সংবাদপত্রের ধর্ম পাতা : সাপ্তাহিক ইসলাম উৎসব

পরাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সে দেশের মানুষের কোনো স্বপ্ন থাকে না । থাকিতে পারে না। আমাদের ও ছিলো না [...]

যাহারা সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রযন্ত্রের চতুর্থখাম্বা বলিয়া প্রচার করিয়া থাকেন, তাঁহারা নিশ্চিতভাবেই ধর্মকে বিশেষ করিয়া ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রের আসমান বলিয়া মানেন । পাশাপাশি নির্মাণ করিয়া চলেন ধর্মভিত্তিক নানা মধ্যযুগীয় মতাদর্শের আধুনিক সংস্করণ। লুঙ্গির কাপড় হাঁটু পর্যন্ত উঠাইয়া নামেন ধর্মের বহুবিধ ফজিলত, আমল-আখলাকের গল্প প্রচারে। তাঁহাদের এই যুদ্ধে, ধর্মকে রাষ্ট্রের আসমান হিসাবে নির্মাণ ও নিশ্চিতকরণের রেসে সহযোদ্ধা হিসেবে চতুর্থখাম্বাটি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে প্রাধান্যশীল হইয়া উঠিয়াছে; উঠিতেছে প্রতিনিয়ত।

পরাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সে দেশের মানুষের কোনো স্বপ্ন থাকে না। থাকিতে পারে না। আমাদেরও ছিলো না। ধলা ভদ্দরলোক এবং তাহাদের দেশি দোস্তরা আমাদের দেশ নিয়া, দেশের ধর্ম নিয়া, নারী নিয়া, নোংরা রাজনীতি নিয়া যে নোংরা সাংবাদিকতার জন্ম দিয়াছিলেন, তাহা নিয়া আমার-আমাদের কোনো বিলাপ নাই। বিলাপ থাকিবার মতো কোনো কারণও হয়তো নাই। কিন্তু একটা স্বাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সেই দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখিতেই পারে। বাংলাদেশও স্বপ্ন দেখিয়া ছিলো। কিন্তু যে প্রজাতিটি আদতেই ধর্ষণপ্রবণ, তাহাদের দ্বারা কোনো স্বপ্নেরই যে বাস্তবতা নির্মাণ সহজতর হয় না।

বাঙালী বড়ই ধর্ষণপটু প্রজাতি। তাহারা একটি দেশকে স্বাধীন করিবার পর যেভাবে তাহাকে পরাধীন করিয়া তুলিয়া ছিল, ঠিক সেভাবেই একটি জ্যোর্তিময় সংবিধানের জন্ম দিয়া তাহাকে বলাৎকারে বলাৎকারে রক্তাক্ত করাতেও বাধে নাই বাঙালীর। ধর্মের সহিত রাষ্ট্রের কোনো যোগ থাকিবে না, একটা স্বাধীন দেশে সে রকমটাই আশা করা গিয়াছিল। কিন্তু হায়, গরিবের আবার লাল পিরান! আমাদের স্বর্গীয় ব্যবসায়ী-রাজনীতিকেরা সবচেয়ে যে ভালো ব্যবসাটি শিখিয়াছিলেন; তাহা ধর্মের ব্যবসা। স্বর্গীয় মহাপিতারা, যাহারা এখন বেহেশতে বসিয়া হুর সঙ্গম করিতেছেন, আমরা তাঁহাদের – সেসব ধর্ম ব্যবসায়ীদের উত্তরপুরুষ । আমাদের সবচেয়ে মেধাবী এবং সৎ ধার্মিকটি এখন পত্রিকার ধর্ম পাতার কলাম লেখক।

প্রথম প্রথম বিভিন্ন ইসলামী দিবস উপলক্ষে দুই-একটা কলাম ছাপা হইত পত্রিকার পাতায়। সেখানে জায়গা করিয়া নিত অন্য ধর্মাবলম্বীরাও। তাদের বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রযন্ত্রের চতুর্থখাম্বাটি সাজিতো নানা উৎসবে। পূর্বে পরোক্ষভাবে হইলেও পত্রিকাগুলো ছিলো ধর্মনিরপেক্ষ। ছিলো সব ধর্মের মানুষের।

২.
যাহা কিছু ভালো তাহার সঙ্গে আমাদের প্রথম আলো। প্রচারসংখ্যায় সর্বাধিক। প্রচারপটুতায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম।
ইহার সম্পাদক জনাব মতিউর রহমান সম্ভবত বাংলাদেশের ধার্মিক সম্পাদকসমূহের মধ্যে প্রধানতম। তিনি এই দুনিয়ায় বসিয়া পরজনমের সুখ-সম্ভোগ নিশ্চিত করিবার জন্যে উঠিয়া পড়িয়া লাগিয়াছেন। চোখ বুজিলেই দেখিতে পান হুর-সরাব-অবাধ যৌনাচার। তাহার প্রথম শ্রেণীতে প্রথম ক্লাস পাওয়া চতুর্থখাম্বাটিতে প্রতি শুক্রবার ঘটা করিয়া প্রকাশ করা হয় বিশিষ্ট মৌলভির অনবদ্য সুন্দর ধার্মিক ‘কলাম’। সেইখানে ধর্মের নানা নন্দনতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ যেমন উপস্থিত থাকে; তেমনই থাকে ধর্মের সাথে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের কথা। থাকে বেহেশতে প্রবেশের সবচেয়ে সহজতম পথটির কথা। থাকে জীবন আর ইসলামের নানা সমাজতাত্ত্বিক যোগের কথা। সপ্তাহের আর সব দিন ছাড়িয়া কেন শুক্রবার-ই প্রকাশ করিতে হয় এই ধর্মভিত্তিক সাহিত্য-শিল্পকলাটিকে! শুক্রবারটা মুসলমানদের বিশেষদিন বলিয়া? ঢাকা শহরটা, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি আর পাঞ্জাবিতে সাদা শুভ্র হইয়া ওঠে বলিয়া?

