তাঁকে পাল্লা দিতে বিপুল অর্থ নিয়ে বাণিজ্যে নামলেন দ্বারকানাথ। দ্বারকানাথের তিনটি জাহাজ কলকাতা থেকে ক্যান্টন যেত। ১৮৩১ সালে কলকাতায় তৈরি ৩৬৩ টনের ওয়াটারউইচ কলকাতা-ক্যান্টন মাত্র ২৫ দিনে সফর করেছিল।

    দ্বারকানাথ ছটি ক্লিপারের একটি বড় অংশিদারি অর্জন করেছিলেন। এরমধ্যে প্রধাণতমটি ছিল ৩৬৩টনের ওয়াটারউইচ। খিদিরপুর ডকে পরিকল্পনা করে বানানো। এটির অর্ধেক অংশিদারি ছিল তাঁর আর অর্ধেক ছিল দুই ইংরেজ উইলিয়ম স্টর্ম আর এন্ড্রু হেন্ডারসনের। এটি কলকাতায় তৈরি তৃতীয় ক্লিপার। এর আগে যে দুটি তৈরি হয়েছে হাওড়া ডকে সে দুটি হল বম্বের আফিম ব্যবসায়ী গুরু রুস্তমজী কাওয়াসজীর জন্য ১৮২৯-এর রেড রোভার আর ১৮৩১-এর সিল্ফ। সেই শতকের ত্রিশের দশকে চিনে অবৈধ আফিম চালানের পরিমান প্রায় তিনগুন হয়ে যায় এই ক্লিপারের দ্রুত পরিবহনক্ষমতায়। এবং উত্তর-পূর্ব বাতাস বয়ে ক্লিপারগুলি মাত্র ২৫ দিনে শীতের মধ্যেই যখন চিনে পৌঁছত সেখানে আফিমের দাম থাকত চড়া। এবং ক্লিপারের অনেকবেশি বোঝা নেওয়ার ক্ষমতার জন্যও আফিম ব্যবসায়ীদের কাছে ক্লিপার প্রধাণ পরিবহন হয়ে ওঠে।

    দ্বারকানাথের আরও দুটি আফিম ক্লিপার ছিল ৩৭১ টনের ১৮৩৭ সালে খিদিরপুরে তৈরি এরিয়েল এবং ১১২ টনের মাভিজ। এরিয়েল চিনে আফিম ব্যবসা করতে গিয়ে প্রথম আফিম যুদ্ধে চিনা কমিশনার লিন-এর হাতে ধরা পড়ে। এরিয়াল চিন দখল করে এবং ভাড়ায় নেয়। আর একটি জাহাজ মাভিস বজ্রপাতে ধ্বংস হয়।

    কলকাতায় তখন তাঁর নাম অহিফেন ঠাকুর। একইসঙ্গে মনেরাখতে হবে দ্বারকানাথের ব্যবসাগুলির মধ্যে আফিম ব্যবসার পরিমান বেশ কম ছিল।

    আফিম বিষয়ে আরও কিছু মন্তব্য

    ১) নীলের মতই আফিম বাংলা-বিহারের খুব পুরোনো উৎপাদন। ব্রিটিশপূর্ব সময়ে বাংলা যে বিপুল কৃষি এবং শিল্প পণ্য একচেটিয়া রপ্তানি করত, তার একটা ছিল আফিম।

    ২) এশিয়াজুড়ে আফিম ছিল মূলত সামাজিক ব্যবহারের জন্যে — অর্থাৎ চিকিৎসকেরা টারমিনাল রোগী, যারা মৃত্যুপথযাত্রী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা ইত্যাদিদের জন্যে আফিমের নিদান দিতেন। আফিমের মূল কাজই চিকিৎসার উদ্দেশে নিবেদিত। অশ্যই নেশ দ্রব্য হিসেবে পরিচিত ছিল, কিন্তু তার ভূমিকা খুবই গৌণ। আমার ছোটবেলায় দেখেছি বৃদ্ধবৃদ্ধারা সন্ধ্যের পরে দুধের সঙ্গে আফিমের গুলি খেয়ে ঝিমোতেন সকাল অবদি।

    ৩) পশ্চিম যেমন সব উৎপাদন বাজারের নিরিখে দেখা শুরু করল — তার আগে কোনও পণ্যই শুধু বাজারের নিরিখে তৈরি হত না, তারা নানান ডায়মেনশন থাকত, উতপাদকেরা পণ্যটিকে একটি জীবিত বস্তু হিসেবে পণ্য করত, সমাজে তার আলাদা স্থান ছিল — তারা প্রথম আফিমকে শুধুই নেশাদ্রব্য হিসেবে, বাজারি পণ্য হিসেবে বিক্রি শুরু করল। এবং নীলের আগেই আফিম হয়ে উঠল তাদের বিপুল লাভ করার হাতিয়ার।

    ৪) পলাশীর পরে বাংলার একটি টাকাও ইওরোপ থেকে না এনে, বাংলার রাজস্ব বিনিয়োগ করে সরকারি বলপ্রয়োগ করে ন্যুনতম মূল্যে বাংলার কাপড় আর আফিম দিয়ে সিল্ক, চা, পোর্সেলিনের মত হাজারো চিনা পণ্য কিনত ব্রিটিশ, সেই পণ্য তারা উচ্চদামে বিক্রি করত লন্ডনের বাজারে। চক্রটা দেখুন — বাংলায় প্রায় বিনামূল্যে পণ্য দখল এবং কিনেও বিনামূল্যে উচ্চমানের পণ্য দখল করে সেগুলি বিক্রি হত ইওরোপের বাজারে, ফলে ইওরোপের আজ যে চাকচিক্য দেখি সেটা শুধু বাংলা লুঠেই আসে নি, সেটা প্রায় বিনা অর্থ বিনিয়োজিত বাণিজ্যের উদ্বৃত্তেও তৈরি হয়েছে।

    ৫) ভারত থেকে চিনে আফিম যেত মূলত বম্বে হয়ে, বম্বের উত্থান ঐভাবেই পারসিদের হাত ধরে — আজ যে পারসিরা ধনী তার কারণ বম্বে হয়ে ব্রিটিশ হংকং হয়ে আফিম চিনা হংকং [সম্মানীয়] ব্যবসায়ীদের বিক্রি করে বিপুল অর্থ উপার্জন করেছে। টাটাদের অর্থ জোগাড় হয়েছে এইভাবেই। এপ্রসঙ্গে অমর ফারুখির দ্য ওপিয়াম সিটি মেকিং অব আর্লি বম্বে বইটা দেখতে পারেন — সেখানে যদিও টাটারা অনুপস্থিত।

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.