মধ্যবিত্ত মুসলমানদের প্রথম প্রধান এবং শ্রেষ্ঠ খাবার হইতেছে ধর্ম। রাষ্ট্রপ্রধানেরা এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীটাকে ধর্ম ছাড়া আর কিছু দিতে জানেন না ; সম্ভবত চানও না। আর মধ্যবিত্তরা তাহাতেই খুশিতে গদগদ হইয়া থাকে সবসময়। একবেলা না খাইয়া থাকিলে তাহাদের চলে, অপরের দাস হইয়া জীবনযাপনে তাহাদের কোন অসুবিধা হয় না; কিন্তু একবেলা ধর্মপালন না করিতে পারিলে তাহারা অস্থির হইয়া উঠে। রাষ্ট্রপ্রধানেরা তাহাদের শোষণের শেকলে বাঁধেন; আর আমরা মধ্যবিত্তরা বাঁধা পড়ি। মতিউর সাহেব রাষ্ট্রপ্রধানদের এই পলিসি ভালোই আয়ত্ব করিয়াছেন। যেহেতু আমাদের ধার্মিক সম্পাদকটির সাথে রাষ্ট্রপ্রধানের যোগ সবচেয়ে বেশি, সেহেতু এই কাজটি তাঁহার জন্য করা খুব কঠিন তো নয়, নয় নাজায়েজও।

যেহেতু ধর্মের শেকলে বাধা পড়া মধ্যবিত্ত মুসলমানদের কল্যাণেই আমাদের আলোচ্য এই চতুর্থখাম্বাটি সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক হিসাবে প্রতিষ্ঠা পাইয়াছে; তাই এই শ্রেণীটির কথা মতিউর সাহেবের তো ভাবিতেই হয়। বণিকেরা ধর্ম নিয়া বাণিজ্য করিবে ; তাহাতে আর বলিবার কি নতুন! কিন্তু সপ্তাহের আর সব দিন ছাড়িয়া কেন শুক্রবার-ই প্রকাশ করিতে হয় এই ধর্মভিত্তিক সাহিত্য-শিল্পকলাটিকে! শুক্রবারটা মুসলমানেদের বিশেষ দিন বলিয়া ?

ঢাকা শহরটা, আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি আর পাঞ্জাবিতে সাদা শুভ্র হইয়া ওঠে বলিয়া? তাহা হইলে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ কি অস্বীকার করে অমুসলিম বাঙালী পরিচয়ের তথ্যমতাদর্শভোক্তা শ্রেণীটিকে? অস্বীকার করে বাঙালী হিন্দুকে, বাঙালী খ্রিষ্টানকে, বাঙালী বৌদ্ধকে? বাঙালী অমুসলিম প্রজাতিটিকে?

প্রাচীন রাষ্ট্রপ্রধানেরা বাংলাদেশের মোসলমানি দিয়া গ্যাছেন অনেক আগেই। এখন আমাদের ধার্মিক সম্পাদকগণ রাষ্ট্রযন্ত্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাম্বাটির মোসলমানি দেবার ব্যবস্থা পাকাপাকি করিয়া ফেলিয়াছেন। আমাদের দেশটা মোসলমানদের। আমাদের প্রিয় সংবিধানটা মোসলমানদের। আমাদের বুদ্ধিজীবিরা, সম্পাদকেরা মোসলমানদের। আমাদের গণমাধ্যমগুলো কেবলই মোসলমানদের। চতুর্থখাম্বাগুলো মোসলমানদের। এখানে অন্য ধর্মালম্বীদের প্রবেশ নিষেধ। নিষেধ।

এখন আমাদের দেশের প্রধান ধারার পত্রিকাগুলি প্রতি সপ্তাহে খুব আওয়াজের সহিত ছাপে ধর্মবিষয়ক পাতা। ইসলামকে প্রতিটি পাঠকের জীবন করে তুলবার প্রয়াসে কতো উৎসব। একজন হিন্দু, একজন বৌদ্ধ, একজন অমুসলিম পাঠক যখন তাহার রক্তঘাম করা পয়সা দিয়া কিনিবেন একটা যুগান্তর, একটা আমার দেশ, সাথে সাথে তিনি কিনিতে বাধ্য হইবেন ইসলামবিষয়ক নানা মসালাসম্বলিত একটি ধর্ম পাতা।

আমাদের সম্পাদকগণ বড়ই ধার্মিক । পৃথিবীর সব ধার্মিকই যতোটা ধার্মিক তাহার চাইতে বেশি বণিক। আর তাই আমাদের ধার্মিক সম্পাদকদের থাবায় এখন ধর্ম সবচেয়ে বড় পণ্য। তাহারা বিনোদন পাতার উর্বশী পতিতাদের পাশে জায়গা করিয়া দেন ধর্মকে।

নাসিমূল আহসান

আমি মাংসের টুকরো থেকে দূরে ছিলাম। আমি নতজানু হবার বদলে নিগ্রহকে বরণ করেছিলাম। আমি পিঠে কুঁজের বদলে বুকে ছুড়িকাকে সাদরে গ্রহন করেছিলাম। আমি গলার বদলে হাতেপায়ে শেকল পরেছিলাম। আমি আমার মতো দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। আমি আমার মতো স্বপ্ন দেখতে চেয়েছিলাম। আমি আমার মতো কথা বলতে চেয়েছিলাম। আমি আমার নিজস্ব ভঙ্গিতে দাঁড়াতে চেয়েছিলাম। আমি নিতে চেয়েছিলাম নিজের নিশ্বাস। কিন্তু...আমার চারপাশ জুড়ে দেয়াল, অজস্র থাবা। আমি অন্ধকার ছাড়াতে ছাড়াতে জোছনা খুঁজতে খুঁজতে আবার অন্ধকারে মিলিয়ে যাই।.... তারপর পথে নেমে মানুষের মুখ খুঁজতে থাকি। মুখের ভাঁজ গুলোতে প্রতিরোধের , লড়াইয়ের চিহ্নগুলা মুখস্থ করে করে আত্মহননের রাস্তায় নামি...

১৭ comments

  1. হিমু - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৭:০৫ পূর্বাহ্ণ)

    বড়ই সুখপাঠ্য। বিয়াপক আমোদ লভিলাম। আলুকাগজের সাপ্তাহিক মরসিয়া লৈয়া ভাবিত ছিলাম, কিন্তু কিছু রচিবার পূর্বেই আপনার পোস্টখানা দৃষ্টিগোচর হৈল।

  2. রায়হান রশিদ - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ)

    ধন্যবাদ নাসিমূল আহসান। প্রথমেই বলে রাখি ‌- আপনার ভাষারীতির এ প্রয়োগ বেশ মজার। দু’এক জায়গায় একটু ছুটে গেলেও (আমার ভুলও হয়ে থাকতে পারে) সার্বিকভাবে উপভোগ করতে কোন অসুবিধে হয়নি। প্রথম আলো পত্রিকাটা বেশ অনেক দিন হল না পড়ার ফলে জানা ছিল না যে শুক্রবার এলেই সেখানে মাদ্রাসা খুলে বসা হয় আজকাল! পোস্টের কয়েকটা বাক্য রীতিমত উদ্ধৃতিযোগ্য, যেমন:

    — পরাধীন দেশের গণমাধ্যম নিয়া সে দেশের মানুষের কোনো স্বপ্ন থাকে না । থাকিতে পারে না। আমাদের ও ছিলো না।

    — আমাদের সম্পাদকগন বড়ই ধার্মিক । পৃথিবীর সব ধার্মিকই যতোটা ধার্মিক তাহার চাইতে বেশি বণিক।

    আরেক স্থানে লিখেছেন:

    আমাদের প্রিয় বাংলাদেশটা শুক্রবার টুপি আর পাঞ্জাবিতে সাদা শুভ্র হইয়া ওঠে বলিয়া?

    এ নিয়ে ক’দিন আগে মাসুদ করিমের একটা পোস্টেও (অপ্রিয় ছুটির দিন শুক্রবার) কিছু মজার উপলদ্ধি উঠে এসেছিল। আপনার ভাল লাগবে হয়তো।

    আপনি লিখেছেন:

    যাহারা সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রযন্ত্রের চতুর্থখাম্বা বলিয়া প্রচার করিয়া থাকেন ; তাঁহারা নিশ্চিতভাবেই ধর্মকে বিশেষ করিয়া ইসলাম ধর্মকে রাষ্ট্রের আসমান বলিয়া মানেন । পাশাপাশি নির্মাণ করিয়া চলেন ধর্মভিত্তিক নানা মধ্যযুগীয় মতাদর্শের আধুনিক সংস্করণ।

    প্রথম বাক্যে যে সাধারণীকরণ তা ঠিক বোধগম্য হল না। আরেকটু স্পষ্ট করবেন?

  3. মাহাবুবুর রাহমান - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৩:০৮ অপরাহ্ণ)

    অনেক দিন হয় ইনকিলাব পত্রিকা পড়া হয় না। আমরা যখন ছোট ছিলাম তখন দেশে সবচেয়ে জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল সম্ভবত ইনকিলাব। তো ইনকিলাবে বিনোদন প্রতিদিন নামে একটা পাতা ছিল। সেটায় নায়িকাদের খুল্লাখাল্লাম ছবি ছাপা হত। আমার জানা মতে তখনকার পত্রিকাগুলার মধ্যে ইনকিলাবের নায়িকাদের ছবিগুলা থাকত বেশি উত্তেজক। হায় আল্লাহ তখন আমার বয়স কতই বা হবে। ১৫-১৬! তো সেই পত্রিকায়ই আবার ধর্ম ও জীবন নামক পুরা একপাতা বা দুইপাতা ধর্মীয় বয়ান থাকত। তো সেইসবে আমি তো কোনো জীবন খুঁইজা পাইতাম না পাইতাম বিনোদন প্রতিদিন পাতায়ই।
    তো যা-ই হোক, আমার বলার কথা হইল ইনকিলাবের একপাতায় থাকত যৌনতা আরেক পাতায় থাকত ধর্মীয় মাশালা। তো ধর্ম ও যৌনতা দুইটা একই জিনিস; দুইটাই উত্তেজনা বাড়ায়। দুইটাই পুজিপতির কাজে লাগে।

  4. মাসুদ করিম - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৪:১৬ অপরাহ্ণ)

    ‘চতুর্থখাম্বা’ চমৎকার, শ্লেষের পুরো জোরটা পাওয়া যাচ্ছে শব্দটিতে।

    ধর্মকে রাষ্ট্রের আসমান হিসাবে নির্মাণ ও নিশ্চিতকরনের রেসে সহযোদ্ধা হিসেবে চতুর্থখাম্বাটি প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে প্রাধান্যশীল হইয়া উঠিয়াছে;উঠিতেছে প্রতিনিয়ত।

    উপরে ‘প্রাধান্যশীল’ না লিখে ‘প্রধান’ লিখলেই তো চমৎকার কাজ চলে যেত। আর লেখার কাজই তো কিসে ভালো কাজ চলে তা খুঁজে বের করা। ভুলেও উপদেশ ভাববেন না, তার চেয়ে ভাবুন আত্মিক সহযোগিতা, তাই যদি ভাবতে পারেন, তাহলে আরেকটি কথা বলব, চলিত রীতিতে লিখুন না, তাতে এই বিষয়ের লেখাগুলো আরো ভালো লাগবে। আর পাঠক সুপারিশকৃত লিন্কে ১৯ নম্বর মন্তব্যে আপনার প্রত্যুত্তর আশা করছি, মতিউর রহমান, পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশকদের প্রশিক্ষণ চেয়ে গত মে মাসে যে বক্তৃতা দিয়েছেন, তার কিছু টুকরো বিশ্লেষণ করা হয়েছে সেখানে।

  5. মাহতাব - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৪:৫২ অপরাহ্ণ)

    লেখককে অনেক ধন্যবাদ। তবে দুটি কথা, আমাদের সংবিধান কোনকালেই জ্যোর্তিময় ছিল না । এটি জন্মলগ্ন থেকেই নকলনবীশ, কাটপেষ্ট এবং সাধারণ মানুষের সাথে রসিকতার সংবিধান ।

    • রায়হান রশিদ - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৫:১৩ অপরাহ্ণ)

      @ মাহতাব

      অামাদের সংবিধান কোনকালেই জ্যোর্তিময় ছিল না । এটি জন্মলগ্ন থেকেই নকলনবীশ,কাটপেষ্ট এবং সাধারণ মানুষের সাথে রসিকতার সংবিধান।

      একটু বিস্তারিত ব্যাখ্যা কি দেয়া সম্ভব?

    • রায়হান রশিদ - ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৯:০১ অপরাহ্ণ)

      @ মাহতাব,
      প্রাসঙ্গিক খবর

  6. অবিশ্রুত - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৮:৪৬ অপরাহ্ণ)

    কখনও কখনও সাধুভাষার বিকল্প থাকে না,- নাসিমুল আহসানের এ লেখা তার প্রমাণ। আমাদের গণমাধ্যমগুলির সাম্প্রতিক প্রবণতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকের প্রতি আমাদের মনযোগ তুলে ধরেছেন তিনি; কেবল মনযোগ নয়, এই প্রসঙ্গটি তারও বেশি দাবি রাখে আমাদের কাছ থেকে। সংবাদপত্রগুলি, গণমাধ্যমগুলিসমেত ইদানিং যে-শারিবাদী সালসা পরিবেশন করে চলেছে প্রতিদিন, তাতে কেবল উদ্বিগ্ন হওয়াই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নাসিমুল আহসানের মতো কলম খুলে গুরুত্বের সঙ্গে যুক্তি দিয়ে তীক্ষ্ণ সমালোচনা করে চলা।
    সংবাদপত্রের মালিক ও সম্পাদকরা তাদের বাণিজ্যিক প্রবণতা থেকে একদিকে ধর্ম নিয়ে অযৌক্তিক আলোচনা ছাপিয়ে চলেছেন, কিন্তু তা নিয়ে সমালোচনামূলক লেখা প্রকাশের দুয়ার একদম রুদ্ধ করে রেখেছেন। এইভাবে তারা একদিকে নিজেদের মুনাফা নিশ্চিত করছেন, অন্যদিকে ধর্মবিশ্বাসকে উৎসাহিত করার নামে ধর্মান্ধতাকেই উৎসাহিত করছেন। মুনাফা লোটার জন্যে তারা কোনও সংঘাতে জড়াতে চান না ধর্মবাদীদের সঙ্গে, মতিউর রহমানরা সে-প্রমাণ রেখেছেন।
    কিন্তু কেবল সমালোচনা করেই নয়, এর বিরুদ্ধে সচেতনতা বলুন আর প্রতিরোধ বলুন গড়ে তোলার জন্যে প্রয়োজন এমন এক ঝাঁক মানুষ, যারা বিজ্ঞানমস্কতার চর্চা করবেন, অন্যদেরও এ ব্যাপারে উৎসাহিত করবেন। সমাজের সব স্তরের মানুষ একই সঙ্গে, একই সময় সচেতন হয় না; প্রতিটি সন্ধিক্ষণেই দেখা গেছে, অল্প কিছু মানুষ আর সবাইকে একটি যৌক্তিক পথে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা যোগান, পথ দেখান।
    এ বছরই পূর্ণ হলো অরিজিন অব স্পেসিস প্রকাশের ১৫০ বছর, ডারউইনের ২০০ বছর। আমরা কি পারি না, এই উপলক্ষকে কেন্দ্র করে এমন একটি মঞ্চের অবতারণা করতে, যা যুক্তিবাদ ও বিজ্ঞানমনস্কতার পরিসর তৈরি করবে?
    এমন একটি প্রত্যাশা উপস্থাপন করছি এ-কারণে, নাসিমুল আহসান গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রসঙ্গের অবতারণা করেছেন। আমাদের প্রয়োজন এ আলোচনাটি আরও বৃহত্তর পরিসরে নিয়ে যাওয়া, নিজেরা সচেতন হওয়ার পাশাপাশি আর সবার মনেও এমন সব প্রশ্ন জাগিয়ে তোলা, যার উত্তর খোজার মধ্যে দিয়ে তারাই হয়তো একসময় আমাদের পথ দেখাবে।

  7. Aero - ২৩ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (১১:০৩ অপরাহ্ণ)

    পড়লাম। ভালো লাগলো। সচেতনতা বৃদ্ধিতে লেখাটি সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

  8. মোহাম্মদ মুনিম - ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (১:০৪ পূর্বাহ্ণ)

    সম্ভবত পৃথিবীর কোন অমুসলিম দেশেই কোন মুলধারার পত্রিকায় খ্রীস্টান, হিন্দু বা বৌদ্ধ ধর্মের গুনগান গেয়ে সাপ্তাহিক ক্রোড়পত্র প্রকাশ হয় না। ইসলাম তোষনের এই প্রবনতাটি পশ্চিমা মাধ্যমগুলোতেও মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। বেশ কয়েকবছর আগে BBC ওয়েব পেইজ এর একটি লেখাতে হযরত মোহাম্মেদের নামের পাশে PBUH (peace be upon him) দেখতে পেয়েছিলাম, অন্য কোন ধর্মীয় ব্যক্তির নামের পাশে এই জাতীয় কোন টাইটেল BBCকে বসাতে দেখিনি। এখন সৌদি পয়সাতে বিভিন্ন মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী রিসার্চ হচ্ছে, সেগুলো সবই যে ফালতু ব্যাপার তা হয়তো নয়, কিন্ত ইসলামকে জানা, বোঝা ও বোঝানোর এতো আগ্রহ কেন। পৃথিবীতে তো হাজারটি বিষয় আছে জানার, ইসলাম এতো অগ্রাধিকার পাবে কেন? এখন আমেরিকাতে ইন্টারফেইথ ডায়ালগ নামে একটা ব্যাপার খুব চোখে পড়ে, মুল বক্তব্য হচ্ছে আব্রাহাম হচ্ছেন মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ইহুদিদের আদি পিতা, সুতরাং তাদের ধর্মের মুল বক্তব্যে তেমন কোন পার্থক্য নেই। তারা সবাই হচ্ছে ‘people of the book’. মুসলিম, খ্রিস্টান এবং ইহুদিরা ‘people of the book’ হয়ে জাতে উঠে গেলো, আর বাকিরা (হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখ আর অসংখ্য উপজাতি) নমশুদ্র হয়ে রইলো, এটা নিশ্চিতভাবেই একটি বর্নবাদী চিন্তাধারা। আমার পিতৃদেব আমাদের পূর্বপুরুষ আরব দেশ থেকে এসেছেন এই জাতীয় গালগল্প শোনালেও ‘people of the book’ হবার বা আব্রাহামকে আমার আদিপিতা বানানোর কোন ইচ্ছাই আমার নেই। আমার আদিপিতা হোক লক্ষন সেনের এক সাহসী সৈনিক, যে কিনা বখতিয়ার খলজির হানাদার বাহিনীর সাথে সাহসের সাথে লড়াই করেছে।

    • ইনসিডেন্টাল ব্লগার - ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৩:২৫ পূর্বাহ্ণ)

      আমার পিতৃদেব আমাদের পূর্বপুরুষ আরব দেশ থেকে এসেছেন এই জাতীয় গালগল্প শোনালেও ‘people of the book’ হবার বা আব্রাহামকে আমার আদিপিতা বানানোর কোন ইচ্ছাই আমার নেই। আমার আদিপিতা হোক লক্ষন সেনের এক সাহসী সৈনিক, যে কিনা বখতিয়ার খলজির হানাদার বাহিনীর সাথে সাহসের সাথে লড়াই করেছে।

      আত্ম পরিচয় সন্ধানের অসাধারণ প্রকাশ।

  9. মোরশেদ উদ্দিন - ২৪ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (১১:২৭ পূর্বাহ্ণ)

    লেখাটি ভাল লাগল।

  10. নাসিমূল আহসান - ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (২:০৬ পূর্বাহ্ণ)

    প্রশ্ন উত্তরগুলো দীর্ঘ আলাপের জন্য তোলা থাক। নেট এ দীর্ঘ সময় বসবার সুযোগ করে পাঠকের মুখোমুখি হবার তীব্র আকাংখা ব্যক্ত করছি।

  11. মনজুরাউল - ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (২:১২ পূর্বাহ্ণ)

    নাসিমূল তোমাকে কারো মন্তব্যের উত্তর দিতে দেখছি না! অবাক লাগছে! পোস্টের বিষয়ে আপাতত কিছু বলছি না। আলোচনা চলুক…..

    প্রথম আলোর এই চরিত্রটিই কম-বেশি আর সবাইও ধারণ করে। সুতরাং তাদেরকেও এই সমালোচনার বিষয়বস্তু করা দরকার।

    মাছের শরীরে “আল্লাহ”, গাছের সারিতে “আল্লাহু” মেঘের অবয়বে “বুজুর্গ ঈমানদারের প্রতিচ্ছবি”, কচুর পাতার নিচে “মুহম্মদ”, “আদমের কংকাল”, এ্যাডাম হিলে “আদমের পায়ের ছাপ”…..এই সব ইল্যুশন দিয়ে যখন ইসলামকে এবং আল্লাকে “আছে এবং সত্য” প্রমান করতে হয়, তখন বুঝতে হবে তিনি “নেই” প্রমান হয়ে গেছেন! অতএব এ ধরণের প্রাণান্ত চেষ্টা চলতেই থাকবে।

  12. আরিফুর রহমান - ২৫ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৭:৩৪ অপরাহ্ণ)

    চমৎকার রসালো লেখাটি পড়ে যে সুখানুভূতি পেলাম, তার জন্য লেখককে জানাই ধন্যবাদ।

    আমার সীমিত দৃষ্টিতে মতিমিয়ার এই খৎনা হয়েছিলো মোহম্মদ বিলাই বিষয়ক টুপি মিছিলের ঠিক পরেই। সিংহাসনে অধিষ্ঠিত ওবায়েদ খতিবের পদচুম্বন করে তিনি যে খত্ দিয়েছিলেন, তার জের শুধু চলছেই না.. উত্তোরোত্তর বৃদ্ধিও পাচ্ছে।

    ভাবছি সৌদি নহরে স্ট্র চুবিয়ে তিনিও টান দিয়েছেন কিনা একটি বা দু’টি!

  13. রেজাউল করিম সুমন - ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৫:২৩ অপরাহ্ণ)


    লেখাটিতে তীব্র শ্লেষ আছে, তারই টানে কখনো হয়তো টাল খেয়েছে মাত্রাজ্ঞানও। তবে স্বীকার করতেই হবে, এতে ভাবনার খোরাক আছে। ধন্যবাদ, নাসিমূল আহসান।


    ইদানীং রাস্তাঘাটে মাঝেমধ্যেই চোখে পড়ে এরকম উপদেশবাক্য – ‘আপনার সন্তানকে কোরান শিক্ষা দিন’, ‘নামাজ পড়ুন’। গতকালও দুটি সিএনজি বেবিট্যাক্সির পশ্চাৎ-লিখনে প্রথম উপদেশটি দেখতে পাই; তার একটিতে অবশ্য ‘সন্তান’-এর পরিবর্তে লেখা ছিল ‘শিশু’। এই শকট দুটির মালিক পথচলতি মানুষজনকে, বিশেষ করে অভিভাবকদের, ধর্মপথে উদ্বুদ্ধ করতে চেয়েছেন।

    ঈদের আগের দিন পর্যন্ত একমাস রাস্তাঘাটে অসংখ্যবার মুখোমুখি হতে হয়েছে এই প্রশ্নের : ‘তোমরা তোমাদের পালনকর্তার কোন্ কোন্ অবদানকে অস্বীকার করবে?’ এ প্রশ্ন নীরব নয়, সরব – মাইকে বেজেছে। ব্যক্তিউদ্যোগে নয়, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে। অন্যদিকে শহরের এ-মাথায় ও-মাথায় কালো-কাপড়ে-ঘেরা দোকানের বাইরে প্রচারিত হতে দেখেছি স্বত্বাধিকারীর ধর্মপরিচয় : ‘হিন্দুর দোকান’। তার নীচে এই আহ্বান : ‘রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করুন’, কখনো-বা আরো স্পষ্ট করে : ‘মুসলমান ভাইদের প্রতি অনুরোধ/ রমজানের পবিত্রতা রক্ষা করুন’। কে জানে, রুটিরুজির স্বার্থে, ‘রমজানের পবিত্রতা রক্ষা’র লক্ষ্যেই, অনেককে হয়তো ধর্মান্তরিত হতে হয়েছে!

    টেলিভিশনে ইফতারির আগে প্রচারিত এক ধর্মালোচনার অনুষ্ঠানে বক্তাকে বারেবারে ফিরে আসতে দেখেছি একটি প্রসঙ্গে : ‘ইসলামি রাষ্ট্র’। সরল ধর্মপ্রাণ মানুষ টিভির পর্দায় দেখছেন, নানা আজগুবি প্রশ্নের ‘সুচিন্তিত’ ধর্মসম্মত উত্তর দিয়ে চলেছেন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী। ঈদের পরদিন সন্ধ্যায় আমার বাল্যসুহৃদের মুখে শুনেছি জনৈক জাকির নায়েকের বাগ্মিতা ও মনীষার স্বতঃস্ফূর্ত প্রশস্তি।


    আমাদের পত্রপত্রিকায় ধর্মালোচনা ছাপা হয় বিশেষ পাতায়, বিশেষ দিনে বিশেষ কলামে। নামাজের সময়সূচি ছাপা হয় বছরের প্রতিটি দিনই। পত্রিকায় সময় দেখে কেউ নামাজ পড়তে যান? নামাজি-কে নামাজের সময়সূচি বলে দেয়ার কোনো দরকার আছে কি? পাঠকদের কোনো মহল থেকে কি এই দাবি উঠেছে যে, নামাজের সময়সূচি ছাপানো চাই-ই চাই! কেউ হয়তো বলতে পারেন, কোনো পত্রিকায় পঞ্জিকা দেখে নানান ধর্মীয় আচারের দিন-ক্ষণও ছাপা শুরু করলে কেমন হয়? কিন্তু তাকেই কি আমরা বলব ধর্মনিরপেক্ষতা?


    রাষ্ট্র আর ধর্মকে পরস্পর থেকে পৃথকীকরণের কোনো বিকল্প নেই। ধর্মাচরণ হোক ধার্মিকের ব্যক্তিগত চর্চার বিষয়। নিষিদ্ধ ও লুপ্ত হোক ধর্মানুভূতির উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক আর বাণিজ্যিক ব্যবহার। রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সকল কর্মকাণ্ডে এই সরল সত্য প্রতিফলিত হোক যে, বাংলাদেশ নানা সম্প্রদায়ের মানুষের জন্মভূমি।

  14. অস্মিতা - ২৮ সেপ্টেম্বর ২০০৯ (৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ)

    নাসিমূল আহসানকে ধন্যবাদ চমৎকার পোস্টটির জন্য। অবাক করার মতোই বিষয়। জর্জ গ্যালাওয়ের ভাষা ধার করে বলতে হচ্ছে আমাদের শ্রদ্ধেয় মতিউর রহমান এতদিনে সত্যিই প্রকৃতির সমস্ত নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রজাপতি থেকে লেদা পোকায় পূনর্বিবর্তিত হলেন। গ্যালাওয়ে বলেছিলেন প্রাক্তন ট্রটস্কিপন্থী ক্রিস্টোফার হিচেন্সের ডিগবাজি খাওয়াকে উদ্দেশ্য করে, আমার বলতে হচ্ছে প্রাক্তন বাম মতিউর সাহেবকে।

    রেজাউল করিম সুমনের মন্তব্য পড়ে স্মৃতি ভারাক্রান্ত হলাম। রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে বার কয়েক ধর্ম পরিবর্তন‍ যে আমিও করিনি, তা নয়। যদিও এ জাতীয় উপদেশ বাক্যগুলো প্রায় সবসময়ই দেয়া হয়ে থাকে মূসলমান “ভাইদের” উদ্দেশ্য করে, “বোনদের” নয়। তাতে যে জীবন রক্ষাকারী হিন্দু হোটেলগুলোর মুর্গি কিংবা সবজির স্বাদ কিছু কম মনে হয়েছিল তা বলা যাবে না। সে যাই হোক, প্রসঙ্গত (বা অপ্রসঙ্গত) আরেকটি কথা মনে পড়ে গেল। এক সময় “আখেরী চাহার সোমবা (মতভেদে ছোমবা)” নামে একটি বস্তুর উৎপাত প্রতি বছরই দেখতাম। আজ অবধি বুঝে উঠতে পারিনি ওটা আসলে কি বস্তু। যেমন বুঝতে পারিনা মানুষের চন্দ্র বিজয়ের চল্লিশ বছর পরও আজও একদল বয়োজ্যেষ্ঠ (এবং গুরুত্বপূর্ণ) মানুষকে কেন জাতীয় (কিংবা আন্তর্জাতিক) চন্দ্র দর্শনের নিমিত্তে গুরুতর পরিষদ গঠন করতে হয়, কিংবা কেন তাদের গম্ভীর মুখে রাতের আকাশের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে চাঁদকে খুঁজতে হয় প্রতিটি ঈদের আগে!

    সম্প্রতি উদ্বিগ্ন হলাম আরেকটি সংবাদে। শুনলাম, দেশে একদল অতি-মৌলানা শ্রেনী প্রচার করছেন যে সবে-বরাত পালন করা অনৈসলামিক। এটি পালন না করলে ইসলামের কি ক্ষতি হবে জানি না তবে বছরের এই দিনটিতে মজাদার হালুয়া খাবার এবং বাজি পোড়ানোর বিমলানন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়া নিশ্চয়ই একটি অতীব দুঃখের বিষয় হবে। তাই আমি মুক্তাঙ্গনের মুসলমান ভাইদের মাধ্যমে বিজ্ঞ আলেম সমাজের কাছে এ ধরণের “হালুয়া বিরোধী” উদ্যোগের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

    দ্বিতীয় সংবাদটি ব্যক্তিগত এবং সে কারণেই আরও বেশী উদ্বেগজনক। আমার মা অত্যন্ত বেদনার্ত হয়ে সম্প্রতি আমাকে জানালেন যে আমার প্রায় ৮৮ বছর বয়স্কা নানী তার প্রায় ৮০ বছরের শাড়ী পড়ার অভ্যাসকে বিসর্জন দিয়ে বর্তমানে সেলোয়ার কামিজ পড়তে শুরু করেছেন, কেননা জনৈক আলেম তাঁকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছেন‍ যে শাড়ী পোষাকটি নাকি “অনৈসলামিক”। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করে রাখি, জনৈকা বান্ধবীর অনুপ্রেরণায় আমার মা-ও একসময় পরকালের নেকি অর্জনের মোহে একটি সাদা ওড়না (যা মাথায় মোড়ানো হয়) “দ্বীনের দাওয়াতমূলক উপহার” হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আমার বাবার তীব্র আন্দোলনের হুমকির মুখে সেই চেষ্টা বেশীদূর এগোতে পারেনি। পরবর্তীতে সেই বান্ধবীটিই‍ যখন যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিরুদ্ধে বন্ধুমহলের নিয়মিত এক আড্ডায় সরব হয়েছিলেন তখন আমার মা তাকে “ঝাটাপেটা করার” অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতিসহ সেই বিতর্কিত ওড়নাটি ফেরত পাঠিয়েছিলেন। সেই সাথে মহিলাকে “মুসলমান” হওয়ার আগে “মানুষ” হওয়ার একনিষ্ঠ চেষ্টা চালিয়ে যাবারও উপদেশ দিয়েছিলেন।

    নানা জাতের এই সব আচার অনুষ্ঠান এবং নসিহতের ভারে তিত বিরক্ত হয়ে প্রবাসে এসে ভেবেছিলাম কিছুটা বুঝি তিষ্টানো যাবে এবার। সে আশায় গুঁড়ে বালি পড়তে দেরী হয়নি। প্রবাসে যারা থাকেন তারা ভাল করেই জানেন যে – মেহেদী রাঙ্গানো দাড়ি আর জরি লাগানো টুপিধারীদের জেহাদী জোশের কাছে, মাঝে মাঝে উর্দু বুলি আর আমাদের পরকালের নেকি অর্জনের উম্মাদনা (বা লালসার) কাছে, বেহেশতের হুর-গেলমান-শরাব নহরের তীব্র আকর্ষণের কাছে, দোজখের বিশাল বিশাল কড়াইয়ে ভাজা ভাজা হওয়ার প্রবল আতংকের কাছে – আটলান্টিকসহ গুটিকয় মহাসমুদ্র কোন দুরত্বই তৈরী করতে পারে না। সম্প্রতি এর আরও একটি প্রমাণ পেলাম এক শুক্রবারে স্থানীয় বাংলাদেশী মুদির দোকানে সবজি কিনতে গিয়ে। দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই নাকে এসে ধাক্কা দিল আগরবাতি আর গোলাপ জলের তীব্র গন্ধ। দোকান মালিকটি বয়সে প্রবীণ সেটা জানা ছিল, তাই তাঁর অকাল দেহ ত্যাগের আশংকায় শংকিত হয়ে সিলেটি দোকানীর কাছে জানতে চাইলাম “ভাই, কেউ কি মারা গেছেন?” দোকানী বিরক্ত মুখে বললেন – “আফা খিতা কইলেন? আজকে জুম্মাবার, তাই আগরবাতি দিছি”।

    যাই হোক। মুক্তাঙ্গনের “অমুসলমান” ভাই ও বোনদের তাপিত হৃদয়ে হয়তো কিছুটা হলেও শান্তি আসবে নিচের এই চমৎকার বিতর্কটি দেখলে। ‘ফিক্সড পয়েন্ট’ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত বিতর্কটিতে অবতীর্ণ হয়েছিলেন দুই অক্সফোর্ড অধ্যাপক – রিচার্ড ডকিন্স (দি সেলফিশ জিন, দি গড ডিল্যুশন গ্রন্থদ্বয়ের রচয়িতা) এবং জন লেনক্স। এখানে ভিডিওটি

Have your say

  • Sign up
Password Strength Very Weak
Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
We do not share your personal details with anyone.